Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৩
শানজানা আলম

ডিনার টেবিলে কথাটা তুললেন ঐশির বাবা এনায়েত হোসেন। ঐশি চুপচাপ খাচ্ছিল। বাড়িতে এসে একটু নিজের মতনই থেকেছে ঐশি। নায়েব পাশার গিফট সামগ্রী দেখে মন কিছুটা বদল হয়েছে, ভেবেছে ঢাকায় ফিরে যাবে দুয়েকদিনে। বাবা বললেন, এহসানের মা ফোন করেছিলেন। ওনারা বাড়িতে আসবেন, একটা অনুষ্ঠান করে সবাইকে সব কিছু জানিয়ে দিতে চান। আমাদের যেতে বলেছেন।
ঐশি বাবার কথা খেয়াল করে শুনে, মনে মনে চমকে উঠল। তবে বাইরে থেকে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে মা কে বলল, মা ডালটা দাও।

ঐশির স্বাভাবিক আচরন দেখে অবাক হলেন এনায়েত সাহেব।
তিনি বললেন, আমি না করেছি। আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব না।
ঐশি বলল, যেটা ঘটে গেছে, সেটা তো মানামানির পর্যায়ে নেই বাবা তাই না? জীবন তো থেমে থাকবে না।
এনায়েত সাহেব বললেন, তুই এই কথা বলছিস?
-হ্যা, আমিও রেগে গিয়েছিলাম, রিয়াক্ট করেছিলাম, আমি চেয়েছিলাম অথৈ এর ভালো বিয়ে হোক। ও ভালো থাকুক। সেটা যদি সে এহসানের সাথে থাকে, থাকুক। আমি আমার লাইফ নিয়ে বিজি, আমার বিজনেস আছে, সামনে আরো বেশি কিছু ভাবনা আছে, ওদের পেছনে পড়ে থাকলে আমি তো আগাতে পারব না৷ আমার মনে হয় তুমি মেনে নাও, ওদের দাওয়াত করো। বাসায় আসুক, সব স্বাভাবিক হয়ে যাক।
তাহিরা বেগম বললেন, বুঝে বলছিস তো, সহজ না তো বিষয়টা?
ঐশি বলল, জীবনে কি সহজ হয় মা! আমারটাও এমন। তাছাড়া এহসানের সাথে আমার সব শেষ, ওর প্রতি আমার কোনো ফিলিংসও নাই। ওদের সাথে হয়তো তোমরা সহজ হবে না কিন্তু চেপে তো রাখতে পারবে না। সবাই তো জানবেই আজ বা কাল।

আসতে বলে দাও। বাই দ্য ওয়ে, গেস্টরুম টা তো ছোট, তেমন গোছানোও না। ছোট আলমারিটা শিফট করি, একটা ড্রেসিং টেবিল এনে দাও। আমি ওই রুমে চলে যাই। আমাদের রুমটা ওদের জন্য গুছিয়ে দেব। ওরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে আমি ঢাকায় ফিরব।
তাহিরা বেগম বললেন, না, তুই তোর রুমে থাক। ওদের জন্য এই গেস্টরুমই ঠিক আছে।
ঐশি হেসে বলল, মা, ভুলে যাচ্ছ, ওরা তোমার মেয়ে জামাই। আগে অথৈ কিন্তু ওই রুমে শিফট হয়ে যেত এহসান আসলে। এখন আমি যাচ্ছি।
আর ওদের গিফট টিফট যা লাগে বলো, আমি বের হয়ে কিনে আনছি।
খুব স্বাভাবিক ভাবে ঐশি বলল। এনায়েত সাহেব ভাবলেন, ঐশির কথাও যৌক্তিক, ভালো সম্পর্ক নাই থাকতে পারে কিন্তু সামাজিক বিষয়টা এভাবে সামলে নেওয়াই উচিৎ।
তিনি আরেকটু ভেবে এহসানের মাকে ফোন করলেন।
এহসানের মা খুশি মনেই রাজী হয়ে গেলেন, দুই পরিবারেই দূরত্ব মিটিয়ে একটা যোগাযোগ স্থাপন করতে।

এহসানের কাঁধে অথৈ মাথা দিয়ে শুয়েছিল। এহসান এখনো চেইঞ্জ করে নি। অথৈকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলো। এহসানের মা দরজা নক করলেন।
এহসান উঠে দরজা খুলে দিলো।
এহসানের মা খুশি মনে বললেন, ভালো খবর আছে, অথৈ এর বাবা ফোন করেছিলেন, উনি সব কিছু মেনে নিয়ে আমাদের সাথে মিটমাটের ব্যবস্থা করতে চান।
এহসান অবাক হলো। ঐশি ওখানে আছে, তারপরেও তিনি রাজী হলেন! অথৈও অনেক অবাক হলো বিষয়টা নিয়ে।
মা বললেন, ডাইনিংয়ে খাবার দিচ্ছি, তোরা আয়।
অথৈ বলল, আন্টি আপনি বসুন, আমি আসছি।
এহসানের মা হেসে বললেন, মা বলো এবার।
অথৈ আর এহসানও হাসল।

রাতে অথৈ কে এহসান বলল, বিষয়টা এতটা সহজ না কিন্তু। ঐশি আমাদের সাথে যে ব্যবহার করল, তার পরে সে এত সহজে সব মেনে নিয়ে আমাদের ইনভাইট করবে, বিষয়টা হজম হচ্ছে না৷ কিন্তু অস্বাভাবিকতাকে স্বাভাবিক করতে আমাদের যেতে হবে৷
অথৈ এহসানকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি আপুকে বেশি খারাপ ভাবছ এহসান। হতেও পারে সে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে আমাদেরই মতন।
এহসান বলল, ক্রিমিনাল মাইন্ড এত সহজে স্বাভাবিক হয় না অথৈ। সব সময় মাথায় রাখবে, এথিনিং ক্যান বি হ্যাপেনড! ঐশির মাথায় অন্য কোনো প্ল্যানিং থাকা অস্বাভাবিক হবে না।
অথৈ চিন্তিত স্বরে বলল, হুম!

ঐশি বাবা মায়ের সামনে নিজেকে যতটা স্বাভাবিক দেখালো, সে ততোটা স্বাভাবিক সে নেই আসলে। তার কিছু শারিরীক সমস্যা শুরু হয়েছে। কিছুই খেতে পারছে না। গন্ধ লাগছে। বমি করেছে কয়েকবার।
প্রেগ্ন্যাসি স্ট্রিপ দিয়ে চেক করেছে, দুটো দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। এখনো নায়েব পাশাকে কিছু জানায় নি। অস্থির হলে চলবে না। বিষয়টা হ্যান্ডেল করতে হবে খুব সচেতন ভাবে। নাসিরকে ফোন করতে হবে। মনে ক্ষীণ আশা জমাট বাঁধছে, নাসির হয়তো বিষয়টা জেনে তাকে মেনে নিবে বা স্বীকৃতি দেবে। তখন হয়তো নায়েব পাশার প্ল্যানে তাকে ঢুকতে হবে না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬২

পাশাপাশি আরেকটা বিষয় সে ভাবছে, নাসির যদি মেনে না নেয়, তাহলে?
তাকে তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে, সেই তৃতীয় ব্যক্তি ঐশি কাকে বানাবে?
এহসান? – কিন্তু কিভাবে?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৪