Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৩
শানজানা আলম

একটা বিশ একুশ বছরের মেয়ে চেক জামা পরে আছে৷ ওই সম্ভবত রানিয়া, ঐশিকে নিয়ে যাওয়ার কথা।
মিসেস নওফেল ডাকলেন, রানিয়া, ওকে তিনতলায় নিয়ে যাও৷ ওর থাকা খাওয়ার যেন অসুবিধা না হয়।
রানিয়া নিচু স্বরে বলল, জি আচ্ছা ম্যাম।
প্রথমে রাজী হলেও এখন ঐশির ঠিক যেতে মন টানছে না। মাথা নেড়ে সায় দিলেও, ঐশি মিসেস নওফেলকে পিছু ডাকল। উনি চলে যাচ্ছিলেন।

-আন্টি-
মিসেস নওফেল তাকালেন না। তবে থামলেন।
ঐশি বলল, আমি আজ বরং চলে যাই। নাসির দেশে ফিরলে আপনি ওর সাথে কথা বলুন।
কেন, এই তো রাজী হলে এখানে থাকতে!- মিসেস নওফেল বললেন।
না মানে অপরিচিত জায়গা, কাউকে চিনি না। আমি ইজি ফিল করব না। আর থাকার মতন প্রিপারেশন নিয়ে আসি নি। – ঐশি ইতস্ততভাবে বলল।
মিসেস নওফেল পেছন ফিরে বললেন, হুম, তবে তুমি আজ থাকো। কারন তোমার কথার সত্যতা প্রমানের জন্য তোমাকে থাকতে হবে। আমার ছেলের উপর এত বড় ব্লেম দিয়েছ, সেটা আমি যাচাই করে দেখব না?
ঐশি মাথা নিচু করে বলল, আমি মিথ্যা বলি নাই।

-সত্য মিথ্যা যাই হোক, সেটা চেক করার দরকার আছে।
এই বাড়িতে থাকার জায়গার অভাব নেই, নিশ্চিন্তে থাকো তুমি।
অগত্যা ঐশি রানিয়ার পিছু পিছু হাঁটতে শুরু করল।
বিশাল বাড়ি, ঘোরানো সিঁড়ি ভেঙে ঐশি তিন তলায় উঠল।
তিনতলাটা কেমন যেন, মূল বাড়ি থেকে একদম আলাদা। ঐশিকে মনে হলো আলাদা একটা ফ্ল্যাটে ঢোকানো হলো, কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, ঐশির কেমন সম্মোহিতের মত লাগছে, কি হচ্ছে কেন হচ্ছে ঐশি বুঝতে পারছে না।
ঐশিকে একটা বেডরুমে নিয়ে যাওয়া হলো৷ বেডরুমের জানালা দিয়ে বিশাল কম্পাউন্ড দেখা যায়। রানিয়া বলল, আপনি থাকেন, খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে, রুমের বাইরে আসবেন না। পানি, লেক্সাস, চা কফি সব রুমে দেওয়া আছে।
ঐশি বলল, আমার ব্যাগ?

-পেয়ে যাবেন সময় মতন। গেট থেকে আনতে বলা হয়েছে।
ঐশি জানতে চাইলো, রুমের বাইরে গেলে কি সমস্যা?
-আপনাকে সেফ রাখার জন্য এখানে আনা হয়েছে। বাইরে বের হবেন না।
-এই জায়গাটা তো অনেক দূরে, আমার কিছু লাগলে?
রানিয়া বলল, বেডের পাশের লাল বাটনটা প্রেস করবেন।
বুঝিয়ে দিয়ে রানিয়া চলে গেল। রুমে আলো আছে, রুমের বাইরে লাইট নেই। নাকি জিনিসপত্র ঠাসা, দিনে দুপুরে মনে হচ্ছিল রাত। এখানে নেটওয়ার্ক নেই, একদম জিরো সিগন্যাল। চার্জার বোধহয় ব্যাগে।
কখন ব্যাগ আসবে, কে জানে! এখানে কতক্ষণ থাকতে হবে, ঐশি বুঝতে পারছে না।

ঐশি ক্লান্ত ছিল, কিছু খাওয়াও হয় নি। পানির বোতল থেকে পানি ঢেলে খেয়ে নিলো ঐশি। লেক্সাসের প্যাকেট থেকে একটা লেক্সাস খেয়ে নিলো। জানালার কাঁচ খুলতে গিয়ে দেখল, এই জায়গাটা মূল বাড়ি থেকে একটু সরানো। এখানে কার জন্য এরকম রুম করে রাখা হয়েছে!
ফোনের চার্জ শেষ, ব্যাটারি সিগনাল দিচ্ছে। চার্জে লাগিয়ে মাকে ফোন করলেই হবে, নায়েব পাশাকে একটা টেক্সট করল ঐশি, তবে নেটওয়ার্ক না থাকার কারনে সেন্ড হলো না।
তাহিরা বেগম কয়েকবার ফোন করে ঐশিকে পেলেন না৷ আনরিচাবল বলছে। দুপুর গড়িয়ে গেল, ঐশি ফোন করল না৷ তাহিরা বেগম একটু চিন্তিত হয়ে ভাবলেন, ঐশির বাবাকে জানাবেন। তবে জানালেন না। অনেক সময়ই ঐশি দুই তিন দিনও ফোন করে না। সময়টা যাক, তারপরে কল করবেন।

ঐশির ঝিমুনি লাগছিল, এরকম একা একা কখনো কোনো দিনও থাকে নি। দরজা চেক করে দেখলো, লক করা না, তবে বাইরে যেতে নিষেধ করা আছে।
রানিয়া ব্যাগ নিয়ে আসছিল, মিসেস নওফেল বললেন, ব্যাগটা খুলে জিনিসপত্র যেমন আছে তেমন থাকবে, শুধু ফোনের চার্জার রুমে ঢুকবে না। বা পাওয়ার ব্যাংক থাকলে সেটার চার্জ শেষ করে তারপরে পাঠাতে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭২

ঐশির ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া গেল না। মিসেস নওফেলের কথা মতন ঐশির ব্যাগ থেকে ফোনের চার্জার সরিয়ে রেখে ব্যাগ দিয়ে আসা হলো।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭৪