Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৬
শানজানা আলম

ঐশির বাবা এনায়েত সাহেব ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তিনি ইউটিউব দেখেন নিয়মিত৷ তাহিরা বেগম ফেসবুক ব্যবহার করেন তবে তিনিও ইউটিউবেই বেশি ভিডিও দেখেন৷ ঐশির লাইভ সম্পর্কে তাদের জানালো এহসান৷
অথৈ এহসানের ভাইয়া ভাবীর বাসায় আছে। এখানে আরামেই আছে, এহসান অফিস করছে এখান থেকে। শাশুড়ী, ভাবী সবাই যত্ন করছে অথৈ এর। বিব্রতকর প্রশ্ন করে নি কেউ।
অফিস শেষে ফিরে হালকা স্ন্যাকস নিয়েছিল এহসান। তারপরে রুমে ঢুকে শুয়ে পড়েছে ফোন হাতে নিয়ে, অথৈ কুরুশকাটা নিয়ে কিছু একটা করছিল। শাশুড়ীমায়ের কাছে কুরুশ-কাঁটায় বোনা শিখেছে, দুয়েকটা লাইন নিজে করার চেষ্টা করছে। কনসেনট্রেশান ঘোরানোর জন্য, এটা বেশ ভালো কাজে দিচ্ছে।

এহসান ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রল শুরু করতেই ঐশির লাইভ সামনে চলে এলো। এহসান উঠে বসল।
ইয়ারফোন অন করে শুনলো কিছুক্ষণ, ইগনোর করে সামনে যেতেই টেক্সট এলো হোয়াটসঅ্যাপে। লাইভের লিংক শেয়ার করেছে এক বন্ধু, দোস্ত, তোর এক্স ওয়াইফ না?
সিন করে রিপ্লাই করল না এহসান। অথৈ এর দিকে তাকালো একবার৷ অথৈ ব্যস্ত তার কাজ কর্ম নিয়ে।
এহসান রুম থেকে বের হয়ে গেল। ওর মামাতো ভাই ফিরোজ ভাইকে কল করে ফেলল।
ফোন ধরে ফিরোজ ভাইয়া বললেন, দেখলাম মাত্রই। এখন? টানাটানি তো সবাইকে নিয়েই হবে, তোর অফিসে সমস্যা হবে না?
এহসান বলল, সেটাই ভাবছি৷
-তখনই বলেছিলাম, একই ফেমিলিতে দু বার যাওয়ারই দরকার নেই।
এহসান বলল, অথৈ কে নিয়ে তো আমি ভালো আছি।
ফিরোজ ভাই বললেন, তা ঠিক আছে, তবে নিউজ হচ্ছে তো, ঐশির হিস্ট্রি টানলে তোর নাম, অথৈ এর নাম, তোদের বিয়ে সবই আসবে, তাই না? বাই দ্য ওয়ে, ওর বাপ মায়ের খবর কি? বড় মেয়েকে নিয়ে অনেক ভাব ছিল না তাদের!

এহসান বলল, জানি না, এই ধাক্কা কিভাবে সামলাবে!
এদের কিছু হয়ে গেলে অথৈ এর ই বা কি হবে, এই অবস্থায়!
-হুম, চিন্তার বিষয় আসলে। দেখা যাক কি হয়, তুই ফোন করবি?
-না। দেখি ওনারা করে কিনা! আমিই তো আমার ভাইয়ের বাসায় আছি আপাতত, অথৈ এর শরীর ভালো না, একা রাখতে চাচ্ছি না।
-হুম! দেখা যাক। যে সাজ সজ্জা, লোকাল পাবলিক সহজে চিনতে পারবে না, ওইটা কে।
এহসান বলল, সবাই চিনবে, এখন ইউটুবার আছে না? বাসায় হামলা না করে আর কি! সাংবাদিক আছে, ভ্লগার আছে, এরা যে কি করবে!

-হুম। চিন্তা করিস না বেশি, আমি ভাবতেছি তোর অফিসে না কিছু হয়, তোর আর অথৈ এর সম্পর্কটা নিয়ে টানা হ্যাচড়া হবে তো! মানে ঐশি একটা বলদ মাইয়া।
এহসান বলল, বলদ না, চালাক ঠিকই, এখন টাকা পয়সা গুছাবে, তারপর নিজে কাইটা পড়বে। বাপ মা বোনের কথা চিন্তা করলো না৷ ফাউল একটা!
তবে নাসির তো ছাইড়া দেওয়ার কথা না। কি যে হয়!
ফিরোজ ভাই বললেন, কোথার মেয়ে, কোথায় যাইয়া পড়ছে!
-রাখলাম ভাইয়া, একটা গাড়ি লাগতে পারে। রেন্ট এ কারে কথা বলে রাখি?
-কেন?
– অথৈ এর আব্বা আম্মাকে নিয়ে আসব ঢাকায়।
ফিরোজ ভাই ফোন রাখলেন।

এহসান কল করবে না বললেও কল করে ফেলল এনায়েত সাহেবকে। কিছু করার নেই আসলে, তাদের জানিয়ে রাখা দরকার।
রাত হয়েছে, এনায়েত সাহেব শুয়ে পড়ার আয়োজন করছিলেন।
এহসান সাধারণত ফোন করে না৷ এহসানের ফোন দেখে উঠে বসলেন এনায়েত সাহেব।
এহসান সালাম দিলো।
কি খবর? অথৈ কেমন আছে?- এনায়েত সাহেব জানতে চাইলেন।
ভনিতা না করে এহসান সরাসরি মূল কথায় চলে গেল।
-বাবা, আপনাকে একটা বিষয় জানাতে ফোন করেছি। আপনার বড় মেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছে।
এনায়েত সাহেব বললেন, আমার বড় মেয়ের বিষয়ে তোমার কোনো কথা আমি শুনতে চাই না।
এহসান বলল, না চাইলেও আপনাকে শুনতে হবে। আপনার মেয়ে এক ব্যবসায়ীর সাথে এক্সট্রা ম্যারিটাল এ্যাফেয়ারে ছিল যে কারনে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। সেইখানে সে প্রেগন্যান্ট হয়েছে, বিয়ে ছাড়াই। এখন তাকে বিয়ে না করে ওই লোক এবর্ট করিয়ে দিয়েছে, এসব বিষয় নিয়েই সে লাইভে এসেছে।

এনায়েত সাহেব বললেন, তুমি নোংরা একটা ছেলে, ঐশির জীবনটা নষ্ট করেছ, আবার তার নামে বদনাম করতে আসো, সাহস তো কম না! আমার দুইটা মেয়ের জীবন তুমি নষ্ট করছ!
এহসান বলল, বাবা, আপনার সাথে এখন আমার তর্ক করার সময় না। নাসির পরিচিত গ্রুপ অফ কোম্পানিসের মালিক, ঘটনাটা ভাইরাল হচ্ছে। আমরা ঢাকায় থাকি, কেউ আমাদের চেনে না। মফস্বলে আপনাদের কিন্তু ভয়াবহ খারাপ অবস্থা হবে। আপনার এত বুদ্ধিমতী আপনাদের কথা ভাবল না একবার। আমি গাড়ি পাঠাই, আপনারা ঢাকায় চলে আসেন!
এনায়েত সাহেব বললেন, আমাদের যা হয় হোক, তোমার কিছু করতে হবে না।
এহসান বলল, আমি জানি না, কেন আমাকে বা অথৈকে আপনাদের ভালো মনে হয় না, নচ্ছার পাজি মেয়েটাকে বিশ্বাস করে বসে থাকেন। যদি মনে করেন, আমাকে বা অথৈ কে ফোন দিয়েন। আমি আপনাদের নিয়ে আসব।

আমার মেয়ে কেমন আমি জানি-
এনায়েত সাহেব ফোন কেটে দিলেন।
এহসান বিরক্ত হলো, এদের কিছুই হবে না। নিজেরা সামলে নিতে পারবে। এহসান অথৈ এর কাছে গেল। অথৈ এখনো কুরুশ কাটায় বোনার চেষ্টা করছে।
এহসান অথৈ এর ফোনটা এয়ারপ্লেন মোডে দিয়ে চার্জে লাগিয়ে দিয়ে বলল, খেয়েছ তুমি?
অথৈ চোখ না তুলে বলল, কখোওওন, তুমি ডিনার করে নিও ভাইয়া ভাবীর সাথে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৫

ওকে। ফোন ধরো না রাতে।
অথৈ এর ফোন ধরার আগ্রহও নেই। সে তার মনে কাজ করছে৷ কনসেনট্রেশান পুরোপুরি কুরুশ-কাঁটায় ঢুকে গেছে তার।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৭