Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯০

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯০

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯০
শানজানা আলম

তাহিরা বেগম বাকি রাতটুকু ঘুমাতে পারেন নি, বার বার ঐশিকে ফোন করে গেছেন। ভোর ভোর সময়ে ঐশি ফোন ব্যাক করল। তাহিরা বেগম ফোন তুলে বললেন, ঐশি, কোথায় আছিস তুই?
ঐশি বলল, ভালো আছি মা, টেনশন করো না।
তাহিরা বেগম বললেন, যা শুনলাম, সেসব কি সত্যি?
ঐশি চুপ করে থেকে বলল, হুম। আমি ঠকে গেছি মা, আমাকে ভীষণ ভাবে ঠকানো হয়েছে, আমিও ছেড়ে দেব না।

তাহিরা বেগম বললেন, এহসানকে রাতে ফোন করেছিলাম, ও বলার চেষ্টা করছিল, এসব নাকি তোর ডিভোর্সের আগে থেকেই চলছে!
ঐশি এড়িয়ে গিয়ে বলল, ওদের এসব বিষয়ে টেনো না মা, ওরা ভালো থাকুক। কিন্তু তোমাদের কথা ভাবছিলাম, অনেক ঝামেলায় ফেলে দিলাম, বাবাকে কি করে ফেস করব জানি না, তোমরা কয়েকটা দিন গ্রামে চলে যাবে?
তাহিরা বেগম বললেন, গ্রামে যাব কেন, নিজেদের বাড়ি, এখানেই থাকব। তুই কি করবি এখন?
ঐশি বলল, দেখি, একটা কিছু ব্যবস্থা হবে, চিন্তা করো না, আমারও চেনা পরিচিত লোক কম নেই।
রাখছি এখন।

তাহিরা বেগম ফোন রাখলেন। বুয়া বাসায় ঢুকেই বলল, খালাম্মা, বড়আপার নাকি কি কি হইছে, ওই বাসায় সবাই আলাপ করতেছিল! কার লগে জানি থাকছে, পেটে বাচ্চা আসছিল, ফ্যালাইতে হইছে, মোবাইলে নাকি বলসে!
তাহিরা বেগম বললেন, এসব বাজে কথা! মানুষের কাজ নাই, সারাদিন পিছনে পড়ে থাকে!
বুয়া বলল, কিছু মনে কইরেন না খালাম্মা, মানসে নানা কথা কয় আপনের দুই মাইয়ারে নিয়া। বড় মাইয়ার জামাইর লগে ছোট মাইয়ারে দিছেন, বড় মাইয়া আবার কি কি করসে, অনেক গফসফ করে মানসে।
তাহিরা বেগম বললেন, মানুষের কাজই কথা বলা। এইসব বাদ দাও, তুমি তোমার কাজ করো।
বুয়া সুবিধা করতে পারল না, বিড়বিড় করতে লাগল!
ঐশির বাবা চা খাচ্ছিলেন, তার মেজ ভাই ফোন করল,
সালাম কুশলাদি বিনিময়ের পরে শুরু করল, ঐশির নিউজটা দেখলাম, আপনারা কিছু টের পান নি ভাইজান!

ঐশির বাবা ফোন কেটে দিলেন। ফোন আসতেই লাগল সারাদিন।
ঐশির বাবা তাহিরা বেগমকে বললেন, তোমার মেয়ে তো মানইজ্জত কিছু রাখল না, রাস্তায় আমি কোন মুখে নামব?
তাহিরা বেগম বললেন, যেভাবে আগে নামতে, সেভাবে নামবে!
-তোমার কোনো চিন্তা হচ্ছে না? মানুষ কি বলবে, রাস্তায় মানুষ তো ছি ছি করবে আমাকে দেখলে!
তাহিরা বেগম বললেন, মানুষের কথা বাদ দাও, মেয়েটার চিন্তা করো। ঠিকঠাক খোঁজ নিয়ে বিয়ে দিলে এতকিছু ঘটত না!
ঐশির বাবা বললেন, আমার এখন মনে হচ্ছে, এহসানের কোনো দোষই নাই, তোমার মেয়েই বিপথে গেছে, অথৈ সবটা জানতো, এজন্য সহানুভূতি নিয়ে ও এহসানের কাছে গেছে!
তাহিরা বেগম কোনো কথা বললেন না। বিষয়টা তারও মনে এসেছে, কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না।

গেটের কাছে কিছু ছেলে ছোকরা জট করেছে।
ঐশির বাবা বললেন, দেখে আসি কারা।
তাহিরা বেগম বললেন, না, যাওয়ার দরকার নেই, গেট লক, কেউ ঢুকতে পারবে না।
বুয়া বলল, এরা ভিডিও বানাইতেছে খালাম্মা, উটুবার!
বড় আপার নাম নিয়া কি কি সব বলতেছে!
তাহিরা বেগম বললেন, থানায় ফোন করে সব বিদায় করতেছি।
ঐশির বাবা লোকাল থানায় ফোন করলেন, কিন্তু থানা থেকে বলল, দেখুন, এই ইস্যুতে এসব পোলাপানদের সরানো ঝামেলা, নানা বাজে কথা ছড়াবে, আপনারা ঘরে থাকুন, ওরা ওদের মতন চলে যাবে!
ঐশির বাবা বললেন, এটা কেমন কথা, আপনারা কোনো ব্যবস্থা নিবেন না?
থানার অফিসার দেখছি বলে ফোন রাখলেন, কিন্তু কিছু করলেন না।

অথৈ এর ঘুম ভাঙল একটু দেরী করেই। এহসান অফিসে একটু দেরী করে যাবে বলে দিয়েছে৷ সত্যি বলতে অফিসে যেতেও ভয় লাগছে। নিশ্চয়ই সবাই জেনে গেছে ঐশির বিষয়টা। কেউ না কেউ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে ফেলবে। অথৈকে নিয়ে তার দ্বিধা নেই, কিন্তু এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে এত ঝামেলায় না জড়ালেই ভালো হতো। অথৈ এর জীবনটাও সুন্দর হতো, এহসানও আলাদা হয়ে বাঁচতে পারতো।
ঐশি কালপ্রিটটার জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে ভাইয়া ভাবী ছিল, ভাইয়া বললেন, অথৈকে না জানাতে বিষয়টা। কিন্তু অথৈ তো জানবেই। ওর মা কল করে বলে দেবে।
ভাইয়া বললেন, চিন্তা করিস না, যা হওয়ার হবে।
অথৈ ঘুম ভেঙে ফোন খুঁজল, এহসান অথৈকে আগে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে নিতে বলল। অথৈ সকালে কিছু খেতে পারে না, গন্ধ লাগে, ব্রাশও করতে পারছে না, বমি হয়ে যায়। এহসান স্যুপ নিয়ে এসে খাইয়ে দিলো বাহানা করে।
খাওয়ানো শেষ করে বলল, তারপরে বলল, অথৈ, ঐশি কাল রাতে একটা লাইভ করেছে। সেখানে সে সব কিছু বলে দিয়েছে।

অথৈ চমকে উঠে বলল, মানে কি ? সবকিছু মানে?
মানে নাসিরের সাথে ওর ইস্যু, এবর্শন, ওকে আটকে রেখেছিল, সব কিছু! – এহসান বলল।
অথৈ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, বাবা মা জানলে? কি রিএ্যাকশন হয়, বাবার বয়স হয়েছে!
এহসান বলল, আমি ফোন করে আমাদের বাসায় তাদের চলে আসতে বলেছিলাম। ওখানে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। বাবা শুনতেই চাইলেন না আর তোমার মা এখনো আমাদেরই ব্লেম করছে। বলছে, সব কিছুর জন্য আমি দায়ী। আমার জন্য নাকি সব হয়েছে। ঐশির এই সম্পর্কটা যে অনেক দিনের, সেটা সে বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।
অথৈ একটু সময় চুপচাপ থেকে বলল, না আসতে চাইলে থাকুক তাদের মতন। তোমার আর ফোন করার দরকার নেই।
এহসান বলল, আর ইউ সিওর?

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮৯

অথৈ বলল, এত কিছুর পরেও যখন তোমাকে দোষী মনে হচ্ছে, তখন আমি আর তাদের কোনো বিষয়ে থাকতে চাই না। স্ট্রেসে আমার বাচ্চাটার ক্ষতি হবে। তারা তাদের সমস্যা বুঝে নিক।
এহসান মারাত্মক অবাক হলো, অথৈ এর এই আচরন সে আশা করে নি। তবে কিছুটা নিশ্চিন্তও হলো। যাই হোক, অথৈ নিজের বা বাচ্চার জন্য চিন্তা করছে, ভাবীকে বলে গেলেই হবে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৯১