Home বাঁধন রূপের অধিকারী বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১২

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১২

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১২
সুমি চৌধুরী

“স্যার আমি বাইকে উঠতে ভয় পাই।”
মাথা নিচু করে মিনমিন করে বলল রূপা। বাঁধন বাইক স্টার্ট দিতে গিয়েও থেমে গেল। সে প্রচণ্ড অবাক হয়ে রূপার দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে একরাশ বিস্ময়।
“সিরিয়াসলি? তুমি বাইকে উঠতে ভয় পাও?”
রূপা মাথা নিচু করেই অপরাধীর মতো আলতো করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। বাঁধন এবার পড়ল মহা জ্বালায়। সে পুলিশের মানুষ, সারা জীবন বাইক চালিয়েই অভ্যস্ত। একটা বড়সড় শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে বাঁধন বলল,

“কিচ্ছু হবে না, উঠে বসো।”
রূপা এবার বড় বড় ভীতু চোখে তাকিয়ে বলল,
“না, আমার খুব ভয় লাগে। এত ছোট গাড়ি, যদি উল্টে পড়ে যায়?”
রূপার কথা শুনে বাঁধন হাসবে নাকি কাঁদবে তা বুঝতে পারছে না। এই জেনারেশনের মেয়েরা সাধারণত বাইকে উঠতে পাগল থাকে, আর এই মেয়ে বলছে কি না ছোট গাড়ি দেখে তার ভয় লাগে! রূপা অনুরোধের সুরে বলল,
“স্যার, আমি একাই চলে যেতে পারবো। আপনি শুধু আঙ্কেলকে বলবেন না যে আমি আপনার সাথে যাইনি। নাহলে আঙ্কেল খুব রাগ করবেন।”
বাঁধন বাইকটা স্ট্যান্ড করিয়ে নামল। চাবিটা ঘুরিয়ে খুলে পকেটে পুরতে পুরতে গম্ভীর গলায় বলল,
“চলো, আমি তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছি।”
রূপা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“না না স্যার, প্রয়োজন নেই। আমি যেতে পারবো তো।”
“শাটআপ! এত কথা বলো কেন তুমি? চুপচাপ আমার সাথে আসো।”

বলেই বাঁধন গটগট করে হাঁটা শুরু করল। পেছনে পেছনে রূপাও মাথা নিচু করে হাঁটছে। সে লক্ষ্য করল লোকটা কত লম্বা! বাঁধনের পা ফেলার ভঙ্গি আর তার দীর্ঘদেহের সামনে রূপার নিজেকে একদম ছোট বাচ্চার মতো মনে হচ্ছে।হঠাৎ রাস্তার মোড়ে একটা ধবধবে সাদা খরগোশ বসে থাকতে দেখল রূপা। মনে হচ্ছে অবুঝ প্রাণীটা পথ হারিয়ে ফেলেছে, সে বিচিত্র এক ধরণের শব্দ করছিল। দৃশ্যটা দেখা মাত্রই রূপা সব ভয় ভুলে দৌড়ে গিয়ে খরগোশটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।ঠিক সেই মুহূর্তে বাঁধনের ফোনে একটা কল আসায় সে কথা বলতে বলতে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল। কথা শেষ করে পেছনে তাকাতেই দেখল, রাস্তার ধারে রূপা ওই নোংরা খরগোশটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। বাঁধন দ্রুত পায়ে রূপার সামনে এসে ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে কড়া গলায় বলল,
“এই নোংরা জিনিস হাতে নিয়েছো কেন? ফেলে দাও এখনই! কামড় দিয়ে দেবে?।”
রূপা পরম মমতায় খরগোশটাকে আগলে ধরে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে বলল।
“স্যার ও নোংরা নয়। দেখুন কত ছোট বাচ্চা, মনে হয় পথ হারিয়ে ফেলেছে। ওকে এভাবে ফেলে গেলে নির্ঘাত কেউ মেরে ফেলবে।”
বাঁধন নির্বিকার কণ্ঠে বলল।

“তো?”
“স্যার ওকে আমি নিয়ে যাবো।”
“কী করবে বাসায় নিয়ে?”
“পালবো।”
“তারপর?”
“অনেক আদর করবো।”
“তারপর?”
“অনেক বড় করবো ওকে।”
“তারপর?”
রূপা মনে মনে বেশ অবাক হলো। লোকটা এত সব খুঁটিনাটি জানতে চাইছে কেন? বাঁধন আবারও কড়া গলায় বলল।
“রেখে দাও বলছি, এগুলা খামচি দেয়।”
রূপা কথা না বাড়িয়ে খরগোশটাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখমুখের জেদ বলে দিচ্ছে সে এটা ছাড়বে না।
“না, ওকে আমি নিয়ে যাবো।”
বাঁধন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে হার মেনে নিয়ে বলল।
“ওকে ফাইন, চলো।”
দুজনে মিলে হেঁটে বাজারের মোড়ের দিকে আসলো। বাঁধন একটা সিএনজি ডেকে চালককে অত্যন্ত কড়া মেজাজে নির্দেশ দিল।
“ওকে একদম বাসার সামনে নামিয়ে আসবেন। মাঝে অন্য কোনো প্যাসেঞ্জার নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আশেপাশে কোথাও দাঁড়াবেন না, ও যেভাবে ঠিকানা বলবে ঠিক সেভাবে নামিয়ে দিয়ে আসবেন। ঠিক আছে?”
চালক ভয়ে ভয়ে মাথা নেড়ে সায় দিল। রূপা তার নতুন সঙ্গী খরগোশটাকে বুকে নিয়েই সিএনজিতে উঠে পড়ল। বাঁধন পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে চালককে অগ্রিম ভাড়া মিটিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যেই সিএনজিটি ধুলো উড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলল। বাঁধন অপলক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

অন্য দিকে শান্তাও বেশ ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধার দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছে। প্রচণ্ড রোদে তার মাথা যেন ফেটে গিয়েছে। হঠাৎ একটা ছোট বাচ্চা দৌড়ে এসে শান্তার ওড়না খামচে ধরে কাতর গলায় বলল।
“আন্টি আন্টি, আমার আম্মুকে বাঁচান। আমার আম্মু একটা গাছের নিচে বসে ব্যথায় কাঁদছে। আম্মুর অনেক রক্ত পড়ছে।”
শান্তা অবাক হয়ে বাচ্চাটির দুই কাঁধ ধরে নিচু হয়ে নরম গলায় বলল।
“কী বলো? তোমার আম্মু কোথায়?”
বাচ্চাটি হাত উঁচিয়ে সামনের দিকটা দেখিয়ে বলল।
“ওই যে ওখানে গাছের নিচে।”
শান্তা দেরি না করে বাচ্চাটির সাথে দ্রুত সেই জায়গায় আসলো। কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানে এসে সে কাউকে দেখতে পেল না। সে অবাক হয়ে বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে বলল।
“কই বাবু, এখানে তো কেউ নেই?”
“এই যে, কে বলছে কেউ নেই? আমরা আছি।”

কণ্ঠস্বর শুনে শান্তা চমকে উঠে পেছনে তাকাল। দেখল চারজন যুবক তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। সবার মুখে কালো রুমাল বাঁধা আর হাতে ধারালো ছুরি, দেখতে একদম দুর্ধর্ষ ডাকাতদের মতো। শান্তা ভয়ে পাশে তাকাতেই দেখল সেই ছোট বাচ্চাটির মুখে এখন শয়তানি হাসি। শান্তা এবার বুঝতে পারল তাকে কৌশলে এখানে ফাঁসিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সে ভয়ে চিৎকার দিতে গেলেই একজন ছেলে ঝাপটে ধরে শান্তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হিসহিস করে বলল।
“চুপ। একটু সাউন্ড করলে একদম খুন করে ফেলবো।”
শান্তা মৃত্যুভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল।
“আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।”

ঠিক তখনই অন্য একটা ছেলে শান্তার নাকে একটা রুমাল চেপে ধরল। ওষুধের তীব্র গন্ধে শান্তা সাথে সাথে অবশ হয়ে ঢলে পড়ল। ছেলেগুলো তাকে পাজাকোলা করে তুলে একটি কালো কাঁচের গাড়িতে তুলে দ্রুত সেখান থেকে হাওয়া হয়ে গেল।রবিন নামক ছেলেটি গাড়ি থেকেই তার বসের কাছে ফোন দিয়ে উত্তেজিত গলায় বলল।
“বস, আজকে ধরেছি। আজকের মালটা একদম জবরদস্ত। পাঁচ লাখ তো শিওর, আমার মনে হচ্ছে আরও বেশি পাবেন। মেয়েটার যা ফিগার।”
ওপাশে ফোনের ওপ্রান্তে কেভিনের ঠোঁটে এক কুৎসিত শয়তানি হাসি ফুটে উঠল। সে বাম হাত দিয়ে সিগারেটের লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে আয়েশ করে বলল।
“তাই নাকি? তাহলে তো একবার আমাকেও ট্রাই করতে হয়। তাড়াতাড়ি নিয়ে আয়।”
“নিয়ে আসছি বস, রাস্তায় আছি।”
“ওকে।”

মাগরিবের আযান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই রূপা তার বাসার সামনে এসে নামল। আজ অনেক দেরি হয়ে গেছে। সে বাড়ির ভেতরে ঢুকেই দেখল সোফায় আকাশ আধশোয়া হয়ে ফোন টিপছে। আর কেউ নেই, হয়তো রূপার মা আর কাকি নামাজ পড়তে গিয়েছেন। আকাশ রূপাকে দেখামাত্রই সোজা হয়ে বসল। সে সরাসরি রূপাকে জিজ্ঞেস করল।
“তোর হাতে ওটা কী? খরগোশ না?”
রূপা খরগোশটির মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে জবাব দিল।
“হ্যাঁ ভাইয়া।”
আকাশ ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল।
“কোত্থেকে নিয়ে আসলি?”
রূপা ক্লান্তিতে যেন ভেঙে পড়ছে। সে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল।
“রাস্তা থেকে ভাইয়া। আমি অনেক টায়ার্ড, পরে কথা বলছি তোমার সাথে।”
বলেই রূপা উপরে নিজের রুমে চলে এল। সে খরগোশটাকে পরম মমতায় তার পড়ার টেবিলের ওপর বসিয়ে দিয়ে বলল।

“তুমি এখানে থাকো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
নামাজ পড়ে রজনী রহমান আর শিল্পি রহমান বেরিয়ে আসলেন। শিল্পি রহমান আকাশের দিকে তাকিয়ে ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“শান্তা এসেছে রে?”
আকাশ ফোন থেকে চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
“শান্তা এসেছে মানে? শান্তা কি এখনো আসে নাই?”
শিল্পি রহমান উদ্বেগের সাথে বললেন,
“না তো, আমি তো ভাবছি এতক্ষণ বোধহয় চলে আসলো।”
আকাশ সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। ফোনে সময় দেখল ৭টা বেজে গেছে। শান্তা এখনো বাড়ি ফিরেনি দেখে তার বুকের ভেতরটা কু ডাকতে শুরু করল। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত করে বলল,
“তুমি চিন্তা করো না মা, আমি দেখছি ও কোথায়।”

বলেই আকাশ ঝড়ের বেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। ভার্সিটি থেকে শুরু করে শান্তার সব বান্ধবীর বাড়ি খোঁজ লাগাল কিন্তু শান্তা কারও বাসায় যায়নি। আকাশ এবার চরম অস্থির হয়ে ফোন দিল বাঁধনকে। বাঁধন তখন তার টিমের সাথে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এক ইনভেস্টিগেশন নিয়ে মিটিং করছিল। মিটিংয়ের সময় ফোন আসায় বাঁধন বিরক্ত হয়ে কলটা কেটে দিল। কিন্তু ফোনটা আবার বেজে উঠল। এক, দুই, তিন গুনে গুনে পাঁচবারের সময় বাঁধন দাঁতে দাঁত চেপে ফোনটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে আকাশ উত্তেজিত গলায় বলল,
“হালার ঘরে হালা, ফোন ধরছিস না কেন?”
আকাশের গলার স্বরে আতঙ্ক টের পেয়ে বাঁধন মুহূর্তেই পেশাদার গাম্ভীর্যে ফিরে এল। সে একদম এসপি সুলভ ভারী আর ধারালো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কন্ট্রোল ইউর টোন আকাশ। কী হয়েছে? কোনো ইমার্জেন্সি?”
“শান্তাকে পাওয়া যাচ্ছে না ভাই।”
কথাটা শোনা মাত্র বাঁধন স্প্রিংয়ের মতো চেয়ার ছেড়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়ল। তার চোখের চাহনি তলোয়ারের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। সে গম্ভীর গলায় কমান্ড করল,

“হোয়াট?।”
আকাশ হাপাচ্ছে, সে হড়বড় করে বলল,
“হ্যাঁ ভাই, ভার্সিটি থেকে শুরু করে ওর সব ফ্রেন্ডের বাসা খুঁজেছি। ও কোথাও নেই।”
বাঁধনের মস্তিষ্ক তখন ঝড়ের গতিতে কাজ করছে। সে ঠান্ডা কিন্তু কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল,
“লাস্ট কখন ওর সাথে কথা হয়েছে? তুই কি সব পসিবল রুট চেক করেছিস,বা বাড়িতে ফিরেছে কিনা কাওকে জিজ্ঞেস করেছিস?।”
আকাশ উত্তরে বলল,
“আরে ও বাসায় ফিরে নাই দেখেই তো আমি বাইরে হন্যে হয়ে খুঁজছি।”
বাঁধন এবার পূর্ণ কর্তৃত্বের সাথে আদেশ দিল,
“লিসেন টু মি। প্যানিক করবি না। আমি এখনই শান্তার সেলফোন টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য সাইবার টিমকে কমান্ড দিচ্ছি। তুই মেইন রোডে থাক, আমার ফোর্স মুভ করছে। আমি আসছি।”

রূপা ফ্রেশ হয়ে খরগোশটার শরীর মুছে দিল, তারপর ওটার নাকে আলতো করে একটা টিপ দিতেই খরগোশটা রূপার হাতে পরম মমতায় জিভ বুলাতে থাকল। অবুঝ প্রাণীটার ভঙ্গি দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওর ভীষণ খিদে লেগেছে। রূপা হেসে উঠে আদুরে গলায় বলল,
“ওলে তোমার ক্ষুধা লেগেছে।”

রূপা দ্রুত রান্নাঘরে গিয়ে গাজর খুঁজে বের করল, তারপর সুন্দর করে ছোট ছোট টুকরো করে খরগোশটার সামনে দিল। খরগোশটা সাথে সাথে পরম তৃপ্তিতে কুচকুচ করে খেতে শুরু করল। রূপা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, কারণ এই প্রথম সে এমন কোনো খরগোশ দেখছে যে কোনো খামছি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে এর আগে কেউ এই খরগোশটাকে খুব যত্ন করে পালছে, সে হয়তো ওকে শিখিয়েছে মানুষের ভালোবাসা আসলে কী।রূপা মুগ্ধ হয়ে খরগোশটার খাওয়া দেখছিল। এই ছোট প্রাণীর শান্ত স্বভাব তাকে এক অদ্ভুত শান্তি দিচ্ছিল। বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেই চিন্তা যেন এখন আর তার মাথায় নেই। সে শুধু ওর নরম পশমে হাত বুলিয়ে ভাবল, ভালোবাসা পেলে বন্য প্রাণীও যে কতটা শান্ত আর আপন হয়ে যায়, এই খরগোশটাই তার প্রমাণ।খুব দ্রুতই গাজরের সবটুকু শেষ করে খরগোশটা রূপার কোলে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল। রূপা মুচকি হেসে আলতো করে কোলে তুলে নিয়ে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখে তখন এক অন্যরকম ভালো লাগা। সে মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানাল সেই অজানা মানুষটার প্রতি, যে এই অবুঝ প্রাণীটাকে এত ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছিল।রূপা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। তার কোলে থাকা ছোট্ট খরগোশটার মাথায় আলতো করে হাত বুলাতে বুলাতে সে মিষ্টি গলায় বলল।

“তোমার নাম কী রাখা যায় বলো তো?”
কিছুক্ষণ ভেবে সে নিজেই হেসে ফেলল। চোখে একরাশ আনন্দ নিয়ে বলল
“আজ থেকে তোমার নাম ক্যান্ডি। ক্যান্ডি মানে কি জানো,ক্যান্ডি মানে মিষ্টি,আর তুমি তো দেখতে খুব মিষ্টি,তাই তোমার নাম আজ থেকে ক্যান্ডি।”
রূপা খিলখিল করে হেসে উঠল, তার হাসিতে যেন পুরো ব্যালকনিটাই প্রাণ ফিরে পেল।হঠাৎ নিচের রাস্তা থেকে একটা বাইকের শব্দ ভেসে এলো। মুহূর্তেই সেখানে এসে থামল ইশতিয়াক, তার পেছনে রনি। ইশতিয়াককে দেখতেই রূপার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মুছে গেল।সারাদিন ধরে তাকে একবারও দেখেনি সে, অথচ এখন হঠাৎ করেই যেন আকাশ ফুঁড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। রূপা কিছুক্ষণ নিঃশব্দে নিচে তাকিয়ে রইল।ইশতিয়াক বাইক থেকে নেমেই রূপার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অদ্ভুত সব অঙ্গভঙ্গি শুরু করল। সে পকেট থেকে একটা চিপসের প্যাকেট বের করে রূপার দিকে বাড়িয়ে ধরার ভান করে খিলখিলিয়ে হাসতে লাগল, যেন রূপা নিচ থেকে লাফ দিয়ে সেটা ধরবে। রূপা একবার আড়চোখে নিচের দিকে তাকিয়েই আবার ক্যান্ডির নাকে আঙুল দিয়ে খেলায় মগ্ন হয়ে গেল।ইশতিয়াক দেখল কাজ হচ্ছে না, সে এবার পকেট থেকে একটা লাল রঙের প্লাস্টিকের চশমা বের করে চোখে পরে রনির দিকে ফিরে একটা জোকার টাইপ পোজ দিল। রনি হেসে কুটিকুটি হলেও রূপার ভ্রুক্ষেপ নেই। রূপা ক্যান্ডিকে কোলে নিয়ে এমনভাবে কথা বলছে যেন এই পৃথিবীতে ইশতিয়াক বলে কেউ নেই।রূপার এই চরম অবহেলা দেখে ইশতিয়াকের ফানি ভাবটা মুহূর্তেই উবে গেল। সে গাল ফুলিয়ে রনিকে বলল,

“দেখলি রনি? সাহস কত বড়! আমি নিচে দাঁড়িয়ে এত কসরত করছি, আর সে আমাকে পাত্তা না দিয়ে ওই একটা লম্বা কানের ইঁদুর নিয়ে মগ্ন আছে! আমাকে ইগনোর করা যে কত বড় রিস্ক, সেটা ও জানে না।”
রনি বাইকে হেলান দিয়ে একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল,
“বস, হুট করে এসে এই পাগলামি শুরু করলেন? মেয়েটা তো আপনাকে সাইকো ভাববে।”
ইশতিয়াক পকেট থেকে সানগ্লাসটা বের করে স্টাইলে চোখে পরল। তারপর ওপরের দিকে তাকিয়ে একদম ভারিক্কি আর ড্যাম-কেয়ার কন্ঠে হাঁক ছেড়ে বলল,

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১১

“হ্যালো মিস! আজকেও আসলাম? কালকের মতো আবার জিজ্ঞেস করবেন না তো যে আজকেও এখানে কেন?”
রূপা তখন ক্যান্ডির নরম পশমে আঙুল চালাচ্ছিল। সে একবারও ইশতিয়াকের চোখের দিকে তাকাল না। একদম বরফশীতল আর অবজ্ঞাপূর্ণ কন্ঠে জবাব দিল,
“কুত্তার লেজ কোনোদিন সোজা হয় না, জানেন তো? আর যারা কুত্তার লেজকে সোজা করতে চায়, তাদের মতো ফালতু সময় নষ্ট করার রুচি আমার নেই।”

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১৩