বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫০
ইশরাত জাহান
সকালবেলার নরম আলো এখনও পুরো ঘর জুড়ে আলোকিত হয়ে ওঠেনি।জানালা বন্ধ থাকায় হালকা আলোর ভেতর শোভা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়।ঘড়ির দিকে তাকাতেই সাদা ঘড়িতে লাল কাটা দুটো দেখেই বুঝতে পারে বেশ দেরিই হয়েছে ঘুম ভাঙতে।ধীরে ধীরে উঠে বসতেই অবাক হয়ে যায়।তার সামনে দর্শন বসে আছে।হাতে খাবারের প্লেট।চোখে মুখে ফুটে উঠেছে প্রতিদিনের মতোই চিরচেনা শান্ত ও গম্ভীর হাসি।দর্শন মৃদু হেসে বলে,“গুড মর্নিং,ওয়াইফি।”
শোভা হতভম্ব হয়ে বলে,“এত বেলা হয়ে গেলো!আমি তো কিছুই টের পাইনি।”
ছোটবেলা থেকেই ফজরের সময় উঠতে উঠতে শোভার অভ্যাস হয়েগেছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওঠা।যেদিন নামাজ থাকেনা সেদিন অন্তত উঠে দোয়া পাঠ করে উঠানে গিয়ে হাটে।শামীম বাড়িতে ফিরলে জিজ্ঞাসা করবে তার কি খেতে ইচ্ছা করছে।এরপর রান্নাঘরে চলে যাবে।সকালে রান্না করে দুপুরের জন্য কাটাকাটি শুরু করে দেয়।বাসায় ফ্রিজ না থাকায় অনেক সময় পাশের বাসায় রাখতে হয়।নাহলে শামীম অল্প করে মাছ কিনেই আনে।শোভা রান্না সেরেই স্কুলে যাবে।যেদিন অসুস্থ থাকবে বা পরীক্ষার চাপ থাকে শামীম নিজে বারণ করে রান্না করতে।তারও অভিজ্ঞতা আছে রান্না করার।বোনকে সময়ে সময়ে সাহায্য করে সে।এইজন্য শোভা লেখাপড়া ঠিকভাবে করতে পেরেছে।আজ একটু দেরি হওয়ায় লজ্জাও পাচ্ছে শোভা।বাড়িতে দাদাশশুর,দেবর,ননদ আছে।তারা বেড়াতে এসেছে।বাড়িতে মেহমান থাকলে বউদের আরো আপ্যায়ন ঠিকভাবে করতে হয়।শোভা সেখানে ঘুমে বেহুশ ছিল। আর তার খাবারই কিনা তার স্বামী এনে দিলো!শোভার মুখটা দেখে দর্শন নিঃশব্দে প্লেটটা পাশে রেখে জানালার দিকে ইঙ্গিত করে বলে,“আমি জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।তাই টের পাওনি।”
শোভা চমকিত চাহনি দিয়ে বলে,“আপনি অনেক আগে উঠেছেন?”
দর্শন মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানায় অতঃপর বলে,“অফিসের কিছু কাজ ছিল।কমপ্লিট করে রেখেছি।আজকে তো অফিসে যাবো না তাই।”
“কেন?”
দর্শন ধীরে ধীরে শোভার দিকে এগিয়ে আসে শোভা শুধু চেয়ে দেখছে।দর্শনের চোখে এক অদ্ভুত কোমলতা।দূরত্ব ঘুচিয়ে সে শোভার পাশে বসে মৃদু কণ্ঠে বলে,“আজকে আমার ওয়াইফি ভার্সিটিতে ভর্তি হবে।তাকে তার ভার্সিটি দেখাতে নিয়ে যাবো।এইজন্যই আজ আমার অফিসে যাওয়া হবে না।”
শোভার মন খুশিতে ভরে ওঠে।কিন্তু স্বভাবসুলভ লাজুকভাব তাকে অনুভূতি প্রকাশ করতে দেয় না।এমনকি দর্শনের আজকের আচরণে শোভার মধ্যেকার যে অভিমান গড়ে উঠেছিল তাও যেনো ঘুচে যাচ্ছে।দর্শনের মধ্যে স্বামীর টান শুরু থেকেই শোভার মধ্যে কাজ করে।এই যেমন শোভাকে যখন দিজা বলতো,“তোমার স্বামী আজকে এওয়ার্ড পেয়েছে।”
শোভার মনে নেচে উঠতো।মানুষটিকে সামনে না দেখলেও মনে মনে কেমন যেন উড়ন্ত হয়ে বলতো,“আমার স্বামী।সে আমার স্বামী।”
কিন্তু দর্শনকে অজানায় স্বামী হিসেবে মানতে হওয়ায় মনে মনে অনেকবর আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে মেয়েটা।বিবাহিত জীবন চার বছর।এই চার বছরে যে মেয়ে সংসার করতে পারে না তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আসাটাও সহজ না।তাই এখনও শোভা দোটানায় ভুগছে।এর বিশেষ কারণ দর্শনের স্বীকারোক্তি। সে মুখ ফুটে না বলে শুধু ইঙ্গিতে চলছে।শোভার মধ্যে দর্শনকে নিয়ে অনেক ভাবনা কাজ করে।এগুলো কি দর্শনের মন থেকে মেনে নেওয়া নাকি সে বাধ্য হয়ে?আবার এমনও হতে পারে দর্শন নিজের হক আদায় করতে এসব করছে।কারণ এই লোক তো সংসার করবে না বলেই দূরে দূরে ছিলো।এসেও ভালো আচরণ করেনি।যতটুকু ভালো আচরণ এই কয়টাদিন পেলো।তাই কণ্ঠে খানিক অবিশ্বাস মিশিয়ে বলে,“আপনি যাবেন?”
মনে মনে বলে ওঠে,“তাও কি না আমার জন্য!”
দর্শন চোখ টিপে হেসে বলে,“এটাই তো বললাম।”
শোভা অপলক তাকিয়ে থাকে দর্শনের মুখের দিকে। দর্শন তার সেই দৃষ্টি টের পেয়ে মজা করে বলে,“আমার দিকে বেশিক্ষণ তাকালে তুমি আমাতেই মত্ত হয়ে থাকবে।যদিও আমার উইশলিস্টে ঠিক এটাই আছে কিন্তু তোমার উইশ পূরণ করাটাও জরুরি।তাই তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসো।অলরেডি নয়টা বাজে।”
শোভার চোখ বড় হয়ে ওঠে।হকচকিয়ে বলে,“ওহ! এত বেজে গেছে!খেয়াল ছিল না।বাসায় দাদাজান আছে,ভাই আছে।আমি তো নাস্তাও বানাইনি।”
দর্শন শোভার হকচকানো ভাব দেখে মৃদু হাসে।বলে,“এত ঘাবড়ে যাচ্ছ কেন?রিল্যাক্স।সবার ব্যাবস্থা হয়েগেছে।”
“কিভাবে?”
“আমি ব্রেকফাস্ট রেডি করেছি।”
“আপনি?”
“হুমমম,তুমি অসুস্থ তাই ডিস্টার্ব করেনি কেউ।দাদাজান নিজেই আজকে তোমাকে রেস্ট নিতে বলছে।”
শোভার কণ্ঠ নরম হয়ে যায়।ইতস্তত হয়ে বলে,“তবুও।আমি নিজের জায়গা থেকে সবকিছু ঠিকভাবে পালন করতে চাই।”
তার কথা শেষ হতে না হতেই দর্শন আলতো করে হাত তোলে।ধীরে শোভার মুখে স্পর্শ করে।শোভা একটু আতকে ওঠে।লজ্জায়,বিস্ময়ে,আর অচেনা অনুভূতির টানে।দর্শন খুব নরম কণ্ঠে বলে,“তুমি তোমার জায়গায় ঠিক আছো।আমার এর থেকে বেশি কিছুই চাই না।”
শোভা নীরবে চেয়ে আছে।যা দেখে দর্শন তাড়াহুড়ো দিয়ে বলে,“দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসো।খেয়ে রেডি হতে হবে তো।”
শোভা মাথা নাড়িয়ে চলে যায়।খানিক বাদে গোসল সেরে আসে।দর্শনের সামনে দাড়িয়ে খাবারের প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।খাবার দেখেই বোঝা যাচ্ছে এগুলো দিজা না দর্শন নিজ হাতে বানিয়েছে।কারণ এগুলো সব স্বাস্থ্যকর খাবার।সিদ্ধ ডিম।পাউরুটির উপর এভেকেডো,টমেটো,লেটুস পাতা একটু ঝাল দিয়ে মিক্স করে রাখা।ব্রকলি,শসা আর গাজর হালকা সিদ্ধ করে তার উপর অল্প গোলমরিচ ছিটিয়ে দেওয়া।এগুলো দেখে শোভা নাক মুখ কুঁচকে বলে, “বাসার সবাই কি খাবে?”
দর্শন ভ্রুকুটি করে বলে,“এগুলোই।”
শোভা আঙুল দিয়ে খাবারের দিকে ইশারা করে বলে,“আপনি এসব চোরাই রান্না শিখেছেন কোথা থেকে?”
দর্শন প্রশ্নবিত্ত চোখে চেয়ে বলে,“এগুলো চোরাই রান্না?”
“তা নয়তো কি?এগুলো দুই মিনিটে রান্না করা যায়। স্বাদ একদমই ভালো হবে না।দেখেই বোঝা যায়।”
“তুমি জানো এসব হেলদি খাবার খেয়ে বিদেশীরা নিজেদের শরীর ঠিক রাখে।আমাদের দেশের মানুষদের মত ওদের এত ডাক্তারের কাছে দৌড়তে হয়না।”
“আমি এগুলো খেতে পারব না।”
“কেন?”
“আমার অভ্যাস নেই।”
দর্শনের রাগ বাড়লো কিন্তু প্রকাশ করবে না বলে মনস্থির।রাগ বাড়তে থাকার কারণ তার এই যে,ভালোবেসে কিছু এনে দেওয়া খাবার শোভা রিজেক্ট করছে।না জানি দুদিন পর দর্শনকেই রিজেক্ট করে দেয়।ছোটবেলা থেকেই দর্শন আঘাত পাওয়ার পর কোনকিছু রিজেক্ট হবার আশঙ্কা পেলে সে নিজেই সেখান থেকে চলে আসে।তবুও রিজেক্টেড হতে চায়না।নিজের মাই তো তার বাবাকে অপছন্দ করতো বলে বাবাকে রিজেক্ট করে দিলো সেই সাথে তাকেও।অতিরিক্ত ট্রোমায় থেকে দর্শন এসব বেশি বেশি ভাবছে।এখানে তো শোভার দিকেও এমন সম্ভাবনা ছিল।দর্শনের ব্রেনের যে অবস্থা ছিল দর্শন জানতো দুইদিনের সংসার জীবনেই এই মেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পালাতে চাইবে।আঙুল উঠবে দর্শনের উপর।দর্শনের ওভার থিংকিংয়ের কারণে সে ডমিনেটিং হয়ে ওঠে।এটা যখন ঠান্ডা মাথায় ভাবে তখনও কেমন যেনো সব এলোমেলো লাগে তার কাছে।তাই তো শোভার জীবনে নিজেকে রাখার জন্য নিজের ক্যারিয়ার গোছানোর সাথে সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে ব্যস্ত ছিল এই চারটে বছর ধরে।মিস্টার আর্য দর্শনকে দেখে রাখতেন।মিস্টার আর্যের কাউন্সেলিংয়ের কারণে মানসিক চাপ থেকে বের হতে পেরেছে কিন্তু ক্ষোভ কাজ বা অভ্যাসের পরিবর্তন এখনও হয়নি।দর্শন এখনও শোভার জন্য নিজেকে যোগ্য ভাবতে পারে না।কিন্তু দাদাজানের মিথ্যার কবলে পড়ে দেশে এসে নিজের বউকে কাছে পেয়েও দূরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।বউ তার ভালোই বড় হয়েছে।এখন তার হিসাবে সাড়ে আঠারো চলে।তার মধ্যে বেশ পরিবর্তন।নিজের জন্য লড়াই করতে শিখেছে।না জানি কখন দর্শনের থেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।অনেকবার তো চেষ্টা করলো।এইসব আরো অনেক কিছু মাথায় এসে হানা দেয় তার।মূল কথা শোভাকে ধরে রাখার চেষ্টায় থেকেও নিজেকে অযোগ্য দাবি করাতে ছেলেটা মনে মনে ভেঙ্গে পড়ছে।ঠিক তখনই তার মধ্যে ডমিনেটিং ভাবটা জাগ্রত হয়।
শোভা দেখছে দর্শনের নীরব হয়ে বসে থাকা।কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,“কি হলো আপনার?”
দর্শনের মস্তিষ্কে এতক্ষণ উল্টো পাল্টা ভাবনা আসায় তার চোখটাও লাল হয়ে উঠেছে।শোভার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই শোভা আতকে উঠলো।একটু আগের সেই প্রাণবন্ত দর্শন এখন নেই।শোভা শুকনো ঢোক গিলে ভিত কণ্ঠে বলে ওঠে,“খেয়ে নিচ্ছি আমি।”
দর্শন ভ্রু কুঁচকে আছে।শোভা হুট করে খেতে চাইছে কেন?বুঝতে পারল না কিন্তু শোভা দূরত্ব বজায় রেখে পাশে বসে বলে,“প্লেটটা দিন।”
দর্শন প্লেটের দিকে তাকালো।মৃদু হেসে ডিম নিজের হাতে নিয়ে বলে,“হা করো।”
শোভা আনন্দ হয়েও হতে পারছে না।স্বামীর ভালবাসা চাই কিন্তু এমন রাগী ভাব!তাও হা করে নেয়।দর্শন ডিম দিতেই শোভা একটু টুকরো কামড় দিলো।শোভার মনে পড়ল একদিন সে দর্শনকে দুই কামড়ে ডিম শেষ করতে দেখেছিল।শোভা ভাবলো অল্প অল্প করে নেওয়াতে যদি দর্শন আবার হিংস্র হয়ে ওঠে!ভয়ে মুখে আরেকটু ডিম নিয়ে বলে,“আমি অল্প অল্প করে খেতে পারি।একবারে বেশি নিলে দমবন্ধ লাগবে।”
দর্শন ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে বলে,“যেভাবে তোমার সুবিধা,ওয়াইফি।”
শোভা এতবার ওয়াইফি শব্দটা শুনছে যে সে এবার শিওর হয়েই গেলো দর্শনের মনে সে অল্প হলেও জায়গা করেছে।অবশ্য শোভা কালকে দাদাজানের সাথে আড়ালে কথা বলেছিল।অনেক কিছু দাদাজান তাকে বুঝিয়েছেন।শুধু এটুকুই বলতে পারলেন না দর্শনের মানসিক সমস্যা আছে।যেটা দাদাজান নিজেই জানেন না।দাদাজান শুধু জানেন তার নাতি অতীতের জন্য কোনো নারীকে বিশ্বাস করে না।এরপর শোভাকে ধীরে ধীরে মেনে নিলেও নিজের বউকে কেউ টাচ করেছে এই ব্যাপারটা দর্শন সহ্য করতে পারেনি।তার কাল্পনিক দৃষ্টিতে তখন নেগেটিভ জিনিসই ঘুরপাক খায়।যে কারণে দর্শন বাজে আচরণ করে।দর্শন যেটাকে নিজের বলে দাবি করে ওটা তারই থাকে।এটাই দাদাজান বুঝিয়ে দেয় শোভাকে।যদিও দাদাজান দুজনকেই আলাদাভাবে বুঝিয়েছেন সংসার জীবন নিয়ে।এখন বাকিটা তাদের ধরে রাখার পালা।
বোরকা পরে শোভা নিচে চলে আসে।দাদাজান,দিদার ও দিজাকে বসে থাকতে দেখে শোভার মুখটা শুকিয়ে গেলো।বুঝতে পারল না কেউ।দাদাজানের মুখটাও শুকিয়ে আছে।শোভা দেখতে পেলো সামনে থাকা প্লেট।যেখানে খাবার নেই কিন্তু শোভা খাবার খাওয়ার পর প্লেট যেমনটা এটো হয়েছিল এগুলোও ঠিক একই আছে।বুঝতে বাকি রইলো না এই স্বাস্থ্যকর খাবার দাদাজানের হজম হয়নি।সে তার বড় নাতির উপর ক্ষিপ্ত।শোভা নিচে নেমে নিমকণ্ঠে বলে,“দুঃখিত দাদাজান।আমার জন্য আপনাদের কষ্ট করে এগুলো খেতে হলো।”
দাদাজান কন্ঠ গম্ভীর করে বলেন,“কেন?তোমার জন্য কেন?এতকাল কি তুমি আমাকে রান্না করে খাইয়েছ যে তোমার উপর নির্ভর করে আজকের দিনটাও এসব খেতে হবে?এগুলো ওই বিদেশী রাগী নাতিটার জন্য হয়েছে।কেউ রান্না না করলেও আজকে বাইরে থেকে পরোটা এনে খেতাম।তবুও হজম হতো।গাল শান্তি পেতো।এই ছাইপাশ তো ওই বিলেত ফেরত সাহেবের জন্য খেতে হলো।”
দিদার উপর থেকে দর্শনকে দেখে দাদাজানের হাত চেপে ধরে বলে,“থেমে যাও দাদাজান।ভাই শুনলে তোমার খবর করে দিবে।”
দাদাজান চড়াও গলায় বললেন,“সে আমার কি খবর করবে শুনি?ও আমার বাপকে জন্ম দিয়েছে নাকি আমি ওর বাপকে?আমার ক্ষমতা আছে ওর বাপকে জন্ম দেওয়ার।ওর কি ক্ষমতা আছে?দুদিনের ছোকরা নাকি আমার খবর করবে!”
বলতেই দাদাজান সামনে তাকিয়ে চুপ করে গেলেন।দর্শনের চাহনি দেখে পুরোপুরি চুপ। দিজা মুখ টিপে হাসছে।দিদার বিড়বিড় করে বলে,“থেমে গেলে কেন?আরেকটু বলো। নাতবউয়ের সামনে তো নাতির নিন্দা করতেই থাকো এখন থামলে কেন?”
দাদাজান চোখ সরিয়ে বলেন,“মিথ্যা কিছু তো বলিনি।হিসাব করে দেখো কে কার বাপকে জন্ম দিয়েছে।”
“থ্যাংকস।”
দর্শনের একটা শব্দতেই সবাই চমকে উঠলো।শোভা ওর ডানপাশে তাকালো।দর্শনকে দেখছে।থ্যাংকস বলার কারণটা বুঝলো না।দাদাজান প্রশ্নবিত্ব চাহনি দিয়ে চোখ নাড়ালেন।দর্শন গম্ভীর দৃষ্টি রেখেই বলে,“আমার বাবাকে জন্ম দেওয়ার জন্য তোমাকে থ্যাংকস।তোমাকে এর জন্য বিশ্ব জয়করা পুরস্কার দেওয়া উচিত।পৃথিবীতে আর কেউ তো সন্তান জন্ম দিতেই পারে না।একমাত্র তুমিই পেরেছো।”
দাদাজান বিষম খেলেন।শোভার চোখ বড় হয়ে উঠল। দিজা মুখে হাত দিয়ে অবাক হয়ে শুনল।দিদার জিহ্বা কামড়ে দাদাজানকে দেখছে।দাদাজান এদিক ওদিক চাইলেন।দিদার পানি এগিয়ে দিলো।দ্রুত গ্লাস নিয়ে পানি পান করলেন দাদাজান।দর্শন হাতঘড়ি দেখে দিদারের উদ্দেশে বলে,“তুই তাহলে আমার অফিসে চলে যা।আজকে নিউ মডেল আসবে।তাকে নিয়ে মিটিং আছে।তুই গেলে অফিস ঘোরাও হবে আবার আমারও উপকার হবে।”
দিদার খুশি হয়ে গেলো যেনো।তার ভাই তাকে দায়িত্ব দিলো।দিদার মনে প্রাণে দায়িত্ব পালন করবে ভাবছে।দাদাজান আড়চোখে দেখলেন দিদারের আনন্দ।দুই ভাইয়ের এই মিল চায় দাদাজান।সৎ ভাইবোন হয়েও তিনজনের মধ্যে টান আছে।এতেই দাদাজানের শান্তি।দর্শন আবারও বলে,“দুপুরে অফিসে খাওয়া দাওয়া করিস।দাদাজানের জন্য আমি খাবার পাঠিয়ে দিবো।”
দাদাজান মুখ খুলতে নিলে দর্শন বলে ওঠে,“আমি জানি তুমি ঢাকার মাদ্রাসাগুলোতে ঘুরতে যাবে।তাই তোমাকে অফিসে পাঠালাম না।দুপুরে আমরাও বাইরে লান্স করবো।তুমি বাইরের খাবার একবেলা খেলেই হিসাবের খাতায় তোমাকে বারো বেলা হাসপাতালের খাবার খেতে হবে।সরি টু সে আমি এত এফোর্ড করতে পারব না।অফিসের শেফ হেলদি খাবার রেডি করবে।ওটাই তোমাকে খেতে হবে।”
দাদাজান কিছুই বললেন না।দর্শন তার শরীরের যত্ন নিতেই এসব করছে।শোভা মনে মনে নিজেকে দায়ী করলেও দর্শনের কথার মানে বুঝে খুশি হয়।দর্শন যেই দিজার দিকে তাকালো দিজা চেয়ার ছেড়ে উঠে ব্যাগ নিয়ে বলে,“চলো তাহলে।”
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৪৯
সবাই বিদায় নিলো।দাদাজান দোয়া করে দিলেন।দর্শন,শোভা ও দিজা যেতেই দাদাজানকে নিয়ে বের হলো দিদার।মাদ্রাসায় দাদাজানকে পৌঁছে দিয়েই দিদার অফিসে চলে যাবে।
