Home বাবুই পাখির সুখী নীড় বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৫

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৫

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৫
ইশরাত জাহান

সকালবেলা দাদাজান ও দিদার সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে যাচ্ছে।দিজার মনটা একটু খারাপ দেখালো।সিনথিয়ার মন খারাপ না হলেও অভিনয় করলো যেনো তার খুব খারাপ লাগছে।শোভা টিফিন বাক্স এনে দাদাজানকে বলে,“পথে ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিবেন দাদাজান।”
দাদাজান খুশি হলেন।চোখ ইশারা করে জিজ্ঞাসা করলেন,“কী আছে এতে?”
শোভা কিছু বলবার আগে দর্শন বলে,“যেটা খেলে তোমার মন শান্তি পায় কিন্তু শরীর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।”
দাদাজান বিরক্ত ভাব নিয়ে বললেন,“আমাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি কথা না বললেই খুশি হবো।”
দর্শন ফোস করে শ্বাস নিয়ে বলে,“আমার বউ যেখানে আছে আমি সেখানে এক নাম্বারে আছি।তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আমার স্থান সেখানে নেই।যদি কেউ ভেবে নেয় আমি আমার বউয়ের ব্যাপারে তৃতীয় ব্যক্তি তবে সে ভুল।”

“হুমকি দেখাচ্ছো আমাকে?”
“দেখাচ্ছি।”
“ভয় পাই না আমি তোমাকে।”
শোভা দুজনকে থামাতে দাদাজানকে বলে,“আপনার নাতির মাথায় সমস্যা আছে এটা তো জানেন।ওনার উপর নারাজ হয়ে থাকবেন না।উনি আপনাকে খুব ভালোবাসে।”
দাদাজান ভেংচি কেটে বললেন,“তোমাকে বুঝি ভালোবাসে না?”
শোভা হতবম্ব হলো।সবার দিকে এক পলক তাকালো। দিজা ও দিদার মিটিমিটি হাসছে।দর্শন গম্ভীর কণ্ঠে বলে,“মুখে কি কিছুই আটকায় না তোমার?”
“আমার মুখে আটকানোর মত কিছু কি বলেছি?”
শোভা সরে এলো।দিদারের দিকে না তাকিয়ে নিচু মাথা করে বলে,“আপনার ভাইজানের কালকের আচরণ মনে নিবেন না।”
দিদার ভদ্রতার সাথে বলে,“আমি আমার ভাইজানকে ভালো করে চিনি।সে আমাকে ভালোর জন্যই শাসন করে।আমার ক্ষতি কখনও চায়না।”

দর্শন মৃদু হাসলো।সাথে হাসলো শোভাও।দর্শনের এত এত শাসনের পরও দিদার কিনা দর্শনের পক্ষ নিয়ে কথা বলে।দিদার এগিয়ে এসে দর্শনের সামনে দাঁড়ায়।একটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলে,“আমি আপাতত আমাদের পারিবারিক ব্যবসা দেখছি। আব্বাজানের সাথে আমি যুক্ত হয়ে ব্যবসাকে বড় করবো।তোমার কোম্পানির শেয়ার আমার চাই না। দিজা কি করবে এটা ওর ব্যাপার।কিন্তু আমি নিজে প্রতিষ্ঠিত হবো।ঠিক তোমার মতো।”
দিজা অবাক হয়ে বলে,“আমি কি করবো মানে?”
দিদার পিছন ফিরে দিজার উদ্দেশ্যে বলে,“ভাইজান আমার ও তোর নামে কোম্পানির শেয়ার করেছে।ভাইজানের কষ্টের গড়া বিজনেস এর কিছু অংশ তুই ও আমি পাচ্ছি।কিন্তু আমি ভাইজানের পরিশ্রমকে নিতে চাই না।”
দিজা সাথে সাথে বলে,“আমিও চাই না।আমি তো চাকরি করতে চাই।লেখাপড়া শেষ করে নিজ যোগ্যতায় চাকরি করবো।যেনো সবাই আমাকে বলতে পারে বড় ভাইয়ের মতোই তার বোনটাও হয়েছে।নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়েছে।তাছাড়া আমার প্রত্যেকটা রেজাল্ট তোর থেকেও বেস্ট।আমাকে নিয়ে কাউকে চিন্তা করতে হবে না।”
দিদারকে খোঁচা মেরে কথাটা বলল দিজা।দিদার তেড়ে এসে বলে,“কথায় কথায় আমাকে খোঁচা না মারলে তোর পেটের ভাত হজম হয়না?”

“না হয়না।”
“তা হবে কেন?বেয়াদপি করা তো তোর স্বভাব।”
“আমাকে বেয়াদপ বলবি না।”
“বেয়াদপকে তো বেয়াদপ বলতে হবে।”
“তুই কি হ্যাঁ?তুই নিজেই তো অপারক।আমি তোর ছোট কিন্তু রেজাল্ট আমার কত ভালো।তোর রেজাল্ট কেমন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলি না।”
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই কি যোগ্যতা বিচার করা যায়?”
“অবশ্যই।”
“তাহলে তুই মূর্খ।”
“মুখ সামলে কথা বল।’’
“মুখ সামলেই আছি আমি।”
সবাই অবাক হয়ে দেখছে এদের তর্ক।দাদাজান দুজনকে থামিয়ে বলেন,“যাওয়ার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তোমাদের তর্কের মুহূর্ত ফুরোবে না।”
দিদার চুল ঠিক করে ভাব নিয়ে বলে,“আজ সময় নেই বলে।নাহলে তোকে দেখিয়ে দিতাম আমার সাথে তর্ক করার ফল।”

“তোর দেখানো ফল পেকে পচে যাবে তাও দেখাতে পারবি না।দ্রুত বিদায় হ এখন।”
শোভা এবার হেসে দেয়।এরা দুই ভাইবোন সারাদিন ঝগড়া করতেই থাকে।এদের দেখেই যেনো পরিবারের পূর্ণতা পায় সবার।দাদাজান ও দিদার বিদায় নিলো।সিনথিয়া এগিয়ে এসে দর্শনকে বলে,“তাহলে আমরাও রেডি হই?”
দর্শন ভ্রুকুটি করে বলে,“আমরাও!”
“হ্যাঁ,একই জায়গায় তো আমাদের কাজ।একসাথে যাই চলো।”
দর্শন ইগনোর করে হাটা দিচ্ছে।সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বলে,“আমি একা একাই যেতে পারি। আর আমি কারো বডিগার্ড বা ড্রাইভার না যে আমি কাউকে যাওয়া আসায় হেল্প করবো।”
সিনথিয়া হাত মুঠ করে দাঁত খিচে নিলো। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেলো উপরে। দিজা এলো শোভার পাশে।শোভাকে উদ্দেশ্য করে বলে,“ভাইজান একটু বেশি বেশি করছে না?”
শোভার বিরক্ত বোধ হলো।তাও ভালোভাবে বলে,“আমার কাছে তোমার ভাইজান ঠিকই আছে।”
দিজা অবাক হলো যেনো।ভাবলো শোভা হিংসা করছে।এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে হিংসা করার কি আছে? দিজা কথা না বাড়িয়ে চলে যেতে নিলে শোভা বলে,“তোমার ঘরে আমার কিছু পোশাক আছে।ওগুলো নিতে হবে।কালকের বইগুলো নেওয়া হয়নি।ওগুলোও নিবো।”
দিজা ঘড়ি দেখে বলে,“তুমি তো বাড়িতেই আছো।যেকোনো সময় আমার ঘরে গিয়ে নিয়ে এসো।আমি এখন ভার্সিটিতে যাবো।”

“তুমি যাবে?”
“হ্যাঁ,কেন?”
“আমি যাচ্ছি না যে।”
দিজা উপর দিকে তাকিয়ে দেখে দর্শনকে।মৃদু হেসে বলে,“তোমার স্বামীর শক্ত শিকলে বেঁধে আছো যে তাই কোথাও যাচ্ছো না।তোমার মতো এমন সময় আমার হলে তখন থেকে নাহয় আমিও যাবো না।”
শোভা হালকা মন খারাপ দেখায়। দিজা সোফার সামনের টেবিল থেকে ব্যাগ নিয়ে কাঁধে রাখে।শোভাকে উদ্দেশ্য করে হাত নাড়িয়ে চলে যায়।দর্শন হাতঘড়ি পরে নিচে নেমে শোভার উদ্দেশে বলে,“সাবধানে থেকো।একা ভয় পেলে কল দিও।”
“কল দিয়ে কি হবে?আপনি আসবেন নাকি?”
“হুমমম।”
“কাজ ছেড়ে আপনি আমার কাছে আসবেন?”
“আমার ওয়াইফির কাছে না এসে কার কাছে যাব?”
“এভাবে চললে আপনার ব্যবসা দুইদিনে বন্ধ হয়ে যাবে।”

“হবে না।”
“এতটা কনফিডেন্ট?”
“অনেক বেশি।”
শোভা তাকিয়ে আছে।দর্শন বলে,“এখান থেকে বেশি দূরে না আমার অফিস।গাড়িতে করেই তো দশ মিনিট মতো লাগে।”
“ওহ।”
“রুমে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।”
শোভা ভ্রু কুঁচকে বলে,“আমার জন্য?”
“হুমম।”
“কি সারপ্রাইজ?”
“গেলেই দেখতে পাবে।আমার সময় হয়েছে।এখন বের হতে হবে।”
“আল্লাহ হাফেজ।”
“আল্লাহ হাফেজ।”
দর্শন চলে যেতেই সিনথিয়া নিচে নামে।এতক্ষণ যা একটু ঢেকেঢুকে ছিলো এখন যেন আরও বেশি খোলামেলা পোশাক।হাঁটুতে কাপড় নেই।শর্ট ড্রেস পড়েছে।কাঁধের থেকে পুরো হাত কাপড় ছাড়া।শোভা নিজের দিকে দেখলো আর সিনথিয়ার দিকে একবার দেখলো।সে পড়ে আছে ঢিলাঢালা পোশাক।সাথে আছে আবার হিজাব।সিনথিয়ার এমন পোশাক দেখে সরাসরি মুখ থেকে বের হলো,“নাউজুবিল্লাহ।”
সিনথিয়া শুনতে পায়।হিংসুক হয়ে বলে,“ফ্যাশন বলতে কোনো সেন্স আছে তোমার মাঝে?”
শোভা দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে বলে,“না।আমি সাধারণ ঘরের মেয়ে।এসব নিয়ে পড়ে থাকার সময় আমার নেই।”
শোভা ভালোভাবে বললেও সিনথিয়া যেনো ইট মারতে গিয়ে পাটকেল খেলো।সিনথিয়া আবারও ভাব নিয়ে বলে, “লিসেন,এগুলো হাই ফ্যামিলির লোকেরা বিলং করে।”
“তাই?”
“হ্যাঁ।”

“আমাদের এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ি আছে।আমাদের এলাকার মধ্যে ওরাই বড়লোক।মাসে মাসে আশ্রমে লাখ টাকা ইনভেস্ট করে।ওনার মেয়ে আমাদের সাথে তালিম করে।এমনকি এসব উলংগ পোশাক না পড়ে পর্দা করে।শুধু তাই না চেয়ারম্যান আঙ্কেলের বউ কোটিপতি হয়েও মানুষের সাথে অমানুষের মত আচরণ করে না।তাদের ব্যবহার তাদেরকে ভালোবাসার স্থানে রেখেছে।আরেকটা পরিবারের কথা বলি।তোমার নানা বাড়ি মানে আমার শশুর বাড়ির দিকে একটা সাধারণ পরিবার আছে।সেই পরিবারের মেয়ে অর্থ সম্পদ তুলনায় যেনো চলাফেরা করে হাইফাই ভাবে।পোশাক এমন উলংগ করেই পরে।বাবা মায়ের অবাধ্য মেয়ে।শুনলাম এমন খারাপ পরিণতি হয়েছে যে এখন সেই মেয়ের স্থান পতিতালয়ে।তাহলে কি এই ধরনের হাই ফ্যামিলির মেয়েদের এসব পোশাক বিলং করতে করতে পতিতালয়ে স্থান হয়?”
সিনথিয়া যেনো এখন শোভাকে খুন করে দিবে।আঙুল দেখিয়ে শাসিয়ে বলে, “হাউ ডেয়ার ইউ?”
“কিসের জন্য ডেয়ার নিয়ে প্রশ্ন করছেন?”
“আমাকে ইনসাল্ট করো কোন সাহসে?”
“কোথায় ইনসাল্ট করলাম? আমি তো উদাহরণ দিলাম।”
“কে চেয়েছে তোমার থেকে উদাহরণ?”
“আপনার থেকে কে চেয়েছে আমাকে হাই ফ্যামিলি নিয়ে লেকচার?”
“খুব কথা জানো দেখছি অথচ বাড়ির সবার সামনে চোখ তুলে তাকাতেই পারো না।তোমার এই দুমুখো রূপ কি কেউ দেখেছে?”

“আপনারটাও তো দেখেনি।শুধু শুধু আমাকে নিয়ে পড়লেন কেন?”
“তুমি!”
“আমি কি?”
“তোমাকে আমি দেখে নিবো।”
“তা দেখতেই পারেন।আপনার সময়ের অভাব নেই হয়তো তাই আমাকে দেখে নিবেন।আমার আবার এসব ফালতু বিষয়ে পড়ে থাকার সময় নেই।বিশেষ করে আপনাকে দেখতে খুবই বিরক্ত লাগছে।এমন অর্ধ উলংগ নারী দেখে আমরা ভদ্র সমাজের মানুষ কি বলে সম্বোধন করি হয়তো আপনি জানেন?”
“থার্ড ক্লাস মানুষের চিন্তাভাবনা নিয়ে আমি পড়ে থাকি না।”
“আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে আমার মতো থার্ড ক্লাস মানুষের পিছনে পড়ে থাকতেই আপনার আগমন।আপনার কাজই যেনো আমার পিছনে লাগা।”
সিনথিয়া কড়া কথা শোনাতে চাইলে শোভা এবার রাগী দৃষ্টিতে বলে,“আমাকে অপমানজনক একটা কথা শোনালে আমি কিন্তু আপনাকে বিপরীতে দশটা শুনিয়ে দিবো।আমি কিন্তু সাদামাটা জীবনে চলি বলে আত্মসম্মানে আঘাত করি না।আমার আত্মসম্মানবোধ আপনার থেকেও মূল্য।”

সিনথিয়া কথা না বাড়িয়ে ফোন দেখে চলে গেলো।শোভা চলে গেলো উপরে।গাড়িতে বসে ব্লুটুথ কানে সবকিছু শুনছিল দর্শন।বাড়িতে ড্রয়িংরুমে সিক্রেট ক্যামেরা আছে।ভিডিও ও অডিও দুটোই ব্যাবস্থা করা।শোভা ও সিনথিয়ার কথোপকথন শুনে হেঁয়ালি হাসে দর্শন।ড্রাইভ করতে করতে বলে,“আমার পর এই প্রথম অন্য কারো সাথে মুখে মুখে তর্ক করলে ওয়াইফি।যতবার আমি তোমার যুক্তি দেওয়া কথা শুনি ততবার তোমার প্রেমে পড়ি।তুমি আসলেই আমার জন্য পারফেক্ট।এমন মেয়েই তো আমি ডিজার্ভ করি।আমার নিয়তিকে আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।যে আমি তোমার রূপ না দেখে বরং ব্যক্তিত্ব দেখে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম সেই আমি হঠাৎ ভাগ্যের উপর ভিত্তি করে তোমাকে বিয়ে করলাম।বিয়েতে মত ছিল না আমার।আমার তো নিজের উপর ভরসা নেই।তখন আরো বেশি ছিল না।আমার রাগ,জেদ আমার হিংস্র সভাবে তোমাকে যুক্ত করতে চাইনি।তোমাকে আমি কষ্ট দিতে চাইনি বলেই দূরে থেকেছি।আগে নিজেকে শুধরে নিতে চেয়েছিলাম।সেদিন রাতে তোমার কন্ঠ শুনেই আমি তোমাকে দেখার জন্য ছটফট করছিল মন কিন্তু তাও নিজেকে সংযত রেখেছিলাম।সব ঠিক ছিল হঠাৎ আমার মুড বদলে গেলো যখন তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরলে।কিছু মুহূর্তের জন্য মনে হলো তুমিও হয়তো ছদ্মবেশী।ভালো মানুষ সেজে পর্দা করো আর পুরুষদের সিডিউস করতে ছক কষেছো।যে মেয়েকে আমি পছন্দ করেছিলাম সেও আমার পছন্দের অযোগ্য।সেই সাথে তুমি সবার সামনে প্রতিবাদ না করে আমাদের দুজনকে ফাসিয়েছো।যেখানে আমি ভাবছিলাম আমাদের দুজনকে নির্দোষ প্রমাণ করে আমি চারটা বছর বাইরে থেকে সাকসেস হয়ে এসে তোমার খোঁজ নিবো। আম্মাজানকে বলে তোমার পরিবারের সাথে একটা সম্বন্ধ করে রাখবো।সেই আমি তোমার নীরবতা ও সবকিছু মেনে নেওয়ায় ভীষণ রেগে যাই।আমার সমস্ত প্লান এক নিমিষেই শেষ।তোমাকে চুপ থেকে নিজের সম্মানে আঘাত করতে দেখে যতটা রাগ বেড়েছিল তার থেকে দ্বিগুণ রাগ বেড়েছিল যখন তোমাকে প্রতিবাদ করতে সুযোগ দিয়েও কোনো উপকার হয়নি।আমি বুঝতে পারিনি তুমি ঘাবড়ে গিয়েছিলে।ভেবেছিলাম এটাও যেনো এক অভিনয়কারী।ঠিক যেমন আমার জন্মগত মা ছিল।যাইহোক সব আবার ঠিক হয়েগেছে।তোমার প্রতি জন্মানো ভুল ধারণা আবারও ঠিক হয়েছে।এবার আমি শুধু তোমার আর তুমি শুধু আমার থাকবে।”

ঘরে এসে শোভা দেখলো বিছানার উপর নতুন মোবাইল।শোভা মোবাইল নিয়ে দেখলো।গা থেকে হিজাব খুলে ফ্যানের পাওয়ার বাড়িয়ে দিলো।মোবাইলটা দেখছে।কয়েকটা অ্যাপস আছে শুধু।মোবাইলের থাকা অ্যাপস বাদে শুধু হোয়াটসঅ্যাপ আছে।তাও এখানে দুজনকে দেখা যাচ্ছে।একজন দর্শন আরেকজন শামীম।শোভার যতদুর মনে পড়ে দিজা ও পারুল বেগমের নাম্বার ছিল ও কাছে।ওদের নাম্বার কথা?এটা তো নতুন ফোন দেখা যাচ্ছে।শোভা দেখলো অনেকগুলো নোটিফিকেশন আসছে।তাও আবার ইউটিউব থেকে।সবগুলো ইসলামিক চ্যানেল থেকে।অবাকের সাথে ক্লিক করে দেখে।ইউটিউব চ্যানেল দর্শনের নামে খোলা।শোভা দেখলো জিমেইল আইডিও দর্শনের নামে।বেশি কিছু না ভেবে দর্শনের কাছে ম্যাসেজ দেয়,“নতুন ফোন কেন?”
সাথে সাথে উত্তর আসলো না।শুধু ম্যাসেজ পৌঁছালো।বোঝা গেলো দর্শন কাজে ব্যস্ত।শোভা উত্তরের অপেক্ষা না করে ঘর গুছিয়ে নিলো।একটু পর রান্না করবে।তারপর দিজার ঘর থেকে বই ও জামাগুলো এনে সেগুলো গুছিয়ে রাখবে।
একেক করে সব করছে শোভা।রান্না করবার সময় এলো দর্শনের কল।শোভা ধরলো।দর্শন জানায়,“তোমার ফোনটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটা কিনেছি।পছন্দ হয়েছে কি না বলো চেঞ্জ করার সুযোগ আছে এখনো।”

“এত টাকা খরচ করে নতুন ফোন না কিনে আগেরটা সারালেই তো হতো।”
“তারমানে আমার দেওয়া গিফট তোমার পছন্দ না?”
“আমি কখন বললাম পছন্দ না?”
“পছন্দ যে হয়েছে এটাও তো বলো নি।”
“আপনি আমার কথার উল্টো মানে বের করেন কেন?”
“তুমি সোজাভাবে কথা বলো না তাই।”
“হুহ!রাখছি আমি।”
“খুব ব্যস্ত?”
“কাজ আছে আমার।”
“অফিসে থেকেও আমার কোনো ব্যস্ততা নেই অথচ বাসায় থেকেও তুমি ব্যাস্ত!”
“ঘর গোছাতে হচ্ছে।”
“কাজের মহিলা আসেনি?”
“আসবে একটু পর।”
“তাহলে?”
“ঘরোয়া কিছু গোছগাছ থাকে যেগুলো নিজে করতেই ভালো লাগে।আমি একা একা বাড়িতে থেকে কি করবো শুনি?”
“বোরিং লাগছে?”
“ভীষণ।”

ফোন কেটে গেলো।শোভা কিছুই বুঝলো না।বেশি না ভেবে রান্নাঘরে চলে গেলো।রান্না রান্নার জন্য মশলা জোগাড় করতেই কলিং বেল বেজে উঠলো।শোভা অবাক হলো।দর্শনের সাথে কথা বলার পাঁচ মিনিট পর কাজের মহিলা এসেছেন।সে এখন ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে।তাহলে এখন কে আসলো?দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখলো দর্শন।স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে দরজা খুলে প্রশ্ন করে,“আপনি হঠাৎ?”
“তোমার একাকিত্ব দুর করতে এসেছি।”
“কাজ ফেলে!”
“কাজ হয়েছে।বাকি কাজ ম্যানেজার দেখে নিবে।”
“আর আপনি?”
“তোমাকে দেখব।”
শোভা কথা না বলে রান্নাঘরে গেলো।দর্শন গায়ের উপর থেকে স্যুট খুলে ভিতরের কালো শার্ট গুটিয়ে হাতা ফোল্ড করতে করতে রান্নাঘরে গেলো।শোভা দর্শনকে দেখে বলে, “আপনাকে কিছু করতে হবে না।আমি রান্না করে নিচ্ছি।”
দর্শন মৃদু হেসে জানায়,“তোমার কেন মনে হলো আমি কিছু করব?”
“কিছু করতেই তো আপনি এসেছেন তাই না?”
“তা ঠিক।এসেছি যখন কিছু তো করবই।”

শোভা এক পলক দর্শনকে দেখে রান্নার কাজে লেগে পড়ে।দর্শনের কথার মানে যে দুষ্টু কিছু ইঙ্গিত করছে এটা বুঝলো না।ভাবলো দর্শন তার সাথে সময় কাটাতে এসেছে।শোভার একা একা ভালো লাগছে না তাই।শোভা চাল ধুতে শুরু করে।দর্শন আচমকা এসে শোভার পিছনে দাঁড়ালো।শোভার পিঠের সাথে দর্শনের বুক মিশে গেলো।কেঁপে উঠল শোভা।দর্শন ব্যাপারটা মজা নিলো।শোভার কোমরের দুইপাশ থেকে হাত ঢুকিয়ে শোভার হাত ধরে চাল ধুতে শুরু করলো।চালগুলো পানির সাথে মিশিয়ে ময়লা বের করতে নিয়েও শোভা দর্শনের কাণ্ডে কেঁপে কেঁপে উঠছে।কাপা কাপা ঠোঁটে বলে,“কি করছেন?”
“হেল্প করছি।”
“আমি তো চাইনি হেল্প।”
“আমি করতে চাই।”
“এমন হেল্প আমার চাই না।”
“তবুও আমি করব।”
“কেন?”
“আমি কোনোদিন এভাবে সাহায্য করতে কাউকে দেখিনি।”
“কিভাবে?”

“কোমর ছুঁয়ে হাত এগিয়ে হাতে হাত মেলানো।”
বলেই শোভা জিহ্বা কামড়ে বলে,“সরুন।”
“না।”
“আমি কাজ করব।”
“করো।”
“আপনি কি শুরু করলেন?”
“প্রেম,ভালোবাসা।”
“আবার!আবার প্রেম প্রেম ভাব শুরু?আপনার এ কেমন স্বভাব!”
দর্শন মুখ এগিয়ে শোভার গালে চুমু দিয়ে শোভাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে আলতো জড়িয়ে ধরে গাইতে শুরু করে,

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৪

“প্রেম হলেই গুম হয়ে যাবে,
আর খুঁজে পাওয়া যাবে না..
চুপ করে রূপ ধরে নেবার
এই বাজে স্বভাব যাবে না…”

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here