Home বিকেলের প্রণয় বিকেলের প্রণয় পর্ব ২৬

বিকেলের প্রণয় পর্ব ২৬

বিকেলের প্রণয় পর্ব ২৬
Arshi Ayat

ক্লাস শেষ করে কিছুক্ষণ ক্যান্টিনে বসলো মিলাত।অনুরুপকে ফোন করবে ভেবে ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।চার্জ দেওয়ার কথা মনেই ছিলো না।ক্লাসে আসার আগে কিছুক্ষণ চার্জে দিলেও হতো।থাক কি আর করার!ফোনটা পুনরায় ব্যাগের ভেতর ভরে উঠে দাঁড়ালো ও।বাসায় ফিরতে হবে।
ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে অনুরুপের কথা ভাবতে ভাবতেই আপন মনে হাঁটতে লাগলো মিলাত।হঠাৎ কিছু একটা মনে হতেই পেছনে ফিরে তাকালো।দেখলো দু’টো লোক কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে ওর দিকে।আবার দুপুর হওয়ায় এদিকের রাস্তাটাও ততটা জনবহুল না।মিলাতের ভয় লাগলো।মস্তিষ্কে জড়ো হতে লাগলো নানারকম ভীতিকর ভাবনা।জোরে পা চালিয়ে হাঁটতে লাগলো আর বারবার পেছনে তাকিয়ে লোকগুলোর দূরত্ব মাপছিলো।

চোখে,মুখে স্পষ্ট ভয়।আশেপাশে রিকশা,সিএনজি কিছু পাওয়াও যাচ্ছে না।ফোন বন্ধ!আতংকে বুক ধড়ফড় করছে ওর।হঠাৎ দেখলো দূর থেকে কেউ দৌড়ে আসছে।ভালোমত খেয়াল করতেই দেখতে পেলো অনুরুপকে।ভীষণ চিন্তাগ্রস্থ আর উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে।দৌড়ে এসেই জড়িয়ে ধরলো মিলাতকে।স্বামীর প্রশস্ত বুকে ভরসার জায়গা পেয়ে স্বস্তি মিললো মিলাতের।তবে ওর সারা শরীর কাঁপছে।অনুরুপ মিলাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লোকগুলোর দিকে চাইলো।ও বুঝতে পারলো ওই লোক দু’টোকেই মিলাতের ক্ষতি করার জন্য পাঠানো হয়েছে।অনুরুপ ওদের ধরার জন্য যেতে চাইলেও মিলাতকে ফেলে যেতে পারলো না।ভয়ে আর চিন্তায় শরীর প্রচন্ড দূর্বল হয়ে গেছে ওর।এদিকে লোকগুলোও পালিয়েছে।অনুরুপ মিলাতকে ধরে আস্তে আস্তে গাড়ির কাছে নিয়ে এলো।ওকে সীটে বসিয়ে গাড়িতে থাকা পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বলল,’একটু পানি খাও।’
মিলাত পানি খাওয়ার পর একটু দম নিলো।নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে করতে বলল,’ওরা কারা ছিলো আর আমার পিছু নিয়েছিলো কেন বুঝতে পারলাম না।’

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

‘ওদের চৈতি পাঠিয়েছে।তোমার মুখে এসিড মা’রার জন্য।’
মিলাত শুনেই কেঁপে উঠলো।ভয় পাওয়া স্বরে বলল,’একটুর জন্য বেঁচে গেলাম।কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?’
মিলাতের কথা শুনে অনুরুপ মুচকি হাসলো।সামান্য ঝুঁকে মিলাতের সীটবেল্ট লাগাতে লাগাতে ওর চোখের দিকে চেয়ে বলল,’সেই প্রথম থেকেই তোমার ব্যাপারে সব জানি আমি।কিভাবে জানি সেটা মুখ্য নয়।তবে জেনে রেখো,তোমাকে ভালোবাসি।বেঁচে থাকতে তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেব না।’
মিলাত অবাক হলো।এই মানুষটা এতকিছু জানে কিভাবে ওর ব্যাপারে!
অনুরূপ মিলাতদের বাড়ির দিকে ড্রাইভ করতে করতে বলল,’তোমাকে চৈতির সাথে এক বাড়িতে রাখতে আমার ভয় লাগছে।আমি আজ রাতে বাসায় যাব।ইমার্জেন্সি ছুটি নিয়েছি।বাবা-মাকে এনে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে সবকিছু মিটমাট করে তোমাকে আমার ফ্ল্যাটে নিয়ে আসব।’
‘কিন্তু বাবা তো বলল…’

‘যদি ওই মেয়েটা তোমাদের বাড়িতে না থাকতো তাহলে আমার আপত্তি ছিলো না তবে ও তোমার সাথে একই বাড়িতে থাকলে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারব না।’
মিলাতের নিজেরও ভয় করছে।কতটা নিকৃষ্ট হতে পারে একটা মানুষ না দেখলে বোঝার উপায় নেই।
রেভান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করতে করতে মনে মনে ভাবলো আর কখনোই মিলাতকে ভুল বুঝবে না,ওর কষ্ট হবে এমন কাজও করবে না।ওকে ভালোবেসে নিজের করে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।হ্যাঁ এটা সহজ নয়,ওর মন এত সহজে গলবে না তবুও ও অপেক্ষা করবে।
চৈতি যখন জানতে পারলো ওর পাঠানো লোকগুলো তাদের কাজ ঠিকমতো করতে পারে নি তখন প্রচন্ড রাগ হলো ওর।বারবারই কেন ওই মেয়েটা বেঁচে যায়?
মিলাতকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ওর মায়ের কাছে সব খুলে বলল অনুরুপ।সাথে এটাও বলল ও ফিরে না আসা পর্যন্ত যেন মিলাতের খেয়াল রাখে আর একা বাইরে বের না হয়।সব শুনে মিলাতের মা ক্ষেপে যান ভীষণ তিনি চৈতির ফেরার অপেক্ষা করতে থাকেন।

এতকিছুর মাঝেও সাইফুল নিজের ভুলটা বুঝতে পারলো।আসলেই জঘন্যরকম একটা ভুল করেছে ও।নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে।সাইফুল ঠিক করেছে ও চৈতিকে সত্যিই ডিভোর্স দিয়ে দেবে আর পুনরায় মিলাতকে নিজের করে নেবে।আর তাই ও মিলাতকে ফোন করলো।মিলাত নাম্বারটা চিনলো না তাই রিসিভ করতেই সাইফুল বলল,’কেমন আছো,মিলাত?’
মিলাত কন্ঠটা চিনলো।নিমিষেই রাগ চড়ে বসে মাথায়।গলা উঁচিয়ে বলল,’কোন সাহসে ফোন করেছিস?’
‘মিলাত তোমার সাথে কথা ছিলো।দেখা করবে একটু?’
‘কেন তোর বউ তোকে পাত্তা দিচ্ছে না?’
‘আমি ভুল করেছি।আমাকে ক্ষমা করবে প্লিজ?একটা সুযোগ দেবে?’
‘কখনো না।’
‘মিলাত,প্লিজ একটাবার দেখা করো।আমি তোমাকে সব বুঝিয়ে বলব।’
‘আমি তোর কোনো কথা শুনতে চাই না।’

বিকেলের প্রণয় পর্ব ২৫

‘প্লিজ,মি..’
আর কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিলো মিলাত।
সাইফুল এরপর বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও আর পেলো না।তবে সে ও দমে যাবার পাত্র নয়।কালকে ওর বাসায় যাবে দরকার হলে।তখন তো দেখা করতেই হবে।আর একবার দেখা করলেই নিজের সব ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে ও।দরকার হয় পায়ে পড়বে।তবুও মিলাতকে ফেরত চাই ই চাই!

বিকেলের প্রণয় পর্ব ২৭