বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৬
Muntaha jahan
“হাসপাতালের করিডরে মাথায় হাত দিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে আরাবী।পাশেই ফাহাদ নিল বসা। এ্যাশের কোনো খবর নেই। তাহাকে হসপিটালে দিয়েই কোথা গেছে কেউ জানে না,ফাহাদকে ও কিছু বলে নি।
তাহাকে হসপিটালে ভর্তি করার পর থেকেই কান্না করে যাচ্ছে আরাবী। পুরো এক পাতা ঘুমের ওষুধ খেয়েছে তাহা। এটা কখন আরাবী জানে না। আরাবী তো সাথে সাথেই ছিলো তাহার তাহলে তাহা এটা কখন করলো? এটা ভেবেই কাঁদছে আরাবী। আর বারবার নিজেকে দোষারোপ করছে।
ফাহাদ এবার উঠে দাঁড়ালো,নিল আরাবীকে রেখে সিঁড়ি বেয়ে নিচে গেলো। আরাবী এক পলখ তাকিয়ে তাকালো তাহার কেবিনের দিকে। তাহা এখন সুস্থ। ঘুমের ওষুধের কারণে ঘুমাচ্ছে এখন। আরাবী উঠে দরজার কাছে যেতেই হাসপাতালে হুড়মুড় করে প্রবেশ করলো নূরাইফা আর আয়েশা বেগম। তাদের দেখে একটু অবাক হলো আরাবী পরক্ষণে মনে পড়লো এটা ইহানের হসপিটাল ইহানই তাহার ট্রিটমেন্ট করেছে। সেই ই হয়তো খবর দিয়েছে তাদের। মাকে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না আরাবী। দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো মাকে। কাঁদতে কাঁদতে বললো
–মা ও তো আমাকে ওয়াদা করেছিলো জীবনে আর কখনো এমন করবে না তাহলে এখন কেনো এমন করলো মা? মা আমি তো ওর সাথে সাথেই ছিলাম তা… তাহলে ও এটা কখন করলো?ওর যদি কিছু হয়ে যেতো মা? মা কেনো করলো মা বলো?
মেয়েকে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করলেন তিনি। তিনি নিজেও কাঁদছেন। সাথে কাঁদছে নূরাইফা ও। মেয়েটা নরম মনের কারো কষ্ট দেখতে পারে না।ইহান যখন ফোন করে তাহার কথা বলেছে তখন থেকেই কাঁদছে মেয়েটা। ভাবছে কতোটা কষ্ট থেকেই না মেয়েটা এমন করেছে। নূর এগিয়ে গিয়ে আরাবীর মাথায় হাত রাখলো। চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললো
–কেঁদো না আপু তাহা আপু ঠিক হয়ে যাবে কেঁদো না তুমি।
নিল তাকিয়ে রইলো অসহায় চোখে তাদের দিকে। আরাবিকে আয়েশা বেগমকে চিনলেও নূরকে চিনতে পারছে না। আর না মুখ দেখতে পাচ্ছে। নূর বোরকা পড়ে হাত মুজা,পা মুজা সব পড়ে এসেছে মাথায় ইয়া বড় একটা হিজাব। যার কারণে শুধু চোখ দেখা যাচ্ছে ওর। নিল কিছুক্ষণ নূরকে পরখ করে চোখ নামিয়ে নিলো।
এয়ারপোর্টে কাউকে না পেয়েই কল করেছিলো ফাহাদকে ফাহাদের থেকে এসব জানতেই কেনায়া আর মোহনা নিজের বাড়ি রেখে এসেছে। মোহনা বাংলাদেশে ওদের সাথে আসতে চেয়েছে তাই কেনায়া নিয়ে এসেছে। নিল সেই ঘটনার পর থেকে আর কথা বলে না। আর কখনো বলবে ও না ঠিক করেছে।
নিল ফোনটা বের করে কেনায়াকে ফোন দিয়ে সবকিছুর খোঁজ নিলো। তারা খেয়েছে কিনা,কি করছে এগুলো জিজ্ঞেস করে ফোন রাখতেই ফাহাদের দেখা মিললো। সাথে ইহান ও আছে। দুজনেই এদিকে আসছে। ফাহাদের হাতে খাবারের প্যাকেট।
আরাবী আয়েশা বেগম নূর তাহার কেবিনের সামনে চেয়ারে বসে আছে। আরাবীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আয়েশা বেগম। ফাহাদ একবার আরাবীকে পরক করে ওর সামনে দাঁড়িয়ে ধীর কন্ঠে বললো
–আরা? খাবারটা খেয়ে নিন।দুপুর থেকে না খাওয়া আপনি।
ফাহাদের ডাকে আরাবীর মাথা তুলে তাকালো। সাথে আয়েশা বেগম ও তাকালেন। ফাহাদ তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে সালাম দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে আরাবীর দিকে খাবারটা বাড়িয়ে দিলো।
নিল ফাহাদ তাহাকে একবার দেখে সবাইকে বলে হাসপাতালে থেকে যেতে নিতেই পিছন থেকে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে ডেকে উঠলো আরাবী-
–ভাইয়া শুনেন?
নিল ফাহাদ দাঁড়িয়ে পড়লো। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো আরাবীর দিকে। নিল ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেও ফাহাদ এগিয়ে গেলো। ঠান্ডা স্বরে জিজ্ঞেস করলো
–কি?
–ভাইয়া কি আসবে না?
–জানি না।
–কোথায় আছে জানেন?
–না।
–আপনারা এখন কোথায় যাচ্ছেন?
–নিলের বাড়ি।
–ভাইয়াকে খুঁজবেন না?
–নাহ।
–কেনো?
–ও নিজে থেকেই আসবে খুজার প্রয়োজন নেই।
–যদি না আসে?আপনি একটু খুঁজে আনুন না।তাহা অসুস্থ ওকে কি দেখতে আসবে না?
–আপনি চিন্তা করবেন না আরা। এ্যাশ আসবে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। চিন্তা করে করে আপনিও অসুস্থ হবেন না আপনার তাহার পাশে থাকতে হবে।
কথাটা বলে আরাবীর দিকে তাকালো ফাহাদ। আরাবী এখনো চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে। ফাহাদ মুচকি হেঁসে আরাবীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
–ছোট্ট মাথায় এতো প্রেশার নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ্যাশ নিশ্চয়ই আসবে। আপনি গিয়ে একটু রেস্ট করুন।অনেক দখল গেলো আজকে।
আরাবীর চুল গুলো গুছিয়ে দিয়ে বড় বড় পা ফেলে চোখের আড়াল হতেই আরাবী সেখান থেকে চলে আসলো তাহার কাছে।
আজকে ৭ দিন হয়ে গেছে এ্যাশের কোনো খবর নেই। এখন খবর নেই তার বন্ধুদের ও। সেদিন রাতে নিল ফাহাদ আবার এসেছিলো তাহাকে দেখতে তখনই ফাহাদ আরাবীকে নাম্বার দিয়ে গেছে নিজের। যেটায় সেদিনের পর থেকে হাজার বার কল করার পড় ও কল ধরছে না কেউ। নিজের ভাইয়ের চিন্তায় অস্থির আরাবী। এ্যাশের সাথে দুই দিন পর পরই কথা হতো ওর। সেখানে আজকে এক সপ্তাহ ধরে কথা নেই।
তাহা এখন কিছুটা সুস্থ। ৩ দিন রেখে ওকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। তাহাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার ওর আয়েশা বেগম ওকে নিজের কাছে ইহানের ফ্লাটে নিয়ে এসেছেন। তাহার বিয়ের বিষয়ে সবকিছু তিনি শুনেছেন। এ্যাশ যে তাহাকে বিয়ে করেছে এটাও প্রকাশ পেয়েছে সেদিন। মিনাল তারজন্য অনেক রাগারাগি করেছেন। এই বিয়ে তিনি মানেন না তাদের ডিভোর্স করাবেন ইত্যাদি।
তাই তিনি তাহাকে আর ছাড়েন নি। আর না ছাড়বেন। ২ দিন ছাড়তেই তাকে মৃত্যুর পথ বেঁচে নিতে হয়েছে। তিনি চাননা দ্বিতীয় বার এমন কিছু হোক। ছোট থেকে অনেক যত্নে বড় করেছেন ওকে। সেই মেয়েকে সেদিন ওভাবে দেখে তার মনে কি হয়েছিলো সেটা শুধু সে ই জানে।
এ্যাশ যখন তাহাকে বিয়ে করেছে এতে তার কোনো আপওি নেই। তাহাকে তিনি বৌমা হিসেবে মানেন। মিনাল খান মানেন না এটা তার ব্যাপার। এটা নিয়ে তুমুল তর্ক করেছেন দুজন।এখনো করেন। এই ঝগড়ার শেষ পরিনতি কি দুজনের ই অজানা। কালকে রাতে ও তুমুল ঝগড়া হয়েছে ফোনে দুজনের। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আয়েশা বেগমকে ডির্ভোস দিবেন এমন কথা ও বলেছেন। কথাটা শুনে একটু থমকে গিয়েছিলেন তিনি। যে সংসার এতো জীবনে আগলে রেখেছেন সেই সংসারে এখন তার আর কোনো প্রয়োজন নেই এটা খুব ভালো কারেই বুঝে গিয়ে ছিলেন। সেদিন খুবই যন্ত্রণাময় অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছেন যেটা ব্যাখা করার ক্ষমতা নেই।
বিছানায় উবুড় হয়ো শুয়ে ডায়রি লিখছে তাহা। চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে ডাইরির প্রতিটা পাতা। তবুও হাত থামছে না। একেক পৃষ্ঠার পর একেক পৃষ্ঠার লিখেই চলেছে। ৮ পৃষ্ঠার লিখার পর এবার থামলো তাহা। দুই হাতে চোখের জল মুছে ডাইরির শেষ পাতা থেকে একটা ছবি বের করলো। ছবিটা নিজে আট করেছে সে।
তাহার থেকে ৬ হাত দুরত্বে এ্যাশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে এরকমই একটা ছবি।
তাহা খুবই মনোযোগ দিয়ে ছবিটা পরখ করলো। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলো এই ছবির রহস্য–!!
আজকে থেকে ২ বছর আগের ঘটনা। তখন তাহার কলেজ লাইফ শেষের দিকে। পরিক্ষা দিয়ে সিলেট ট্যুরে গিয়েছিলো বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে। আসার পথে তাহা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। তাকে কিছু লোক কিডনাপ করে। অজ্ঞান করে। তাহার যখন জ্ঞান ফিরে তখন নিজেকে একটা ট্রাকের মধ্যে পায় হাত পা বাঁধা অবস্থায়। আশেপাশে তাকাতেই আরো অসংখ্য মেয়েদের তার চোখে পড়ে। তাদেরকে ও বেঁধে রাখা তার মতো করে। সবাই কাঁদছে নিঃশব্দে। তাহা কাঁদলো না শান্ত রাখলো নিজেকে বুঝেছিলো এখন সে বিপদে পড়েছে তাই মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। তাহা মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের হাতের ধরি খুলতে নিলো দাঁত দিয়ে। অনেক্ক্ষণ চেষ্টার পর সফল ও হলো। তারপর পায়ের টা ও খুলে নিলো। উঠে দাঁড়ানোর আগেই ট্রাকের দরজা খুলার শব্দ কানে এলো। তাহা সেই শব্দ শুনে আর উঠলো না চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলো সেভাবেই।কিছুক্ষণ পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চোখ খুলতেই অদূরে একটা অভয় দেখতে পায় তাহা। যেটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকেই পরখ করছে। তাহা আর চোখ নামাতে পারলো না সেভাবেই তাকিয়ে রইলো অভয়টার দিকে। ধীরে ধীরে সেটা তাহার সামনে আসতেই তাহার হুশ আসলো। ভয় ভয় চোখ তাকালো সামনে থাকা সুর্দশন লোকটার দিকে। এক মুহূর্তের জন্য তাহার মনে হলো লোকটা তাহাকে বশ করেছে কারণ তাহা চোখ নামাতে পারছিলো না লোকটার দিকে। লোকটার হালকা ধূসর রঙের চোখ জুড়া তাকে টানছিলো খুব।
লোকটা কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো
–কি হলো উঠছেন না কেনো?বাচার ইচ্ছে নেই? পাচার হতে চান?
গম্ভীর থেকেও গম্ভীর ছিলো সেই স্বর। লোকটা কথাটুকু বলেই চলে গেছিলো। রেখে গিছিলো বশিভূত হয়ে পড়ে থাকা তাহাকে।
লোকটা চলে যাওয়ার পরই হুশ আসে তাহার। তারপর ছট করে আশেপাশে তাকায় না কেউ নেই শুধু সেই বসে আছে। তাহা ভয় পেয়ে দ্রুত নামতেই সেখানে পুলিশ দেখতে পেলো।যারা মেয়ে গুলোকে সেইফ করছে। তাহা চোখ ঘুরিয়ে ওই লোকটাকে ও খুঁজলো কিন্তু পেলো না।
সেই পুলিশ গুলো সব মেয়ে গুলো তাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে, সাথে তাহাকে ও।
সেই ঘটনার অনেক গুলো মাস পরেও লোকটাকে ভুলতে পারলো না তাহা। ওই যে বলে না রাস্তার ক্রাশ? তাহার ও সেটা হয়েছিলো। ক্রাশ খেয়েছিলো ওই লোকটার উপর। তাহা আর্টে অনেক পারদর্শী ছিলো। তাই খুব সহজেই সেদিনের স্মৃতি চারণ করে এই ছবিটা আর্ট করেছিলো। তারপর দিনরাত এটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় এই লোকটাকে ভালোবেসে ফেলে তাহা গভীর ভাবে। ভুলতে চাইলে ও ভুলতে পারতো না। সব সময় মনে পড়তো তাকে। এই কথাটা কাউকে বলে নি তাহা। আরাবী কে ও না। সেই ঘটনার আজকে ২ ২ টো বছর কেটে গেলো অথচ এখনো তাকে ভুলতে পারলো না তাহা। উল্টো আরো ডুবে গেলো তারমধ্যে। {সেই ছেলেটা এ্যাশ ই }
অতীতের স্মৃতির পাতা থেকে বের হলো তাহা। আয়েশা বেগম ডাকছেন। তাহা চোখ মুছে ছবিটা রেখে ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখলো। বিকাল ৪ টা। তাহা ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে বের হয়ে ড্রয়িং রুমে গেলো।
আয়েশা বেগম খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে সোফায় বসে আছেন। তাহা গিয়ে বসতেই তিনি লোকমা তুলে ধমক দিলেন
–সকাল থেকে কিছু খাস নি। অসুস্থ তুই সেটা ভুলে গেছিস? নে হা কর খা।
–তোমার ছেলের জন্য চিন্তা হয় না?
লোকমাটা মুখে নিয়ে বললো তাহা। আয়েশা বেগম চুপ করে রইলেন। তাহা লোকমাটা মুখে নিয়ে উওরের আশায় চেয়ে রইলো। কিন্তু তিনি উওর দিলেন না। আর না উচ্চ বাচ্চ্য কিছু করলেন। নিশ্চুপে তাহাকে এক প্লেট ভাত খাইয়ে চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে।তাহা তাখনো তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
কলিং বেলের আওয়াজ শুনে তাহা এবার দরজার দিকে তাকালো। হাতের পানির গ্লাসটা টেবিলে রেখে দরজা খুলে দিলো গিয়ে। নূর বাইরে থেকে ভেতরে আসতে আসতে হিজাব,হাত মুছা টেনে টেনে খুলতে খুলতে আসলো। পিছন পিছন আসলো ইহান।হাতে নূরের স্কুল বেগ।
নূর গিয়ে দপ করে সোফায় বসতেই তাহা পানি দিলো ওকে। ইহান এখানে দাঁড়ালো না।নূরের বেগটা হাতে নিয়ে রুমে চলে গেলো।
নূর পানি খেয়ে তাহার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললো
–তুমি এখন কেমন আছো আপু? সুস্থ?
তাহা মৃদু হেসে মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুঝালো। নূর গ্লাসটা টেবিলে রেখে তাহার হাত টেনে পাশে বসালো,দুই পা সোফায় তুলে পা মুজাটা খুলে আরাম করে বসলো। তারপর বলতে শুরু করলো আজকে কি কি করলো স্কুলে। এটা নূরের প্রতিদিনের রুটিন। প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে সে তাহাকে সবকিছু বলবে একদম।
আজকে রবিবার। ভার্সিটির জন্য রেডি হচ্ছে তাহা। অসুস্থতার জন্য এতোদিন পরিক্ষা দিতে পারে নি। আজকেরটা দিবে ভাবলো। তাই রেডি হয়ে কাঁধে বেগ চাপিয়ে বের হয়ে গেলো বাসা থেকে।একটা রিকশা নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্য রওনা হলো।
আর ইহান নূরকে নিয়ে স্কুলে বের হলো। বাসায় রইলো শুধু আয়েশা বেগম।
নূরকে স্কুলে দিয়ে ইহান তার হসপিটালের উদ্দেশ্য চলেে গেলো। নূর হাত নাড়িয়ে টাটা দিয়ে কিছুপথ এগুতেই হঠাৎই ধাক্কা খেলো কারো সাথে। নূর নিচে পড়ে চিৎকার করে উঠলো-
–উফফ।
–সরি। সরি। সরি। কিছু মনে করবেন না আমি দেখতে পাই নি আসলে।
কথাটা শুনে উপরে তাকালো নূর। একটা ছেলে অপরাধীর মুখ করে তাকিয়ে আছে। নূর কোনো রকমে উঠে দাড়িয়ে আস্তে করে বললো
–ইটস ওকে।
–আপনি কোন ক্লাসের?
–১০ ম।
–ওহহ। আমিও সেম। আমরা কি ফেন্ড হতে পারি?
এবার ইতস্তত করে তাকালো নূর। ছেলেটা হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফেন্ড বানাবে কি না এই দ্বিধায় ভূগছে। ছেলেটা হয়তো বুঝলো নূরের মনের কথা।তাই বাড়ানো হাতটা গুটিয়ে নিলো। মিষ্টি হেসে বললো
–সমস্যা নেই হাত মিলাতে হবে না। তবে আমরা কিন্তু ফেন্ড হবো ওকে?
পরিক্ষা দিয়ে বের হলো তাহা ঐশী। গেটের কাছে এসে দাঁড়ালো দু’জন। কপালে জমে থাকা ঘাম টুকো মুছার আগেই মুখ কালো করে দৌড়ে আসলো আফরিন। ঐশী গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মিনমিন কন্ঠে বললো
–তোর ভার্সিটির স্যার এতো লুচু কেনো?
তাহা ঐশী দুজনেই চোখ ছোট ছোট করে ওর দিকে তাকালো। তাতেই চুপসে গেলো আফরিন। মুখটা ভুতা করে করে বললো
–এরকম করে তাকাচ্ছো কেনো দুজন? আমি তো ভুল কিছু বলি নি।
–কে তোমার সাথে লুচ্চামি করলো?
বুকে হাত গুঁজে বললো তাহা। আফরিন আগের ন্যায় বললো
–আয়ান স্যার।
–কিহহহ?
চুমকে উঠে প্রশ্ন করলো ঐশী। তবে চমকালো না তাহা। ওর ধারণা মতে যে নিজের ছাএীকে বন্ধুর সাথে জোর করে বিয়ে দিতে পারে। সে ছাএীর সাথে লুচ্চামি ও করতে পারে। তাই এটা তারজন্য চমকিত কিছু না। তাহা আশেপাশে তাকিয়ে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করলো। কাঠফাটা রোদ আজ। সূর্য্যি মামা আজকে সবাইকে কালা বানানোর পায়তারায় আছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময় এখন। রোদ্রের তাপ এতটুকু থাকবে এটা সাভাবিক। তবে সেই সাভাবিক বিষয় টা সাভাবিল লাগছে না তাহার। তারমনে সূর্যের তার সাথে শএুতা আছে। তাই আজকে সে বাইরে বের হতেই এমন কাঠফাটা রোদ। নয়তো কালকে রাতে ও বৃষ্টি হয়েছে।
তাহা ঐশীর দিকে তাকিয়ে বললো
–চল ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে ওর লুচ্চামির কাহিনি শুনি।
তিনজন এসে বসলো রেস্টুরেন্টে। কফির অর্ডার দিয়ে তাহা তাকালো আফরিনের দিকে। পায়ের উপর পা তুলে পা নাচাতে নাচাতে বললো
–কি করেছে আয়ান স্যার তোমার সাথে?
আফরিন নিজের দুই পা চেয়ারে তুলে নিলো। কাচের টেবিলে হাত রেখে সেই হাত নিজের গালে টেঁকিয়ে মুখটা কালো করে বললো
–কি করে নি বলো। আমি তার একজন ছাএী আর সে আমাকে কিসের প্রস্তাব দিয়েছে জানো?
–রুম ডেটের?
তাহা প্রশ্ন করলো।
–না। বিয়ের। আমাকে নাকি তাকে বিয়ে করতে হবে নয়তো ভার্সিটি থেকে বের করে দিবে।
–ভালো তো বিয়ে করে নাও স্যার কিন্তু অনেক হ্যান্ডসাম।
–কি বলো আপু?আমি তো তার ছাএী।
–তো সমস্যা কি?স্যাররা কি বিয়ে করতে পারবে না নাকি?
–বিয়ে তো করবে কিন্তু ছাএীকে?
–তুমি ছাএী তার আগে তো মেয়ে। কি তুমি মেয়ে না?
চোখ ছোট করে প্রশ্ন করলো তাহা। আফরিন চমকে বুকে তু তু দিয়ে বললো
–আস্তাগফিরুল্লাহ। কি বলো আমি মেয়ে।
–তাহলে সমস্যা কি?বিয়েতে রাজি হও।আমাকে দাওয়াত দাও। আমি পেটপুরে খেয়ে কাঁচের বাটি গিফট করবো। অনেক দিন বিয়ে খাই না।
–তরা থামবি?
বিরক্ত হয়ে বললো ঐশী। তাহা এবার ঐশীর বিরক্ত মুখের দিকে তাকালো। কুটিল হেসে বললো
–কি?জ্বলে?জ্বলে?
–আজব। আমার কেনো জ্বলবে?
–ঢং করবি না তুই না বললেও আমি জানি তুই আয়ান স্যারকে পছন্দ করিস।
কথাটা ঐশীর কানে কানে বললো তাহা যাতে আফরিন না শুনে। আফরিন ওদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো
–কি কানাঘুষা করো?
–আফরিন থাপ্পড় খাবি সর।
ধমকে উঠলো ঐশী। আফরিন নিজের জায়্গায় এসে বসলো। মুখটা কালো করে বললো
–আমাকে রেখে কি কানাকানি করো?
–যা করি তোকে বলতে হবে নাকি? অসজ্য।
রেগে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো ঐশী। পাশের চেয়ারে রাখা বেগটা কাঁধে তুলে হনহনিয়ে বেড়িয়ে গেলো। তাহা আফরিন পিছন থেকে এতোবার ডাকলো তবুও শুনলো না।
আফরিন মুখটা কালো করে তাহার দিকে তাকালো। অপরাধীর ন্যায় বললো
–ঐশী আপু কি আমার জন্য রেগে গেছে? আমি কি কোনো দোষ করেছি আপু?মাফ চাইবো গিয়ে?
ততক্ষণে তাদের কফি চলে এসেছে। তাহা ঐশীর যাওয়ার পানের থেকে চোখ সরিয়ে আফরিনের দিকে তাকালো। মেয়েটা খুবই সহজ সরল সবাইকেই বিশ্বাস করে। কাউকে কখনো কষ্ট দেয় না।কি সুন্দর সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলে। ঐশীর সাথে ও আফরিনের অনেক ভালো সম্পর্ক এটা ভালো বুঝেছে তাহা। এখন এই একটা ঘটনার জন্য যে এদের সম্পর্কে ফাটল ধরবে এটা খুব ভালো করেই বুঝলো। গোপনে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তাহা। আফরিনের দিকে কফি বাড়িয়ে দিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৫ (২)
–পরিক্ষা খারাপ হয়েছে তাই হয়তো মেজাজ খারাপ। তুমি কিছু করো নি। তুমি সোজা হোস্টেলে চলে যেও কেমন। আমি আসি। বিল দিয়ে যাবো আমি।
কথাটা বলে চলে গেলো তাহা। বিল দিয়ে নিচে এসে নামলো। রাস্তায় এসে রিকশার জন্য দাঁড়াতেই একটা গাড়ি এসে থামলো ওর পায়ের কাছে। ওকে কিছু বুঝার সুযোগ না দিয়েই গাড়িতে তুলে নিলো। মুহুর্তেই ফুল স্পিড দিয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে হারিয়ে গেলো।

please , next part diyen apu