Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৩

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৩

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৩
Muntaha jahan

-“-“বিদেশের এতো এতো সুন্দরী মেয়ে এতো চেষ্টা করেও নজর তাদের দিকে করতে পারলো না ,আর বাংলাদেশে আসতে না আসতেই একজন তাকে নাচিয়ে ছাড়লো?
নিলের কথায় নিলের দিকে সবাই তাকাতেই নিল আঙুল তুলে স্টেজের দিকে ইশারা করলো,সবাই তাকালো স্টেজে আরাভকে দেখতে পেয়েই সবার চোয়াল বিস্ময়ে ঝুলে গেলো,ঈশান তো বিশ্বাসই করতে পারছে না,হা করে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে!

গান বন্ধ হতেই থামলো আরাভ তাহা,তাহা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আরাভের দিকে,আর আরাভ বিস্ময়ে হতভম্ব,একটু আগে সে নাচলো?বিশ্বাস হচ্ছে না তার,তাহার দিকে তাকাতেই দেখলো তাহা রেগে তাকিয়ে আছে তার দিকে,পর পর আশপাশে নজর দিলো সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে,একটু দূরে নিজের বন্ধুদের ও খেয়াল করলো আরাভ,তাদের দেখেই রেগে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলো তাদের দিকে!
তাহা আরাভ নামতেই স্টেজে আরেকদল উঠলো,এবার কয়েক জোরা কাপল উঠলো কাপল ডান্স করার জন্য,সবাই আবার নাচের তালে ছন্দ মেলাতে শুরু করলো!
অন্যদিকে আরাভকে তাদের দিকে আসতে দেখেই সবাই নিজকে টিকটাক করে নিলো,ঈশান তো গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,আজকে কপালে চড় নিশ্চিত!
আরাভ এসে সামনে দাঁড়াতেই সবাই বোকাবোকা হেঁসে লম্বা সালাম দিলো!

-“তরা এখানে কি করে?
-” তুই তো দাওয়াত দিলি না,তাই নির্লজের মতো নিজেই নিজেকে দাওয়াত দিয়ে চলে আসলাম,তোর বোন তো আমাদের ও বোন তাই না,আমাদের ও তো কিছু দায়িত্ব আছে!
সাথে সাথে উওর দিয়ে থামলো নিল,তারপর ভ্রু নাচিয়ে চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলো
-“একটু আগে কি দেখলাম?
আরাভ তাদের পাশের চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসলো,ফোনটা পকেট থেকে হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“কি দেখলি?
-“নাটক কম করো পিও! মেয়েটা কে?
-“তোদের ভাবী!
-“সিরিয়াসলি এ্যাশ? তাহলে যাকে নিয়ে এতোদিন কল্পনায় ঘর সাজালি তার কি হবে?
-“আশতিয়াক এ্যাশের চোখ সবার উপর পড়ে না নিল,এটাই সেই মেয়ে!

রাত : ১২ টা
তিশার অফিসের সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়ুশ,৩০ মিনিট হয়ে গেছে এখানে দাঁড়িয়ে আছে আয়ুশ,অফিসের এতো কাজ তারউপর আরাবীর বিয়ের এতো এতো কাজ করে এখানে ৩০ মিনিট থেকে দাঁড়িয়ে আছে তবুও বিরক্ত হচ্ছে না,বরং চোখ দুটো অপেক্ষা করছে কখন তিশার দেখা পাবে তারজন্য, আয়ুশকে আরো ১০ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে অবশেষে বাইরে আসলো তিশা,পড়নে কালো টপস আর জিন্স,চুল গুলো জুটি করে উপরে বাঁধা,তিশা সুন্দরী না,শ্যামলা তবু্ও ও তারপ্রতি আসক্ত আয়ুশ,সারাদিনে এক বার যেনো এই মুখ না দেখলে তার দিন ফুরায় না!
তিশা আয়ুশের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো

-“আজকে এতো কষ্ট করে তোমার এখানে আসা উচিত হয়নি আয়ুশ!আমি একাই ওই বাড়ি চলে যেতাম!
আয়ুশ হাসলো,গাড়ির দরজা খুলে তিশাকে ভিতরে ডুকার ইশারা করলো,তিশা বসতেই আয়ুশ দরজা বন্ধ করে,ড্রাইভিং সিটে বসলো গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো
-“এতটুকুরই তো পথ,কষ্ট হবে কেনো? তাছাড়া তোমার কোনো কাজ করতে আমার কোনোদিন ও কষ্ট হয় না টিস্যু!
-“ভালো হও আয়ুশ,আমার নাম তিশা,টিস্যু না!

তিশাকে নিয়ে যখন বাড়িতে ডুকলো আয়ুশ তখন মেহেদী অনুষ্ঠান শেষ সবাই যে যার রুমে চলে গেছেন, আয়ুশ তিশাকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে আসতেই অচেনা ৪ টা মুখ দেখে দাঁড়িয়ে গেলো,তাদের সাথে হেসে গল্প করছেন মিনাল খান,মিনাল খান আয়ুশ তিয়াকে দেখতে পেয়ে কাছে ডাকলেন পরিচয় করিয়ে দিলেন আরাভের বন্ধুদের সাথে,তাদের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলো আয়ুশ,তিশা আর মিনাল খান অনেক আগেই রুমে চলে গেছেন,আয়ুশের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে তারা ও তাদের রুমে চলে গেলো,সবাই ই ক্লান্ত রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন!

সকাল সকাল উঠে পড়েছে খান বাড়ির দুই গিন্নি,আজকে মেয়ের বিয়ে বলে কথা,কতো কাজ আজ! আজকে বেলা অবদি পড়ে পড়ে ঘুমালে হবে?
হালকা কিছু খেয়ে এখন হাতে হাতে কাজ করছেন দুই গিন্নি,আরাবীকে হলুদ লাগানো হবে সেটার কাজ করতেই ব্যাস্ত আপাতত!
তিশা,তাহা ও বসে নেই,একজন হলুদ বাটছে তো আরেকজন আরাবীকে সাজাচ্ছে,সাজানোর কাজে আছে তাহা,আরাবীকে একটা সুতির হলুদ শাড়ি পড়িয়ে কাঁচা ফুলের গয়নায় সাজিয়ে দিয়েছে!
আরাবীকে সাজিয়ে নিচে হলুদের অনুষ্ঠানের ওখানে নিয়ে গেলো! হলুদের অনুষ্ঠানটা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হলো!

আরাবিকে বউ বাড়িতে বসেই সাজানো হলো,তিশা তাহা মিলে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে,বিয়ের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান ও বাড়িতেই হচ্ছে,সেন্টারের ঝামেলা করেননি মিনাল খান!
হালকা সবুজের মধ্যে লেহেঙ্গা পড়ে সিঁড়ি বেয়ে হেলেদুলে নামছে তাহা,হাতের একটা বড় আয়না,সিঁড়ির শেষ ধাপে আসতেই হাত থেকে আয়না পড়ে গেলো নিচে,সাথে সাথে কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে! তাহা রেগেমেগে তাকালো ধাক্কা দেওয়া ব্যাক্তির দিকে!
নিল জিহ্বায় কামড় দিয়ে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে আয়নার দিকে,তাহার দিকে তাকাতেই দেখতো রেগেমেগে আগুন হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে,নিল একটা বোকাসোকা হাসি দিয়ে বললো
-“দুঃখীত ভাবী! আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা মারি নি সরি!
আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না নিল,এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেছে,তাহা ভাঙা আয়নার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বললো
-“বড় বান্দর যেমন,তার ছানাপোনা ও তেমন,উজবুক!কোন দেশ থেকে এসে নাজিল হয়েছে কে জানে!—এক মিনিট ওই বেটা আমাকে ভাবি বললো কেনো?
তাহা তাকালো উপরের দিকে,কিন্তু নিলের দেখা পেলো না,অনেক্ক্ষণ খোঁজেও যখন দেখা পেলো না,তখন ভাঙা আয়নাটা হাতে নিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে!

বেলা ১ টা বউ সাজিয়ে স্টেজে বসানো হয়েছে আরাবিকে,সবাই এখন বড় পক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে,কিন্তু এখন ও আসছে না দেখে মিনাল খান ফোন করলেন বরের বাবাকে,অনেকবার ফোন করলেন কিন্তু ধরলেন না,শেষবার কল করতেই কল রিসিভ হলো মিনাল খান কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে বরের বাবা বলে উঠলেন
-“আমি দুঃখীত! আপনাদের মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে আমরা দিতে পারবো না,আপনার মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিন!
ব্যাস আর কোনো কথা নেই,কল কেটে দিয়েছেন বরের বাবা,সবাই মিনাল খানের দিয়ে তাকিয়ে আছে,মিনাল খান মলিন মুখে বললেন

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২

-“বরের বাবা বললেন আমাদের বাড়ির মেয়ের সাথে তাদের ছেলের বিয়ে দিবেন না,অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে!!
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন মিনাল খানের দিকে,আরাবির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো,মনে মনে সাজানো হাজার স্বপ্ন এক মুহুর্তে ভেঙে গেলো,স্টেজে আর বসে থাকলো না,লেহেঙ্গার কোণা ধরে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো!
আরাবির কান্নায় সবার মুখ বিষন্নতায় ছেয়ে গেলেও হাসি ফুটলো একজনের মুখে আর সেটা হলো ফাহাদ!
ফাহাদ একটা ডেভিল হাসি দিয়ে বিড়বিড় করলো
-“কেঁদো না ডালিং,কেঁদো না,তোমার কান্না আমার সহ্য হচ্ছে না,তুমি কাঁদলে আমার এই বুকে অনেক ব্যাথা হয়,তুমি হাসবে ঠিক কালকের মতো করে!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৪