Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৪

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৪

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৪
Muntaha jahan

বাংলাদেশে নিজের কোম্পানির কাজ কতদূর এগুলো সেটা দেখতে ঈশাকে নিয়ে গিয়েছিলো আরাভ,সেখান থেকে এসে সবকিছু শুনতেই ঈশানকে নিয়ে আরাবির হবু বর রায়হানদের বাড়ি গিয়ে ওকে মেরে হাত পা ভেঙে দিয়ে এসেছে,পরিবারের আর কারো প্রতি বিশেষ মায়া না থাকলেও বোনের প্রতি অসম্ভব মায়া তার,বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসে,সে বোনের চোখে আজকে বাইরের একটা ছেলের জন্য জল এসেছে এটা তার সহ্য হলো না কিছুতেই,তাই বোনের চোখে জল আনাকারীকে শাস্তি দিতে চললো,ঈশান না আটকালে রায়হান আজ আরাভের হাতেই মারা যেতো!

রায়হানের বাবা আরাভের নামে পুলিশ কেস করেছিলেন,পুলিশ ও এসেছিলো আরাভকে ধরতে,কিন্তু আরাভ নামের আশতিয়াক এ্যাশ ব্যাক্তিকে দেখে থেমে গেলেন,কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তিনি পালিয়ে ছিলেন কোনো রকমে!
আরাভ মুখে মাস্ক পড়েই পুলিশের সামনে গিয়েছিলো মুখের থেকে মাস্ক খুলতেই পুলিশের চোখ মুখে একটা ভীতভাব খেয়াল করেছিলো তাহা,পুলিশের মতো লোক আরাভের মতো সাধারণ ব্যাক্তিকে কেনো ভয় পেলো সেটার কারণ বুঝলো না সে!
তাই রুমে এসে ফেইসবুকে আরাভ খান নামে সার্চ দিলো তবে আরাভ নামের কোনো ব্যাক্তির সাথে এই আরাভের মিল পেলো না,পরক্ষনে আবার আশতিয়াক এ্যাশ নাম সার্চ দিলো! সাথে সাথে ভেসে উঠলো আরাভের ছবি,জনসম্মুখে খুন,মারপিট,আমেরিকায় করা প্রত্যেকটা খারাপ কাজ সবকিছু ফেইসবুকে পেয়ে গেলো,
তার সমস্ত কিছু প্রকাশ পেলো তার কাছে,আশতিয়াক এ্যাশ যে ভালো মানুষ নয় এটাও বোধগম্য হলো তার!
মুখ বাকিয়ে বিড়বিড় করলো সে

-“আমার খালামনির মতো ভালো মানুষের পেটে এই গুন্ডাটা কি করে এলো?
-“এই মেয়ে দাঁড়াও,এতো রাতে এখানে কি করছো তুমি?
একটা স্টুডেন্টকে পড়িয়ে বাসায় ফিরছিলো তাহা,আরাবির বিয়ের জন্য অনেক দিনের ছুটি নিয়েছিলো সে,কিন্তু এখন যখন আরাবির বিয়ে হয়নি তাই ভাবলাম এখন আর ছুটি কাটিয়ে লাভ নেই,ফ্রি যখন আছেই তখন স্টুডেন্টকে পড়িয়ে নেওয়া যাক! তাই সন্ধ্যা হতেই একটা কলা পাতা রঙের থ্রিপিস পড়ে স্টুডেন্টকে পড়াতে বের হয়েছিলো,স্টুডেন্টকে পড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে বাসায় আসতে আসতেই পিছন থেকে কারো ডাক শুনলো সে! তবে পিছনে তাকাতেই কারো দেখা পেলো না,এদিকে ওদিকে তাকিয়ে বামে তাকাতেই আরাভকে খেয়াল করলো,যে গাড়ি থেকে নেমে এদিকেই আসছে!
-“কি হলো কথা কানে যায় না এতো রাতে এখানে কি করছো তুমি?
তাহা মনে মনে মুখ বাকিয়ে চুপ করে থাকলো,এই গুন্ডার সাথে তার কোনো কথা নেই,দেশে আসার একদিন হতে না হতেই তাকে ২ বার স্পর্শ করে নিয়েছে,যা আজ পর্যন্ত কেউ করে নি কখনো,আরাভকে মনে মনে লুচ্চার খাতায় ফেলে দিলো তাহা!
তাহাকে চুপ করে থাকতে দেখে আরাভ এবার ধমক দিলো

-“কি মেয়ে কথা কানে যায় না?এখানে কি করছো তুমি?
আরাভের ধমকে সামান্য কেঁপে উঠলো তাহা,শুনশান রাস্তা দেখে সামান্য ভয় ও পেলো!
এই লোক তো গুন্ডা যদি তাকে এখানে মেরে ফেলে যায় ?কথাটা ভেবেই আরাভের দিকে তাকালো তাহা,আরাভ তার দিকেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে,চোখে মুখে ক্লান্ত ভাব স্পষ্ট! একটা ঢোক গিলে মিনমিনে স্বরে তাহা বললো
-“স্টুডেন্টকে পড়াতে গিয়েছিলাম ভাইয়া!
-“এখন?
-“হুম!
-“দিনে পড়ানো যায় না?
-“দিনে অন্য স্টুডেন্ট থাকে,তারউপর আজকে তো আরাবির বিয়ে ছিলো ভেবেছিলাম পড়াতে পারবো না তাই আরকি!
আরাভ কিছুক্ষণ চুপ থাকলো,তারপর আশেপাশে তাকিয়ে বললো

-“চলো আমিও বাড়ি যাচ্ছি,একসাথে যাবো! আসো!
তাহা তাড়াহুড়ো করে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো
-” না না না,,আপনি যান ভাইয়া আমি যেতে পারবো,এই তো এইটুকুনি পথ! আপনি যান!
আরাভ পকেটে হাত গুঁজে রেগে তাকালো তাহার দিকে,মনে মনে আবার ও মুখ বাকালো তাহা,এই বেটার আমার সাথে কি? যাক না একা একা আমাকে কেনো টানছে? গুন্ডা!
-“ভাইয়া আপনি যান আমার একটু কাজ আছে!
-“৫ মিনিট সময় দিলাম তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে এসো,নাহলে আমাকে তো চিনোই তাই নাহ?
আর কিছু না বলে গটগট পায়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো আরাভ,তাহার দিকে তাকিয়ে দেখলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে! গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো
-“আর ৩ মিনিট!
আর কিছু না ভেবেই দৌড়ে এসে গাড়ির পিছনের সিটে বসতে নিতেই আরাভ বললো
-” সামনে এসে বসো,আমি তোমাট ড্রাইভার নাহ!
-“তোকে কি আমি বলেছিলাম আমাকে লিফট দিতে?নিজে নিজে লিফট দিয়ে এখন আবার নিজেই ধমকাধমকি করছিস,গুন্ডা!
মনে মনে গালি দিয়ে সামনে গিয়ে বসলো তাহা!!

তিশা থাকে নি আর এখানে বিকেল বেলায়ই চলে গেছে,ক্রাইম ব্যান্চের অফিসার তিশা,সারাদিন দৌড়াদৌড়ির উপরেই থাকতে হয়,সকাল সকাল উঠে চলে যায় অফিসে আর রাত ১২ টায় বাসায় ফিরে,বেশি রাত হয়ে যায় দেখে আয়ুশ রোজ বাসায় দিয়ে আসে!
তিশার বাবা নেই,মাকে নিয়েই একা একটা বাসায় থাকে!
তাহার মা বাবা কেউ নেই অনাত সে,ছোট থেকেই আয়েশা বেগমের কাছে থাকে,ইহান তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করলেও তাহা শুধু তার উপর সম্পূর্ণ ভার দিয়ে বসে থাকে না,ভার্সিটিতে ক্লাস করে প্রাইভেট পড়ায় ৭-৮ এর ছেলেমেয়েদের!
আরাভ এই বাড়িতে তাহাকে প্রথম দেখার দিনই আরাবির থেকে জানতে পেরেছে এগুলো!!
কিছুক্ষণ আগেই বাসায় ফিরেছে তাহা আরাভ,গাড়ি থেকো নেমেই দৌড়ে বাসায় ঢুকেছে তাহা,তারপর আর নিচে আসে নি,রাতে খেতে ও না!!

সকাল বেলা
খান বাড়ির সবাই যে যার কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুুতি নিচ্ছে,ইহান সকালের ট্রেন ধরেই সিলেট গেছে ইমারজেন্সি রোগীর জন্য তাকে সিলেট নেওয়া হচ্ছে!!
আরাভ ফাহাদ নিল ঈশান কেনায়াকে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসেছে,গাড়ি থেকে নেমে সবাই একপাশে দাঁড়ালো,নিল আরাভের দিকে তাকিয়ে বললো
-“ব্রো? আমাদের এখানে কেনো নিয়ে এলি?এখানে আমাদের কি কাজ?
আরাভ গাড়ির ভিতর থেকে ছাতা নিয়ে সবার হাতে দিতে দিতে বললো
-“এখানেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে,কারণ এখানে আয়ান এখানে!
আয়ানের নাম শুনতেই সবার মনে পড়লো আয়ানের কথা,যে দুইমাস আগে আরাভের রাগ করে চলে এসেছে,সবাই ছাতা টানিয়ে নিলো অনেক বৃষ্টি আজ!
এই অসময়ে বৃষ্টি দেখে মেজাজ খারাপ হলো আরাভের,ছাতাটা ভালো করে মাথার উপর দিলো,বৃষ্টির জল একফোঁটা মাথায় পড়লে তার আজ জ্বর নিশ্চিত!
স্যারদের জিজ্ঞেস করে আয়ানের ক্লাস রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো সবাই,আরাভ ক্লাস রুমের ভিতরে চলে গেলো,ক্লাসের সবাই তাকিয়ে রইলো আরাভের দিকে,চেনার চেষ্টা করলো কে এ? তবে কেউ চিনতে পারলো না,কিছু কিছু মেয়ে লুকিয়ে আরাভের ছবি তুলে নিলো,সেদিকে পাওা দিলো না আরাভ আয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,আায়ান আরাভকে দেখে বইয়ের পাতা উল্টাতে ব্যাস্ত হলো!!

-“সরি আয়ান!
আায়ান চুপ,কোনো ভাবান্তর নেই তার,আরাভ গলা খাঁকারি দিলো
-“কিছু বল সরি বললাম তো!
এবার ও চুপ আায়ান,এবার রেগে গেলো আরাভ,আজ অব্দি এই শব্দটা তার মুখ দিয়ে বের হয়নি,সেটা আজ বন্ধুর জন্য অনায়াসে বের হয়ে গেলো,একবারের জায়গায় দুইবার বললো! তাও এর কোনো ভাবান্তর নেই? নিশ্চুপ! নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে আরাভ আরো একবার সরি বললো,এবার ও কোনো উওর করলো না আয়ান,এবার আর রাগ সামলাতে পারলো আারভ,হনহনিয়ে বের হয়ে গেলো রুম থেকে!
দরজার সামনে থেকে নিলরাও সরে গেলো,সবার মুখ ভার শুধু ফাহাদ চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে,
আায়ান ভাবলো আরাভ চলে গেছে,সেই ভেবে তাচ্ছিল্য হাসলো,১ ঘন্টা ক্লাস করিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে আসলে সে,করিডরে হাঁটতে হাঁটতে দেখলো সবাই মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে,কোতুহল বশত সে এগিয়ে গেলো,মাঠের দিয়ে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তার,আরাভ কান ধরে দাড়িয়ে আছে,ঠিক দেখছে তো?
দৌড়ে নিচে নামলো সে আরাভকে টান দিয়ে মাঠ থেকে ভিতরে নিয়ে আসলো,হাত দিয়ে আরাভের গায়ের পানি মুছতে মুছতে বললো

-“পাগল হয়ে গিয়েছিস নাকি? বৃষ্টিতে কেনো ভিজছিস? তোর যে বৃষ্টির পানিতে জ্বর আসে জানি না?
আরাভ গম্ভীর স্বরে উওর দিলো
-“তখন সরির উওর দিলে এতোকিছু হতো নাহ!
-“এতো জেদী কেনো তুই? এসব ছেলে মানুষী জেদ ছার,এগুলো তোর সাথে যায় না,তুই এরকম না!
-“আমি সবকিছু ছেড়ে দিতে পারবো,কিন্তু কখনো তোকে ছাড়তে পারবো না,মাফ করে দে আমায়!
আায়ান এখন হাসলো,নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হলো! মাফিয়া বস আশতিয়াক এ্যাশ কিনা তার কাছে মাফ চাইলো? এতো গুরুত্বপূর্ণ সে এ্যাশের জীবনে?
আরাভকে জরিয়ে ধরলো আয়ান,পিটে হালকা থাপ্পড় দিয়ে বললো
-“যাহ মাফ করলাম! তবে দ্বিতীয় বার এমন করলে আর মাফ করবো না,হারিয়ে যাবো একেবারে!

প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে মার্কেটে দাঁড়িয়ে আছে ফাহাদ,আরাভ তখন সবাইকে বাড়ি ফিরতে বলেছে,সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও সে এসেছে মার্কেটে!
কালকে রাতে ফেইসবুকে সার্চ মেরেছিলো মেয়েদের মন খারাপ হলে মন ঠিক করে কি করে!
সামনে এসেছিলো মেয়েরা শাড়ি,কাচের চুরি পেলে অনেক বেশি খুশি হয় এবং মন খারাপ ও ঠিক হয়ে যায়,তাই এসেছিলো আরাবির জন্য শাড়ি চুরি কিনতে সাথে একটা আলতা ও,কেনাকাটা শেষ করে বের হবে এমন সময় আবার ও জুম বৃষ্টি শুরু হলো!
ঘন্টা খানিক বৃষ্টির পর এখন একটু আকাশ টা পরিষ্কার হলো,ধীর পায়ে দোকান থেকে বের হয়ে একরা রিক্সা নিয়ে খান বাড়িতে পৌঁছালো
ঘরি তখন ১২ টা ছুঁইছুঁই!!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৩

প্যাকেটা নিয়ে খুব সাবধানে আরাবির রুমের সামনে এলো,রুমে আরাবিরকে না দেখে সস্তির নিশ্বাস ফেললো
প্যাকেটা বেডের উপর রেখে চুপিচুপি আবার ও নিজের রুমে চলে আসলো,দরজাটা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
-“তোমার সত্যি মন ভালো হবে তো আরু? তোমার এই মন খারাপ টা সহ্য হচ্ছে না আমার!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৫