Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৭

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৭

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৭
Muntaha jahan

রাত ১ টা
–“রুমে বসে আছে এ্যাশ,সকালে ফ্লাইট,
জামা কাপড় গুছানোর কোনো তারা নেই তার,সবকিছু গুছানোই,লাগেজ থেকে কোনো কিছুই বের করে নি সে তাই তার জামা কাপড় নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই!
বর্তমানে সোফায় মুখে হাত দিয়ে বসে আছে,মাথায় চিন্তারা গুরাগুরি করছে,সেভাবে কিছুক্ষণ বসে থেকে এবার উটে দাঁড়ালো এ্যাশ,দরজাটা চাপানো ছিলো,সেটা খুলে বের হয়ে গেলো রুম থেকে!!
সিঁড়ির পাশের প্রথম রুমটাই তাহার,সেটার সামনে এসে দাঁড়ালো এ্যাশ,দরজা বন্ধ,তাহা এতো রাতে জেগে থাকবে না কি এ-সব ভেবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো,তারপর হাত উটিয়ে আস্তে করে একটা বাড়ি দিলো!!
ভিতর থেকে প্রথমেই কোনো আওয়াজ এলো না,এক মিনিট,,,,২ মিনিট,,, তারপর দরজা খুলার শব্দ এলো,তাহা দরজা খুলে এ্যাশকে দেখে ভ্রু কুঁচকালো,

-“আপনি এতো রাতে আমার রুমের সামনে কি করছেন? মেয়ে মানুষের রুমে এতো রাতে কেউ আসে? আশ্চর্য!!
-“আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন,আপনি এখন আর মিস নেই মিসেস হয়ে গেছেন,আর আজকে আমাদের বাসর রাত!!
-“আর আপনি ও হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমাকে জোর করে বিয়ে করেছেন,এই বিয়ে আমি মানি নাহ!
-“আমি তো মানি? তাতেই চলবে!!
কথাটা বলে রুমে ডুকে গেলো এ্যাশ,নজর গেলো বিছানায় পুরো বিছানায় বই খাতা ছড়িয়ে রাখা,এ্যাশ পিছনে ফিরে তাহার দিকে তাকালো
-“তুমি এতো রাতে পড়ছিলে?
তাহা রেগেমেগে এ্যাশের দিকে এগিয়ে এলো,এ্যাশকে টেনে বের করতে চাইলো কিন্তু পারলো না,এ্যাশ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,তাহা হাজার চেষ্টা করেও এ্যাশকে এক ইঞ্চি ও নড়াতে পারলো না,ক্লান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো
-“আপনি কি মানুষ? কি খান? একটু ও তো নড়াতে পারলাম নাহ!
এ্যাশ নিজের জামা কাপড় ঝাড়লো সবকিছু কুচকিয়ে ফেলেছে টানতে টানতে,তারপর তাহার বই খাতা গুলো একপাশে রেখে বিছানায় পা তুলে বসলো, তাহার দিকে তাকিয়ে গা টান দিয়ে শুয়ে পড়লো,বললো

-“তোমার মতো চুনোপুঁটির সাধ্য নেই এ্যশকে নড়ানোর,আগে খেয়ে শক্তি বানাও,শরীলে তো কিছুই নেই! খাও না?
-“আপনি রুম থেকে যান প্লিজ,কেউ দেখে ফেললে কি হবে?
-“কি হবে?
-“আপনি জানেন না কি হবে?
-“না বলুন কি হবে!
-“এতোরাতে একটা জোয়ান মেয়ের রুমে জোয়ান ছেলেকে দেখলে লোকে কি বলবে? আপনার পরিবার কি বলবে?সমাজ তো আমাকে কলঙ্কিনী করবে!
-“এতোকিছু কেনো ভাবছেন? সোজা বিয়ে দিয়ে দিবে,এটা বললেই তো হতো!
-“আপনাকে বিয়ে কে করবে?
-“কেনো আপনি! আপনি ছাড়া আমি আর কারো হবো?
-“পৃথিবীতে কি ছেলের অবাব যে আপনাকে বিয়ে করবো?
-“বিয়ে তো করে ফেলছো!
-“তো কি ডির্বোস দিবো! ব্যাস!
-“আমি তো চলে যাচ্ছি,ডির্বোস কি করে দিবে?
-“আপনি আবার আসলে দিবো,,উফফ আমাকে জ্বালাচ্ছেন কেনো,যান এখান থেকে!!
এ্যাশ উঠে দাঁড়ালো,তাহার সামনে এসে ওর মুখের উপর ঝুকলো,তাহা পিছিয়ে যেতেই কোমড় টেনে কাছে আনলো এ্যাশ,তাহার কপালের ছোট ছোট চুল গুলো হাত দিয়ে গুছিয়ে দিয়ে বললো
-“উহু! আজকে আমাদের বাসর রাত,বাসর না করে তো আমি যাবো নাহ ম্যাডাম!
তাহা এ্যাশকে সরাতে সরাতে বললো

-“আমি মানি না এই বিয়ে দূরে যান!
এ্যাশ তাহার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে তাহা পিছনে নিয়ে চেপে ধরলো,তারপর আবার ওর মুখের উপর ঝুঁকে বললো
-“বললাম না তোমার মতো চুনোপুঁটির শক্তি নেই আমাকে সরানোর,তাই অযথা শক্তি নষ্ট করো না!
এ্যাশ তাহার ঠোঁটে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুয়ালো,তাহা শরীল কেঁপে উঠলো,জীবনের প্রথম কোনো পুরুষের এতো কাছে সে,তাহা এবার হাসফাস করে উঠলো,মুখটা অন্যদিকে সরিয়ে বললো
-“প্লিজ দূরে যান,আমি এই বিয়ে মানি না,দয়া করে এরকম করবেন নাহ!
এবার তাহাকে ছেড়ে দিলো এ্যাশ,তাহা ঠোঁটে হাত দিয়ে ঠোঁট মুছলো,এ্যাশ তা দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,তারপর আবার তাহাকে টান দিয়ে কাছে আনলো,তাহা হকচকিয়ে গেলো,চোখ বড় বড় করে তাকালো এ্যাশের দিকে,
-“উফ! কি হলো আবার কেনো ধরলেন? ছাড়ুন!
এ্যাশ আবার তাহার ঠোঁট আলতো করে চুমু খেলো,সাথে সাথেই ছেড়ে দিলো,তাহা আবার মুছতে নিতেই এ্যাশ বললো

-“আবার মুছলে আবার দিবো,যতবার দিবে ততোবার দিবো!
হাত নামিয়ে ফেললো তাহা,কটমট করে তাকালো এ্যাশ দিকে,এ্যাশের থেকে আরো দূর সরে গিয়ে বললো
-“বের হন এখন রুম থেকে!
এ্যাশ এখন আর দাড়ালো না বেরিয়ে আসতে নিলো,দরজার সামনে আসতেই আবার ও তাকালো তাহার দিকে,তাহা ও তাকিয়ে আছে,এ্যাশ তাকাতেই চোখাচোখি হলো,তাহা মুখ বাকিয়ে অন্য দিকে তাকালো,এ্যাশ নিজেকে গম্ভীর করে গম্ভীর স্বরে বললো
-“তোমার উড়াউড়ি এখন থেকে শেষ,মনে রেখো তুমি এখন আশতিয়াক এ্যাশের বউ,আশতিয়াক এ্যাশ যে ভালো মানুষ নাহ,এটা তো তুমি জানোই নিশ্চয়ই?তাই বেশি উড়াউড়ি করবে না,আমি আমেরিকা থাকলে ও মন আর নজর বাংলাদেশে তোমার কাছেই থাকবে!!
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেলো এ্যাশ,তাহা এ্যাশের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শস্তির নিঃশ্বাস ফেললো,এতোক্ষণ যেনো আঁটকে ছিলো সেটা,দৌড়ে গিয়ে দরজা লাগানো সে,আবার না চলে আসে!
আশিতিয়াক এ্যাশ যে একদমই ভালো মানুষ না এটা জানে তাহা,এ্যাশের নামে আগে ও অনেক কথা শুনেছে,ভয় লাগতো কিছুটা,কিন্তু কখনো ভাবে এই আশতিয়াক এ্যাশ তার আত্মীয় কেউ হবে,আর এখন কিনা তার স্বামী হয়ে গেলো!
স্বামী ভাবতেই মনে একরকম অনুভূতি টের পেলো,এই মানুষটা এখন থেকে তার স্বামী ভাবা যায়? এ্যাশ তাকে কেনো বিয়ে করলো? ভালোবাসে? এ্যাশের মতোও কেউ ভালো বাসতে পারে?
কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো তাহা!!

সকাল ৬ টা
খান বাড়ির ড্রয়িং রুমে বসে আছে সবাই,এ্যাশের মা আর এ্যাশের কাকি শিফা তিনারা রান্নাঘরে রান্না করতে ব্যাস্ত,৭ টার দিকে বাসা থেকে বের হবে এ্যাশরা,আয়েশা বেগম চোখ মুছছেন আর রান্না করছেন,ছেলকে এতো তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে মুঠেও রাজি নন তিনি!
শিফা বেগম অসহায় চোখ তাকিয়ে আছে জালের দিকে,তাকে কান্না করতে দেখতে একটু ভালো লাগছে না তান,কিন্তু তার হাতে কিছু নেই,ছেলেকে তো যেতেই হবে! শিফা বেগম একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তিনিও কাজে হাত লাগালেন!
ড্রয়িং রুমের সোফার অপর পাশের সোফায় বসে আছে এ্যাশ,ঈশান,নিল,কেনায়া,এ্যাশের মুখটা গম্ভীর,মিনাল খান ও গম্ভীর মুখে বসে আছেন,হাতে খবরের কাগজ বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছেন ছেলের দিকে,কিন্তু এ্যাশের কোনো ভাবান্তর নেই,সে এক মনে ফোন দেখতে ব্যাস্ত!
মিনাল খান এবার গলা খাঁকারি দিলেন,এ্যাশের মনোযোগ তার দিকে করতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না,এ্যাশ ব্যাতীত সবাই তার দিকে তাকালো,তিনি এবার সরাসরি এ্যাশকে ডাক দিলেন

-“আর কিছুদিন থাকা যায় না এ্যাশ? তোমার মা কান্নাকাটি করছে!
এ্যাশ ফোনের দিকে তাকিয়েই ছোট করে উওর দিলো
-“সম্ভব না,তাছাড়া ইহান তো আছেই তাহলে আমাকে কি প্রয়োজন?
ইহানের নাম শুনতেই চুপ হয়ে গেলেন মিনাল খান,আর কিছুর বলার মতো পেলেন না,নিহান খান মিনাল খানের পাশ থেকে বললেন
-” এটা কেমন কথা এ্যাশ? ইহান ও এই বাড়ির ছেলে তুমিও এই বাড়ির ছেলে,আমাদের দুজনকেই প্রয়োজন,একজন রেখে একজনকে নয়!
-“তবে একজনের শুধু একজনকেই প্রয়োজন,আমি না থাকলেও চলবে!
আর কিছু বললো না এ্যাশ,না কাউকে বলার সুযোগ দিলো,বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে গেলো ডাইনিং টেবিলের দিকে,আয়েশা বেগমকে ঢেকে বললো
-“আম্মু খাবার দাও,আমরা এখনি বেরিয়ে পড়বো,আর যদি রান্না না হয় বলো আমরা বাইরে থেকে করে নিবো!
আয়েশা বেগম এতক্ষণ ছেলে আর বাপের কথা শুনছিলেন,এ্যাশের যে বাবার উপর অভিমান হয়েছে এটা বুঝলেন,এ্যাশের ঢাকে আঁচল দিয়ে চোখ মুছে,ছোট করে বললেন
-“হয়েছে বাবা,একটু অপেক্ষা কর,দিচ্ছি আমি,,,তোমরা ও এসো!
আয়েশা বেগমের ডাকে উঠে গেলো কেনায়া নিল ঈশান,এ্যাশ সবাইকে পরক করে গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো

-“ফাহাদ কোথায়?
-“এই তো আমি!
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বললো ফাহাদ,এ্যাশ আবার জিজ্ঞেস করলো
-“এতক্ষণ কোথায় ছিলে?
-” রুমেই ছিলাম,ফ্রেশ হচ্ছিলাম!
-“এই বাড়ির কিছুতে নজর দিও না,এই বাড়ির সবকিছুই অমূল্য পবিএ,যা আমাদের সাধ্যের বাইরে! তাই আগেই নিজেকে সংযত কর!
এ্যাশের কথা শুনে কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে রইলো ফাহাদ,একবার চোখ তুলে তাকালো এ্যাশের দিকে,এ্যাশের চোখ ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব এটা সে জানে,ফাহাদ চেয়ায়ে আরাম করে বসলো,তারপর গম্ভীর রাশভারি কন্ঠে বললো

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৬

-“ফাহাদের কাছে অসম্ভব বলতে কিছুই নেই এটা তুমি জানো,ফাহাদ যা চায় তা চেয়ে নয় কেঁড়ে নেয়,কারো অনুমতির দার এই ফাহাদ ধারে না,সময় হলে সেই অমূল্য জিনিস ফাহাদ ছিনিয়ে নিয়ে যাবে,কেউ আটকাতে পারবে না,সংয় সে নিজেও না!!
-“হঠাৎ করেই তাহাকে কেনো বিয়ে করলি এ্যাশ? কি হয়েছে? তুই জানিস তোর পরিবার এখন ঋত্বিক এর নজরে চলে গেছে,এখন তাহার কথা জানলে ওর ও ক্ষতি করার চেষ্টা করবে!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৮

1 COMMENT

Comments are closed.