Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৯

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৯

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৯
ছায়া

দুপুরের হালকা রোদে ইলা হলে বসে পড়ছে এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো স্ক্রিনে ভেসে উঠলো “আম্মু” ইলা একটু চমকে উঠলো রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মা সাবিহার কণ্ঠ ভেসে এলো,
সাবিহাঃ- ইলা মা কবে কেমন আছিস? একটা সুখবর দেয়ার জন্য ফোন দিলাম।
ইলাঃ- আলহামদুলিল্লাহ আম্মু, কী খবর আম্মু?
সাবিহাঃ- পরির বিয়ের ডেট ঠিক হয়েছে রে ১৫ দিন পরেই পরির বিয়ে তোরা যত তাড়াতাড়ি পারিস চলে আয়।
ইলা অবাক হয়ে চুপ করে রইলো কয়েক সেকেন্ড,
তারপর বললো “এত তাড়াতাড়ি”
সাবিহাঃ- হ্যাঁ মা সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। ছেলে দুই মাসের ছুটি নিয়ে এসেছে তাই দেরি করতে চায় না । তুই পরি আর হালিমা একসাথে চলে আয় যত তারাতাড়ি পারিস। এখন বাড়ি সাজাতে হবে, অতিথি আসবে, আয়োজন করতে হবে অনেক কাজ আছে।
ফোন কেটে যাওয়ার পর ইলা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো। পরি আর হালিমা দু’জনেই ইলার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলো।

পরিঃ- কি রে এমন মুখ করে আছিস কেন?
ইলাঃ- বিয়ের ডেট ঠিক হয়ে গেছে পনেরো দিন পর তুই শশুর বাড়ি। আমাদের আজ বা কালই বাড়ি যেতে হবে।
হালিমাঃ- তাহলে তো সময় খুবই কম আজই ব্যাগ গোছাতে হবে।
ইলারা ব্যাগ গুছিয়ে নিলো সাথে কিছু কেনা কাটা করে নিলো বিয়ে বাড়ির জন্য। দু’দিন পর বিকেলের মিষ্টি হাওয়ায় তিনজন স্টেশনে গেলো। হালিমা অনেক খুশি গ্রাম দেখার জন্য হালিমার গ্রাম অনেক পছন্দের। রাত ৮ টায় ইলারা ট্রেনে উঠলো যেহেতু রাতের জার্নি তাই ট্রেনে কেন কোনো ইঞ্জয় করার মত কোনো মেমোরি নেই তাই তিনজন ঘুমিয়ে গেলো।
ভোর পাঁচটা ট্রেনটা ধীরে ধীরে স্টেশনে ঢুকলো জানালার বাইরে তখনো কুয়াশায় ঢাকা হালকা নীল আকাশ। ইলারা নামলো ট্রেন থেকে কাঁধে ব্যাগ, চোখে ঘুমঘুম ভাব, কিন্তু মনে তীব্র উত্তেজনা। বাড়ি থেকে গাড়ি পাঠানো ছিলো স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালো রঙের একটি ঝকঝকে গাড়ি।ইলা ড্রাইভার কে দেখে সালাম দিলো
ইলাঃ- আসালামু আলাইকুম চাচা।

ড্রাইভার হালকা হেসে উত্তর দিলো (রহিম চাচা)
রহিম চাচাঃ- ওয়ালাইকুম সালাম মামুনিরা। চলেন সবাই আপনার অপেক্ষায় আছে।
তিনজন গাড়িতে উঠে পড়লো প্রায় এক ঘণ্টা পর, সূর্যের প্রথম আলো যখন গাছের পাতায় পড়ছে গাড়িটা ঢুকে পড়লো তালুকদার বাড়ির গেট দিয়ে। গেটটা বিশাল পুরনো কাঠ আর লোহার মিশ্রণে তৈরি তার উপর লেখা “তালুকদার ভিলা” গেটের দুই পাশে রঙিন ফুলের গাছ গাঁদা রজনীগন্ধা আর গোলাপের ঝাড়ে ভরে আছে।গাড়ি ঢোকার সাথে সাথে ফুলের গন্ধ মিশে গেলো সকালের ঠান্ডা বাতাসে।
ইলাদের বাড়িটা তিন বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক চারতলা রাজপ্রাসাদ যেন সাদা রঙের বাড়িটা সকালের আলোয় চকচক করছে যেন বরফে মোড়ানো কোনো প্রাসাদ।

চারপাশে সবুজ লন মাঝখানে ফোয়ারা থেকে পানি ঝরছে টুপটাপ শব্দে আর সেই শব্দ মিশে যাচ্ছে পাখির কিচিরমিচিরের সঙ্গে। ডান পাশে ছোট্ট বাগান তাতে নারকেল গাছ, পেয়ারা গাছ, আমগাছ, আর তার পাশে একচিলতে পাথরের বসার জায়গা যেখানে বিকেলে সবাই চা খায়।
বাড়ির বাম পাশে আছে পুরনো কাঠের দোতলা গেস্ট হাউস সেখানে অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা আর পাশে গাড়ির গ্যারেজ। প্রবেশপথের সামনে সাজানো রঙিন আলোর মালা দরজায় টাঙানো তাজা ফুলের মালা যেন বিয়ের উৎসব শুরু হয়ে গেছে।ইলার মা সাবিহা দরজায় দাঁড়িয়ে মুখে প্রশান্তির হাসি
সাবিহাঃ- এই তো এলো আমার মেয়েরা এসো মা, ক্লান্ত নিশ্চয়ই?
ইলা এগিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরলো পরিও মাথা নিচু করে সালাম করলো।
সাবিহাঃ- যাও ফ্রেশ হয়ে নাও আমি নাস্তা দিচ্ছি তোমাদের।
সবাই ফ্রেশ হয়ে একসাথে সকালের খাবার খেলো। টেবিলে বড় বাবা, মেঝো বাবা, রাশেদ তালুকদার ও ছিলো। হাসি আড্ডায় ভরে গেলো বাড়িটা কিন্তু ইলার মনে কেমন একটা অদ্ভুত নীরবতা কাজ করছে যেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।

নাস্তা শেষ করে তিনজন ঘুমিয়ে পড়লো পরি নিজের রুমে ইলা আর হালিমা ইলার রুমে।
তিনজন ঘুম থেকে উঠলো বিকেল বেলা, উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া শেষ করে ইলা বলল নদীর পাড়ে যাবে। কিন্তু হালিমার মাইগ্রেন এর ব্যথার জন্য নদীতে গেলো না।
ইলাঃ- তাহলে তুই থাক আমি পিচ্চি গুলোর সাথে দেখা করে আসি।
বিকেলের হালকা রোদ আস্তে আস্তে কমে আসছে ইলা আর পরি এক সাথে নদীর ধারে চলে গেলো। আর হালিমা তখন ইলার রুমে বসে মোবাইল স্ক্রল করছে। ভালো লাগছে না তাই শুয়ে পড়লো আবার ৩০ মিনিট পড়েও ঘুম আসছে না তাই ইলাকে ফোন করে বাড়ি আসতে বলল। ফোন কেটে হালিমা তাদের জনের ভিডিও দেখছে। ঠিক তখনই কেউ পেছন থেকে এসে হালিমার চোখ দুটো চেপে ধরলো। হালিমা হাত স্পর্শ করে বুঝার চেষ্টা করলো কে কিন্তু বুঝতে পারলো না।

হালিমাঃ- কে রে আমি চিনতে পারছি না?
ভেসে আসলো একটা ছেলের কন্ঠ
ছেলেঃ- কে আমি গেস কর দেখি।
হালিমা চমকে উঠলো ছেলের ভয়েজ শুনে তারপর বিরক্ত স্বরে বলল,
হালিমাঃ- এই কে আপনি আমার চোখ ছাড়ুন বলছি।
ছেলেটা চোখ ছেড়ে দিয়ে বলল
ছেলেঃ- ওহো এখনই চিনতে পারলি না? তাহলে দেখ আমি কে।
হালিমা পিছনে ঘুরে তাকালো ৫’১১ ইঞ্চির এক ছেলে সুঠাম দেহি। বয়স ২৫ হবে চুল গুলো এলোমেলো ঠোঁটের কোনে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটাকে দেখে হালিমা চিৎকার করে উঠলো
হালিমাঃ- আআআআপনি…… কে আপনি???
ছেলেটা হালিমাকে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে দুই পা পিছিয়ে গেলো, তার পরে কিছুটা তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে দেখে হেসে বলল

ছেলেঃ- কিরে পেত্নী তুই কি প্লাস্টিক সার্জারি করে ফেস চেঞ্জ করছিস নাকি বিয়ে উপলক্ষে।
হালিমা কিছুটা অপমানিত বোধ করলো নিজেকে পেত্নী বলাতে হালিমা তখন হাত কোমড়ে রেখে বললো,
হালিমাঃ- আপনি মেয়েদের রুমে ঢুকলেন কেনো পারমিশন ছাড়া সেটা বলুন আগে?
ছেলেটা এবার একটু লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকালো কিন্তু পরবর্তীতে উত্তর দিলো,
ছেলেঃ- এক্সকিউজ মি এটা আমার কাজিন এর রুম তাই আমার পারমিশন নেয়ার প্রশ্ন আসে না। বাই দ্যা ওয়ে আপনি কে

হালিমাঃ- আমার নাম হালিমা সরকার ইলার আর পরির বেস্ট ফ্রেন্ড।
ছেলেঃ- ও আচ্ছা ঠিক আছে আমি চিনতে পেরেছি। আমি রায়েদ তালুকদার ইলার কাজিন।
হালিমাঃ- কি আপনি তাহলে সেই প্লে- বয় ভাই রায়েদ???
রায়েদঃ- What????
এতক্ষন ধরে হালিমার আর রায়েদের ঝগড়া শুনছিলো ইলা আর পরি রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে এবার আর হাসি কন্ট্রোল করতে না পেরে হেসে ফেললো। হালিমা আর রায়েদ দুইজন পিছনে ফিরে তাকালো।
ইলাঃ- রায়েদ ভাই তুমি কখন এলে আমি তো চিনতেই পারিনি। কি সারপ্রাইজ টাই না দিলে তুমি সবাইকে।
রায়েদ ঘুরে ইলা আর পরির দিকে এগিয়ে এসে মুখে উজ্জ্বল হাসি নিয়ে বলল
রায়েদঃ- পাঁচ বছর পর ফিরলাম চায়না থেকে ভাবলাম সবাইকে সারপ্রাইজ দেই কিন্তু সারপ্রাইজটা উল্টো নিজের ওপরেই পড়লো মনে হয়।

হালিমাঃ- আপনার সারপ্রাইজে আমার হার্ট অ্যাটাক হতে যেতে আর একটু হলে।
রায়েদঃ- বাট আপনি তো ভয় পেয়ে কিউট হয়ে গেছেন অনেক।
ইলাঃ ভাইয়া ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তাই দুষ্টুমি করবে না আজ থেকে তোমার চিনতে বোন।
রায়েদঃ- আমার আর বোন এর দরকার নাই দুইটাই যথেষ্ট এখন একটা বউ দরকার।
পরিঃ- ভাইয়া তুই আর ভালো হইলা না এসেই ফ্লাটিং শুরু করে দিলে।
তিনজনের হাসিতে রুম ভরে উঠলো আর হালিমা ভ্যাবাচেকা খেয়ে দারিয়ে আছে চুপ চাপ। বাইরে সন্ধ্যার আলো নরম হয়ে আসছে উঠোনে বাতি জ্বলছে, কেউ ফুল সাজাচ্ছে, কেউ গানে মেতে উঠছে। ইলা রাশেদ তালুকদার এর কাছে গিয়ে জিগ্যেস করলো

ইলাঃ- আব্বু বিয়ে তো দেরি আছে তাহলে এত তারাতাড়ি এত সব আয়োজন কেনো?
রাশেদঃ- কারণ দুইদিন পরে ছেলে পক্ষরা আসবে তাই এখন থেকে সব ঠিক করা হচ্ছে।
ইলাঃ- ছেলে পক্ষ তাহলে বিয়ের আগেই চলে আসবে?
রাশেদঃ- হ্যাঁ মা, যেহেতু আমাদের বড় মেয়ের বিয়ে তাই আমরা চাই অনেক বড় করে বিয়ের অনুষ্ঠান হক। আমাদের সব আত্মীয় স্বজনরা আসবে সাথে ছেলে পক্ষের ও লোকজন আসবে।
ইলাঃ- আব্বু এত এত লোকজন থাকবে কোথায়??
রাশেদ তালুকদার হেসে ববল

রাশেদঃ- সেটা তোকে টেনশন করতে হবে না। তুই বিয়েতে মজা কর।
পরের দিন সকাল থেকে বাড়িতে আলাদা উল্লাস শুরু হইছে। রায়েদ সকাল থেকেই বাড়ির সবাইকে নিয়ে মহা হৈচৈ শুরু করে দিয়েছে।কখনো রান্নাঘরে ঢুকে সাবিহাকে বিরক্ত করছে।
রায়েদঃ- ছোট আম্মু আজ আমি রান্না করবো আপনারা একটু রেস্ট নেন।
সাবিহাঃ- কি বললি তুই রান্না করবি তাহলে জীবন শেষ।
রায়েদঃ- আরেহ ছোট আম্মু আমি কিন্তু ইউটিউব দেখে চিকেন কারি বানাইতে শিখেছি। চায়নায় তো আমাকে একা একা রান্না করে খেতে হয়।
সাবিহাঃ- তুই যদি রান্না করিস বাড়ির লোক সবাই পালাইয়া যাবে।তুই এখান থেকে যা তো আমার অনেক কাজ আছে আর জ্বালাস না।
সাবিহা রান্না ঘর থেকে বের হয়ে গেলো একটু পরে হালিমা আসলো রান্না ঘরে এসে রায়েদ কে দেখে আবার চলে যাচ্ছিলো। তখন রায়েদ হালিমার দিকে দেখে হাসলো দুষ্টুমি করে হালিমার দিকে তাকিয়ে বলল

রায়েদঃ- আপনি কিন্তু আমার সহকারী হবেন।
হালিমাঃ- আমার সময় নাই আমি এখন ব্যস্ত।
রায়েদঃ- ওহ বুঝেছি আপনি ইলাদের ডান্স টিমের হেড। যান যান আপনাদের লেট হয়ে যাচ্ছে।
হালিমাঃ- আপনি কীভাবে জানলেন?
রায়েদঃ- আপনাদের গোপন প্র্যাকটিসের আওয়াজ কিন্তু আমি কাল রাতে শুনেছি। আমার ঘুমের ১২ টা বাজায় দিছিলেন।
হালিমার চোখ বড় হয়ে গেল এত চুপি চুপি সব কিছু প্লান করার পরের কেউ জানতে পারলো হালিমা মুখে হালকা রাগ নিয়ে বলল

হালিমাঃ- ভাইয়া আপনি কিন্তু কাউকে বলবেন না প্লিজ।
রায়েদঃ- ভাইয়া না ডেকে আব্বা ডাকতে তাহলে ভালো হইতো।
হালিমাঃ- ইস আসছে আমার আব্বু আছে আপনাকে কেনো আব্বা ডাকতে যাবো।
রায়েদঃ- তাহলে আমি আপনার কোন জন্মের ভাই। নাকি আপনার আব্বু আমাকে আপনাদের সম্পত্তির ভাগ দিয়েছে।
হালিমাঃ- আশ্চর্য লোক তো আপনি একটা ভাইয়া ডাকার জন্য কত কিছু বলে ফেললেন। যাক বাদ দিন আপনি এই কথা কাউকে বলবেন না।
রায়েদঃ- অকে তবে শর্ত আছে এক কাপ চা বানিয়ে দিতে হবে।
হালিমাঃ- আপনি কিন্তু একদম ব্ল্যাকমেইলার এর মত আচরণ করছেন।
রায়েদ আর কিছু না বলে ফ্রিজ থেকে একটা আপেল নিয়ে ড্রইংরুমে চলে গেলো। হালিমার তো কোনো উপায় নেই তাই চা বানানো শুরু করলো। হালিমার মাথায় শয়তান ভর করলো তাই চায়ে চিনির বদলে লবণ দিয়ে দিলো। হালিমা চা এনে রায়েদ কে দিলো,

হালিমাঃ- নিন স্পেশালি আপনার জন্য বানিয়েছি।
রায়েদঃ- ওয়াও ধন্যবাদ ধন্যবাদ ধন্যবাদ।
হালিমা মনে মনে( খা না খা চা খাওয়ার স্বাদ মরে যাবে হালিমা সরকার কে দিয়ে চা বানানো) রায়েদ চায়ে চুমুক দে। এত পরিমাণ লবণ দেয় যে রায়েদ চোখ বন্ধ করে ফেলে। সেটা দেখে হালিমা মুখ টিপে হাসে।
হালিমাঃ- রায়েদ ভাইয়া চা ভালো হয়নি??
রায়েদ হাসার চেষ্টা করে বলল
রায়েদঃ- না না অনেক সুন্দর হইছে একটু বেশি গরম তাই রেখে দিলাম। আপনার নাকি কি কাজ আছে যান আপনি কাজে যান।
সেই সময় রায়েদ এর বাবা রফিকুল তালুকদার আসলো এসেই চা দেখে মহা খুশি। রফিকুল তালুকদার সোফাতে বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বলল

রফিকুলঃ- বাহ বাড়ি আসার সাথে সাথে চা পেলাম মনটা খুব চা চা করছিলো।
হালিমা থতমত খেয়ে গেলো, রায়েদ কুটিকুটি হাসছে কিন্তু কিছু বলছে না শুধু হালিমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর হালিমা রেগে আগুন। রফিকুল তালুকদার চায়ে চুমুক দেয়ার পরেই বুঝতে পারলো চায়ে ঘাপলা আছে। রফিকুল তালুকদার একবার রায়েদ এর দিকে তাকায় একবার হালিমার দিকে তাকায়।
রফিকুলঃ- মা আজ কি প্রথম চা বানিয়েছো??
হালিমাঃ- হ্যাঁ… না মানে আংকেল….
হালিমা আর কিছু না বলে দৌড়ে চলে গেলো আর রাদেয় হাসছে। রফিক তালুকদার রায়েদ এর কান ধরে বলল
রফিকুলঃ- শয়তান ছেলে তুই ইচ্ছা করে আমাকে লবণ চা খাওয়ালি।
রায়েদঃ- আব্বু চা টা মজার ছিলো না??

দুপুরের পরে ইলারা পার্লারে গেলো সেখান থেকে ফিরলো রাতে সবাই এক সাথে ডিনার করে যে যার রুমে চলে গেলো ঘুমাতে।সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে প্রায় তখন ইলার রুমে হালকা আলো জ্বলছে হালিমা আর ইলা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইলের স্পিকার থেকে নরম বিটে একটা মিউজিক বাজছে।
ইলাঃ- দেখ এই স্টেপটায় হাত একটু ঘুরে নিতে হবে নইলে ভারসাম্য ঠিক থাকবে না।
হালিমাঃ- হ্যাঁ কিন্তু স্কার্টে পা আটকে যাচ্ছে বার বার।
ইলাঃ- বিয়ে বাড়ির ডান্সে তো স্কার্ট থাকবে না চিন্তা করিস না।
ওরা দুজন নাচের মুভ ঠিক করছে, হাসছে, ভুল করছে, আবার শুরু করছে। ঠিক তখনই দরজার ফাঁক দিয়ে কারো ছায়া দেখা গেল। ইলা তাড়াতাড়ি মোবাইল বন্ধ করলো,
হালিমাঃ- কে ওখানে?

দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলো রায়েদ আর সাথে মহিলা টিম মুখে চওড়া হাসি নিয়ে সবাই রুমে ডুকলো
সাবিহাঃ- আচ্ছা এই জন্য নিচ তালায় কাল রাতে এত শব্দ করছিলো।
রায়েদঃ- ওওও তাইলে গোপন রিহার্সেল চলছে বুঝি?
ইলাঃ- তোমরা সব সারপ্রাইজ নষ্ট করে দিলা। যাও এখান থেকে সবাই
রায়েদঃ- না না আমি কোরিওগ্রাফার হবো আমারও ডান্স জানা আছে।
রায়েদ একটা হাস্যকর মুভ করে দেখালো হালিমা হেসে লুটোপুটি
হালিমাঃ- এইটা ডান্স না ভাইয়া এটা ভূতের এক্সারসাইজ।
রায়েদঃ- অকে দেখা যাবে বিয়ের দিন আমি এমন নাচবো যে সবাই হাই ভাইবে চলে যাবে।
ওরা তিনজন এমন হেসে উঠলো যে নিচের রুমে থেকে রাশেদ তালুকদার হাসির শুনে উপরে এসে বললেন
রাশেদঃ- কি হচ্ছে এখানে রাতদুপুরে সার্কাস নাকি?
ইলাঃ- না আম্মু আমরা…একটু গান শুনছিলাম।
রাশেদঃ- গান তাহলে হাসছো কেনো এত?

রায়েদঃ- চাচ্চু গানের লিরিক এত ফানি ছিলো না যে হাসি থামানো যায়?
রাশেদ মাথা নাড়িয়ে চলে গেলেন কিন্তু মুখে লুকানো হাসি।পরদিন সকাল বাড়ির উঠোনে বড় তাঁবু তোলা হচ্ছে। সবাই ব্যস্ত বিয়ের প্রস্তুতিতে। রাশেদ তালুকদার চেয়ারে বসে অতিথির তালিকা লিখছেন। রায়েদ এসে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে দুষ্টুমি করে বললো
রায়েদঃ- চাচ্চু আমার নামটাও লিখে দেও।
রাশেদঃ- কেন?

রায়েদঃ- অতিথির তালিকায় আমার নাম থাকা দরকার কারণ আমি এখন ভিআইপি। অনেক দূর থেকে আসছি আমি সেই ১৮০০ কিলোমিটার দূর থেকে।
রাশেদঃ- তুই তো নিজের বাড়িতে আসছিস এখানে তুই অতিথি হইলি কিভাবে?
রায়েদঃ- তবুও ভিআইপি লিস্টে নাম থাকলে গার্লস দৃষ্টি আকর্ষণ বাড়ে।
রাশেদ রায়েদ এর এমন কথা শুনে জোরে হেসে উঠলো রায়েদ রাশেদ তালুকদার এর হাসি দেখে মাথা চুলকাতে শুরু করলো
রাশেদঃ- তোর ফ্লার্টিং কখনও কমবে না রায়েদ।
Time Skip……

বিকেলের দিকে সবাই বসে আছে কেউ প্যান্ডেল সাজাচ্ছে, কেউ গান গাইছে,কেউ ফুলের মালা গাঁথছে। পরি হালকা হলুদ জামা পরে বসে হাসছে মুখে লজ্জা আর চোখে মিষ্টি উচ্ছ্বাস।
ইলা পরিকে দেখে বললো
ইলাঃ- তুই জানিস তোর হাসিটা এখন থেকেই কনে স্পেশাল গ্লো নিয়ে ফেলছে।
পরিঃ- আরে চুপ কর কেউ শুনে ফেলবে।
হালিমাঃ- শুনলে শুনুক এমন কনে পেয়ে বরও তো গর্ব করবে।
এমন সময় রায়েদ গিটার হাতে এসে বললো
রায়েদঃ- এই যে বিয়ের আগে একটা মিউজিক নাইট হবে নাকি আমি গাইবো “তুমি রবে নিরবে” সবাই তালি দিলো।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৮

রায়েদ গাইতে শুরু করলো তার গভীর কণ্ঠে সবার যেন মায়া ছড়িয়ে গেলো। গান শেষ হতেই রাশেদ তালুকদার মৃদু হাসিতে বললেন
রাশেদঃ- এই বাড়িতে অনেক বছর পর এমন প্রাণ ফিরে এসেছে রায়েদ বাড়ি ফিরাতে।
সাবিহা ইলা, পরি, হালিমা, রায়েদ সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসলো। আর বিয়ের আগের রাতগুলো তালুকদার ভিলায় এখন শুধু আনন্দ হাসি আর ভালোবাসায় ভরে উঠছে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২০