Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪২
ছায়া

ঘরের আলোটা ম্লান বাইরে শীতের বাতাসে জানালার পর্দা নড়ছে।ইলা বিছানার এক পাশে বসে আছে, আরিয়ান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।সে কিছু না বলে একটা বালিস নিয়ে সোফার দিকে এগিয়ে গেল ইলা চোখ কুঁচকে তাকাল।
ইলাঃ- আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
আরিয়ান স্বাভাবিক গলায় বললঃ-সোফায়।
ইলাঃ- কেনো?
আরিয়ান থামল তারপর শান্ত গলায় বললঃ- ওখানেই ভালো ঘুম হবে আমার আমি বাসায় বেশির ভাগ সময় সোফাতেই ঘুমাই।
ইলা আর কিছু বলল না শুধু তাকিয়ে থাকল।আরিয়ান অন্য দিকে তাকিয়ে আছে কারণ আরিয়ান জানে এই চোখের দিকে তাকানো মানেই প্রশ্ন কিন্তু সে কি উত্তর দিবে আর কী বলবে?

এটা বলবে এক কম্ফর্টার এ ঘুমাতে প্রবলেম।আর সবচেয়ে বড় কথা নিজের উপর নিজের বিশ্বাস নেই?যদি কন্ট্রোল হারিয়ে কিছু হয়ে যায়। এমনি এই মেয়েকে দেখলে বেসামাল হয়ে যাই আর এখন তো ভালোবেসে ফেলেছি। আর এই শরীরে পুস আপ ও মারতে পারবো না তার থেকে ভালো নয় কি আলাদা ঘুমানো।
আরিয়ান মনে মনে এই সব চিন্তা করতে করতে ইলা হঠাৎ বলে উঠল,
ইলাঃ- আচ্ছা চলুন ট্রুথ অর ডেয়ার খেলি।
আরিয়ান ঘুরে তাকাল চোখে বিরক্তি এই মেয়ে পাগল নাকি ঘুমানো বাদ দিয়ে খেলতে চায়
আরিয়ানঃ- এই রাতে আবার কিসের গেম?
ইলাঃ- আমি যেটা বলেছি, সেটা করুন
ইলা খুব সিরিয়াস মুখে বলল কথাটা আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
আরিয়ানঃ- আচ্ছা… ট্রুথ।
ইলাঃ- তাহলে বলুন আমার সাথে বেডে ঘুমাতে আপনার সমস্যা কী?
দুই সেকেন্ড চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকলো আরিয়ান।হঠাৎ করে মাইনকার চিপায় পা দিয়েছে ফেলেছে মনে হচ্ছে চোখ বড় করে ইলার দিকে তাকিয়ে আছে

আরিয়ানঃ- এইটা আবার কী প্রশ্ন?
ইলাঃ- ট্রুথ তো নিয়েছেন এখন উত্তর দিন।
ইলা কাঁধ বাকা করে আছে আরিয়ান মুখ খুলল আবার বন্ধ করল। কি বলবে বুঝতে পারছে না আবার গলা খাঁকারি দিল।
আরিয়ানঃ- মানে… আসলে…
ইলা চোখ সরু করে তাকিয়ে আছে আরিয়ান ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে যেতে বলল,
আরিয়ানঃ- আমি অপশন চেঞ্জ করবো
ইলাঃ- কি?
ইলা ভ্রু কুঁচকাল আরিয়ানের দিকে আরিয়ান মাথা চুলকে বলল
আরিয়ানঃ- আমি ডেয়ার নিবো।
ইলার চোখ চকচক করে উঠল দুষ্টু হাসি দিয়ে এক হেটে হেঁটে বিছানার দিকে গেলো।
ইলাঃ- ওকে তাহলে ডেয়ারটা শোনেন।
ইলা বিছানার মাঝখানে হাত চাপড়াল আরিয়ান কে বলল
ইলাঃ- এখানে এসে ঘুমান।

আরিয়ানঃ- এইটা ডেয়ার না ফাঁদ ভাই এটা কোন ধরনের ডেয়ার।
ইলাঃ- ট্রুথ অর ডেয়ার খেলায় ফাঁদ থাকেই।
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- আপনি জানেন না আপনি কী নিয়ে খেলছেন ইলাফুল।
ইলাঃ- আমি জানি সব কিছুই আর বুঝিও বাট এই অসুস্থ শরীর নিয়ে আপনাকে আমি সোফাতে ঘুমাতে দিবো না। দরকার হলে আমি সোফাতে ঘুমাবো।
আরিয়ান আর কিছু বলল না। ধীরে ধীরে এসে বেডে বসল। কম্ফর্টারটা টেনে নিজের দিকে নিল না, উল্টো একটু ইলার দিকে এগিয়ে দিল।
আরিয়ানঃ- আমি বেডে ঘুমাবো শুধু একটা শর্ত আপনাকেও আমার সাথে বেডে ঘুমাতে হবে। আপনি এ বাড়ির নতুন বউ আর আপনাকে আমি বেডে ঘুমাতে দিতে পারি না।
ইলা মাথা নেড়ে বললঃ- অকে ডিল।
দু’জন শুয়ে পড়ল এক কম্ফর্টার এ দু’জন মানুষ। আর মাঝখানে একগাদা কথা যেগুলো এখনো বলা হয়নি। ইলা হালকা হেসে বলল,

ইলাঃ- ভয় পেয়েছিলেন? আমি রাতে আবার মারামারি করি নাকি?
আরিয়ান চোখ বন্ধ রেখেই মনে মনে বলল না… আসলে নিজের উপর ভরসা নেই পাশে সুন্দর বউ শুয়ে আছে কখন আবার এক্সিডেন হয়ে যায়।
ইলা কিছু বলল না শুধু কম্ফর্টারের ভেতর নিজেকে একটু গুটিয়ে নিল।
বিছানায় দু’জন পাশাপাশি শুয়ে আছে।মাঝখানে ইচ্ছা করে রাখা সামান্য ফাঁকা জায়গা।আরিয়ান একেবারে শক্ত হয়ে শুয়ে আছে। এমন ভঙ্গি যেন বিছানাটা মাইনফিল্ড একটু নড়লেই বিস্ফোরণ হবে।ইলা আরিয়ানের এমন অবস্থা দেখে পাশ ফিরে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল,
ইলাঃ- আপনি এত সোজা হয়ে শুয়ে আছেন কেন? মনে হচ্ছে পিটি প্যারেডে এ আছেন।
আরিয়ানঃ- নড়াচড়া করলে সমস্যা হবে।
ইলাঃ- কিসের সমস্যা?
আরিয়ানঃ- আপনার….
ইলাঃ- আমি তো কোনো সমস্যা দেখছি না।
ঠিক তখনই ছোট একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়।ইলা পাশ ফিরতে গিয়ে হঠাৎ পায়ের আঙুলটা এসে আরিয়ানের পায়ের সঙ্গে লেগে গেল।দু’জনেই একসাথে চমকে উঠল। আরিয়ান তৎক্ষণাৎ এক ইঞ্চিও না নড়ে বলল,

আরিয়ানঃ- সরি।
ইলাঃ- পা লাগল আমার, আপনি সরি বলছেন কেন?
আরিয়ানঃ- ভদ্রতার খাতিরে না সীমারেখার খাতিরে সরি বলেছি
ইলাঃ- আপনি কি বেডে শুয়েও নিয়ম-কানুন মানেন?
আরিয়ানঃ- সেটা আপনি বুঝবেন না এখন নিয়ম কানুন না মানলে কোনো একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।
ইলা আর কিছু বলল উল্টো পাশ ফিরল।কিন্তু কম্ফর্টারটা তার দিকে বেশি টানতে গিয়ে হালকা টান পড়ল আরিয়ানের দিকেও। দুজনের কম্ফর্টার টানাটানি শুরু হয়ে গেল।ইলা অভিযোগ করল।
ইলাঃ- আপনি পুরোটা নিয়ে নিচ্ছেন আমি নাড়াচড়া করতে পারছি না ঠিক মত।
আরিয়ান শান্ত স্বরে বললঃ- কম্ফর্টারও শেষে বিশ্বাসঘাতকতা করলো এতদিন মনে হত এই কম্ফর্টার কত বড় একা একা কম্ফর্টার এর নিচে হারিয়ে যাই। আর যেই আজ বউ দেখলো নিজের আসল রুপ দেখায় দিলো ছোট হয়ে গেলো।

ইলা হেসে বললঃ- তাহলে মাঝখানে একটা দেয়াল বানাই, তাহলে আর অভিযোগ থাকবে না।
আরিয়ানঃ- ভালো আইডিয়া বালিশ দিয়ে ইন্ডিয়ান বাংলাদেশ এর বর্ডার বানিয়ে দেই।
ইলা একটা কোল বালিশ দু’জনের মাঝে রাখল। ইলা বালিশটার দিকে তাকিয়ে বলল,
ইলাঃ- এটা ইন্ডিয়ার না চীন এর প্রাচীর?
আরিয়ানঃ- না এটা আমার কন্ট্রোল সিস্টেম এর প্রাচীর।
ঠিক তখনই আরেকটা ছোট এক্সিডেন ঘোটে যায় একটা তেলাপোকা উরে গিয়ে ইলার গালে পড়ে ইলা বুঝতে না পেরে গালে হাত দিয়ে কি সেটা দেখার জন্য হাতে নেয় আর হাতে নিয়ে দেখে একটা তেলাপোকা।ইলা চিল্লানি দিয়ে আরিয়ান কে গিয়ে জরিয়ে ধরে হঠাৎ এই এক্সিডেন্ট এ এক সেকেন্ড নীরবতা তারপর
আরিয়ানঃ- আপনি আমার কন্ট্রোল সিস্টেম ধ্বংস করে দিলেন।
আরিয়ান গম্ভীর গলায় বলল ইলা আরিয়ান কে জরিয়ে ধরেই আছে। ইলা চোখ খুলে দেখে ইলা আরিয়ানের অনেক কাছে তাই উঠে সরে আসছিলো ঠিক হয়ে বসতেই ইলা আবার তেলাপোকাটা দেখতে পায় আবার চিতকার করে উঠে। আরিয়ান এবার তেলাপোকা টা তুলে ফেলে দিয়ে আসে।
আরিয়ানঃ- আর কোনো ভয় নেই এবার ঘুমিয়ে পড়ুন।
কিন্তু ইলা প্রচুর তেলাপোকা ভয়পায় তার ধারণা যেহেতু একটা বের হয়েছে তার মানে আরো বের হতে পারে তাই ইলা আরিয়ান কে বলে

ইলাঃ- প্রকৃতি নিজেই চায় আমরা কাছাকাছি থাকি। এই সব বর্ডারে দরকার নেই।
আরিয়ানঃ- প্রকৃতির সাথে আমার ঝামেলা নেই তবে নিজের সাথে আছে। আমি নিজেকে বিশ্বাস করি না
ইলাঃ- সত্যি বলতে আমি তেলাপোকা অনেক ভয় পাই।আর আমি নিরাপদ বোধ করছি আপনার কাছে তাই…
এই কথাটা আরিয়ানের সব রসিকতা থামিয়ে দিল।আরিয়ান খুব ধীরে বলল,
আরিয়ানঃ- তাই থাকুক তবে বাট শরীর এর সাথে শরীর যেনো টার্চ না হয়।
আরিয়ান একটু সরে গিয়ে আবার ফাঁকা জায়গাটা তৈরি করল।হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করা একদম সীমার মধ্যে।ইলা অল্প দূরত্ব রেখে শুয়ে পড়লো কিছুক্ষণ পর ইলা ঘুমিয়ে পড়লো কিছু সময় পরে ইলার মাথাটা ঘুমের ঘোরে হালকা করে আরিয়ানের বাহুতে ঠেকে গেল।আরিয়ান নড়ল না শুধু খুব নিচু স্বরে বলল,
আরিয়ানঃ- মাথাটা ঠিক করে নিন

ইলা আধঘুমে বললঃ- আপনি তো বলেছিলেন নড়াচড়া করবেন না।
আরিয়ান হালকা হাসল বললঃ- তাই তো বলছি আপনি নড়ুন।
ইলা মাথা সরিয়ে নিল ইলা ঘুমিয়ে গেছে দু’জনেই আবার চুপ।এক কম্ফর্টার একটা শীতের রাত। ইলা ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু আরিয়ানের চোখে ঘুম নেই। আরিয়ান উঠে ব্যাল্কনিতে গেলো রাফায়েল আর সামির কে ফোন করলো গ্রুপ করল।
৩০ মিনিট কথা বলে ফোন কেটে ঘুমাতে চলে আসলো। এসে দেখে ইলা ঘুমাচ্ছে কি সুন্দর করে। আরিয়ান পাশে বসে ইলা কে দেখছে অপলক ভাবে আর বিরবির করে
গান বলছে:

*যত দেখি তোমাকে
মন শিহরে ওঠে
চন্দরা ছন্দ হারায়
তুমি ছুঁয়ে দেখো আমায়
তুমি ছুঁয়ে দেখো আমায়
ছুঁয়ে দেখো আমায়
আমাকে জড়িয়ে বুকে রেখে দাও
ইলার চুল মুখে এসে পরছে বার বার তাই ইলা নরছে এটা দেখে আরিয়ন চুল গুলো ঠিক করে দিলো। আরিয়ান এর স্পর্শে ইলা আধো ঘুমে চোখ খুলে
ইলাঃ- সে কি আপনি এখনো ঘুমান নি?
আরিয়ানঃ- আমার ফ্রেন্ড ফোন করেছিলো তাই কথা বলছিলাম আপনি ঘুমান।
আরিয়ান এসে নিজের জায়গায় ঘুমিয়ে পড়ে।

time skip…..
ভোরের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকতেই ইলার ঘুম ভাঙল। রাতের শীত আর সফরের ক্লান্তি মিলিয়ে ঘুমটা গভীরই হয়েছিল।পাশে তাকিয়ে দেখে আরিয়ান এখনো ঘুমাচ্ছে। শান্ত মুখ কপালে হালকা ভাঁজ যেন ঘুমের মাঝেও দায়িত্বে আছে।
ইলা নিঃশব্দে উঠে বসল।চুল গুছিয়ে পা টিপে টিপে ওয়াশরুমে ঢুকল।ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত নিজেকে দেখল। এই বাড়ি এই মানুষগুলো সবকিছু নতুন, তবু অচেনা লাগছে না।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই রান্নাঘর থেকে ভেসে এলো বাসনপাতির শব্দ আর হালকা রান্নার গন্ধ। কিচেনের দিকে যেতেই নাফিযা তাকে দেখে অবাক হয়ে বললেন
নাফিযাঃ- বউমা তুমি এখানে কেন? তোমার তো কোনো কাজ নেই এখানে যাও রেস্ট নাও।
ইলা একটু নার্ভাস হাসি দিয়ে বললঃ- আম্মু আমি আপনাকে হেল্প করি চুপচাপ বসে থাকতে ভালো লাগছে না।
নাফিযা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়লেন,

নাফিযাঃ- না না তোমাকে কিছু করতে হবে না। রহিমা ভাবি সব রান্না করে নিয়েছে।
ইলাঃ- তাহলে… আমি পায়েস বানাই? প্লিজ আম্মু না করবেন না।
নাফিযাঃ- তুমি পায়েস বানাতে পারো
ইলাঃ- হ্যাঁ আম্মু মোটামুটি কিছু রান্না পারি।
নাফিযা আর কিছু না বলে চুলার পাশে সরে দাঁড়ালেন। চাল, দুধ, চিনি, এলাচ সবকিছু গুছিয়ে দিলেন। ইলা হাত ধুয়ে মনোযোগ দিয়ে রান্না শুরু করল। দুধে চাল বসানো, ধীরে ধীরে নাড়ানো তার মুখে অদ্ভুত এক শান্তি।কিছুক্ষণ পর পুরো কিচেন জুড়ে পায়েসের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
ডাইনিংয়ে সবাই বসতেই পায়েস পরিবেশন করা হলো নাস্তার সাথে নোহা প্রথম চামচ মুখে দিয়েই চোখ বড় করে বলল,

নোহাঃ- ওয়াও ভাবী এটা তুমি বানাইছো?
নেহা সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,
নেহাঃ- এটা তো অসাধারণ হয়েছে বুঝাই যাচ্ছে না এটা তুমি রান্না করেছো।
রহিমা ভাবি হাসতে হাসতে বলল
রহিমাঃ- বউমা এর পর মেহমান এলে আমরা কেউ পায়েস রান্না করবো না এবার থেকে তুমি রান্না করবা।
মেহেরাব খান ধীরে চামচ নামিয়ে বলল
মেহেরাবঃ- খুব সুন্দর হয়েছে এট শুধু রান্না না এটাতে ভালোবাসা এড করা হয়েছে আর মন দিয়েও বানানো হয়েছে অনেক যত্নে তাই এত টেস্টি হয়েছে।
নাফিযার চোখে তখন আলাদা এক গর্ব
নাফিযাঃ- আমি তো ভাবছিলাম আমার ছেলের বউ কোনো রান্নাই পারবে না কিন্তু আমার সেই ভুল ভাঙালে বউমা।
ইলাঃ- আপনাদের ভালো লেগেছে এটাই আমার জন্য অনেক।
ঠিক তখন উপরতলা থেকে হুড়োহুড়ি শব্দ।আরিয়ান ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই দেখে ইলা নেই। উঠে বাথরুমে ঢুকে ডাকল “ইলাফুল” কোনো সাড়া নেই।হঠাৎ বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।করিডোরে বেরিয়ে আবার ডাকল “ইলাফুল” কোনো উত্তর নেই। আরিয়ান ভয় পেয়ে গলা একটু চড়া গলায় ডাকতে ডাকতে রুম থেকে বেরি “ইলাফুল” ইলা…কিন্তু ইলার কোনো শব্দ নেই।

আরিয়ান সিঁড়ি দিয়ে প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে নিচে নামল। ড্রয়িংরুমে ঢুকেই দৃশ্যটা দেখে থেমে গেল।ইলা নিচতলায় বসে আছে সবার মাঝে হাসছে গল্প করছে। আরিয়ান এক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল তারপর দীর্ঘ একটা স্বস্তির নিশ্বাস। আরিয়ানকে এভাবে দেখে নাফিযা তাকিয়ে বললেন,
নাফিযাঃ- কি বেপার ফ্রেশ না হয়ে এভাবে পাগলের মত নিচে আসলি যে।
আরিয়ান ইলার দিকে তাকি অভিমানের সুরে উত্তর দিলো
আরিয়ানঃ- না আম্মু তেমন কিছু না
নাফিযাঃ- ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আয় বাবা। নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাবে।
নোহা হাসতে হাসতে বলল
নোহাঃ- ভাইয়া এমন ভয় পেলে কেন? ভাবী কোথাও পালাবে নাকি?
আরিয়ান গম্ভীর মুখে বলল,
আরিয়ানঃ- এই বাড়ি থেকে পালানোর রাস্তা নেই।আর তুই দিন দিন একটু বেশি গবেষণা করছিস না আমাকে নিয়ে থাপ্পড় খাইছিস

ইলা আরিয়ান আর নোহার কথা শুনে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ফেলল।আরিয়ানের চোখে তখন অন্যরকম শান্তি।এই বাড়ি, এই সকাল, এই মানুষগুলো আর ইলা যে এখন তারি আছে।
অযথা লিয়ান কে নিয়ে ভয় পাচ্ছে সবকিছু ঠিক জায়গায় আছে।আরিয়ান আর দেরি না করে উপরে চলে গেলো একটু পরে আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল।
ভেজা চুল আলতো করে পিছনে সেট করা গায়ে হালকা রঙের কটন শার্ট উপরের দু’টা বোতাম খোলা। হালকা পারফিউম আর গলার কাছে হালকা দাগগুলো এখনো স্পষ্ট, কিন্তু তাতেই যেন তার দৃঢ়তা আরও গভীর হয়েছে। শক্ত কাঁধ, সোজা ভঙ্গি শরীর এখনো পুরোপুরি সুস্থ না, তবু হাঁটার ভেতর সেই চেনা কমান্ডিং ভাব। চোখে ঘুমজড়ানো ক্লান্তি, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সতর্কতা একটুও কমেনি। ইলা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো এতক্ষন আরিয়ানের দিকে।
আরিয়ান ইলার পাশে না তাকিয়ে ডাইনিংয়ে এসে বসলো।নাফিযা নাস্তার সাথে সামনে রাখা পায়েসের বাটি এগিয়ে দিলেন

নাফিযাঃ- এটা খেয়ে দেখ।
আরিয়ান বাটির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
আরিয়ানঃ- আম্মু তুমি তো জানো আমি মিষ্টি জিনিস পছন্দ করি না।
নাফিযাঃ- একটু তো খেয়ে দেখ।
আরিয়ান গম্ভীর হয়ে আবার বলল,
আরিয়ানঃ- আমি খাবো না বলছি না কেন এত জোর করছো?
এই কথাটা শোনার মুহূর্তে ইলার বুকটা হালকা করে মোচড় দিল কিন্তু সে কিছু বলল না।কিন্তু মন খারাপ হলো কারো চোখে না পড়ার মতো করে সোফা থেকে উঠে ধীরে ধীরে উপরের দিকে চলে গেল।নাফিযা সেটা বুঝতে পেরেই আরিয়ানের দিকে তাকালেন
নাফিযাঃ- এক চামচ খেয়ে দেখ বাবা ইলা বানিয়েছে বলেই জোর করছি।
ইলার নামটা কানে যেতেই আরিয়ান থমকে গেল।আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ এক চামচ পায়েস তুলে মুখে দিল।এক সেকেন্ড পর আরিয়ানের চোখের দৃষ্টি বদলে গেল। ভ্রু সোজা হলো।গলার ভেতরটা হালকা করে ঢোক করে গিলে ফেলল। দুধের মোলায়েম স্বাদ এলাচের হালকা স্মেল অদ্ভুতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ নাফিযা হালকা হাসি দিয়ে বললেন,

নাফিযাঃ- বলেছিলাম না এখন বুঝলি তো।
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না শুধু চুপচাপ পুরো বাটিটা শেষ করে ফেলল।তারপর ধীরে বাটিটা সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- আম্মু… আরেকটু দিবে?
নাফিযা আরিয়ানের এই কান্ডো দেখে অবাক হয়ে কোমড়ে হাত দেয় নাফিযা অবাক যে ছেলে মিষ্টি জিনিস ছোয়েও দেখেনা যে পূরো বাটি শেষ করে আবার চাচ্ছে
নাফিযাঃ- ইতর ছেলে এখনি বউ পাগল হয়ে গেলি।

আরিয়ানঃ- Main joru ka ghulam
Are ban ke rahoonga
Main to joru ka ghulam
Joru joru ka ghulam
Ban ke rahoonga
আরিয়ানের মা হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। আরিয়ানের এই ফুরফুরা মেজাজ মেহেরাব খান অনেক দিন পরে দেখলো।এতক্ষণ সোফায় বসে এই সব কিছু দেখতে থাকা মেহেরাব খান এবার উঠে দাঁড়ালেন।ধীরে ধীরে আরিয়ানের পাশে এসে আরিয়ানের কাধে হাত রেখে গম্ভীর কিন্তু শান্ত গলায় বললেন,
মেহেরাবঃ- সেদিন তোদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ঠিকই নিয়েছিলাম।
আরিয়ান চোখ তুলে তাকাল তার বাবার দিকে কিন্তু কিছু বলল না।শুধু এক মুহূর্তের জন্য তার চোখের কোণে নরম একটা অনুভূতি ঝিলমিল করে উঠল।

উপরতলায় দাঁড়িয়ে থাকা ইলা দূর থেকে এই দৃশ্যটা দেখছিল। তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল। শীতের সকালটা হঠাৎ অনেকটা উষ্ণ হয়ে গেল।খাওয়া শেষ করে আরিয়ান ধীরে ধীরে উপরে উঠল।
সিঁড়ি ভাঙার সময় তার পা দু’টো এখনো একটু ভারী লাগছে, কিন্তু মনটা হালকা।দোতলার করিডোর পেরিয়ে ঘরের দরজা ঠেলে ঢুকতেই চোখে পড়ল ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা ইলার দিকে।
ব্যালকনির রেলিং ধরে বাইরে তাকিয়ে আছে।সকালের হালকা রোদ, কুয়াশা ভাঙা বাতাসে তার ওড়নাটা আলতো করে দুলছে। চুলগুলো খোলা কিছুটা সামনে ঝুলে পড়েছে। দূর থেকে দেখলেও বোঝা যায় কিছু ভাবছে।আরিয়ান আর এগোল না রুমের ভেতরেই দাঁড়িয়ে রইল। তাদের মাঝে একটা সচেতন দূরত্ব গলার স্বরটা নরম রাখল।
আরিয়ানঃ- আপনি রান্না জানেন?
ইলা একটু চমকে উঠল পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে আরিয়ান দারিয়ে আছে ইলা বলল,
ইলাঃ- হ্যাঁ… কিছুটা জানি।

আরিয়ান হালকা ভ্রু তুলে ঠোঁটের কোণে অদৃশ্য হাসি এনে বলল,
আরিয়ানঃ- তাহলে তো আমাকে একটা রেস্টুরেন্ট দেওয়া উচিত।
ইলা প্রথমে তাকিয়ে রইল তারপর নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল।
ইলাঃ- আপনি তাহলে কাস্টমার হবেন নাকি ম্যানেজার?
আরিয়ানঃ- আমি শুধু টেস্ট টিমে থাকবো প্রতিদিন টেস্ট করবো আপনার রান্না কেমন হয়েছে।
ইলাঃ- এত খেলে অল্প দিনে বুড়ো হয়ে যাবেন আবার ডাক্তারের কাছে অভিযোগ যাবে তখন।
আরিয়ান এক পা সামনে এগোল কিন্তু দূরত্বটা ভাঙল না।
আরিয়ানঃ- আপনার রান্না হলে সেই রিস্ক নেওয়া যায়। তবে আপনি কি জানেন আমার বয়স কত?
ইলাঃ- কত আর হবে ২৩-২৪
আরিয়ান ইলার কথা শুনে হেসে ফেলে এক মুহূর্তের নীরবতা। বাতাসে হালকা শীত নিচে কোথাও পাখির ডাক।
আরিয়ানঃ- আমার ২৯ বছর বয়স চলছে এই অক্টোবর এর ৬ তারিখে আমার জন্ম দিন ছিলো।
ইলাঃ- কিন্তু আপনাকে দেখে তো বুঝা যায় না
আরিয়ানঃ- যারা আর্মিতে জব করে তাদের বডি ফিটনেস একটু আলাদা হয় তাই বয়স বুঝা যায় না।
ইলা একটু লজ্জা পায় ভুল উত্তর হওয়ার কারণে। এভাবে দু’জন দু’দিকে তাকিয়ে থেকেও একই অনুভূতিতে আটকে আছে আরিয়ান শান্ত গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- পায়েসটা… ভালো ছিল।
ইলাঃ- জানি।
এই “জানি”টার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অভিমানও আবার স্বস্তিও।আরিয়ান আর কিছু বলল না। শুধু ব্যালকনির রেলিংয়ে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রইল। নীরব সম্মানটা ঠিক জায়গাতেই থাকল।

time skip……
বিকেলের রোদটা তখন নরম হয়ে এসেছে আকাশে হালকা সোনালি রঙ বাতাসে শীতের গন্ধ। নভেম্বরের শেষ আর ডিসেম্বরের শুরু এই সময়টায় গ্রামের বিকেলগুলো অন্যরকম হয়।আরিয়ান দাঁড়িয়ে ছিল বাগানে হালকা রঙের শার্ট, ফুলহাতা সোয়েটার আর ডার্ক জিন্সে তাকে আজ অন্যরকম লাগছে।অসুস্থতার ছাপ এখনো পুরো কাটেনি কিন্তু চোখে সেই চেনা দৃঢ়তা। হাতের ঘড়িটা ঠিক করে পরেই ইলার দিকে তাকাল।
আরিয়ানঃ- চলুন আজ আমাদের গ্রামটা দেখাই।
ইলা হালকা শালটা গায়ে জড়িয়ে নিল মাথা নেড়ে বলল,
ইলাঃ- চলুন।
নোহা আর নেহা দু’জনই লাফিয়ে এগিয়ে এলো।
নেহাঃ- ভাবী আমরা তোমার গাইড হবো ভুল পথে নিয়ে যাবো না ভাইয়া তো রাস্তা চিনে না।
নোহাঃ- হ্যাঁ তবে ক্যাপ্টেন এর সাথে গেলে একটুও মজা পাবে না।
আরিয়ানঃ- তোরা কিন্তু বেশি কথা বলিস।
তবুও ঠোঁটের কোণে হাসি লুকোতে পারল না ইলা এদের ভাই বোনদের কথা শুনে।চারজন একসাথে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে লাগল। দু’পাশে ধানের ক্ষেত কিছু জায়গায় ধান কাটা শেষ খড়গুলো সারি করে রাখা,আর কিছু জমিতে এখনো সোনালি ধান দুলছে বাতাসে। দূরে কয়েকজন কৃষক কাস্তে হাতে ধান কাটছে।কারো কাঁধে ধানের আঁটি, কেউ আবার খড় বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে ইলা থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল।

ইলাঃ- কি সুন্দর…
আরিয়ান পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এই সময়টাই গ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সময় ফসল ঘরে ওঠে, মানুষের মুখে হাসি থাকে আর আমার এই সময়টা অনেক ভালো লাগে।
নেহা দৌড়ে গিয়ে একটা খড়ের আঁটি থেকে একটা শুকনো ধান শীষ তুলে আনল।হাটু গেরে বসে রোমান্টিক স্টাইলে বসে প্রপোজ করলো
নেহাঃ- ভাবী এইটা নিলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবো।
ইলা হেসে সেটা হাতে নিল ঠিক তখনই বাতাসে ওড়নাটা পিছলে গেল।আরিয়ান অজান্তেই হাত বাড়িয়ে ওড়নাটা ধরে ফেলল।আরিয়ানের আঙুলে ইলার ওড়নার, আর ইলার হাতে ধানের শীষ।দুজনেই চুপ করে রইল আরিয়ান ধীরে ওড়না ছাড়ল।
আরিয়ানঃ- ঠান্ডা লাগবে কাপড় ঠিক করে নিন।
ইলাঃ- ধন্যবাদ।
নোহা কানে কানে নেহাকে বলল,

নোহাঃ- দেখলি ভাইয়া কন্ট্রোলের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন কিভাবে ভাবির ওড়ণাট কেচ করলো।
নেহা খুকখুক করে হাসল হাটতে হাটতে একটু এগোতেই দেখা গেল গ্রামের পুকুর।পানিতে আকাশের রঙ পড়ে গেছে। ধারে কয়েকজন ছেলে জাল ফেলছে, কেউ কেউ হাঁটু পানিতে নেমে মাছ ধরছে। দূরে তাল আর খেজুর গাছের সারি, মাঝখানে সূর্যটা ধীরে ধীরে নামছে ইলা পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে বলল,
ইলাঃ- পুকুর পাড়ে দাঁড়ালে মনটা কেমন শান্ত হয়ে যায়।
সন্ধা নেমে আসছে পাখিরা দল বেঁধে ফিরছে নিজের বাসায়। শীতের বাতাসে ইলার নাকটা লাল হয়ে এসেছে।আরিয়ান নিজের সোয়েটারের পকেট থেকে হাত বের করে বলল,
আরিয়ানঃ- হাত ঠান্ডা?

ইলা একটু ইতস্তত করে মাথা নেড়েছিল।আরিয়ান কিছু না বলে নিজের হাতটা সামনে বাড়িয়ে ধরল স্পর্শ নয়, শুধু অফার।ইলা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ধীরে নিজের আঙুলগুলো আরিয়ানের হাতে রাখল। হালকা ভাবে নোহা আর নেহা দুজনই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল।
নেহাঃ- আমরা একটু সামনে যাই?
আরিয়ান কিছু বলার আগেই ওরা দৌড়ে এগিয়ে গেল।
অন্ধকার নেমে এসেছে হালকা আলোতে দু’জন পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।পাকা ধানের গন্ধ, শীতের হাওয়া, আর দুইটা ধীর হৃদস্পন্দন সব মিলিয়ে গ্রামের রাস্তাটা যেন হঠাৎ করেই অন্যরকম হয়ে উঠল।আরিয়ান নরম গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- এই গ্রামটা এখন আপনারও।

চারজন একসাথে বাড়ির দিকে ফিরল।পেছনে পড়ে রইল সোনালি ধান, কাঁচা রাস্তা আর শীতের বিকেলের কিছু না বলা কথা। শীতটা এখনো তীব্র হয়নি কিন্তু বাতাসে একটা কাঁপুনি আছে।বাড়ি ফিরতেই দেখতে পেলো বাগানের মাঝখানে গোল করে আগুন জ্বালানো হয়েছে। শুকনো খড় আর কাঠ পুড়ছে ধীরে ধীরে।আগুনের লেলিহান শিখা অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়াচ্ছে চারপাশে সবাই গোল হয়ে বসে আছে।
মেহেরাব খান আগুনের পাশে বসে পুরোনো দিনের গল্প বলছেন। নাফিযা চুপচাপ শুনছেন, মাঝে মাঝে হেসে উঠছেন। নোহা আর নেহা আগুনে কাঠ ছুঁড়ে দিচ্ছে, হাসাহাসি করছে। রহিমা চাচি গরম চা এনে দিয়ে গেলো।ইলা একটু দূরে বসে আছে। আগুনের আলোয় তার মুখটা উজ্জ্বল, কিন্তু শরীরটা একটু একটু কেঁপে উঠছে বাইরে থেকে আসার কারণে হঠাৎ আরিয়ান সেটা খেয়াল করল।
আরিয়ানঃ- আপনার কিছু সমস্যা হচ্ছে?
ইলাঃ- আমার একটু ঠান্ডা লাগছে।

এই একটা কথা বলার সাথে সাথেই যেন আগুনের চারপাশে থাকা সবাই নড়ে উঠল।নাফিযা প্রথম উঠে দাঁড়ালেন। নিজের গায়ের চাদরটা খুলে ইলার কাঁধে জড়িয়ে দিলেন।
নাফিযাঃ- এই নে মা নতুন জায়গায় ঠান্ডা লেগে গেলে শরীর খারাপ হবে?
নাফিযা থামার আগেই নেহা নিজের শালটা খুলে এনে ইলার পায়ে জড়িয়ে দিল।
নেহাঃ- ভাবী আপনি অসুস্থ হলে ভাইয়া অনেক কষ্ট পাবে যেটা আমরা সহ্য করতে পারবো না।
নোহা হেসে নিজের চাদরটা এনে দিল আবার ইলার গায়ে পড়িয়ে দিলো
নোহাঃ- গ্রামে শীতকে হালকাভাবে নিলে চলে না ভাবি এটা অনেক ডেঞ্জারাস।
রহিমাঃ- বউমা আগুনের কাছে আর একটু বসো ঠান্ডা কম লাগবে।
একটার পর একটা চাদর একটার পর একটা মমতা।ইলা কিছু বলার আগেই নিজেকে চাদরের ভেতর মোড়ানো অবস্থায় পেল। এত যত্ন, এত অযাচিত ভালোবাসা তার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে এলো চোখে পানি জমে উঠল।
আরিয়ান কিছু বলল না সে শুধু একটু কাছে এগিয়ে এসে আগুনের পাশে বসে রইল। তার কণ্ঠে কোনো নাটকীয়তা নেই, শুধু একটা দৃঢ় আশ্বাস। আরিয়ান ইলার প্রতি তার পরিবারের ভালোবাসা দেখে মূগ্ধ
আরিয়ানঃ- এখন আর ঠান্ডা লাগবে না।
ইলা আগুনের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল,

ইলাঃ- আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
মেহেরাবঃ- এই বাড়ি এই বাড়ি সবাই তোমার কখনো মনে করবে না এটা তোমার শশুর বাড়ি আর তুমি আমাদের ছেলের বউ তুমি আমাদের আরেকটা মেয়ে।
এই কথাটায় ইলার চোখের পানি আর ধরে রাখা গেল না। সে চুপচাপ মাথা নিচু করল।আগুনের আলোয় কেউ তার চোখের জল দেখল না কিন্তু তার বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ে বসলো।নাফিযা আলতো করে ইলার মাথায় হাত রাখলেন।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪১

নাফিযাঃ- শীত কেবল শরীরের না মা মনেও লাগে আমরা আছি তোমার সাথে সব সময়। এখন থেকে আমার তিন মেয়ে।
আরিয়ান এদের মুখে এমন কথা শুনে বির বির করছে এমনি হোটেলে ভাই বানিয়ে নিয়েছিল। আর এখন তো আমার বাবা মা মুখে দলিল করে দিলো এখন যদি বউ বলে সারাজীবন ভাই বোন এর মতই থাকি। তাহলে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আসবে না এখানেই আমাদের শেষ প্রজন্ম।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪৩