ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৭
ছায়া
সিলেটগামী সামরিক ট্রাকগুলো যখন ঢাকা সেনানিবাস ত্যাগ করছিল,তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত দুইটা।চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু ইঞ্জিনের একটানা গর্জন আর চাকার শব্দে রাতের নীরবতা ভাঙছে।আরিয়ান ট্রাকের জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে।তার পরনে ফুল কমব্যাট ইউনিফর্ম,হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র।কিন্তু তার মনের গহীনে এখনো ইলার সেই কান্নামাখা কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আরিয়ান বিড়বিড় করে বলল,
আরিয়ানঃ- ক্ষমা করে দিও ইলাফুল একজন সৈনিকের স্ত্রী হওয়া যতটা গৌরবের,তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কষ্টের।আজ যদি আমি পিছিয়ে যাই তবে কাল এই দেশের হাজারো মেয়ে স্বামী ছাড়া হবে কেউ বাবা ছাড়া হবে।
সিলেটের দুর্গম সীমান্তে যাত্রাঃ
ভোর হওয়ার আগেই আরিয়ানের কন্টিনজেন্ট সিলেটের জাফলং সংলগ্ন এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাল। কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় আর বর্ডার লাইনের ওপার থেকে ভেসে আসা অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে।আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমেই ম্যাপ বের করে তার টিমকে পজিশন বুঝিয়ে দিতে শুরু করল।
মিশন ১ : অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পাহাড়ি ঢল আর ঘন জঙ্গল যেখানে শত্রুপক্ষ লুকিয়ে থাকার সুযোগ পায়।
আরিয়ান তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে নির্দেশ দিল,
আরিয়ানঃ- শুনুন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কোনো রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।কিন্তু যদি ওপার থেকে গুলি আসে,তবে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেব না। মনে রাখবেন পেছনে আমাদের পরিবার আর সামনে আমাদের মাতৃভূমি।
অন্যদিকে আত্রাইয়ের বিষণ্ণ প্রহর,
ইলার অবস্থা শোচনীয় জানালার পাশে বসে সে ঝাপসা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।হালিমা এসে ইলার মাথায় হাত রাখল। আরিয়ানের যুদ্ধ করতে যাওয়া শুনে আরিয়ান আদিব, পরি, রায়েদ, হালিমা সবাইকে তাদের বাসায় যেতে বলেছে)
হালিমাঃ- ইলা এভাবে না খেয়ে বসে থাকলে তো শরীর ভেঙে পড়বে। ভাইয়া তো দেশের কাজে গেছেন তুই দোয়া কর।
ইলাঃ- দোয়া তো করছি কিন্তু মন মানছে না।
রায়েদ পাশ থেকে একটা চিপসের প্যাকেট নিয়ে এসে ইলাকে হাসানোর চেষ্টা করল।
রায়েদঃ- আরে ইলা আরিয়ান ভাই তো বাঘের বাচ্চা আমি একটা সাধারণ মানুষ হয়ে ওই লিয়ান পান্তা ভাতকে কলার খোসায় কুপোকাত করলাম, আরিয়ান ভাই তো বাঘ আর বর্ডারের শত্রুদের তো ভাই একাই ধোলাই করে দিয়ে আসবে। তুই চিন্তা করিস না আর আমি তো আছি তোর বডিগার্ড।
ইলা সামান্য হাসল কিন্তু সেই হাসিতে কোনো প্রাণ ছিল না। তার ফোনটা বারবার হাতে নিচ্ছে, যদি কোনো একটা মেসেজ আসে।কিন্তু আরিয়ান আগেই বলে দিয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে।
বর্ডারে প্রথম সংঘর্ষ:
হঠাৎ করেই সিলেটের সেই শান্ত পাহাড় কেঁপে উঠল গুলির শব্দে।ওপার থেকে অতর্কিত আক্রমণ শুরু হয়েছে।আরিয়ান দ্রুত পজিশন নিল একটি বড় পাথরের আড়ালে।
আরিয়ানঃ- (ওয়াকিটকিতে) আলফা টিম, মুভ টু দ্য লেফট ব্র্যাভো টিম, কভার ফায়ার দাও। কেউ যেন আমাদের সীমানা পার হতে না পারে।
চারপাশে বারুদের গন্ধ আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল।আরিয়ানের কপালে ঘাম আর চোখের দৃষ্টিতে আগুনের ফুলকি। যুদ্ধের ময়দানে সে এক নির্ভীক সেনা। ঠিক সেই মুহূর্তে তার পকেটে থাকা ওয়ালেটের দিকে একবার নজর গেল, যেখানে ইলার একটা ছোট ছবি রাখা। সে মনে মনে বলল,
“বেঁচে ফিরলে তোমার মায়াজালে আবার ধরা দেব ইলাফুল আর যদি না ফিরি…”
আরিয়ান নিজের চিন্তা ঝেড়ে ফেলে গর্জে উঠল
আরিয়ানঃ- “ফায়ার”
সিলেটের পাহাড়ের ওপাশে তখন মরণখেলা চলছে।মেঘালয়ের ঘন মেঘ আজ বৃষ্টির বদলে যেন বারুদ ঝরাচ্ছে। আরিয়ানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সাহসের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।বর্ডারের জিরো পয়েন্টে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে চারপাশ প্রকম্পিত।
আরিয়ান তার কমান্ডিং পজিশন থেকে একটুও নড়ছে না।তার হাতের এম-১৬ রাইফেলটি থেকে আগুনের হল্কা বের হচ্ছে।ঠিক তখনই তার একদম কাছের একজন তরুণ সৈনিক, যার নাম ছিল সাব্বির একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
আরিয়ানঃ- সাব্বির
আরিয়ান ঝড়ের গতিতে হামাগুড়ি দিয়ে সাব্বিরের কাছে গেল সাব্বিরের দেহটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে।সে হাসফাঁস করতে করতে আরিয়ানের হাতটা চেপে ধরল।
সাব্বিরঃ- স্যার আমার মাকে বলবেন তার ছেলে কাপুরুষের মতো পিঠ দেখায়নি তার ছেলে বীরপুরুষ এর মত যুদ্ধ করে মারা গেছে।
সাব্বির শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। আরিয়ানের চোখ ফেটে জল আসতে চাইল,কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। যুদ্ধের ময়দানে সেনার চোখে জল মানে টিমের মনোবল ভেঙে যাওয়া।সে দেখল তার দলের আরও চার পাঁচজন বীর সেনা শহিদ হয়েছে।চারদিকে বারুদের গন্ধ আর লাশের সারি।আরিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল।
আরিয়ানঃ- “ব্র্যাভো টিম” ফরোয়ার্ড মার্চ ওদের এই অন্যায়ের জবাব দিতে হবে। প্রতিটি শহিদ ভাইয়ের রক্তের বদলা নেব আজ।
অন্যদিকে,
আত্রাইতে ইলা জানালার কাছে বসে নামাজ পড়ছে। বারবার তার বুকটা কেঁপে উঠছে।হঠাৎ জানালার কাঁচটা সজোরে শব্দ করে ভেঙে পড়ল ইলা চমকে উঠল। তার মনে হলো তার হৃদপিণ্ডটা কেউ যেন ছিঁড়ে নিচ্ছে।
হালিমাঃ- ইলা কী হলো তোর?
ইলাঃ- আমার খুব ভয় করছে আমার মনে হচ্ছে আরিয়ান কোনো বড় বিপদে আছে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
ইলা বারবার আরিয়ানের ফোনে ট্রাই করছে কিন্তু নেটওয়ার্ক নেই।সে জানে যুদ্ধের ময়দানে ফোন চলে না।তবুও পাগলের মতো মেসেজ লিখে যাচ্ছে,
“আপনি ভালো আছেন তো?ফিরে আসুন আপনার ইলাফুল আপনার অপেক্ষায় মরে যাচ্ছে।
বর্ডারে আরিয়ান:
রাত আরও গভীর হলো আরিয়ান বুঝতে পারল শত্রুরা এখন শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে।একটা বিশাল মেশিনগান থেকে ক্রমাগত গুলি আসছে পাহাড়ের ওপর থেকে। আরিয়ান একাই সেই পাহাড়ের খাঁজ দিয়ে উপরে উঠে গেল। চারপাশ থেকে বুলেট তাকে লক্ষ্য করে আসছিল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে আরিয়ানের গায়ে একটাও গুলি লাগছিল না। যেন ইলার দোয়া তাকে এক অদৃশ্য বর্ম দিয়ে ঘিরে রেখেছে।
সে গ্রেনেডের পিন খুলে শত্রুর সেই মেশিনগান বাঙ্কার লক্ষ্য করে ছুড়ে মারল। “বুম” এক বিশাল বিস্ফোরণে শত্রুপক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল আরিয়ান তার সেনাদের উৎসাহ দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- আমাদের সুনিশ্চিত
নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে আরিয়ান যখন শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল তখন তার মনে শুধু একটাই চিন্তা তার দেশের মাটি আর তার ঘরে অপেক্ষারত তার সেই প্রিয়তমা স্ত্রী।
গোলাগুলির শব্দ একটু কমে এসেছে। এখন শুধু আগুনের ধোঁয়া।আরিয়ান ক্ষতবিক্ষত দেহে একটি পাথরে হেলান দিয়ে বসল।তার ইউনিফর্ম রক্তে মাখা, কিন্তু সেই রক্ত তার নিজের নয়, তার শহিদ হওয়া ভাইদের।তার এক সহকর্মী এসে বলল,
“স্যার অনুপ্রবেশকারীরা পিছু হটেছে। আমরা সীমানা রক্ষা করতে পেরেছি।কিন্তু আমাদের অনেক ভাই মারা গেছে স্যার…”
আরিয়ান আকাশের দিকে তাকাল।তার মুখটা ম্লান হয়ে এল সে মনে মনে বলল,
“আমি বেঁচে আছি ইলাফুল তোমার দোয়া হয়তো আমাকে আজ যমের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে কিন্তু আমার এই শহিদ ভাইদের মায়েদের কী জবাব দেব?
সেই ভয়ানক যুদ্ধের পরে সবার যখন মনে হয় হয়তো সব শান্ত হয়েছে তখন সবাই ক্যাম্পে ফিরে এলো ঠিক তখনই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বিকট শব্দে একটা মর্টার শেল এসে পড়ল আরিয়ানের ক্যাম্পের মাত্র কয়েক গজ দূরে। মাটির স্তূপ আর ধোঁয়া ছিটকে উঠল আকাশে। আরিয়ান ছিটকে পড়ল পাথরের আড়ালে। কান দুটো ভোঁ ভোঁ করছে কিছুক্ষণ কিছুই শুনতে পেল না সে।
শত্রুপক্ষ জানত না যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এতটা শক্ত প্রতিরোধ গড়বে। তাই তারা এবার আরও বড় শক্তি নিয়ে, ভারী অস্ত্রশস্ত্র সহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট বৃষ্টির মতো নেমে আসতে লাগল।
আরিয়ান ঝটপট হেলমেটটা ঠিক করে নিয়ে গর্জে উঠল,
আরিয়ানঃ- সবাই পজিশন নাও ওরা আবার আসছে অ্যামুনিশন চেক করো কেউ প্যানিক হবে না।
যুদ্ধের লেলিহান শিখা চারপাশে নারকীয় দৃশ্য।আরিয়ানের চোখের সামনেই আরও দুজন জোয়ান ঢলে পড়ল।একজন তার খুব প্রিয় ছোট ভাইতুল্য ছিল, যার বিয়ে ঠিক হয়েছিল সামনের মাসে।আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল।তার ভেতরে এখন আর কোনো মানুষ নেই, আছে শুধু এক হিংস্র দেশপ্রেমিক যোদ্ধা।
সে একাই এল-এম-জি (LMG) হাতে তুলে নিল।শত্রুরা ভাবতেও পারেনি আরিয়ান এত দ্রুত পাল্টা আঘাত হানবে।আরিয়ান এক হাতে গুলিবর্ষণ করছে আর অন্য হাতে তার টিমকে কমান্ড দিচ্ছে।
আরিয়ানঃ- আলফা-টু ডান দিক দিয়ে ঘিরে ফেলো ওদের বাঙ্কার উড়িয়ে দাও।
পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে এখন শুধু আগুনের খেলা।আরিয়ানের ইউনিফর্মের কাঁধের দিকটা ঘষা লেগে ছিঁড়ে গেছে,গা দিয়ে রক্ত ঝরছে সামান্য কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই সে যেন মৃত্যুহীন এক সত্তা। তার চারপাশে যখন একের পর এক সেনা শহিদ হচ্ছে তখন সে একাই এক বিশাল দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল দেশের সীমানায়।
অন্যদিকে টিভির সামনে মেহেরাব খান সহ বাকি সবাই বসে আছে টিভি খুলতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে
“সিলেট সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হতাহতের আশঙ্কা” ইলা টিভির সামনে পাথরের মতো বসে আছে তার হাতটা কেঁপে উঠছে। হালিমা আর আদিব পাশে বসে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।রায়েদও আজ একদম চুপ তার চোখেও পানি নাফিযা, নোহা, নেহা সবাই কান্না করছে। হঠাৎ খবরের নিচে স্ক্রলে দেখা গেল
“মেজর আরিয়ানের নেতৃত্বাধীন টিম বীরত্বের সাথে লড়ছে তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক”
এটা দেখে সবাই কিছুটা শান্ত হলো ইলার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে তাই সবাই জোর করে ইলাকে ঘুমানোর জন্য পাঠিয়ে দিলো।
সীমান্তের রণক্ষেত্র,
পাল্টা আক্রমণে শত্রুরা এবার আরও বেপরোয়া।তারা আরিয়ানের টিমকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।আরিয়ানের টিমে তখন মাত্র গুটিকয়েক লোক জীবিত। আরিয়ান দেখল সামনের দিক থেকে একটা স্নাইপার তাকে টার্গেট করছে। সে দ্রুত সরে গেলেও বুলেটটা তার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল।
আরিয়ান তার পকেট থেকে ইলার দেওয়া সেই ছোট রুমালটা বের করল,যা রক্ত আর ঘাম মাখা সে এক মরণপণ চিৎকার দিল।
সেই চিৎকারে যেন পাহাড়ের প্রতিটি পাথর কেঁপে উঠল।আরিয়ান আর তার অবশিষ্ট সেনাদল এক মরণজয়ী চার্জ করল শত্রুর দিকে।
আরিয়ান ওয়াকিটকিতে নির্দেশ দিচ্ছিল
আরিয়ানঃ- “আলফা টিম” বাঁ দিক দিয়ে ঘেরাও করো “চার্লি টিম” ব্যাকআপ রেডি রাখো। দেশের এক ইঞ্চি মাটিও যেন শত্রুর কবজায় না যায়।
চারপাশে গুলির শব্দ আর বিস্ফোরণের কানফাটানো আওয়াজ।আরিয়ান পাথরের আড়ালে পজিশন নিয়ে স্নাইপার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করছে।তার মনের এক কোণে বারবার ইলার সেই কান্নামাখা মুখটা ভেসে উঠছে,কিন্তু পরক্ষণেই দেশের মানচিত্রের কথা ভেবে সে নিজেকে পাথর করে নিচ্ছে বারবার।
অন্যদিকে,
নাফিযা জায়নামাজে বসে অঝোরে কাঁদছেন আর তসবিহ গুনছেন। ইলা নিজের ঘরে ঘুমিয়ে আছে আরিয়ানের দেওয়া সেই নীল লকেটটা শক্ত করে ধরে।
মেহেরাব খান এসে আরিয়ানের মায়ের মাথায় হাত রাখলেন।
মেহেরাবঃ- কিছু খেয়ে নাও সারাদিন কিছু মুখে দাওনি আরিয়ান ফিরলে আমাদের কি আস্ত রাখবে?
নাফিযাঃ- টিভিতে দেখাচ্ছে বর্ডারে ভয়াবহ যুদ্ধ হচ্ছে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমি তো মা। কেন ও সিভিলিয়ান হলো না? কেন ও সাধারণ কোনো চাকরি করল না? এই ইউনিফর্মটা আমার কাছে আজ অভিশাপ মনে হচ্ছে। আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও।
ঠিক সেই মুহূর্তে আদিব আর রায়েদ সেখানে এল।রায়েদের সেই চিরচেনা দুষ্টুমি আজ উধাও সে গম্ভীর মুখে নাফিযার সামনে গিয়ে বসল।
রায়েদঃ- আন্টি বিশ্বাস রাখন আরিয়ান ভাই সাধারণ কোনো মানুষ নয়, ও একজন রিয়েল হিরো। ওকে মারার মতো বুলেট এখনো তৈরি হয়নি।
পরি হালিমার হাত ধরে বসে আছে প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ দুশ্চিন্তার আগুন জ্বলছে।
বর্ডারেঃ
সীমান্তের রণাঙ্গনে হঠাৎ এক বিশাল বিস্ফোরণ হলো আরিয়ানের খুব কাছেই একটা মর্টার শেল এসে পড়েছে।ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল।আরিয়ান ছিটকে পড়ল মাটির ওপর তার কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে,দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫৬
সে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করল “ইলাফুল…”
তার হাতটা পকেটে থাকা ওয়ালেট বের করে ইলার ছবির ওপর স্থির হয়ে রইল চোখদুটো।
জ্ঞান হারানোর আগে সে দেখল তার সহযোদ্ধারা তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে।
এদিকে ইলা হঠাৎ চিৎকার করে ঘুম থেকে জেগে উঠল। তার মনে হলো কেউ যেন তার কলিজায় এক টুকরো বরফ চেপে ধরেছে।সে হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল
ইলাঃ- আরিয়ান! আরিয়ান আপনার কিছু হয়েছে? আমি অনুভব করতে পারছি!
পুরো বাড়ি তখন ছোটে এলো ইলা জানালো সবাইকে তার স্বপ্নের কথা ইলাকে সবাই বার বার সান্ত্বনা দিচ্ছে।
