ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫
ছায়া
রাতের সেই নাচ মায়ের রাগ-হাসি আর পরিবারের সাথে হট্টগোল শেষ হওয়ার পর ইলা একা বসে ফোন হাতে নিলো। স্ক্রিনে তাকিয়ে বারবার সেই এক জায়গায় চোখ আটকে যাচ্ছে শাওনের সেই মেসেজটার দিকে। মনে মনে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরছে। কেন হঠাৎ করেই কেন রিয়েক্ট দিলো? শুধু মজা করে না কি কোনো কারণ আছে? ইলার বুক ধকধক করছে কিন্তু সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস নেই। সে বারবার নিজের ফোনের দিকে তাকাচ্ছে শাওনের সেই মেসেজ এর দিকে।এভাবে থাকতে থাকতে ইলা ঘুমিয়ে পড়লো।
অন্যদিকে রাত গভীর রুমের ছোট্ট আলো জ্বলছে।শাওন নতুন ভিডিও এডিট করছে,তার সামনে স্ক্রিনে অসংখ্য মেসেজ কেউ প্রেমের কথা লিখেছে, কেউ কষ্টের কথা, কেউ শুধু স্রেফ একটা ইমোজি দিয়েছে। কিন্তু এক মেসেজে তার চোখ বেশি সময় ধরে থেমে গেলো সেটা ছিল ইলাকে দেয়া মেসেজটা জাস্ট একটা ইমোজি সেটা সিন হয়েছে কিন্তু কোনো রিপ্লাই আসেনি। ইলা ছোট একটা স্টোরি দিলো আবার
“কখনো কল্পনাও করিনি ছোট ছোট জিনিসগুলো এত খুশি দেয়।”
শাওন হঠাৎ থেমে গেল তার মনে হলো এই লাইনটা অদ্ভুতভাবে ভেতরে কোথাও লাগলো। সে হয়তো বুঝলো না কেন কিন্তু তবু কিছু একটা অন্যরকম অনুভূতি হলো। সেই অদ্ভুত টানের কারণেই হয়তো সে চুপচাপ একটা রিয়েক্ট দিয়ে দিলো। কোনো শব্দ না লিখে কোনো রিপ্লাই না দিয়ে শুধু একটা ছোট্ট রিয়েক্ট।
অনেকক্ষণ টাইপ করে আবার ডিলিট করে শেষে শুধু হ্যালো পাঠালো ইলা শাওন রিপ্লাই করলো মিনিট পাঁচেক পর
শাওনঃ- হেই…তুমি ইলা না?তোমার ভিডিও স্টোরি দেখলাম Honestly ভীষণ cute লাগছিলো।
ইলা বুকের ভেতর জোরে ধাক্কা খাওয়ার মতো অনুভূতি হলো ইলা কাপাকাপা হতে মেসেজ এর রিপ্লাই দিলো
ইলাঃ- আ…আমারটা মানে… আপনি দেখলেন?
শাওনঃ- শুধু দেখিনি রিয়্যাক্টও দিয়েছি কিন্তু তুমি তো সেটা notice করেছো।
ইলা ভেতরে ভেতরে লজ্জায় মরলেও ফোনের স্ক্রিনে শুধু একটা ছোট হাসির ইমোজি পাঠালো ইলার হাত পা কাপছে
শাওনঃ- তুমি আমার সব ভিডিওতে কমেন্ট করেছো লক্ষ্য করেছি Honestly, I felt special. তোমার প্রতিটা কমেন্ট অনেক ইউনিক হয়।
ইলাঃ- আরে আমি তো আপনার ফ্যান তাই naturally কমেন্ট করেছি।
শাওনঃ- আমার মনে হলো শুধু ফ্যান না একটু বেশি কিছু…!
(ইলা মনে মনে বলছে বেডা পরি কি ফ্লার্ট করছে আমার সাথে?)
শাওনঃ- Tell me honestly তুমি কি আমার জন্য নোটিফিকেশন অন করেছো? মানে আমি ভিডিও দিলেই যেন সাথে সাথে দেখতে পাও?
ইলা হঠাৎ ধরা খাওয়ার মতো অবস্থা ইলা কি বলবে বুঝতে পারছে না তবুও বলল
ইলাঃ- আরে না না।
শাওনঃ- হাহাহা I knew it তুমি innocent হয়ে থাকো ততটা innocent না তুমি ইলা।
ইলাঃ- আচ্ছা…আপনি তো famous এত ফলোয়ার, এত ফ্যান তাহলে আমার মেসেজের রিপ্লাই দিলেন কেন?
শাওনঃ- কারণ তুমি আলাদা তোমার vibe অন্যরকম।তোমার কমেন্টগুলো honest তাই মনে হলো তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারলাম না।
ইলাঃ- আমি কি সত্যিই এতটা আলাদা?
শাওনঃ- একদম আর তুমি বুঝতে পারবে ধীরে ধীরে।
দুজনের কথোপকথন এগোতে লাগলো ইলা তো তখন থেকে ভয়ে আছে কি বলবে এটা ভেবে আবার যদি উল্টো পালটা কিছু বললে ব্লক মারে তাই ভয়ে কিছু বললতেও পারছে না।
ইলাঃ- আপনি ভিডিও বানান ডিউটি করেন ক্লান্ত লাগে না?
শাওনঃ- ক্লান্ত লাগে কিন্তু তোমার মতো ফ্যানরা সবকিছু light করে দেয়। Honestly বলি? তোমাদের কমেন্ট পড়ে আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
ইলাঃ- আপনি জানেন না আমি কতটা খুশি হয়েছি আপনার রিয়্যাক্ট দেখে মনে হয়েছিলো যেন স্বপ্ন দেখছি।
শাওনঃ- স্বপ্ন না বাস্তব আর আমি চাই তুমি সবসময় আমার বাস্তবেই থাকো।
ইলাঃ- আপনি এমন বলেন কেন?
শাওনঃ- কারণ আমি তোমাকে feel করি তোমার energy আলাদা।
(ইলা মনে মনে হায় আল্লাহ আমি তো শেষ) শাওন এবার খুনসুটি শুরু করলো)
শাওনঃ- আচ্ছা তুমি কি নাচতে পারো?
ইলাঃ- পারি তো আজকে আম্মুকে ঝাড়ু দিয়ে নাচ দেখিয়েছি। আপনার রিপ্লাই পাওয়ার খুশিতে।
শাওনঃ- হাহাহাহা তোমার মা তো আমাকে গালি দিবে someday এই শাওন আমার মেয়েকে পাগল বানাইছে।
ইলাঃ- Already দিয়েছে কিন্তু আমি defend করেছি আপনাকে।
শাওনঃ- আমার ছোট্ট lawyer
ইলাঃ- আপনার নামে কেউ উল্টো পালটা কিছু বললে আমার সহ্য হয় না।
শাওনঃ- আচ্ছা তোমার ফেভারিট গান কোনটা?
ইলাঃ- pal pal
শাওনঃ- আহা তাহলে তো perfect Next ভিডিও আমি ওই গানে তোমাকে dedicate করবো।
ইলাঃ- সত্যি???
শাওনঃ- Promise আর তুমি comment করবে শুধু একটা word“মাইন”।
ইলাঃ- মাইন… মানে?
শাওনঃ- মানে তুমি শুধু আমার।
ইলাঃ- আপনি খুব dangerous
শাওনঃ- আর তুমি খুব sweet
ইলাঃ- আমি যদি disappear হয়ে যাই কোনোদিন তখন কি মনে পড়বে আমার কথা?
শাওনঃ- Don’t say that তুমি হারিয়ে গেলে আমি but obviously পাগল হয়ে যাবো।
ইলাঃ- কেন আরো কত ফ্যান আছে আপনার আমার জন্য কেনো পাগল হবেন।
শাওনঃ- হাজার ফ্যান থাকলেও তোমার মতো একজন থাকে একটাই তুমি special ইলা।
ইলাঃ- তাহলে ব্লক দিতেন কেন?
শাওনঃ- তোমার পরিক্ষা চলছিলো, তুমি আমার পাশে সব সময় থাকবে নাকি চলে যাবে তার।
ইলাঃ- পাশে… মানে আপনি তো দূরে।
শাওনঃ- দূরে থাকলেও আমার heart তোমার কাছে।
ইলা: আপনি কিন্তু একটু বেশি ফ্লার্ট করছেন।
শাওনঃ- একটা জিনিস চাই…!
ইলাঃ- কী?
শাওনঃ- তুমি everyday আমার সাথে share করবে তোমার ছোট ছোট moments পড়া, হাসি, কান্না, রাগ সবকিছু।
ইলাঃ- আপনি কি জানেন আপনি dangerous ভাবে আমার heart capture করছেন?
শাওন Already captured এখন থেকে তুমি officially mine হঠাৎ করে ইলার কান ব্যাথা করতিছে ইলা চিল্লানো শুরু করলো
ইলাঃ- আহাহা শাওন লাগছে ছারো
সাবিহাঃ- ওই শাওন টা আবার কে।
ইলা তরিঘরি করে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে তার মা সামনে দাঁড়িয়ে আছে অগ্নি দৃষ্টি করে। ইলা মনে মনে ( তার মানে এটা স্বপ্ন ছিলো)
সাবিহাঃ- কিরে বল কে এই শাওন?
ইলাঃ- আম্মু ঐ যে শাওন গান করে সেই শাওনকে ওর স্বপ্ন দেখছিলাম।
সাবিহাঃ- তাই বল এখন তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে কলেজে যা।
ইলার মা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই ইলা প্রথমেই ফোনটা হাতে নিলো নতুন ভিডিও আছে কি না দেখার জন্য ফোন হাতে নিয়ে দেখে শাওন ভোরবেলা একটা ভিডিও আপলোড দিয়েছে ক্যাপশনে লেখা
“কিছু মানুষ থাকে যারা অল্পতেই খুশি হয়ে যায়। ওরা না হয়তো পৃথিবী বদলায় কিন্তু পৃথিবীর জন্য ওরাই আসল আলো।
ইলার চোখ আটকে গেল ক্যাপশনে সে চুপ করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর মাথা নিচু করে হাসলো পরি এসে পাশে দাঁড়িয়ে বললো
পরিঃ- কিরে আবার মন ভিজে গেছে নাকি?
ইলা লজ্জা করে ফোনটা লুকিয়ে ফেললো কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার বুকের ভেতরে আশার এক ছোট্ট আলো জ্বলে উঠলো।
ইলা এবার সত্যি শাওন কে মেসেজ দিবে যা হবার হবে ব্লক দিলে দিবে। বাট স্বপ্ন টা সত্যি করতে চায় তাই ইলা মেসেজ দিলো,
ইলাঃ- এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।
ইলা মেসেজ দিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করলো কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে চলে গেলো কলেজে। ক্লাসে মনোযোগ নেই ইলার তবুও কোনো রকম ক্লাস শেষ করে ইলা বাড়ি এসে ফোন হাতে নিলো এসে রেখে শাওন রিপ্লাই দিছে আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে মেসেজটা দেখললো ইলা। শাওন মেসেজ দিয়েছে
শাওনঃ- সরি ভুল করে চাপ পড়ে রিয়েক্ট চলে গেছে।
ইলা মনটা যেনো খারাপ হয়ে গেলো তবুও বললো
ইলাঃ- It’s ok, তাহলে কি আপনি এখন আবার আমাকে ব্লক করবেন?
শাওনঃ- No..!!
ইলাঃ- আপনি আমার মেসেজ এর রিপ্লাই দিবেন আমি ভাবিনি, আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে।
শাওনঃ- কেনো?
ইলাঃ- (লজ্জায় ইমোজি দিলো) আমি তো ভাবছিলাম আপনি কখনো রিপ্লাই দিবেন না। এখন রিপ্লাই দিয়েছেন এটা ভেবেই হার্টবিট বেড়ে গেছে।
শাওনঃ- বললাম তো আমি ইচ্ছা করে দেইনি।
ইলাঃ- জানি তো..!!
শাওনঃ- তোমার নাম কি? বাসা কোথায়?
ইলাঃ- আমার বাসা দিনাজপুর আপনি হয় চিনেন না দিনাজপুর।
শাওনঃ- চিনি নাম শুনেছি আমি।
ইলাঃ- আমি যে এত বক বক করতেছি আপনি কি বিরক্ত হয়ে ব্লক করে দিবেন?
শাওনঃ- বলছি তো দিবো না।
এভাবে আরো অনেক কথা হয় দুজনের মধ্যে ইলা অনেক খুশি তার ভয়েজ কিং এর সাথে কথা বলতে পেরে।
শাওনঃ- আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকো আমার কাজ আছে আল্লাহ হাফেজ।
ইলা কথা বলা শেষ করে দৌড়ে গেলো পরির কাছে। পরি তখন বই পড়ছিলো ইলা পরির কাছে গিয়ে পড়িকে বলল
ইলাঃ- পরি… শুনবি একটা কথা?
পরিঃ- কিরে এই সময় এতো উচ্ছ্বাস কেনো কি হয়েছে?
ইলাঃ- আজ আমি শাওনের সাথে কথা বলেছি।
পরিঃ- কি??? তুই শাওনের সাথে কথা বলেছিস?? মজা করছিস নাকি?
ইলাঃ- সত্যি বলছি রে আজ আমিই সাহস করে মেসেজ দিলাম উনিও রিপ্লাই করেছে।
পরি উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ালো ইলার দিকে তাকিয়ে ইলাকে বললো,
পরিঃ- আরে ওয়াও কিরে কি বললো তোকে সব খুলে বল।
ইলা লজ্জা পেয়ে কাঁথা টেনে মুখ ঢাকলো বলেছে আমার নাম সুন্দর। পরি হাসতে হাসতে হাত চাপড় দিলো
পরিঃ- বাহ্ এতদিনে কারো মুখে তোর নাম সুন্দর শুনলাম। আরে ইলা তুই তো খুশিতে পাগল হয়ে যাবি।
ইলাঃ- পরি তুই বুঝবি না আমি তো ভেবেছিলাম উনি কখনো রিপ্লাই দিবেন না। কিন্তু উনি দিলেন মানে আমি ওর কাছে শুধু ফ্যান না।
পরিঃ- আরে বোকা এখনো তো সবে শুরু বেশি স্বপ্ন দেখিস না। শাওন বড় মানুষ ওর চারপাশে লাখো ফ্যান।
ইলাঃ- আমি জানি তবুও আজকে উনি শুধু আমাকে রিপ্লাই দিয়েছে সেটাই আমার কাছে পুরো পৃথিবী।
সারাদিন টা ইলার খুশিতে কেটে গেলো রাতে ইলা আর ঘুমালো না। মোবাইলটা বুকে নিয়ে শুয়ে রইলো মাঝে মাঝে মেসেজ ওপেন করে পড়লো আবার, স্ক্রিনে হাত বুলালো, হাসলো তারপর আবার চোখ ভিজে গেলো অশ্রুতে কিন্তু এ কান্না কষ্টের না এটা pure খুশির কান্না।
রাতটা ইলা শান্ত রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল ভোরে উঠে নরম আলো এসে পড়ে জানালার ফাঁকে মনটা আজ অদ্ভুত একটা আশা আর সখে ভর্তি। কলেজ যাওয়ার আগে মোবাইলে বসে ইলা টাইট টেক্সট লিখল একবার গভীর নিশ্বাস নিয়ে সেন্ড কর দিলো
ইলা: “গুড মর্নিং আশা করি আজকের দিনটা আপনার জন্য সুন্দর হবে।”
হৃদয়টা কেঁপে উঠল পাঠানোর পর মনে মনে তার অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠা ছিল। তারপর একটা গান বাজিয়ে রেডি হয়ে কলেজের পথে তাড়াহুড়া করে বের হয়ে পড়ল। কলেজে ক্লাস এ রুটিন মত পড়াশোনা করে কিন্তু মন সবসময় ফোনে, বারবার অজান্তে স্ক্রিনখানি চেক করে ফেলছে। কত মানুষের মতোই না ইলাও ভেতর থেকেই নিজের অপেক্ষা লুকাতে পারছে না। ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরল দরজা খুলে ঢুকতেই বাবা হাসিমুখে তাকালেন।
রাশেদঃ- কি কিরে আজ কি তোর মুখটা আলাদা রে? গুড মুড নাকি?
ইলাঃ- কিছু না আব্বু আজ মনটা একটু ভালো।
সবার সাথে টেবিলে বসে দুপুরের ভোজ সারল মায়ে খাওয়া নিয়েই কিছু কথা-আড্ডা। খাবারের শেষে ইলার বাবা একটু খোঁচা দিলেন।
রাশেদঃ- বল তো কে সেই সৌভাগ্য বান যাকে নিয়ে এত খুশি
ইলা: কেউ না আব্বু।
রুমে ফিরেই ফোনটা হাতে নিল অপেক্ষা যেন অনন্ত। স্ক্রিন খুলতেই ঝিলমিল এক মিনিট আগে শাওন নতুন একটা ভিডিও পোস্ট করেছে ইলার চোখ নীরবে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। হাতটা কেঁপে কেঁপে মেসেজ লিখতে শুরু করল
ইলাঃ- আপনার নতুন ভিডিওটা দেখলাম খুব সুন্দর। আপনি কেমন আছেন?
কোনো উত্তর নেই ইলা তারপর আরেকটা পাঠাল
ইলাঃ- আপনার ডিস্ক্রিপশনে যে লাইনটা ছিল ‘জীবন ছোট ভালোবাসো’ আমি সেটা খুব পছন্দ করেছি।
কয়েক মিনিট কেটে গেল কোনো উত্তর নেই। ইলা বারবার রিফ্রেশ দিলো কিন্তু নটিফিকেশন নেই। মনে খটকা করে উঠল কিছুতেই বুঝে উঠতে পারল না। একটু হেরে ফিল করেও মাথা ঝুলি দিয়ে বসে রইল। মনে মনে ভাবলো “ও তো অনেক ব্যস্ত হবে হয়তো পরে দেখবে।”
কিন্তু টানটা নামল না আবার মেসেজ পাঠালো, এবার সামান্য বেশি অনুরোধময় স্বরে
ইলাঃ- আপনি প্লিজ একটু বলবেন আপনি কেমন আছেন? আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই।
এবার ফোনটা কাঁপল শাওনের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি শর্ট রিপ্লাই এসেছে কিন্তু সেটি কড়া স্ক্রিনে লেখা
শাওনঃ- এই মেয়ে এত মেসেজ করো কেনো? আমার বেশি কথা বলতে ভালোলাগে না। তাই বারবার মেসেজ পাঠিও না।
ইলার বুকটা যেন ছেঁকে ধরে গেল মুখ থেকে চুপচাপ শব্দ বের হলো না কিছুক্ষণ পরে নিজে লিখতে গেল
ইলাঃ- আমি…আমি তো কেবল আপনার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম।আপনি রিপ্লাই দেন না বলে দু’টো মেসেজ দিয়েছিলাম আমি দুঃখিত যদি বিরক্ত করে থাকি।
কিছু সেকেন্ড চুপ থাকার পর শাওনের পরের মেসেজটা আরও কঠোর ছিল
শাওনঃ- আমি বারবার বলছি একটি কথা মেনে চল একদম বার বার মেসেজ করবে না নাহলে আমি ব্লক করে দেব।
এখানেই ইলার চোখে ঘূর্ণি উঠলো।মনটায় শত রং একসাথে ছুটল আশা, লজ্জা, আঘাত, আর একখানা করুণতা। ফোন ধরে মাথায় হাত দিয়ে বসে রইল বেশ কিছু মূহুর্ত সে কথা লিখতে পারল না। মনে মনে প্রশ্ন করল“আমি কি এতটাই খারাপ শুধুই আমার ছোট্ট আগ্রহ কি এত বেশি?”
এখানে ইলার ভিতরে একটা দ্বন্দ্ব জেগে উঠল শাওনের প্রতি টান রয়েছে, কিন্তু শাওনের কথাটি যেমন কাঁটা বসিয়েছে তেমনি উনার অমায়িক স্বরে বলা “আমি বেশি কথা বলতে ভালোলাগে না” ওটা ইলার মনের মধ্যে কতোটা জায়গা দেবে? ইলা ভেবেছিল ভালোর আশায় কিছু হলেও কষ্ট হলেও একবার কথা হলে সব সহজে মিটে যাবে কিন্তু এখন হোঁচট লাগার দগদগে ব্যথা শুরুর ডাক দিল। পরি এসে পাশে দাঁড়াল ইলার চোখ ভিজে আছে দেখে বুঝে গেল।
পরিঃ- কি হলো তুই কি আবার মেসেজ দিলি ও কি বললো?
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৪
ইলা কণ্ঠখানি সেদিন আগে খোঁজাই করল না শুধু ফোনটা হাতে ধরে কাঁদা কণ্ঠে বলল
ইলাঃ- ও বললো বারবার মেসেজ করলে ও ব্লক করে দেব। আমি ভুল করলাম আমি আর মেসেজ করব না।
পরি প্রথমে একটু ক্ষেপে গেল তারপর ধীরে ধীরে ইলার হাত ধরে বলল
পরিঃ- এভাবে নিজের মন ছেঁড়ে ফেলার দরকার নেই। শাওন তার মতো থাক কিন্তু তোর জীবনও তো আমি আছি, বাবা-মা আছেন কাকা, চাচিমা আছেন তুই কেন কষ্ট পাচ্ছিস।
ইলা চোখ মুছে শুধু নিজেকে সামাল নিলো তার ভেতর একটা কণা লজ্জা আর কষ্ট মিশে রইলো।
