ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৯
ছায়া
ভোরের হালকা সূর্য ওঠার আগেই তালুকদার বাড়ির আঙ্গিনা ইতস্তত সরগরম। রাশেদ তালুকদার বড়ভাইকে নিয়ে গাড়িতে চেপে উঠে মামুনিদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো।
মামুনিদের বাড়ির উঠোনে পৌঁছুতে গ্রামের মানুষজন সামনে এসে দাঁড়াল। মামুনির বাবা-চাচারা লজ্জাভরে বাইরে দাঁড়িয়ে তাদের চোখে ছিল শরম আর কষ্টের মিশেল। রাশেদ দ্রুত নামলেন মামুনির বাবার হাত ধরে বললেন আমার মেয়ে যা করেছে তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি আমি। তোমাদের কালকের সব খরচ আমি দিয়ে দিবো। রাশেদ তালুকদার আরো বললেন
রাশেদঃ- আজ থেকে মামুনির যাবতীয় পড়াশোনা, চিকিৎসা, এবং যা লাগে সব তালুকদার বাড়ি বহন করবে। আর তোমাদের যেন জীবিকা চলে তার জন্য বাজারে একটা ছোট দোকান খুলে দেবো,যাতে গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করে চলে।
এই ঘোষণায় মামুনির বাড়ির লোকের অচল চিন্তার মেঘ খানিক পাতলা হয়ে গেল। মামুনির বাড়ির লোকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কান্নায় কৃতজ্ঞতায় মাথা নামালেন কেউ হালকা করে বলল “আল্লাহর রহমত।”
কিন্তু রাশেদ চুপ করে কঠিন চোখে মামুনিদের চাচাদের দিকে তাকালেন নরম কিন্তু কড়া কণ্ঠে বললেন
রাশেদঃ- আপনারা আজ সমস্যার সমাধান পেলেন ঠিক আছে। তবে আমার একটাই প্রশ্ন আমাদের মেয়েটা কি এমন দোষ করেছিলো? যে আপনারা রাগ-ক্ষোভের কারণে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত চলে গেলেন তাকে কথা শুনাতে। গতকাল আমার মেয়ে চরম মার খেয়েছে মানসিক কষ্ট পেয়েছে এটার জবাব কে দিবে?
এই কথায় বাড়ির আকাশটা এক মুহূর্তে বদলে গেল মামুনির বাবা-চাচারা আর কিছু বলতে পারলেন না মাথা নিচু করে থাকলেন। তাদের গলায় কোনো অজুহাত ছিল না শুধু চাপা লজ্জা আর অনুশোচনায় নীরবতা। রাশেদ আর কিছু না বলে ফিরে আসলেন তাদের নজরে ছিল সিদ্ধান্তের গণতান্ত্রিক ও মানবিক ব্যঞ্জনা এভাবেই কেবল পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রাশেদের ওই কঠোর কিন্তু নরম কথাগুলো মামুনির মনে অদ্ভুতভাবে ঘুম ভাঙিয়ে দিলো। মামুনি শুনে অবাক সে বুঝতে পারল যে তার ভালো-মন্দের জন্য কেউ দায়িত্ব নিয়েছে কারো মর্জি থেকে বাঁচানো হচ্ছে তাকে। আবার ইলার জন্য অনুসূচনা হলো কণ্ঠে কাঁপে কাঁপে মামুনি বলল
মামুনিঃ- আমার জন্য ইলা আপুর এত কষ্ট করলো। আমার তাকে দেখতে যাওয়া উচিত
তারপর মামুনি তালুকদার বাড়ির দিকে এল দরজায় এসে কাকতালীয় দৌড়ে হয়ে ঢুকলো হয়তো সে ভীত হয়তো কৃতজ্ঞতাতৃষ্ণ। মামুনি ভয়ে ভয়ে দারিয়ে আছে সেই সময় পরি তাকে দেখে ফিসফিস করে বলল
পরিঃ- মামুনি তুই এখানে কেনো ছোট মা দেখে ফেললে অনেক রাগ করবে।
মামুনীঃ- পরি আপু আমি ইলার আপুকে দেখবো একটূ।
পরি জানে মামুনি ইলার কতটা পছন্দের তাই আর কথা না বাড়িয়ে ইলার রুমের দিকে নিয়ে গেলো। ইলা তখন বিছানায় শুয়ে মনের দাগ মুছে ধরার চেষ্টা করছিলো। মামুনি দরজার মুখে দাঁড়িয়ে লজ্জা মাথায় দিয়ে মাথা নীচু করে বলে উঠল
মামুনিঃ- ইলা আপু… আমি তোমাকে… সরি বলতে এসেছি।
মামুনির কণ্ঠে কেঁপে ওঠা সচ্ছল কান্না চোখে। ইলা প্রথমে বিস্মিত হয়ে উঠে বসলো। তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে মামুনিকে কাছে টেনে নিল তার ছোট্ট কাঁধে সান্ত্বনার স্পর্শ ছুয়ে দিলো মামুনি কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল
মামুনিঃ- আপু আমর বাড়িতে কেউ পড়তে পারে না বাপ দাদার অচল আর অভাব বলছে বিয়ে দিলে সহজ হবে। তাই আমি আমি বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে বাচাতে গিয়ে এত কষ্ট পাবে আমি বুঝিনি আমি তোমাকে ব্যাথা দিলাম আপু না চাইতেও।
ইলার চোখ ভিজে এলো ব্যথাটুকু যেমন কণ্ঠে শুনেছিল, শরীরে অনুভবেও আসে এমন এক ক্ষুধা ও অশান্তি ভেতরে ভাসে। মেয়েটা আর কিছু না বলে তার কাঁধে হাত রেখে বলল
ইলাঃ- চুপ করে থাক তুই কষ্ট পাস না তোকে বাচাতে পেরেছি এতেই আমি অনেক খুশি।
মামুনি বুকে মুখ লুকিয়ে কেঁদে উঠলো আর ইলাকে তার বাবা আজ তাদের বাড়ি গিয়েছিলো সেগুলো বলল তারপর বিদায় নিলো পায়ে পায়ে বাড়ি ফিরে গেলো। ইলা আর পরি দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ স্থির রইল মনটা ভরা আশার ও দুঃখের এক সঙ্গম।
দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরতেই রাশেদ নিজের হাতে ইলার জন্য খাবার রুমে নিয়ে এলেন। থালা সাজিয়ে সামনে রেখে বসে বললেন
রাশেদঃ- আম্মু নে খেয়ে নে, মন খারাপ করার কিছু নেই তোর বাবা সব সময় তোর পাশে আছে।
ইলা বাবার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে সব কথা মিলিয়ে কণ্ঠ ভেঙে বলল
ইলাঃ- আব্বু তুমি এত কিছু কেনো করতে গেলে?
রাশেদঃ- (হাত দিয়ে মেয়ের কপালে ছুঁয়ে)আমি তোমার বাবা ইলা। আমি আমার মেয়ের কষ্ট সইতে পারি না। তুমি সাহস দেখিয়ে একটা কাজ করেছো সেটার জন্য আমি গর্ব করি।
তুমি ভয় পেও না আমরা আছি তোমার পাশে।
ইলাঃ- (চোখে জল উঠছে ঠোঁট কাঁপে) আব্বু, আমি… আমি কেমন জানি মনে হচ্ছিল তোমাদের সম্মানে আঘাত লাগল। আমি ভাবিনি এত কিছু হয়ে যাবে।
রাশেদঃ- (হাসি খেলে) কিছু হয়নি রে মা তুই যা করেছিস মামুনির ভালোর জন্যই করিস। আর আমি আমার পরিবারের নাম হেফাজত করব এটা নিজে চিন্তা করতে হবে না। আজ তুমি যা করেছো তা সাহসিকতার নাম। আজ থেকে আমাদের দায়িত্ব হবে মামুনির পড়াশোনা, তার ভবিষ্যৎ দেখা আর যেনো কষ্ট না পায় মেয়েটা।
ইলা বাবার গলা জরিয়ে ধরলো ঠোঁট কাঁপে কাঁদতে কাঁদতে বলল
ইলাঃ- ধন্যবাদ আব্বু… আমি খুব কৃতজ্ঞ। আমি চেষ্টা করবো আরো এমন ভালো কাজ করার আমি চাই মানুষের জন্য কিছু করতে। কিন্তু আজ আমার জন্য তুমি যা করলে আমি কখনো ভুলবো না আব্বু।
রাশেদঃ- তোর এই মনটাই সাহসী রাখুক। আরে এবার খা, শক্তি নে এমন দিন অনেক আছে, কিন্তু এইটা মনে রাখিস তোর বাবা তোরই পাশে আছে।
ইলা খাওয়া শেষ করলো বিকেলে ইলার মা ইলার কাছে এসে কান্না করলো ইলাও কান্না করলো তার পরে মা মেয়ে একত্রিত হয়ে গেলো।
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা ইলার মাথায় সারাদিন ধরে একই চিন্তা ঘুরছে সবাই ওর উপর খেপে আছে। কিন্তু তবুও নিজের ভেতরে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করছে কারণ অন্তত অন্যায় থামাতে পেরেছে সে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিলো ইলা। স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠতেই শাওনের নামটা চোখে পড়ল কিছুক্ষণ দ্বিধা করল তারপর হঠাৎ দুষ্টুমি মাথায় এলো। ইলা ভাবলো “চল একটু মজা করা যাক শাওনের সাথে দেখি এই আজব ছেলেটা কি বলে।”
ইলাঃ- হ্যালো আসালামু আলাইকুম একটা কথা বলি?
শাওনঃ- ওয়ালাইকুম সালাম, না একটা কথা বলা যাবে না।
ইলাঃ- কেনো প্রশ্ন করলে ব্লক করে দিবেন নাকি?
শাওনঃ– আমি বেশি কথা বলতে পছন্দ করি না।
ইলাঃ- আপনার বিয়ে হয়ে গেছে?
ইলা এই মেসেজ দিয়ে ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয় এই বুঝি ব্লক মারলো। এক মিনিট কোনো উত্তর নেই তারপর হঠাৎ রিপ্লাই আসলো।
শাওনঃ- হ্যাঁ বিয়ে হইছে ৪ টা বাচ্চাও আছে হ্যাপি।
ইলাঃ- সত্যি বিয়ে হয়ে গেছে আপনার? এই যে মজা কইরেন না সিরিয়াসলি জিজ্ঞেস করছি।
শাওনঃ- ওহ সিরিয়াসলি তাহলে উত্তরও সিরিয়াস না, এখনো হয়নি তবে যারা আমাকে প্রপোজ করে তাদের লিস্ট বানালে তুমি ভয় পেয়ে পালাবে।
ইলাঃ- আমি তো আর কাউন্ট করতে চাই না।
শাওনঃ- তুমি কাউন্ট করলে আমারই লাভ। অন্তত জানবো কতজন আমাকে ভালোবেসে ছিলো।
ইলা একেবারে চোখ বড় বড় করে তাকালো
ইলাঃ- ধুর আপনি এমন কেনো?
শাওনঃ- কেমন?
ইলাঃ- থাক আপনার সাথে কথা বললে তো মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা আর একটা কথা বলি বাসায় লাস্ট কবে গেছিলেন?
শাওনঃ- আমার বাসা আমার সাথেই থাকে আমি যেদিকে যাই সেদিকেই যায়। লাস্ট তো এখনই।আমি তো বাসার ভেতরেই আছি।
ইলাঃ- আরে ওইটা না আমি বলতেছি বাবার বাড়ি মায়ের হাতের রান্না খাইছেন কবে লাস্ট?
শাওনঃ- ওহ আচ্ছা রমজানে গিয়েছিলাম দুই দিনের ছুটি তখন খেয়েছিলাম মায়ের হাতের রান্না।
ইলাঃ- তো আবার কবে যাবেন।
শাওনঃ- এইতো কিছু দিন পরে কুরবানির ঈদের ছুটিতে।
ইলাঃ- কত দিনের ছুটি?
শাওনঃ- ১০ দিনের ছুটি।
ইলাঃ- আচ্ছা আরেকটা প্রশ্ন করি?
শাওনঃ-………
ইলাঃ- আপনাদের তো ১ মাস ২ মাস ছুটি দেয় তাহলে আপনি এত অল্প দিনের ছুটি কেনো।
শাওনঃ- এই মেয়ে এইগুলো কি প্রশ্ন আজাইরা।
ইলাঃ- সরি বেশি প্রশ্ন করে ফেলেছি।
শাওনঃ- নেক্সট টাইম এই সব মেসেজ করলে ব্লক করে দিবো।
ইলাঃ- ইস আপনি বলেছেন আর ব্লক করবেন না।
শাওনঃ- আবার……
ইলা এবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মেজাজ গরম হয়ে গেল।
ইলাঃ- আপনি আসলেই আজব মানুষ।
শাওনঃ- ধন্যবাদ আমাকে স্পেশাল টাইপ বলার জন্য।
ইলাঃ- ধন্যবাদ নাই আপনি পুরাই ত্যারা মানুষ।
শাওনঃ- আচ্ছা প্রশ্ন শেষ হলো নাকি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মতো আরো বাকি আছে?
ইলাঃ- থাক আপনি কনফিউজিং মানুষ আমি তো ভেবেছিলাম আপনি নরমাল হবেন কিন্তু আসলে নরমাল না।
শাওনঃ- তুমি নরমাল লোক খুঁজতেছো তাহলে আমি বাদ। আমি এক্সট্রা-অর্ডিনারি।
ইলাঃ- উফফফ আপনি যেভাবে উত্তর দেন আমি তো গুলিয়ে যাচ্ছি সব।
শাওনঃ- গুলিয়ে যাওয়া ভালো তবেই তো আমাকে বুঝতে আবার চেষ্টা করবে।
ইলাঃ- না ধন্যবাদ আপনাকে বোঝার চেয়ে না বোঝাই ভালো।
শাওনঃ- কিন্তু আমি তো চাই তুমি আমাকে বুঝো। কারণ তোমাকে ছাড়া আর কেউ আমার এই আজব উত্তরগুলো সহ্য করবে না।
ইলা এক মুহূর্ত থেমে গেল বুকের ভেতর কেমন জানি করে উঠলো। শাওনের এই লাইনটা আলাদা হাসির আড়ালে যেন অন্য কিছু লুকানো।
ইলাঃ-আপনি সিরিয়াস না মজা করছেন?
শাওনঃ- তুমি চাইলে সিরিয়াস তুমি চাইলে মজা। আমি সবসময় তোমার মুডে অ্যাডজাস্ট করি।
ইলার গাল লাল হয়ে উঠলো তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিলো
ইলাঃ- থাক আপনার সাথে কথা বলে লাভ নাই ঘুমাই।
শাওনঃ- ঘুমাও আল্লাহ হাফেজ
ইলা ফোন অফ করে বালিশে মুখ গুঁজে ফেললো হাসি আর বিরক্তি মিলেমিশে অদ্ভুত একটা অনুভূতি। মনে মনে বললো“আজব মানুষটা সত্যিই আজব” ইলা হাসি মুখে ঘুমিয়ে পড়লো। সুন্দর একটা সকাল অপেক্ষা করছে ইলার জন্য।
পরের দিন সকালে জানালার পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো এসে পড়েছে ইলার মুখে। ঘুমের ঘোরে মোবাইলটা পাশে কাঁপতে লাগলো। আধো চোখে ফোনটা হাতে নিয়ে আনলক করলো সে। হঠাৎই চোখে পড়লো সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে একটা ভিডিও শাওনের নতুন পোস্ট।
ভিডিওর শুরুতেই শাওনের হাসি তার হাতে এক কাপ কফি পাশে টেবিলে রাখা একটা রিং শাওন বলল আজ আমার মায়াবতীর জন্মদিন আর কোনো এক জন্মদিনে আমি তাকে এটা গিফট করেছিলাম। কিন্তু আজ সে আমার থেকে অনেক দূরে। কিন্তু তার এই রিং আমার কাছে পড়ে আছে।
ইলার বুঝতে বাকি রইলো না এই মায়াবতী আসোলে কে ইলার বুকের ভেতর যেন কেউ হাতুড়ি মেরে দিলো। নিঃশব্দে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলো কয়েক মুহূর্ত। ঠোঁট শুকিয়ে গেলো গলা কেঁপে উঠলো।
“মায়াবতী মানে ওর জীবনে কেউ ছিলো?”
মাথায় হঠাৎ ঝড় বয়ে গেলো গতরাতে শাওনের ত্যারা ত্যারা উত্তরগুলো মনে পড়লো সব শব্দই এখন বিদ্রূপের মতো বাজছে কানে।
ইলা ধীরে ধীরে ফোনটা নামিয়ে রাখলো চোখের কোণে পানি জমে উঠছে বালিশের উপর টুপটাপ পড়ছে অশ্রু। ভেতরে এক ধরনের অসহায়তা যেন কারো কাছে কিছুই বলার নেই,শুধু বুকের ভেতর একটা শব্দ আটকে আছে কেন? ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পরি ঢুকে এসে বলে,
পরিঃ- এই খবর দেখছিস শাওন ভাইয়ের ভিডিও তে এই মায়াবতী কে?
ইলা মাথা নিচু করে থাকে পরি বুঝে যায় কিছু একটা ঠিক নেই।
পরিঃ- এই ইলা কাঁদছিস?
ইলা মুখ তুলে তাকায় চোখ লাল গলা ভারী হয়ে এসেছে।
ইলাঃ- পরি…সত্যি কি ওর লাইফে অন্য কেউ আছে।
পরি বালিশের পাশে বসে ওর কাঁধে হাত রাখে,
পরিঃ- এইটা নিয়ে কাঁদবি না এখন তো জানিস ওর লাইফে অন্য কেউ আছে এখন অন্তত ভুলে যা ওকে।
ইলা তাড়াহুড়ো করে চোখ মুছে নেয় কিন্তু কান্না থামাতে পারে না।
ইলাঃ- ভুলতে পারবো না পরি আমি তো অকে খুব করে ভালোবেসে ফেলেছি।
পরিঃ- ভুলে যা অকে এখন ওর লাইফে কেউ আছে ও তোকে পাত্তা দিবে না।
ইলাঃ- ও তো আমার নিশ্বাস মানুষ কি নিশ্বাস ছাড়া বাচে।
পরিঃ- বাদ দে তুই তোর নিজের কদরটা রাখ কান্না করে লাভ নাই।
ইলা নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কিন্তু চোখের পানি আবারও গড়িয়ে পড়ে পরি একটা টিস্যু এগিয়ে দেয়।
পরিঃ- চল মুখ ধুয়ে ফেল কিছু খা এভাবে নিজেকে শেষ করে ফেলিস না।
ইলা নিঃশব্দে উঠে যায় ওয়াশরুমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে ফ্যাকাশে মুখ, ভেজা চোখ, কাঁপা ঠোঁট নিজেকেই জিজ্ঞেস করে,
ইলাঃ- তুই এমনটা আশা করেছিলি ইলা শাওন এর ভিতরে কি আছে যে এত পাগলামি করছিস তুই।
আয়নায় প্রতিফলিত মুখটা কোনো উত্তর দেয় না শুধু চোখ থেকে আবারো গড়িয়ে পড়ে এক ফোঁটা জল। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পরিকে বলে
ইলাঃ- তুই ঠিক বলেছিস পরি কাউকে বেশি বিশ্বাস করাটা ভুল।
পরিঃ- তুই শক্ত হ এখন থেকে নিজের মতো থাক নিজের মতো সুখী হ।
ইলা মাথা নাড়লো কিন্তু মনটা তখনো ভারি। জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। মনে হলো আকাশও আজ তার সাথে কাঁদছে। তার বুকের ভেতর কেবল একটা কথাই প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো “মায়াবতী…”
আর প্রতিবার শব্দটা মনে পড়তেই বুকের কোথাও কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে উঠছিলো। ইলা বৃষ্টির সাথে গান বলতে শুরু করলো
গান— তাকে বলতে ইচ্ছে করে—
মনটা তারই সুরে অনুরাগিনী—
তবু বলতে গিয়ে আয় —
মনে পড়ে যায় অন্য কাহিনি —
ঘুম ঘুম এই আধারে—
চাই প্রেম যে তারে—
পরি ইলার পাশে এসে দারায় ইলা তারাতাড়ি করে চোখ মুছে ফেলে পরি ইলার কাধে হাত রেখে বলে
পরিঃ- তুই শাওনকে ভুলে যা না ও এখন অন্য কাউকে ভালোবাসে ওর জন্য কান্না করে কি হবে?
ইলাঃ- আমি অকে ভুলতে পারবো না রে কোনো দিন না। তবে ওর মায়াবতী এর কথা শুনে আমার অনেক কান্না পাচ্ছে।
পরিঃ- মরিচিকার পিছনে দৌড়ে লাভ নেই ইলা। অকে তুই কখনো পাবি না। আর্মিরা এমনি হয় গার্লফ্রেন্ড / বউ থাকার পরেও বলে না। আর যখন সেলিব্রিটি হয়ে যায় তখন বলে বউ আছে গার্লফ্রেন্ড আছে।
ইলা চুপচাপ দারিয়ে আছে পরি অনেক চেষ্টা করেছে ইলার মন ভালো করার কিন্তু পারেনি।
রুমের বাইরে থেকে এতক্ষণ যাবত পরি আর ইলার সব কথা শুনেছে ইলার মা। তবে এখন মেয়ের মন মানুষিকতা ভালো না তাই বাইরে থেকেই চলে গেলো।
অন্য দিকে শাওন বুঝলোই না তার একটা কথা কারো মন ভেঙে দিয়েছে সেতো তার মত আছে। ভিডিও বানাচ্ছে নিজের মত করে কিন্তু ইলা ফোন ছোয়েও দেখছে না। বিকেলে শাওন আবার তার মায়াবতী কে নিয়ে ভিডিও তে কথা বলল তার মায়াবতীর কি পছন্দ ছিলো কি খেতে ভালোবাসতো।
পরি ভিডিও দেখে বলল” এটা ইলা দেখলে আরো ভেঙে পড়বে” তাই পরি দ্রুত ইলার রুমে এসে ইলাকে বলল
পরিঃ- তোকে একটা কথা বলি
ইলাঃ- হ্যাঁ বল
পরিঃ- তুই শাওন কে ব্লক করে দে…
ইলাঃ- পারবো না রে আমি অকে ব্লক করতে।
পরিঃ- কেনো পারবি না ও তো তকে বার বার ব্লক করে দেয় তুই কেনো পারবি না।
ইলাঃ- তুই শাওন এর নতুন ভিডিও দিয়েছে তাই আমাকে এই কথা বলছিস তাই না।
পরিঃ- দেখ এখন ও প্রতিদিন ওর মায়াবতী কে নিয়ে কথা বলবে। হয়তো তার মায়াবতী ফিরেও আস্তে পারে তোর কষ্ট হবে তাই আমি চাই না তুই বার বার এইগুলো দেখে কষ্ট পাস।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৮
ইলাঃ- আচ্ছা ব্লক করে দিবো যা।
এই কথা গুলোর মাঝখানে ইলার মা এসে হাজির হলো, এটা দেখে ইলা পরি দুজনি অনেক ভয় পেয়ে যায়
সাবিহাঃ- কে কাকে ভূলে যাবে??
