ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২
মুশফিকা রহমান মৈথি
কাঞ্চনের পালানোর পুরো পরিকল্পনার উপর সরফরাজ পটনভী স্নিগ্ধ নামক সিমেন্টের বস্তা গরম পানি ঢেলে দিলো। কাঞ্চন তীব্র ক্ষোভ নিয়ে তাকালো দিকে। স্নিগ্ধের কি তাতে কি যায় আসলো? বোঝা গেলো না। লনের এদিকে আলো থাকলেও তার শুভ্র মুখে আলোটা ঠিক পড়ছে না। বিশাল আম গাছের ছাঁয়ায় ঢেকে থাকায় তার মুখোভাব দেখা যাচ্ছে না৷ তবে তার দৃষ্টি যে কাঞ্চনের দিকেই আবদ্ধ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ধাঁরালো দৃষ্টির আভাস কাঞ্চন দূর থেকেই টের পায়।
সরফরাজ পটনভীকে র্যাব অফিসার না হয়ে কুটনী খালার পদবী দেওয়াটাই শ্রেয়। এক ফোন আর গুষ্টি সমেত সব হাজির। বড় চাচা তো খুব ক্ষেপে গেছেন। আজকে কি ঘরের মেয়েদের পালানোর ম্যারাথন চলছে। একটু আগেই একটা পালিয়েছে এখন আরেকটা। কাজিনমহলও হাজির। কাঞ্চনের দেওয়ালের তারকাঁটায় এমনভাবে ঝুলে থাকা দেখে তারা যেন কিঞ্চিত হতাশ-ই হয়েছে। অবশ্য সানিয়া খুব আনন্দিত। মনে মনে বললো,
“ঠিক হয়েছে!”
কাঞ্চনকে মই দিয়ে নামানো হলো। পটনভী গুষ্টির প্রতিটা প্রৌঢ় একসাথে হুক্কাহুয়া করছেন। বিশেষ করে কাঞ্চনের বড় চাচা রফিকুল্লাহ পটনভী। গরম কণ্ঠে শাষাতে লাগলেন,
“এজন্য বলি মেয়েদের বেশি ছুট দিতে নেই। পাল্লা ধরে চুনকালি মাখাচ্ছে এরা। বাহিরের লোক শুনলে কি বলবে? আমাদের মেয়েরা খালি পালায়?”
অঞ্জনা হতাশ গলায় বললো,
“বাহিরের লোক কোথায় মামা? সব তো আমরাই। “দ্যা পটনভীস।””
মেজ কাকা সিরাজুল পটনভী খ্যাঁক খ্যাঁক বলে উঠলেন,
“”দ্যা পটনভীস” এর মধ্যেও আমাদের একটা আলাদা ভাব আছে। জুলফিকার পটনভীর শাখা আমরা!”
এটা হতে পারে! পটনভী বংশের তো আবার শাখার অভাব নেই। সব শাখা-প্রশাখার মধ্যে এই জুলফিকার পটনভী রওয়াভ একটু বেশি। যেখানে সম্মান বেশি সেখানে অপমানের ভয়ও বেশি। তবে জুলফিকার পটনভী শান্ত। তিনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কাঞ্চনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু কোনো কথা বলছেন না।
কাঁটাতারে লেহেঙ্গার খানিকটা ছিঁড়ে গেছে। একেই লেহেঙ্গা ছিঁড়লো উপর থেকে চাচাদের হাউকাউ। কাঞ্চনের লজ্জায় মাথা কাটা যাবার যোগাড়। আবার দেওয়ালের থেকে নামানোর সময় তার ঘাড়েও টান লেগেছে। অসম্ভব ব্যথা করছে। ফলে মাথা একদিকে হেলে রেখেছে। সোজা আর করতে পারছে না। রিদম তাকে নামিয়েছে। নামানোর পর পাশ থেকে চ সূচক শব্দ করে বললো,
“গাধী, পালাতেও পারিস না। এমনে কে ধরা পরে ভাই!”
সাথে সাথেই কাঞ্চন মুখ খিঁচিয়ে বলে উঠলো,
“পালাচ্ছিলাম কে বলেছে! আমি তো শুধু জাব উই মিটের কারিনার পালানোর সিন রিক্রিয়েট করছিলাম!”
সরফরাজ পটনভী এক কোনায় ভাবলেশহীন চিত্তে দাঁড়িয়ে ছিলো। কখন যে তার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে টেরও পেলো না কাঞ্চন। চমকে উঠলো যখন তার ভারী কণ্ঠ কানে এলো,
“সো স্যাড!”
কাঞ্চন প্রায় কেঁপে উঠলো সেই মেঘমন্দ্র গলায়। সেই সাথে রাগও হলো তার ভর্ৎসনায়। পেছনে ফিরে কঠিন চোখে তাকাতে চাইলো কিন্তু পারলো না তার আগেই জুলফিকার পটনভী বলে উঠলেন,
“অনেক হয়েছে! এই আলোচনার রশি এখানেই টানো। এখন বিয়ের প্রস্তুতি নাও।”
বড় চাচা রফিকুল্লাহ পটনভী অবশ্য কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। খুব কম এমন মুহূর্ত আসে যেখানে তার হম্বিতম্বি করার সুযোগ হয়। কিন্তু বাবার আদেশের পর তো আর বলার কোনো অবকাশ থাকে না। কাঞ্চনের প্রতি জুলফিকার পটনভীর এই দূর্বলতা তার পছন্দ হয় না। তার আশকারাতেই মেয়েটা এতো বেশি লাফায়।
কাঞ্চনের ইচ্ছে হলো মরে যেতে। কি এক বারো বিটকেল পরিবারে তার জন্ম হয়েছে! যেখানে তার কথার দাম নেই। একপ্রকার জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এখানে তার বলার কোনো জায়গা নাই। ফলে তরতর করে রাগ বাড়লো। তার থেকেও বেশি বিরক্ত লাগছে এই সিমেন্টের বস্তাটা তার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে বেতালের মতো। কাঞ্চন তো জানে এই লোক কাঞ্চনকে পছন্দ করে না। নিজের জীবনের তেইশটা বছর এই লোকটাকে সে দেখে এসেছে। এই তেইশটা বছরে সে তার দিকে তেইশটা বারও তাকায় নি। যতবার তাকিয়েছে সেই দৃষ্টিতে ছিলো কটাক্ষ, হীনতা। তাহলে আজ তাকে বিয়ে করার হেতু কি? এই লোক চায় কি!
কাঞ্চন হাটা শুরু করার পরও দেখলো তার ঠিক পেছনেই হাটছে সিমেন্টের বস্তা। বিরক্তিতে গা আরেকদফা জ্বললো। মাথাটা আরেকটু হেলে বললো,
“সমস্যা কি!”
উত্তর এলো না। হয়তো প্রয়োজনীয়তাবোধ করছে না সিমেন্টের বস্তা। পুরোটা রাস্তা বজ্জাতটা তার পেছনেই ছিলো। বিশাল খাম্বার মতো দেহটা নিয়ে পকেটে হাত গুঁজে নির্লিপ্ত চিত্তে হেটেছে। একদম দোতালার শেষ ঘরের কাছে যেতেই সে কেটে পড়লো। যাবার আগে হুকুম করলো সানিয়াকে,
“শুনে যা”
ঘরে ঢুকেই ধপ করে বসে পড়লো কাঞ্চন। ইচ্ছে হচ্ছে সব ভেঙ্গে ফেলতে। কিছুসময়ের মধ্যে সানিয়া হাজির আরেকটা লেহেঙ্গা হাতে। এই লেহেঙ্গাটার রঙ সোনালী। খুব ভারী কারুকাজ হলেও আগের লেহেঙ্গার মতোই মিহি কাজের। গায়ে কুটকুট করে না। কাঞ্চন কঠিন স্বরে বললো,
“তোরা কি দোকান খুলে বসেছিস? এতো লেহেঙ্গা আসছে কই দিয়ে?”
“এটা রিসিপশনের লেহেঙ্গা। ওইটা তো ছিঁড়ে জাত উড়িয়ে দিছিস। আমার ভাইয়ের বউ কি এখন ছেঁড়া লেহেঙ্গা পড়বে? আমার ভাইয়ের একটা সম্মান আছে। তোর মতো ফকিন্নি না!”
কাঞ্চনের ইচ্ছে হলো সানিয়ার কানের উপর থাবড়া দিতে। কিন্তু সেটা বাড়াবাড়ি হবে। তাই কঠিন গলায় বললো,
“কে বলেছে আমাকে বিয়ে করতে? ফয়িন্নিকে বিয়ে যখন করছে ফয়িন্নি ফয়িন্নির মতোই বিয়ে করবে।”
বলেই সানিয়াকে ধাক্কা মেরে ঘর থেকে বের করে দিলো। লেহেঙ্গা পালটে একটা সাদা ঢোলা টিশার্ট আর মোবাইল প্যাণ্ট পড়লো। গলায় ঝুলালো স্কার্ফ, যা তার নিত্যদিনের বেশভূষা।
যখন সে দরজা খুলে বের হলো, তখন কাজিন মহলের সবাই থ। কে বলবে এই ছেড়ির বিয়ে হবে? অঞ্জনা হতাশ গলায় বললো,
“তুই এভাবে বিয়ে করবি!”
“হ্যা!”
“পাগল হয়ে গেছিস তুই?”
“পাগল ছিলাম না কবে!”
বলেই তার সব মেকাপ তুলতে লাগলো। বিয়ে যদি করতেই হয় তার টার্মস এন্ড কন্ডিশনেই হবে। সে কখনোই ওই সিমেন্টের বস্তার জন্য সাজবে না৷ যখন মেকাপ তুলছিলো রিদম তাকে খুঁচিয়ে বললো,
“এজন্য বলেছিলাম আমার সাথে প্রেম কর। অন্তত বলতে পারতি আমি রিদমকে ভালোবাসি, স্নিগ্ধ ভাইকে বিয়ে করবো না!”
কথাটা মাটিতে ফেলার সুযোগ দিলো না পৃথুলা পটনভী। চিঁ চিঁ করে বলে উঠলো,
“ওরে আমার প্রেমিক। তোর মতো আস্তো একটা আবালের সাথে প্রেম করার থেকে বুড়িগঙ্গায় ঝাপ দেওয়া ঢের ভালো।”
রিদমও পৃথুলাকে দম ফেলার সুযোগ দিলো না। সাথে সাথেই বলে উঠলো,
“তুই বুঝবি কেমনে আমার ভালোত্ব! শাকচুন্নি কোথাকার!”
“জুতা খাবি কিন্তু রিদম। মুখ সামলা!”
“আয় মার! আমারও হাত আছে! শালা আমি আবিয়াত্তা থাকলেও তোকে কোনোদিন বিয়ে করবো না। শাকচুন্নি একটা। শালা ভাগ্যটাও খারাপ। এমন পরিবারে জন্ম যেখানে বিয়ে করতে হয় এমন দজ্জাল মেয়েদের। তাও আমাদের জেনারেশনের একটা মেয়ে যদি বউ টাইপ হয়! সবকয়টা শাকচুন্নী। আবার গলায় তো এগুলোর একটাকেই ঝুলাতে হবে। এই তোরা ভালো হতে পারিস না?”
“এহ তোমাদের মতো আখাস্তাদের জন্য আমার জুতাও ভালো হবে না!”
কাঞ্চন বিরক্তি নিয়ে তাকালো। কে বলবে এদের মধ্যে প্রেম ছিলো। অবশ্য প্রেমটা কি আদৌও প্রেম? সাতদিন এদের মধ্যে কিছু একটা ছিলো। যখন তারা জানিয়েছে তারা একে অপরের সাথে “ইন রিলেশনে” তখন সবাই আকাশ থেকে পড়েছিলো। রিদম তখন বলেছিলো,
“বিয়ে তো ঘরের মধ্যেই করতে হবে! কেননা এখন থেকেই প্রেম করে লাইনঘাট ক্লিয়ার রাখি। বিয়ের সময় নয়া দাদাজানের সামনে প্রেমিকা দেখিয়ে বলবো,
“এই বোনটাকে আমার চাই!”
ব্যাস কাহিনী খাত্তাম!”
কাহিনী অবশ্য তাদের-ই সাতদিনে খতম হয়েছিলো। তারপর থেকে দুজন দুজনের শত্রু। প্রেম হল কখন, ব্রেকাপ কেন হলো কেউ জানে না। এখন কেউ কাউকে দেখতে পারে না। রিদম একদলা থুথু জানালা দিয়ে ফেলে বললো,
“তা হবি কেন? আমার মা খালাদের দেখেছিস? এক একটা জেমস। পটনভী পরিবারের এই জেনারেশনটাই একটা অসহ্য!”
“আমাদের বাপ-চাচারাও না তোদের মতো আবাল না!”
“তাই নাকি! সালমান কাকার মতো হতে বলছিস?”
কথাটা বলেই জিভ কাটলো রিদম। সালমান পটনভী অর্থাৎ কাঞ্চনের বাবা। তার কথা এ বাড়িতে তোলা বারণ। কাঞ্চন একটু হেলেদুলে উঠলো। তার মুখে জমলো কালো মেঘ। সাথে সাথেই পৃথুলা ক্ষেপে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“শুধু শুধু তোরে আবাল বলি!”
অঞ্জনা সাথে সাথে কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলো,
“তা আমাদের যখন ভালো লাগে না আমাদের বিয়ে করতে হবে না তোর। বাহিরে বিয়ে করবি। টু বি অনেস্ট এই পরিবারের মধ্যে বিয়ে করা আমার খুব ট্যাকি লাগে। নবাবী রক্ত যদি অক্ষত রাখতেই হয় তাহলে সেটাকে স্প্রেড করা ভালো না? একদিন তো এমন নিজেদের নিজেদের মধ্যে বিয়ে করতে করতে দেখা যাবে আমরা দলা পাকিয়ে ছোট হয়ে যাবো। এক কাজ কর রিদম, তুই বরং বাহিরেই বিয়ে কর। এমনেও আমরা কেউ তোকে বিয়ে করছি না।”
রিদম মাথাটা পেছনে হেলিয়ে বললো,
“শোন! ভ্যা ভ্যা করিস না। এখন পটনভী পরিবারে তাই হয় যা আমাদের নয়া দাদাজানের ইচ্ছে। স্নিগ্ধ ভাইয়াও বলেছিলো সে বোনদের বিয়ে করবে না। কাজে দিলো? কাঞ্চন ওর গলায় ঝুলছে! মাগার একটা প্রশ্ন, স্নিগ্ধ ভাইয়া আমাদের মধ্যে হটেস্ট পটনভী তাও মেয়েরা পালায় কেন?”
“কারণ উনার স্বভাব!”
এতো সময় পর মুখ খুললো কাঞ্চন। সে নিজের চুলগুলো পনিটেইল করলো। একটা কটকটা লাল লিপস্টিক দিয়ে বললো,
“উনার স্বভাবেই উনার বউ টিকবে না। আমিও টিকবো না। আমিও পালাবো। লিখে রাখিস!”
কনের এমন আতরাঙ্গি সাজে পটনভী বংশে আরোও একদফা হুক্কাহুয়া হলো। বড়ফুপু প্রায় কেঁদেই বললেন,
“তুই দেখি সত্যি সত্যি বান্দরি সেজে আসছোস! আয় হায়! এডি কি পড়ছোস। কে বলবে তুই বউ!”
“আমি তো বউ না। বিয়েটাও আমার না। আমি তো প্রক্সি দিচ্ছি। না, সরি শাস্তি পাচ্ছি। তাহলে শাস্তিটা একটু আরামদায়ক ওয়েতেই পাই। কথা হচ্ছে বিয়ে করার, কবুল বলার। আমি সেটাই করবো না হয়। কিন্তু আর কোনো এক্সপেক্টেশন আমার উপর তোমরা রাখবে না। এখন তোমাদের আপত্তি থাকলে বলো, আমিও বাঁচি!”
কাঞ্চনের স্পষ্ট কণ্ঠে তাকে বেয়াদব, উগ্র বলতেও দুবার ভাবলো না কেউ। এতে কাঞ্চনের কিছু যায় আসে না। সে তো এমনেই দোষী। অবশ্য সরফরাজ পটনভী তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো সাদা ঢোলা গেঞ্জি আর মোবাইল প্যান্ট পড়া মেয়েটার দিকে। তার দৃষ্টি শান্ত। বড় চাচা আবার বকা শুরু করলেন। এবার কাঞ্চন একটুও গা করলো না। কারণ লাভ নেই। জুলফিকার পটনভী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মেয়েটা বরাবর ই জেদী। তাই বেশি জেদ করাটা হয়তো উচিতও হবে না। তাই নির্দেশ দিলেন বিয়ে পড়ানোর। বিয়ের কার্য শুরু হলো। কবুল বলার সময় সরফরাজ একদফা তাকালো তার হিপ্পি বউয়ের দিকে। ভারী স্বরে বললো,
“কবুল!”
যখন কাজী সাহেব কাঞ্চনকে শুধালেন,
“বল মা, দশ লক্ষ টাকা দেনমোহরে দেলোয়ার পটনভীর পুত্র সরফরাজ পটনভীর সাথে বিবাহতে তুমি রাজী। রাজী থাকলে বলো কবুল!”
কাঞ্চন প্রথম দুবার চুপ করে রইলো। শেষবার যখন শুধালো কাজী সাহেব তখন সে বলে উঠলো,
“বাধ্য হয়ে কবুল!”
এমন আতরাঙ্গী বিয়ে বোধ হয় পটনভী পরিবারে এই প্রথম হচ্ছে। একেই কনের অদ্ভূত হিপ্পি বেশভূষা, উপর থেকে বলে কি না “বাধ্য হয়ে কবুল!”
অন্যান্য শাখা প্রশাখার পটনভীরা বেশ কানাঘুষা করলো। হাসাহাসিও হলো। সরফরাজ পটনভী কবুল বলার পর পর ই কোথায় যেন বেরিয়ে গেলো। বড় ফুপু সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সানিয়া কাঞ্চনকে ঠেস দিয়ে বললো,
“এখন কি তোকে ভাবি বলতে হবে!”
“অবশ্যই, তোমার ভাইয়ের বউ আমি!”
“কাজটা ভালো করলি না।”
“আমার সাথে যা হয়েছে তার তুলনায় খুব কম। তোমার ভাইয়ের জীবনকে এখনো ম্যাজিক মামুনী করা বাকি!”
ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ১
বড়দের আদেশে কাজিনমহল একপ্রকার ঠেলেঠুলে স্নিগ্ধের ঘরে নিয়ে এসেছে। নতুন বউয়ের এই আঁচার টাচার একেবারেই সহ্য হচ্ছে না কাঞ্চনের। শেষ কবে তিনতালার এই ঘরে এসেছিলো সে? মনে নেই। এই ঘরটাকেও প্রচুর ঘৃণা করে। সেই সাথে ওই সিমেন্টের বস্তাকেও। মানুষটা যে ঘরে নেই এটাই রক্ষে। থাকলে কি করতো কাঞ্চন! বিয়ে তো হয়ে গেছে। এখন এই বিয়ে থেকে রক্ষা পাবার উপায় কি! ভাবতে ভাবতেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। চেঞ্জ পর্যন্ত করলো না। কখন ঘুমিয়ে গেছে তার খেয়ালও রইলো না। ঘুমটা ভাঙ্গলো যখন টের পেলো তার কানের কাছে কেউ গাঢ় নিঃশ্বাস ফেলছে। চমকে উঠলো সে। সারা শরীর ঘেমে গেলো নিমিষেই। নিঃশ্বাস আটকে যাবার যোগাড়। তখন ই গাঢ় স্বর কানে এলো,
“আর ইউ এফ্রেইড অফ মি, কাঞ্চনজঙ্ঘা?”
