Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১১

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১১

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১১
তাসনিয়া নুর

মাহির আর কারো কথায় কান দিলো না টুকুস করে গিয়ে এক স্লাইজ পিজ্জা মুখে পুরে নিলো । মাহিরের দেখা দেখি সবাই গিয়ে খাওয়া শুরু করে। আহির আর আবইয়াজ নিজেদের কপালে চাপর দিয়ে বলে এদের দাড়াই সম্ভব । অতপর আহির ও আবইয়াজ ওদের সাথে যোগ দিলো। আড্ডায় মশগুল থাকায় ঠিক কতটা সময় ব্যয় হলো জানা নেই। আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার ভাব সূর্য প্রতিদিনের মতো নিজ নিয়ম অনুসারে অস্তিমিত হচ্ছে চারদিকে লাল একটা আভা ফুটে উঠেছে । ঠিক সেই মুহূর্তে চারপাশ থেকে আজানের ধ্বনি শুনা গেলো । হঠাৎ মেহুর কি হলো সে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায় । প্রত্যেকে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকায় যেনো চোখ দিয়ে জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে? মেহু কিছুটা ইতস্তত করে আওড়ায়,

— আসলে আমার একটু খারাপ লাগছে তাই নিচে চলে যাচ্ছি। তোমরা থাকো হ্যাঁ ইনজয়।
নিজের কথা শেষ করে আর এক মূহুর্ত অপেক্ষা করলো না করো জবাব শুনার, দ্রুত পায়ে স্থান ত্যাগ করে। পিছনে রেখে যায় স্তব্ধ কয়েক জোড়া দৃষ্টি ।
মাহির খাবার চিবাতে চিবাতে সবিস্ময়ে বলে
— খাবার সামনে রেখে মেহু চলে গিয়েছে। এ ও বুঝি সম্ভব?
মাইরার কিছু একটা মনে পড়তেই সে চিত্রার হাত ধরে ভীতু স্বরে,
— আমি শুনেছি জীন নাকি আজান এর শব্দে ভয় পায় ।
মাইরার কথা শুনে মাহিরের খাবার গলায় আটকে গেলো । সে খুক্‌খুক্‌ কাশতে কাশতে বলে উঠে
— তার মানে!!!!
— তোরা একটু বেশিই বুঝিস। শুধু শুধু বেচারি মেয়েটাকে নিয়ে এমন করছিস । (নির্লপ্তে উত্তর আবইয়াজের)
— তোমার কেনো জ্বলে বন্ধু তোমার কোনো জ্বলে ।
আহিরের গান শুনে বিরক্তি প্রকাশ পায় আবইয়াজের মুখে। মাইরা একমনে ভেবে বলে

— আচ্ছা টিভি মুভি বাস্তবে অনেক শুনেছি জিনে ধরলে নাকি ওই উঝা বাবা কি জানি ওগুলোকে দিয়ে ঝাড়ায় মানুষ । চলো আমরা ও আনি।
— থুর যত্তসব ভন্ড । ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই জানেনা ।
আহিরের সাথে সায় জানায় মাহির । চিত্রা উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে,
— তাহলে তো একঢিলে দুই পাখি মারা যায় । দেখো আমরা ওই লোককে আনব যদি দেখি লোকটা ভন্ড তাহলে আমরা ওকে এক্সপস করে দিবো। কি বলো সবাই?
কিছুক্ষণ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হলো ফেমাস একজন চুংলি বাবা আছে তাকে আনা হবে।
মাইরা চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে

— কিন্তু কিভাবে সম্ভব? বাসায় তো সবাই থাকবে।
— উহু শুনেছি কালকে নাকি আব্বুর কোন রিলেটিভের বিয়ে সেখানে যাবে। এই ভালো সময় সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবেনা ।
আবইয়াজ হাই তুলে বলে যা ইচ্ছা কর তবে ওইদিনের মতো আবার বাঁশ খেয়ে বসে থাকিস না। চিত্রা মুখ ভেংচি মেরে বলে
— হয়েছো তো সবকটা ভীতুর দল । তোমাদের কি দেখে যে মেয়েরা এতো লাফায় বুঝিনা বাপু ।
— তোর মতো গরু কি বুঝবে চিকেনের টেস্ট ।
আহিরের জবাবে চিত্রা রেগে যায়। পাশ থেকে মাহির বলে উঠে
— শুরু হয়ে গিয়েছে এদের ওয়াজ মাহফিল । আল্লাহ তুমি এই ওয়াজে বরকত ঢেলে দাও।
আবইয়াজ, মাইরা, মাহির একসাথে বলে উঠে
— আমিনননন…… ।

পরদিন বাড়ির বড়রা তাদের দাওয়াত চলে গিয়েছে। সারাটা দিন কোনো রকমে পার করলো আহিররা। বাহিরে যত সন্ধ্যা গড়িয়ে আসছে চিত্রা আর মাইরার ধুকধুক ততই বেরে যাচ্ছে । রাত ঠিক এগারোটায় বাসার কলিংবেল বেজে উঠে। চিত্রা, আবইয়াজ, মাহির, মাইরা ধীর পায়ে এগিয়ে যায় দরজা খুলার জন্য। হল রুমের লাইট নিভানো চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন । আবইয়াজ দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে আছে চুংলি বাবা তার সাথে তার চেলা হাকিম । দুজনের পরনে কালো পাঞ্জাবি সাদা লুঙ্গি। চুংলি গলায় একখান মালা ।
সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় হাকিম বলে উঠে,
— বেয়াদপ তোরা চুংলি বাবার পায়ে ধরে সালাম কোনো করছি না । তোরা জানিস উনার পা ধরার জন্য কত মানুষ সিরিয়াল দাঁড়িয়ে থাকে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাহির বলে উঠে

— সবইতো বুঝলাম কিন্তু উনার শরীর থেকে এমন পাদের গন্ধ আসছে কেনো?
— উনি আটদিন ধরে গোসল করেননি তাই ।
ফট করে কথাটা বলে ফেলায় নিজের জিহ্বায় কামড় দেয় হাকিম । চিত্রা মাইরা মুখ টিপে হেসে উঠে । চুংলি হাকিমের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে উঠে ।
আবইয়াজ জিজ্ঞাস করে,
— এতো দেরি হলো কেনো আসতে।
— ওই মূর্খ তোরা জানিস বাবার কত কাজ থাকে?
— না জানিনা জানলে কি জিজ্ঞেস করতাম?
আবইয়াজের উত্তরে থতমত খেয়ে যায় হাকিম। মাহির ওদের ভিতরে আসতে বলে । পা টিপে টিপে উপরে যাচ্ছে সবাই, হুট করে একটা তেলাপোকা দেখতেই মাইরা চিৎকার দিয়ে উঠে। মাইরার চিৎকার শুনে চিংলু হাকিমের কোলে উঠে যায়, আবইয়াজ মাইরার মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বলে
— এভাবে চিৎকার কেনো করছিস?
— তেতে… তেলাপোকা ।
তারা আর কিছু বলার আগেই আবইয়াজের দৃষ্টি যায় আধো আলোকিত হাকিম আর চিংলুর উপর।আবইয়াজ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে

— আপনি এভাবে উনার কোলে কেনো উঠেছেন।
হাকিম গলা খাকারি দিয়ে,
— উনার পায়ে ব্যথা করছে তাই ।
আবইয়াজ আর কিছু জিজ্ঞেস না করে উপরে দিকে হাঁটা ধরে তার পিছু পিছু মাইরা, চিত্রা, মাহির উঠতে শুরু করে। হাকিম ফিসফিস করে চিংলুর কানে কানে বলে
— উস্তাদ আজ আমার মনে কেমন খটকা লাগতেছে । সত্যি সত্যি এই বাড়িতে কিছু আছে নাকি? বাড়িডা দেখতেই কেমন জানি ভুতুরে লাগতেছে এই বন্ধকারে ।
— চুপ কর বেশি কথা কইছ না ধরা পরে যামু পরে।
মেহুর রুমে যাওয়ার আগে আহিরের রুম ক্রস করে যেতে হয়। চিংলু সকলকে পিছনে ফেলে নিজে আগে আগে সামনে দিয়ে যাচ্ছেন। আহিরের দরজা ক্রস করার সময় হুট করে আহির দরজা খুলে ‘ভাউউউ’ দেয় । চিংলু ভয়ে আবারো হাকিমের কোলে উঠে পরে । আহির রুম থেকে বের হয়ে ঠেস মেরে বললো,
— পিংকি বাবা আপনি সামান্য একটা জিনিসে ভয় পেয়ে গেলেন? তাহলে আমাদের মেহুকে কিভাবে সামলাবেন? সে যে আরও ভয়ংকর।
কথাটা আহির ভয় দেখিয়ে বলে । হাকিম ও চিংলু ভয়ে শুষ্ক ঢুক গিলে হালকা গলা ভিজানোর প্রয়াস । চিংলু বুক ফুলিয়ে বললো,

— এই পিংকি কাউকে ভয় পায়না।
— উস্তাদ পিংকি না চিংলু ।
“এতো কথা না বলে সামনে চলো” কথাটা বলে বুক ফুলিয়ে হাঁটা ধরলো। মেহুর দরজা আস্তে করে খুলতেই দেখে একটা মেয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রুম অন্ধকার শুধু ড্রেসিন টেবিলের উপর মোবাইল ফ্ল্যাশ অন করে রাখা । দরজার খুলার আওয়াজ শুনে মেহু পিছনে ঘুরতেই চিংলু বুকে হাত দিয়ে ‘ওও মাগোও’ চিৎকার করে দেয় উল্টো দিকে ভোঁদৌড় । মেহুর মুখ সবুজ কালার হয়ে আছে চোখ দুটি লাল, ঠোঁটের কাছে লাল লাল কি যেনো। চিংলু কে এভাবে দৌড়াতে দেখে একে একে সকলে তার পিছু ছুটে। চিংলু লুঙ্গি ধরে সারা ঘর দৌড়াচ্ছে তার পিছু পিছু সবাই দৌড়চ্ছে ।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১০

দৌড়ানোর সময় মাহির চিংলুর সামনে পরে তাকে দেখে চিংলু আরো জুড়ে চিৎকার দেওয়ার ফলে মাহির তার. সাথে চিৎকার দিয়ে উঠে। পিছনে থাকা আবইয়াজ মুখ থুবড়ে নিচে পরে যাওয়ার সময় চিংলুর লুঙ্গি ধরে টান মারে যার ফলে তার লুঙ্গি নিচে খুলে পরে যায়।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১২