Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৫

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৫

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৫
তাসনিয়া নুর

অনোয়ার মির্জা গাছের দিকে তাকিয়ে দেখলেন গাছের উপর কেউ নেই ।আনোয়ার মির্জা কোল থেকে সাফিন মির্জাকে ঠাস করে নিচে ফেলে দিলেন ।অতর্কিত এভাবে ফেলে দেওয়ার ফলে সাফিন মির্জা কোমর চেপে ধরে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলেন। আনোয়ার মির্জা এবার কড়া গলায় বললেন,
— কোথায় তোমাদের ভূত? এই গভীর রাতে ফাজলামো করার আর জায়গা পাওনি?
— কিন্তু বড় আব্বু…

মাহির কোনোমতে কিছু বলতে চাইলেও আনোয়ার মির্জা তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সবাইকে বিস্ময়ের সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে ঘর থেকে হাই তুলতে তুলতে জারুল গাছের নিচে এসে হাজির হলো মেহু আর ননি। তাদের দেখে মাহিরের চক্ষু চড়কগাছ! সে ‘ওমাগো’ বলে এক বিকট চিৎকার দিয়ে আবারো পাশে থাকা অর্ককে সজোরে এক লাথি বসিয়ে দিল। মাইরা আতঙ্কে চিত্রার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। নিমিষেই শান্ত পরিবেশটা আবার বিশৃঙ্খল হয়ে উঠল।
মেহু আর ননিকে সুস্থ শরীরে হেঁটে আসতে দেখে আব‌ইয়াজের চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। ওরা তো গাছের ওপর ছিল, তবে ঘর থেকে বের হলো কীভাবে? কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে আব‌ইয়াজ জিজ্ঞেস করল,
— তোরা তোরা ঘর থেকে বের হলি কীভাবে? তোরা না এতক্ষণ গাছের ওপর ছিলি?
আব‌ইয়াজের কথা শুনে মেহু ভ্রু কুঁচকে বলল,

__আমার মাথা খারাপ নাকি? আমি কেন এত রাতে গাছে উঠতে যাব? আমি তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম, এই তো মাত্র উঠলাম।
— তুই আর ননি না এতক্ষণ গাছের ডালে বসে চিকেন খাচ্ছিলি?
আবয়াজের বিস্ময় যেন কাটছেই না।
ননি এবার টিপ্পনী কেটে উত্তর দিল,
__ভাইয়া, আপনি বোধহয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন।
ননির কথা শুনে মাহির খেপে গিয়ে বলল,
__আবয়াজ না হয় স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু আমরা সবাই মিলে কি তবে একই স্বপ্ন দেখলাম?
তর্কাতর্কির মাঝেই আনোয়ার মির্জা চরম বিরক্তিতে ফেটে পড়লেন। আঙুল উঁচিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বললেন,
__আরেকদিন যদি তোদের এই অহেতুক চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে সব কটাকে এই গাছে সারা রাত উল্টো করে বেঁধে রাখব!
এই কঠোর হুমকির পর তিনি হনহনিয়ে ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। তার পিছু পিছু আইয়ুব মির্জা আর কোমর ঘষতে ঘষতে সাফিন মির্জাও প্রস্থান করলেন। মাহির দুরুদুরু বুকে ধীরে ধীরে ননির কাছে এগিয়ে গেল। ভয়ে ভয়ে একবার ঢোক গিলে ননির নাক স্পর্শ করে যাচাই করতে চাইল সে মানুষ না অন্য কিছু। ছোঁয়া লাগামাত্রই এক লাফে অনেকটা দূরে সরে গিয়ে বিড়বিড় করল,

__মানুষ থেকে ভূত, আবার ভূত থেকে মানুষ… এ তো এলাহি কাণ্ড!
ননি মাহিরের এমন উদ্ভট কাণ্ড দেখে মুখ ভ্যাংচিয়ে বলল, __পাগল!
বলেই সে গটগট করে ভেতরে চলে গেল।ধীরে ধীরে সবাই সেখান থেকে প্রস্থান করল। সবাই চলে যেতেই মাইরা অপরাধবোধ নিয়ে হাত কচলাতে কচলাতে অর্কর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মিনমিন করে বলল,
__সরি , আসলে আমি হঠাৎ করে ভয় পেয়েছিলাম তাই আরকি….
মায়রা অর্ককে ধরতে গেলে সে এক ঝটকায় নিজেকে সরিয়ে নিয়ে কাদুকাদু কণ্ঠে বলল,
__থাক ব‌ইন, তোর আর সরি বলতে হবে না। অনেক হয়েছে, এবার ঘরে গিয়ে ঘুমা।
অর্ক তাকে এড়িয়ে গটগট করে চলে গেল। মাইরা সেখানে একা দাঁড়িয়ে রইল। অভিমানে তার দুচোখ ভিজে এল। আপনমনে বিড়বিড় করে বলল,

__হ্যাঁ, এখন তো আছি, তাই আমার কোনো মূল্য নেই। যেদিন চলে যাব, সেদিন বুঝবে মায়রা কী ছিল হুহ!
ভোরের সোনালি রোদ্দুর জানলার কাঁচ ভেদ করে সটান এসে পড়েছে আব‌ইয়াজের মুখের ওপর। ঘুমের ঘোর যেন কাটতেই চাইছিল না। বহু কষ্টে দুচোখের পাতা মেলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসল সে। আলস্যমাখা শরীরে হাত-পা টানটান করে গায়ের কম্বলটা সরিয়ে পা রাখল স্লিপারে। তারপর ধীর পায়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল।খানিকক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে বিছানা থেকে-শার্টটা টেনে নিয়ে গায়ে জড়িয়ে নিল আব‌ইয়াজ। ঘর থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ আহিরের ঘর থেকে বিটকেল এক কাশির শব্দ কানে এল— ‘খুক খুক’ শব্দটা যেন থামতেই চাইছে না। কৌতূহলবশত আব‌ইয়াজ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
— কিরে, সাতসকালে ঠেলাগাড়ির মতো আওয়াজ করছিস কেন?

আহির বেচারা তখন নাজেহাল অবস্থায়। টিস্যু দিয়ে নাক মুছতে মুছতে ক্লান্ত স্বরে উত্তর দিল,
— আর বলিস না ভাই,কাল রাত থেকে আমার নাকের ‘ডায়েরিয়া’ শুরু হয়েছে। কত ওষুধ গিললাম, কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। পেটে চাপ দিলে ওয়াশরুমে গেলে পরতেই থাকে ঠিক সেভাবে পরছে । নাক মুছতে মুছতে অবস্থা খারাপ , আর পারছিনা ।
__ তো এক কাজ কর চেটেপুটে খেয়ে ফেল ।
আহির নাক সিটকে বলল,
___ তোর শখ থাকলে আয় তোকে খাইয়ে দেই আমার নাকের গু ।
___ তুই খা তোর নাকের এমনকি নিচের গু সালা মুতুরা ।
এ পর্যায়ে আহির চুপ হয়ে গেল।কালকে রাতের সেই ঘটনার পর থেকে আব‌ইয়াজ তাকে এ নামে ডাকছে ।

খাবার টেবিলে তখন সকালের নাস্তা খাওয়ার ধুম পড়েছে। আব‌ইয়াজের ঠিক উল্টো পাশেই বসেছে মেহু। মেহু খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে চোরের মতো তাকাচ্ছে আব‌ইয়াজের দিকে। কিন্তু বিধি বাম! আবারও তাকাতেই আবয়াজের তীক্ষ্ণ নজরের সাথে তার চোখাচোখি হয়ে গেল। মেহুকে অপ্রস্তুতে ফেলতে আব‌ইয়জ এক মুহূর্ত দেরি না করে ঠোঁট গোল করে একটি ‘ফ্লাইং কিস’ ছুড়ে দিল।
এমন অতর্কিত কাণ্ডে মেহু রীতিমতো হকচকিয়ে গেল। হৃদপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল তার। পরক্ষণেই মাথা নিচু করে থালার খাবারে মনোযোগ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল সে। মেহুর এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে আবয়াজের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে বিজয়ের হাসি; সে পরম তৃপ্তিতে আবার খাওয়া শুরু করল।
নাস্তা পর্ব শেষ করে ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই সবার কপালে ভাঁজ পড়ল। বাড়িতে এসেছে আহনাফ এবং তার বাবা-মা। সাতসকালে এই অনাহূত অতিথিদের দেখে উপস্থিত সবার মনেই খটকা লাগল। তবে ননি বেশ খুশি মনে আহনাফের মায়ের কাছে গিয়ে বলল,

— আরে মামি,আপনি এখানে?
— হ্যাঁ রে মা, একটা বিশেষ কাজে এদিকে আসা।
কুশল বিনিময় শেষে সবাই যার যার আসনে বসল পরিবেশটা থমথমে হয়ে উঠল। আবয়াজ শুরু থেকেই সতর্ক দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিল। আহনাফ ও তার বাবা-মায়ের আগমনের নেপথ্য কারণটা আন্দাজ করতেই অজান্তেই তার হাতের মুঠি শক্ত হয়ে এল।
বেশ কিছুক্ষণ নিরর্থক কথার পর আহনাফের বাবা গলা পরিষ্কার করে আসল প্রসঙ্গে এলেন। হালকা হেসে তিনি বললেন,

— আসলে যে উদ্দেশ্যে আসা সেটা খুলেই বলি। আমার ছেলে আহনাফ আপনাদের মেহুকে ভীষণ পছন্দ করে এবং ও মেহুকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে চায়। এই ব্যাপারে আপনাদের মত কী?
ভদ্রলোকের প্রস্তাব শুনে সাফিন মির্জা কিছুটা বিব্রতবোধ করতে লাগলেন। নিজের কলিজার টুকরো মেয়েকে এখনই পর করে দেওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। মনে মনে চেয়েছিলেন মেয়েকে কোনো এক ভাইয়ের ছেলের হাতে তুলে দেবেন, কিন্তু সাহসের অভাবে মুখ ফুটে কখনও বলতে পারেননি। সাফিন মির্জার মনের এই অস্বস্তিটুকু বুঝতে পারলেন বড় ভাই আনোয়ার মির্জা। তিনি গুরুগম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন

__ আমাদের মেয়ে এখনো ছোট এখন‌ই ওকে বিয়ে দেওয়ার কথা আমরা চিন্তা করছি না।
আহনাফের বাবা স্মিত হেসে প্রতিউত্তরে বললেন,
— আরে ভাই, সেটা কোনো সমস্যাই না। আমরা না হয় আপাতত কেবল আকদ করিয়ে রাখলাম। পরবর্তীতে আপনারা যখন চাইবেন, তখন ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করে মেয়ে তুলে নিয়ে যাব।
আনোয়ার মির্জা কিছুটা ভাবুক হয়ে বললেন,
— আপনার কথা যুক্তিযুক্ত। তবে তার আগে আমাদের মেহুর সাথে কথা বলতে হবে। ও যদি রাজি থাকে, তবেই আমরা এগোতে পারি।
তাদের এই কথোপকথন আব‌ইয়াজের কানে যেন তপ্ত সিসার মতো বিঁধছিল। রাগে তার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরা ফুলে উঠেছে, চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। নিজের প্রচণ্ড ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে সে দুই হাতের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। তার স্থির দৃষ্টি তখন আহনাফের দিকে ।
আহনাফ বাঁকা হেঁসে আব‌ইয়াজের দিকে তাকিয়ে চোখ মারল । আব‌ইয়াজের ইচ্ছে করছিল এটাকে এখন‌ই টপকে দিতে । এদিকে আহনাফকে চোখ মারতে দেখে মুখে হাত দিয়ে ফেলে কাজের বোয়া সালেহা । সে জিহ্বা কেটে বিড়বিড় করে বলল,

__ এই পোলা দেহি আব‌ইয়াজ বাবারে চোখ মারে এই পোলার চরিত্রে মনে হয় সমস্যা আছে , আচ্ছা এডা আসলেই পোলা নি ? নাকি অন্য কিছু ?আয় হায় তাইলে দ মেহু মামুনির কপালডা পুড়ব।
কথাটা ভাবতেই সালেহা আতকে উঠে।সালেহা হঠাৎ গলার শির ফুলিয়ে চিৎকার করে ,
— ভাইজান এই পোলার লগে মেহু মামনিরে বিয়্যা দিয়েন না,এই ছ্যামড়ার চরিত্র একদম ভালা না। একটু আগে নিজের চোখে দেখছি, এই পোলা আমগো আব‌ইয়াজ বাবারে চোখ মারছে।
সালেহার এই অকপট মন্তব্যে আহনাফের অবস্থা তখন তথৈবচ। আব‌ইয়াজ বহু কষ্টে নিজের হাসি চেপে ঠোঁট টিপে মুচকি হাসল। আনোয়ার মির্জা তখন বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ আর সরু চোখে আহনাফের দিকে তাকিয়ে আছেন। আহনাফ তোতলাতে তোতলাতে কাঁচুমাচু হয়ে কোনোমতে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করল,

— আসলে… মানে… আমার বাঁ চোখটা সকাল থেকেই একটু লাফাচ্ছে তো, তাই হয়তো উনি ভুল বুঝেছেন…
অজুহাতটা দিয়ে সে একরাশ শুকনো হাসি হাসল। আব‌ইয়াজ আর সেখানে মুহূর্তকাল দাঁড়িয়ে থাকা প্রয়োজন মনে করল না। তীক্ষ্ণ ও রহস্যময় এক দৃষ্টি আহনাফের দিকে ছুড়ে দিয়ে গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের ঘরে চলে গেল।
দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষে আহনাফরা বিদায় নিল। আব‌ইয়াজ নিজের ঘরে অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। না, আর কালক্ষেপণ করা ঠিক হবে না। যত দ্রুত সম্ভব বাবার সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে। সারাদিন আর বিনিদ্র রাত কাটিয়ে দিল সে কেবল এই চিন্তায়।
সকালবেলার শান্ত ড্রয়িং রুমে এক থমথমে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। মাঝখানে পাথরের মূর্তির মতো ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে আব‌ইয়াজ। তার ঠিক সামনেই সোফায় আয়েশ করে বসে আছেন বাড়ির তিন কর্তা— আনোয়ার মির্জা, আইয়ুব মির্জা এবং শাফিন মির্জা। তিন জোড়া অভিজ্ঞ চোখ স্থির হয়ে আছে আব‌ইয়াজের ওপর।
বেশ কিছুক্ষণ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আবয়াজকে নিশ্চুপ দেখে আনোয়ার মির্জা কিছুটা অধৈর্য হয়ে উঠলেন। তিনি কুঞ্চিত ভ্রু জোড়া আরও সংকুচিত করে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলেন,

— কী ব্যাপার আবয়াজ? সেই কখন থেকে জরুরি কথা আছে বলে আমাদের বসিয়ে রেখেছ। কিন্তু মুখ ফুটে তো কিছুই বলছ না। এমন কী কথা যা বলতে গিয়ে তোমার মতো বেয়াদব ছেলের এতবার ঢোক গিলতে হচ্ছে?
আব‌ইয়াজ কিছু বলতে নিবে ঠিক তখন‌ই সালেহা ঝাড়ু দিতে দিতে গাইতে থাকে ,
ইয়ো ইয়ো আহারে আহারে
রাইতে ব‌ইয়া একলা আমি কান্দিরে,
ভাতার আমার কাতারে
আমি ব‌ইয়া কান্দিরে আহারে আহারে।
সালেহার গানের ঠেলায় আবয‌ইয়াজ নিজের সবকথা গুলিয়ে ঠাস করে বলে ফেলে,

__ ইয়ো ইয়ো আব্বা আমি মেহুকে বিয়ে করে তার কাতারের ভাতার হতে চাই ।
আব‌ইয়াজের এহেন কথা শুনে আহাম্মক বনে গেলেন তিন কর্তা সহ সালেহা ও মাহির । নিজের কথা শুনে আব‌ইয়াজ নিজেই আহাম্মক বনে গিয়েছে কি বলতে গিয়ে সে কি বলে ফেলল। সব সালেহা বুয়ার দোষ আব‌ইয়াজ কটমট দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।
আনোয়ার মির্জা রেগে দাঁড়িয়ে পরলেন। রেগে গলার স্বর উঁচিয়ে বললেন ,
__ কি বলছ তুমি ?মাথা ঠিক আছে মানে ?মেহু তোমার বোনের মতো।
__ বোনের মতো বোন তো নয় ? আর নামের বোনকে এখন ব‌উ বানাব আমি ।
__ আব‌ইয়াজ!!!!!
___ চিৎকার করে লাভ নেই । আমি মেহুকেই বিয়ে করব আপনি চান বা না চান ।
মাহির দৌড়ে গিয়ে কিচেন থেকে চিপসের প্যাকেট নিয়ে আসে , হাঁটু গেড়ে বসে খেতে খেতে আবারো কাহিনীতে মনোযোগ দেয়। উপর তালা আহির আব‌ইয়াজের কথা অবাক হলেও ভাবে এই সুযোগ নিজের কথা বলার ।আহির দৌড়ে নিচে গিয়ে সবার সামনে ফট করে বলে ,

__ আমিও চিত্রাকে বিয়ে করতে চাই ।
আরেকটা বাজ পড়ল মির্জা মহলে।আব‌ইয়াজেরটা মানতে পারলে ও আহিরের কথা মানতে পারল না মাহির ।তার ছোট ভাই ও বিয়ে করতে চাচ্ছে , শুধুমাত্র অবলা সিঙ্গেল রয়ে গেল সে ? কথাটা ভাবতেই মাহিরের গলায় চিপস আটকে গেল।
আয়ুব মির্জা রেগে আহিরকে বললেন,
___ তোদের মাথা ঠিক আছে? কি বলছিস এসব ?
আয়ুব মির্জার কথার মাঝখানেই আনোয়ার মির্জা বললেন,
__ কিছুতেই আমাদের মেয়েকে তোমাদের মতো হতচ্ছাড়ার কাছে বিয়ে দিব না আমি ।
আব‌ইয়াজ রেগে টেবিল থেকে একটা কলা নিয়ে বলল,
__ মেহু আমার না হলে আমি কলা খেয়ে মরে যাব ।
আহির সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বলল,

___ কলা খেলে কে মরে ভাই ?
___ কেউ মরে না আমি মরে ইতিহাস গড়ব ।
আব‌ইয়াজের কথা শুনে আহির বলে উঠে ,
___ আমি তাহলে আনারস খেয়ে দুধ খেয়ে মরে যাব ।
ওদিক থেকে মাহির উচ্চ স্বরে বলে ,
__ আনারস দুধ খেলে কেউ মরে না ।আমি নিজে এক্সপেরিমেন্ট করেছি ।
___ তুই চুপ থাক ।
ওদের তর্কাতর্কির মাঝে এসে হাজির হয় অর্ক ।কোনো কালক্ষেপণ না করে কোনোরূপ দ্বিধা ছাড়াই বলে ফেলল,
___ মামা আমি মাইরাকে বিয়ে করতে চাই ।
অর্কের কথা শুনে আরেক দফা বাজ পড়ল । আনোয়ার মির্জা বুকে হাত দেওয়ার আগেই মাহির নিজের বুক চেপে বলল,

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৪

___ আমাকে কেউ ধর আমি হার্ট অ্যাটাক করব ।
মাহিরের অবস্থা দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন আনোয়ার মির্জা । কোথায় তিনি বুকের ব্যথায় অস্থির হবেন এদিকে এই ছেলে কাহিনী করছে আনোয়ার মির্জা নিজের ব্যাথা ভুলে মাহিরের কাছে দ্রুত পায়ে গেলেন ।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৬