Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৩

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৩

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৩
jannatul firdaus mithila

“ এসবে বিস্টের কোনো ক্ষতি হবে না তো?”
সপ্তদশী’র মুখনিঃসৃত বাক্যে হতবাকতার অতল সাগরে আচমকা ছিটকে পড়ল শ্যামপুরুষ! বিস্ময়াবহে অক্ষিপুট ছুঁয়েছে ললাট! হতভম্বতার রেশ ফুটেছে মুখাবয়বে। বিস্মায়াবিষ্ট অসারতায় মুখগহ্বরে নড়তে থাকা জিভখানার ডগা হয়েছে শক্ত! যুবকের নিষ্পলক চোখজোড়া একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে সম্মুখে। সপ্তদশী উত্তরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে ঠায়! যুবক বহুকষ্টে নিজ হতভম্বতার রেশটুকু টেনেহিঁচড়ে সরালো অন্যত্র। কন্ঠে একরাশ অবিশ্বাসের ছাপ ফুটিয়ে আওড়াল,
“ যে-ই মানুষটার হিং স্রতায় প্রতিনিয়ত পিষ্ট হয়েছে তুমি, আজ কি-না সে মানুষটার ক্ষতির চিন্তা করছো তুমি সানবার্ড?”
সপ্তদশী ম্লান হাসল। ক্ষীণতায় অধরযুগল হতে উবে গেল সে হাসি। নত হয়েছে তার রাজহংসীর ন্যায় সুদীর্ঘ কোমল কন্ঠা! লুকিয়েছে নিজ ছলছলে অক্ষিপুট। রয়েসয়ে ভারী গাম্ভীর্য ভরা কন্ঠে শুধালো,
“ নির্দয়ের প্রতি আমিও যদি একইভাবে নির্দয় হই, তবে তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য কোথায় রইল কমান্ডার?”

যুবক হার মানল! সপ্তদশী বয়সের তুলনায় যথেষ্ট বুদ্ধিমতী, তা আর বুঝতে বাকি নেই তার। সে তৎক্ষনাৎ ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল কেমন। হাত উঁচিয়ে মাথার ওপর হুডিটা ফের ভর করিয়ে গমগমে গলায় বলল,
“ ঠিক আছে। তুমি তোমার কাজে লেগে যাও সানবার্ড। যেভাবেই হোক, প্যালেসের গুপ্ত পথের সন্ধান খুঁজে বের করো। আমি স্রেফ নিরপরাধ মানুষগুলোকে প্যালেস থেকে বের করে আনতে চাই। এতে মনস্টারের ক্ষতি হবে না!”
বোকা মানবীর সহসা ঘাড় নাড়ালো। যুবকের কথায় সায় জানিয়ে পরক্ষণে শুধালো,
“ ঠিক আছে! আমি গেলাম তবে।”
বলেই উল্টো পথে পা বাড়ায় মাহি। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামপুরুষ কেবল নিরব চোখে তাকিয়ে রইল মেয়েটার চলে যাওয়ার পথে। চোখদুটোতে কত কথা জমে আছে তার! অথচ কান্ড দেখো! আজ তারা ব্যক্ত হতে নারাজ। গলার কাছটা চিনচিন করছে মানবের। পাদু’টো হয়েছে অস্থির! বলিষ্ঠ দেহখানা সামান্য নাড়িয়ে যুবক পা বাড়াল সম্মুখে। ঠিক তখনি অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষ হতে ধেয়ে আসে তরুণী মিলার কন্ঠ!
“ মায়াঙ্ক!”
সহসা থমকে দাঁড়ায় মায়াঙ্ক। ঘাড় বাকিয়ে আলগোছে পিছিয়ে এলো দু-কদম। উঁচু ঘাড়টা জানালার বাইরে থেকে সামান্য ঝুঁকে আসতেই দৃষ্টি আটকাল মিলার পানে। মেয়েটা কেমন হাঁপাচ্ছে! দু’হাতে আঁকড়ে ধরেছে জানালার সিক। ভ্রু গোটায় মায়াঙ্ক। কপালে গোটাকতক সন্দিষ্ট ভাঁজ ফেলতেই মিলা কেমন হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বলে ওঠে,

“ মুনলাইটকে সবটা বলেছেন আপনি? বলেছেন আপনি কোন মিশনে এসেছেন? মুনলাইট রাজি হয়েছে মনস্টার এবং তার সাম্রাজ্যের ধ্বংসের পরিকল্পনায়?”
মুখটা তক্ষুনি গম্ভীর হলো মায়াঙ্কের। চোখদুটো ঘুরে গেল অন্যত্র। হুডির পকেটে দু’হাত গুঁজে রেখে যুবক কেমন নির্বিঘ্নে বলল,
“ ওকে এসব জানানোর দরকার নেই মিলা। ওর অজান্তেই ওর হাতে রুশদী কিংয়ের ধ্বংস টানব আমি। ইউ্য জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।”
এহেন কথায় খানিক চিন্তার ভাঁজ মিলল মিলার মসৃণ ললাটে। ভাবনায় বুদ হয়েছে তার মস্তিষ্ক। সে কেমন রয়েসয়ে ইতস্তত কন্ঠে আওড়াল,
“ এমনটা করা আদৌও ঠিক হবে তো? পরে আবার হিতে বিপরীত হবে না তো? দেখুন মায়াঙ্ক, আপনি কিন্তু আমায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন — আপনি মনস্টার এবং তার সাম্রাজ্যের বিনাশ করে ছাড়বেন। ঠিক এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আমি এখনো আপনার সঙ্গ দিচ্ছি। আপনার কথানুযায়ী সেদিন মুনলাইটকে জঙ্গলের পথ দিয়ে পালিয়ে যেতে ইন্ডাইরেক্টলি উদ্যোত করেছি। আবার আপনার বলা মতোই এডউইনের চোখে ধুলো দিয়েছি। শুনুন মায়াঙ্ক, আমি মনেপ্রাণে চাই — মনস্টারের এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক। তার ক্ষমতা লোপ পাক, আমরা যেন আবারও মুক্ত হই। কিন্তু দিনশেষে আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি যদি মিথ্যা প্রমানিত হয়, তাহলে কিন্তু আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।”
তরুণীর কন্ঠে ঝাঁঝ বেড়েছে! মুখাবয়বে ফুটেছে রাগের পরিতুষ্টি। মায়াঙ্ক আড়দৃষ্টে দেখল তা। ঠোঁটের কোণে বক্র হাসি ঝুলিয়ে যুবক কেমন শান্ত অথচ নিরেট কন্ঠে বলল,
“ চিন্তা করবেন না মিলা! আমার মিশন ফেল হবে না।”

সুনশান নিরবতায় মুদে থাকা বিশাল এক কক্ষ! যার দরজার বাইরে গোটা গোটা রাশিয়ান হরফে নাম লেখা — কন্ট্রোল রুম। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষটির একপাশের সম্পূর্ণ দেয়াল জুড়ে প্রজেক্টরের পর্দা! দ্য গ্রেট রুশদী কিংয়ের প্যালেস থেকে শুরু করে জঙ্গলের আদ্যোপ্রান্ত এবং পেন্টহাউজের দুয়ার অব্ধি প্রতিটি দৃশ্য প্রতিবিম্বিত হচ্ছে সেথায়। প্রজেক্টরের সম্মুখে থাকা ডিম্বাকৃতির টেবিল খানায় জ্বলজ্বল করছে অসংখ্য সুইচ। টেবিলের অপর প্রান্তে চেয়ার পেতে বসে আছেন বেশকিছু কন্ট্রোলার। তদারকি করছেন সবকিছুর! কন্ট্রোলারদের একপাশে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এলেক্স। হাতে একখানা ধোঁয়া ওঠা কফি তার। ধীরে ধীরে চুমুক বসাচ্ছে সেথায়। তার বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিযুগল আপাতত প্রজেক্টরের পর্দায় নিহিত। যেথায় জ্বলজ্বল করছে এক আগন্তুকের বলিষ্ঠ কায়া। এলেক্স কেমন ভ্রুক্ষেপহীন কায়দায় দেখে যাচ্ছে আগন্তুককে। পাশ থেকে বাধ্য কন্ট্রোলার তখন মিনমিনিয়ে বললেন,

“ চিফ! গত ২৫ মিনিট ধরে এই ছদ্মবেশী প্যালেসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। এবার অন্তত অর্ডার করুন। ওকে এক ঝটকায় মাটির নিচে পুঁতে ফেলব!”
এলেক্স নামক গম্ভীর পুরুষ তখনো চুমুক বসিয়ে রেখেছেন কফির কাপে। ধীরেসুস্থে কন্ঠনালীর উঁচু হাড়খানা সামান্য নাড়িয়ে চাড়িয়ে ঢোক গিললেন তিনি। অতঃপর ঠোঁটের কোণে সদ্য উত্থাপিত হওয়া বক্র হাসিটুকু আরও খানিকটা প্রশস্ত করে নিয়ে গম্ভীর অথচ গমগমে গলায় শুধালেন,
“ গত ২৫ মিনিটের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দে!”
ভড়কালেন কন্ট্রোলাররা। কয়েক জোড়া হতচকিত দৃষ্টি একযোগে তক্ষুনি নিক্ষিপ্ত হলো গম্ভীর মুখো এলেক্সের পানে। এলেক্স ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি আপাতত প্রজেক্টরের পর্দায় অটল। তার ওমন ভাবলেশহীন কায়দা দেখে চাপা ক্ষোভ বাড়ল সবার। কন্ট্রোলারদের মধ্য থেকে বুজুর্গ একজন সহসা উঠে দাঁড়িয়ে বলেই বসলেন,

“ এটা হয়না এলেক্স! এর আগেও আপনার কথামতো মেয়েটা যেদিন পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, সেদিনের সকল ফুটেজ আমরা ডিলিট করে দিয়েছি। আবার আজকেও বলছেন ফুটেজ ডিলিট করতে? লিসেন এলেক্স, মনস্টার কখনো এসবের জবাবদিহিতা চাইতে এলে আপনি পার পেয়ে গেলেও, আমরা বাকিরা ফাঁসব। তাছাড়া এসব ফুটেজ ডিলিট করিয়ে আপনার লাভটাই বা কী?”
সহসা ঘাড় বাকিয়ে তাকায় এলেক্স। সরু দৃষ্টিযুগল অদূরের বুজুর্গের পানে নিক্ষেপ হতেই ভয়ে কন্ঠরোধ হলো বেচারার। তড়িঘড়ি করে নজর ঝোঁকালেন পরমুহূর্তে। এলেক্স হাসল! দাঁতের রুষ্ট চাপায় নিম্নাংশের ঠোঁটখানা পিষ্ট করে হাসল খানিক। দু’হাত নির্বিকারে গুঁজে দিলো প্যান্টের পকেটে। অতঃপর শিরদাঁড়া সোজা করে ফের ঘুরে তাকাল প্রজেক্টরের পর্দা বরাবর। সময় নিয়ে রহস্যময় কন্ঠে বলল,
“ ফর দ্য ফিউচার অফ রুশদী কিং এন্ড হিজ প্যারাডাইস, যেভাবেই হোক, ঐ মেয়েটাকে মনস্টারের জীবন থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ রাক্ষসের জীবনে দূর্বলতার কোনো ঠাঁই নেই! প্রথমবার আমি ব্যর্থ হয়েছি, তবে এবার হবো না। এতদিনে যা বুঝলাম — ঐ মেয়ের সাথে এই আগন্তুকের কিছু না কিছু একটা কানেকশন আছে। সো ওদের কানেকশন চলতে থাকুক। এবার শুধু সুযোগ বুঝে দু’টোকে একসাথে মনস্টারের হাতে বলি দেয়ার পালা!”

South Korea, Hannam-Dong……. 9:00Am
উঁচু পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে আছে “ S.M.” ম্যানশন। কালো রঙা কাঁচে মোড়া তিনতলা বিলাসবহুল বাড়িটা যেন পাহাড়ের কোলে একটুকরো কালো মেঘ! কয়েক জোড়া জোরালো কদম সবেগে এগোচ্ছে পাহাড়ি পথ ধরে। তাদের সম্মুখেই দাম্ভিক কদমে ওপরে উঠছে শ্যাডো মনস্টার। গায়ে জড়ানো দামী স্যুট-ব্যুট। ডানহাতের কব্জিসন্ধিতে শোভা পাচ্ছে তার নামেই খচিত সিগনেচার ব্রেসলেটখানা। চোখে আটাঁ কালো রঙা দামী চশমা। বাহাতে তার জ্বলছে সিগার! ক্ষনে ক্ষনে ফুক বসাচ্ছে সেথায়। লোকটার সে-কি দাপট! তার পিছু পিছু এগোচ্ছে অগণিত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। মনস্টারের আগমনী বার্তা পেয়ে আগে থেকেই তটস্থ সকল রক্ষীরা। খুলে দিয়েছে বাড়ির প্রবেশদ্বারের লোহার কালো গেট! মুগ্ধের দাম্ভিক কদমজোড়া গটগটিয়ে ঢুকল কালো গেটখানা দিয়ে। প্রবেশপথের দু’পাশে সাদা মার্বেলের স্তম্ভ, মাঝে বয়ে চলেছে ফোয়ারা।

যুবকের পায়ের গতি বড্ড জোরালো। ওয়াক ওয়ে পেরিয়ে অবশেষে এসে থামলেন ম্যানশনের সদর দরজার কাছে। দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ! পেছন থেকে এক রক্ষী তক্ষুনি এগিয়ে এসে কলিংবেল চাপতে উদ্যোত হতেই হাত উঁচিয়ে বাঁধ সাধল মুগ্ধ। নির্বিকারে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসে আলতো করে আঙুল ছোঁয়াল কলিং বেলের দরজায়। ট্রিং ট্রিং শব্দে মুখরিত সম্পূর্ণ লিভিং রুম। একবার, দুবার পরপর তিনবার কলিং বেলের কর্কশ শব্দ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ঘুম কাঁচা হলো মধ্যবয়স্ক তৌকির মির্জার। সকাল হতে না হতেই তার ওতো সাধের ঘুমটায় বাগড়া বসাতে কে এলো কে জানে! বেচারা তিতিবিরক্তিতায় নাক-মুখ কুঁচকে নেয় তক্ষুনি। মখমলি বিছানার নরম তুলতুলে মেট্রেসের কোলে ডুবে থাকা শরীরটা তাল পাচ্ছে না ওঠবার। অথচ কলিংবেলটা ফের বাজছে। বিরক্ত তৌকির মশাই তক্ষুনি কানের ওপর বালিশ চাপলেন। তিতিবিরক্ত কন্ঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন,

“ আবে কোন শালার বোনকে ভাগিয়ে আনলাম আমি, যার জন্য এভাবে সকাল সকাল তোড়জোড় চালাচ্ছে? উফফ! আমার ঘুমটা।”
কলিং বাজছে তো বাজছেই! থামাথামির নাম নেই। তৌকির সাহেব এবার বড়ো বিরক্ত হলেন। সাধের ঘুম উড়ে যাওয়ায় মুখাবয়বে লেপ্টালেন ভীষণ রাগ! একহাতে তৎক্ষনাৎ গা থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে গটগটিয়ে হাঁটা ধরলেন ঘর ছেড়ে। এদিকে এক বিদেশি সুন্দরী তখনো গা লুকিয়ে উবু হয়ে শুয়ে আছে ব্ল্যাঙ্কেটের আড়ালে। রমণীর গায়ে বোধহয় কাপড়ের সামান্যতম উপস্থিতিও নেই!
তিতিবিরক্তিতায় ডুবে থেকে এগোতে থাকা তৌকির মশাই বোধহয় ভুলেই বসেছেন নিজের বর্তমান অবস্থা। মধ্যবয়স্ক হলেও লোকটার উম্মুক্ত গায়ে তেমন মেদ নেই! লম্বা চওড়া পেটানো দেহ তার, দেখলে মনে হবে তিনি যেন এখনো যৌবনে আবর্তিত। লোকটার পরনে কেবলমাত্র একখানা শার্ট-প্যান্ট। যার দৈর্ঘ্য থাই অব্ধি! এ অবস্থাতেই মহাশয় ছুটে এলেন দরজার কাছে। একহাতে আলগোছে দরজার নব ঘুরিয়ে , ঝাঁঝাল কন্ঠে আওড়াতে লাগলেন,

“ কোন শালা বে?”
কথাটা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যবয়স্কের তরতাজা গাল বরাবর কষিয়ে বসল রূঢ় মানবের পাঁচ আঙুলের ছাপ! এহেন অতর্কিত আক্রমণের তাল সামলাতে না পেরে সহসা মেঝে বরাবর ছিটকে পড়লেন বেচারা তৌকির সাহেব। মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে তার! চোখদুটোর দৃশ্যপট হয়েছে ঝাপ্সা। নিজেকে সামলানোর প্রয়াস চালাতেই দু’হাত দুরত্ব হতে ভেসে এলো বেশ পরিচিত এক রূঢ় কন্ঠের হুংকার!
“ দরজা খোলার জন্য মায়ের পেট থেকে বের হতে গিয়েছিলি বান্দীর ছেলে? এতক্ষণ কোথায় পড়ে পড়ে ম’রছিলি?”
যুবকের এহেন হুংকারে ঝাঁঝিয়ে উঠে তৌকির সাহেবের সর্বাঙ্গ। কেঁপে ওঠে অন্তরাত্মা! লোকটা কেমন ঘাড় নুইয়ে তড়িঘড়ি করে উঠে বসল মেঝেতে। দু’হাতে নিজেকে সামান্য আড়াল করতেই ফের শোনা গেল মনস্টারের হুংকার ধ্বনি!

“ এতো এতো কাপড় থাকতেই অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরছিস কেনো বান্দীর ছেলে? না-কি দেখাচ্ছিস, তোর আছে! কোনটা?”
লজ্জায় পড়লেন তৌকির সাহেব। সহসা দু’পায়ের ভাঁজে আড়াল করলেন নিজ সম্ভ্রমটুকু। এরইমধ্যে দোতলার করিডোরের রেলিঙের দ্বার ঘেঁষে এসে দাঁড়ালো এক ভিনদেশী রমণী! পরনে তার একখানা আবেদনময়ী নাইটি। সানগ্লাসের পুরু আস্তরণের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা যুবকের বাদামী চোখদুটোর ক্রুর দৃষ্টি একপলক গিয়ে পড়ল রমণীর ওপর। আর ওমনি তিতিবিরক্তিতায় মুখ কুঁচকে গেল রূঢ় মানবের। চোখদুটো সরে এসে ঠেকল মেঝেতে বসে থাকা তৌকির সাহেবের ওপর। সে কেমন কটমট করতে করতে তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে ফের কষিয়ে থাপ্পড় বসালো তৌকির মির্জার বা-গালে। চিড়বিড় কন্ঠে আওড়াল,
“ বাড়িটাকে বে’শ্যাপাড়া বানিয়ে রেখেছিস বান্দীর ছেলে! এই বয়সে তোর এতো উত্তেজনা আসে কোত্থেকে বান্দীর ছেলে? একজনে হয়না? কত জায়গায় মুখ মা’রতে হয় বাস্টা’র্ড?”
তৌকির সাহেব মাথা নোয়ালেন। সহসা গাল ফুলিয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালেন,
“ আমি এমনিতে মানুষ ভালো, শুধু রাতে একটু খাই!”
বিড়বিড়িয়ে আওড়ানো বাক্যটুকু কর্ণে পৌঁছাল না মুগ্ধের। যুবক কেমন সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করছে। হিং স্র কন্ঠে গর্জন তুলে তক্ষুনি গার্ডদের আদেশ ছুঁড়ে বলে ওঠে,

“ ঐ স্লা’ট’দের এক্ষুনি আমার বাড়ি থেকে বের কর! সঙ্গে এই বাস্টা’র্ডকেও।”
আঁতকে ওঠেন তৌকির সাহেব। হতচকিত দৃষ্টে তাকালেন ছেলের পানে। ভড়কানো কন্ঠে আমতা আমতা করে বলতে লাগলেন,
“ এ কি কথা অধীর? আমায় বাড়ি থেকে বের করে দিলে আমি এখন কোথায় যাব?”
এহেন কথা শুনেও না শোনার ভান ধরল মুগ্ধ। পিঠ দেখিয়ে গটগট পায়ে চলে গেল সিঁড়ির পানে। এদিকে তৌকির সাহেব পড়লেন মহা বিপাকে! এহেন অর্ধনগ্ন অবস্থায় লোকটা এবার কোথায় যাবে?

ব্যস্ততায় নিশ্বাস ফেলার জো নেই এডউইনের। সাউথ কোরিয়ায় এসেছে পর থেকে শুরু হয়েছে বেচারার ফাইল ঘাটাঁ। সে-কি আর যেন-তেন ফাইল? ডিলারদের কাউন্টিং, শিপিং, লেনদেন সবকিছুর কালো কাগজ খুলে বসেছে গম্ভীর পুরুষ। হন্যে হয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে কোথায় কতটুকু গড়মিল হয়েছে। প্রায় ঘন্টা খানেক পেরুলো বোধহয়! এরইমধ্যে হুট করে যুবকের সম্মুখে ধরা পড়ল একখানা বড়সড় কালো রঙা ফাইল। তা অবলোকন হওয়া মাত্রই কপাল গোছালো এডউইন। ব্যস্ত হাতে ফাইলের প্রথম পৃষ্ঠাটা উল্টাতেই তার চোখ আটকালো — কোটি কোটি টাকার পেন্ডিং শিপমেন্টের দিকে। তক্ষুনি নড়েচড়ে উঠে এডউইন। পাশে থাকা সবগুলো ফাইল টেবিলের ওপর আলগোছে উঠিয়ে রেখে, সদ্য পাওয়া ফাইলটা নিয়ে চললো মনস্টারের কক্ষে।

পুরাতন একখানা রকিং চেয়ারে দুলছে মুগ্ধ নামক বলিষ্ঠ পুরুষের পাহাড়সম দেহটা। অর্ধ-উম্মুক্ত গা তার, দৃশ্যমান পেটানো দেহখানা! বাবরিছাঁটা বাদামী রঙা চুলগুলো সিক্ত হয়ে লেপ্টে আছে কপাল বরাবর। ঘাড় বেয়ে চুইয়ে পড়ছে পানি! সুদর্শনের চোখদুটো বুঁজে রাখা। ডানহাতের কনুই ঠেকানো চেয়ারের বাহুতে। মধ্যমা এবং তর্জনীর ফাঁকে গুঁজে রাখা একখানা জলন্ত সিগার। নির্বিকারে ধোঁয়া উড়ছে তা থেকে। রকিং চেয়ারের ঠিক পাশে একখানা ছোট টেবিল। যেথায় মৃদুস্বরে বাজছে জ্যাজ! মুগ্ধ স্থবিরতায় ডুবেছে। তার বন্ধ চোখের পাতায় হুট করেই ভেসে উঠেছে এক অপ্সরার প্রতিচ্ছবি! যিনি ঠিক একইরকম রকিং চেয়ারে বসে দুলছে। চোখদুটো বুঁজে রেখে জ্যাজের ঠান্ডা স্বর শুনছে। অপ্সরার সুশ্রী গৌরবর্ণা মুখখানায় সে-কি শান্তভাব! যেন এক রাজ্যের সকল শান্তি এসে বাসা বেঁধেছে সে মুখে। চেয়ারে দুলতে দুলতে হুট করেই চোখ খুললেন অপ্সরা। হাসিমুখে তাকালেন যুবকের পানে। সহসা নড়চড় বন্ধ হয়ে গেল মুগ্ধের। কুঁচকে গেল মসৃণ ললাটের চামড়া। অপ্সরা বুঝি এমুহূর্তে তার পানেই তাকিয়ে আছে। হাসছে মুচকি মুচকি! আলতা রাঙা হাতদুটো তার পানে বাড়িয়ে দিয়ে মমতাময়ী কন্ঠে ডাকল সে,

“ অধীর! ঘুমাবে না বাবা? আম্মার কাছে এসো। ঘুম পাড়িয়ে দিই। কতদিন হলো তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেই না।”
ক্রমশ মস্তিষ্ক ফাঁকা হলো মুগ্ধের। গলার কাছে ফের জন্মালো চিরচেনা চিনচিনে ব্যথা। যুবক তক্ষুনি দু’ধারে মাথা নাড়াল। নিখাঁদ সৌন্দর্যে মণ্ডিত সুদীর্ঘ কন্ঠনালীর উঁচু হাড়খানা সামান্য নড়ল তার। কন্ঠে ভর করল একরাশ করুণ সুর। মায়ের এহেন আহবানকে সরাসরি নাকচ করে সে বলে ওঠে,

“ এখন না আম্মা! আমার কাজ এখনো শেষ হয়নি। আগে ওদের সব-কয়টাকে মে’রে নেই। তারপর…তারপর আমার বেঁচে থাকার কারণ ফুরাবে আম্মা। তখন নাহয় চিরদিনের জন্য আপনার কাছে ঘুমোতে যাব! আপনি তখন আসবেন তো আমায় ঘুম পাড়াতে? আসবেন তো আম্মা?”
বন্ধ চোখের পাতায় দৃশ্যমান মানসপট ধীরে ধীরে ঘোলাটে হচ্ছে মুগ্ধের। অপ্সরার অবয়ব হারাচ্ছে ক্রমশ। অস্থির হলো রূঢ় মানব! চোখদুটো বুঁজে রেখেই হাতরাতে লাগল সম্মুখে। করুণ সুরে ডাকল,
“ আম্মা? আম্মা চলে যাচ্ছেন? আরেকটু থাকুন আম্মা! আপনার কাছে অনেক কিছু বলা বাকি আছে আম্মা। একটু শুনে যান না।”
উধাও হলেন অপ্সরা। নিমিষেই মিলিয়ে গেলেন হাওয়ায়। মুগ্ধ ডাকছে তখনও। দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকা হৃদয়খানা এক খামচে ধরে রেখে কাঁপছে সে। মা’কে ডাকা শেষ হতেই অস্থির কন্ঠে বলে ওঠে,
“ আম্মা! আপনি ছাড়া এ জগতে আমার কেউ নেই আম্মা। আমি খুব শীঘ্রই আপনার কাছে আসব আম্মা। আম্মা আপনি দেখবেন, অতি শীঘ্রই আমি চলে এসেছি।”

“ মনস্তার!”
কথার মাঝে টোক পড়ায় তক্ষুনি চোখদুটোর পর্দা সরল রূঢ় মানবের। লাল হয়ে আসা অক্ষিপুট আলগোছে তাক হলো বাঁদিকে। দরজার কাছে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে এডউইন! হাতে একখানা ফাইল তার। সহসা এডউইনের ওপর থেকে নজর হটালেন রূঢ় মানব। দক্ষ কায়দায় আড়াল করলেন নিজ ভঙ্গুর রূপ। খানিকটা ঢোক গিলে গম্ভীর কন্ঠে শুধালেন,
“ কি হয়েছে?”
কদম বাড়ল এডউইনের। চোখদুটো কেমন নুইয়ে গিয়েছে তার। সে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো মুগ্ধের সন্নিকটে। হাতে থাকা ফাইলখানা মনস্টারের পানে বাড়িয়ে দিয়ে ভনিতা বিহীন কন্ঠে আওড়াল,
“ মনস্তার! এখানে পেন্ডিং শিপমেন্টের নামগুলো রয়েছে। গত ২৫দিনে বাংলাদেশের নদীপথ দিয়ে ২টো জাহাজ যাওয়ার কথা। তবে সেগুলো এখনো পেন্ডিং!”
সহসা কপাল গোছালো মুগ্ধ। ফাইলটার দিকে তাকাল তীক্ষ্ণ দৃষ্টে। দৃঢ় চোয়ালখানা খানিক নাড়িয়ে চাড়িয়ে গমগমে গলায় শুধালো,
“ তোর ফোনটা দে!”
হকচকায় এডউইন! ভড়কে তাকায় মুগ্ধের পানে। কানে ভুল শুনল কি-না যাচাই করতে যুবক কেমন মিনমিনে স্বরে জিজ্ঞেস করল,

“ আমার ফোন?”
তক্ষুনি বেচারার পানে অগ্নিদৃষ্টে তাকাল মুগ্ধ। মনস্টারের এহেন চাহনিতে এই বুঝি অন্তরাত্মা বেরিয়ে আসবে বেচারার। সে কেমন ঢোক গিলে তড়িঘড়ি করে কাঁপা কাঁপা হাতে এগিয়ে দিলো নিজ ফোনটা। মুগ্ধ কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টে একপলক সেদিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা ছো মে’রে নিয়ে নিলো স্মার্টফোনখানা। দক্ষ আঙুলে ফোনের ডায়াল অপশনে টুকল একখানা বাংলাদেশী নম্বর। অতঃপর নম্বরখানা ডায়ালে চেপে ফোন কানে তুলে মুগ্ধ। ওপাশে রিং হচ্ছে! ফোনের মালিক বোধহয় বড়ো অলস। এতক্ষণ ধরে রিং হওয়া স্বত্বেও রিসিভ করছে না কলটা। প্রায় দু’বার কল দেবার পর হুট করেই কলটা রিসিভ হলো ওপাশ থেকে। এক মধ্যবয়স্ক ভঙ্গুর কন্ঠ ধীরে ধীরে আওড়াল,
“ হ্যালো? কে?”
বাঁকা হাসল রূঢ় মানব। নিজ পাহাড়সম দেহটা আলগোছে রকিং চেয়ারের গায়ে এলিয়ে দিয়ে শ্লেষাত্মক কন্ঠে আওড়াল,

“ হেল্লো ডিসি সাহেব! কি অবস্থা? আমার কল্যাণে দিনকাল কেমন চলে? আশা করি খুউব খারাপ যাচ্ছে!”
সহসা সর্বাঙ্গে ঝংকার দিয়ে ওঠে তায়েফ সাহেবের। চোখদুটো হয়ে গেল বিস্ফোরিত! লোকটা কেমন হতভম্বতায় কান থেকে ফোনখানা নামিয়ে এনে সম্মুখে ধরলেন। যে-ই খেয়াল করলেন নম্বরটা সাউথ কোরিয়ার,ওমনি চোয়ালখানা শক্ত হলো তার। নাকের পাটা ফুললো ভীষণ! লোকটা কেমন দাঁত কিড়মিড় করতে করতে শুধালো,
“ বেয়াদব! কল দিয়েছো কেন তুমি? এতকিছু করে, আমায় ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েও শান্তি হয়নি তোমার? কোন সাহসে আবারও আমার কাছে কল দিয়েছো তুমি?”
ঠোঁট পিষে হাসল মুগ্ধ! কিয়তক্ষন নিজ ধারালো ক্যানাইন দাঁতের চাপায় পিষ্ট করল নিম্নাংশের ঠোঁটখানা। বলিষ্ঠ দেহটা রকিং চেয়ারের তালে তালে খানিক দুলিয়ে ফের শ্লেষাত্মক কন্ঠে আওড়াল,
“ ওহ কাম অন ডিসি সাহেব! উপসস! ইট’স মা’ই ব্যাড! আপনি তো আবার আমার — না হওয়া শ্বশুর মশাই, সো আমার না হওয়া শ্বশুর মশাই লিসেন — যখন-তখন বয়সের তুলনায় খুব বেশি উত্তেজিত হবেন না ঠিক আছে? পরে দেখা যাবে, কোনদিন আবার উত্তেজনার ঠেলায় টপকে গেলেন! আচ্ছা ওসব বাদ দেন! বয়স হয়েছে আপনার, ম’রে গেলে যাবেন। শুধু শুধু বেঁচে থেকে পৃথিবীর অক্সিজেন নষ্ট করার কোনো মানে নেই বুঝলেন!”
দাঁত কিড়মিড় করছেন তায়েফ এহসান। হাতদুটো হয়েছে মুষ্টিবদ্ধ। রাগে থরথর করে কাঁপছে মধ্যবয়স্কের মলিন মুখখানা। সে কেমন কর্কশ কন্ঠে ফের জিজ্ঞেস করল,

“ কেনো কল দিয়েছো আমার কাছে?”
হুট করেই স্থবির হলো মুগ্ধ! দুলুনি থামিয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে শুধালো,
“ লাইনে এসেছেন দেখছি! শুনুন না হওয়া শ্বশুরমশাই, গুড বয়ের মতো আগামী তিনদিনের মধ্যে বাংলাদেশের নদীপথ দিয়ে আমার কন্টেইনার গুলো পাস করে দিবেন ওকেই? আপনি কিন্তু এখন চাকরিতে নেই। দুনম্বরি করবেন আরকি! তাই আপনার দেশের প্রতি সততা এন্ড অল দোস ফা’কিং বুলশিট আমার সামনে বলবেন না ওকে?”
একমুহূর্ত থামল মুগ্ধ! বাহাতের তর্জনী উঁচিয়ে নিরবে এডউইনকে বোঝাল — ঘর ছাড়তে। এডউইন বাধ্য মানব। তক্ষুনি বেরিয়ে গেল ঘর ছেড়ে। মুগ্ধ তখন ফের শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে হাসল। শ্লেষাত্মক কন্ঠে বলে উঠল,

“ উমম…বাই দ্য হেল ইন দ্য মনস্টার’স ওয়ে, না হওয়া শ্বশুর মশাই — আপনার মেয়ে কিন্তু জবরদস্ত! নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে যে জিনিস বানাইছেন, উফফ… মাই গড দেখলেই নেশা ধরে যায়!”
সর্বাঙ্গের উষ্ণ র– ক্তগুলো টগবগ করছে তায়েফ এহসানের। মাথার তালু জ্বলছে রাগে। লোকটা কেমন চোখবুঁজল নিরবে। চোয়ালের পেশি টানটান করে হুংকার ছুঁড়ে বলল,
“ অধীর!!!! ইউ্য বাস্টা’র্ড! খবরদার আমার মেয়েকে স্পর্শ করবেনা তুমি।”
কন্ঠে মেকি ভাব ধরল মুগ্ধ! কেমন নাটকীয় ভঙ্গিতে সুর টেনে টেনে বলল,
“ বা’রে! আপনার মেয়েকে ছুঁবো না তো কাকে ছুঁবো? আপনার মেয়েকে আমি সাজিয়ে রাখার জন্য থোড়াই এনেছি!”
“ তোমার একটুও লজ্জা করে না বাস্টার্ড?”
দাঁত খিঁচল মুগ্ধ! কন্ঠে আগের ন্যায় শ্লেষাত্মক ভাবভঙ্গি ধরে রেখে শুধালো,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪২ (২)

“ পুরুষ মানুষের লজ্জা কিসের না হওয়া শ্বশুর মশাই? এই নিজের কথাই ধরুন না। আপনার যদি খুব লজ্জা থাকত, আপনি থোড়াই দু’মেয়ের বাপ হতেন!”
দাঁত কিড়মিড় করছেন তায়েফ এহসান। তক্ষুনি গর্জে বললেন,
“ জানোয়ার একটা!”
ফোনের ওপাশ থেকে তৎক্ষনাৎ ভেসে এলো রূঢ় মানবের রূঢ়ভাষী বাক্য!
“ জাস্ট লাইক ইউ্য নাহ?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here