Home মেঘের ওপারে আলো মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৪

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৪

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৪
Tahmina Akhter

— মেঘ? এই মেঘ?
মেঘালয় বিষন্ন চোখে তাকায়। বর্ষা হাত নেড়ে ডাকছে।
মেঘালয় বর্ষাকে “আসছি” বলেই দৃষ্টি সরিয়ে মোবাইলের স্ক্রীণের ওপরে রাখল। তারপর, আবারও কল করলো ইতির হোয়াটসঅ্যাপে। ইতি কল রিসিভ করতেই মেঘালয় উদাস ভঙ্গিতে বলল,
— ভাবি?
— আলোকে বলবেন প্লিজ, ওকে ছাড়া আমি ভালো থাকতে শিখে গেছি।
—কিন্তু…
বাকি কথা শোনার আগে কল কেটে দেয় মেঘালয়। তারপর পকেট ফোন ঢুকিয়ে ডানহাত দিয়ে কপালের চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। বাড়ির মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বর্ষা। মেঘালয় বর্ষার সামনে দাঁড়িয়ে শক্ত গলায় বলল,

— বেলীফুল কোথায়?
— ফুপির কাছে।
মেঘালয় বর্ষাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল বাড়ির ভেতরে। ড্রইংরুমে যেতেই বেলীফুলের দেখা পেয়ে যায়। ছোট চাচ্চুকে দেখে বেলীফুল হাসিমুখে বলল,
— চাচ্চু? আর ইউ আপসেট?
— না আম্মু। তুমি এসো আমার সঙ্গে।
কথাটি বলেই মেঘালয় বেলীফুলের সামনে হাত বাড়িয়ে দেয়। বেলীফুল ছোট চাচ্চুর হাত ধরে হেলে দুলে হাঁটছে। মেঘালয় বেলীকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে গেল। মনটা আজ প্রচন্ড বিক্ষিপ্ত। সুবিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেও শান্তি পাচ্ছে না।
মেঘালয় বেলীফুলের হাত ধরে ক্রাকোভ শহরের রাস্তা ধরে হাঁটছে। স্কোয়ারের ব্রিকের পথ যেন তাদের পদধ্বনিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। চারপাশে মধ্যযুগীয় ভবনের দেয়াল, যেগুলো সূর্যের আলোয় লাল-সোনালি রঙে ঝলমল করছে।
বেলীফুল অধিক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকল মেইন মার্কেট স্কোয়ারের বিশাল চত্বরের দিকে। পাখিদের কাকলি, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া শিল্পীর আঁকা ছবি, এবং চারপাশের কফি শপ থেকে ভেসে আসা মিষ্টি কফির গন্ধ। সবই যেন তার মুগ্ধ হবার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

“চাচ্চু, ওখানে দেখো! ওটা কি?” বেলীফুল মেঘালয়ের আঙুল চেপে ধরে দেখাল ওয়াভেল ক্যাসেল এর দিকে। মেঘালয় সামান্য হেসে বলল,
–হ্যাঁ, এটা ক্রাকোভের প্রাচীন রাজাদের বাড়ি। দেখো, কত বিশাল এই বাড়িটা!
ঘুরতে ঘুরতে একসময় তারা নদী ভিস্তার ধারে এল, যেখানে নীলাভ জল ধীরে ধীরে শহরকে প্রতিফলিত করছে নদীর বুকে। বেলীফুল ছোট্ট পা ফেলে জলছোঁয়া করতে চাইল, আর মেঘালয় তাকে সতর্কভাবে ধরে রাখল। নদীর পাশে বসে তারা একসাথে শহরের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করছে।
মেঘালয় বেলীফুলের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে বেমালুম ভুলে গেল শিশিরের বিয়ের কথা৷ ভুলে গেল আলোর কথা। তার জগতে এখন শুধুমাত্র ক্রেকোভ শহর আর ছোট বেলীফুলের মুগ্ধ চাহনি।
স্বশব্দে মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। বেলীফুল মুখ কালো করে বলল,

— চাচ্চু দেরি হয়ে যাচ্ছে। সবাই বোধহয় শিশির চাচ্চুর বিয়েতে চলে হেছে।
মেঘালয় বেলীফুলের মাথায় হাত রেখে বলল,
— ডোন্ট ওয়ারি বেলী।
কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো মাশফির কন্ঠস্বর।
— ক’টা বাজে? তুই আর বেলী আছিস কোথায়?
— আসছি ভাইয়া।
মেঘালয় কল কেটে দিলো। বেলীফুলের হাত ধরে বলল,
— চলো। বাসায় ফিরতে হবে।

মেঘালয় কল কেটে দেয়ার পর ইতি অধিক বিস্ময়ে কিছু ভাবতেই পারছে না৷ মেঘালয়কে চমকে দেয়ার জন্যই হোক কিংবা মেঘালয়ের অনুভূতি জানার জন্যই হোক সে মেঘালয়কে সামান্য মিথ্যা বলেছে। আলোকে সে ফিরিয়ে দেয়নি। আলো এই বাড়িতেই আছে। মাহরীনের কথা শোনার পর থেকে আলো স্তব্ধ হয়ে বসে আছে ড্রইংরুমে। মাশফির পরবর্তী জীবনের কথা শোনার পর ভীষণ খুশী হয় মেয়েটা৷ পরক্ষণেই মেঘালয়ের ইউকে থাকার কথা জানার পর মেয়েটা যেন পাথর বনে গেছে।
আলোর ফিরে আসার কথা শোনার পর মেঘালয়ের কাছ থেকে এমন পানসে রিয়াকশন পাবে সে কল্পনা করেনি। কিন্তু মেঘালয় তো দেখিয়ে দিলো। ইতি মোবাইল বিছানার ওপরে রেখে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। ড্রইংরুমে যেতেই দেখতে পেলো আলো এবং আলোর মা’কে। ইতিকে দেখে আলো মলিন হেসে বলল,

— ভাবি? যার জন্য এলাম সে তো নেই। আমার এবার ফিরে যাওয়া উচিত।
ইতি আলোর পাশে বসে আলোর হাতটা ধরে নরম হয়ে বলল,
— যা তোমার তা শুধু তোমার একার। কোনোকিছুই হাতের নাগালে থাকে না। হাত বাড়িয়ে নিতে হয়। তুমি একবার তাকে কাছে ডেকে দেখো, সে সাড়া না দিয়ে থাকতেই পারবে না।
আলো মাথা নীচু করে বলল,
— ডাক্তার সাহেব কখনোই আমার হাতের নাগালে ছিল না। উনি আমার যোগ্যতার বাইরে ছিল সবসময়।
ইতি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মেঘালয় এবং আলোর সম্পর্কে কমতি ঠিক কোন জায়গায় এখনও ধরতে পারছে না। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, অপেক্ষা, সম্মান সবই তো ছিল। তাহলে এত চমৎকার একটা সম্পর্কের এমন করুন পরিণত মেনে নেয়া যায়? ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তাই বলে তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে বিচ্ছেদের মতো একটা ব্যাপার মেনে নেয়া যায়?
ইতি হাত বাড়িয়ে আলোর মাথায় হাত রেখে বলল,

— অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে নিয়ে ঘোর আপত্তি আছে আমার। তোমার সঙ্গে যখন মেঘালয়ের বিয়ে ঠিক হলো তখনও ঘোর আপত্তি ছিল আমার। কিন্তু আমার শ্বাশুড়ির ওপরে কিছু বলার সাহস ছিল না। কারণ তখন আমি নিজেও নতুন বউ। মেঘালয়ের ওপর আমার আস্থা ছিল। অবশ্য মেঘালয় আমার আস্থার মান রেখেছে। কিন্তু তুমি? বয়সের একটা ঘাটতি বলতে ব্যাপার থাকে জানো? তুমি তখন নিতান্ত অল্পবয়সী একটা মেয়ে। তোমার মনের মধ্যে তখন ফ্যান্টাসির জগৎ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটাকে তুমি অন্যচোখে অনুভব করছিলে। অথচ বাস্তবের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্যদিকে তাকালো। ইতির কথার মানে ধরে ফেলেছে সে।
ইতির আলোর থুতনি ধরে তার দিকে ফিরিয়ে বলল,

–অবশ্য তুমি নিজেও এখন একজন সাইকোলজিস্ট। তোমাকে আমার বোঝানোর ক্ষমতা নেই। তবুও দুটো কথা বলি। দশবছরের বাচ্চাকে ভালোবাসার সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করো। বাচ্চাটা ভালোবাসা বলতে বাবা-মা এবং বন্ধুবান্ধব অব্দি তার গন্ডি থাকবে। একজন টিনএজ ছেলেমেয়েকে জিজ্ঞেস করো। তার উত্তর হবে গার্লফ্রেন্ড এন্ড বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু পরিণত বয়সের কাউকে জিজ্ঞেস করো তাদের উত্তর, কি হবে জানো?
আলো ভাবলেশহীন হয়ে তাকিয়ে আছে। সিতারা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। এমন নরম সরম আলোকে শেষ কবে দেখেছেন? যেদিন আলোর বাচ্চাটা মরে গেল সেদিন? নাকি যেদিন আলোর বাপ মরে গেছো সেদিন?
–ভালোবাসা চায় তারা তবে ভালোবাসার সঙ্গে যত্ন, সম্মান, মনের কথা প্রকাশ করার স্বাধীনতা তারা চায়? এটাই হবে পরিণত মানুষের চাওয়া। অপরিণত যারা কেবল ভালোবাসাকে পুঁজি করে বাঁচে তাদের চাওয়া-পাওয়া কেবল ভালোবাসা অব্দি আঁটকে থাকবে।
ইতির কথা শেষ হবার পর আলো নরম সুরে বলল,

— এখন তো ভালোবাসা চাইছি না ভাবি। সম্মান, যত্ন, মনের কথা প্রকাশ করার স্বাধীনতা এসবই চাই ডাক্তার সাহেবের কাছে। ভালোবাসা চাইলাম বলে সংসার ত্যাগ করতে হলো। অহেতুক চিন্তাভাবনা আমাকে এনে কোন জায়গায় দাঁড় করিয়েছে দেখতে পাচ্ছেন না?
— মেনে নিলে বয়সের দোষ ছিল?
ইতির কথা শুনে আলো শক্ত গলায় বলল,
— মেনে নেয়া ছাড়া উপায় আছে। একপাক্ষিক অর্থে আমি সবসময় অভার থিংকিং করেছি। ডাক্তার সাহেব সবসময় আমাকে যত্ন করেছে। আমার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে। আমাকে সম্মান দিয়েছে। অথচ, আমি তেমন সম্মানিত মানুষ নই। বিনিময়ে সে কি চেয়েছিল? আমার উপস্থিতি, আমার ভালোবাসা। আমি তার চাওয়া অনুযায়ী কিছুই দিতে পারিনি। দিয়েছি কেবল ভর্ৎসনা। ভালোবাসার বদলে বিরহ। সুখের বদলে কান্না। তাকে সঙ্গ দেয়ার বদলে দিয়েছি এক নিঃসঙ্গ জীবন।

কথাগুলো বলার সময় ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলল আলো। ইতি থুতনিতে এক হাত রেখে চুপচাপ বসে আছে। এমন এক জটিল সমীকরণ সমাধান করার উপায় কি? মেঘালয় যখন আলোকে রাখতে চাইল তখন আলো থাকতে চাইল না। আট বছর পর আলো মেঘালয়ের হতে চাইছে কিন্তু মেঘালয় আলোকে চাইছে না। অথচ, দুজন দুজনকে প্রচন্ড ভালোবাসে। দু’জন দু’জনকে চোখে হারাচ্ছে প্রতিটাক্ষণ। কিন্তু ভালোবেসে পাশে থাকার কথা বলতে তাদের এত আপত্তি কেন?
আলো নিজেকে সামলে ফেলল। তারপর মোবাইল ফোন বেট করে গ্যালারি ঘেঁটে একটা ছবি বের করে ইতিকে দেখিয়ে বলল,

—এই একটা ছবি আমাকে বারবার ডাক্তার সাহেবের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। নয়তো সেই কবেই ডাক্তার সাহেবের কাছে চলে আসতাম। আমাকে এত এত ভালোবাসার পরও সে কিভাবে পারল অন্য কাউকে গ্রহণ করতে?
ইতি খানিকটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ছবিটার দিকে। একটা ছবিতে পাঞ্জাবি পরনে গম্ভীরমুখে বসে থাকা মেঘালয়ের পাশে বধূবেশে বসে আছে অতি সুন্দরী একটা মেয়ে। এই মেয়েটা আর কেউ নয় তাদের…।
ইতি অস্থির হয়ে আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে তার আগেই আলো বলল,
—এই ছবিটা আমি পেয়েছি কাব্য স্যারের আইডিতে বেশ কয়েকবছর আগে। মেয়েটা তো আমার চেয়ে কয়েকগুণ সুন্দরী। ডাক্তার সাহেবের পাশে বেশ মানিয়েছে। আমি তো আহামরি সুন্দরী নই যে আমার বিরহে কারো জীবনে শ্রাবণ ধারা নেমে আসবে। উল্টো এতদিন আমি ভাবতাম ডাক্তার সাহেব আমার প্রতিক্ষায় আছে। সামান্য একটা ছবি আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না। হয়তো আমার চোখের দেখায় কিংবা বুঝার ভুল। কিন্তু, ডাক্তার সাহেব আমাকে এবার ভুল প্রমাণিত করলেন।
সিতারা বেগম খানিকটা অবাক হয়ে আলোকে বলল,,

— তুই পাগল হয়ে গেছিস, আলো। যেহেতু জামাই আরেকটা বিয়ে করে ফেলেছে এবং তুই এই ব্যাপারে জানিস আগে থেকেই। তাহলে কেন আজ তুই এখানে এসেছিস?
— আমার ফেলে দেয়া ফুলকে কেউ যত্ন নিয়ে আগলে রেখে কতটা সুখে আছে তা দেখতেই আজ এখানে এসেছি আম্মা। কিন্তু দেখতে পেলায় কোথায়? নিজের সুখ দেখাট সৌভাগ্য তো নেই আমার। পরের সুখ দেখার সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাতে পারিনি।
কথাটি বলতে বলতে আলোর চোখ দিয়ে আবারও জল গড়িয়ে পরল। আলো হাতের পিঠে চোখের জল মুছে ইতিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আপনার দেবরের সঙ্গে আমার এখনও ডিভোর্স হয়নি ভাবি। আমি নামমাত্র তার নামের সঙ্গে নিজেকে আর জড়িয়ে রাখতে চাই না। আশা করছি আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করবেন?
— তুমি কি পাগল হয়ে গেলে?
— পাগল এতদিন ছিলাম, ভাবি। আজ এই মূহুর্ত থেকে আমি সুস্থ সজ্ঞানে বলছি, আমি ডাক্তার সাহেবের সুখের সংসারে আগুন জ্বালাতে আসব না। আমি অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে প্রস্থান নেব। কেউ কিছু টের পাবে না।

— মেঘালয় তোমার খোঁজ জানার পর নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে সহমত প্রকাশ করবে না?
ইতি অস্থির হয়ে যাচ্ছে। পাগল দুটোকে নিয়ে কি করবে এখন?
— অবশ্যই সহমত প্রকাশ করবে। তার জীবনে এখন দ্বিতীয় মানুষ আছে। প্রথমা’র জন্য নিশ্চয়ই কেউ দ্বিতীয় সুন্দরী বউকে ছেড়ে আসবে না? আম্মা উঠো। সিলেট ফিরতে হবে।
শেষ দুটো বাক্য আলো তার আম্মাকে উদ্দেশ্য করে বলেই উঠে দাঁড়ালো। ইতি আলোর পথ আগলে দাঁড়ালো।
—তুমি কোথাও যেতে পারবে না। কাব্য আসুক। কাব্য তোমার সঙ্গে কথা বলুক। এরপর তুমি যেখানে যেতে চাও সেখানেই যেতে পারবে।
আলো অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো মায়ের দিকে। কিন্তু সিতারা মাথা নীচু করে ফেলল। যার অর্থ “আমি কিছুই জানি না”

একটা ইসলামিক সেন্টারে শিশির এবং তনুজার বিয়ে হলো খুব সাদামাটা আয়োজনে। বিয়ে হবার পর আত্মীয় স্বজন সবাই নতুন বর কনেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। মেঘালয় একপাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছে। মনটা আবারও স্মৃতির সফরে বেরিয়ে পরল। আলোর হলুদের সাজসজ্জা, নববধূ রুপে আলোকে দেখা, বাসর রাতে ভয়ার্ত অষ্টাদশী আলোর কথা আজ খুব মনে পরছে।
তার একটা জীবন, একটাই প্রেম, একটাই হৃদয়, একটাই স্মৃতি কোষ। অথচ, সবখানেই আলোর বিচরণ। আলোর কথা ভেবে ভোর হয়। রাত নামে। আলো তো তার জীবনে কোথাও নেই। কিন্তু তার অস্তিত্ব কত ভয়ংকর ভাবে অনুভূত হয়!
আলো তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে বিয়ের ফ্যাংশানগুলো থেকে সে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু কিছু বিয়েতে থাকতে হয় নয়তো আত্মীয়তার মান বজায় রাখা যায় না।
মেঘালয় যখন আকাশকুসুম ভাবছিল ঠিক তখনি মাশফি এসে মেঘালয়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

— আজ রাতেই নাকি ইউকে’তে ফিরবি?
— হুম।
— বাংলাদেশে ফিরবি কবে?
– কার জন্য ফিরব?
মাশফির কাছে উত্তর নেই। এমন সময় বর্ষা এসে মাশফির পাশে দাঁড়িয়ে মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
— তোমার মিসেস যে ফিরে এসেছে তোমার ভাইয়াকে বলছো না কেন?
কথাটি বলেই মুচকি হেসে ফেলল বর্ষা। মাশফি বিস্মিত হয়ে মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— কি রে তোর ভাবি কি বলছে? এই বর্ষা তুমি কি ইয়ার্কি করছো?

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৩

শেষ কথাটি বলার সময় মাশফি বর্ষার হাত ধরে ফেলল। বর্ষা মাশফির হাতটা শক্ত করে হাসতে হাসতে বলল,
— সত্যি বলছি, মাই হাজবেন্ড। আলো আজ আমাদের বাড়িতে গিয়েছে। ইতি ভাবি আজ সকালে কল করে কনফার্ম করেছে আমাকে। কিন্তু আমার দেবর সাহেব আলোর ফিরে আসার কথা শুনেও নির্বাক হয়ে গেছে কেন? তুমি কি আলোর দেয়া সারপ্রাইজ হজম করতে পারছো না?
শেষ কথাটি মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল বর্ষা। বর্ষার কথা শুনে মাশফি কি রিয়াকশন দেবে ভেবেই পাচ্ছে না। মেঘালয় চোখমুখ শক্ত করে বলল,

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৫