মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪২
Tahmina Akhter
“ওর সাথে আমার দেখা ছিল কো-ইন্সিডেন্স
বিচ্ছেদ ছিল ভাগ্যে
ও ঠিক ততটুকু দূরে সরে গেছে।
যতটুকু কাছে ছিল”
কথাটি শেষ করা মাত্রই করতালিতে মুখর হলো পুরো ড্রইংরুম জুড়ে। এমনসময় মেঘালয়ের মোবাইলের রিংটোন স্বশব্দে বেজে উঠল। একটি আট বছরের ছোট বালিকা সোফার ওপর থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে কল রিসিভ করে বলল,
— হ্যালো, কে বলছেন?
— আমি, মিসেস মেঘালয় বলছি ।
— কে কল করেছে রে, বেলীফুল?
প্রশ্ন শুনে ছোট বালিকা ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো তার ছোট চাচ্চু মেঘালয় এদিকে আসছে। ছোট বালিকা হাসিমুখে মেঘালয়ের সামনে মোবাইল বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
— মিসেস মেঘালয় কল করেছে!
— এত জোরে গান বাজাচ্ছে কে?
কথাটি বলতে বলতে মেঘালয় দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে শিশিরের কাছে চলে গেল। ছোট বালিকা আবারও মোবাইল কানে লাগিয়ে ছোট করে বলল,
— চাচ্চু তো চলে গেছে। আপনি একটু পরে কল করুন।
কল কেটে গেছে। আলো মোবাইল হাতে নিয়ে মেঝেতে বসে পরলো। দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ব্যাকুল সুরে কাঁদতে শুরু করল। জীবনের এমন এক পর্যায়ে এসে সে দাঁড়িয়েছে যেখান থেকে না সে এগিয়ে যেতে পারবে। আর না পেছনে ফিরে আসতে পারবে৷ একূল ওকূল হারিয়ে সে আজ মাঝসমুদ্রে আছে। ডাক্তার সাহেব নিশ্চয়ই তাকে ভুলে গেছে। ভুলে গেছে তার মিসেস মেঘালয়কে। হয়তো এতদিনে ডাক্তার সাহেবের জীবনে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে। হয়তো ডাক্তার সাহেবের পুরোটা হৃদয় জুড়ে তার বসবাস। সেখানে সামান্য এক আলোকে মন রাখার কি দায় পরেছে ডাক্তার সাহেবের ? কিন্তু অবাধ্য হৃদয়টা যে আজ লজিক মানছে না! অথচ পুরো একজীবন সে কাটিয়ে দিয়েছেন লজিকের ওপর নির্ভর করে। আজ হৃদয়টা কার জন্য অস্থির হয়ে গেছে! আলো বুকের বা পাশে হাত রেখে কয়েকটা ডিপ ব্রিথ নিয়ে মেঝেতে টানটান হয়ে শুয়ে পরলো। শরীর জ্বালাপোড়া করছে। অবশ্য এটাই আলোর নিত্যদিনের শারীরিক চিত্র। প্যানিক এ্যাটাক হয় না আগের মতো। কিন্তু, শরীরের জ্বালাপোড়া আছে। ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে তার নয়মাস সংসারের কথা যখনই মনে পরে তখনই দিনদুনিয়া বিষ বিষ লাগে।
জীবনের এত খ্যাতি, ক্যারিয়ার, সাজানো-গোছানো লাইফস্টাইল কিছুতেই সেই আগের মতো আনন্দ অনুভব করতে পারে না। রোজ সকালে ডাক্তার সাহেবের চেহারা দেখে ভোর হওয়া ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যেস। তাড়াহুড়ো করে ডাক্তার সাহেবের পছন্দ করা খাবার তৈরি করা, নিজ হাতে ডাক্তার সাহেবের কাপড়চোপড় ভাজ করে আলমারির দ্বিতীয় সাড়িতে রাখা, রোজ নিয়ম করে ডাক্তার সাহেব হসপিটালে যাওয়ার সময় এবং বাড়িতে ফিরে আসার পর ডাক্তার সাহেবের শার্টের বোতাম লাগিয়ে দেয়া এবং খুলে দেয়া তার নিত্যদিনের অভ্যেস। তারপর ডাক্তার সাহেব যখন মনোযোগ দিয়ে শেভ করতো তখন একগালে হাত রেখে ডাক্তার সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা ছিল রোজকার অভ্যেস। এত বছরের এত স্মৃতি, এত এত বদঅভ্যেস কাটিয়ে একবারের জন্য তো ডাক্তার সাহেবকে সে ভুলতে পারেনি। সামনে বসে থাকা মানুষটাকে সে অনায়াসে মিথ্যা বলতে পারে। কিন্তু, নিজের হৃদয়ের সঙ্গে কি মিথ্যা বলা যায়? যতই মুখে মুখে বলুক সে ডাক্তার সাহেবকে ভুলে গেছে কিন্তু সে তো একটুখানি ভুলে পারেনি। গত আটবছরে ডাক্তার সাহেবকে হয়তো রোজ দেখেনি। কিন্তু হৃদয়ের চোখ দিয়ে কোটি বার তাকে দেখা হয় রোজ। যার বসবাস হৃদয়ের মধ্যখানে, যার বসবাস চোখের তাঁরায় তাকে কি করে ভুলে যাওয়া যায়?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হাতের পিঠে চোখের জল মুছে আবারও কেঁদে ফেলল আলো।
সিতারা বেগম মেয়ের ঘরে এসে দেখলো, মেয়ে মেঝেতে শুয়ে আছে। সিতারা বেগম ধীর পায়ে হেঁটে আলোর কাছে গিয়ে বললেন,
— রাত ক’টা বাজে! ভাত খাবি না?
— আম্মা?
আলোর ডাক শুনে সিতারা ভীষণ অবাক হয়ে যায়। আলোর চোখের জল দেখে সিতারা বেগম হতদন্ত হয়ে আলোর পাশে বসলেন। আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে প্রশ্ন করলেন,
— কি হয়েছে তোর? শরীর খারাপ লাগছে?
— আম্মা, আমি যে বোকা কিসিমে’র মানুষ আমাকে কোনোদিন বলেন নাই কেন আপনি? নাকি আপনারা টের পান নাই আপনাদের আলো বোকা একটা মেয়ে?
আলোর কথার আগামাথা খুঁজে পাচ্ছে না সিতারা। তবে মেয়ের কথার পেছনে যে বিশাল লজিক লুকিয়ে আছে তা টের পাচ্ছেন। সিতারা হাত বাড়িয়ে আলোর চোখ জল মুছে দিয়ে বলল,
—বোকা হলে নিশ্চিত পড়াশোনা করে ডাক্তার হইতে পারতি না? অন্যকোনো কথা থাকলে বল?
আলোর চোখ দুটোতে আরও জল এসে জমা হচ্ছে। সিতারা এবার সত্যি সত্যি ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। আলোর কাঁদতে কাঁদতে হিঁচকি উঠে গেছে।
মেঘালয় শিশিরের কাঁধে থাপ্পড় দিয়ে বলল,
— রাত ক’টা বাজে? এত জোরে গান ছেড়ে তুই কি বোঝাতে চাইছিস! তুই দেবদাস? নাকি ফরহাদ? নাকি রোমিও?
শিশির ফোস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— জীবনে মানুষ একবারই বিয়ে করে ভাই। আগামীকাল আমার বিয়ে। আজকের রাতটা অন্তত স্বাধীনভাবে আমাকে ইনজয় করতে দাও। আগামীকাল থেকে আমি স্বাধীন বাংলাদেশে পরাধীন হয়ে থাকব।
“বিয়ে” শব্দটা শুনে খানিকটা বিচলিতবোধ করছে মেঘালয়। দুইহাত দিয়ে কপালের চুলগুলো পেছনের দিকে সরিয়ে সেখান থেকে সরে গেল। “বিয়ে” শব্দটা তার কাছে পবিত্র একটা শব্দ। “বিয়ে” নামক একটা শব্দের অনেক অনেক ক্ষমতা। যেই ক্ষমতার জের ধরে দুই মেরুর দুই বাসিন্দা একই ঘরে, একই বিছানায় বসবাস করে। জীবনের সকল সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নেয়। জীবনের সকল আপ-ডাউনে হাতে হাত রেখে পথচলা একটুখানি সুখের আশায়৷ পৃথিবীতে রোজ কত মানুষের সঙ্গে মানুষের কথা হয়, দেখা হয়। কই কেউ তো কারো সুখ-দুঃখের ভাগিদার হতো চায় না। কেউ আগ বাড়িয়ে বলে না তোমার কাঁধে মাথা রেখে একটুখানি দুঃখ কমাতে পারব? কেউ আগ বাড়িয়ে বলে না আমি তোমার বুকে মাথা পেতে সুখ খুঁজে পাই? এসব কথা সাধারণ কেউ কাউকে বলে না। এসব কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত মানুষ দরকার। আর ব্যক্তিগত মানুষ চাইলেই তো পাওয়া যায় না খুঁজে নিতে হয়। বিয়ে করতে হয়। প্রত্যেকটা ধর্মে বিয়েকে হাইলাইট করেছে। কারণ বিয়ে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধতম একটি সম্পর্ক। কিন্তু এই শুদ্ধতম সম্পর্ককে কিছু কিছু মানুষ কাঠ পুতুলের খেলা ভেবে রেখেছে। কাঠের পুতুলকে যেমন দড়ি বেঁধে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে নাচায় ঠিক কিছু স্বামী-স্ত্রী আছে যারা তাদের পার্টনারকে এভাবেই আঙুলের ইশারায় নাচাতে চায়। কিন্তু চাইলেই কি সম্ভব? সব মানুষের ইচ্ছে স্বাধীনতা আছে। পার্টনারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে নেই যতক্ষণ না সে কারো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
পরক্ষণেই মেঘালয়ের মনে বিবেকের প্রশ্ন উদয় হলো।
“ তুই যেহেতু এতই বুঝিস তাহলে তোর মিসেস তোকে ছেড়ে কেন চলে গেল! তুই তো তাকে আগলে রেখেছিলি! সে তোর যত্ন, আদরকে, ভালোবাসাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গভীররাতে এই শহরে চলে গেছে বহু বছর আগে। শোন এই সব বড় বড় কথায় সংসার চলে না। যে থাকার সে এমনিতেই থাকবে। আর যে না থাকার সে চলে যাবে। তাকে বেঁধে রাখা যায় না।”
মেঘালয়ের মানসপটে ভেসে উঠল আলোর কান্নারত মুখটা। শেষ দেখা হয়েছিল। এরপর…. না। আর কিছু ভাবতে পারছে না। আলোর কথা ভাবতে বসলে পাগল পাগল মনে হয় নিজেকে।
বেলীফুলের কাছে যাওয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কে যেন কল করেছিল বলল? মেঘালয় হাঁটতে হাঁটতে আবারও ড্রইংরুমে চলে এলো। বেলীফুল মোবাইলে কার্টূন দেখছিল। তার চাচ্চুকে এগিয়ে আসতে দেখেই বেলীফুল মুচকি হেসে বলল,
— চাচ্চু? তোমাকে একজন খুঁজছে।
— মোবাইল দাও। পরিচয় জানতে চাওনি? সে কে?
মোবাইল হাতে নিতে নিতেই প্রশ্ন করলো মেঘালয়। বেলীফুল চকলেট কামড় বসিয়ে চিবুতে চিবুতে জবাব দেয়।
— উনার পরিচয় মিসেস মেঘালয় বলল। এটা কোনো নাম হলো চাচ্চু! মানুষের নাম থাকবে বিন্তি, অরিন, ফায়জা। “মিসেস মেঘালয়” কেমন অদ্ভুত নাম! কিন্তু তোমার সঙ্গে উনার নামের মিল আছে।
বেলীফুলের কথা শুনে মেঘালয় স্তব্ধ হয়ে যায়। চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেছে। বেলীফুল তার চাচ্চুর কাছ থেকে রেসপন্স না পেয়ে সোফা থেকে নেমে সোজা চলে গেল তার পাপার কাছে।
মেঘালয় ডান হাতের পিঠে কপালের ঘাম মুছে মোবাইল চেক করলো। তার হাত অসম্ভব কাঁপছে। স্ক্রীণের ওপর ভেসে উঠল “ মিথ্যাবতী” নামটা। মেঘালয়ের পা দুটো অসাড় হয়ে আসছে। গলা শুকিয়ে আসছে। হৃদয়ের অস্বাভাবিক স্পন্দনের জন্য স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার আগেই কারো ডাক শুনে মেঘালয় অতি সন্তর্পনে চোখের জল মুছে ফেলল।
— তোমাকে কতক্ষণ ধরে ডাকছি? এসো খাবার খেতে এসো। বিয়ে বাড়িতে খাবারদাবারের ঠিক আছে? তাড়াতাড়ি এসো।
মেঘালয়ের হাতটা টেনে ধরে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেতে নরম সুরে কথাটি বলল বর্ষা। মেঘালয়ের গলার মধ্যেভাগে কি যেন দলা পাকিয়ে আছে! নয়তো জোর গলায় একটা ধমক দিতো বর্ষাকে।
— কাঁদছিস কেন, আলো?
— আম্মা? আমি এত বোকা কেন হলাম, আম্মা? আম্মা আমার অতিরিক্ত জেদ, বোকামির কারণে আমার জীবনের আটটি বছর হারিয়ে গেছে আম্মা।
সিতারা বেগমের বুকে মাথা রেখে অঝোরে কেঁদে ফেলল আলো। দীর্ঘ আটবছর পর আলোর চোখের জল দেখে অধিক বিস্ময়ে সিতারা বেগম কথা বলার খেই হারিয়ে ফেলেছেন। মেয়েটা তো কাঁদত না, হাসতে ভুলে গিয়েছিল প্রায়। সেই মেয়ে আজ কাঁদছে! মেয়ের হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিরা কি ফিরে এসেছে আবার?
সিতারা বেগম আলোর মাথায় হাত রেখে নরম আদুরে সুরে জিজ্ঞেস করল,
— কি হয়েছে রে, মা? কাঁদছিস কেন? আম্মাকে বল না? দেখ, এখন কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে!
আলোর কান্না মোটেও থামল না বরং কান্নার শব্দ আরও বেড়েছে। সিতারা বেগম উৎকন্ঠার মাঝে বারবার আলোকে জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু আলো জবাব দিচ্ছে না। তারপর, হঠাৎ করে আলোর যে কি হলো? তার আম্মাকে ছেড়ে দু-হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে মোবাইল হাতে নিয়ে চলে গেল বারান্দায়। তারপর, কল করলো তার এক কলিগকে। সিতারা বেগম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বারান্দায় অস্থির হয়ে পায়চারি করতে থাকা আলোকে দেখছে। চোখের সামনে এ কোন আলো? গত আটবছর আগে যাকে শেষবারের মতো এমন ছটফট করতো দেখেছিল সেই আলোকে? নাকি সামান্য কিছু হলেই কান্না করে চোখের পাতা ফুলিয়ে বসে থাকা সেই আলোর দেখা আবারও মিলেছে!
কথা শেষ করে বারান্দা থেকে রুমে এসে আলো তার আম্মাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আম্মা, তৈরি হও। গাড়ি আসবে কিছুক্ষণের মধ্যে।
— ওমা, এত রাতে কোথায় যাব! তুই গাড়িও ঠিক করে ফেলেছিস!
— চট্টগ্রামে যাব আম্মা।
ব্যস সিতারা বেগম আর কিছুই মেয়েকে জিজ্ঞেস করার সাহস পেলেন না। নিজের ঘর থেকে বোরকা পরে আবারও চলে এলেন আলোর ঘরে। এসে দেখলেন আলো একটা চমৎকার শাড়ি পড়েছে। সোনালী পাড়ের সাদা রঙের জামদানী শাড়ি। চুলগুলো খোঁপায় বেঁধে ঘাড়ের ওপরে ফেলে রেখেছে৷ সিতারা বেগম অবাক হয়ে মেয়ের কান্ড দেখছেন। আলো ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে সরে এসে তড়িঘড়ি করে তার আম্মার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— আম্মা ঘরে তো কাজল নেই। তোমার সুরমাদানি দাও।
সিতারা বেগম হাসিমুখে ঘর থেকে মেয়েকে সুরমাদানি এনে হাতে দিলেন। আলো দুইচোখে সুরমা দিলো। তারপর, আয়নায় শেষবারের মতো নিজেকে আরও একবার দেখে মোবাইল এবং পার্স হাতে নিয়ে সিতারা বেগমকে সঙ্গে করে বেরিয়ে পরল বাড়ি থেকে। রাস্তায় এসে দাঁড়ানোর পনেরো মিনিট পর একটি প্রাইভেটকার এসে তাদের সামনে দাঁড়ালো। আলো এবং সিতারা বেগম কারে উঠে বসতেই গাড়ি রওনা হলো চট্টগ্রামের পথে।
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৪১
দীর্ঘ ছয়ঘন্টা পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করল আলো এবং সিতারা বেগমের গাড়ি। ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। আকাশের দিগন্ত রেখায় তখন সূর্যের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। আলো প্রাণভরে দেখছে তার জন্মভূমিকে, তার প্রাণের শহরকে। সিতারা বেগমের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে যেন আফসার সাহেবের ঘ্রাণ এই শহরের বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে।
প্রাইভেট কার এ কে খান ফেলে অলংকার মোড়ে এসে জাকির হোসেন রোডের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ খুলশির দিকে যতটা এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ আলোর হৃদয় স্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে।
