Home মেজর ওয়াসিফ মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪৩

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪৩

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪৩
ঐশী রহমান

কেবিনের ভেতরটা তখন এক অদ্ভুত মায়াবী স্তব্ধতায় ছেয়ে আছে। বাইরের অবিশ্রান্ত বৃষ্টির শব্দ আর ভেতরের ইসিজি মেশিনের মৃদু ‘বিপ বিপ’ আওয়াজ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। ধারা তার ক্লান্ত, ভারী চোখের পাতা মেলে তাকিয়ে রইল সামনে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা মানুষটার দিকে। ওয়াসিফের ভেজা ইউনিফর্ম থেকে এখনো বৃষ্টির দু-এক ফোঁটা পানি মেঝেতে টুপটুপ করে ঝরে পড়ছে। তার অবিন্যস্ত চুল, কপালে লেগে থাকা ইউনিফর্মে লেগে থাকা ধুলো-কাদা—সবকিছু ছাপিয়ে ধারার চোখে আজ ধরা দিল এক মহাসমুদ্রের মতো উপচে পড়া ভালোবাসা আর আকুলতা।

ওয়াসিফ ধারার দুর্বল হাতটা নিজের দুই হাতের অঞ্জলিতে ভরে মুখের কাছে তুলে নিল। তার শক্ত, খসখসে ঠোঁট দুটো ধারার আঙুলের গিঁটে চেপে ধরতেই এক তীব্র অনুশোচনার তপ্ত শ্বাস ধারার চামড়া স্পর্শ করল।
“আমায় ক্ষমা করে দিস, মুমতাহিনা,” ওয়াসিফের গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজ ভীষণভাবে কাঁপছিল। “আমি বড্ড দেরি করে ফেলেছি রে । তোকে এই নরক যন্ত্রণার ভেতর একা ফেলে রেখেছিলাম। আমাকে তুই শাস্তি দে, যা খুশি কর, কিন্তু এভাবে চোখ বুজে থাকিস না।”
ধারা কিছু বলতে চাইল, কিন্তু তার শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট দুটো চট করে নড়ে উঠল না। কেবল তার চোখের কোণ বেয়ে আরও এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে কান বেয়ে বালিশে মিশে গেল। সেই অশ্রুটুকু যেন অভিমানের শেষ অবশিষ্টাংশ, যা ওয়াসিফের বুকের ওপর হাত ছোঁয়াতেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। ধারা অনেক কষ্ট করে হাতটা সামান্য তুলে ওয়াসিফের গালে লেপ্টে থাকা কাদার দাগটায় স্পর্শ করল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে দুর্বল কিন্তু স্বর্গীয় হাসি। সে ফিসফিস করে বলল, “আপনি এসেছেন… আমার আর কোনো কষ্ট নেই।”
ঠিক এই সময়ে কেবিনের দরজাটা আলতো করে খুলে ভেতরে ঢুকলেন লুইপা আর শাহীন। লুইপার কোলে তখন কাপড়ে জড়ানো এক ছোট্ট তুলতুলে মাংসের পিণ্ড। লুইপার চোখ দুটো এখনো লাল, কিন্তু মুখে এক পৃথিবীর আনন্দ।

ওয়াসিফ ধীর পায়ে উঠে দাঁড়াল। লুইপা আলতো হেসে ওয়াসিফের দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাইয়া, তোমার মেয়ে। দেখো, একদম তোমার মতো নাকটা হয়েছে।”
‘মেয়ে’ শব্দটা শোনার সাথে সাথে মেজর ওয়াসিফের মতো একজন কঠোর সেনা অফিসারের বুকের ভেতরটা যেন এক নিমিষে গলে জল হয়ে গেল। যে হাত একটু আগেও দেশের শত্রুদের দমনে ট্রিগারে চেপে বসেছিল, সেই হাত দুটো এখন কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে গেল এক নিষ্পাপ, কোমল প্রাণের দিকে। লুইপা খুব সাবধানে শিশুটিকে ওয়াসিফের চওড়া দু-হাতের মুঠোয় তুলে দিল।
জীবনের প্রথমবার নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতিটা কেমন, তা হয়তো কোনো শব্দের ফ্রেমে বাঁধা সম্ভব নয়। ওয়াসিফ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার কন্যার দিকে। ছোট্ট দুটো চোখ বন্ধ, গোলাপি ঠোঁট দুটো হালকা নড়ছে, আর তার গায়ের সেই চেনা নবজাতকের সুবাস ওয়াসিফের সমস্ত ক্লান্তি, যুদ্ধ আর বারুদের গন্ধকে এক পলকে ধুয়েমুছে সাফ করে দিল। ওয়াসিফের চোখ ভেঙে পানি চলে এলো। সে আলতো করে মেয়ের কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। একজন বীর কমান্ডো আজ এক ছোট্ট রাজকন্যার সামনে পুরোপুরি হেরে গিয়ে এক পরম বাবার রূপ ধারণ করল।

ওয়াসিফ মেয়েকে কোলে নিয়ে ধারার বিছানার পাশে এসে বসল। ধারার দিকে তাকিয়ে আলতো করে বাচ্ছাটিকে তার বুকের পাশে শুইয়ে দিল। ধারা তার কাঁপতে থাকা হাত দিয়ে মেয়ের ছোট্ট হাতটা ছুঁতেই তার মাতৃত্বের সমস্ত অপূর্ণতা যেন এক লহমায় পূর্ণতায় রূপ নিল।
“দ্যাখ মুমতাহিনা? ও একদম তোর মতো শান্ত হয়েছে,” ওয়াসিফ ধারার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল।
ধারা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “ওর নাম কী রাখবেন?”
ওয়াসিফ ধারার দিকে তাকাল, তার চোখে তখন এক গভীর তৃপ্তি। সে ধারার কপালে আরও একবার চুমু খেয়ে বলল, “যে মেয়ে তার বাবার জন্য নয়টি মাস তার মায়ের সাথে এক অদৃশ্য যুদ্ধ লড়েছে, যার আগমনে আমাদের জীবনের সব ঝড় শান্ত হয়ে গেছে… তার নাম হবে ওয়াসিকা বিনতে শাহেদ। আমার মেয়ে, আমার ঘরের রহমাত।”

লুইপা আর শাহীন কেবিনের এক কোণে দাঁড়িয়ে এই সুন্দর দৃশ্যটা দেখছিল। লুইপা চোখের পানি মুছে শাহীনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। শাহীনও লুইপার কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করল যে, সব বাধা পেরিয়ে আজ এই পরিবারটি আবার এক হয়েছে।
বিকেলের দিকে বৃষ্টির বেগ কমে এলো। মেঘ চিরে এক ফালি সোনালী রোদ এসে পড়ল হাসপাতালের জানালার কাচ গলে ঠিক ধারার বিছানার ওপর। ধারা এখন অনেকটাই সুস্থ বোধ করছে। ওয়াসিফ তখনো ধারার পাশ থেকে এক চুলও নড়েনি। সে ধারার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছিল, আর অন্য হাত দিয়ে মেয়ের ছোট্ট আঙুলটা ধরে রেখেছিল।
ধারা ওয়াসিফের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার ক্যাম্পে কোনো সমস্যা হবে না তো? আপনি এভাবে হুট করে চলে এলেন যে?”
ওয়াসিফ একটু হাসল। সেই চিরচেনা ড্যাশিং হাসি, যা দেখলে ধারার বুকটা এখনো ধক করে ওঠে। ওয়াসিফ বলল, “মেজর ওয়াসিফ বর্ডারের দায়িত্ব শেষ করেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা পালন করতে এসেছে। হেডকোয়ার্টার থেকে আমি এক সপ্তাহের স্পেশাল লিভ মঞ্জুর করিয়েই এসেছি, মুমতাহিনা। এই সাতটা দিন আমি শুধু আমার বউ আর আমার মেয়ের।”

ধারার বুকটা এক অজানা সুখে ভরে উঠল। নয় মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, একাকীত্বের সেই ভয়াবহ রাতগুলো, আর ওটির ভেতরের সেই তীব্র যন্ত্রণা—সবকিছু যেন এই একটি মুহূর্তের বিনিময়ে সার্থক মনে হলো। দেশের মাটির টান যেমন সত্য, ঠিক তেমনই সত্য ছিল ভালোবাসার এই অমোঘ টান। মেজর ওয়াসিফ আজ প্রমাণ করে দিল, সে যেমন বর্ডারের এক অতন্দ্র প্রহরী, ঠিক তেমনই তার মুমতাহিনার মনের একনিষ্ঠ রাজা।
কেবিনের ভেতর নতুন প্রাণের কান্নার মিষ্টি আওয়াজ আর দুই হৃদয়ের নীরব কথোপকথনে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো।
হাসপাতালের কেবিন জুড়ে এখন এক অদ্ভুত শান্তির আবহ। বিকেলের সেই সোনালী রোদের আলোটা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসতেই নার্স এসে ঘরের মৃদু আলোটা জ্বেলে দিয়ে গেল। ছোট্ট ওয়াসিকা তখন মায়ের বুকের ওমে পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। তার ছোট্ট বুকটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ওঠানামা করছে। ধারা একদৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন বহু জনমের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে সে।
ওয়াসিফ এতক্ষণ কেবিনের সোফাটায় বসে একটা জরুরি ফাইলে চোখ বোলাচ্ছিল। লিভ মঞ্জুর করিয়ে এলেও বর্ডারের কিছু সিচুয়েশনাল রিপোর্ট তাকে অনলাইনেই চেক করতে হচ্ছিল। কাজ শেষ করে ফোনটা পকেটে রেখে সে ধারার বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল। ইউনিফর্ম বদলে সে এখন একটা সাধারণ গাঢ় নীল রঙের শার্ট পরে আছে, যা তার চওড়া কাঁধে বেশ মানিয়েছে। চুলগুলো এখনো কিছুটা অগোছালো, তবে চোখের সেই ক্লান্তির জায়গায় এখন এক অদ্ভুত চকচকে উজ্জ্বলতা।
“ঘুমোচ্ছিস না কেন, মুমতাহিনা? শরীর খারাপ লাগছে আবার?” ওয়াসিফ ধারার কপালে হাত রেখে গায়ের তাপমাত্রা মাপার চেষ্টা করল।

ধারা মাথা নেড়ে আলতো হাসল, “না, একদম ঠিক আছি। আসলে… ওকে দেখার পর থেকে আমার চোখের সব ঘুম কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না ও আমার কোলে।”
ওয়াসিফ ধারার পাশে বিছানার খালি জায়গাটায় বসল। তার একটা হাত আলতো করে জড়িয়ে নিল নিজের শক্ত হাতের মুঠোয়। ধারাকে সে আজ এক অন্য চোখে দেখছে। যে মেয়েটাকে সে অবুঝ, চঞ্চল আর অভিমানী হিসেবে চিনেছিল, আজ সে এক পূর্ণাঙ্গ মা। এই নয়টি মাস একা একা যে ধকল সে সামলেছে, তা ভেবে ওয়াসিফের বুকের ভেতরটা এখনো মোচড় দিয়ে ওঠে।
“তোর এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না রে,” ওয়াসিফ নিচু স্বরে বলল, তার কণ্ঠস্বরে উপচে পড়া গভীরতা। “আমি যখন বর্ডারে প্রফেশন কাজে ব্যস্ত, তুই তখন এখানে একা জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়ছিলি। অথচ আমি…”

“আবার ওসব কথা?” ধারা ওয়াসিফের ঠোঁটে নিজের আঙুল চেপে ধরে তার কথা থামিয়ে দিল। “আমি তো বলেছি, আপনি এসেছেন মানে আমার সব কষ্ট শেষ। আর এই যে আমাদের ওয়াসিকা… ও তো আপনারই অংশ। ওকে দেখলে আমার মনে হয় আমার জীবনের সব একাকীত্ব এক নিমেষে সার্থক।”
ওয়াসিফ আর কিছু বলল না। ধারার আঙুলগুলো নিজের ঠোঁট থেকে সরিয়ে নিয়ে সেখানে গভীর এক চুমু খেল।
ঠিক তখনই কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো লুইপা আর শাহীন। লুইপার হাতে একটা বড় টিফিন ক্যারিয়ার। সে ঢুকেই চটপটে গলায় বলল, “ভাইয়া, ধারার জন্য গরম স্যুপ আর হালকা কিছু খাবার নিয়ে এসেছি। ডাক্তার বলেছেন এখন থেকে ওনাকে লিকুইড আর পুষ্টিকর খাবার বেশি দিতে।”
শাহীন এসে ওয়াসিফের কাঁধে হাত রাখল, “ভাইয়া, তুমিিও দুপুর থেকে কিছু খাওনি । এবার একটু ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নেও। তোমার এই ‘মেজর’ রূপটা বর্ডারে মানালেও, হাসপাতালের কেবিনে তোমাকে বড্ড বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে।”
ওয়াসিফ মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। সে সত্যিই খেয়াল করেনি যে তার পেটে দুপুরের পর থেকে এক দানা খাবারও পড়েনি। আসলে, বাবা হওয়ার আনন্দ আর ধারার সুস্থতার স্বস্তি তার ক্ষুধার অনুভূতিটাকে পুরোপুরি ভুলিয়ে দিয়েছিল।

লুইপা ধারার পাশে বসে তাকে একটু সোজা হয়ে বসতে সাহায্য করল এবং চামচ দিয়ে স্যুপ খাইয়ে দিতে লাগল। ধারা স্যুপ খেতে খেতে লুইপার দিকে তাকিয়ে বলল, “লুইপা, বাবাকে খবর দিয়েছিস আপা’?
লুইপা একটু থমকে গেল, তারপর ওয়াসিফের দিকে তাকাল। ওয়াসিফ নিজেই উত্তর দিল, “আমি হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট করার সময়ই চাচাকে ফোন করেছিলাম। ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছেন। রাতের মধ্যেই এসে পৌঁছানোর কথা। আসলে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জ্যাম ছিল খুব।” ধারার বাবা, ভদ্রলোক ব্যবসায়িক কাজে রাজধানী গিয়েছিলেন, পরিবারের সকলে ছোট্ট প্রাণটাকে দেখলো, তার নানা ভাই এখনো তাকে দেখেনি, খবর শোনা মাত্র ই ছুটে আসছেন।

খাওয়াদাওয়া শেষ করে শাহীন আর লুইপা বিদায় নিল। তারা হাসপাতালেরই একটা গেস্ট রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য গেল, সেখানে শাহেনূর, সামিরাও আছে। যাতে রাতে কোনো প্রয়োজন হলে চট করে চলে আসতে পারে। কেবিনে আবার দুই জোড়া চোখ আর এক নতুন প্রাণের নীরবতা ফিরে এলো।
রাত তখন প্রায় এগারোটা। বাইরের বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে গেছে, তবে জানালার কাচ ভেদ করে ভেজা মাটির একটা মিষ্টি সুবাস ঘরের ভেতর ভেসে আসছে। ওয়াসিকা হঠাৎ একটু কেঁদে উঠতেই ধারা ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু তার আগেই ওয়াসিফ অত্যন্ত সাবধানে, যেন কোনো কাচের পুতুল তুলছে, সেভাবে মেয়েকে কোল তুলে নিল।
“আরে, আপনি পারবেন? ও তো বড্ড ছোট!” ধারা কিছুটা শঙ্কিত গলায় বলল।
“মেজর ওয়াসিফ পারে না এমন কোনো কাজ আছে?” ওয়াসিফ একটু বাঁকা হেসে বলল। সে মেয়েকে আড়কোলে, দুহাতের ওপর আলতো করে চেপে ধরে কেবিনের ভেতর পায়চারি করতে লাগল। অবাক কাণ্ড, বাবার চওড়া বাহুতে মাথা রাখতেই ওয়াসিকার কান্না থেমে গেল। সে তার ছোট্ট হাতটা দিয়ে ওয়াসিফের শার্টের একটা বোতাম খামচে ধরল।

এই দৃশ্যটা দেখে ধারার চোখের কোণ বেয়ে খুশির অশ্রু নেমে এলো। সে মনে মনে ভাবল, যে মানুষটা দেশের কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ঘোরে, আজ সে কত অনায়াসে তার ছোট্ট মেয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
ওয়াসিফ মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে আবার ধারার পাশে শুইয়ে দিল। তারপর ধারার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে তার খুব কাছে এসে বসল। ধারার চুলে নিজের মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে বলল, “অনেক তো হলো… এবার এই কমান্ডোকে একটু ক্ষমা করে দেওয়া যায় না, মুমতাহিনা?”
ধারা ওয়াসিফের বুকে নিজের মাথাটা রাখল। তার চেনা সুবাস, সেই চেনা বুকের ধকধক আওয়াজ—যা শোনার জন্য সে নয়টা মাস চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেছে। ধারা মৃদু হেসে বলল, “ক্ষমা তো অনেক আগেই করে দিয়েছি। এখন শুধু সারাজীবন এভাবে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি চাই।”

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪২

ওয়াসিফ ধারার কপালে নিজের ঠোঁট দুটো চেপে ধরে মনে মনে এক অদৃশ্য শপথ নিল। বর্ডারের কাঁটাতার হয়তো তাকে মাঝে মাঝে দূরে নিয়ে যাবে, কিন্তু এই দুই হৃদয়ের বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার সাধ্য আর কারও নেই। মেঘ কেটে গেছে, ঝড় থেমে গেছে—এখন শুধু এক নতুন সুন্দর ভোরের অপেক্ষা।

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here