মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১১
ফারহানা নিঝুম
দেয়ালের গা ঘেঁষে মিশিয়ে যাওয়া রমণী বড্ড হাঁপাচ্ছে। প্রবলভাবে শ্বাস নিচ্ছে। সোনালী চোখ দুটোয় জমাট বেঁধেছে বিস্ময়ের ঘনছায়া। বিস্ময়ের অভিঘাতে বাকশক্তি টুকু লোপ পেয়েছে। টু শব্দটি করার সাহস নেই তার। অদৃশ্য কোনো শক্তি তার কন্ঠনালি রুদ্ধ করে রেখেছে নির্মমভাবে।
বক্ষপিঞ্জরে বন্দী মাংসলপিন্ড ক্রমশ ধাপিয়ে চলেছে উন্মত্তগতিতে। এই বুঝি পাঁজর ভেদ করে ছিটকে বেরিয়ে আসলো বলে! অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে থাকা রমণী অস্ফুট স্বরে চিৎকার করল,
“ভা…. ভাইয়া….
“হুঁশ…
তৎক্ষণাৎ কর্ণ কুহুতে আঁচড়ে পড়ল সতর্ক, নিম্নস্বর।
হিমশীতল শিলাখণ্ডের ন্যায় দেহ জমে গেছে রমণীর। স্থাণুর ন্যায় নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে সে! ভয়ে আর্তনাদ করার উপায় টুকু অবধি নেই। চিৎকার করার সামান্য শক্তি টুকু যেন আতঙ্ক গ্রাস করেছে।
এই মুহূর্তে সে যেই অবস্থায় রয়েছে তাতে যে কেউ দৃশ্য খানা দেখার পর, নির্দ্বিধায় সমস্ত করা দোষ যে কেউ তার কাঁধেই চাপিয়ে দেবে।
অতঃপর দীর্ঘ সময় নিয়ে সাহস সঞ্চয় করে কন্ঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো,
“আ.. আপনি এটা..কি করছেন,শয্য ভাইয়া?”
কম্পিত কন্ঠস্বর। ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলা বাক্যগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করল না কাঠখোট্টা পুরুষটি। সম্পূর্ণ রূপে উপেক্ষা করল পাথুরে পুরুষটি। উপরন্তু ধীর , অথচ দৃঢ়ভাবে ছুঁয়ে দিল কোমরের কাছটায় ঝুলতে থাকা কোমর বন্ধনীতে।
আতংকে কেঁপে উঠল ঝুমঝুম। তৎক্ষণাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো হৃদয়। মস্তিষ্ক জুড়ে ঝড়ের বেগে হানা দেয় নিষিদ্ধ কিছু দৃশ্যকল্প। লজ্জায় আনত হলো চিবুক। দমবন্ধকর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার শক্তি টুকু বুঝি খুইয়েছে ঝুমঝুম।
আতংকিত কন্ঠে বলতে চায়,
“এটা…
“That beautiful waist chain is dangerously captivating, but some beauty is meant to stay a little private.”
ঝুমঝুমের কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। কেউ যেন জ্বলন্ত লাভা নির্গত করেছে কর্ণ কুহুতে! চোখে জমেছে আদ্রর্তা। ঝুমঝুম ঠোঁটে ঠোঁট চাপল, তৎক্ষণাৎ তার পেলব গাল দুটো চেপে ধরল মানব, হিসহিসিয়ে বলল,
“নেক্সট টাইম এমন কিছু দেখলে জানে মেরে ফেলব,ইউ ইডিয়ট! যা সামলাতে পারিস না তা কেন পড়তে যাস? হোয়্যাই?”
লজ্জায় চোখ ছাপিয়ে অশ্রু ঝরে কন্যার।
আচম্বিতে বলিষ্ঠ হাতটি একটানে ছিঁড়ে ফেলল কোমর বন্ধনীটা! অতঃপর মুঠোয় চেপে হনহনিয়ে প্রস্থান করল।
মূর্তির ন্যায় স্থবির ঝুমঝুম কথা হারিয়েছে। মাথাটা কেমন ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। এই বুঝি জ্ঞান হারাবে সে।
বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। এই ঘর থেকে শুরু হয় এক নববধূর নতুন জীবনের উপাখ্যান। অতঃপর পাতা উল্টাতেই জীবনের মোড় ঘুরে যায়!
কি বিস্ময়কর পরিণতি,তাইনা? দীর্ঘ আঠারো ঊনিশ বছর পিতা মাতা নামক দুটি মানুষের সাথে অভ্যস্ত থাকা কন্যা যখন সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পুরুষের সান্নিধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। নিজের সমগ্র সত্তা সমর্পণ করে।সেই মানুষটি হয়ে উঠে তার জীবনের এক মাত্র ভরসা। জীবনের অন্তিম প্রহর পর্যন্ত, বার্ধক্যের ভাঁজ পড়া অবধি সেই মানুষটির হাত ধরেই বাঁচতে হয়।
মা বেঁচে থাকাকালীন জুঁই তার থেকে এটুকুই আত্মস্থ করেছে । সকলকে আপন করে নিয়ে কিভাবে বাঁচতে হয় সেগুলোই তাকে শিখিয়ে গেছে।
আজ জুঁইয়ের জীবনের এমন একটা বিশেষ দিনে তিনি নেই। চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে কন্যার। বুকের ভেতর অজানা আতঙ্ক ক্রমশ বিস্তার হচ্ছে। সর্বাঙ্গ কেমন শির শির করে উঠছে কন্যার। সমগ্র সত্তায় অদ্ভুত এক শিহরণ!
রিমঝিম জেসমিন বাদশাহর কথামতো এখানে আব্রাহামের কক্ষে জুঁইকে বসিয়ে দিয়ে গেছে।
বিশাল বেডরুমের বেডে বসে আছে জুঁই। সারাদিনে সিউলের দুর্লভ ফুল দিয়ে বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। জুঁইয়ের পরণে এখন আর সেই গাউনটি নেই যা পার্টিতে পড়েছিল সে। তার পরিবর্তে পরণে বাঙালিয়ানার একটি চমৎকার জামদানি শাড়ি। ঘিয়ের আভাযুক্ত এক অপূর্ব শাড়ি!
হাতের তালু ঘেমে একাকার! অজানা, নিষিদ্ধ কিছু দৃশ্যকল্প মানসপটে ভাসছে যতবার ততই লজ্জায় সেঁধিয়ে যাচ্ছে জুঁই! আজ থেকে আব্রাহাম আর সে স্বামী স্ত্রী। তাদের মধ্যে এমন কিছু হবে যা আর পাঁচটা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে ঘটবে সেইসব অলিখিত ঘনিষ্ঠতা যা যুগ যুগ ধরে প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্কের এক অবিচ্ছেদ্য হয়ে এসেছে।
দরজার নব মুচড়ে ভেতরে প্রবেশ করল আব্রাহাম। জুতোর তীব্র অভিঘাতে আঁতকে উঠল জুঁই। পলক ফেলতেই ভুলে গেল কন্যা! স্নায়ুর ওপর চাপ প্রয়োগ করতেই আব্রাহামের বলা একটি বাক্যই ঝংকার তুলল কর্ণ কুহুতে।
“এখন তো আর তোমার বোন আমার পত্নী নয়, জুঁই ফুল। তুমি-ই আমার স্ত্রী। আর মনে রেখো আমাদের এখনো বাসর রজনী বাকি। আগামীকাল রিসেপশন, আর রাত্রিতে আমাদের মিলনোৎসব। প্রস্তুত থাকবে, বোকা জুঁই।”
আব্রাহামের দৃষ্টি স্থির হলো নববধূ রূপে বোকা জুঁই ফুলকে বিছানায় সঙ্কুচিত হয়ে বসে থাকতে দেখে। তার অধরপ্রান্তে প্রস্ফুটিত হয় স্নিগ্ধ,কোমল হাস্যরেখা। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে তার ঠিক সম্মুখে স্থির হলো আব্রাহাম।
আব্রাহামকে এতটা নিকটে দেখে আতংকের পরিমাণ দ্বিগুণ হলো লাজুক কন্যার। আনত হয় রক্তিম মুখমণ্ডল! বক্ষপিঞ্জরে বন্দী মাংসল পিন্ডটা আর্তনাদ করছে ক্ষণে ক্ষণে!
আব্রাহাম সঙ্কুচিত কন্যার সংকোচ দূর করতে কোমল কন্ঠে ডেকে উঠল,
“জুঁই?”
“হুঁ!
নাকে মুখে তোলা ওইটুকু জবাব ঠিক কতটা মোহনিয়া শুনালো তা যদি বিন্দুমাত্র অনুভব করতো কন্যা;তবে কখনোই এভাবে আব্রাহামের নায়ক শুদ্ধ পুরুষের সম্মুখে আওয়াজ তুলতো না।
আব্রাহাম নৈঃশব্দ্যে হাসলো। মাথা ঝাঁকিয়ে মেঝের দিকে একপল চেয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল কাভার্ডের নিকটে। ভেতর হাতড়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি বের করে আনল।
একটি ব্যাংকের চেক! বিছানায় বসল অতঃপর সেই চেকটি এগিয়ে দিল জুঁইয়ের দিকে। মেয়েটা জড়বস্তুর ন্যায় বসে আছে। চেকটা নিজের দিকে এগিয়ে দিতে দেখে ম্রিয়মাণ কন্ঠে শুধোয়,
“এটা কি?”
আব্রাহাম মৃদ্যু হাস্যরেখা ফুটিয়ে বলল,
” নিজেই দেখো।”
জুঁই কম্পিত হাতে চেকটি নিলো। স্পষ্টভাবে ওখানে বড় অংকের অর্থের দাগ করা। আব্রাহাম সূক্ষ্ম হাতে সাইনও করে দিয়েছে সেখানটায়।
শ্রবণেন্দ্রিয়তে ছুঁয়ে গেল পুরুষালী কন্ঠস্বর,
“তোমার মোহরানা।”
“মোহরানা” আজকাল কি এই বিষয়টা কারো মস্তিষ্কে থাকে? কেউ কি মনে রাখে স্ত্রীর হক আদায় করার বিষয়টি? বিন্দুমাত্র ইচ্ছে প্রকাশ করেনা বরপক্ষ, উপরন্তু কিছু অদ্ভুত নিয়মনীতি ধারা জারি করে সেই হক টুকু রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ নিজেদের ভাগটুকু ঠিকই অপর প্রান্ত হতে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভাবনাচুত্য হয় জুঁইয়ের, আব্রাহাম হাত বাড়িয়ে তার কম্পিত হাত যুগল মুঠোয় বন্দী করল।
“আমার জীবনে তোমাকে স্বাগত,বোকা জুঁই।”
চক্ষুদ্বয় ঝাপসা এলো রমণীর! আব্রাহাম অনুমতি চাইবার ন্যায় শুধোয়,
“এবার কি আমি তোমার ঘোমটা তুলতে পারি, জুঁই?”
হিমখন্ডের ন্যায় স্থবির হয়ে পড়ল জুঁই! রাতের শীতালু ছোবল পড়ল সর্বাঙ্গে! উষ্ণ নিঃশ্বাস ছেড়ে জড়ানো কন্ঠে অনুমতি দেওয়ার ন্যায় মাথা দোলায়। আব্রাহাম মুচকি হাসলো! রয়ে সয়ে ঘোমটা তুলল কন্যার! নত চিবুকে বসা রমণীর স্নিগ্ধ,কোমল, সংকোচে জড়িত মুখাবয়ব থেকে অস্ফুট স্বরে ধ্বনি তুলল,
“মাশআল্লাহ।”
কৃষ্ণবর্ণের পল্লবদ্বয় কম্পিত হয় কন্যার! শুষ্ক ঢোক নেমে আসে পাকস্থলীতে!
আব্রাহাম বসা অবস্থায় মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ওই সঙ্কীর্ণ ললাটে ওষ্ঠো ছুঁয়ে দেয়। ওমনি হৃদয় জুড়ে শিহরণ খেলে গেল জুঁইয়ের! আব্রাহাম হালকা হেসে বলল,
“এবার বলুন, আপনার কি আমার কিছু চাই?”
জুঁই ত্বরিতে মাথা এদিক সেদিক নাড়িয়ে অসম্মতি জানায়। সে আর কি চাইবে? কিছু চাওয়ার নেই তার!
আব্রাহাম গ্রাবী ঝুঁকিয়ে কৌতুকরস্যে বলল,
“তাহলে এবার আমি আমার বউ আনবক্সিং করি?”
আতংকে চকিতে চোখ তুলে তাকায়, জুঁই! বিস্ময়ে অভিভূত কন্যা! নিঃশ্বাস আটকে এলো গলদেশে। আব্রাহাম সশব্দে হেসে উঠলো। হাসির তালে সঙ্কুচিত হলো তার চোখ দুটি!
“ভয় পেলে?”
জুঁই মুখ ফসকে ধিক্কার জানিয়ে বলল,
“আপনি ভীষণ অদ্ভুত!”
আব্রাহাম চমকে উঠে, মেকি বিস্ময় দেখিয়ে বলল,
“কতটা অদ্ভুত? শয্যের থেকেও বেশি?”
জুঁই বুঝে উঠল না প্রত্যুত্তরে কি বলবে! ললাট জুড়ে গুটি কয়েক ভাঁজ পড়ল। আব্রাহাম তাকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। হাত প্রসারিত করে মোহাচ্ছন্ন কন্ঠে আওড়ে,
“উঠো, ফ্রেশ হয়ে তারপর গল্প করব।”
জুঁই কপাল কুঞ্চন করে প্রশ্নবিদ্ধ করল আব্রাহামকে,
“গল্প কেন করব? ঘুমোবো না?”
আব্রাহাম খানিক্ষণ নিরব রইল। অতঃপর অধরপ্রান্তে প্রস্ফুটিত হয় রহস্যঘেরা হাস্যরেখা,
“ঘুমোনোর জন্য আগামী ষাট বছর রয়েছে। আজকের দিনটা না হয় নির্ঘুম কাটবে?”
জুঁই আশ্চর্য হলো। সে কল্পনা করেনি আব্রাহামের সাথে একটা সপ্তাহও অতিবাহিত করবে কি করে! অথচ এই পুরুষ আগামী ষাট বছর তাকে নিয়ে ঘুমোনোর কথা বলছে!
“এটা হতেই পারেনা। কোথাও একটা ভুল হয়েছে। হ্যাঁ অবশ্যই ভুল হয়েছে।”
ড্রেসিং টেবিলের সম্মুখে দাঁড়িয়ে নিজেকেই নিজে সান্তনা দিয়ে চলেছে রমণী! ললাট জুড়ে উদ্বেগের চিহ্ন স্পষ্ট শোভা পাচ্ছে! শয্য তার কোমড়ে ওভাবে স্পর্শ করবে তা ঝুমঝুমের কল্পনার্ধ্বে! প্রবল দুশ্চিন্তায় পিষ্ট হচ্ছে রমণীর বিচক্ষণ মস্তিষ্ক! আকাশ পাতাল কত কি না সে কল্পনা করে বসে আছে! কিছু নিষিদ্ধ কল্পনা মানসপটে আসতেই নিজেকে আচ্ছা করে শাসাচ্ছে ঝুমঝুম।
ব্যস্ত হাতে কান থেকে ঝুমকো খুলে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে ম্রিয়মাণ কন্ঠে বলল,
“হতেই পারে ভাইয়ার চোখে অশোভনীয় কি পড়েছে তাই এতটা রেগে গেছে? হ্যাঁ তাই হবে।”
একে একে অঙ্গে জড়ানো সকল ধরণের প্রসাধনী খুলে রাখল ঝুমঝুম,
“হ্যাঁ আমি ঠিকই ভাবছি,এমনটাই হবে। শয্য ভাইয়া ভাই হয় আমার। যতই টালবাহানা করুক,রাগ দেখান মেজাজ দেখাক। আমি শিও্যর উনি এসব কিছুই ভেবে করেননি! বোনের সেফটির জন্য একটু কড়া শাসন করেছেন! আচ্ছা শয্য ভাইয়ার জায়গায় যদি আব্রাহাম ভাইয়ার থাকত তবে?”
ফের কপাল গোটায় রমণী! ক্ষোভে ফুঁসছে অন্তর্নীল ফুঁসছে। উফ্ একের পর এক অভাবনীয় ভাবনা ভাবছে সে!
আপন মনে নিজেকে সান্ত্বনা বানী শুনিয়ে ওয়াশ রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পিছু ফিরতেই থমকালো ঝুমঝুম। টেবিলের উপর রাখা পোট্রেটের স্থানটুকু খালি দেখে ললাট জুড়ে গোটাকয়েক ভাঁজের দেখা মিলল! সন্দিগ্ধ কন্ঠে বিড়বিড়াল,
মেরিগোল্ড সেনোরিটা পর্ব ১০
“পোট্রেট টা কোথায় গেল?”
ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গিয়ে জায়গাটা ভালো করে খুঁজে দেখল ঝুমঝুম। একে একে সুসজ্জিত কক্ষের প্রতিটি কোণ খুঁজ করে ফেলল অথচ পোট্রেট কোথাও পেলো না!
আচম্বিতে কক্ষ কাঁপিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো ঝুমঝুম! তার কান্নায় পাশের রুমে অবস্থানরত রিমঝিম বিদ্যুৎ বেগে ছুটে এলো ঝুমঝুমের দরজার সম্মুখে!
