যে পাখি মন বোঝে না পর্ব ২১
মুন্নি আক্তার প্রিয়া
কাঠফাটা রোদ উঠেছে আজ। সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম। ফ্যানের বাতাসও যেন গায়ে লাগছে না। এই গরমের মধ্যেও প্রীতি বারান্দায় বসে আছে। চেয়ারে দুপা তুলে বসে সে আছে অন্য জগতে। গতকাল সারারাত তার ঘুম হয়নি। চোখ দুটো লেগে আসলেই প্রিয়তাকে নিয়ে শুধু উলটা-পালটা স্বপ্ন দেখছিল। কেন জানিনা প্রীতি কিছুতেই এই নির্মম সত্য মানতে পারছে না। বোধ করি মানতে চাচ্ছেও না। চির অসুখী মেয়েটার সাথেই কেন এরকম হতে হবে?
পারভীন বেগম রুমে ঢুকলেন এক গ্লাস শরবত নিয়ে। প্রীতিকে রুমে না পেয়ে তিনি বারান্দায় গেলেন। সামান্য চেঁচিয়ে বললেন,
“তুই কি মানুষ প্রীতি? এত গরম আর রোদের মধ্যে তুই বারান্দায় কেন বসে আছিস? আয় রুমে আয়।”
প্রীতির আজ তর্ক করার মতো মানসিকতা নেই। কোনো কিছু গায়েও লাগছে না। মন এতটাই উদাসীন হয়ে আছে যে রোদের উত্তাপও সে টের পাচ্ছে না। চুপচাপ মায়ের সঙ্গে রুমে গেল। পারভীন বেগম মেয়েকে আদর করে বিছানায় বসালেন। শরবতের গ্লাস হাতে দিয়ে বললেন,
“কাল তো কিছুই বললি না। এসেই ঘুমিয়ে গেলি।”
“কী বলব?”
“ছেলেকে তোর কেমন লাগল?”
“ভালো।”
পারভীন বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। বললেন,
“এরকম ম’রা মানুষের মতো কথা বলছিস কেন? কী হয়েছে তোর?”
“কই? আমি তো ঠিকই আছি।”
“তুই কি এই বিয়েটাও ভাঙতে চাচ্ছিস?”
এ কথার জবাব নেই প্রীতির কাছে। সে তো আসলে বিয়ে নিয়ে এখনো কিছু ভাবেইনি। এমনকি গতকাল জীবনের সাথে এই বিষয়ে তার কোনো কথাও হয়নি।
মেয়ের নিরবতায় পারভীন বেগম কিছুটা রেগে গিয়ে বললেন,
“এবার যদি বিনা কারণে তুমি বিয়ে ভেঙেছ তো তোমার একদিন কি আমার যেই কয়দিন লাগে বলে রাখলাম!”
তিনি চলে গেলেন রুম থেকে। প্রীতি দরজার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কানে বাজছে জীবনের বলা কথাটি,
“শী ইজ নো মোর!”
এসির নিচে বসে থাকলেও জীবনের মনে আজ অস্থিরতর শেষ নেই। হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার বদলে আরো গরম হয়ে আসছে। গতকাল রাতে একইভাবে তার নিজেরও ঘুম হয়নি। মনের ভেতর একবুক হাহাকার। আজ এতগুলো বছর পর যে তার সামনে আবার কখনো প্রিয়তার অধ্যায় চলে আসবে এটা তো সে কখনো কল্পনাও করেনি। পুরনো ক্ষ’ত যেন নতুন করে তাজা হয়েছে এখন। হতে পারে সে প্রিয়তাকে একপাক্ষিক ভালোবেসেছিল, কিন্তু ভালো তো বেসেছিল। তার জীবনের প্রথম অনুভূতি এবং ভালোবাসার নামই ছিল প্রিয়তা। যে কিনা আজ সবার থেকে অনেক অনেক অনেক দূরে। এতটাই দূরে যে, যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো উপায় নেই।
অফিস শেষ করে জীবন কী করবে বুঝতে পারছিল না। প্রীতিকে কি একবার দেখা করতে বলবে? যদি কিছু মনে করে! দোনোমোনো করতে করতেই জীবন প্রীতিকে মেসেজ করে ফেলল,
“পাঁচটার পর কি আজ দেখা করতে পারি?”
মেসেজটা পাঠিয়েও উশখুশ করতে লাগল জীবন। মনে হচ্ছিল, না বললেই ভালো হতো। মিনিট পাঁচেক পরে প্রীতির রিপলাই এলো।
“ঠিক আছে।”
কোনো জিজ্ঞাসাবাদ নেই, বাড়তি কোনো প্রশ্ন নেই। শুধু এটুকুই।
গতকাল দুজনে যেই রেস্টুরেন্টে বসেছিল। আজও সেখানেই এসেছে। তবে আজ প্রীতি জীবনের আগেই চলে এসেছে। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা জীবনের। ধপ করে চেয়ারে বসে বলল,
“সরি। বেশি দেরি করে ফেললাম?”
প্রীতি টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলল,
“না, আমিই আজ একটু আগে চলে এসেছি।”
“ওহ আচ্ছা! বাইরে আজ অনেক গরম।”
“হ্যাঁ।”
“কিছু অর্ডার দিয়েছেন?”
“দুটো কোল্ড কফি দিয়েছি।”
“সাথে আরকিছু নিন।”
“লাগলে পরে নেব। আপনি আগে একটু স্থির হোন।”
“আমি ঠিক আছি।”
“আচ্ছা।”
প্রীতি এরপর চুপচাপ বসে রইল। জীবনও চুপচাপ। দুজনই কেন দেখা করতে এসেছে কিংবা দেখা করতে চেয়েছে তা জানে না। বেশ কিছুক্ষণ পর প্রীতি ব্যাগ থেকে দুটো বই বের করে টেবিলের ওপর রাখল। জীবন বইয়ের নামের নিচে প্রীতির নামটা দেখে কৌতুহলী হয়ে উঠল। বই দুটো খুলে পেইজ উলটে-পালটে দেখে বিস্মিত কণ্ঠে বলল,
“আপনি রাইটার?”
প্রীতি মৃদু হাসি দিয়ে বলল,
“টুকটাক লেখি আরকি!”
“টেলেন্টেড গার্ল! বই দুটো কি আমার জন্য?”
“জি।”
“থ্যাঙ্কিউ সো মাচ। কিন্তু আপনি যে রাইটার এ কথা তো কেউ বলেনি।”
“বাসার কেউ তো জানে না।”
“সেকি! কেন?”
“অনেক স্ট্রিক্ট ফ্যামিলি কিনা তাই আরকি!”
“বুঝতে পেরেছি।”
তারপর আবারও নিরবতা। জীবন নড়েচড়ে বসে বলল,
“আপনার কি মন খারাপ?”
“না।”
“দেখে মনে হচ্ছে মন খারাপ। আবার মনে হচ্ছে আপনি খুব স্ট্রেসে আছেন। কিছু নিয়ে কি খুব চিন্তা করছেন?”
প্রীতি এবার চোখ তুলে তাকাল জীবনের দিকে। জীবন সেই ভাষা বুঝতে পেরে বলল,
“আমাদের জীবন খুবই আনসার্টেন এন্ড আনপ্রেডিক্টেবল। এখানে কখন কী হবে কোনো কিছুই যেমন নিশ্চিত না, তেমনই কোনো কিছুই আগে থেকে আন্দাজ করা যায় না। প্রিয়তার বিষয়টাও ঠিক তেমনই। অনেক বছর কেটে গেছে। তবুও গতকাল আপনার মুখে যখন প্রিয়তার কথা শুনলাম, সাধারণভাবেই মনে হচ্ছিল এইতো কিছুদিন আগেও আমরা হয়তো একই ক্লাসে পড়তাম। কিন্তু আমি জানি, আমার মনে হওয়াটা আর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিষ্ঠুর সত্য এটাই যে, প্রিয়তা আর আমাদের মাঝে নেই। এটা মেনে নিয়েই এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছি। আপনারও এটা মেনে নিতে হবে। এই সত্যের পেছনে পড়ে থাকলে শুধু মানসিক অশান্তিই বাড়বে।”
“আপনি কি এখনো প্রিয়তা আপুকে ভালোবাসেন?”
“মৃ’ত মানুষকে কি ভালো না বাসার কোনো কারণ আছে?”
প্রীতি নিরুত্তর। জীবন বুঝিয়ে বলল,
“আচ্ছা আমরা যাদের ভালোবাসি তাদেরকে কি সবসময় আমরা পাই? এমনও তো হয় কত সম্পর্কে, দুজন দুজনকে ভালোবাসার পরও সম্পর্কটা আর শেষ পর্যন্ত টেকে না। হয়তো একজনের ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু অন্যজনের তো থাকে। এই যে ঠকে যাওয়া মানুষ যারা আছে তারা কি চাইলেও পারে যারা ঠকিয়েছে তাদের শুধু ঘৃণাই করতে? ভালোবাসা কখনো মৃ’ত হয় না প্রীতি। ম’রে যায় শুধু আমাদের অনুভূতিগুলো। প্রিয়তা যদি এখনো বেঁচে থাকত তবুও ও কখনো আমার হতো না। আর এর কারণটা তো আপনি আমারও আগে জানেন। আমার পছন্দ, ভালোলাগা সবসময়ই এক তরফা ছিল।”
“তাহলে আপনার এখন ভবিষ্যৎ প্ল্যান কী?”
“সামনে আগানো। আপনার জন্যও আমার একই পরামর্শ থাকবে।”
“বুঝিনি।”
“প্রিয়তার বিষয়টা ভুলে যেতে বলছি।”
“আপনি পেরেছেন?”
“মেনে তো নিয়েছি।”
প্রীতি দীর্ঘশ্বাস নিল। জীবন বলল,
“বাড়িতে আব্বু-আম্মু আপনার কথা জিজ্ঞেস করেছে। পছন-অপছন্দের ব্যাপারে।”
“আমি দেখতে যেহেতু অনেকটা প্রিয়তা আপুর মতো ,সেহেতু আপনার তো অপছন্দ হওয়ার কথা নয়।”
“আপনি দেখতে প্রিয়তার মতো হতে পারেন, কিন্তু প্রিয়তা তো আর নন। আপনি প্রীতি। আপনি আপনার মতো। আমি চাইলেও কখনো আপনার মাঝে প্রিয়তাকে খুঁজে পাব না। প্রতিটা মানুষই আলাদা সত্তার অধিকারি হয়। তাই আপনাকে আমার পছন্দ হওয়ার কারণ হিসেবে যদি প্রিয়তাকে মাধ্যম হিসেবে ধরে নেন, তাহলে আপনি চাইলে রিজেক্ট করে দিতে পারেন।”
“আমি রাজি।”
জীবন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“কী?”
“আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি।”
জীবন এভাবে সোজাসাপটা উত্তরের জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভেবেছিল, রিজেক্ট করলেও অনেক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রিজেক্ট করবে। সেখানে প্রীতি ওর ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে এবং বিয়েতেও রাজি বলেছে। মেয়ে মানুষকে বুঝা খুব কঠিন কিনা!
বাড়ি ফিরে দুই পরিবারকেই সম্মতি জানানোর পর খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়তে লাগল চতুর্দিকে। সব আত্মীয়-স্বজনদের কল দিয়ে খুশির খবর জানানো হচ্ছে। এর মাঝে একদিন দুই পরিবার একসাথে বসে বিয়ের দিন তারিখও ঠিক করে ফেলে। প্রীতিও জীবনের কথামতো প্রিয়তার বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। তার সম্পূর্ণ ফোকাসও এখন বিয়েকে ঘিরে। বিয়ের শপিং করছে, কাজিনরা মিলে ডান্স প্র্যাকটিস করছে। হৈ-হুল্লোড়, ব্যস্ততা আর মাঝে মাঝে জীবনের সাথে কলে কথা বলে সময় কেটে যাচ্ছে।
সময় ফুরিয়ে যেদিন বিয়ের ডেট আসলো সেদিন প্রীতির সৌন্দর্য যেন আরো বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে এরকমটাই বলছিল সবাই। প্রীতিকে ওর বড়ো ভাই প্রিতম, ভাবি আর একটা কাজিন পার্লারে নিয়ে গিয়েছিল সাজানোর জন্য। বউ সাজার পর একেকজনের প্রসংশায় সুখের সাগরে ভাসছিল প্রীতি। ওদিকে বাড়ি থেকে বারবার ফোন করছিল, তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। আসার সময় প্রিতম ওদেরকে নিয়ে এসেছিল। তাই ভাইও বারবার ফোন দিচ্ছিল তাড়াতাড়ি রেডি হওয়ার জন্য।
সাজগোজ শেষ করে বাইরে বের হতে লজ্জা লাগছিল খুব প্রীতির। ভাইকে এই প্রথম সে ফেইস করতে পারছে না। প্রিতম অবশ্য প্রীতিকে দেখে খুব খুশি হলো। অন্য সবার মতো প্রশংসাও করল। এরপর তাড়া দিয়ে বলল,
“চল, চল। আব্বু-আম্মু পাগল হয়ে গেছে তোকে দেখার জন্য।”
প্রীতি হেসে বলল,
“চলো।”
প্রীতির আর ওর কাজিন পেছনে বসেছে গাড়িতে। সামনে প্রিতম আর ভাবি। আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রীতির ভাগ্য ভালো, একটু আগে ঝড়বৃষ্টি অনেক হলেও এখন পরিবেশ শান্ত। প্রীতির খুব মন খারাপ এজন্য। আজকেই বুঝি এত বৃষ্টি হতে হলো?
কথায় আছে তাড়াহুড়ো করতে গেলে ঐ কাজ আরো লেটে হয়। ওদের বেলাতেও তাই হলো। একটু আগে অনেক বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে। রাস্তা তাই এখন বন্ধ এটা। প্রীতি বলল,
“এখন কী হবে?”
প্রিতম বলল,
“কী আর হবে! ঘুরে যেতে হবে এখন।”
প্রিতম ইউ টার্ন নিয়ে গাড়ি ঘুরাল। অনেকটা পথ এখন ঘুরে যেতে হবে। সময় লাগবে বেশি। তাই প্রীতিকে বলল, বাড়িতে কল জানিয়ে দিতে। নয়তো আবার চিন্তা করবে সবাই।
একটু তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য প্রিতম ফ্লাইওভার দিয়ে যাচ্ছিল। মাঝরাস্তায় দেখল উলটোপাশে গাড়ি আটকে আছে। একপাশে বেশ একটু ভিড়। এক মহিলা তখন ওদের গাড়ির সামনে এসে বলল,
“বাবা, একটু সাহায্য করো। পোলাডারে একটু হাসপাতালে নিয়া যাও। কেউ একটু আগাইয়া আসতাছে না।”
তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রিতম বৃষ্টির মধ্যেই গাড়ি থেকে নামল। প্রীতি বলল,
“আমি আসব?”
“না, না তুই বোস।”
এরপর প্রিতম সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ পরই র’ক্তা’ক্ত একজন লোককে কয়েকজন মানুষের সাহায্যে এখানে নিয়ে আসতে লাগল। র’ক্তে লোকটার সাদা শার্ট পুরো লাল হয়ে গেছে। প্রিতম প্রীতিকে বলল,
“প্রীতি, সাইডে চেপে বোস।”
প্রীতি আর প্রশ্ন না করে সাইডে চেপে মাঝখানে বসল। সবাই মিলে লোকটাকে ওর পাশে বসিয়ে দিল। প্রিতম গাড়িতে ওঠার আগে সেই মহিলাটিকে বলল,
“আন্টি, গাড়িতে তো জায়গা নেই। আপনি একটু কষ্ট করে সামনের হাসপাতালটিতে চলে আসুন।”
মহিলাটি বললেন,
“আমি না গেলেও চলব বাবা। তোমরা নিয়া যাও।”
প্রীতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি যাবেন না কেন? আপনার ছেলে না উনি?”
“না, না! আমি তো ওরে চিনি না। বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি না পাইয়া আমরা এক সিএনজি দিয়াই যাইতেছিলাম।”
প্রিতম তাই আর কথা না বাড়িয়ে বলল,
“আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে। তবুও আপনি যদি চান আসতে পারেন। আমরা সামনের হাসপাতালটিতেই যাচ্ছি। তাছাড়া আপনার আসা উচিত ড্রাইভারকে নিয়ে। আপনারাও তো আহত হয়েছেন।”
প্রিতম এবার গাড়িতে উঠে ড্রাইভ করতে লাগল। র’ক্তা’ক্ত লোকটার হুঁশ নেই। বসেও থাকতে পারছিল ন ঠিকমতো। প্রীতি তখন লোকটার একটা বাহু ধরে রাখল। সঙ্গে সঙ্গে লোকটার মাথা প্রীতির কাঁধে এসে পড়ল। তবে প্রীতি সরিয়ে না দিয়ে, চুপচাপ বসে রইল। ভাইয়ের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করল,
“এ’ক্সিডেন্টা হলো কীভাবে? জানো কিছু?”
“বাইকের সাথে। উনি যেই পাশে বসেছিল সিএনজির দরজা লাগানো ছিল না, খেয়াল করেনি এটা কেউ।”
“ইশ!”
প্রিতম যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছাল। এরপর প্রীতি ভাইয়ের সাথে লোকটাকে ধরতে গেলে ভাবি বলল,
“প্রীতি, তুমি ওনাকে ধইরো না। শাড়িতে র’ক্ত লাগবে।”
“লাগুক!”
প্রীতি ভাইয়ের সঙ্গে লোকটাকে ধরে নামাল। তখনই ওর ফোনটা বেজে উঠল। ব্যাগ ছিল কাজিনের কাছে। জীবন কল করেছে। কাজিন রিয়া বলল,
“জীবন ভাইয়া ফোন করেছে।”
“রিসিভ করিস না এখন।”
ওয়ার্ড বয়রা স্ট্রেচার নিয়ে এগিয়ে এলো তখন। ঐসময়েই প্রীতি লোকটার চেহারা দেখল ভালোমতো। যদিও মুখটা র’ক্তের জন্য বোঝা যাচ্ছিল না। তবুও যেন কেমন চেনা চেনা লাগছিল। অবশ্য প্রীতির সাথে এটা মাঝে মাঝেই হয়। কোনো ঘটনা, কোনো মানুষ দেখলে এমন মনে হয় যে, এর সাথে আগেও দেখা হয়েছে, এই ঘটনা ওর সাথে আগেও হয়েছে, কোনো নতুন প্লেসে গেলে মনে হয় এখানে আগেও এসেছে। মানে এই দেজাভু ওর সাথে প্রায়ই হয়।
প্রীতি ওর ভাবি আর রিয়াকে নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসে ছিল। হাসপাতালের ফরমালিটিসগুলো দেখছিল প্রিতম। কিছুক্ষণ পরই সেখানে এসে উপস্থিত হলো ছোটো ভাইয়া প্রিয়ম। প্রীতি অবাক হয়ে বলল,
“ভাইয়া, তুমি এখানে?”
“প্রিতম ভাইয়া কল করেছিল। তোরা চল আমার সাথে।”
“আর ভাইয়া?”
“ভাইয়া পরে আসবে।”
“দেখা করেছ?”
“হ্যাঁ, করেছি।”
প্রীতি, রিয়া আর ভাবিকে নিয়ে চলে গেল প্রিয়মের সাথে।
যে পাখি মন বোঝে না পর্ব ২০
নার্সরা আহত লোকটার মানিব্যাগ, ফোন, ঘড়ি সব প্রিতমের কাছে দিয়ে গেছে। কোনো পরিচয়পত্র সাথে আছে কিনা দেখার জন্য মানিব্যাগ খুলে দেখে এনআইডি কার্ড আছে ভেতরে। রিসেপশনিস্ট তখন প্রিতমকে জিজ্ঞেস করল,
“পেশেন্টের নাম কী?”
প্রিতম এনআইডি কার্ড থেকে চোখ সরিয়ে বলল,
“রাহাত।”
