Home র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ১

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ১

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ১
ইয়ুশরা রিমু

–“আমি আপনার সন্তানের মা হতে চলেছি সায়র সাহেব।”
ক্লাস চলাকালীন সময়ে বেলা ফেক আইডি থেকে তার চাচাতো ভাই শাইবান খান সায়রকে মেসেজটি পাঠিয়ে মিটিমিটি হাসলো। মজার বিষয় হলো, তিনিই তার কলেজের ইংরেজি টিচার, এবং সে সময় তিনি বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন। এখন শুধু অপেক্ষা সামনের মানুষটির প্রতিক্রিয়া দেখার।এক মিনিট, দুই মিনিট,পাঁচ মিনিট অতিবাহিত হলো। কোনো উত্তর নেই। বেলা ভ্রু কুঁচকে আবারও ইনবক্সে ঢুকলো। মেসেজটি সিন পর্যন্ত হয়নি। বিরক্ত হয়ে ঠোঁট বাঁকাল সে।

— এই মানুষটা কি মেয়েদের মেসেজ দেখে না নাকি?
বিড়বিড় করে বলে ফোনটা পাশে রাখতে যাবে, ঠিক তখনই টুং করে একটি নোটিফিকেশন ভেসে উঠলো।বেলার চোখ দুটো চকচক করে উঠে। দ্রুত মেসেঞ্জার খুলতেই দেখা গেল মাত্র একটি উত্তর এসেছে,
—আপনি ভুল নম্বরে মেসেজ দিয়েছেন।
উত্তরটা পড়ে বেলার মুখ হা হয়ে গেল। এত বড় খবর শুনেও লোকটার মধ্যে কোনো বিস্ময় নেই! যেন কেউ ক্লাসের নোট চেয়েছে। দুষ্টুমি চেপে রেখে আবার টাইপ করল সে,
–না স্যার, আমি ভুল করিনি। আমার সন্তানের বাবা আপনিই।
মেসেজ পাঠিয়েই হাসি চেপে বেঞ্চে গড়াগড়ি খেতে লাগলো বেলা। তার এখন ভীষণ কৌতূহল গম্ভীর স্বভাবের শাইবান খান সায়রের ধৈর্য আর কতক্ষণ টিকে থাকে! ওর অবস্থা দেখে পাশে বসা ওর বান্ধবী ইরা বললো,
— যদি একবার ধরা পড়তে পাড়িস ভাই। আমার নাম ভুলেও বলিস না যে আমি তোকে উৎসাহ দিয়েছি। স্যারের যা রাগ আমাকে এক থা’প্পড়ে গালের চাপা ভেঙে ফেলবে।
বেলা ওর ভ’য় পাওয়া মুখ দেখে বলে,

— দূর কিসব বলছিস। এই খানের বেটা কিভাবে বুঝবে যে আমি মেসেজ দিয়েছি? তোর কাচুমাচু মুখ দেখলে ধরা পড়বো নিশ্চিত। স্বাভাবিক থাক শালী।
পরক্ষণে যখন মনে পড়ল সে বারবার “স্যার” সম্বোধন করেছে মেসেজে , তখন নিজের মাথায় নিজেই আলতো করে চাপড় মা’রলো বেলা। মুখ বিকৃত করে বিড়বিড় করলো সে,
—ধুর ! আমি তো একটা গাধা!
এখন তো সায়র স্যারের বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় যে তাকে কলেজের কেউ একজন বিরক্ত করছে। বাইরের কোনো মেয়ে হলে “স্যার” বলে সম্বোধন করার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি সন্দেহের তীর তার দিকে ঘুরে যায়, তাহলে সর্বনাশ! খান বংশের এই গম্ভীর ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই তাকে হাতেনাতে ধরার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে।
বেলা দ্রুত ইনবক্সে ঢুকে মেসেজ আনসেন্ড করবে কি না ভাবতে লাগলো। কিন্তু ততক্ষণে আবারও ফোনটা কেঁপে উঠে। সায়র মেসেজ স্ক্রিনে জ্ব’লজ্ব’ল করছে। বেলার বুক ধক করে উঠলো। দ্রুত ইনবক্সে যেতেই দেখা গেল নতুন একটি রিপ্লাই এসেছে,

—আপনি কে?
মাত্র দুটি শব্দ। কিন্তু এই দুটি শব্দ পড়েই বেলার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেলো। কারণ সে জানে, শাইবান খান সায়র অযথা কারও সঙ্গে কথাবার্তা বাড়ানোর মানুষ নয়। তিনি যখন জানতে চেয়েছেন ‘আপনি কে?’ তার মানে বিষয়টা তিনি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন।
বেলা কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর সাহস করে লিখলো,
—আমি কে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।
মেসেজ পাঠিয়েই নিজের মুখ চেপে ধরল সে। হাসি থামছে না। ক্লাসের মাঝখানে বসে এমন কাণ্ড করছে ভাবতেই নিজের ওপর অবাক লাগছে তার।
কিন্তু পরের মেসেজটা আসতেই তার হাসি মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল। সায়র লিখেছে,
— তো কয়টা সন্তান দিয়েছি তোমার পেটে? টুইন বেবি হবে তো? আমার ডিএনএ কিন্তু খুবই স্ট্রং । আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে রিপোর্টটা নিয়ে সোজাসুজি আমার সঙ্গে মিট করবেন কেমন??
মেসেজটা পড়ে সে যেন রাগে ও বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। মনে হলো শরীরের সব র’ক্ত একসঙ্গে মাথায় উঠে গেছে। চোখ বড় বড় করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল সে।

— এই লোকটা এতোটা ঠোঁট কা’টা সে তো আগে জানতো না। সব মেয়েদের সঙ্গে কি এভাবেই কথা বলে নাকি এই লোকটা?
ওর ভাবনার মাঝে সামনে থেকে সায়র ডেকে উঠে,
— লাস্ট বেঞ্চার মিস বেলা, আপনি দাঁড়ান। একটু আগে আমি কি বুঝেছি সেই সম্পূর্ণ পড়াটা এখন আমাকে বলবেন।
বেলা চমকে গেল। দ্রুত ফোনটা ব্যাগে লুকিয়ে ফেললো। বুক ধড়ফড় করছে। সে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।ক্লাসের সব চোখ এখন তার দিকে। সায়র একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। চোখে কোনো রাগ নেই, কিন্তু এমন একটা গাম্ভীর্য ।সায়র আবার বললো,

— সঙ সেজে দাঁড়িয়ে থাকবে বলেনি । সম্পূর্ণ পড়াটা বলবেন এখন।
বেলা শুকনো গলায় বলল,
—স্যার আমি… আমি একটু
সায়র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
— যা বলার স্পট করে বলুন মিস বেলা।
সে হালকা মাথা নিচু করে বললো,
— আমি পড়া শুনছিলাম কিন্তু ভালোভাবে বুঝিনি।
সায়র অন্য সারির একজন মেয়েকে জিগ্গেস করতেই মেয়েটা সম্পূর্ণ পড়া ভালোভাবে বলে ফেলে। সায়র এবার বেলার পানে চেয়ে বলে,
— ও পারলে আপনি কেন বলতে পারছেন না? আমি তিরিশ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে নিজের শক্তি খরচ করে চিল্লিয়ে পড়ালাম সবাইকে। ক্লাসের সবাই যেখানে সহজ পড়াটা বলতে পারবে সেখানে আপনি পাড়ছে না । পড়া না বুঝলে বুঝিয়ে দিব। কিন্তু ক্লাসে উপস্থিত থেকে অনুপস্থিত হওয়া মতো থাকা এটা বেশি বিপ’জ্জনক। আপনি লো বেঞ্চের উপর কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকুন। ক্লাস শেষ না হ‌ওয়া পর্যন্ত এইভাবেই থাকবেন।আর আগামীকাল থেকে প্রতিদিন আপনি ফাস্ট বেঞ্চে বসবেন ।
বেলা মিনমিনিয়ে বলে,

— স্যার প্লিজ আগামীকাল থেকে শিখে আসবো।
সায়র হাতের ইশারায় বলে,
— স্টপ ইউর মাউথ। যা বলছি তাই করেন।
বেলা উপায় না পেয়ে কানে ধরে দাঁড়ায়। বেঞ্চের উপর দাড়াতেই সায়র চলে যায়। আর এদিকে বেলা সায়রকে মনে মনে ইচ্ছে মতো বকতে থাকে,
— শালা বদ মেজাজি লোক। মুখে জন্মের পর মধু দেয়নি। তিতা করলার মতো কথা বলিস। দোয়া করে দিলাম,তোর ভাগ্য একটা ডা’ইনি ব‌উ জুটবে। যে প্রতিদিন তিনবেলা করে তোকে কেলাবে।

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here