রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ২৯
সিমরান মিমি
শীতের আমেজ আজকাল খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। সকালের মিষ্টি হাওয়া এবং নরম রোদ দুটোই আষ্টেপৃষ্ঠে শরীরকে চমৎকার এক ভালোলাগা উপহার দেয়। স্পর্শীয়া সেই চমৎকার ভালোলাগা টাই উপভোগ করছে। বারান্দায় চেয়ার পেতে পা দুটো গ্রিলে ঠেস লাগিয়ে গান শুনছে আনমনে। সরদার মঞ্জিলের পূর্বকোণে বিশাল ফুলের বাগান। ইদানীং প্রতিযোগিতা নিয়ে গাঁদা ফুল ফুটছে। বাড়ির এপাশ টাতে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায় নিমিষেই। মনে হয় হলুদের ছড়াছড়ি। ফুল বাগানের দিকে তাকিয়ে তৎক্ষনাৎ একটা সিদ্ধান্ত নিলো স্পর্শী। আগামীকাল সকালে সে হলুদ রঙের একটা শাড়ি পড়বে। তারপর দাপিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে ফেলবে। দেখে মনে হবে গাঁদা ফুলের রানী। সে চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলো। মুহুর্তেই কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হলো। চোখ -মুখ বিকৃত হয়ে এলো নিজেকে দেখে। মুহুর্তে’ই সিদ্ধান্ত পালটে ফেললো। না না, হলুদ ফুলের বাগানে হলুদ রঙা কোনো পোশাক পড়া যাবে না। সে বরং আকাশ হবে। আসমানী রঙেরই কোনো হালকা শাড়ি পড়বে। অথবা হয়ে যাবে নীল পরী।
হঠাৎই একটা শালিক ডেকে উঠলো। যেনো সায় জানালো স্পর্শীয়ার ভাবনায়। সাধারণত, শালিক ডাকে কর্কশ সুরে। তবে আজ স্পর্শীর কাছে তেমনটা ঠেকলো না। মনে হলো – এ ডাক কোকিলের চেয়েও সুমধুর।
চমৎকার সকালটা উপভোগ করার এক পর্যায়ে গান বন্ধ হয়ে গেলো। মোবাইলে বেজে উঠলো রিংটোন। পাভেল শিকদার কল করেছে। স্পর্শীয়া রিসিভড না করেই ফোন কোলের উপর রেখে বসে রইলো। মন টা খারাপ হয়ে গেছে এখন। ইচ্ছে হচ্ছে পাভেলের সাথে কথা বলতে। খানিকক্ষণ দূষ্টুমি করতে। কিন্তু মস্তিষ্ক বাঁধা দিচ্ছে। বার বার বোঝানোর পরেও পাভেলের দূর্বলতা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। যত নরম হয়ে বোঝাচ্ছে, ততই যেনো ঝাকিয়ে বসেছে মাথায়।
এদিকে কলের পর কল দিয়ে চলেছে ছেলেটা। কেটে দিতেও কেমন লাগছে। এক পর্যায়ে কি বলবে শোনার জন্য কল রিসিভড করলো স্পর্শী। ঝরঝরে কন্ঠে বললো,
— হ্যাঁ, বল।
— কেমন আছিস? শুনলাম, কাল নাকি এক্সিডেন্ট করেছিস?
— নাহ, করিনি। তবে তোর ভাই না থাকলে হয়তো করতাম।
‘তোর ভাই না থাকলে হয়তো করতাম ’ — বাক্যটুকু একদম স্বাভাবিক। পাভেলের উচিত এ কথা শুনে গর্ব করা, খুশি হওয়া। এটা ভেবে যে, তার ভাই চড়ুই কে বাঁচিয়েছে। কিন্তু সে তা হতে পারছে না। বাক্যটা একদমই অস্বাভাবিক লাগছে। ভাই না থাকলে চড়ুই এক্সিডেন্ট করতো মানে টা কি? আর কেউ কি পৃথিবীতে নেই। কেউ কি বাঁচাতো না ওকে। স্পর্শীয়ার কথা শুনে বোঝা গেলো সে পরশের উপর নির্ভরশীল। বিষয়টা পাভেলের বুকের হাহাকার বাড়িয়ে দিলো। সে বড় একটা শ্বাস নিলো। শান্ত কন্ঠে বললো,
— তা তোদের প্রেম কেমন চলছে।
স্পর্শী অস্বীকার করলো না। পাভেলের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বললো,
— চমৎকার!
—ওহহ! কথা হয়েছিলো সকালে?
— হ্যাঁ, হবে না কেনো? এইতো একটু আগেও কথা হলো। মিটিং এ ছিলো বলে প্রেম ওতোটা জমে নি।
পাভেল খানিকটা থমকে গেলো। পরশ যে মিটিং এ আছে তা সে জানে। তবুও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারনে একটু আগেই কল করেছিলো। কিন্তু সে রিসিভড করেনি। এমনকি দ্বিতীয়বার দেওয়ার পর কেটেও দিয়েছে। অথচ স্পর্শীর সাথে মিটিং চলাকালীন কথাও হয়েছে। সে ঝরঝরে কন্ঠে বললো,
— ওহহ, আমিও কল করেছিলাম। রিসিভড করে নি।
— উহু! করবে কেনো? তুই তো আর তার প্রেমিকা না যে মিটিং চলাকালীন ফোন রিসিভড করবে।
বিষয়টা বেশ তিক্ত লাগলো পাভেলের। তার হিংসে হচ্ছে, সবদিক থেকে। একদিকে তার বড় ভাই মিটিং চলাকালীন তার কল কেটে দিয়ে স্পর্শীয়ার সাথে কথা বলেছে। অপরদিকে তার’ই বেস্টফ্রেন্ড তার সাথে কথা না বলে, তার বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলছে। উফফফ! বেজায় আফসোস হচ্ছে পাভেলের। কেনো যে এই দুজনের আলাপ সে ঘটাতে গেলো!
প্রায় চল্লিশ মিনিট কেঁটে গেছে। মিটিং নিশ্চয়ই এতোক্ষণে শেষ। তবুও পরশ শিকদারের নম্বর থেকে কোনো কল আসছে না। আশ্চর্য! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। তবে কি সে এখনো স্পর্শীয়ার প্রেমে পড়েনি। উফফফ! তাহলে পড়বে কবে? কবেই বা পাগল হয়ে যাবে তার সাথে কথা বলার জন্য। এসব ভেবে অধৈর্য্য হয়ে উঠলো স্পর্শী। এভাবে সেধে সেধে কতক্ষণই বা জ্বালানো যায়। তারও তো একটা আত্মসম্মান আছে নাকি? লোকটা এখনো কাবু হলো না। তাহলে কি পদ্ধতিটা ভুল ছিলো? স্পর্শীয়ার কি অন্য কোনোভাবে ট্রাই করা উচিত। সে আনমনে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করলো। খানিকবাদে কিছুটা গম্ভীরতা মিশিয়ে মেসেজ দিলো পরশের নাম্বারে। লিখলো,
— আপনাকে এভাবে বিরক্ত করার জন্য সরি। একপ্রকার বাধ্য হয়েই এমন উদ্ভ্রান্তের মতো বারংবার জ্বালাচ্ছি। যদি কিছুটা সময় দিতেন, তবে কিছু বলার ছিলো। বেশিক্ষণ লাগবে না, মাত্র পাঁচ মিনিট।
পরশ বসেই ছিলো। মিটিং শেষে নিমজ্জিত হয়ে ছিলো নিজের ভাবনায়। যত দিন এগোচ্ছে, দুশ্চিন্তা ততই প্রখর হয়ে যাচ্ছে। এভাবে শান্ত হয়ে থাকার মতো মানুষ শামসুল সরদার না। নিশ্চয়ই নির্বাচনের পূর্বে তিনি এমন কিছু করবেন, যাতে ভিত নড়ে উঠবে শিকদার দলের। সেসব ঘটনা কৌশল খাটিয়ে পুণরায় সরদার দের দিকে ধাবিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনায় ব্যস্ত সে। স্পর্শীয়ার মেসেজটা দেখলো, পড়লো। একটু অবাকও হলো৷ মেয়েটার মেসেজের ধরন কেমন পালটে গেছে। এর আগে ত্যাড়ামি করলেও এখন ঢের শান্ত মনে হচ্ছে। পরশের চিন্তা পুনর্বার বাড়লো। কপালের চামড়ায় কয়েকটা ভাঁজ ফেলে ভাবলো স্পর্শীর কথা। এমন কি হয়েছে, যার কারনে স্পর্শীয়া সরদার তার কাছে মেসেজ দিতে বাধ্য হয়েছে? তার জানার আগ্রহ বাড়লো। সময় ক্ষেপন না কল করলো নিজে থেকেই। সাথে সাথে রিসিভড করলো স্পর্শী। যেনো ওঁৎ পেতে বসে ছিলো নাম্বারের উপর। কানে নিয়ে শীতল কন্ঠে বললো,
— সরি!
পরশ চমকালো। বললো,
—কেনো?
— তখন ওভাবে বিরক্ত করার জন্য। আমি আসলে বুঝতে পারি নি, আপনি মিটিং এ ছিলেন। বিশ্বাস করুন।
পরশের কেমন অদ্ভুত লাগছে। স্পর্শীয়ার শীতলতা মাখানো নরম কন্ঠস্বর হজম করা যাচ্ছে না। তবুও বললো,
— ইট’স ওকে।
— আপনার কি আমাকে ভীষণ খারাপ মেয়ে মনে হয়?
আবারো সেই উদ্ভট প্রশ্ন৷ পরশ সোজাসাপটা বললো,
— দেখো, তুমি খারাপ বা ভালো — এটা কখনো আমি যাচাই করতে যাবো না। যাচাই করার প্রয়োজনও নেই আমার। তাই প্লিজ, এসব আজগুবি কথাবার্তা বন্ধ করো।
— উহু! আপনিই তো বলবেন। শত্রু যদি ভালো বলে, তবেই তো একজন মানুষের সার্থকতা।
পরশের মেজাজ খারাপ হলো। বললো,
— এইই, লিসেন। তুমি আমার শত্রু নও। ইনফ্যাক্ট তুমি আমার কিছুই নও। জাস্ট একটা অচেনা, উদ্ভট মানুষ। তোমার বাবা আমার রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিরোধী, শুধু এতোটুকুই। এছাড়া আর কোনো সম্পর্ক নেই। বুঝেছো? ফার্দার আর কল করবে না।
— আচ্ছা করবো না।
স্পর্শীয়ার নরম সুর আবারো পরশকে নড়বড়ে করে তুললো। সে চিন্তিতও হলো। মেয়েটার খুব বেশিই জ্বর, নাহলে এমন ভাবে কথা তো সে বলে না। এতোক্ষণে ফাটিয়ে ফেলতো ফোনের স্পিকার। অবস্থা এমন যে সব কিছু মেনে, শুনে স্পর্শীয়া এখনই ফোন কেটে দেবে।
— শোনো, তুমি তখন বললে না আমায় বিরক্ত করার জন্য বাধ্য হয়েছো? সেটা কেনো, উত্তর দাও।
পরশের কন্ঠে উত্তর শোনার চেয়েও কথা বলার তীব্র প্রয়াস। এটা অন্তত স্পর্শীয়ার মনে হলো। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যই তো সে বসে ছিলো। অবশেষে রঙ- ঢং মাখিয়ে বলে উঠলো,
— হ্যাঁ, বাধ্য হয়েছি। আর আমাকে বাধ্য করেছে আমারই মন। আমি অনেক চেষ্টা করেছি নিজেকে সামলানোর। কিন্তু কারোর প্রতি মায়া, টান এসব কি পরিবর্তন করা যায়?
আমিতো পিরোজপুরে বড় হইনি। ছিলাম সাভারে। দীর্ঘ বছর পর ফিরেছি। আমার বাবার শত্রু কে, বন্ধু কে — এসব কিছুই জানি না। জানার কোনো আগ্রহও নেই। কারন এই বিরোধিতা শুধুমাত্র কয়েক ঘন্টার নির্বাচনের জন্য। সেখানে আমি অন্যকাউকে আমার ঘোর তোর শত্রু ভেবে বসে থাকবো, এমন অবুঝ নই। তবে, আপনার উপর বেজায় রাগ হয়েছিলো। যখন শুনেছিলাম, আপনি আমার ভাইয়াকে মেরেছেন। যদিও এরপর কম ঘটনা ঘটে নি। ওসব মনে থাকলেও ভাবি না। তবে কিভাবে যেনো এমন অস্বাভাবিক একটা অনুভূতি জন্মে গেলো। বিশ্বাস করুন, আমি আপনাকে নিয়ে কখনো ভাবিও নি। তারপরেও এমন অনুভূতির কারন খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু জানি আপনাকে বিরক্ত করতে ভালো লাগে। একটু ঝগড়া, অল্পসময় চোখাচোখি আর রাত হলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে ইচ্ছে করে। যদি শুনি কোথাও রাজনৈতিক ভাবে ঝামেলা হয়েছে, তবে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। কেমন আতংক সৃষ্টি হয়। মনে হয় আব্বু নাহলে আপনি — দু দলের কেউ না কেউ তো আহত হবেনই।
আমার অনুভূতি গুলো আপনার কাছে বাচ্চামো মনে হচ্ছে? হতেই পারে। আপনি হয়তো আপনার শত্রুর মেয়ে ভেবে বসে আছেন। কিন্তু আমি তা পারি না। চাইলেও পারি না। আমি শুধু জানি আপনি আমার বাবার প্রতিযোগী। তাই চাইলেও অনুভূতি গুলোকে চাপিয়ে রাখতে পারি না। এবার আপনিই বলুন না আমি কি করবো? আমার কি করা উচিত?
আপনাকে বাধ্য করবো না কখনো। আমার একতরফা অনুভূতি যে বাস্তবায়িত হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনি আপনার মতোই মুক্ত। আর বিরক্ত করবো না। তাছাড়াও কাল বা পরশু ঢাকায় চলে যাবো। আবার কত বছর পর ফিরবো জানা নেই। অবশ্য আপনারা নিজেরাও তো অসন্তুষ্ট। ভেবেছেন, বহুদিন পর আপনার ফুপির মেয়ের অধিকারে ভাগ বসাতে এসেছি। ভালো থাকবেন। কোনো সম্বোধন ছাড়াই অনেক কিছু বলে ফেললাম।যদিও কিছু সম্বোধন করার অধিকার আমার নেই। যাই ডাকি, সেটাই শ্রুতিকটু লাগে। আল্লাহ হাফেজ।
স্পর্শীয়া চোখ -মুখ খিঁচিয়ে ফোন কেটে দিলো। একপ্রকার পটকার মতো ফুলে বসে রইলো চেয়ারে। কি ব্যাপার! এতো সিরিয়াস তো সে কখনো সেমিস্টারের আগেও হয়নি।
আর মাত্র ক’টা দিন বাকি। সময় গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনগুলোতে জনগণের সাথে মিশে থাকতে হবে। একদম কাছ থেকে তাদের অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া বুঝতে হবে। দলের উচ্চপদস্থ বিশ-পঁচিশ জন নেতা নিয়ে গ্রাম ঘুরতে বের হলো পরশ। বড় রাস্তার মোড়ে গাড়ি রেখে তবেই গাঁয়ের মেঠোপথে ঢুকলো। একে একে সকলের সাথে আলাপ করা অসম্ভব। সে জন্যই প্রতিটা গাঁয়ের মেম্বারের সাহায্যে সকল গৃহস্থকে তার বাড়ির উঠোনে জড়ো করে নিয়েছে। এভাবে প্রতিটা সমাবেশে দশ মিনিট করে সময় দিলেই তা যথেষ্ট হয়। দু- তিনটা গ্রামে আলাপ- আলোচনা সেরে ফিরে আসার সময়েই বাঁধে তুলকালাম কান্ড। গ্রামের সরু মেঠোপথে সামনা-সামনি দেখা হয় পরশ শিকদার ও শামসুল সরদারের। পরশ ঘাড় কাত করে সূজনের দিকে তাকায়। চোখ রাঙিয়ে চাপা কন্ঠে বলে ওঠে,
— শামসুল সরদার এখানে আসবে, সেটা না জেনে-শুনে কেনো নিয়ে এসেছিস?
সুজন মাথা নিচু করলো। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ
করে বলে উঠলো,
—ভাই, আল্লাহর কসম! আমি কিছু জানতাম না। জানলে নির্বাচনের আগে আগে এই বান্দার মুখ আপনারে দেখাইতাম না।
অন্যদিকে শামসুল সরদারও ক্রোধে ফেটে পড়েছেন বাহারের উপর। দেখাই যাচ্ছে সে যে গ্রামে ঢুকবে, সে গ্রামে ইতোমধ্যেই ঘুরে এসেছে পরশ। অথচ সে মাত্র যাচ্ছে। এটা বড্ড অপমান জনক। নেশাখোরের বাচ্চাটা খোঁজ খবর না নিয়েই তাকে নিয়ে এসেছে। আহাম্মক!
চাঁর ফুট প্রশস্ত একটা কাঁচা রাস্তা। একপাশে বিশ – ত্রিশ জন লোক সহ শামসুল সরদার দাঁড়িয়ে, অন্যদিকে বিশ-পঁচিশ জন লোক নিয়ে পরশ শিকদার দাঁড়িয়ে আছে। দু দলের মধ্যে প্রায় পাঁচ ফুট দূরত্ব। ক্ষেপে আছে দু দল। যেকোনো সময় দু পক্ষ থেকে আক্রমণ শুরু হয়ে যেতে পারে। পরশ হাত উঁচিয়ে নিজ দলকে শান্ত হওয়ার ইশারা দিলো। শামসুল সরদার নিজেও শান্ত হওয়ার পরামর্শ দিলো দলকে। যদি অপরপক্ষ আক্রমণ না করে, তবে নিজে থেকে আক্রমণ করে নির্বাচন আসার আগে আগেই কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না। তবুও এভাবে চুপচাপ বসে থাকার মতো ব্যক্তি তিনি নন। পরশের উদ্দেশ্যে তাচ্ছিল্য করে বললেন,
— অবশেষে ভোট ভিক্ষা করার জন্য গ্রামে নেমেই পড়লে! কি ভেবেছো, এতে শামসুল সরদারকে হারাতে পারবে?
পরশ ক্রুর হাসলো। বললো,
— এতে যদি লাভ নাই’ই হতো, তবে কি পনেরো বছর ধরে গদিতে আটকে থাকা শামসুল সরদার নিজের বৃদ্ধ শরীরটাকে টেনে গ্রামে আনতেন?
শামসুলের মুখ টা থমথমে হয়ে গেলো। তিনি কঠোর দৃষ্টিতে পরশের দিকে চাইলেন। সাবধান করে বললেন,
— তবে এই কথাটা তোমার মাথায় ঢুকিয়ে নাও। পনেরো বছর ধরে পিরোজপুর শাসন করছি। আর সেই শামসুল সরদারের বিরুদ্ধে তুমি এইটুকু একটা দল নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছো। আদৌ কি টিকতে পারবে?
— সেটা নাহয় ভোটের দিনই বোঝা যাবে।
— এতো আত্মবিশ্বাস? শামসুল সরদারের বিরুদ্ধে লড়ার এতোই উন্মোদনা। আমি যত বছর ধরে রাজনীতি করছি, তোমার বয়সও ততো বছর নয়। হেরে গেলে তোমার কি অবস্থা হবে ভেবে দেখেছো?
পরশ হাসলো। কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— কি হবে?
শামসুল অবাক হলেন। দাঁতে দাঁত চেপে ক্রোধ সংবরণ করে বললেন,
— তোমাকে সহ, তোমার এই চুনোপুটিদের শহর ছাড়া করবো।
— আর জিতে গেলে?
পরশের আত্মবিশ্বাস দেখে বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকালেন শামসুল। পরশ পুণরায় নিজের কথার জের ধরে হেসে বললো,
— জিতে গেলে মেয়ের জামাই বানাবেন?
কঠোর চোখে তাকালেন শামসুল। বজ্রকন্ঠে শাসিয়ে বলে উঠলেন,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ২৮
— পরশ!!!!!
পরশ এবারেও হাসলো। গা জ্বালানো সেই হাসি। বললো,
— আরে রেগে যাচ্ছেন কেনো? কথা দিন, জিতলে মেয়ের জামাই বানাবেন। তাহলে নাহয় আজ থেকেই আঁটঘাট বেঁধে নামবো।
