Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৪
সিমরান মিমি

-হয়েছে টা কি? এতো চেঁচামেচি কিসের?
শামসুল সরদারের তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বর শোনা গেলো। কিছুটা ধমকের সুরে বলেছেন তিনি। আর্শিয়া সরাসরি দৃষ্টি ফেললো বাবার দিকে। সে নিজের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চেঁচামেচি শুনেই বেরিয়েছেন বাইরে। ক্ষীণ হাসলো আর্শি। দু – পা সামনে এগিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললো,
– ওহহ! অবশেষে আপনি কিছু শুনতে পেলেন। ভালো লাগছে দেখে। ভেবেছিলাম এ বাড়ির সবাই বধির।
মেয়ের ত্যাড়ামির সুরে বলা কথাটুকু শ্রবণ হতেই গর্জে উঠলেন শামসুল। পুণর্বার ধমক দিয়ে বললেন,
– চুপ করো। বেয়াদবির সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে গেছো তুমি। আর সহ্য করবো না।
– সত্যিই কি তাই? আমি বেয়াদবি করছি? অথচ আপনার ভাইপো’রা যে অসভ্যতা করছে সেসব চোখে পড়ছে না। যখন তখন হুটহাট রুমে ঢুকে পড়ছে অনুমতি ছাড়াই।
আর্শির রুম থেকে নত মস্তকে বেরিয়ে এলো রুহান। শামসুল সরদারের সামনে এসে নিম্নস্বরে বললো,

– কাকা, দোষটা আমার। মোবাইলে চার্জ নিচ্ছিলো না, তাই ওর টা নিতে এসেছিলাম। বাথরুমে ছিলো বলে আর অনুমতি নিতে পারি নি। ওকে কিছু বলো না।
এরপর আর্শির দিকে তাকিয়ে বললো,
– আর্শি, ভুল টা আমার। সরি! এভাবে চেঁচামেচি করো না।
রুহানের আচরণে বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকালো আর্শি। এই ভালোমানুষি টুকুই সহ্য হয় না তার। এরকমই ঘটে এসেছে শুরু থেকে। শামসুল সরদার নিজেও এমন কথায় গলে যাবেন। ভুলেও যাবেন ঘটনা গুলো। আর্শি কিঞ্চিৎ সময়ও আর ব্যয় করলো না। চুলে পেঁচানো তোয়ালে খুলতে খুলতে রুমের মধ্যে ঢুকে গেলো। দরজাটাকে জোর দিয়ে ধাক্কা মারলো, যেনো শব্দ টুকু সকলের কানে যায়। ধড়াম শব্দে আটকে গেলো দরজা।
অপরাহ্ণের সমাপ্তি লগ্ন। পশ্চিমাকাশে ভাসমান রয়েছে লালাভ রেখা। একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে। বিভীষিকাময় অন্ধকার ছড়িয়ে পড়বে ধরণী কুলে। একটানা লম্বা সময়ের জন্য ঘুম দিয়ে মাত্রই উঠলো সোভাম। চোখ মুখ ফুলে ফেঁপে লাল হয়ে আছে। মাথার এলোমেলো চুল গুলো দেখে মনে হচ্ছে ভাসমান কচুরিপানা। মনে হচ্ছে এখনো সম্পূর্ণ ভাবে ঘুম কাটে নি। ইচ্ছে হচ্ছে আরো ঘন্টা খানেক উপুড় হয়ে থাকতে। কিন্তু সময় নেই। আট টায় অনলাইন কোচিং রয়েছে ইন্টারমিডিয়েট স্টুডেন্টদের জন্য। সামনেই সেকেন্ড ইয়ারদের ফাইনাল এক্সাম। পেইজ টাকে আগাতে গেলে এই মুহুর্তে প্রতিদিন ক্লাস করানো উচিত।

আজ দুপুরে আর খাওয়া হয় নি। সকালে অফলাইন ক্লাস করিয়ে চিত্ত ফাঁটানো রৌদ্রে দহন হয়ে বাসায় ফিরেছে। পানি খেয়ে বুক ভিঁজিয়ে পরপরই ঢুকেছে গোসলে। ঢাকার আবহাওয়া আজকাল ভীষণ উত্তপ্ত। একটানা বৃষ্টি বা বন্যার পূর্বে যখন অসহনীয় ভাঁপসা গরম পড়ে, ঠিক তেমন। গোসল শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রুমে ঢুকে দরজা আটকে ঘুমিয়েছে।
ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখে বিভ্রান্ত পায়ে দরজা খুললো সোভাম।
শব্দ শুনে এদিকে মাথা ঘোরালো স্পর্শী। সে বসে ছিলো সোফায়। সোভাম কে দেখতেই চোখ – মুখ বিকৃত হয়ে গেলো। সেই দুপুরের দিকে ফটো সেন্ড করেছে সে, অথচ সিন তো দূর – লাইনেই ছিলো না সোভাম। ভার্সিটি থেকে আসার পর থেকেই দরজা বন্ধ। কয়েকবার ধাক্কা ও দিয়েছে জোরে, কিন্তু কেউ খোলে নি। পিপাসা শেষে বিরক্ত হয়ে বলেছে,

– ঘুমাক ! জ্বালাস না, শেষে রেগে যাবে।
সোভামকে দেখে চোখ ঘুরিয়ে নিলো স্পর্শী। অন্যদিকে তাকিয়ে রুক্ষস্বরে বললো,
– তুই পাঠার মতো ঘুমিয়েই থাক, এদিকে তোর পাঠী ভেগে গেলো আরেকজনের সাথে।
কপাল কুঁচকে তাকালো সোভাম। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে এসে চুল ধরে টান মারলো। শাঁসিয়ে বললো,
– খবরদার! তোর এই বাঁশের গলার আওয়াজ যদি আম্মুর কানে যায় – খুব খারাপ হয়ে যাবে। আর… আর ভাগছে মানে কি? মাত্র ঘুম থেকে উঠছি, জ্বালাস না।
স্পর্শী বিরক্তিকর দৃষ্টিতে সোভামের দিকে তাকালো। কিছুটা গম্ভীরমুখে বললো,
– হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ চেক কর। সেই এগারোটায় পাঠিয়েছি।
কেমন যেনো অনুভূব হলো সোভামের। কিছুটা শূণ্যতা মাখানো অস্থিরতা হানা দিয়েছে মনে। স্পর্শী মিথ্যে বলার মেয়ে নয়। হয়তো বলার ধরণটা আলাদা। কিন্তু তাই বলে বানিয়ে বলবে না। কিছু তো একটা ঘটেছেই। জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভিঁজিয়ে রুমে ঢুকলো। ফোন নিয়ে চ্যাট লিস্টে ঢুকতেই অনুভূতি শূণ্য হয়ে গেলো। হাত ধরে দিশা অপরিচিত এক যুবকের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে খুব একটা দুরত্ব নেই। মনে হচ্ছে অনেক দিনের পরিচিত। সোভামের গলা শুকিয়ে এলো। এতোটা কাছে তো সেও কখনো যায় নি। খুব বেশি হলে হাত ধরে ফুটপাতে হেঁটেছে, তাও মাঝখানে অনেকটা দূরত্ব নিয়ে।
সোভামের দরজা খোলা। স্পর্শী ভাইয়ের পিছু পিছুই এসেছে৷ বুকে হাত বেঁধে নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছি। কিছুটা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে ফোন থেকে চোখ নামিয়ে বোনের দিকে চাইলো।

—আমি ওতোকিছু জানি না। দেখে প্রেমিক-প্রেমিকা বিহীন অন্য কিছু মনে হয় নি। হয়তো জানতো না ওটা আমার ক্যাম্পাস। ছবি তুলে যখন কাছে গেলাম, তখন পুরো ফেইস আতংকে লাল হয়ে গেছিলো। যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। চলে এসেছি চুপচাপ।
সোভামের চোখ-মুখ রাগে লাল হয়ে এসেছে। থরথর করে কাঁপছে যেনো। স্পর্শী বুঝতে পারলো সবটা। ভাইকে এখন স্পেস দেওয়া প্রয়োজন। ভেবেই চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
স্পর্শীর রুম ত্যাগ করার পর পরই দরজা আটকালো সোভাম। কল লাগালো দিশার নম্বরে। তার ফোনকল পেয়ে আতংকে দাঁড়িয়ে পড়লো দিশা। ভেবেছিলো তখনই ফোন আসবে। কিন্তু সারাদিনেও আশানুরূপ কিছু না হওয়ায় আরো ঘাবড়ে গেছিলো। ফোন টা ধরতেও এখন কেমন লাগছে। সোভামকে তো সে ভয় পায় না। কিন্তু তাও কেনো এমন অনুভুতি হচ্ছে? শুধু কি নিজের ভালোবাসা হারানোর ভয়?
নিজেকে সামলে খানিকক্ষণ সময় নিলে কল রিসিভড করলো দিশা।
সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, তবু সোভামের মুখে কোনো শব্দ নেই। শুধু শান্ত ভঙ্গিতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দিশার দিকে। এই শান্ত চাহনিতে আরো ঘাবড়ে গেলো দিশা। নিজে নিজেই বলে উঠলো,

– কি দেখছো ওমন করে?
-আগে তো কখনো প্রশ্ন করো নি। এখন দেখতে মানা নাকি?
কেঁপে উঠলো দিশা। কেমন যেনো কান্না পাচ্ছে খুব। নিজেকে যথাসম্ভব সামলে কাঁপা স্বরে বললো,
– এমন ভাবে কেনো বলছো? শোনো, আমি সবটা বলছি তোমায়। প্লিজ রাগ করো না।
এতোক্ষণে পলক ফেললো সোভাম। দিশার দিকে তাকিয়ে আহত বাঘের মতো বললো,
– আমি কি কখনো তোমায় এই নামমাত্র সম্পর্কে থাকতে জোর করেছিলাম? তাহলে কিসের এতো অভিনয়। তুমি স্বেচ্ছায় চলে যেতে চাইলেও তো কখনো বাঁধা দিতাম না। এভাবে লুকোচুরির কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? আমার ছোট বোনের সামনে আমায় কতটা লজ্জিত করলে তোমার ধারণাও নেই। কেনো করলে?
ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো দিশা। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে সারাদিনে কম কাঁদেনি। সোভাম তাকিয়ে আছে একইভাবে। একসময় আর চুপ থাকতে পারলো না দিশা। আর্তনাদ করে বলে উঠলো,

– তোমরা সবাই চারপাশ থেকে এমন ভাবে আমায় মেন্টালি টর্চার করছো যে কোনো সময় মরে যেতে দ্বিধা করবো না। জবাবদিহি চাইছো? কোন মুখে চাইছো? এক বার ও ভেবেছো আজ সম্পর্কের কত বছর হলো? সোভাম, দু বছর পর আমার বয়স ত্রিশে পড়বে, অথচ এখনো অবিবাহিত। তুমি জাস্ট ইমাজিন করতে পারবে, তোমার চাকরির জন্য কি ঝড় যাচ্ছে আমার উপর থেকে। তারপরেও আমি সার্থপর! আজ একটা ছেলেকে দেখে ভেবেই নিলে কতকিছু। একবার ও জিজ্ঞেস করলে না ছেলেটা কে ছিলো? বরং সরাসরি জানতে চাইছো কেনো ঠকিয়েছি। কি অদ্ভুত সম্পর্ক আমাদের তাই না? শোনো, আমি আর পারছি না। এতো প্রেশার নিতে নিতে কোনো এক দিন দেখবে স্ট্রক করে মরে গেছি নাহয় পাগল হয়ে গেছি। বাবা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে, একদম ফাইনাল। ওই ছেলেটা সেইই ছিলো। আমরা এ নিয়ে চার দিন দেখা করেছি। ওর সাথে খুব ভালো একটা ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক হয়েছে। বুঝিয়ে তোমার কথা বললে নিশ্চিত সাহায্য করবে। শোনো, কাল সকালে তুমি আসবে। তোমায় নিয়ে আব্বুর কাছে যাবো। চাকরি – টাকরির আর প্রয়োজন নেই। ওটা আব্বু মেনেজ করবে। তুমি শুধু তার কথা শুনে চলবে।
প্রথম দিকে কথাগুলোতে ঠিক যতটা কষ্ট লেগেছে, তার থেকেও বড় ধাক্কা খেয়েছে শেষের কথাটায়। কিছুটা কৌতুহলী কন্ঠে সোভাম জানতে চাইলো,

– তোমার বাবার কি কথা শুনে চলবো?
গম্ভীর হয়ে গেলো দিশা। পরক্ষণেই কন্ঠে কাতরতা এনে বললো,
– প্রতিটা বাবা-মা’রই কিছু স্বপ্ন থাকে। কিন্তু আমার বাবার স্বপ্ন বলতে পুরোটাই আমি। তারা বড্ড অসহায় সোভাম, ওদের ছেলে নেই। ভবিষ্যৎ বলতে আমি একাই। বিশ্বাস করো, আমার বাবা- মায়ের কোনো চাহিদা নেই। শুধু ওরা একটা ছেলে চায়। তুমি বিয়ের পর আমার সাথে আব্বু- আম্মুর সাথে থাকবে। ওদের একটু বাবা- মায়ের মতো যত্ন নিবে। এতোটুকুই!
দীর্ঘশ্বাস ফেললো সোভাম। বললো,
– আর আমার মা – বোন?
– ওদের তো ফেলতে বলছি না আমি। ওদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ তোমার। শুধু থাকবে আমাদের সাথে, এখানে।
সোভাম তাচ্ছিল্যের সুরে হাসলো। বললো,
– তোমার বাবার যদি এটাই চাহিদা হয়, তাহলে আমার মায়ের চাহিদা ও শোনো। ও একটা লক্ষী বউ চায়। মেয়ের বিয়ের পর একমাত্র ছেলে-বউকে নিয়ে বাকিটা জীবন বাঁচতে চায়।
থেমে শান্ত কন্ঠে,

– তোমার কথা আমি বুঝতে পারছি। একমাত্র মেয়ে হিসেবে নিজের বাবা- মা কে নিয়ে চিন্তিত আছো। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আমি কথা দিচ্ছি, তোমার বাবা-মায়ের খেয়াল রাখবো আমি। তাদের যথেষ্ট যত্ন করবো। কিন্তু ঘর জামাই হিসেবে থাকা সম্ভব না। কখনোই না। যদি এটা তোমার বাবা মেনে নেয়, তাহলেই কাল যাবো। নয়তো না।
রেগে গেলো দিশা। হিংস্র কন্ঠে বললো,
– কেনো বুঝতে চাইছো না তুমি? ওরা একজন ঘরজামাই চায়, আর সেটা পেয়েও গেছে। তোমার এই কথা কিছুতেই মানবে না। শোনো না, প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো। সোভাম, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। কত বছরের সম্পর্ক, কতটা অপেক্ষা! শেষ মুহুর্তে আমায় খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না। মরে যাবো। শোনো, আমরা যাবো তো তোমার মায়ের কাছে বেড়াতে। প্রয়োজনে আন্টি এসে থাকবে আমার মা-বাবার কাছে, আমাদের কাছে।
সোভাম আবারো শব্দ করে হাসলো। বললো,
– তোমাদের বাসায় থাকবে আমার আম্মু? তুমি ওনার আত্মসম্মান সম্পর্কে কিছু জানোই না। প্রাসাদ ছেড়েছে শুধুমাত্র নিজের আত্মসম্মানের কারনে। সেখানে ছেলের শশুরবাড়ি গিয়ে থাকবে। হাস্যকর!
– তাহলে ভেবে নাও, তুমি আমাকে হারিয়েছো। বিয়ে দিয়ে দিবে আমায় খুব শীঘ্রই।
দিশা ভেবেছিলো সোভাম ভয় পাবে তাকে হারাতে। কিন্তু তার ভাবনাকে সম্পুর্ণ ভুল প্রমাণিত করে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,

– আমাদের সম্পর্ক টা এখন তোমার উপর ডিপেন্ড করছে। এখানে আমার জোর করার কোনো স্থান রাখো নি। বিষয়টা তোমার বাবা- মাকে নিয়ে। একমাত্র মেয়ে হিসেবে যদি তুমি ভেবে থাকো পরিবারের স্বার্থে এমন কোনো ছেলে প্রয়োজন, যে ঘরজামাই থাকবে – তাহলে বিয়ে করে নাও। আর যদি মনে বিষয়টা শুধুমাত্র বাবা-মায়ের দেখাশোনা, যত্নের জন্য – তাহলে আমার কাছে ফিরে এসো। অপেক্ষায় থাকবো। কিন্তু আমি কখনোই আমার মাকে ছেড়ে ঘরজামাই থাকতে পারবো না। তুমি এতো বছরেও চিনতে ভুল করেছো আমাকে।
চোখ মুছে সরাসরি তাকালো দিশা। শক্ত কন্ঠে বললো,

– বেশ! যেহেতু দুজনের’ই পরিবারের স্বার্থ জড়িয়ে, তাহলে এখানেই সমাপ্তি। মা- বাবা তো সেই আমার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছে, কি করে তাদের ফেরাই? তো মিঃ সোভাম সরদার, এখানেই তাহলে সমাপ্তি।
সোভাম চুপ করে রইলো। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে গলা ঝেড়ে কম্পনরত কন্ঠে দিশা বললো,
– তুমি আমার অনেক শখের ছিলে। কিন্তু কি আর করবো? বাবা মায়ের থেকে তো আর শখ টা বড় হতে পারে না! কি অদ্ভুত! আজ কতগুলো বছর ধরে চেষ্টায় ছিলাম – তুমি আমার মায়ায় পড়বে, আর আমাকে হারানোর ভয়ে বাবার কথা মেনে আমাকে তোমার সাথে জড়িয়ে নেবে। কিন্তু শেষ অবধি সব উলটো ঘটলো। আচ্ছা, আমার মায়া কি তোমায় একটুও হৃদয় ছুঁতে পারে নি?

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৩

এই প্রশ্নের উত্তর সোভামের কাছে নেই। সে দিতে পারবে না। কেমন হাহাকার করছে বুকটা। সবিকিছু শূণ্য লাগছে। এতো শখের সম্পর্ক গুলোর পরিণতি কেনো এমন হয়? অবশেষে এই ছোরাঘাতের ন্যায় প্রশ্ন গুলো থেকে পালাতে সোভাম নিজেই ফোন কেটে দিলো। সুইচ অফ করে আবারো অন্ধকার করলো রুম। বন্ধ করলো চোখ। কিন্তু ঘুম তো আর আসে না।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৫