রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৮
সিমরান মিমি
শীতের সূচনালগ্ন। আবহাওয়া এখনো নাতিশীতোষ্ণ। রাতের ঠান্ডা’টা এখনো কম্বল গায়ে দেওয়ার মতো হয়ে ওঠেনি। শুধুমাত্র শেষ রাতে পাতলা একটা কাঁথা জড়ানোর ন্যায় পড়েছে। খুব ভোরে হালকা কুয়াশা, সারা দিনে মিশ্র আবহাওয়া, এটুকুতেই থমকে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। বেলা এখন প্রায় বারোটা। হয়তো মিনিটের আর পাঁচ ঘর বাকি। সোভাম সরদার মনোযোগী হয়ে এটেন্ডেন্স নিলেন শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন দুটো ক্লাস নিতে হয় তাকে। সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে একাদশ শ্রেণির ক্লাস। এরপর এক পিরিয়ড বিরতির পরে দুপুর ১১ টা ৪৫ এ দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস। কখনো কখনো রুটিন অনুযায়ী একটা ক্লাসও পড়ে। কিন্তু আজ তেমনটি হলো না।
উপস্থিতি নেওয়ার পর পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। নাহ,নেই। সেদিনের সেই মেয়েটা আজকেও ক্লাসে আসে নি। বিরক্তিতে সেকেন্ড খানেক চুপ করে শিটের দিকে চেয়ে রইলো। রোল নং ১১৯ এর সামনে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা আছে নামটি – আর্শিয়া সরদার। সরদার সার নেইম দেখে সোভাম থমকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। বুঝতে আর অসুবিধে হলো এই সেই ধ্বংসাত্বক মেয়ে। যার কারনে, যার আগমনে তাদের জীবনটা অন্ধকার হয়ে গেছিলো। সাজানো সুন্দর সংসারটা ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়েছিলো চারদিকে। ক্লাসের সময়, অতীতে ফিরে যেতে আর ইচ্ছে করলো না সোভামের। ভারী একটা নিঃশ্বাস নিয়ে স্টুডেন্ট দের দিকে তাকালো। সেদিনের পর আজ তিনদিন কেটে গেছে আর্শিয়া ক্লাসে আসে না। কিছুটা খারাপ লাগাও কাজ করলো সোভামের। আজ আর চুপ থাকা যাচ্ছে না। গম্ভীর আওয়াজে জিজ্ঞেস করলো,
– সেদিনের সেই মেয়েটা কি ক্লাসে আসে না? আর্শিয়া সরদার…..
চোখের আকৃতি বড় করে চাইলো প্রেমা। কিছুটা রাগও লাগলো। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল সে। স্যারের খেয়াল থাকবে তার প্রতি। তা না করে কি করে ফেইল করা এক মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করলো সোভাম স্যার? কই, প্রেমাও কাল ক্লাসে আসতে পারে নি। জিজ্ঞেস করেছে কি তার কথা? করে নি তো। তবে শুধু আর্শিই বা কেনো?
ব্যক্তিগত ভাবে আর্শিয়ার প্রতি কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই প্রেমার। বরং তার তো মায়া হয়। বাবা, ভাইয়া বলেছে একটু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে। তার সাথে কথা বলতে, বাড়ি নিয়ে আসার চেষ্টা করতে। কিন্তু এই বদমেজাজি, অদ্ভুত মেয়েটা তো তার সাথে কথাই বলে না। এমনকি নিজে থেকে বলতে গেলেও উত্তর দেয় না। এটা যে শুধু প্রেমার বেলায় তাও নয়। বাস্তবিক ভাবে ক্লাসরুমের কারোর সাথেই ওর সখ্যতা নেই। একা একা আসে, ইচ্ছে হলে ক্লাস করে, না হলে বেরিয়ে যায় বাইরে। একা একা মন খারাপ করে বসে থাকে। কখনো সিঁড়ির ধারে বসে নিচতলার দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো ছাঁদে উঠে ঝুঁকে নিচে তাকায় – যেনো এই লাফ দিয়ে দেবে। আবার কখনো কখনো পুকুরপাড়ে গিয়ে পানির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকায়। সেসব তার ইচ্ছে, এ নিয়ে কোনো আপত্তি নেই প্রেমার। কিন্তু সোভাম স্যার এটা কি করলো? ক্লাসরুমের সবাই জানে স্যার প্রেমার পরিচিত। সেক্ষেত্রে প্রেমা ক্লাস মিস দিলে কিছু এসে যায় না, অথচ ক্লাসে ক্লাসের ফেল্টুশ মেয়ে আর্শি মিস দিলে সোভাম স্যার ব্যাকুল হয়ে যায়। কি অপমান!
সোহা তার প্রেমার দিকে তাকায়। কিছুটা অবাক হয়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়,
– স্যার, ও তো এমনই। যখন ইচ্ছে হয় ক্লাস করে, নাহলে না। আপনি এতোসব চিন্তা করবেন না। ক্লাস শুরু করুন।
অন্য সারি থেকে লিমন বলে উঠলো,
– স্যার ও কলেজে আসে। কিন্তু আপনার ক্লাস আর করবে না। ঘন্টা পরার সাথে সাথেই বেরিয়ে গেছে। সিঁড়ির ধারে দেখলাম। পরের পিরিয়ডে ঠিক চলে আসবে।
মেজাজ হারালো সোভাম। বললো,
– যাও, ডেকে নিয়ে আসো। বলো – আমি ডাকছি। এক্ষুণি যেনো ক্লাসে আসে।
সোহা আর প্রেমা বের হলো বেঞ্চের বাইরে। ক্ষুব্ধ পায়ে থেমে থেমে এগিয়ে গেলো। খানিকক্ষণ বাদে প্রেমা এসে বললো,
– স্যার, ও আপনার ক্লাস করবে না বলেছে।
বড় বড় পা ফেলে বাইরে বের হলো সোভাম। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সিঁড়ির দিকে তাকালো। উচ্চ আওয়াজে বললো,
– তোমাকে ক্লাসে আসতে বলেছি না আমি? টেনে- হিঁচড়ে আনতে হবে নাকি?
অপমানিত হলো আর্শি। ক্ষুব্ধ পায়ে এগিয়ে এলো ক্লাসে। বারবার বেঞ্চে বসতে বললেও বসলো না। মাথা নিচু করে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইলো। চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে।
সোভাম ধমক মেরে ক্লাসের সবার সামনে বললো,
– ক্লাসে আসতে বলার পরেও কেনো আসোনি? এতোটা তেজ কার সাথে দেখাচ্ছো? টিচারের সাথে। এতোবার কেনো বসতে বলতে হবে। নিজেকে কি স্পেশাল কিছু ভাবো যে স্পেশাল ট্রিট করতে হবে? এমপির মেয়ে হয়েছো বলে টিচারদের সম্মান করতে ভালো লাগে না? শোনো, সেকেন্ড টাইম তোমার বাবার এই ক্ষমতার দাপট ক্লাসের বাইরে রেখে তারপর ঢুকবে। নাহলে আর কলেজেই আসবে না।
রাগে হাত-পা কাপছে আর্শির। ক্লাসসুদ্ধ সবাই বাকরুদ্ধ। হা হয়ে তাকিয়ে দেখছে আর্শির অপমান। তার চোখ দুটো দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। কাঁধের ব্যাগ টা দুহাত দিয়ে খামচে ধরে আছে। সোভাম পুণরায় জিজ্ঞেস করলো,
– এ তিনদিন ক্লাস করোনি কেনো?
মাথা নিচু করেই ক্ষোভ নিয়ে উত্তর দিলো আর্শি। শক্ত কন্ঠে বললো,
– আপনার ক্লাস আমার ভালো লাগে না।
মুখের উপর এমন জবাব পেয়ে নিস্তব্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো সোভাম। রাগে ধমক ছুড়ে বললো,
– তাহলে এক্ষুণি চোখের সামনে থেকে বের হও।
দাঁড়িয়ে পড়লো প্রেমা। কিছুটা নিচু গলায় অনুরোধের সুরে বললো,
– স্যার প্লিজ, ওকে কিছু বলবেন না। ও একটু এমনই!
এক পলক তাকিয়েও চোখ সরিয়ে নিলো সোভাম। তাকিয়ে দেখলো আর্শি চলে যাচ্ছে ক্লাসের বাইরে। অবাক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে বললো,
– কাল থেকে তোমাকে আমার ক্লাসে না দেখলে, অভিভাবকের কাছে নোটিশ যাবে।
কানে নেওয়ার প্রয়োজন ও করলো না আর্শি। সোজা চলে গেলো নিচতলায়। কান্না পাচ্ছে ভীষণ। এতোগুলো স্টুডেন্টের মধ্যে তাকে অপমান করলো। সে নাকি বাপের ক্ষমতা দেখায়। আদৌ কি এটা করে আর্শি? সেতো বাপকেই ঘৃণা করে। সেখানে তার ক্ষমতার দাপট কি করে দেখাবে?
ডান হাতের আঙুল দিয়ে কপাল ঘষে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো সোভাম। সামনের দিকে তাকিয়ে পুণরায় অবাক হলো। প্রেমার চোখ ভরা পানি। মাথা নিচু করে মলিন মুখশ্রী নিয়ে তাকিয়ে আছে বইয়ের দিকে। যেনো বেজায় কষ্ট পেয়েছে।
– কি হয় তোমার?
প্রেমা চমকে উঠলো। লজ্জা পেয়ে চোখের পানি মুছে নিলো। বললো,
– ফুপাতো বোন!!
টিচার্স রুমে বসে আছে সোভাম। কিছু ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। ইচ্ছে করছে এক্ষুণি অধ্যক্ষকে বলে নোটিশ পাঠাতে। পরক্ষণেই মস্তিষ্ক বাঁধা দিচ্ছে। ব্যক্তিটাকে মনে নেই। চেহারাটাও চোখের সামনে ভাসে না আর। কতটুকুই না আর ছিলো সে! এখন হুট করে এতো তাড়াতাড়ি সামনাসামনি দেখার চেয়ে অপরিচিতই না হয় থাক। না চেনা হলো, না চিনচিনে ব্যথা হলো।
দপ্তরির ডাকে হুশ ফিরলো সোভামের। জিজ্ঞেস করতেই সে
বললো,
– আপনাকে অধ্যক্ষ স্যার ডাকে, স্যার!
কপাল কুঁচকে ফেললো সোভাম। খানিকক্ষণ ভেবে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে গেলো অধ্যক্ষের রুমের দিকে। ভেতরে ঢুকতেই অধ্যক্ষ সাহেব বিনয়ের সাথে বসতে বললেন। সোভাম বসলো। মফিজুর রহমান ধীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
– কেমন আছেন, স্যার? কলেজ কেমন লাগছে?
সোভাম বিনয়ের সাথে হেসে উত্তর দিলো,
– জ্বী, ভালো লাগছে।
– পড়াতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো? কিছু লাগলে জানাবেন?
– জ্বী!
অধ্যক্ষ সাহেব সোভামের দিকে চাইলেন। হাতের ফোনটাকে নাড়াতে নাড়াতে বললেন,
– কিছুক্ষণ আগে এমপি সাহেব ফোন দিয়েছিলেন। সামনে নির্বাচন, এর মধ্যেও তিনি আমায় ফোন দিয়ে আপনার কথা জিজ্ঞেস করলেন। ব্যাপারটা একটু সন্দেহজনক। যাই হোক, সন্ধ্যায় সরদার বাড়িতে গিয়ে শামসুল সরদারের সাথে একটু দেখা করে আসবেন। বুঝেছেন?
সোভাম মাথা নাড়ালো। বুকের ভেতরটা কেমন ধরফর করে উঠলো। অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে বললেন,
– স্যার, আমি একজন শিক্ষক। যতদুর জানি, তার মেয়ে এই কলেজেই পড়ে। ব্যক্তিগত ভাবে তাকে চিনি না। তাই বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না। যদি আমাকে তার কোনো কিছু বলার থাকে তাহলে কলেজে আসতে বলুন।
অধ্যক্ষ সাহেব মুখ কালো করলেন। কিছুটা উচ্চস্বরে তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন,
– চার দিনের শিক্ষক আপনি।
থেমে শান্ত গলায় বললো,
-স্টুডেন্টদের থেকে শুনেছি, অত্যন্ত ভালো পড়ান। আপনার খুব তাড়াতাড়ি বদলি হোক, এটা আমি চাই না। শুনুন, সূদুর ঢাকা থেকে এসেছেন – এভাবে স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়লে চলবে না। সন্ধ্যায় আপনি অবশ্যই যাবেন, এটা আমি চাই।
নিরব হয়ে শুনলো সোভাম৷ অধ্যক্ষের কথা শেষ হলে চুপচাপ বেরিয়ে এলো কোনো উত্তর না দিয়েই। বাড়িতে আসার পর থেকে ভেবে যাচ্ছে। একের পর এক চিন্তা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। সরদার বাড়িতে গিয়ে শামসুল সরদারের সাথে কিভাবে মুখোমুখি হবে সোভাম? সেই অসম্ভব দৃশ্যটা কল্পনা করলেই হৃদয় থমকে যায়। আবার না করেও উপায় নেই। এতো সাধনার চাকরি টা এভাবে শুরুতেই হারালে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। মা ভেঙে পড়বে। সারা বিকেল চিন্তা-ভাবনা করে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো সোভাম। সে যাবে সরদার বাড়িতে , থোরাই পরিচয় দেবে। এতো বড় হয়ে গেছে নিশ্চয়ই চিনবে না। গম্ভীর মুখে বাড়িতে ঢুকবে, বিশিষ্ট এমপির সামনে দাপটের সাথে বসবে, কাঠকাঠ উত্তর দিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে পড়বে। শামসুল সরদার কিভাবে তার চাকরি খাবে, সেটা সেও দেখে ছাড়বে।
সন্ধ্যার অন্ধকারে ছেয়ে গেছে ধরনী। আশেপাশ আলোকিত হয়েছে কৃত্রিম আলোয়। পকেটে ওয়ালেট এবং ফোন ঢুকিয়ে ফ্লাটে তালা দিলো সোভাম। ধীর পায়ে নেমে বাসার কিছুটা সামনে এসে রিকশা নিলো। সরদার বাড়ি কোথায় তা সে জানে না, চেনেও না। শুধু মনে আছে শ্বেত পাথরের ন্যায় সাদা একটা পুরোনো প্রাসাদ তূল্য বাড়ি। যার কারুকার্য পুরাতন জমিদারি বাড়িকে চিহ্নিত করে।
– সরদার বাড়িতে যাবে?
রিকশাওয়ালা মাথা ঝোকালেন। পানের পিক ফেলে অস্পষ্ট গলায় বললো,
– হ যামু, একশো টাহা লাগবে।
সরদার বাড়ি এতোটা দূরে! সোভাম ভাবতেই অবাক হলো। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে উঠে বসলো। ঠিক সাত/আট মিনিটের মাথায় একটা বিশাল গেটের সামনে রিকশা থামালো লোকটি। বললো,
– আইয়া পড়ছি। নামেন….
গেটের দিকে তাকিয়ে নেমে পড়লো সোভাম। রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। অবাক চিত্তে বললো,
– এতোটুকু জায়গা ১০০ টাকা ভাড়া? পাগল পেয়েছো আমাকে?
এরপর একশো টাকার নোট দিয়ে বললো, – ২০ টাকা রাখবে। এর ১ টাকাও বেশি নয়।
লোকটি পান খাওয়া লাল দাঁত গুলো মেলে হাসলো। আশেপাশে তাকিয়ে বললো,
– অন্যকোথাও অইলে ভাড়া কম। কিন্তু সরদার বাড়ি, শিকদার বাড়ি ভাড়া বেশি। বড়লোক বাড়ি তো। আর আপনে এমন করেন ক্যান, এমপির বাড়ি আইছেন…. এমন একশো- দুইশো টাহা তো বকশিশ ও দেয়। মাত্র এই কয়ডা টাহা লইয়া এমন রাগ অইলে মান- সম্মান থাকবে আপনের?
সোভাম কি বলবে ভেবে পেলো না। শুধু তাকিয়ে রইলো অদ্ভুত দৃষ্টিতে। এরমধ্যে রিকশাওয়ালা গাড়ি টান মেরে চলে গেলো। মাথা ঝাঁকিয়ে ছোট্ট করে শ্বাস নিলো সোভাম। আশি টা টাকা বেশি নিয়ে গেলো। রিকশাওয়ালার ভাগ্য ভালো, স্পর্শী ছিলো না। স্পর্শীর কথা স্মরণে আসতেই মনে পড়ে গেলো এক ঐতিহাসিক ঘটনার কথা।
একবার নবীনগর যেতে হয়েছিলো। সঙ্গে স্পর্শীও ছিলো। ভাংতি টাকা না থাকায় পাঁচশো টাকার নোট দিয়েছিলো সোভাম। কিন্তু রিকশাওয়ালা বাটপারি করে দেড়গুন ভাড়া রেখে বাকিটা ফেরত দিয়েছিলো। বারবার চাইতে সে পুরো রেগে-মেগে দোষ দিচ্ছিলো তাদের। বলেছিলো পথিমধ্যে স্পর্শীকে তোলার জন্য প্রায় পাঁচ মিনিট দাঁড়াতে হয়েছে, তাই এই টাকাটা বেশি নিয়েছে সে। সোভাম আশেপাশে লোক জন দেখে মেনে নিলেও স্পর্শী নেয় নি। ঝগড়া তো করেছে, এমনকি লোকটার রিকশার চাবি বাজেয়াপ্ত করেছে। আশেপাশে অজস্র লোক জমা হয়ে গেছিলো সেদিন। কিন্তু স্পর্শীর একটাই কথা, যতক্ষণ না পর্যন্ত বাকি টাকা ফেরত দেবে, সে চাবি দেবে না। এমনকি উলটো ঘুরে হাঁটাও শুরু করেছিলো। শেষে বাধ্য হয়ে রিকশাওয়ালা টাকা দিয়ে চাবি ফেরত নিয়েছিলো। স্মৃতিতে ঘটনাগুলো পুণরায় ফুটে উঠতেই নিঃশব্দে হেসে ফেললো সোভাম।
-পাগলের মতো হাসেন ক্যান? ভিত্রে আইলে আসেন, নাইলে যান। আমি গিয়ে চেয়ারে বসমু। আপনারে দেইখা গেট খোলার জন্য আসতে হইছে।
থতমত খেয়ে গেলো সোভাম। তাকালো পঞ্চাশোর্ধ টাক পড়া দারোয়ানের দিকে। ইনি সরদার বাড়ির দারোয়ান। সবাই বাহাদুর কাকা বলে সম্বোধন করে। সোভামের উত্তর না পেয়ে বাহাদুর কাকা হাটা শুরু করলো ভেতরের দিকে। হতদন্ত হয়ে এগিয়ে আসলো সোভাম। বললো,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৭
– আপনি একটু দাঁড়ান। আমি ভেতরে যাবো।
বাহাদুর গেট খুলে দিলো। এরপর এগিয়ে গ্যারেজের বা পাশে ছাউনির নিচে রাখা চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসলো। ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে, দারোয়ান কম – বাড়ির মালিক বেশি। বাইরের লোক দেখলে যেনো আরামে ব্যাঘাত ঘটে, নাক সিঁকেয় উঠে যায়। সোভাম তার দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টি ছুঁড়ে এগিয়ে গেলো ভেতরের দিকে।
