রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৯
রিক্তা ইসলাম মায়া
মায়া প্রেগন্যান্ট ব্যাপারটা খান বাড়িতে হৈচৈ ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল। এর আগেও একবার মায়ার প্রেগন্যান্সির খবর শুনে খান বাড়ির মানুষ মিষ্টি মুখ করেছে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার রিদের বাবা হওয়ার খুশিতে খান বাড়ির মানুষ মিষ্টি মুখ করছে। এবার আর রাখঢাক নয়। এই ঘটনা সত্যিই ঘটেছে। মায়ার প্রেগন্যান্সির সত্য খবরটা সুফিয়া খান নিজে সবাইকে জানিয়েছে। খবর পেয়ে নিহাল খান রাদিফকে নিয়ে সেইরাতেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার খান বাড়িতে আসেন।
রিদ অনুপস্থিত। সে দুবাই গিয়েছিল ব্যবসায়িক কাজে। রাদিফ ফোন করে তাকে বাবা হওয়ার সংবাদটা জানালে রিদের রিয়াকশন রাদিফ বুঝতে পারল না ফোনে। রিদ প্রথমে বোবা বনে ছিল তারপর রাদিফের কল কেটে দেয়। খান বাড়িতে একে একে সকলের আগমন ঘটে পরদিন সকালে। আরাফ খানের তিন মেয়ে, তাদের জামাতা, নাতি-নাতনি সকলেই এসেছে মায়ার প্রেগন্যান্সির খবর শুনে। মা হওয়ার ব্যাপারটায় মায়া আনন্দিত। অবশেষে সেও মা হতে পারছে ব্যাপারটায় সে খুব ইমোশনাল। কিন্তু এই মুহূর্তে মায়া ইমোশনালের চেয়ে লজ্জা পাচ্ছে বেশি। মায়া খান বাড়ির বসার ঘরে বসে। মায়াকে ঘিরে হেনা খান, আরাফ খান, উনার তিন কন্যা সকলেই উপস্থিত। মায়ার বাবা-মাও এসেছে মায়ার প্রেগন্যান্সির খবর শুনে মায়াকে দেখতে। সুফিয়া খান সার্ভেন্ট দিয়ে সবাইকে বিকেলের নাস্তা দেয়। বিকাল তখন ৪ঃ৪৯ মিনিট। জুঁইকে নিয়েও আয়ন এসেছে মায়াকে দেখতে। জুঁইয়ের সাত মাসের পেট। গর্ভবতী অবস্থায় আয়ন জুঁইকে নিয়ে খান বাড়িতে আসতে চায়নি। কিন্তু জুঁইয়ের জোরাজুরিতে আসতে বাধ্য হয়েছে। জুঁইয়ের খেয়াল সবাই রাখছে। সে সবার সাথে দুপুরে খেয়ে রুমে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে। জুঁইয়ের সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নিষেধ সেজন্য সে নিচে গেস্ট রুমে থাকছে। মায়া সুফিয়া খানকে বলে জুঁইয়ের রুমের দরজায় টোকা দেয়। জুঁই পিঠে বালিশ ঠেকিয়ে বিছানায় বসেছিল। আয়ন ঘরে নেই। হয়তো বাইরে আছে কোথাও। আয়ন ঘরে আছে ভেবেই মায়া দ্বিতীয়বার টোকা দিয়ে বলে…
‘ ভাইয়া আসব?
‘ আয়।
জুঁই ভেতর থেকে ডাকে মায়াকে। মায়া দরজা ঠেলে ভেতর ঢুকে জুঁইকে একা দেখে বলে…
‘ তুই একা নাকি? আয়ন ভাইয়া ঘরে নেই?
‘ না বাইরে গেছে হয়তো কোনো কাজে।
মায়া জুঁইয়ের পায়ের কাছাকাছি বসে বলে…
‘ আয়ন ভাইয়া বলল তোর নাকি ছেলে হবে? টেস্ট করিয়েছিলি নাকি?
জুঁই মায়ার কথায় মুখটা কুঁচকে বলে…
‘ এই লোকের যত্তসব ফাউল আলাপ। আমার কনসিভ করার আগে থেকেই সে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে তার ছেলে হবে। আর রিদ ভাইয়ের মেয়ে হবে। দুজনের বিয়ে দিয়ে সম্বন্ধ করবে। অথচ আমার সাত মাস চলছে কিন্তু সে কোনো টেস্টই করাচ্ছে না। সে সিওর তার ছেলে হবে এটা নিয়ে।
মায়া হেসে ফেলে। দুপা তুলে বিছানায় বসে বলে…
‘ তোর ছেলে হবে সেটা নাহয় মেনে নিলাম। এখন যদি আমার মেয়ে না হয়ে ছেলে হয় তখন কি করবে আয়ন ভাই?
‘ তখন কি আর করবে নিজের মাথা ফাটাবে বসে বসে। এই লোকের মাথায় কি ভূত চেপেছে আল্লাহ জানে। সারাক্ষণ খালি বলবে, জুঁই আমাদের ছেলে হওয়ার সাথে সাথে আমরা কিন্তু রিদের কাছে ওর মেয়ের বিয়ের প্রস্তাবটা দিয়ে ফেলব কেমন। নয়তো রিদ যে ত্যাড়া মানুষ পরে যদি ও বেঁকে বসে। মেয়ে বিয়ে দিতে না চায় আমার ছেলের কাছে তাহলে তো আমার ছেলে চিরকুমার থেকে যাবে জুঁই। ব্যাপারটা সাংঘাতিক টেনশনের।
জুঁইয়ের কথায় মায়া হেসে বলে…
‘ ব্যাপারটা আসলেই টেনশনের।
দুবোন একত্রে হেঁসে ফেলে। দুজনের হাসির মাঝে মায়া হঠাৎ বলে উঠে…
‘ আমাদের আগের দিন গুলো কত সুন্দর ছিল জুঁই তাই না? আমরা কলেজে যেতাম। সব বান্ধবীরা মিলে হৈচৈ করতাম। দিনগুলো অনেক সুন্দর ছিল। যদি উনাদের সঙ্গে আমাদের দেখা না হতো তাহলে আজও আমরা কলেজের মাঠেই হৈচৈ করে বেড়াতাম তাই না?
মায়ার কথায় জুঁইও হঠাৎ ইমোশনাল হয়ে গেল। খান পরিবারের ছেলেরা যদি ওদের জীবনে না আসত তাহলে হয়তো ওরা আজও চট্টগ্রাম থাকত। এখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রিপারেশন নিত বান্ধবীরা মিলে। এই সংসারে এসে ওরা দুঃখী এমন না। মায়া, জুঁই দুজনেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানায় এমন স্বামী-সংসার পেয়েছে বলে। কিন্তু কিশোর জীবনের হৈচৈ গুলো হঠাৎ হঠাৎ স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলে তখন ওদের মন খুব পুড়ে। মায়া ইতিমধ্যে ডিসিশন নিয়ে ফেলেছে সে বেবি হওয়ার পর নিজের পড়াশোনা কন্টিনিউ করবে। আপাতত অফ রাখবে। এই বছর গ্যাপ দিয়ে পরের বছর আবারও কলেজে ভর্তি হবে। আর জুঁই এই শরীর নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। আয়ন জুঁইয়ের পড়াশোনায় সাহায্য করছে। মায়ার কথায় জুঁই সম্মতি দিয়ে বলে…
‘ স্কুল-কলেজে বান্ধবীদের সঙ্গে হৈচৈয়ের কথা মনে পড়লে বুকটা হাহা করে ওঠে। মায়া লাগে ভীষণ। শ্রেয়া, নাদিয়ার কথা কিছু জানিস মায়া?
‘ হুম জানি। শ্রেয়ার সাথে মাঝেমধ্যে কথা হয়। ওরা চট্টগ্রাম কলেজেই আছে।
‘ আর রাকিব ভাই? উনার কথা কিছু জানিস? বেচারা এখনো সিঙ্গেল আছে নাকি বিয়েসাদি করেছে?
জুঁইয়ের কথায় মায়া নাক-মুখ কুঁচকে বলে…
‘ তুই রাকিব ভাইয়ের কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস? আমার জামাই জানলে আমাকে মেরে তক্তা বানাবে। এমনই ভয়ে আছি। ঘাউড়া লোক দেশে ফিরে আমাকে জানি কি করে।
জুই চমকে উঠে বলে…
‘ কি করবে মানে?
মায়া সহজ সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বলে…
‘ উনি এখন বেবি চাচ্ছিলেন না। আমিই উনাকে ঠেঙিয়ে বেবি নিয়েছি। ব্যাপারটায় উনি আমার সাথে ক্ষেপে যেতে পারেন নিশ্চিত।
জুই ব্যাপারটায় আশ্চর্য হয়ে বলে…
‘ ভাইয়া রাজি না থাকলে তুই নিতে গেলি কেন? পরেই নিতি না-হয়।
‘ উনি পরে কবে বেবি নেবেন সেই নিশ্চয়তা উনি আমাকে দেয় না। উনার এত বড় বাড়িতে আমার একা লাগে। একটা বেবি থাকলে আমারও সময় কাটবে সেজন্য বেবি নিয়েছি। তাছাড়া বিবাহিত মেয়েদের দীর্ঘদিন নারীর মাতৃত্ব রোধ করে রাখলে পরে কনসিভ করতে চাইলে প্রেগন্যান্সিতে কমপ্লিকেটেড দেখা দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা মাতৃত্বও হারায়। আমি মূলত সেই ভয় থেকেই বেবি নিয়েছি। বিয়ে যেহেতু হয়েছে আগে বা পরে আমাকে বেবি নিতেই হতো তাহলে এখন নিলে সমস্যা কোথায়?
‘ ভাইয়া যদি তোর সাথে রাগারাগি করে?
‘ রাগ করলে করবে আমার কি? আমার সাথে উনার মা আছে না? চুটকিতে সব সামলে নেবে দেখিস।
মায়া প্রেগন্যান্ট হওয়ার খবরটা রিদকে আগের দিন রাতে রাদিফ ফোন করে দিয়েছিল। রিদ পরদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশে ফিরে আসিফকে নিয়ে। রাত তখন আটটার ঘরে। রিদের গাড়ি খান বাড়ির পার্কিং এরিয়াতে থামতেই দারোয়ান দৌড়ে এসে গাড়ির পিছনের দরজা টেনে ধরে। ততক্ষণে ড্রাইভারের সঙ্গে বসা আসিফও দৌড়ে বেরিয়ে আসে। রিদ গাড়ি থেকে বেরিয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে গায়ের কোটটা আসিফের দিকে বাড়িয়ে দেয়। আসিফ তৎপর হয়ে রিদের কোটটা হাতে নিয়ে পিছন পিছন হাঁটে। তাদের দুবাই এক সপ্তাহ থাকার কথা ছিল। অথচ তিন দিন যেতেই রিদ আসিফকে নিয়ে কথা নেই বার্তা নেই হুট করে বাংলাদেশে চলে আসে। দুবাইয়ের প্রজেক্টের কাজগুলোও শেষ হয়নি। রিদ কাজ মাঝে ফেলে হঠাৎ চলে এসেছে মানে গুরুতর কিছু হবে বলে আসিফ ধারণা করে। আসিফের রিদ ভাই বাবা হবে খবরটায় তখনো সে অজ্ঞাত ছিল। এর মাঝে কোথা থেকে আয়ন এসে হঠাৎ করে রিদকে ঝাপটে জড়িয়ে বলে…
‘ রিদ? ভাই তুই আমার বুকে আয়। অবশেষে তুই আমার সম্বন্ধী হবি। আয় কোলাকুলি করি।
অযথা ঘেঁষাঘেঁষি হাতাহাতি রিদের পছন্দ না। রিদ আয়নকে ঠেলে দূরে সরাতে চেয়ে বলে…
‘ যা তো বাল। দূরে সর। মাইয়া মানুষের মতো ঘেঁষাঘেঁষি করিস না। দূরে যা।
আয়নের মাঝে উৎফুল্লতার কমতি নেই। রিদ দূরে ঠেলে দিচ্ছে কিন্তু আয়ন দুহাত মেলে ফের রিদকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে বলে…
‘ তুই বাবা হবি আর আমি ঘেঁষাঘেঁষি করব না তা কি হয় সমন্ধি বল? তোর বাবা হওয়ার আনন্দ তো তোর থেকে আমার বেশি। অবশেষে আমরা সম্বন্ধী হব ভাই।
রিদ বাবা হবে খবরটা শুনেই আসিফ অবাক হলো। তাই তো বলি রিদ ভাই এত হন্তদন্ত হয়ে কেন আসিফকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরল। কাহিনি তাহলে এইটা। আসিফ খুশিতে আটখানা হয়ে তৎক্ষণাৎ রিদকে সাদুবাদ জানিয়ে বলে…
‘ কংগ্রাচুলেশনস ভাই।
একে তো আয়ন জ্বালাচ্ছে তার উপর আসিফের সাধুবাদ জানাতে রিদ বিরক্তির চোখে আসিফের দিকে তাকায়। আসিফ বুঝেছে সে ভুল জায়গায় ভুল সাধুবাদ জানিয়ে ফেলেছে। সেজন্য কথার ঘাটতি কমাতে তৎপর হয়ে বলে…
‘ সরি ভাই।
আয়ন আসিফের কাণ্ডে হেসে ফেলে, আসিফের কাঁধে চাপড় মেরে বলে…
‘ কি সরি ভাই! সরি ভাই করছিস। তোর রিদ ভাইয়ের নতুন আপডেট হয়েছে বুঝলি আসিফ। তুই চাচা হবি। কখনো ভেবেছিস তোর রিদ ভাই আমার সম্বন্ধী হতে পারবে হুম?
আসিফ আয়নের কথায় অসম্মতি জানাতে চেয়েছিল কিন্তু রিদের বিরক্তিমাখা মুখটা দেখে সে চুপ করে যায়। আয়ন আসিফকে দেখে হাসে। রিদ বিরক্তিতে এক প্রকার জোর করেই আয়নকে পাশ কাটিয়ে বাড়ির ভেতরে যেতে চায়। কিন্তু পথিমধ্যে আবারও পথ আটকায় আরাফ খান। রিদ বিরক্তির গলায় ঝেড়ে বলে…
‘ সরো।
‘ কি সরো?
রিদ মেজাজ দেখিয়ে বলে…
‘ পথ ছাড়ো দাদাভাই।
খেয়ালির আরাফ খান এতদিন বাদে রিদকে ভাগে পেয়েছেন, তিনি এমনি এমনি রিদকে যেতে দিবেন না। বিরক্ত করেই ছাড়বেন। আরাফ খান লাঠি উঁচিয়ে রিদের পথ আটকে খেয়ালি করে বলে…
‘ পথ ছাড়লে কি করবি শুনি? তোর এত তাড়া কিসের আবার? যা তীর মারার তো আগেই মারা শেষ। তুই তো বাপ হয়ে গেছিস রিদ। এখন তাড়া দেখিয়ে কি করবি? ডাবল সেঞ্চুরি মারবি?
রিদের মেজাজে চোয়াল শক্ত হয়ে যাচ্ছে। কপাল কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করে বলে…
‘ দাদাভাই পথ ছাড়ো। মেজাজ খারাপ হচ্ছে কিন্তু আমার।
‘ তোর আর গোলাবারুদে মেজাজ। এই ঘাউড়ামির স্বভাব নিয়ে কিভাবে য়ে বাবা হলি আল্লাহ জানে। আমার তো মায়ার জন্য মায়া হচ্ছে। আমি মায়ার জায়গায় হলে সেই কবেই তোরে ছাড়পত্র দিতাম বুঝলি।
রিদ আজ অযথা আরাফ খানের সঙ্গে তর্কে জড়াতে চাচ্ছে না বলে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে আরাফ খানকে জোরপূর্বক পাশ কাটিয়ে চলে যায় ভেতরে। আজ একজনের পর একজন রিদের পথ আটকে দাঁড়াচ্ছে। খান বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই হেনা ডাকে রিদকে উনার কাছে যেতে। রিদ হেনা খানের ডাক শুনল না। সোজা নিজের রুমে যায়। মায়া তখন ঝুঁকে বেড সাইডের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজছিল। রিদ ঠাস করে রুমে ঢুকে মায়ার বাহু টেনে নিজের মুখোমুখি করে বলে…
‘ তুই প্রেগন্যান্ট হলি কিভাবে?
আচমকা রিদের বাহু টানায় মায়া ভয় পেয়েছে ভীষণ। বুকে থুতু ছিটিয়ে বলে…
‘ আল্লাহ আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। এমন করে কেউ টান দেয় আজব।
রিদ রেগেমেগে ফায়ার হয়ে আছে অথচ মায়া বিষয়টা পাত্তা দিচ্ছে না। রিদ মায়ার বাহু শক্ত হাতে চেপে বলে…
‘ আমি যা প্রশ্ন করেছি তার উত্তর দে বেয়াদব। তুই প্রেগন্যান্ট হলি কিভাবে বল?
রিদের প্রশ্নটা যেন মায়ার কাছে অযৌক্তিক মনে হলো। মায়া বিরক্তি প্রকাশ করে বলে…
‘ আশ্চর্য! আমার জামাই আছে তাই প্রেগন্যান্ট হয়েছি। আর এখানে বেয়াদবির কি আছে? প্রেগন্যান্ট না হতে পারলে তখন বেয়াদবি হতো, প্রেগন্যান্ট হলে কে বেয়াদব হয়?
রিদ রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বলে…
‘ তোর মতো জামাই মানুষের নেই? সবাই কি প্রেগন্যান্ট হয়?
‘ হ্যাঁ হয়। আমি তো তাই জানি। যার জামাই আছে সেই তো প্রেগন্যান্ট হবে তাই না?
রিদ রেগে গিয়ে বলে…
‘ কথা ঘুরাবি না। তাহলে থাপ্পড়ে গাল ফাটিয়ে দেব বেয়াদব।
রিদ রেগে যাচ্ছে দেখে মায়া মিছামিছির ভঙ্গিমা করে বলে…
‘ দেখেন আপনি আমার সাথে আজকের পর থেকে রাগ করবেন না তো। আমি প্রেগন্যান্ট মানুষ। নরম মনের মানুষ। আপনি রাগ করলে আমার মাথা ঘুরায়, বমিও পায়। আমাকে আর টেনশন দিয়েন নাতো, আমি অসুস্থ হয়ে যাই।
মায়া সত্যি সত্যি যেন অসুস্থতায় ঢলে পড়েছে রিদের বুকে এমন ভান করল। রিদ রাগে ঠায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে মিছামিছি হলেও রিদ এখন মায়ার উপর রাগ দেখাচ্ছে না। রাগে ফুসফুস করছে। হয়তো রাগ কন্ট্রোল করতে চাচ্ছে। মায়া চেপে চেপে রিদের বুকে মাথা রাখে। দু’হাতে রিদকে জড়িয়ে বলে….
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ১৮
‘ আপনি যদি আমার সাথে রাগারাগি করেন তাহলে এটা আপনার বাচ্চার জন্য খারাপ প্রভাব ফেলবে। প্রেগন্যান্ট মেয়েদের উপর স্বামীর রাগ করা নিষেধ। আপনি হয়তো জানেন না সেটা। নতুন বাবা হয়েছেন তো তাই ভুল করছেন। পরের বার বাবা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করবেন না।
