Home রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ৭

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ৭

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ৭
রিক্তা ইসলাম মায়া

মায়া চট্টগ্রামের খান বাড়িতে আছে আজ দুসপ্তাহ পেরুলো। রিদ বাংলাদেশে ফিরেছে আরও দশদিন আগে। সে ঢাকায় আছে। চট্টগ্রামে আসে না। মায়ার সঙ্গেও দেখা-সাক্ষাৎ কিংবা ফোনে কথা হয় না। রিদ মায়ার উপর রেগে আছে সেটা স্পষ্ট। মায়াও ঢাকা রিদের কাছে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। পাছে যদি রিদ মায়াকে একা পেয়ে আরও রেগে যায় তাই। লাস্টবার দুজনের সময়টা ভালো ছিল না। মায়া দুই পরিবারের কথা ভেবে রিদকে আনুষ্ঠানিক বিয়ে করতে গিয়ে এতো ঝামেলা হয়েছে। এখন রিদ সরাসরি আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য নাকচ করে বসে আছে।

রিদকে রাজি করার সাধ্য এবার সুফিয়া খানেরও হচ্ছে না। রিদ একবার কোনো কাজে ‘না’ করে বসলে তাঁকে দিয়ে সেই কাজটা করানো কঠিন। ঘাড়ত্যাড়া মানুষগুলো এমনই হয়। সুফিয়া খানকেও মাঝেমধ্যে নিহাল খানের সঙ্গে ত্যাড়ামি করতে দেখে মায়া। নিহাল খান মন্ত্রী হয়েও তিনি সুফিয়া খানকে বেশ সমীহ করে চলেন। নিহাল খানের কোনো কথায় সুফিয়া খান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালে নিহাল খান চুপচাপ চলে যান। কথা বাড়ান না। মায়া বোঝে নিহাল খান আর সুফিয়া খানের মধ্যে সম্পর্কটা এখনো ঠিক হয়নি। হয়তো পরিবারের চাওয়ায় সুফিয়া খান নিহাল খানের ঘরে থাকছেন তবে জেদি সুফিয়া খান এখনো বিগত পনেরো বছরের বিচ্ছেদে নিহাল খানকে ক্ষমা করেননি। মায়া মাঝেমধ্যে খুব ভাবে, নিহাল খান কতো ভালো মানুষ অথচ বউ রাগী জেদি আর ঘাড়ত্যাড়া পেলেন। মায়াও কতো ভালো, সহজ সরল অথচ স্বামী পেল আগুনের গোলা। কিছু বলার আগেই চেত করে উঠে মাথা গরম হয়ে যায়। মায়াদের মতো সহজ সরল মানুষগুলোর কপালেই কেমন আগুন আগুন মানুষগুলো জুটে গেল। মায়া তো তাও স্বামীর সঙ্গে না পারলে শাশুড়ির আশ্রয় নেয় কিন্তু বেচারা মায়ার শ্বশুর তাও করতে পারেন না। সবই কপাল, বজ্জাত মানুষগুলোর কপালে ভালো মানুষ জুটে গেছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

নিহাল খান রাদিফকে নিয়ে পার্টি অফিসে আছেন। আরাফ খান হেনা খানকে নিয়ে বাড়িতে আছেন। মায়া সুফিয়া খানের সঙ্গে বেরিয়েছিল বারোটার দিকে। সুফিয়া খান মায়াকে গাড়িতে বসিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম কোর্টে যান। সেখানে কাজ শেষ করে মায়াকে নিয়ে শপিং মলে ঢোকেন। সুফিয়া খান, মায়া, আরাফ খান, হেনা খান, রাদিফ, নিহাল খান ও পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় শপিং শেষ করে মল থেকে বেরোতে রাত প্রায় এগারোটার ঘরে। অসময়ে সুফিয়া রাস্তা গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে দিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আনালেন। মায়া বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারে না। ঘনঘন খাওয়ার অভ্যাস মায়ার আছে। কিন্তু আজকে শপিং মলে সুফিয়া খান কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকায় মায়া দুপুরে না খেয়ে থাকায় তিনি ড্রাইভারকে দিয়ে মায়ার জন্য খাবার আনান। মায়াকে গাড়িতে খেয়ে নিতে বলতে, ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করল। অন্ধকার রাতে কালো আকাশে চাঁদ নেই তবে অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছে। রাস্তার দুপাশে হলুদ ল্যাম্পপোস্টের আলোয় গাড়ি যাতায়াত করছে। বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই হঠাৎ সুফিয়া খানের গাড়িটা বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্জিনে ধোঁয়া বেরোতে সুফিয়া খান পিছনের সিট থেকে কপাল কুঁচকে ড্রাইভারকে বললেন…
‘কী সমস্যা? গাড়ি বন্ধ হলো কেন তুহিন?

তুহিনের বয়স রাদিফের বয়সে হবে। পড়াশোনা করে শিক্ষিত না হলেও সে সেভেন পাশ ছেলে। শহরে থেকে চাকরি করতে করতে শুদ্ধভাষাটা আয়ত্ত করেছে। তুহিন ভয়ে জড়সড় হয়ে পিছনে তাকিয়ে সুফিয়া খানকে বলল…
‘ সঠিক বলতে পারব না ম্যাডাম। তবে মনে হয় গাড়ির ইঞ্জিন পুড়ে গেছে। ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
সুফিয়া খানের সুন্দর মুখটা বিরক্তিতে ছেয়ে গেল তুহিনের কথায়। ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে মানে ইঞ্জিন পুড়ে গেছে। পোড়া ইঞ্জিনে গাড়ি চলবে না। এতো রাতে গাড়ি ছাড়া নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে উনারা? সুফিয়া খান মেজাজে শক্ত গলায় তুহিনকে ধমকে বললেন…
‘গাড়ি বের করার সময় চোখ কই রাখিস বেয়াদব? গাড়ি চেক করতে পারিস না?
‘সরি ম্যাডাম।

সুফিয়া খান বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করলেন। তুহিনকে বললেন…
‘রাদিফকে ফোন করে বল গাড়ি পাঠাতে।
‘জি ম্যাডাম! এখনই বলছি,
তুহিন সিট বেল্ট খুলে গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। গাড়ির হুড খুলতেই ধোঁয়া ছেড়ে গেল। তুহিন মুখ ঘুরিয়ে খ্যাঁক খ্যাঁক করে কাশতে লাগল। পকেট হতে রুমাল বের করে মুখে চেপে ধরল। চাঁদবিহীন অন্ধকার রাতে নেউলে কুকুর ঘ্যাউ ঘ্যাউ করে ডাকছে। মাঝেমধ্যে দুই-একটা গাড়ি চলাচল করছে জনমানবহীন রাস্তায়। চওড়া রাস্তায় আশেপাশে দোকানপাট নেই। কয়েকটা বড় বড় বিল্ডিং আছে দূর দূরান্তে দেখা যাচ্ছে। রাস্তার দুপাশে ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় আলোকিত। তুহিন রুমালে মুখ চেপে পকেট হতে বাটন ফোনটি বের করে ‘ছোট স্যার’ নামক সেভ করা নামটিতে কল মেলাতে গিয়ে শুনতে পেল ফোনের মহিলাটি একবার বাংলায় ও একবার ইংরেজিতে তাকে সংকেত দিচ্ছে ফোনে ব্যালেন্স নেই বলে। তুহিনের ফোনের ব্যালেন্স কালই শেষ হয়ে গিয়েছিল। টাকা লোড করবে করবে ভেবেও মনে ছিল না ফোন রিচার্জ করতে। এখন এই কথাটা সুফিয়া খানকে বলতে তুহিন ভয় পাচ্ছে।

প্রথমত গাড়িতে পানি নেই সেটা চেক না করেই ভালো গাড়ির ইঞ্জিন পুড়িয়ে মাঝরাতে দাঁড়িয়ে আছে ওরা, এটা একটা অপরাধ। তারপর আবার ফোনে টাকা নেই যে রাদিফ স্যারকে বলবে নতুন গাড়ি পাঠাতে তাদের জন্য। সুফিয়া খান যে মেজাজি মানুষ উনার ভয়ে পুরো খান বাড়ি চুপসে থাকে। রিদ খান বাদে বাড়ির সকলেই সুফিয়া খানকে ভয় পায়। মন্ত্রী নিহাল খানও বউকে সমীহ করে চলেন। সুফিয়া খান যা বলে তাই মেনে চলেন। যেখানে মন্ত্রী নিজে বউয়ের কাছে সারেন্ডার করে সেখানে বাকিরা তুচ্ছ। এমন না সুফিয়া খান কাউকে বকেঝকে শাসনে রাখেন। সুফিয়া খানের প্রখর দৃষ্টি আর তীক্ষ্ণ কথাবার্তায় সকলে ভয়ার্ত থাকে। বিশেষ করে সুফিয়া খান যখন কারও লুকায়িত বিষয়গুলোও চট করে বুঝে ফেলেন তখন তাদের ভয় হয়। সেজন্য খান বাড়ির কাজের লোকেরা অন্য সবার সাথে মিথ্যা কথা কিংবা কোনো কাজে ফাঁকি দিলেও সুফিয়া খানের সামনে সবাই সতর্ক হয়ে যায়। সুফিয়া খানকে কে ফাঁকি দিচ্ছে কে মিথ্যা বলছে সেটা তিনি চট করে বুঝে যান বিদায় কেউ সুফিয়া খানকে মিথ্যা বলার চেষ্টা করে না। সবাই সত্যটাই বলে। তুহিন ভয়ে ভয়ে সুফিয়া খানের পাশে গাড়ির কাঁচের ওপর টোকা দিতেই সুফিয়া খান কাঁচ নামালেন। তুহিন ভয়ে আমতা আমতা করে বলল…

‘ম্যাডাম গাড়ির ইঞ্জিন পুড়ে গেছে।
‘ সেটা শুনেছি। এক কথা বারবার রিপিট করে মেজাজ খারাপ করছিস কেন? রাদিফকে ফোন দে। বল গাড়ি পাঠাতে।
তুহিন ভয়ার্ত ভঙ্গিতে থমথমে মুখে বলল…
‘ম্যাডাম আমার ফোনে টাকা নাই।
এই মূহুর্তে তুহিনের এই কথাটা মেমান লাগল।
সুফিয়া খানের রাগী মুখটা বিরক্তি ছেয়ে গেল। তিনি বিরক্তির দৃষ্টিতে তুহিনের দিকে তাকাতেই তুহিন তৎক্ষণাৎ ভয়ার্ত ভঙ্গিতে বল…
‘সরি ম্যাডাম।
‘শাটআপ ইডিয়ট!
‘ইয়েস ম্যাডাম।
‘গেট আউট।
‘জি ম্যাডাম।

তুহিনের ম্যাডাম ম্যাডাম কথায় মায়া পাশ থেকে ফিক করে হেসে ফেলল। গাড়িতে বসে সুফিয়া খানের কিনে দেওয়া ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চিবুচ্ছিল মায়া। গাড়ির ইঞ্জিন পুড়েছে সেটা ওহ শুনেছে। তবে সেই বিষয়ে চিন্তিত নয়। যেখানে চতুর শাশুড়ি আছে সেখানে মায়ার এতো চাপ নেওয়ার দরকার নেই। মায়ার স্বামী আর শাশুড়ি দজ্জাল হলেও তাদের সাথে থাকাকালীন কোনো বিপদ হলে মায়ার কখনো ব্রেন খরচ করে বুদ্ধি বের করতে হয় না। দেখা যায় মায়া বুদ্ধি বের করতে করতে তারা বিপদের সমাধান করে ফেলে। এই একটা বিষয়ের জন্য মায়ার এক্সপার্ট স্বামী আর শাশুড়িকে ভালো লাগে। দজ্জাল হয়েও কাজের মানুষ তাঁরা। মায়ার হাসিতে সুফিয়া খান বিরক্তির চোখে মায়ার দিকে তাকাতেই মায়া চুপ করে গেল। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুখে দিয়ে পাশ ফিরে গেল হাসি আটকাতে। সুফিয়া খান নিজের ব্যাগ হতে ফোন নিয়ে রাদিফকে কল করতে গেলে দেখলেন ফোনটা বন্ধ। সারাদিনের ব্যস্ততায় উনার ফোনটা বিকেলেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেজন্য তুহিনকে বলেছিলেন কল করতে। সুফিয়া খানের বিরক্তি বাড়ে। মায়াকে বললেন…

‘তোমার ফোনটা কই, দাও।
মায়া পাশ ফিরে সুফিয়া খানকে বলল…
‘আমি ফোন আনিনি আম্মু। বাসায় রেখে এসেছিলাম।
সুফিয়া খান বিরক্তি নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। সব ঝামেলা একত্রে লাগে। সুফিয়া খানের পিছন পিছন মায়াও গাড়ি থেকে বেরুলো হাতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের বক্স নিয়ে। তুহিন গাড়ির হুড খুলে ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়িয়ে। রাত তখন বারোটা পেরিয়ে। মাঝরাস্তায় মধ্যরাতে সুফিয়া খান আর মায়াকে একাকী রেখে গ্যারেজ খুঁজতে যেতে ভয় পাচ্ছে তুহিন। সেজন্য সেও সুফিয়া খানের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো গাড়ি থেকে সাহায্য নেওয়ার চিন্তা করছে। সুফিয়া খান অন্ধকার রাস্তায় আশপাশটা পর্যবেক্ষণ করল। এই রাস্তাটা নির্জন জনমানবহীন। তার মানে এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। সুফিয়া খান কিছু ভাবলেন। তুহিনকে বলল…

‘আশেপাশে কোথাও গ্যারেজ আছে কিনা গিয়ে খোঁজ করো যাও।
সুফিয়া খানের আদেশে তুহিনকে নড়তে না দেখে সুফিয়া রেগে গেলেন তুহিনের গাফিলতি দেখে। তিনি তুহিনকে ধমকে বললেন…
‘কিছু বলছি কানে যাচ্ছে না তোর? নাকি বয়রা হয়ে গেছিস?
‘ম্যাডাম আপনাদের এতো রাতে নির্জন রাস্তায় একা রেখে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সেজন্য…
তুহিনকে বলতে না দিয়ে সুফিয়া খান বলল..
‘যা সমস্যায় ফেলার সেটা করে ফেলেছিস। এখন আলগা পিরিতি না দেখিয়ে গ্যারেজ কোথায় আছে সেটা খুঁজতে যা। গো।
‘জি ম্যাডাম।

সুফিয়া খানের ধমকে তুহিন না চাইতেও সে গ্যারেজের খোঁজে বেরিয়ে গেল। মায়া সুফিয়ার সঙ্গে গাড়িতে পিঠ ঠেকিয়ে সে তখনো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চিবুচ্ছে। সুফিয়া খান মায়ার পাশ থেকে সরে গাড়ির ইঞ্জিনের সামনে ঝুঁকে পড়লেন। গাড়ির ইঞ্জিনটা কেন পুড়েছে তিনি সেটা দেখছেন। গাড়ির টুকটাক কাজ তিনি জানেন। সেই অভিজ্ঞতায় ইঞ্জিন চেক করছেন। মিনিট বিশেকের মধ্যে হঠাৎ মায়ার ভয়ার্ত ডাক শুনতে সুফিয়া খান গাড়ি ইঞ্জিন থেকে মুখ তুলে উঁকি মারতেই দেখলেন তিনটে হালকা পাতলা গঠনের ছেলে মায়াকে ঘিরে দাঁড়িয়ে উত্ত্যক্ত করছে। মায়া ভয়ে গাড়ির সঙ্গে সেঁটিয়ে সুফিয়া খানকে বারবার ডাকছে। ছেলেগুলো মায়াকে বেরোনোর রাস্তা দিচ্ছে না। সুফিয়া খান বিরক্তিতে বললেন…

‘ কিরে ভাই কি সমস্যা? এই পথ ছাড় ওর, আসতে দে।
হৈ হৈ করে কালো লম্বাটে চেহারার একটা ছেলে বলল…
‘ক্যান পথ ছাড়ুম? আপনের মাইয়া এহন আমাগোর। আমরা আগে আপনের মাইয়ারে জামাইর আদর সোহাগ করমু হেরপর মাইয়া ফেরত পাইবেন শাশুড়ি আম্মা।
সুফিয়া খান কোমর সোজা করে উঠে দাঁড়ালেন। নির্জন রাস্তায় দুটো মেয়ে মানুষ ভেবে বখাটে ছেলেগুলো উৎপাত করছে। ইঞ্জিনে হাত দেওয়ায় সুফিয়া খানের হাতে কালি লেগেছে। তারপরও তিনি
দু’হাতে ধুলো পরিষ্কার করার মতোন তালি দিতে দিতে বললেন…
‘শাশুড়ি আম্মা যখন ডেকেছিস তাহলে কাছে আয়। জামাই আদর করি। মেয়েকে ঘটা করে তোদের হাতে সঁপে দেব। আয়।

সুফিয়া খানের হেয়ালি কথায় ছেলেগুলো মজা পেল। দুটো মেয়ে মানুষ একা রাস্তায় তিনটে ছেলের সাথে পারবে না এটা বখাটে ছেলেদের ধারণা। শফিক, পলাশ, শ্যামল তিনটে ছেলের নাম। শফিক পাটকাটির মতো লম্বা। পলাশ, শ্যামল সুফিয়া খানের চেয়েও অনেকটা খাটো। সুফিয়া খানের থুতনি বরাবর দু’জন। গাঁজাখোর, নেশায় আসক্ত ছেলেগুলোর চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মায়া ভয়ে কাঁপছে। শফিক মায়ার এক হাত চেপে ধরে রেখেছে। পলাশ লোভাতুর দৃষ্টিতে মায়াকে বারবার ছোঁয়ার চেষ্টা করছে আর মায়া বারবার পলাশের হাত ঝাঁকিয়ে ফেলে দিচ্ছে। শ্যামল সুফিয়া খানের সঙ্গে কথা বলছে। শফিক খ্যাঁক করে বলল…

‘ঐ বুইড়া মাগিরেও লইয়া ল শ্যামুল্লা। দুইটাই খাস মাল। রাতে মেলা মজা হইব মা-মেয়েরে দিয়া।
কথাটা এমনভাবে বলল যেন দোকান থেকে কিছু কিনে আনার জন্য আদেশ করছে শফিক। মায়া এবার ভয়ে কেঁদে দিবে প্রায়। সুফিয়া খান শফিকের কথায় মজা পেলেন, তিনি বললেন…
‘এই শুটকির মতোন শরীর নিয়ে তো মাকেই সামলাতে পারবি না। মেয়েকে নিয়ে কখন মজা করবি জামাই বাবাজী?
শফিক, পলাশ, শ্যামল নেশা করতে করতে শরীরে হাড্ডি ছাড়া শুধু মাংসের চামড়াটা রয়েছে। সুফিয়া খান যে ওদের অপমান করেছেন সেটা বুঝতে পেরেই শফিক খ্যাঁক করে বলল…
‘ঐ শ্যামুল্লা, এই বুইড়া মাগিরে আগে লইয়া ল। মাগি আমাগোরে অপমান করছে না? হেতিরে বুঝামো আমাগোর শরীরে কতো জ্বালা।

শ্যামল রাগে বেশ তেজ দেখিয়ে সুফিয়া খানের দিকে গজগজ করে এগোতেই সুফিয়া খান দক্ষ হাতে চট করে শ্যামলের ঘাড় চেপে পোড়া ইঞ্জিনের ভিতর মুখ ঢুকিয়ে গাড়ির হুড দিয়ে চাপা মারতেই গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে দাপাতে লাগল শ্যামল ছেলেটি। গরম ইঞ্জিনের কারণে মুখ পুড়ে যাচ্ছে ওর কিন্তু উঠতে পারছে না সে, সুফিয়া খান গাড়ির হুড চেপে ধরায়। মুহূর্তে কী হলো বুঝতে সময় নিল শফিক ও পলাশের। ওরা দেখেছে শ্যামল ছুটে গেছে বয়স্ক মহিলাটিকে ধরতে অথচ তারপর চোখের পলকে শ্যামলকে ইঞ্জিনের ভিতর মুখ ঢুকিয়ে দেওয়াটা দেখে শফিক আগুন হয়ে মায়ার হাত ছেড়ে ঘুষি তুলে চিৎকার করল…

‘ ঐ মাগি বাচ্চা তুই আজকে শেষ!
শফিক ঘুষি নিয়ে দৌড়ে গেল সুফিয়া খানের দিকে, শফিকের পিছনে পলাশ গেল। দুটো পুরুষ একটি মহিলাকে সহজে কাবু করতে পারবে। সুফিয়া খান একজন ক্যারাতিশিয়ান। তিনি যৌবনকালে পড়াশোনার পাশাপাশি লন্ডনে থাকাকালীন শখের বশে এসব ক্যারাতি শিখেছিলেন। কলেজ লাইফে সুফিয়া খানের বেশ বদনাম ছিল পেটানোর জন্য। কতবার কত পুরুষকে তিনি পিটিয়েছেন রাগের বশে। যে একবার সুফিয়া খানের হাতে মার খেয়েছে সে দ্বিতীয়বার সুফিয়া খানের সামনে দাঁড়াতে ভয় পেত। সেই ক্ষেত্রে জসিমও সুফিয়াকে সেভাবে ভয় পেত। রিদ সুফিয়া খানের যৌবনের রূপ। রগচটা আর বেপরোয়া। সুফিয়া খান স্বভাবে নমনীয় হয়েছিলেন রিদের জন্মের পর। সুফিয়া খানের মাঝে বেপরোয়া স্বভাব এখন নেই তার মানে এই না যে তিনি যৌবনে সবকিছু ভুলে গেছেন। রাগ তেজ সেই আগের নেয়। দক্ষ হাতে মানুষ পেটাতে আজও উনার হাত কাঁপে না।

শফিক তেড়ে আসতে সুফিয়া খান চট করে পাশে সরে যান। শফিক ঘুষি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সুফিয়া খান মুহূর্তে শফিকের ঘাড় চেপে সজোরে গাড়ির কাঁচের ওপর আছাড় মেরে মাথা ঢুকিয়ে দেন। কাঁচ ভেঙে গলা থেকে গলগল করে রক্ত বেরোল শফিকের। শফিকও গলাকাটা মুরগির ন্যায় গাড়ির কাঁচে আটকে চিৎকার করল। মায়া দুটো ছেলেকে একত্রে সুফিয়া খানের উপর হামলে পড়তে দেখে সে তৎক্ষণাৎ রাস্তা থেকে ইট কুড়িয়ে ঢিল মারতে গেলে দেখল শফিকের মাথা ঢুকে আছে গাড়ির কাঁচের ভিতর। সাদা গাড়িতে রক্ত দেখে মায়া ভয় পেল। পলাশকে সুফিয়া খানের উপর হামলা করতে দেখে সে মূহুর্তে হাতের ইট ছুঁড়ে মারতেই সেই ইটের টুকরো পলাশের মাথা ছুঁয়ে সুফিয়া খানের ডান হাতের কবজিতে পড়তে ব্যথায় নাকমুখ কুঁচকে হাত ঝাঁকাল সুফিয়া খান। মায়া ভয়ে মুখে হাত দিল। পলাশের মাথা ফেটেছে আংশিক। সে শ্যামল আর শফিকের অবস্থা দেখে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে মায়া সুফিয়া খানের দিকে দৌড়ে এসে হাত চেপে ধরতেই সুফিয়া খান মায়ার থেকে রক্তাক্ত হাতটা ঝাঁকিয়ে সরিয়ে নিয়ে বললেন…

‘গাড়িতে গিয়ে বসো। আমি না বলা অবধি বেরুবে না। যাও।
‘আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না আম্মু। যদি আবার কেউ আসে?
‘আমার চিন্তা করতে হবে না। গাড়িতে বসো যাও।
‘আম্মু…
‘গো।
সুফিয়া খানের ধমকে মায়া গাড়ির ভিতর বসল। সুফিয়া খান রক্তাক্ত হাতটা ফের ঝাঁকালেন বিরক্তিতে। আশেপাশে মানুষ নেই। শফিক তখনো গাড়ির কাঁচে গলা আটকে চিৎকার করছে। শ্যামল ইঞ্জিন হতে মাথা ছাড়িয়ে রাস্তায় পড়েছিল প্রথমে, এখন জান নিয়ে পালাচ্ছে চিৎকার করে। শফিকের চিৎকারে মাথা ধরছে বলে সুফিয়া খান শফিককে ছাড়ালেন গাড়ির কাঁচ হতে। গলার রক্তে শরীর লাল হয়ে যাচ্ছে। ছাড়া পেয়ে শফিকও গলা ধরে চিৎকার করে পালাল। আর মিনিট তিরিশ পর তুহিন আসল একজন গ্যারেজ মিস্ত্রিকে নিয়ে। গাড়িতে রক্ত, রাস্তায় রক্তের ছিটা। সুফিয়া খানের হাতে রক্ত আবার গাড়ির কাঁচ ভাঙা দেখে তুহিন অবাক হয়ে সুফিয়া খানকে কিছু বলতে গিয়েও সুফিয়া খানের শক্ত চোয়াল দেখে তুহিন চুপ করে যায় কিছুটা আন্দাজ করে নিয়ে। তুহিনের ধারণা এখানে কেউ এসেছিল যাদের সাথে সুফিয়া খানের ঝামেলা হয়েছে। এই কথাটা এখন তুহিন সুফিয়া খানকে প্রশ্ন করতে চাইলে তুহিনের কপালে দুঃখ আছে।

রাত তখন একটা পেরুলো। হঠাৎই রিদের গাড়ি দেখা যায়। রিদ যে সুফিয়া খানদের খোঁজে এসেছে সেটা রিদের ভাবভঙ্গি দেখে বোঝা গেল। সাথে কেউ নেই। রিদ একা ড্রাইভিং করে এসেছে। সুফিয়া খানের গাড়ির সামনে রিদ গাড়ি থামিয়ে বেরিয়ে বলল…
‘গাড়িতে উঠুন।
রিদ মাকে ভালো মন্দের কোনো প্রশ্ন করল না। সে চতুর মানুষ, খান বাড়িতে মায়ের অনুপস্থিতি আর মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে মিস্ত্রি দিয়ে তুহিনের গাড়ি ঠিক করার ব্যাপারটায় রিদ চট করে বুঝে গেল সুফিয়া খানের ফেরার পথে গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা মাঝরাস্তায় আটকে আছে। রিদ চট্টগ্রামে ফিরেছে রাত দশটায়। এখন রাত ১:২৩। এতটা সময় সুফিয়া খান আর মায়ার অনুপস্থিতি বুঝে রিদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছে মায়ের খোঁজে। কপাল ভালো হওয়ায় রাস্তায় পেয়েও গেল। সুফিয়া খান রিদকে বাসার পোশাকে দেখে কপাল কুঁচকে বললেন…

‘তুমি চট্টগ্রামে এসেছ কখন?
রিদ মায়ের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে বলল…
‘এখানে কিছু হয়েছিল?
সুফিয়া খান সম্মতি দিয়ে বলল…
‘হ্যাঁ! কিছু বখাটে মায়াকে উত্ত্যক্ত করছিল। তাই ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছে।
মায়ের কথায় রিদ আশেপাশে তাকিয়ে মায়ার খোঁজ করতে দেখল গাড়ির ভিতর থেকে মায়া ড্যাবড্যাব করে রিদের দিকে তাকিয়ে আছে। মায়া যে রিদের উপস্থিতিতে অবাক হয়েছে সেটা মায়ার চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রিদ সুফিয়া খানকে বেশ গম্ভীর স্বরে বলল…

‘গাড়িতে ওঠো।
‘মায়া আয়।
সুফিয়া খান হাতের ইশারায় মায়াকে ডাকতেই মায়া গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসল। রিদ মায়ের কাটা হাতটা লক্ষ করল। আশেপাশে তাকিয়ে ল্যাম্পপোস্টের পাশে সিসি ক্যামেরাটাকেও দেখে নিল। এই ক্যামেরায় নিশ্চয়ই বখাটে ছেলেগুলোর ছবি থাকবে যেটা রিদের চাই। অন্যমনস্ক রিদ যখন সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছিল তখন মায়া রিদের শরীর ঘেঁষে গিয়ে বসল সুফিয়া খানের পাশে। রিদের পেটে মায়ার শরীরের স্পর্শ পেতেই রিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মায়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। তুহিনকে উদ্দেশ্য করে বলল…
‘গাড়িটা গ্যারেজে রেখে আসবি। ঠিক হলে আমাদের লোক এসে নিয়ে যাবে বুঝেছিস?
‘জি স্যার।

রিদের গাড়িটা খান বাড়িতে পৌঁছাতে মায়া সুফিয়া খানের পিছন পিছন বসার ঘরে এসে বসল। সুফিয়া খানের হাতে ব্যান্ডেজ, রিদ আসার সময় সুফিয়া খানকে হসপিটাল থেকে ব্যান্ডেজ করিয়ে নিয়ে এসেছে। সুফিয়া খানের গায়ে জামদানি শাড়ি কাঁধে ভাঁজ করে পরা। কলাপাতা রঙের জামদানি শাড়িতে রক্তের ছিটা আছে। অসময়ে তিনি গোসল করবেন বলে রুমে চলে গেলেন। গোসল করে রিদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন। সুফিয়া খান চলে যেতে মায়া রান্নাঘরে গেল। রিদ খেয়েছে কিনা কাজের মেয়ে মালা থেকে জিজ্ঞাসা করে নিল। রিদ খায়নি। এতো রাত অবধি কেন রিদ খায়নি মায়া তা জানে না। মায়া মালা থেকে জেনে নিল রিদ কখন বাড়িতে এসেছে সেটা।

মালা জানাল রিদ দশটায় খান বাড়িতে ফিরেও কফি ছাড়া তেমন কিছু খায়নি। মায়া গায়ের ওড়নাটা কোমরে বেঁধে রিদের জন্য রুটি বানানোর প্রস্তুতি নিল। রিদ সাধারণত রাতে রুটি ছাড়া তেমন কিছু খায় না সুগারের সমস্যা থাকায়। মায়া রুটি বানাতে বানাতে রিদকে নিজেদের ঘরে যেতে দেখল। মায়া চট্টগ্রামে আসার পর থেকে রিদের ঘরেই থাকছে। স্বামীর ঘরে বউ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক তবে আজ মায়া রিদের ঘরে জায়গা পাবে কিনা সেটাও বড় কথা। মায়া সময় নিয়ে রিদের জন্য রুটি বানাল। রাতে তৈরি করা তরকারি পুনরায় গরম করে বাটিতে তুলে নিল। সবাই খেয়েছে কিনা সেটাও জিজ্ঞাসা করল। মালা জানাল সবাই খেয়েছে। মায়া সুফিয়া খানের খাবার ট্রে-তে সাজিয়ে মালাকে পাঠাল উপরে। বলল…

‘এই খাবারগুলো আম্মুকে দিয়ে আসবে। বলবে উনার নিচে নামার প্রয়োজন নেই। উনি অসুস্থ তাই খাবারগুলো খেয়ে রেস্ট নিতে, বুঝেছ?
‘জি ম্যাডাম।
মায়া মালাকে পাঠিয়ে রিদের জন্য ট্রে-তে করে খাবার নিয়ে রিদের ঘরে গেল। দরজা চাপানো। ভিতর থেকে লাগানো না। মায়া পা দিয়ে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে অন্ধকার রুমটা দেখে মায়া আন্দাজে সোফার ওপর খাবার ট্রে রেখে সুইচ বোর্ডের সন্ধান করল হাতড়ে। রুমের আলো জ্বালিয়ে পাশ ফিরতেই মায়ার মুখ ঠেকে গেল রিদের বুকের মধ্যে। শক্ত কিছুর সঙ্গে মায়ার নাক ভারি চোট পেতে মায়া নাক ঘষে উপরে তাকাতেই রিদের বিরক্তির মুখটা দেখে মায়া ভয়ে চুপসে গেল। মায়া আগের বারের কথা মনে করল। রিদ যদি মায়াকে থাপ্পড় মারে সেই ভয়ও পেল। অথচ রিদ মায়াকে কিছু না বলে পুরোপুরি ইগনোর করে চলে গেল। মায়া কষ্ট পেল। রিদ রেগে আছে মায়া সেটা বুঝতে পেরেই রিদের পিছন পিছন হাঁটল। রিদ হাতে চার্জার আর ফোন নিয়ে আছে। সে ফোনটা চার্জে দিতে গিয়ে তখন মায়ার সঙ্গে ধাক্কা খায়। রিদ ফোন হাতে পুনরায় ঘুরতে গেলে ফের মায়ার মুখ ঠেকে রিদের বুকে। রিদ বিরক্ত রগচটা স্বরে বলল…

‘কী সমস্যা? কী চাই?
‘ সংসার করতে চাই।
‘নট ইন্টারেস্টেড। গেট আউট।
অপমানে মায়া থমথমে খেয়ে গেল। কেমন মুখের ওপর মায়াকে রিজেক্ট করে দিল রিদ। মায়া কি প্রেম নিবেদন করছিল নাকি যে রিজেক্ট করল! রসকষহীন ব্যাটা মানুষ রিদ খান। চুন থেকে পান খসতেই আউট, আউট করে। মায়ার স্বামী যতবার মায়াকে আউট আউট করেছে ততবার হিসাব করলে মায়ার দুনিয়াতে কোথাও জায়গা হবে না, সোজা আকাশে উঠে বসে থাকতে হবে। রিদ ফোন চার্জে দিচ্ছে। মায়া রিদকে মুখ বেঁকিয়ে উঠে বসল বিছানার ওপর। গায়ের ওড়নাটা বালিশের পাশে রাখল। পায়ের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্কেট বুকের ওপর তুলতে তুলতে বলল…
‘এজন্য দাদাভাই আমাকে বলেন, আমি নাকি উনার মতো একটা রসকষের মানুষ ডিজার্ভ করি। বেরসিক মানুষগুলো মন বোঝে না। আমার প্রিয় বেরসিক।

রিদ মায়ার দিকে তাকাল না। সে ফোন চার্জে রেখে কী যেন করছে। মায়ার কথার উত্তরে বলল…
‘পাগলে পাগল চিনে।
রিদ মায়াকে পাগল বলেছে কথাটায় মায়া চেত করে উঠে বলল…
‘আমি পাগল?
‘সেটা আমি জানি।
মায়ার কথায় মায়া নিজে বোকা বনে গেল। তৎক্ষনাৎ অস্বীকার করে বলল…
‘আমি মোটেও পাগল না।
‘সব পাগলই এভাবে অস্বীকার করে। নিজেকে পাগল মানতে চায় না।

মায়া রিদের সঙ্গে কথা পেরে উঠবে না মায়া জানে। তাই মায়া প্রসঙ্গ পাল্টে রিদকে খুঁচিয়ে বলল…
‘ দাদাভাই বলেছে আমার তিনটে বিয়ে হয়েছে তো কী হয়েছে? আমাকে উনার মতো একটা রসিক মানুষ দেখে আরও একটা বিয়ে দেবেন। ছেলেদের চারটে বিয়ের নিয়ম আছে কিন্তু মেয়েদের তো বিয়ের লিমিট নেই। আনলিমিটেড। একটা ছেড়ে আরেকটা করো।
মায়ার ফাজলামো কথায় রিদ দাঁতে দাঁত পিষল। চোয়াল শক্ত করে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল…
‘আউট!
মায়া রিদকে পাত্তা দিল না। বরং একই ভাবে বলল…

‘কিসের আউট হ্যাঁ? আমি কি আপনার ঘরে থাকি নাকি যে আউট হবো? আমি শ্বশুরের ঘরে শাশুড়ির ছেলে নিয়ে থাকি। শাশুড়ির ছেলে আমার দলিল করা সম্পত্তি। আর সম্পত্তি কেউ হাতছাড়া করে না, বুঝেছেন?
কথা বলেই মায়া চট করে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে শুয়ে পড়ল। মায়া ব্ল্যাঙ্কেট নিচেও রিদের রাগের আভাস করতে পারল। সময় যখন সেকেন্ড থেকে মিনিট পেরিয়ে প্রায় ঘন্টার কাছাকাছি তখন মায়া ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ হতে উঁকি মেরে দেখল রিদ সোফায় বসে মায়ার আনা খাবার খাচ্ছে। খাবার প্রায় শেষের দিকে। এক্ষুনি খাওয়া দাওয়া শেষ করে রিদ নিশ্চয়ই বিছানায় শুতে আসবে? মায়া ঘুমের ভান ধরে শুয়ে রইল।

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ৬

রিদ যখন বিছানায় আসবে তখন ঘুমের ভান ধরে নড়েচড়ে রিদের বুকে ঠায় করে নিবে সে। মায়া ভাবনা অনুযায়ী অধীর আগ্রহে রিদের অপেক্ষা করতে করতে সে নিজেই একটা সময় পর ঘুমিয়ে গেল রিদ বিছানায় আসার আগে। রিদ কখন বিছানায় এসেছে মায়ার জানা নেই। তবে মায়ার মনে চাওয়া রিদ পূরণ করেছে। ঘুমন্ত মায়া সারারাত রিদের বুকে ঠায় পেয়েছে। আরাম করে রিদের বুকে ঘুমিয়েছে কিন্তু সকালে মায়া ঘুম থেকে উঠার আগেই রিদ মায়াকে নিজের থেকে সরিয়ে দেয় এবং মাঝে লম্বা একটা বালিশ রাখে যেন মায়া ঘুম থেকে উঠে বুঝে সে রাতে রিদের কাছে ঠায় পায়নি সেটা।

রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা খণ্ডাংশ পর্ব ৮

1 COMMENT

Comments are closed.