Home রুপুর বিয়ে রুপুর বিয়ে পর্ব ১৩

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৩

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৩
Bobita Ray

“বাড়িতে শুধু শুধু অশান্তি বাড়িও না রুপু। মা চাচ্ছে না। তুমি পড়াশোনা করো।”
“তুমি বাড়িতে আসতে না আসতেই তোমার মায়ের তোমাকে কান ভাঙানি দেওয়া হয়ে গেছে?”
“রুপু..”
“তোমার মা কে, আমাকে পড়াশোনায় বাঁধা দেবার।”
“রুপু প্লিজ আস্তে কথা বলো। মা শুনলে কষ্ট পাবে।”
“বলব না আস্তে কথা। কী করবে তুমি?”
“তুমি খামোখা জেদ করো না। যতটুকু পড়েছ। যথেষ্ট হয়েছে। আর পড়াশোনা করার দরকার নেই।”
“এটা কী তোমার কথা নাকি তোমার মায়ের শিখিয়ে দেওয়া কথা?”
“রুপু প্লিজ.. সবসময় মাকে ছোট করে কথা বলো না। আমার শুনতে ভালো লাগে না।”
“ভালো না লাগলে আমার সাথে এই ব্যাপারে খবরদার অযথা তর্ক করতে আসবে না।”
বিনয় অধৈর্য হয়ে বলল,

“তোমার ত্যাড়ামির জন্যই তোমাকে আমার মা দেখতে পারে না।”
“ওনার দেখা না দেখায় আমার কিছুই এসে যায় না।”
“তাহলে তুমি পড়াশোনা করবেই?”
“হ্যাঁ করব।”
“যদি তোমার পড়াশোনার খরচ আমি না দেই?”
রুপুর মুখে বিদ্রুপের হাসি ফুটে উঠল। বিনয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভয় দেখাচ্ছ?”
বিনয় উত্তর দিল না। অন্যদিকে আনমনা হয়ে তাকাল। রুপু বলল,
“বউকে টাকা দিতে মেরুদণ্ড লাগে। আফসোস সেই মেরুদণ্ড তোমার নেই। যাইহোক তুমি টাকা না দিতে চাইলে আমি জোর করব না। আমি নিজেই ম্যানেজ করে নেব।”
“সেই তো আমার বাবার কাছে হাত পাতবে।”
“আমার আত্মসম্মান বোধ যে কত হাই লেভেলের সে সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাও নেই। নিশ্চিন্ত থাকো। শুধু তুমি কেন, আমি তোমার বাবার কাছেও ফকিরের মতো এক পয়সা হাত পেতে নেব না।”

“তবুও তুমি পড়াশোনা করবেই?”
“হ্যাঁ করব।”
“আমার মা চায় না তুমি এই বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করো।”
“তুমি কী চাও?”
বিনয় কথা বলল না। রুপু বিনয়ের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বিনয়ের চোখের ভাষা গভীর মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করল রুপু। বলল,
“কথা বলছ না কেন? বলো তুমি কী চাও?”
“মায়ের কথার অবাধ্য হওয়া ঠিক না। মা-তো আমাদের খারাপ চায় না।”
“আমাদের কথার মাঝখানে দয়া করে বার বার তোমার মাকে টেনে আনবে না। আমি খুব সহজ একটা প্রশ্ন করেছি। আশা করি, তুমিও সহজভাবে উত্তরটা দেবে।”
“আমার অনুরোধ, তোমার যখন যা লাগে আমাকে বলবে। আমি এনে দেব। তবুও দয়া করে সংসারে নতুন করে অশান্তি ডেকে এনো না।”

“তারমানে তোমার ইচ্ছে না আমি পড়াশোনা করি।”
“না ইচ্ছে না।”
“তুমি না চাইলেও আমি পড়াশোনা কন্টিনিউ করব।”
“এত জেদ ভালো না রুপু। এই বাড়িতে থেকে তুমি জীবনেও পড়াশোনা করতে পারবে না। আমার মা কোনভাবেই দেবে না।”
“পড়াশোনা করলেই সবাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় না। তুমি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। যাইহোক পড়াশোনা আমি এই বাড়িতে থেকেই করব। তোমাদের মা-ছেলের যদি এতই অসুবিধা হয়। তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও।”
রুপুর মুখে ডিভোর্সের কথাশুনে বিনয় আঁতকে উঠল। রুপু বলল,
“আমার মধ্যবিত্ত বাবার এত ঠেকা পড়েনাই। যে মেয়েকে একগাদা টাকা খরচ করে বিয়ে দেবার পরও মেয়েকে সারাজীবন টানবে৷ আমাকে যদি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেই হয়। তাহলে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে তবেই যাব। আমি মাস্টার্সে ভর্তি হতে হতে তোমাকে ভাবার সময় দিলাম। ভালো করে ভাবো। তারপর আমাকে সিদ্ধান্ত জানাও।”
বীথি রানী দরজার আড়ালে লুকিয়ে বিনয়-রুপুর কথোপকথন খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। তারপর কেউ দেখে ফেলার আগে চট করে সরে গেল।
বীথি রানী একমনে সুপারি কাটছিল। বিনয় মায়ের পাশে এসে বসল। ছেলের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে বীথি রানীর মনটাই খারাপ হয়ে গেল। না এত সহজে বীথি রানী ছেলেকে ভেঙে পড়তে দেবে না। বীথি রানী বিনয়ের মাথায় হাত রাখল। বলল,

“মন খারাপ?”
বিনয় মায়ের কোলে মাথা রাখল। বলল,
“হুঁ।”
বীথি রানী কৌতূহলী হয়ে বলল,
“তোর বউ কী বলল?”
“ও পড়াশোনা করতে চায় মা।”
“তোর কী মত?”
“আমার কোন অসুবিধা নেই।”
“তুই কী গাধা বিনয়। আজকাল যুগের মেয়ে। এখনই তোকে দাম দেয় না। আমার সাথে ঝগড়া করে। তোর বউ পড়াশোনা করলে তো তোর সংসারে লাত্থি মেরে রেখে চলে যাবে। আমি দেখে তোর বাবার সংসার মুখ বুঁজে করে গেছি। বিয়ের প্রথম প্রথম কী যে কষ্ট করেছি তোর বাবার সংসারে এসে। তারপরও কোনদিন রা করিনি। আর তোর বউ। বিয়ে হয়ে আসতে না আসতেই তোর-আমার মুখে মুখে তর্ক করে। এই বউকে যদি তোর সংসারের মায়ায় বাঁধতে চাস। পড়াশোনার ভূত মাথা থেকে যে করেই হোক নামা। নাহলে সামনে তোর ঘোর বিপদ।”
বিনয়ের খুব হতাশ লাগছে। মা-তো ভুল কিছু বলেনি। রুপুর যদি কখনো খুব ভালো একটা চাকরি হয়ে যায়। তখন রুপু কী বিনয়ের সংসার করবে? কখনোই করবে না। সেদিন একটা নিউজ ছিল একরকম। ভদ্রলোক নিজের স্বপ্ন পূরণ না করে জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে বউকে পড়িয়েছে। সেই বউ ডাক্তার হয়েই প্রথমে ভদ্রলোককে ডিভোর্স দিয়েছে। রুপুও যদি কখনো… আরকিছু ভাবতে পারে না বিনয়। ভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়।

“কিছু কী ভাবলি?”
বিনয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“না মা।”
“তোর বউকে তোর কাছে সারাজীবন আটকে রাখার জন্য দারুণ একটা বুদ্ধি আছে আমার কাছে।”
আনন্দে বিনয়ের চোখ-মুখ চকচক করছে।
“কী বুদ্ধি মা?”
বীথি রানী বলল,
“আমাকে একটা ফুটফুটে নাতি এনে দে। বাচ্চাকাচ্চা হয়ে গেলেই দেখবি, তোর বউয়ের উরু উরু মন আর থাকবে না। সারাদিন সংসার বাচ্চা সামলে পড়াশোনার ভূত মাথায়ও আসবে না।”
মায়ের সামনে বসে থাকতে বিনয়ের কিঞ্চিৎ লজ্জা লাগছে। আবার ভালোও লাগছে। বীথি রানী খুব কৌশলে তীব্রভাবে বিনয়ের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। রুপুকে এই সংসারের মায়ায় বাঁধতে হলে, যে করেই হোক রুপুর মাথা থেকে পড়াশোনার ভূত নামাতেই হবে। নাহলে রুপুকে সারাজীবনের জন্য হারাতে হবে। তখন রুপুর মুখে ডিভোর্সের কথাশুনেই তো বিনয়ের অন্তর-আত্মা কেঁপে উঠেছে। না.. না রুপুকে কিছুতেই হারাতে পারবে না বিনয়।
কী করে রুপুকে কাছে টানবে বিনয়? বিনয় রুপুকে স্পর্শ করলে যেভাবে ছ্যাত করে উঠে রুপু। মনে হয়, বিনয় কোন সাধারণ মানুষ না। আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর লাভা।

অথৈ ছাদের এক মাথা থেকে আরেক মাথা হাঁটাহাঁটি করছে। আর গুনগুন করে পড়ছে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বুকের সাথে উল্টো করে চেপে ধরে রাখা বই থেকে একনজর চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। তখনই অয়ন এসে অথৈয়ের পেছন পেছন হাঁটতে লাগল। অথৈ কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পেছন ফিরে তাকাল। অসময়ে অয়নকে দেখে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। অথৈয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অয়ন মিষ্টি করে হাসল। অয়নের হাসি মারাত্মক সুন্দর। অথৈ চোখদুটো বইয়ে নিবদ্ধ করে পড়ায় মনোযোগ দিল। অয়ন গানের লম্বা টান দিল।
“কেমন আছেন বেয়াইনসাব..?”
অথৈ ভ্রু কুঁচকে অয়নের দিকে তাকাল। ছেলেটার মতলব আজ ভালো ঠেকছে না। সেদিন রাতে তুই-তোকারি করায় ছেলেটা ভয়ংকর রেগে গিয়েছিল। আজ সুযোগ পেয়ে প্রতিশোধ নিতে এসেছে নাকি? এমুহূর্তে ছাদে কেউ নেই। এই বদমায়েশটা যদি এখন অথৈকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। কেউ দেখবে না। অথৈ কী আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছেলেটার তামাশা দেখবে। নাকি পাশ কাটিয়ে একদৌড় দেবে।
অথৈয়ের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে অয়ন আবারও হেসে ফেলল। বলল,

“আমাকে দেখে ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলেন কেন বেয়াইন?”
“পথ ছাড়ুন।”
অয়ন অথৈয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াল। বলল,
“এত সহজে তো পথ ছাড়ার জন্য পথ আগলে দাঁড়াইনি। অথৈয়ের এবার সত্যি সত্যি ভয় করছে। ছেলেটা সেদিন রাগী কণ্ঠে বলেছিল, অথৈকে দেখে নেবে। অথৈ পাত্তা দেয়নি। আর না রুপু মানা করার পর অয়নের সামনে গিয়েছে। না.. এখন কোনভাবে ভয়টা বুঝতে দেওয়া যাবে না। অথৈ অয়নের সামনে প্রাণপনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে। অয়ন বলল,
“আপনার সাথে ভালো করে পরিচয়ই তো হলো না।”
অথৈয়ের স্পষ্ট মনে আছে। ছেলেটা সেদিন অথৈকে তুমি তুমি করে কথা বলছিল। তাহলে আজ হঠাৎ আপনি করে বলছে কেন?

“আমার পিচ্চি বেয়াইন। আসেন কোলাকুলি করি?”
অয়ন দুইহাত দুইদিকে প্রসারিত করে দিল। অথৈয়ের চোখ-মুখ শুকিয়ে গেল। অয়ন অথৈয়ের আরও একটু কাছে সরে এলো। ফিসফিস করে বলল,
“সেদিন আমাকে কী যেন বলেছিলেন পিচ্চি বেয়াইন। আমি ধলা বিলাই। আমি কিন্তু এখন ধলা বিলাইয়ের অর্থ জানি। আমি যদি ধলা বিলাই হই। তাহলে আপনি কী ধলা বিল্লি? বিলাই আর বিল্লি, হয়ে যাবে হিল্লি। হিল্লি অর্থ কী জানেন তো পিচ্চি বেয়াইন?”
“সরে দাঁড়ান বলছি, আমি দিদির কাছে যাব।”
“আপনি তো আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে আমার দাদাকে মহা যন্ত্রণায় ফেলেছেন। আপনার জন্য বেচারা নিজের বউকে কাছেই পাচ্ছে না। সারাক্ষণ আঠার মতো আপনি নাকি আপনার দিদির সাথে লেগে থাকেন। এটা তো ঠিক না পিচ্চি বেয়াইন। আজ রাতে দয়া করে আপনার দিদির সাথে ঘুমাবেন না। গেস্ট রুমে একা ঘুমাবেন। আপনি যদি একা ঘুমাতে ভয় পান। অবশ্যই আমাকে ডাকবেন। আমি আপনাকে পাহারা দেব।”

অথৈ হতভম্ব হয়ে গেল। ছেলেটা মানুষ নাকি পাষাণ? হাসিমুখে কত কঠিন কঠিন কথা বলে অথৈকে অপমান করল। এত কঠিন কথা অথৈয়ের মস্তিষ্ক সহজভাবে হজম করতে পারছে না। যেকোন মুহূর্তে কেঁদে দেবার প্রবল সম্ভাবনা আছে। না এই ধলা বিলাইয়ের সামনে কিছুতেই কাঁদবে না অথৈ। মরে গেলেও না। কান্না আটকে রাখতে রাখতে চোখদুটো লাল টকটকে হয়ে গেল। সুন্দর মুখটা শুকিয়ে পাংশুবর্ণ।
কথাগুলো বলে অয়নের এখন খুব খারাপ লাগছে। মেয়েটা বহুকষ্টে অয়নের সামনে কান্না আটকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। শেষপর্যন্ত কান্না আটকে রাখতে পারবে নাকি সঠিক বলা যাচ্ছে না। অয়ন কী সরি বলে সরে গিয়ে মেয়েটাকে কাঁদার সুযোগ করে দেবে নাকি আর একটু দাঁড়িয়ে থেকে মেয়েটার ধৈর্য পরীক্ষা নেবে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।অয়ন।
অয়ন কিছু বুঝে উঠার আগেই অয়নকে এক ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে একদৌড়ে সিঁড়ি ঘরে চলে গেল অথৈ। অথৈয়ের উনিশ বছরের জীবনে কোনদিনও কারো কাছে অপমানিত হয়নি। আজই প্রথম। তা-ও আবার অথৈয়ের ক্রাশের কাছেই কঠিন ভাবে অপমানিত হতে হলো। ইশ, এর থেকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলেও তো এতটা কষ্ট হতো না।
অথৈয়ের ফোলা ফোলা চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে রুপু বেশ অবাক হলো। বলল,

“তোর কী হয়েছে? এতক্ষণ কোথায় ছিলি তুই? তোর চোখ-মুখ দেখে মনে হচ্ছে খুব কেঁদেছিস। কেন কেঁদেছিস তুই? কেউ কী তোকে কিছু বলেছে?”
“আমি আর একমুহূর্ত এখানে থাকব না। তুই প্লিজ বাবাকে এসে আমাকে নিয়ে যেতে বল।”
“তোর কী হয়েছে অথৈ? সত্যি করে বল, এই বাড়ির কেউ কী তোকে কিছু বলেছে?”
“না। কে কী বলবে।”
“আমার কাছে একদম মিথ্যা কথা বলবি না অথৈ। কে কী বলেছে তাই বল?”
অথৈ হাসার চেষ্টা করে বলল,
“বললাম তো কেউ কিছু বলেনি। আজ থেকে আমি তোদের গেস্টরুমে থাকব।”
“হঠাৎ গেস্টরুমে থাকবি কেন?”
“এইঘরে আমার ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না রে দিদি।”
“গেস্টরুম তিনতলায়। তুই একা ঘুমাতে ভয় পাবি।”
“ভয় পাব না।”

“বললাম তো ভয় পাবি।”
“ভয় পাব না দিদি। আমি আর এখন ছোটটি নেই। তুই যদি আমাকে গেস্ট রুমে একা ঘুমাতে দিস তাহলেই আমি পরীক্ষা পর্যন্ত তোদের বাড়িতে থাকব। নাহলে চলে যাব।”
“হঠাৎ কী এমন হলো তোর? এত জেদ করছিস কেন?”
“কিছুই হয়নি। তোর যদি আমাকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা হয়। তাহলে ময়নার মা আমার সাথে ঘুমাবে।”
“কোন দরকার নেই। আমিই তোর সাথে ঘুমাব।”
“খবরদার না। আমি একাই ঘুমাব দিদি।”
“এত জেদ করছিস কেন অথৈ?”

“আমি প্রায় সারারাত জেগেই পড়ি। আমার জন্য তোর একফোঁটাও ঘুম হয় না। সারারাত জেগে থেকে আমি তো পড়ে পড়ে সারা সকাল ঘুমাতে পারি। কিন্তু তুই তো কাজ করতে করতে বিকালের আগে বিশ্রাম নেবার সময়ই পাস না। আমার জন্য না ঘুমাতে ঘুমাতে অসুস্থ হলে আমার খুব খারাপ লাগবে দিদি।”
রুপুর অথৈয়ের কথা পুরোপুরি বিশ্বাস হলো না। কেমন যে খটকা লাগছে।
অথৈ সেই যে জামাকাপড়ের ব্যাগ আর বইপত্র নিয়ে তিনতলার গেস্টরুমে ঢুকল। আর বের হলো না। সারাদিন ঘরের দরজা আটকে পড়াশোনা করে। খাওয়া, স্নান সবই ঘরের ভেতরে করে। খুব বেশি খারাপ লাগলে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভুলেও আর ছাদে যায় না। রুপু যখন সময় পায় তখনই অথৈয়ের ঘরে এসে শুয়ে-বসে থাকে। গল্প করে। গল্পের ফাঁকে উঠে গিয়ে অথৈ খুব সাবধানে ঘরের দরজা আটকে দিয়ে রুপুর সামনে এসে বসে। যেন তৃতীয় কেউ আর এইঘরে ভুলেও ঢুকতে না পারে।

অথৈয়ের কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে অয়নের। নিজেকে এখন ওর অপরাধী মনে হচ্ছে। কী দরকার ছিল মেয়েটাকে শুধু শুধু রাগাতে গিয়ে কষ্ট দেবার। সেদিন ছাদেই শেষবার অথৈয়ের সাথে দেখা হয়েছে। আর দেখা হয়নি। মেয়েটা নাকি সারাক্ষণ ঘরের দরজা আটকে দিয়ে একা একা ঘরের ভেতরে থাকে। খাবারটা পর্যন্ত কারো সাথে বসে খায় না। অয়নের সামান্য কয়েকটা কথা মেয়েটা এত সিরিয়াস ভাবে নেবে। অয়ন স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।

রুপুর বিয়ে পর্ব ১২

অয়ন অনুতপ্ত। মেয়েটার সাথে কোনভাবেই দেখা হচ্ছে না। দেখা হওয়ার কোনরকম সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। ছাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা একা হাঁটাহাঁটি করে অয়ন। বার বার ইচ্ছে করে মেয়েটির দরজায় নক করতে। সাহসে কুলোয় না। শুধুমাত্র অয়নের জন্য একটা কিশোরী মেয়ে ওদের বাড়িতে অদৃশ্য হয়ে আছে। এই ব্যাপারটা কোনভাবেই মানতে পারছে না অয়ন। লজ্জায় রুপুকেও বিষয়টা শেয়ার করতে পারছে না।

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৪