রুপুর বিয়ে পর্ব ২১
Bobita Ray
“আপনি.. আপনি এইঘরে কী করতে এসেছেন?”
“তোমাকে দেখতে এসেছি গো বেয়াইন সাব।”
“দেখা হয়ে গেছে? এবার দয়া করে বিদায় হোন।”
অয়ন গুনগুন করে গান ধরল। “একবার বিদায় দাওগো প্রাণের বেয়াইন…।”
অথৈয়ের এখন সত্যি সত্যি অসহ্য লাগছে।
“চুপ.. চুপ করুন বলছি।”
অয়ন হেসে ফেলল। বলল,
“তোমাকে দেখলেই আমার মুখ কথা বলার জন্য তুর তুর করে।”
“ইশ, কী করার ছিরি। তুর তুর আবার কী?”
“এত জেনে তোমার কাজ নেই। আমি তোমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছি। একসেপ্ট করলে খুশি হবো।”
অথৈ দায়সারা ভাবে বলল,
“আপনাকে খুশি করার প্রয়োজন বোধ করছি না।”
“প্রয়োজন বোধ যেন করো। সেই ব্যবস্থা করব। ওয়েট…”
অথৈ আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করল। প্রথম প্রথম অয়নকে যতটা ভালো লাগতো। এখন ততটাই বিরক্ত লাগে। এই বিরক্ত লাগার পেছনেই যে তীব্র ভালোলাগা লুকিয়ে আছে। তা অথৈ বুঝতেও পারল না।
অয়ন কী মনে করে যেন আর দাঁড়াল না। অথৈয়ের ঘর থেকে নিঃশব্দে চলে গেল। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেল। এককাপ চা খাওয়ালে খুব খুশি হবো বেয়াইন সাব। তুমি নিজের হাতে না বানিয়ে দিলেও বউদিকে অন্তত বলো।
রুপু স্নান করে ঘরে আসতেই অথৈ বলল,
“তোর দেবর চা খাবে দিদি। আমার কাছে চায়ের অর্ডার দিয়ে গেছে।”
“কখন বলেছে?”
“দশ মিনিট আগে।”
“তুই বানিয়ে দিতে পারলি না?”
অথৈ ভেঙচি কেটে বলল,
“আমার এত ঠেকা পড়েনাই। তোকে বলতে বলেছে। তাই বললাম।”
রুপু ভেজা চুল মুছে অয়নের জন্য চা বানাতে রান্নাঘরে চলে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে একটা দৃশ্য দেখে রুপুর চোখদুটো আঁটকে গেল। মা-বাবা খুব আমুদ করে মাছ কুটছে। মাছ কুটার ফাঁকে ফাঁকে মায়ের মাথার এলোমেলো চুলগুলো বাবা খুব যত্ন করে কানের পিঠে গুঁজে দিচ্ছে। বাবার হাতে মাছের রক্তে মাখামাখি। সেই রক্ত মায়ের কপাল ছুঁতেই মা বিরক্ত হয়ে বাবাকে ধমকাচ্ছে। আর বাবা বোকার মতো হাসছে। রুপু মুগ্ধ চোখে বাবা-মায়ের খুনসুটি দেখতে দেখতে কখন যে চোখের কোণ ভিজে উঠল টেরই পেল না। রুপু নিজের উপস্থিতি বুঝাতে কেশে উঠল। মা রুপুকে দেখে বলল,
“মাছের মাথা তোর জন্য রান্না করে দেব?”
“এখন আর মাছের মাথা আমার খেতে ইচ্ছে করে না মা।”
রুমা একগাল হেসে বলল,
“মাছের মাথা খেতে খেতে অভক্তি এসে গেছে বুঝি? অভক্তি আসবেই তো। তুই এখন কত বড় ঘরের বউ। তোর শ্বশুরবাড়িতে তো আর কোনকিছুর অভাব নেই।”
রুপু তার বোকা মায়ের কথায় মলিন হাসল। রুপুর বাবা অনিন্দ্য বলল,
“আমি তোর মাকে আজ আলু দিয়ে কাতলা মাছের মাখা মাখা ঝোল রাঁধতে বলেছি। এই রান্নাটা তোর মা যা রাঁধে না। অমৃত ফেইল। স্বাদ অনেকদিন মুখে লেগে থাকে। আমার সামর্থ্য থাকলে তোর মায়ের হাতটা সোনা দিয়ে বাঁধাই করে রাখতাম।”
রুমা কিঞ্চিৎ লজ্জা পেয়ে হেসে ফেলল। রুপু চায়ের জন্য জল গরম করতে দিল। আদা ছিলতে ছিলতে বলল,
“মা যা রান্না করো না কেন, একটু বেশি করে রান্না করো। রাতে আমার শ্বশুর এখানে খাবে।”
রুমা থতমত খেল। বলল,
“এতক্ষণে কী বলিস? আগে বলবি তো। এই তুমি বসে আছো কেন? শিগগিরই বাজারে যাও। নতুন কুটুমের সামনে তো আর শুধু মাছ দেওয়া যায় না।”
অনিন্দ্য উঠে দাঁড়াল। হাত ধুয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে নিল। রুমা বলল,
“ঘরে পোলাওয়ের চাল নেই। মনে করে এনো কিন্তু।”
রুপু কাপে চা ঢালতে ঢালতে বলল,
“মা এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। বাবাকে যাই খেতে দেবে তাই সোনামুখ করে খেয়ে উঠবে। তবে মনে করে দু পিস পেটির মাছ কড়া করে ভেজে দিও। গরম মচমচে মাছভাজা গরম ভাতের সাথে একচামচ ঘি মিশিয়ে খেতে বাবা খুব পছন্দ করে।”
বিনয় বারে বারে ফোন দিচ্ছে। রুপুর এখন বিনয়ের সাথে একটুও কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। রুপুর অবচেতন মন কী চেয়েছিল বিনয়ও আজ এখানে আসুক। আসেনি দেখেই কী এত অভিমান। বিনয়কে এখানে আনা কোন ব্যাপারই না। কিন্তু বিনয়কে এখানে নিয়ে আসার পদ্ধতিটা ভয়ংকর। বিনয়কে আনার জের ধরে যদি রুপুর শাশুড়ীমা এখানে এসে ওভার রিয়াকশন করে। তাহলে বাবা-মায়ের সামনে প্রচণ্ড লজ্জায় পড়তে হবে। কিন্তু অবুঝ মন যে মানছে না। মানব মন কখন কী চায় বোঝা মুশকিল। রুপু বিনয়ের ফোন রিসিভ করে ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলল,
“কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো? আমার কাজ আছে।”
“কী এত কাজ করছ তুমি?”
“কাজের কী আর অভাব আছে। রাতে বাবা আর অয়ন এখানে খাবে। তার বন্দোবস্ত তো আমাকেই করতে হচ্ছে।”
বিনয় চমকে উঠে বলল,
“অয়ন আর বাবা রাতে তোমাদের ওখানে খাবে মানে?”
“এখন এত মানে টানের উত্তর দিতে পারছি না। তোমারও যদি খেতে ইচ্ছে করে। তাহলে তুমিও চলে আসো।”
বিনয়েরও খুব যেতে ইচ্ছে করছে। আমতা আমতা করে বলল,
“না মানে মাকে না বলে কীভাবে যাই?”
“তো মাকে বলো। মা যদি সাথে আসতে চায় মাকেও নিয়ে আসো। এমনিতেও তো মনে হয় তোমাদের বাড়িতে রাতে রান্না হয়নি। হবে কী করে। কাজের বেটিরা যে সব ছুটিতে। যাইহোক হাতে প্রচুর কাজ। আমার এখন দম ফেলার সময় নেই। আসার ইচ্ছে হলে চলে এসো। আসার আগে আমাকে ফোন করে জানাতে ভুলো না। তোমাদের জন্য নতুন করে ভাত রাঁধতে হবে। ভাতে কম পড়লে তো আবার তোমার মা বলবে, ফকিন্নির জাতেরা নেমন্তন্ন দিয়ে এনে ভাত না রেঁধেই বসে আছে। আমার হয়েছে মহা জ্বালা।”
রুপু ফোন রেখে আপনমনে হেসে ফেলল। গাধাটা এখানে আসার লোভ কিছুতেই সামলাতে পারবে না। মাকে শুধু বলতে দেরি। মা ঝড়ের গতিতে বিনয়কে বগলদাবা করে নিয়ে এখানে এসে পৌঁছাবে শিওর। তারপরই তো আসল নাটক শুরু হবে। নাটকটা দেখার জন্য রুপু খুব উত্তেজিত বোধ করছে।
রুপুর মা এত অল্প সময়ে অনেককিছু রান্না করে ফেলল। সাদা ভাত, পোলাও, কাতল মাছের মচমচে ভাজা, আলু ভাজা, কাতল মাছের মাখা মাখা ঝোল, কাতল মাছের মাথা নিয়ে ঘন মুড ডাল, ছোট মাছের চচ্চড়ি, মুরগির রোস্ট, মুরগির মাংস কষা, পায়েস। যখন সবাই খেতে বসবে তখন শুধু গরম গরম বেগুনি ভেজে দেওয়া যাবে।
রুপু রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। রুপুর শ্বশুর গাড়ি থেকে নামতেই রুপুর মুখে হাসি ফুটে উঠল। বিধান বাবু বলল,
“চলে এলাম রে মা।”
“খুব ভালো করেছেন বাবা। দেখি সাবধানে আসুন।”
অনিন্দ্য এগিয়ে আসতেই বিধান বাবু অনিন্দ্যকে জড়িয়ে ধরল। অনিন্দ্য বলল,
“কেমন আছেন দাদা?”
“খুব ভালো আছি। আপনাদের কী অবস্থা?”
“ভালো আছি। চলুন চলুন।”
বিধান বাবু কিছুক্ষণ বসার ঘরে বসে অনিন্দ্য রুমার সাথে গল্প করল। রুপু লুঙ্গি আর গামছা এনে বিধান বাবুর হাতে দিয়ে বলল,
“বাবা চলুন হাত-মুখ ধুবেন।”
“লুঙ্গি লাগবে না মা। শুধু গামছা দাও।”
“আমি যখন পরতে দিয়েছি তখন অবশ্যই লাগবে। আমাকে তো মা ডাকেন। এখন আমি আমার ঘরের ছেলেকে তো আর প্যান্ট করে খেতে দেব না। লুঙ্গি পরে আরাম করে বসে খাবেন।”
বিধান বাবু হেসে ফেলল। মন ভালো করা হাসি। বলল,
“যথা আজ্ঞা মা জননী।”
বীথি রানীর কোমরের ব্যথাটা বেড়েছে। রাতে কিছু রান্না করা হয়নি। অবশ্য বিনয়কে ফোন করে রাতের খাবার আনতে বলে দিয়েছে। ওইতো কলিংবেল বাজছে। মনে হয়, বিনয় এসেছে। বীথি রানী দরজা খুলে দিল। বিনয়কে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠল। বলল,
“তোর বাবা আসেনি?”
“না।”
“তুই খালি হাতে এসেছিস কেন বাবা? তোকে না রাতের খাবার কিনে আনতে বললাম।”
বিনয় আমতা আমতা করে বলল,
“মা চলো আজ আমরা রুপুদের বাড়িতে যাই।”
বীথি রানী চোখ-মুখ কালো করে কণ্ঠে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
“এতরাতে ও বাড়িতে গিয়ে কী করব? থাক তোকে খাবার আনতে হবে না। সিদ্ধ ভাত করে দিচ্ছি। খেয়ে নিবি।”
“লক্ষ্মী মা, রাগ করো না প্লিজ। বাবা আর অয়ন রুপুদের বাড়িতে বেড়াতে গেছে তাই আরকি।”
বীথি রানী চমকে উঠে বলল,
“তোর বাবা আর অয়ন গেছে মানে? কোথায়…কোথায় গেছে?”
“রুপুদের বাড়িতে গেছে।”
বীথি রানী উত্তেজিত হয়ে বলল,
“কী বলছিস কী? আমাকে তো কিছু বলল না তোর বাবা।”
“তুমি যখন যেতে চাচ্ছ না…।”
“আমি যেতে চাচ্ছি না মানে? আমি যাব তো। এখুনি যাব। তুই এখানেই দাঁড়া। আমি কাপড় পাল্টে আসছি। কতবড় সাহস আমাকে কিছু না বলেই ধৈ ধৈ করে চলে গেছে।”
বীথি রানী কোমরের ব্যথা ভুলে হন্তদন্ত পায়ে ছুটে গেল।
গাড়িতে বসে বিনয় বলল,
“মা, রুপুদের বাড়িতে প্রথম যাচ্ছি আমরা। খালি হাতে যাওয়া ঠিক হবে না বোধহয়।”
“কিচ্ছু কেনার দরকার নেই। তুই কী ভেবেছিস তোর বাবা ওই বাড়িতে খালি হাতে গেছে। তোর বাবা আর তুই কী আলাদা? একজন নিয়েছে তাতেই হবে।
এই ড্রাইভার তুমি জোরে জোরে গাড়ি চালাও।”
বীথি রানীর মনে শান্তি নেই। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ কেন রুপুর বাপের বাড়িতে গেল ওরা? নিশ্চয়ই ওই ডাইনির প্রচারণায় পড়ে গেছে। ডাইনিটা একদণ্ডও শান্তিতে থাকতে দেয় না বীথিকে।
বিনয় ভয়ে ভয়ে বলল,
“মা প্লিজ শান্ত হও।”
“আমি শান্তই আছি। তুই চুপচাপ বসে থাক।”
“মা আমার একটা রিকুয়েষ্ট রাখবে?”
“তোর আবার কী রিকুয়েষ্ট?”
“প্লিজ মা রুপুদের বাড়িতে গিয়ে বাবার সাথে সবার সামনে চেঁচামেচি করো না।”
“তোর কী ধারণা আমি একাই চেঁচামেচি করি? তোর বউ যে আমার পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে। তখন তোর চোখে পড়ে না?”
বিনয় হতাশ হয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ের মাথা এখন প্রচণ্ড গরম৷ বিনয়ের এখন খারাপ লাগছে। বাবা যে রুপুদের বাড়িতে বেড়াতে গেছে কথাটা হুট করে মাকে বলা উচিত হয়নি।
বীথি রানী গাড়ি থেকে তরতরিয়ে নেমে গেল। বিনয় তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে বলল,
“মা ওইদিকে না এইদিক দিয়ে যেতে হয়।”
বীথি রানী ঠিক পথে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“চিনি চিনি। আমাকে এত চেনাতে হবে না।”
“মা ওটাও ভুলপথ। এইদিকে এসো।”
বীথি রানী চোখ গরম করে বিনয়ের দিকে তাকাল। বিনয় চুপচাপ হাঁটতে লাগল।
বিধান বাবু অয়ন অনিন্দ্য একসাথে খেতে বসেছে। রুমা রুপু ওনাদের পাতে খুব যত্ন করে এটা-সেটা তুলে দিচ্ছে। তখনই কলিংবেলটা বেজে উঠল। রুপু অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হেসে ফেলল। রুপুর কেন জানি বীথি রানীর এখানে আসার কথাশুনে খুব এক্সাইটেড লাগছে। রুপু বলল,
“মা তুমি খেতে দাও। আমি ওইদিকটাই দেখে আসি এতরাতে কে এলো আবার।”
রুপু দরজা খুলে বীথি রানীকে দেখে সব কয়টা দাঁত বের করে হেসে দিল। রুপুর হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে রাগে বীথি রানীর গা জ্বলে গেল। রুপু অবাক হওয়ার ভান করে টেনে টেনে বলল,
“মা আপনি এসেছেন..? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না..
কী সৌভাগ্য আমার৷ গরীবের বাড়িতে অবশেষে বড়লোকের আগমন।”
বীথি রানী চাপা কণ্ঠে বলল,
“বিনয় তোর বউকে আমার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলতে বল।”
“ইশ, আমি আবার অভদ্রতার কী করলাম। মা দেখে যাও তোমাদের বেয়াইন এসেছে।”
বীথি রানী ঘরে গিয়ে দেখল, বিধান বাবু কব্জি ডুবিয়ে খাচ্ছে। খাওয়ার ফাঁকে যেন আবার কী নিয়ে হাসাহাসিও করছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো বিধান বাবু লুঙ্গি পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে খেতে বসেছে। ঠিক যেভাবে বাড়িতে বসে খায়।
মনের দুঃখে বীথি রানীর চোখে জল এসে গেল। বিধানবাবু ভাজা মাছে কামড় দিয়ে অসময়ে বীথিকে দেখে চমকে উঠল। মাছ টুকু মুখেই রয়ে গেল। চিবুতেও পারছে না। গিলতেও পারছে না। ফেলতেও পারছে না। বেশ বেকায়দায় পড়ে গেল। বিড়বিড় করে বলল, বীথিকে আবার এখানে খবর দিয়ে কে আনল। বিধানবাবু হাসার চেষ্টা করে বলল,
“বীথি তুমি এসেছ? আসলে হয়েছে কী বলোতো..
“হ্যাঁ দেখতে এলাম ছেলের শ্বশুরবাড়িতে তোমাকে কেমন অ্যাপায়ন করছে।”
রুপুর বাবা হাসিমুখে বলল,
“কেমন আছেন দিদি?”
বীথি রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আমার আর ভালো থাকা। ভালো থাকতে কপাল লাগে। আমার হলো গিয়ে পোড়া কপাল। নাহলে আমার ছোটো ছেলে ছেলের বাবা আমাকে না বলে নতুন কুটুমবাড়িতে বেড়াতে আসে নাকি। অয়ন তুইও তো আমাকে কিছু বললি না। বললে কী তোদের এখানে আসতে দিতাম না আমি। কখনো কী তোদের কোথাও যেতে মানা করি? নাকি তোর বাবা আমাকে এখানে নিয়ে আসার ভয়েই কিছু বলেনি।”
রুপু বলল,
“ছিঃ ছিঃ এসব কী বলছেন মা। ওনারা না বললে কী হবে। আমি তো আপনার ছেলেকে বলেছি। বাড়িতে আজ বড় মাছ রান্না হচ্ছে। তুমি কিন্তু অবশ্যই মাকে নিয়ে আসবে। মা এখানে না আসতে চাইলেও জোর করে নিয়ে আসবে। এই তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? মাকে বলো। তোমাকে বলিনি আমি?”
বিনয় বিপাকে পড়ে গেল। রুপু এখানে মাকে নিয়ে আসার কথা বলেছে। তবে মাছের কথা কিছু বলেনি।
বিধান বাবু থমথমে পরিবেশ স্বাভাবিক করতে বলল,
“বীথি হাত-মুখ ধুয়ে বসো আমার পাশে। খেয়ে দেখো দিদি কী ভালো রান্না করেছে। কাতলামাছের মাখা মাখা ঝোলটা বিশেষ করে। এর স্বাদ বহুদিন আমার মুখে লেগে থাকবে।”
রুপুর বিয়ে পর্ব ২০
বীথি রানী মন খারাপ করে বলল,
“এভাবে তো কখনো আমার রান্নার প্রশংসা করোনি।”
বিধান বাবু বিব্রতবোধ করল। বীথিটা এমন মারমুখী হয়ে আছে কেন? মানে মানে এখান থেকে সম্মান নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেই বাঁচা যায়।
