Home রুপুর বিয়ে রুপুর বিয়ে পর্ব ২২

রুপুর বিয়ে পর্ব ২২

রুপুর বিয়ে পর্ব ২২
Bobita Ray

রুপু আন্তরিক ভাবে বীথি রানীর হাত ধরল। বীথি রানী চমকে উঠে বড় বড় চোখ করে রুপুর দিকে তাকাল। রুপু বলল,
“চলুন তো মা। আপনাকে বাথরুমটা দেখিয়ে দেই। হাত-মুখ ধুয়ে তারপর ভাত খাবেন। আমি কিন্তু এখনো আপনার জন্য না খেয়ে বসে আছি।”
বীথি রানী অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ ঝামটা দিল। এই মেয়ের ন্যাকামো দেখলে গা জ্বলে যায়।
বীথি রানী খেতে বসে এতবড় মাছের পিস দেখে চোখদুটো ছানাবড়া হয়ে গেল। কী সর্বনেশে কাণ্ড। এই ছোটলোকের জাতেরা এতবড় মাছ কোথায় পেল? বীথি রানীর মনের ভেতরে খচখচ করতে লাগল। মাছের কথাটা কী এখনই জিজ্ঞেস করবে নাকি খাওয়ার পরে জিজ্ঞেস করবে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না বীথি রানী। তবে যখনই জিজ্ঞেস করবে। জিজ্ঞেস করতে হবে খুব কৌশলে। রুপুর সামনে সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না। এই মেয়ের যে চোপা। শেষে দেখা যাবে, নিজের বাবা-মায়ের সামনেই বীথি রানীকে হাসতে হাসতে অপমান করে বসেছে। এই মেয়েকে দেখে কোন বিশ্বাস নেই বাবা।

বীথি রানী মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে খেতে খেতে রুপুর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মাছটা খেতে খারাপ না। ভালোই। এতবড় মাছ কোথা থেকে কিনলেন?”
রুপুর বাবা লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসল। কিছু বলার আগেই রুপু চট করে বলল,
“মাছটা বাবা কোথা থেকে কিনেছে। তা আপনার না জানলেও চলবে মা।”
বীথি রানী মুখ ভেংচি কেটে খাওয়ায় মনোযোগ দিল।
বিধানবাবু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। বীথি যদি ভুল করেও কোনভাবে জানতে পারে। মাছটা রুপুর বাবা না শ্বশুর কিনেছে। তাহলে এখানেই লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে দেবে। বলা যায় না। রুপুর বাবা-মাকে যা-তা বলে অপমানও করতে পারে।
বীথি রানী ভরপেট ভাত খেয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসল। রুপুর মাকে ডেকে বলল,

“ঘরে কী পান আছে?”
“আছে। আমি এখুনি এনে দিচ্ছি।”
“আপনাকে এনে দিতে হবে না। আমি নিজের হাতে পান বানিয়ে খাব। চলুন যাই।”
রুমার পিছু পিছু বীথি উঠে চলে গেল। বিধান বাবুর আবারও ভয় ভয় করতে লাগল। রুপুটা কোথায় গেল? আশেপাশে তো দেখা যাচ্ছে না।
বীথি রানী খাটের উপরে পা তুলে আরাম করে বসল। রুমাকে বলল,
“পানের বাটা নিয়ে বিছানায় উঠে আসুন বেয়াইন। আপনার সাথে তো সুখ দুঃখের দুটো গল্প করাই হলো না।”
রুমা সরল মনে বীথির পাশে গিয়ে বসল। বীথি পান সাজিয়ে মুখে দিতে দিতে বলল,
“আপনারই সুখের কপাল। যে ছেলে নাই। ছেলের মায়েদের কী জ্বালারে বেয়াইন।”
“একথা বলছেন কেন দিদি? আমার রুপু আপনাদের ঠিকমতো সেবাযত্ন করে না?”
বীথি রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আর সেবাযত্ন। আপনার মেয়ে তো…”

রুপু ঘরে আসতে আসতে লজ্জায় লাল হওয়া মুখে লাজুক হাসি ফুটিয়ে শাশুড়ীমাকে বলল,
“আমি ঠিক জানতাম মা। আপনি আমার আড়ালে আমার গুনগান করা শুরু করে দিয়েছেন। মা তোমার কোন ধারণাও নেই। আমার শাশুড়ীমা যে কী ভালো.. কী ভালো। আমাদের বাড়িতে যে আসে তার কাছেই আমার নামে গুনগান করে। রাস্তা দিয়ে অপরিচিত কোন মানুষ গেলেও তাকে ডেকে ডেকে আমার নামে কী পরিমাণ যে প্রশংসা করে মা। আমি তো লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতেই পারি না। প্রতিবেশীরা আমাকে দেখলে আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকে। ওদের হিংসে হয়। বুঝলে তো মা। আমার দিকে এমনভাবে চোখ-মুখ কুঁচকে তাকিয়ে থাকে। হয়তো বোঝার চেষ্টা করে আমি কী সত্যিই এত ভালো। নাকি আমার শাশুড়ীমা সবার সামনে আমার নামে বাড়িয়ে-চড়িয়ে বলে।”
বীথি রানীর মুখটা অপমানে থমথমে হয়ে গেল। এই কুটিল মেয়েটা খুব কৌশলে নিজের মায়ের কাছে বীথি রানীর সামনে বীথি রানীর নামে বদনাম করছে। বোকা মহিলা বুঝতেও পারছে না। কেমন দ্যাখো, দাঁত বের করে হাসছে। কোথায় মায়ের কাছে মেয়ের নামে দুটো কথা বলবে। রুপু এমনভাবে কথার মোড় ৪৮০ ডিগ্রী ভোল্ডে ঘুরিয়ে দিল। এখন চাইলেও আর রুপুর নামে বদনাম করা সম্ভব না।

রুপুর মা অর্ধেকের বেশি কাঁচা মাছ টোপলা করে দিয়ে দিল। বিধানবাবু কিছুতেই এত মাছ নেবে না। তবে বীথি রানীর খুব নেওয়ার ইচ্ছে। তবে রুপুর সামনে সরাসরি কিছু বলতেও পারছে না। বিনয়ের বাবার উপরে এখন বীথির প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হচ্ছে। মানুষটা বোকার মতো যেভাবে মাছ নেব না। মাছ নেব না করছে। শেষে দেখা যাবে, ওনারা সত্যি সত্যিই মাছ নিয়ে ফ্রিজে তুলে রাখবে। বীথি রানী আর চুপ করে থাকতে না পেরে বলল,
“তুমি তখন থেকে মাছ নেব না মাছ নেব না, করছ কেন? ওনারা যখন এত করে বলছে। মাছগুলো নিয়ে চলো।”
বিধানবাবু ইশারায় স্ত্রীকে চুপ থাকতে বলল। বীথি পাত্তা দিল না। ড্রাইভারকে ডেকে বলল,
“মাছগুলো গাড়িতে তুলে দাও।”
রুপুর মা খুশিমনে বলল,
“দাদা আমাদের না জানিয়েই এতবড় মাছ কিনে দিয়েছে। আমরা বাড়িতে মাত্র তিনজন মানুষ। এতবড় মাছ একমাসেও তো শেষ করতে পারতাম না।”
বীথি রানী চমকে উঠে বলল,
“মাছগুলো দাদা কিনে দিয়েছে মানে?”
রুমা লজ্জিত মুখে বলল,
“রুপুর শ্বশুরের কথা বলছি।”

বীথি রানীর মনের ভেতরে ছোটখাটো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেল। মনের ভেতরে শান্তি নাই। বিনয়ের বাবার কতবড় সাহস। বীথিকে না জিজ্ঞেস করেই এই এত বড় মাছটা এই ছোটোলোকদের কিনে দিয়েছে। ইশ, না জানি কত দাম নিয়েছে। আবার ভাব মারিয়ে মাছ নেব না বলছে। সবগুলো মাছই তো সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অয়ন শুকনো ঢোক গিলল। এখন আর এক সেকেন্ডও মাকে এখানে থাকতে দেওয়া যাবে না। যেভাবে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। এখানে এখন রুপুর বাবা-মা না থাকলে চোখ দিয়েই ভস্ম করে দিতো বাবাকে। অয়ন মাকে টেনে ধরে গাড়িতে উঠিয়ে বসিয়ে দিল। রুপুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে ভালো করে বিদায় নেওয়া হলো না। অয়নের তাড়াহুড়োর জন্য হুড়মুড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসতে হলো রুপুকে। বিধান বাবু স্ত্রীর পাশে বসতে ভয় পেল। এখন ছেলে-ছেলের বউয়ের সামনে কোনরকম রিক্স নেওয়া যাবে না। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসল। গাড়িটা রুপুর বাবা-মায়ের চোখের আড়াল হতেই রুপু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল, “এই শেষ। আর জীবনেও স্বয়ং যমদেবীকে এখানে ডেকে আনব না। বাপরে…”
বীথি রানী চিৎকার করে বলল,

“গাড়ি থামাও.. গাড়ি থামাও বলছি। আমি ওই বাড়িতে আর যাব না। তোরা দেখলি তো, তোর বাবার কতবড় সাহস। আমাকে কিছু না বলেই জলের মতো টাকা খরচা করে। করবেই তো। ফকিন্নি হঠাৎ করে বড়লোক হয়েছে না। ঘি তো পেটে সয়তেছে না। এখন শেষ বয়সে তোর বাবা আবার ফকিন্নি হওয়ার পথ তৈরি করতেছে।”
“ছিঃ ছিঃ সামান্য একটা মাছ কেনার জন্য ছেলেদের সামনে এসব কী বলছ বীথি তুমি?”
“আমি তোদের বাপের সাথে আর একটাও কথা বলতে চাই না। খবরদার তোর বাপকে বল। আমার সাথে যেন ভুলেও কথা বলার চেষ্টা না করে। ও সারাজীবন আমার শখ আহ্লাদ পূরণ না করে ওর মা বোন ভাইদের দুহাত ভরে দিয়ে গেছে। শখের বয়সে ওর মাথামোটা বুদ্ধির জন্য আমি কোনদিন একটা শখ পূরণ করতে পারিনাই।
এখন শেষ বয়সে এসে ছেলের শ্বশুরবাড়িতে জলের মতো টাকা খরচা করছে। হায় ভগবান। এইদিন দেখার আগে আমার মৃত্যু হলো না কেন!”
কথাগুলো বলতে বলতে বীথি রানী নিজের গলায় চার আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করার আপ্রাণ চেষ্টা করল।
এই মাছ এখন কিছুতেই পেটে হজম হবে না। অয়ন তাড়াহুড়ো করে মায়ের মুখের সামনে পলিথিন মেলে ধরল।
রুপু খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছুক্ষণ শাশুড়ী মায়ের তামাশা দেখল। বকবকানি শুনল। তারপর বিনয়কে চড়া কণ্ঠে বলল,

“তোমার মা-যে ভুল করেছে। এই একই ভুল আমি করব না। তোমার বাবা তোমার মায়ের কথা শোনে না দেখে, তোমার মা শেষ বয়সে সংসার ছাড়তে চাচ্ছে। এরপর থেকে আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু এই বয়সেই তোমার সংসার ছেড়ে যাব। তোমার বাবা যদি তোমার মায়ের কথাশুনে চলে। তাহলে তোমাকেও আমার কথাশুনে চলতে হবে। তোমার মা এরপর থেকে তোমার ব্যাপারে ভুল করেও যদি খবরদারি করার চেষ্টা করে। আমি কিন্তু সংসারে অশান্তি লাগিয়ে দেব। তোমার মা তোমার মায়ের শাশুড়ী ননদ, দেবরদের দুচোখ পেতে দেখতে পারে না। তাহলে আমি কেন আমার শাশুড়ী, দেবরকে দেখব? কেন কাজের লোকের মতো সবকাজ করে তাদের খাওয়াব? আমার এত ঠেকা পড়েনাই।”
বীথি বমি করা ভুলে বিস্ফোরিত চোখে পেছন ফিরে রুপুর দিকে তাকাল। রুপু কথাগুলো এতটাই তীব্র কণ্ঠে বলেছে। বীথি রানীর মনের ভেতরে ভয় ঢুকে গেল। মায়ের ভয় জড়ানো মুখের দিকে তাকিয়ে অয়নের প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে। অয়ন অন্যদিকে তাকিয়ে হাসি কন্ট্রোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। বিনয়ের মুখটা শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গেল। বীথি রানী বিনয়ের এতহাত জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল,
“বিনয়রে তোর বউ তো সাক্ষাৎ একটা ডাইনি। মায়ের থেকে ছেলেকে পর করে দিতে চাচ্ছে।”
রুপু বলল,

“চুপ করুন। আপনি নিজে খুব ভালো নাকি? নিজেও তো নিজের শাশুড়ীর থেকে তার ছেলেকে পর করে দিয়েছেন। আপনার কথামতো না চললে প্রতিনিয়ত সংসারে অশান্তি করেছেন। আর আমি তো আপনার জন্য ঠিকমতো সংসারই করতে পারছি না। সামান্য একটা মাছের জন্য আপনি বাবাকে আমাদের সামনে কী সব বলে অপমান করলেন? আপনার কোন ধারণা আছে? আমি কিন্তু আপনার কাছ থেকেই শিখে নিলাম মা। আপনার ছেলে যদি ভবিষ্যতে আমার কথাশুনে না চলে এরপর থেকে এরচেয়েও তিনগুণ পরিমাণ বেশি অপমান আপনার ছেলেকে করব আমি। আর আপনার ছেলের হয়ে যেই আমার কাছে সাফাই গাইতে আসবে তাকেই সাবান সোডা দিয়ে ধুয়ে দেব।”
এবার বিধানবাবু হাসি চাপতে পারল না। হাসি আটকাতে গিয়ে খকখক করে কেশে উঠল। বীথি ঠিকই বলে। এই মেয়ে সাঙ্ঘাতিক। এখন যদি বীথির একটু শিক্ষা হয়। বীথি এখন বিধানবাবুকে ছেড়ে রুপুর পেছনে লাগবে শিওর। ভয় কেটে গেছে। বাকি ঝড়ঝাপটা রুপু নিজের উপরে সেচ্ছায় নিয়ে নিয়েছে। বিধান বাবু নিশ্চিন্ত মনে সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখদুটো বন্ধ করল। এখন একটা সিগারেট খেতে পারলে বেশ হতো।
বীথি রানী ব্যাকুল হয়ে বলল,

“বিনয়..বিনয়কে তুই আমার পাশে এসে বোস বাবা।”
রুপু চাপা কণ্ঠে বলল,
“আপনার কাছে যাবে মানে! এই তুমি এখানেই চুপচাপ বসে থাকো। তোমার মা নিজেকে কী ভেবেছেটা কি। ওনি একই সাথে নিজের বরকেও হাতে রাখবে আবার নিজের ছেলেকেও হাতে রাখবে। তা হবে না। এই বয়সে নিজের বরকে নিজের হাতে রাখতে চাইলে নিজের ছেলেকে ছেলের বউয়ের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। বিয়ের শুরু থেকেই অনেক প্যারা দিয়েছে আমাকে। তুমি এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করেছ। এখন থেকে আমি আর সহ্য করব না। তোমার মাকে এখন থেকে যা যা করতে দেখব আমিও তাই তাই করব।”
বীথি রানী বিড়বিড় করে বলল,
“এই দুইদিনের মেয়েটা আমাকে এতকথা শোনাচ্ছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না কেন!”
বীথি রানী রুপুর কাছে কঠিনভাবে জব্দ হয়ে এখন নিজের চুল নিজেরই টেনে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। কী দরকার ছিল এই মেয়েটার সামনে বিনয়ের বাবাকে এতগুলো কথা শোনানো। বড্ড ভুল হয়ে গেছে। কথাগুলো তো বিনয়ের বাবাকে বন্ধ ঘরেও শোনানো যেত। ইশ, নিজের পায়ে নিজে হাতে কুড়াল মারা বুঝি একেই বলে। ভগবান কেন যে এত ধৈর্য কম দিয়েছে বীথি রানীকে।

রাস্তা উঁচুনিচু হওয়ায় বৃষ্টিতে রাস্তায় জল কাদা জমে আছে। অথৈ খুব সাবধানে পা ফেলে হাঁটছে। বৃষ্টির দিনে সাদা পায়জামা পরে বাড়ি থেকে বের হওয়া বড্ড ভুল হয়েছে। এখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তাড়াহুড়োয় ছাতা আনার কথাও মনে ছিল না। নিজের ভুলো মনের জন্য অথৈ এখন নিজের উপরে প্রচণ্ড বিরক্ত। বৃষ্টির দিনে বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে না। অথৈয়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তৃণার জন্য বের হতে হলো। তৃণা কিছু কসমেটিকস কিনবে। তারজন্য অথৈকে এই বৃষ্টির মধ্যে একপ্রকার জোর করেই বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসেছে। কেনাকানা করার পর হঠাৎ তৃণার বয়ফ্রেন্ডের সাথে তৃণার দেখা হয়ে গেল। তৃণা অতিউৎসাহী হয়ে অথৈকে ফেলে বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে ঘুরতে চলে গেছে। অবশ্য যাওয়ার আগে অথৈকেও ভদ্রতা করে ওদের সাথে যেতে বলেছিল। অথৈ রাজি হয়নি। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। ভাঙ্গা রাস্তায় জল বেঁধে আছে দেখে তেমন রিকশা দেওয়া যাচ্ছে না। যাওবা দু’একটা দেখা যায়। রিকশাওয়ালা অথৈদের বাড়ির দিকে যেতে রাজি হচ্ছে না। একজন দুজন রাজি হলেও ভাড়া চাচ্ছে তিনগুণ। এতটাকা ভাড়া দিয়ে বাড়ি যাওয়ার কোন মানে হয় না। এরথেকে হেঁটে যাওয়া ভালো। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে তখন অল্প ভাড়ায় একটা রিকশায় উঠে পড়া যাবে।

কালো কাচ দিয়ে ঘেরা গাড়িটা আচমকা এসে অথৈয়ের পায়ের সামনে জোরে ব্রেক কষতেই অথৈ ভয় পেয়ে কয়েকপা পিছিয়ে গেল। বুকে থু থু দিয়ে রাগী কণ্ঠে বলল,
“এই কুত্তার বাচ্চা। রাস্তা কী তোর বাপের? দেখে চালাতে পারিস না?”
অয়ন গাড়ি থেকে নেমে এসে অথৈয়ের সামনে দাঁড়াতেই অথৈ থতমত খেল। লজ্জিত ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে ফেলল। অয়ন হাসিমুখে বলল,
“তুমি দেখি বকাও জানো গো বেয়াইন সাব। তবে একটু ভুল হয়েছে তোমার। নো প্রবলেম। আমি কারেকশন করে দিচ্ছি। এরপর থেকে আমাকে বকতে ইচ্ছে করলে, রাগে চোখ-মুখ লাল করে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বলবে,
“এই বিধানের বাচ্চা। রাস্তা কী তোর বাপের? গাড়ি দেখে চালাতে পারিস না। নাও ট্রাই করো?”
অথৈয়ের চোখ-মুখ শুকিয়ে গেল। তবে দমে গেল না। কণ্ঠে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
“আপনি এখানে কী করতে এসেছেন?”
“বলছি। আগে গাড়িতে উঠে বসো।”
“আশ্চর্য, আমি আপনার গাড়িতে উঠে বসব কেন?”
“রাস্তায় লোক দেখিয়ে তোমার ওড়না টানাটানি করার কোন ইচ্ছে নেই আমার। তাই যা বলছি। তাই শোন..
“ আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই।”
“আমাকে অবাধ্য করো না অথৈ। একটা ভদ্রছেলে এমনিতেই শুধুমাত্র তোমার জন্য দিন দিন অভদ্র বেহায়া হয়ে যাচ্ছে।”

“আশ্চর্যতো.. আপনি শুধু শুধু মিথ্যা কথা বলছেন কেন?”
“মহা আশ্চর্যতো..তোমাকে মিথ্যা বলে আমার কী লাভ বলোতো?”
“পথ ছাড়ুন। আমি বাড়ি যাব।”
“বান্ধবীকে বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ডের হাতে তুলে দিয়ে নিজে খুব মহান সাজতে চাইছ নাকি? সব দেখেছি আমি। আমার কথা না শুনলে এখন তোমার সাথে তোমার বাড়ি গিয়ে সব তোমার বাবা-মাকে বলব আমি।”
অথৈ চমকে উঠে অয়নের দিকে তাকাল। এই উজবুকটা কতক্ষণ ধরে অথৈয়ের পিছু নিয়েছে কে জানে!
অথৈয়ের এখন একটু ভয় ভয় করছে। অয়নের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে অথৈয়ের অসহ্য লাগছে। আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিনক্রিয়েট করতেও ইচ্ছে করছে না। অথৈ দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে উঠে বসল। অয়ন নিজের চুলে বেশ কায়দা করে হাত বুলিয়ে বলল,

রুপুর বিয়ে পর্ব ২১

“এক্সকিউজমি..আমি কোন ড্রাইভার না। যে তুমি পেছনের সিটে বসবে। সামনের সিটে এসে বসো।”
“ড্রাইভার যখন না। তখন গাড়ি চালাচ্ছেন কেন?”
অয়ন ভাব নিয়ে বলল,
“কোন তৃতীয় ব্যক্তি আমাদের ভেতরে এলাউ না। তাই কষ্ট করে আমাকেই গাড়ি চালিয়ে আসতে হলো।”
অয়নের ভাবের কথাশুনে রাগে অথৈয়ের গা জ্বলে গেল।

রুপুর বিয়ে পর্ব ২৩