রুপুর বিয়ে পর্ব ২৩
Bobita Ray
“কোথায় যেতে চাও বলো?”
অয়ন খুব সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছে। অথৈ সিটে মাথা এলিয়ে দিল। দায়সারা ভাবে বলল,
“কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না।”
“তাহলে কী গাড়িতেই বসে থাকবে?”
“উঁহু.. বাড়ি যাব।”
“বাড়ি তো যেতেই হবে। তার আগে চলো। কোথাও বসে কথা বলি।”
“এত হেঁয়ালি না করে কিছু বলার থাকলে এখানেই বলুন।”
অয়ন আনমনা হয়ে বলল,
“কতকিছুই তো বলতে চাই। তুমিই তো শুনতে চাও না।”
অথৈ চুপ করে রইল। অয়ন একমনে গাড়ি চালাতে লাগল। গাড়ি চালাতে চালাতে একটা জনশূন্য আঁকাবাকা নির্জন রাস্তায় চলে গেল। হঠাৎ জোরে ব্রেক কষতেই অথৈ চমকে উঠে বলল,
“কী হলো?”
“কিছু না। গাড়ি থেকে নামো।”
অথৈ গাড়ি থেকে নামতেই জায়গাটা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। অয়ন গাড়িটা একটা লাল-সাদা রঙ করা সুন্দর ব্রিজের উপরে থামিয়েছে। ব্রিজের ঠিক গোঁড়ায় একটা বিশাল বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছে থোকা থোকা লালরঙা প্রচুর ফুল ফুটে আছে। বাসি ফুলগুলো ব্রিজের একপাশে ঝরে পড়েছে। গোধূলি বেলায় সূর্যের মিঠে আলোর সাথে লালরঙা ফুলগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যে-কেউ এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবে। অথৈ কিছু ফুল কুড়িয়ে নিয়ে আকাশের দিকে ছিটিয়ে দিতেই ফুলগুলো অথৈয়ের গায়ের উপরে এসে পড়ল। অয়ন মুগ্ধ দৃষ্টিতে অথৈয়ের অপার্থিক সৌন্দর্য মোহাচ্ছন্ন হয়ে দেখতে লাগল।
অথৈ ব্রিজে আড়াআড়ি ভাবে হাত রেখে বলল,
“আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এত সুন্দর মনোমুগ্ধকর জায়গাটায় আমাকে নিয়ে আসার জন্য।”
অয়ন চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফেলল। অথৈয়ের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“ধন্যবাদ চাই না। অন্যকিছু চাই।”
অয়নের তাকানো, কথা বলার ধরণ আজ বেশ অন্যরকম লাগছে। অথৈ যথাসম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে হাসার চেষ্টা করল। বলল,
“সন্ধ্যা হয়ে এলো। চলুন বাড়ি ফেরা যাক।”
অয়ন ব্রিজের সাথে পিঠ এলিয়ে দিয়ে দাঁড়াল। বিশেষ কায়দায় হাতে ধরে রাখা চশমা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল,
“বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে না।”
“আপনার না করলে কী হবে। আমার করছে।”
“এইমুহূর্তে তোমার ইচ্ছেকে প্রধান্য দিতে বাধ্য নই আমি।”
অথৈয়ের একটু ভয় ভয় করতে লাগল। জায়গাটা সত্যিই বেশ নির্জন। যাওবা কিছু মানুষ ব্রিজের নিচে মাঠে কৃষিকাজ করছিল। সন্ধ্যা মিলাবার আগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়ে দিয়েছে। বোকার মতো এতদূর আসা একদম উচিত হয়নি। তারচেয়ে কোন রেস্তোরাঁয় বা পার্কে বসলেও ভালো হতো। অথৈ যে ভয় পাচ্ছে। কিছুতেই অয়নকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। রাগী কণ্ঠে বলল,
“ফাজলামো করতেছেন নাকি? শিগগিরই গাড়িতে উঠুন। আমাকে ভালোই ভালোই বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তারপর সারারাত এই জঙ্গলে এসে বসে থাকবেন। আপনাকে কেউ কিচ্ছু বলবে না।”
অয়ন হেসে ফেলল। অথৈয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি আমাকে একটুও বিশ্বাস করো না। তাই না বেয়াইন সাব?”
“এখানে বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা না। রাত হলে আমার বাবা-মা আমার জন্য খুব চিন্তা করবে।”
অয়ন ব্রিজের মাথায় একলাফে উঠে বসল। অথৈ ভয় জড়ানো কণ্ঠে বলল,
“কী করছেন কী? পড়ে যাবেন তো। নামুন নামুন বলছি।”
অয়ন আবারও হাসল। প্রাণবন্ত হাসি। বলল,
“তুমি কিন্তু আমাকে নিয়ে একটুও চিন্তিত নও। অথচ এমনভাব করছ। এখান থেকে আমি পড়ে গেলে তোমার বিরাট বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে। এখন আমি যদি এখান থেকে সত্যি সত্যি পড়ে যাই। তাহলে তোমার একা একা বাড়ি যেতে অসুবিধে হয়ে যাবে। না পারবে আমাকে ছেড়ে যেতে। আর না পারবে আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে। তুমি শুধু সবসময় নিজের দিকটায় ভাবো তাই না?”
“হ্যাঁ নিজের দিকটা ভাবি। তাতে আপনার কোন অসুবিধা আছে? অনেক বকবক করেছেন। আর বকবক শুনতে চাচ্ছি না।”
অয়ন বসা থেকে লাফিয়ে নামল। হ্যাচকা টানে অথৈকে নিজের দিকে ফেরাল। অথৈ ভয় পেয়ে চোখদুটো বন্ধ করে ফেলল। অয়ন গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“আর বকবক করব না। প্রমিস।”
অয়ন অথৈয়ের হাত ছেড়ে দিয়ে অথৈয়ের সামনে হাঁটু মুড়ে বসল। দুইহাত দু’দিকে আড়াআড়ি ভাবে মেলে দিয়ে অথৈয়ের চোখে চোখ রেখে, আবেগী কণ্ঠে চিৎকার করে বলল,
“এই আকাশ, বাতাস, মাটি, কৃষ্ণচূড়া ফুল, পাখি সাক্ষী আমি তোমাকে ভালোবাসি অথৈ। প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে। এই আকাশ শুনতে পাচ্ছ? আমি অথৈ নামের এই মিষ্টি মেয়েটিকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছি।”
কথাগুলো বলতে বলতে অয়নের চোখের কোণ ভিজে উঠল। কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে ওদের কাছে ফিরে ফিরে এলো। অথৈ স্তব্ধ হয়ে একজায়গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল। ও এতটাই চমকেছে। নড়াচড়া করতে পর্যন্ত ভুলে গেল।
নিজের মনের কথা এতদিন অথৈকে বলতে না পারার যন্ত্রণায় বুকের ভেতরে গুমোট বেঁধে ছিল। আজ নিজেকে বেশ ঝরঝরে লাগছে।
অয়ন উঠে দাঁড়াল। বেশ কায়দা করে চোখে চশমা পড়ল। তারপর গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে যেতে বলল,
“চলে এসো। এখন না রওনা হলে সত্যিই বাড়িতে যেতে তোমার লেট হয়ে যাবে।”
অথৈ রোবটের মতো হেঁটে গিয়ে গাড়ির পেছনের সিটে বসল। অয়ন আর সামনে বসার জন্য অথৈকে জোড়াজুড়ি করল না। একমনে গাড়ি চালাতে লাগল। অথৈ সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে রেখেছে। ওর বুকের ভেতরে অশান্ত ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। সবকিছু কেমন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। চেনা আকাশ, চেনা পথঘাট, চেনা গাছগাছালি, চেনা পাখির ডাক। সব কেমন অচেনা লাগছে। মনে হচ্ছে, কোন এক জাদুবলে অথৈ অন্যএক ভুবনে এসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে। অয়ন শুধু নিজের একতরফা ভালোলাগা, ভালোবাসার কথাই অথৈকে জানিয়েছে। অথৈয়ের উপরে নিজের ভালোবাসা চাপিয়ে দেয়নি। মুখ ফুটে বলেওনি। তোমার উত্তরটা আমাকে জানিও। কিংবা আমাকে তোমার ভালোবাসতেই হবে। অয়নের এই র্নিলিপ্ততা অথৈয়ের মনকে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিয়েছে। কী হতো; অথৈয়ের কাছে নিজের ভালোবাসার দাবি রাখলে। তাহলেই তো অথৈ ইচ্ছেমতো অয়নকে কথা শুনাতে পারত। যা-তা বলে অপমান করতে পারত। তাহলেই তো এতবেশি খারাপ লাগতো না।
“কী এত ভাবছ বেয়াইন সাব?”
অয়ন এতটা স্বাভাবিক কীভাবে আছে কে জানে! অথৈ চুপ করে রইল। অয়ন বলল,
“আমরা গন্তব্যে চলে এসেছি।”
অথৈ হকচকিয়ে গেল। তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেল।
“সাবধানে নামো। ভালো থেকো। নিজের খেয়াল রেখো। আসি কেমন?”
অথৈ ঝাপসা চোখে অয়নের চলন্ত গাড়ির দিকে তাকিয়ে রইল। পাষাণটা একবারও অথৈয়ের কাছে ভালোবাসার দাবি রাখল না। বাসবে না ভালো। কিছুতেই এই উজবুকটাকে ভালোবাসবে না অথৈ। মুখে ওড়না চেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির ভেতরে চলে গেল অথৈ।
সকাল থেকে একটু পর পর বীথি রানীর মাথায় জল ঢালা হচ্ছে। প্রেশার আপ-ডাউন হচ্ছে। অনেকক্ষণ আগেই সন্ধ্যা মিলিয়েছে। গোটা একটা দিন বীথি রানী না খেয়ে আছে। বিধান বাবু বীথিকে খাওয়ানোর খুব চেষ্টা করছে। ফলাফল শূণ্য। বিনয়কে বীথি রানীর কাছে ফিরিয়ে না দিলে কিছুতেই অন্ন মুখে তুলবে না বীথি রানী। এই নিয়ে প্রায় ২০/২৫ বার কঠিন দিব্যি কাটা হয়ে গেছে। দিব্যি কাটার ফাঁকে ফাঁকে বিধানবাবু যখন চোখের আড়াল হচ্ছে। তখন খুব সাবধানে শুকনো ফল টুপ করে মুখে দিচ্ছে বীথি। ফল আর অন্ন আলাদা। ফল খেলে উপোস ভাঙা হয় না। যতবারই ফল মুখে দিচ্ছে। ততবারই এই কথাটা বিড়বিড় করে বলছে বীথি।
একদিনেই রুপুর দাপট বেড়ে গেছে। রুপু গতকাল রাত থেকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনয়কে বীথি রানীর ঘরে যেতে দেয়নি। আর না দুই চার ঘণ্টা বিনয়কে মায়ের রাগ ভাঙানোর বাহানায় খোশগল্প করতে দিয়েছে। বিনয় পড়েছে বেকায়দায়। রুপু এমনভাবে বিনয়কে থ্রেড দিয়েছে। রুপুর কথা উপেক্ষা করে মায়ের ঘরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না বিনয়।
বিধান বাবু বীথি রানীর পাশে বসতেই বীথি উঠে আচমকা বিধানবাবুর দুইপা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল। বিধানবাবু থতমত খেয়ে বলল,
“কী করছ কী বীথি? পা ছাড়ো।”
“তোমার দুটি পায়ে পড়ি। তুমি বললে, তোমার দুটি পা সারাজীবন আমার মাথার উপরে তুলে রাখব আমি। দয়া করে তুমি আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও।”
“তোমার ছেলে তো তোমারই আছে বীথি।”
“না নেই। নেই গো। তুমি বুঝতে পারছ না। ওই ডাইনিটা আমার কাছ থেকে আমার ছেলেকে কেড়ে নিতে চাচ্ছে।”
“তুমি ভুল ভাবছ বীথি। রুপু মা কেন শুধু শুধু তোমার কাছ থেকে তোমার ছেলেকে কেড়ে নেবে।”
“কেড়ে নিয়েছে তো। তুমি দেখতে পাচ্ছ না। কেড়ে নিয়েছে। আমার সোনার ছেলে। আমার সোনার টুকরা ছেলে বউয়ের ভয়ে আজ সারাদিন মায়ের সাথে দেখা করেনাই।”
“বিনয় শো-রুমে গেছে। এই একটু পরেই এসে যাবে। বাড়ি আসলে অবশ্যই তোমার সাথে দেখা করবে।”
“করবে না..করবে না। ওই ডাইনিটা আমার কাছে আমার ছেলেকে আসতেই দেবে না।”
“তুমি শুধু শুধু রুপু মাকে ভুল বুঝছ। লোকে শুনলে তোমাকেই খারাপ ভাববে।”
“ভাবুক। লোকের কথায় মুতি আমি। আমার ছেলে পর হয়ে গেছে। আমি লোকের মন্দ কথাশুনে আর কী করব। ওরে.. কী সর্বনাশ হলো রে আমার।”
“বীথি তুমি কিছু খেয়ে নাও। না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
“খাবো না.. খাবো না। যতক্ষণ না ওই ডাইনি আমার ছেলেকে ফেরত দিচ্ছে ততক্ষণ কিচ্ছু খাব না আমি।”
“কেন জেদ করছ বীথি?”
“তুমি আর আমার সাথে কথা কইয়ো না। তোমার আদরের বউমা তোমাদের সবার সামনে আমাকে কত অপমান করল। কত কটুকথা শোনাল। তোমরা কেউ কোন প্রতিবাদ করলা না। কেউ না।”
বিধানবাবুর এখন সত্যি সত্যি বিরক্ত লাগছে। ভুলেও বীথির সামনে বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না।
রুপু খুব সেজেছে। রুপু সেজেগুজে দরজায় নক করল। বলল,
“বাবা আসব?”
“এসো মা। হঠাৎ এত সেজেছ। কোথাও যাচ্ছ নাকি?”
রুপু শাড়ির আঁচলে হাতের আঙুল পেঁচিয়ে লাজুক কণ্ঠে মিথ্যে করে@ বলল,
“আসলে আপনার ছেলে খুব আবদার করছিল। আজ বাড়িতে এসে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে।”
বীথি রানী লাফিয়ে উঠল। ঝগড়ুটে স্বরে বলল,
“কী কী বললে তুমি? ঘুরতে যাবে? বিনয় বিনয় তোমাকে কখন এইকথা বলেছে? কোথায় আমাকে তো কিছুই বলল না। এই শুনছ? তুমি এই মেয়েটার কথা। ওরে ভগবান। তুমি কী এইদিন দেখানোর জন্য আমাকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছ।”
“মা দয়া করে এই ড্রামাগুলো আমার সামনে করবেন না। আর ময়নার মাকে আলাদা করে ভাত রান্না করতে বলছেন কেন? আপনার যদি ভাত খেতে ইচ্ছে করে। তাহলে আমি যে ভাত রান্না করেছি। তাই খাবেন।”
বীথি রানী কান্না ভুলে বিস্ফোরিত চোখে রুপুর দিকে তাকিয়ে রইল। এই ডাইনিটা সব খবর আগে আগে কীভাবে পায়।
রুপুর বাড়াবাড়ি বিনয়ের অসহ্য লাগছে। ঠাকুর না করুক। রুপুর জন্য মা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সকালেও মায়ের সাথে দেখা করে শো-রুমে যেতে দেয়নি রুপু। রাতেও মায়ের ঘরে যেতে দেয়নি। বাড়িতে আসতে না আসতেই বিনয়ের হাত টেনে ধরে মায়ের সামনে দিয়ে রুপু বিনয়কে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। বিনয়ের গলা জড়িয়ে ধরে আহ্লাদ করে বলল,
“আজ বোধহয় বৃষ্টি হবে।”
বিনয় বিরক্ত হয়ে বলল,
“বৃষ্টি হলে হবে। তাতে তোমার কী?”
“আমার আবার কী?”
“কিছু না যখন তখন এত ঢঙ করছ কেন?”
“তোমার মায়ের ঢঙ তোমার কাছে মধুর মতো লাগে। আমার ঢঙ তোমার কাছে বিষের মতো লাগছে কেন?”
বিনয় নিজের গলা থেকে রুপুর হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,
রুপুর বিয়ে পর্ব ২২
“রাত বিরাতে নটি বেটিদের মতো এত সেজেছ কেন? আমার আজ মুড নেই। বুঝতে পারছ না তুমি?”
বিনয় কথাটা বলে নিজেই চমকে উঠল। রুপু বিস্ফোরিত চোখে বিনয়ের দিকে একপলক শুধু একপলক তাকাল। তারপর চোখের জল লুকাতে ঝড়ের গতিতে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। ছিঃ বিনয় রুপুকে এত তুচ্ছ। এত নোংরা মেয়ে ভাবে? অথচ বিনয়কে দেখে মনে হয়, ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে পারে না। অথৈ ঠিকই বলেছিল, এই বাড়িতে প্রতিনিয়ত কার জন্য লড়াই করে টিকে থাকবে রুপু? যে খুঁটিটা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল। সেই খুঁটিটাই যে বড্ড নড়বড়ে। বড্ড নড়বড়ে….
