obsession vs love part 19 (2)
নিরুর কল্পনারাজ্য
সায়ন যাওয়ার পরপরই আইয়ুশ নিচে নামলো। আইয়ুশ কে নিচে নামতে দেখেই ওসমান মির্জা এগিয়ে এলেন। বললেন,
—চলে এসেছো? চলো যাওয়া যাক তবে!
পরমুহূর্তেই তিনি খেয়াল করলেন আইয়ুশের মুখের রক্তের চিহ্ন। চিন্তিত হয়ে তিনি শুধালেন,
—একি! তোমার মুখে রক্ত কেনো?
মালিহা বেগম তেড়ে এলেন ছেলের পানে। উদ্বীগ্ন স্বরে শুধালেন,
—কী হয়েছে আইয়ুশ?
আইয়ুশ মাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে তার হসতখানা ধরে কিছু বলার আগেই তিয়া বলে ওঠে,
—আরে বড়মা, ভাইয়ু আর আমাদের প্রফেসর সাহেব ফাইট করছিলো।
—ফাইট? কেনো?
আইয়ুশ মাঝে কথা বললো,
—আরে মা, এমনিই। জাস্ট মজা করছিলাম।
—মায়ের মন তোরা আর কী বুঝবি? যেদিন তোরও সন্তান আসবে সেদিন বুঝবি সন্তানের রক্তক্ষরণে বাবা-মায়ের বুকে ঠিক কতটা জ্বালা হয়।
কথাটা শুনেই আইয়ুশ অকপটে ঝিলিকের পানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ঝিলিক মোটেও এদিকটা তাকিয়ে নেই। সে গাড়িতে উঠে বসেছে। উইন্ডো সিটেই আছে। হয়তো এসব শুনছে আবার হয়তো শুনছেই না। আইয়ুশ কিছু না বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো। ছোটরা সব এক গাড়িতে। ঝিলিক অবশ্য আগের মতো বড়দের সাথেই যাবে৷ গাড়িতে উঠতেই যাবে আইয়ুশ তবে আগমুহূর্তেই ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটখানাতে সায়নকে দেখে থমকালো। ভ্রু কুঁচকে বাবাকে শুধালো,
—আব্বু? এবার কী প্রফেসর মহাশয়ও আমাদের সাথে যাবে?
—একদম ঠিক ধরেছো আইয়ুশ!
আইয়ুশ অবাক হলো। রুষ্ঠ কন্ঠে বললো,
—কিন্তু কেনো?
— কেইভার গ্রুপের সাথে যেহেতু মির্জাদের ডিল ফাইনাল হয়েছে তখন ওকে আমাদের সাথে রাখাটা বেটার তাছাড়া তোমার রাশেদ আঙ্কেল কালকেই চলে যাবেন সেহেতু আমারও তো একটা দায়িত্ব আছে। তাই সায়ন কাল থেকে কয়েকদিন আমাদের বাড়িতে থাকবে।
আইয়ুশ সায়নের পানে চাইলো একপলক। সায়ন-ই যে এমকে এই ধারণাকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে সায়ন নিজেই। হাঁটা চলার ভঙ্গি; প্রতিটি কার্যকলাপ! ইচ্ছে করেই ধরা দিয়েছে সায়ন। কিন্তু কেনো? তাদের পরিবারে ঢোকার কোনো না কোনো এক বাজে রহস্য তো আছেই। তবে সেটা কী ঝিলিকের কোনো ক্ষতি করার? নাকি তার পরিবারকে কোনোভাবে আঘাত হানার? শত্রুকে চোখে চোখে রাখা অবশ্যই কোনো ভুল কাজ হবেনা। এই ভাবনা সাথে রেখেই আইয়ুশ থমকালো। সায়নের বিদ্রুপমাখানো হাসিতে রুষ্ঠ না হয়ে গাড়িতে উঠে পড়লো। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিলো সবটা। কিছুক্ষণের মাঝেই তারা পৌঁছে গেলো মির্জা বাড়িতে। সকলেই প্রচন্ড ক্লান্ত। বিশেষ করে বড়রা। তাই আইয়ুশের ঘাড়েই সায়নকে তার রুম দেখিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পড়লো। বাকিরা যার যার জায়গা মোতাবেগ এগিয়ে গেলো। আইয়ুশ সায়নকে নিয়ে নিচতলায় থাকা গেস্টরুমে নিয়ে গেলো। দরজা খুলতেই রুম দেখে সায়ন মুখ কুঁচকে বলললো,
—উঁহুম! পছন্দ হয়নি।
আইয়ুশ দাঁত কটমট করে জবাবে বললো,
— তোর বাপের বাড়ি পাস নি যে এসব অপিনিয়ন দিবি!
সায়ন হাসে। ফোড়ন কেটে আইয়ুশকে তার অতীত মনে করায়,
— এতো তেজ আসে কোথা থেকে তোর? সপ্তাহ খানেক-ই তো হলো এর মধ্যেই ভুলে গেলি তোকে দেওয়া সেই প্রলেপগুলো?
আইয়ুশ হিসহিসিয়ে বলে,
—কেনো করছিস তুই এসব? চাই কী তোর? ভয় হচ্ছেনা তোর? ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল তুই; একটা টেরোরিস্ট। তোকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুরো গোয়েন্দা সংস্থা। আমি যদি গিয়ে বলে দিই?
অট্টহাসিতে লুটিয়ে পড়ে সায়ন। হাসতে হাসতে তার দম আঁটকে আসে। মুখাবয়ব রক্তিম হয়। কোনোরকম হাসি থামিয়ে বলে,
—কে? তুই? তুই বলবি? তোর কাছে প্রুফ আছে কোনো?
আইয়ুশ থমকালো। সত্যিই তো, তার কাছে কোনো প্রমাণ বাস্তবিক-ই নেই। সায়ন তার কথার সাথে আরও কিছু সংযুক্ত করে,
— তুই জানিস? তোর প্রতিটা কান্নার শব্দ আমি কতটা অনুভব করি? আমাকে কতটা পৈশাচিক আনন্দ দেয়? ইউ আর নাথিং জাস্ট আ টয় অফ মাইন। বেশি উড়িস না; তোর প্রাণপাখি কিন্তু আমার হাতেই।
—ইউ ব্লাডি…
আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই সায়নের সাবধানী স্বর ভেসে আসে,
—উঁহু! ডোন্ট মি. মির্জা। ঝিলিককে যদি তোর বাঁচাতেই হয় তবে তোকে আমার কথাতেই ওঠ বস করতে হবে।
থমকায় আইয়ুশ। ঝিলিকের নিষ্পাপ মুখশ্রী ভেসে ওঠে মানস্পটে। থেমে যায় সে। তা দেখে সূক্ষ্ম হাসে সায়ন। ‘চু’, ‘চু’ আওয়াজ তুলে বলে,
— এই এমকের ফাঁদ থেকে তোর মুক্তি নেই এতো সহজে।
হাসতে হাসতে কথাগুলো বলে সায়ন। আইয়ুশ বেরিয়ে আসতে চায়। তার আগেই সায়ন বলে,
—আহারে! না ঘরওয়ালির কাছে যেতে পারছিস আর না তো বাহারওয়ালির কাছে। তোর পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি সত্যিই মর্মাহত।
আইয়ুশ কানে নেয়না সায়নের কথা৷ একপলক কঠোর দৃষ্টি প্রয়োগ করেই বেরিয়ে যায়। আবারও উন্মাদের মতো হাসে সায়ন। যেনো আইয়ুশের এই অসহায়ত্বে সে প্রচুর পুলকিত।
মধ্যরাত তখন। ঝিলিক সম্পূর্ণ নিদ্রায়। হুঁশ নেই একদমই। বেঘোর ঘুমে নিমগ্ন। কেও একজন খুব সন্তপর্ণে তার রুমের কাঁচের জানালা ভেদ করে রুমে ঢুকছে এটা সে টেরই পেলোনা। দীর্ঘদেহী পুরুষটির ছায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে ঝিলিকের পানে। এক পর্যায়ে সেই ছায়ামানব ঝিলিকের সন্নিকটে এসে পৌঁছায়। কালো পোশাকে সাথে মাস্কে আবৃত সেই পুরুষটির নিগূঢ় কালো অক্ষিকোটর। টিমটিমে আলোর উপস্থিতে পরিলক্ষিত হলো আইয়ুশের সুস্নিগ্ধ আঁখিদ্বয়। আইয়ুশ হাঁটু গেঁড়ে মেঝেতে বসে। চোখদুটো ঘুমন্ত ঝিলিকের পানে। ঝিলিকের ঘুমন্ত চেহারার পানে একদৃষ্টে চেয়ে আইয়ুশ ধীরস্বরে আওড়ালো,
—মাশাল্লাহ!
অতঃপর তার চোখ গেলো ঝিলিকের উদরে। অমনিই বক্ষস্থল কেঁপে উঠলো তার। কাঁপা হাতে স্পর্শ তার উদর। কিছুক্ষণ কেবল শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ওখানে থাকা তার রক্তের দিকে। তার সন্তান; তারই অংশ–অথচ যেনো যোজন যোজন দূরত্ব তাদের মাঝে। সামান্য ছোঁয়ার অধিকারও তার নেই। সৃষ্টিকর্তার এ-কেমন পরীক্ষা এটা? আইয়ুশ মাথা এগিয়ে অধরযুগলের স্নিগ্ধ পরশ আঁকলো ঝিলিকের উদরে। আলতো করে মুখ গুঁজে কান পেতে কথোপকথন করতে চাইলো নিজের অনাগত সন্তানের সাথে। মনে মনে যেনো পিতৃত্বের অন্যতম এক সংযোগস্থল গড়তে চাইলো,
— আমার চ্যাম্প। কেমন আছে সে? পাপা খুব খারাপ তাই না? মাম্মামকে কতো কষ্ট দেয়। আমার বাচ্চাটা বোধহয় তার পাপাকেই খুব বেশি ঘৃণা করে তাইনা? পাপার-ইতো দোষ; ক্ষমা করোনা তুমি একদমই পাপাকে। তবে আরেকটুখানি অপেক্ষা করবে তো পাপার জন্যে? পাপা ঠিক তোমাকে আর মাম্মাকে সেইভ করে নিবে। ততদিন মাম্মামের সাথে স্ট্রং থাকবে তো বাচ্চা আমার? পাপার সাথে থাকবে তো? হুম? আমরা তিনজন মিলে ফাইট করবো, কেমন? আর কিছুদিন বাচ্চা, তারপরই পাপা তোমাকে প্রতিদিন ছুঁয়ে দিতে পারবে; আদরে ভরিয়ে দিবে। পাপা খুউউব ভালোবাসে তোমাকে!
আইয়ুশের এসব পাগলামোর মাঝেই নড়েচড়ে উঠলো ঝিলিক। তড়িতে সরে আসলো আইয়ুশ। তবে ঝিলিকের ঘুমন্ত হাত গেলো নিজের উদরে থাকা আইয়ুশের হাতের ওপর। আইয়ুশ সাবধান হলো। ঝিলিকের ঘুমন্ত মুখ দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলো। নিজের পুরুষালি হাতের ওপর ঝিলিকের হাতের স্পর্শে তার চোখদুটোয় জল জমলো। নিজমনে আওড়ালো,
—কতকাল তোমায় ছোঁয়া হয়না, প্রাণ!
অতঃপর চোখে মাঝে তারারা ঝলমল করে; হাসির অল্প ঝিলিক ফুঁটে ওঠে তার রক্তাভ লাল ঠোঁটে। ঝিলিকের হাত নিজের হাতের ওপর দেখে হঠাৎ তার তাদের পরিপূর্ণ এক সংসারের কথা মন হয়। অস্ফুট স্বরে ধীমি কন্ঠে আওড়ায়,
—দেখলে তো পাপা– মাম্মামও কিন্তু আমাদের সাথেই। মাম্মাম পাপাকে যতই আঘাত করুক না কেনো; পাপা তবু তোমার মাম্মামকে ভালোবাসে। তোমার পাপা এসবের যোগ্য!
আইয়ুশের ইচ্ছে হয়না এমন এক সুখকর সময়ের চক্র হতে বের হতে; তবে সে তো আর এভাবে থাকতে পারেনা৷ আইয়ুশ অতি সাবধানে সরিয়ে আনে নিজের হাত। ঝিলিকের বাচ্চাসুলভ; ঘুমন্ত মুখশ্রীর পানে তাকিয়ে মেঝেতে খুলে রাখা ক্যাপটা পড়ে নিজেকে আড়াল করে নেয় সম্পূর্ণ। যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। মনে মনে বলে,
—শীঘ্রই সব প্রমাণ নিয়ে তোমার দাড়গোঁড়ায় ফের হাজির হবো, প্রাণ আমার! এখন বলার সুযোগ থাকলে বোধহয় আমার চেয়ে সুখী মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি হতোনা।
বেরিয়ে যায় আইয়ুশ। আইয়ুশ বেরোনোর পরপরই আচমকা ঘুম ভগ্ন হয় অষ্টাদশী রমণীর। তড়িতে সে আশপাশটা পর্যবেক্ষণ করে খুব মনোযোগে। এখনো শরীরের প্রতিটি লোম খাঁড়া হয়ে আছে। খুব করে কারও স্পর্শ সে অনুভব করেছে।
নাহ! কাঙ্ক্ষিত পুরুষটি কোথাও নেই। ব্যর্থ হয় ঝিলিক। আবারও কী মতিভ্রম হলো তার? মাথার চুল খামচে ধরে সে। আইয়ুশ নামক ব্যক্তিকে কোনোভাবেই সে মন-মস্তিষ্ক থেকে বের করতে পারছেনা। বিড়বিড়িয়ে আওড়ায় ঝিলিক,
— কেনো এমন মনে হচ্ছে বারংবার–তুমি আমার আশেপাশেই ছিলে! তোমার স্পর্শের সেই অনুভূতি যা আমার ঘুমন্ত মস্তিষ্ককে জাগিয়ে তুলেছে। অথচ চোখ মেলতেই আবারও তুমি হারিয়ে গেলে সেই ক্রুর বাস্তবতায়।
চুল খামছে ধরে ঝিলিক। ফের বলে,
— আমি কী পাগল হয়ে যাচ্ছিনা দিনে দিনে? প্রতিটি স্থানে আমি তাকে কল্পনায় জড়াচ্ছি অথচ আমি তার জল্পনাতেও নেই। এটা তার কেমন থাকা যে থাকাতে আমিই নেই?
ঝিলিক যেনো যতবার ভাবে এসব নিয়ে সে মোটেই ভাববেনা তত মস্তিষ্ক তার সামনে আইয়ুশকেই উপস্থাপন করে৷ ঝিলিকের নাসারন্ধ্রে হঠাৎই একটি সুবাস এসে বারি খেলো। শিহরণ জাগলো শরীরে। ঝিলিক এক ঝটকায় চিনে ফেললো এই পারফিউমের গন্ধ। তবে কী তার ভাবনা-ই ঠিক? না না! এটা কী করে হতে পারে? মস্তিষ্ক তার ভাবনাকেই কটাক্ষ করে যেনো নিজের কথারই ফোড়ন কাটে সে,
—হাহ! কেনো আসবে সে? কী প্রয়োজন? যার কোথাও আমি নেই; উদ্ভ্রান্ত আমি আমার সর্বাঙ্গে তাকে খোদাই করে রেখেছি। হাস্যকর!
নিজেই হাসে ঝিলিক। সময় পরখ করে বুঝতে পারে এখন প্রায় মধ্যরাত। তিনটে বেজে দশ মিনিট। ক্রেভিংস হলো ওর কিছু খাওয়ার। নিজে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। হাতরে ওড়না খুঁজে বের করলো। অতঃপর রওনা হলো নিজ উদ্দেশ্যে।
— বস, আমাদের পতেঙ্গার মাঝসমুদ্রে যে কার্গো জাহাজ ছিলো সেখানকার কন্টেইনারগুলো–ওসব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এখন কী করবো?
ওপাশ থেকে কারো রূর স্বর ভেসে এলো–যেনো সে কোনো এক যন্ত্রমানব। সায়ন তীর্যক হাসলো তার কথা শুনে। অনগোয়িং ভিডিও কলে সে। হাত মাছি নাড়ানোর ন্যায় করে মুখ কুঁচকালো। বললো,
—এসব ছাড়ো! তার আগে বলো, ম্যাভিয়াস কেইভার হয়ে কেমন লাগলো, নিকোলাস?
ওপাশে থাকা পুরুষটি হাসলোনা। গম্ভীর কন্ঠেই জবাব দিলো,
— আপনার বুদ্ধির তুলনা হয়না বস! সত্যিকারের অর্থেই ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট আমার পেছনে পরে আছে। ওরা ম্যাভিয়াস কেইভারকে নিয়ে ইনভেস্টিগেট করছে। যাকে কেও কখনো দেখেইনি।
তার জবাবে হেসে উঠলো সায়ন। হাতে থাকা দামী অঙ্গুরীটি মধ্যমা-তর্জনী-বৃদ্ধা-বৃদ্ধা আঙ্গুলের মাঝে বেশ দক্ষ ভঙ্গিতে ঘোরাতে ঘোরাতে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে জবাব দেয়,
— আই নিউ ইট। গর্দভের দল সব। আসল ম্যাভিয়াস কেইভারকে তো কবেই টপকে দিয়েছি। ক্রিমিনাল ডিপার্টম্যান্ট থেকে কিছু খুঁজলে ওই বাস্টার্ডটার ব্যাপারে কিছুই পাবেনা তেমন। ভালো ছিলো বড্ড। কিন্তু কী আর করার! এমকের সুখের জন্য ওদের তো মরতেই হবে। ইশ! আনম্যারিড ছিলো, নাহলে আরও কয়েকটাকে মারতে পারতাম। হোয়াট্যাভার, এখন তুমি কেইভার গ্রুপের হয়ে সারা বিশ্বে ব্ল্যাক মানি সাপ্লাই করবে। সামনে থেকে তা কেবল জাঙ্ক ফুডের ফ্যাক্টরি মনে হলেও ভেতর থেকে তা হবে কালো ব্যবসার অন্যতম এক মাধ্যম। এমকের রাজ এবার সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরবে।
ওপাশে থাকা পুরুষটি উপর-নিচ মাথা নাড়লো একবার। গম্ভীর হয়ে সকল কিছু শুনলো। তবু মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খেলো। দ্বিধান্বিত স্বরে প্রশ্ন করেই বসলো,
— তাহলে মনস্টার কিং কেনো-ই বা আইয়ুশের মতো একটা সাধারণ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখলো? চাইলেই তো আপনি ওকে মেরে দিতে পারেন।
সায়ন আয়েশ করে বসে এবার আরও। ডিভানের উপরিভাগের একপ্রান্তে হাত রেখে হাসে। পাশ থেকেই একটা গ্লাস উঠিয়ে তুলে ধরে চোখের সামনে। নীল চোখের গভীর সেই মানব সেই কাঁচের গ্লাসের ভেতরে থাকা পানিতে তীক্ষ্ণ নজর নিবিষ্ট করলো। পুরুষালি কন্ঠে জবাব দিলো,
— এতো সহজে মারলে আমার প্রতিশোধের কী হবে নিকো? তাহলে তো আমি এতোদিনে আমার কাজলনন্দীনিকে স্পর্শ করার অপরাধে ওকে টুকরো টুকরো করে কেটে আমার চার্লিকে খাওয়াতাম। ওকে আমি সেই যন্ত্রণা দিতে চাই যে যন্ত্রণা কোনো এক কালে আমিও ভোগ করেছি।
—তাহলে আপনি ধরা দিলেন কেনো ওনার সামনে?
— আমাকে তো একদিন না একদিন ধরা দিতেই হতো। শত হোক আমাদের ভেতরকার সম্পর্ক কত মজবুত বলো?
নিকোলাস এতক্ষণে ক্ষীণ হাসে। মৃদু হেসেই সেই ঝিলিক গায়েব হয়। বলে,
—উঁহু! উদ্দেশ্য ছাড়া মনস্টার কিং কোনো কাজ-ই করেনা।
সায়ন অল্প হাসে। বলে,
—এজন্যই তোমাকে আমার এতো পছন্দ নিকোলাস। ও-ইতো আমার দাবার সবচেয়ে বড় গুটি। ওর হাতে কেবল আর কয়েকদিন-ই সময় আছে। ওকে সামনে রেখে আমি আমার সবচেয়ে বড় অস্ত্র পাচার কার্যক্রম চালাবো। কাজে লাগবে ওকে। এমনি এমনি তো আর ওকে পরিচয় দিইনি। ও আমার সবচে বড় গুটি; ওকে আমি তিলে তিলে শেষ করবো। এই মির্জা বংশের কেও বাঁচবেনা আমার হাত থেকে!
কথা শেষ হতেই গ্লাসখানা ভেঙে গেলো তার হাতের অসহ্য চাপে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝড়তে লাগলো। অথচ সেসব নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই একদমই। রক্তাক্ত চোখদুটো ওই ভাঙা কাঁচের টুকরোর পানে চেয়ে। নিকোলাস হঠাৎ পরিস্থিতি ব্যতিক্রম বুঝে প্রসঙ্গ পাল্টায়। বলে,
—তাহলে ঝিলিক….
শেষ করতে পারেনা কথাখানা নিকোলাস। সায়ন নিজের নীলাভ আঁখির ঝলসানো নজরে থামিয়ে দেয় নিকোলাসের থমথমে মুখে চলতে থাকা কতা। নিকোলাস থেমে যায়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধীর ভঙ্গিতে মাথা নোয়ায়। বলে,
—ক্ষমা করবেন বস।
সায়ন কেমন হিংস্রতায় ফোসফোস করলো। রক্তাক্ত সেই হাত নাকে ঘঁষে নিজেকে সংবরণ করতে করতে বললো,
— তোমার জায়গায় অন্য কেও হলে তার হৃদপিণ্ড থাকতো আমার হাতে। নিজেকে সামলাও!
বলেই ফোন কাটলো সে। রাগ যেনো রন্ধ্র ভেদ করে উপচে পড়ছে।
obsession vs love part 19
নিকোলাস! রাশিয়ার অন্যতম কুখ্যাত মাফিয়া গ্রুপ– রেন্দ্রো এর লিডার আর বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল এমকে ওরফে মনস্টার কিং এর ডান হাত। সকল কালো কার্যক্রমের একমাত্র সাথী। আরও এক সম্পর্কে অবশ্য তাদের রাখা যায়। যা কেবল তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এমন সম্পর্ক যা সত্যিই বিরল।
সায়ন নিজেকে সামলাতে রুম থেকে বেরোলো। অথচ বেরোতপই দরজার অপরপ্রান্তে ঝিলিককে দেখতে পেলো। ঝিলিককে দেখে সায়ন হতবাক হলো। ও কী সব শুনে ফেলেছে…..???
