Home obsession vs love obsession vs love part 19

obsession vs love part 19

obsession vs love part 19
নিরুর কল্পনারাজ্য

‘ম্যাভিয়াস কেইভার’ সম্পূর্ণ বিজনেস টাইকুনদের মাঝে যার র‍্যাঙ্ক রয়েছে টপ ফাইভে। যার সাক্ষাৎ আজ অব্দি খুব কম-মানুষ ই পেয়েছে সে নাকি মির্জাদের সাথে একটি প্রজেক্ট ডিল করতে চায়। তাও আবার নিজ থেকে? ব্যাপারটা অদ্ভুদ ঠেকলো আইয়ুশের নিকট। আইয়ুশ পাশ কাটিয়ে তাদের সামনে গেলো। সঠিকভাবে পরখ করে নিলো ম্যাভিয়াস কেইভারকে। পুরুষটিকে…আগেও কোথাও দেখেছে আইয়ুশ তাকে! তার হাতে করা সেই বড় সাপের মতো পেঁচানো ট্যাটুখানা-ই তার প্রমাণ। আইয়ুশ চোখ ঘুরিয়ে আশপাশটা বড্ড শান্ত দৃষ্টিতে দেখে নিলো। ওপরতলার বড় বড় সকল রুম। আইয়ুশ গম্ভীরমুখে এগিয়ে গেলো ম্যাভিয়াসের পানে। হাত বাড়িয়ে বললো,

—হাই, আ’ম আইয়ুশ মির্জা। মির্জা’স গ্রুপের সিইও।
রগরগা ম্যাভিয়াসের ঠোঁটের কোণে খেলে গেলো তীর্যক রেখার সূক্ষ্ম হাসি। আইয়ুশের নজর তাও এড়ালোনা। উঁহু! এই লোক কখনোই এমকে হতেই পারেনা। এমকে কখনোই এতো সহজে জনসম্মুখে থাকতে পারেনা। অন্তত আইয়ুশের তুখর মস্তিষ্ক এটা মানতে পারছেনা। এতো সহজে এমকে ধরা দিবেনা। এটা কেবল বিভ্রান্তি। ম্যাভিয়াস কেইভার নামকে সম্মুখে রেখে পেছনে এমকে’র সকল কার্যক্রম চালানোর অন্যতম সূক্ষ্ম বুদ্ধি। আইয়ুশ এ ফাঁদে পা দিলোনা। ওর মস্তিষ্ক অনেককিছুই হিসেব করে নিলো। এ ও হিসেব করে নিলো–এখানেই এমকে আছে।
আইয়ুশ ম্যাভিয়াস কেইভার এবং সায়নের পানে তাকালো। সায়ন..তার কিসের কাজ এখানে? সায়নের পানে দ্বিধান্বিত দৃষ্টে চেয়েসে শুধালো,

—আপনি..মি. সায়ন আপনি এখানে?
সায়ন হাসলো মৃদু। পৌরুষ দীপ্ত কন্ঠে ছুঁটলো তার শব্দ,
—কেইভার গ্রুপের অন্যতম প্রধান একজন। এই গ্রুপের ৫০% শেয়ার আমার ড্যাডের। তাই আমি এখানে।
ম্যাভিয়াস তাকালো সায়নের দিকে। চোখে তার কৌতুকের হাসি। উচ্চতায় তারা তিনজনই প্রায় সমান সমান। আইয়ুশের নজরে অন্যকিছু। পাশ থেকে একজন এলো, এসেই বললো,
—আরে, ওসমান কেমন আছো? কতদিন পর দেখা তোমার সাথে।
ওসমান মির্জা বহুদিন পর তার বন্ধু রাশেদকে দেখে অবাক হলেন সাথে চিত্ত সন্তুষ্ট হলো এতোদিন পর নিজের এতো পুরনো বন্ধুকে দেখতে পেয়ে। রাশেদ চৌধুরী এসেই জড়িয়ে ধরলেন তাকে। ওসমান মির্জাও সাদরে গ্রহণ করলেন তাকে। শাহদাদ মির্জা এবং শাহমীদ মির্জা চিনতে পারলেন না তাদের বড় ভাইজানের এই বন্ধুকে। আইয়ুশেরও একই হাল। সে এই লোককে চিনে উঠতে পারলোনা। বর্তমানে সকল হিসেব সে গুলিয়ে ফেলছে। [লেখিকারও একই অবস্থা]
আইয়ুশ বাজপাখির নজরে সবকিছু কেবল অবলোকন করতে লাগলো। রাশেদ চৌধুরী বললেন,

—আইয়ুশ, মনে আছে আমাকে? অবশ্য কারোরই মনে থাকার কথা নয়। আমি তোমার বাবার বিজনেস পর্টনার ছিলাম। তুমি তখন খুব ছোট ছিলে; অফিসে ওসমান তোমাকে মাঝে মাঝে আনতো। মনে নেই হয়তো।
আইয়ুশ দ্বিধায় হাসে। বলে,
—জ্বী আঙ্কেল।
রাশেদ চৌধুরী সায়নের পানে তাকিয়ে বলে,
—মিট মাই সন। সায়ন চৌধুরী।
সায়ন হাসলো সূক্ষ্ম। ম্যাভিয়াসের পানে তাকিয়ে রাশেদ চৌধুরী আবারও বললেন,
—মিট মাই এনাদার সন। সে যদিও আমার সন্তান নয়; বিজনেস পার্টনার। তবে ছেলের বয়সী তো!
সকলে হেসে উঠলো কেবল তিনটে মুখ ছাড়া। আইয়ুশ ব্যস্ততায় ও চোখ ঘুরিয়ে তাকালো ঝিলিকের পানে। তাকে এখানের মধ্যে দেখা গেলোনা। আইয়ুশের ভ্রু দুটো কুঁচকে গেলো। অবচেতন মন অনেক অনেক বাজে কিছুও ভেবে বসলো। ম্যাভিয়াস আর সায়নকে বাদ দিয়ে সে চলে গেলো ঝিলিককে খুঁজতে। তিয়া-তোতাকে একসাথে দেখে শুধালো,

—এই, ঝিলিক কোথায়?
তারা এতক্ষণ ম্যাভিয়াস আর সায়নকে নিয়ে আলোচনায় মশগুল ছিলো। ঝিলিক তো তাদের সাথেই ছিলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,
—জানিনা তো ভাইয়ু, এখানেই তো ছিলো।
ঐশিও পাশেই ছিলো। সে বললো,
—আশেপাশেই কোথাও হবে হয়তো!
অনতিদূরে সাঁঝকে দেখা গেলো। নির্ঝরকেও। কেবলমাত্র ঝিলিক ছাড়া। আইয়ুশের চিন্তিত মস্তিষ্ক রাগে কেঁপে উঠলো। টানাটান পেশিবহুল ফুলে ফেঁপে উঠছে। মুখাবয়ব রক্তিম হচ্ছে। আইয়ুশ মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত আশপাশটা খুঁজে দেখলো। উঁহু! কোথাও নেই। আইয়ুশের এমন হন্তদন্ত ভঙ্গিতে ম্যাভিয়াস এবং সায়ন একে অপরের পানে তাকিয়ে মৃদু হাসলো। আইয়ুশ কী মনে করে দোতলা পেরিয়ে ট্যারেসে গিয়ে থামলো। ঝিলিকের অবয়ব দৃশ্যমান হতেই সে দম ছাড়লো। মেয়েটা হুটহাট এমনসব কান্ড করে বসে! আইয়ুশ দু’কদম এগোলো। বাহিরের শোরগোল পেরিয়ে দুজন মানব-মানবী আকাশের নির্মল ছায়ায়! আইয়ুশ খানিকটা রাগত্ব স্বরেই শুধালো,

—তোমার কাণ্ডজ্ঞান বলতে কিচ্ছু নেই? এখানে এভাবে কাওকে না বলে এসেছো কেনো?
ঝিলিক পাশ ফিরলো। এক ভ্রু উঁচিয়ে টানটান গলায় বললো,
—কেনো? আপনার তাতে কী?
আইয়ুশ সম্পূর্ণ অন্যরূপে রূপান্তরিত হলো যেনো। শক্ত মুখে জবাব দিলো,
—আমার কী হবে? খোঁজার দায়িত্ব তো আমার ওপরই এসে পড়তো!
—দায়িত্ব? আমার দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে কেনো? এড়িয়ে যাবেন; যেমন করে এড়িয়ে গিয়েছেন পূর্বেও। নট সো টাফ এট অল ফর ইউ মি.মির্জা!
আইয়ুশ কথা খুঁজে পেলোনা। নিম্ন স্বরে কেবল বললো,

—নিচে চলো।
ঝিলিক চোখ ঘোরালো–যেনো সে এমন কথায় খুব বিরক্ত। সে ঘুরে আবারও নিচে তাকালো। যেমনটা সে এতক্ষণ করছিলো। আইয়ুশের নিজের ওপর রাগ হচ্ছে। সাতটা দিন প্রায় কেটে গেলো অথচ এখনও ওর দ্বারা একটা ক্লু যোগাড় করা হলোনা। আইয়ুশ নিজেকে সংযত না করেই বলে,
—ঘৃণা করো আমাকে খুব, তাইনা?
ঝিলিকের নির্লিপ্ত কন্ঠস্বর ভেসে আসে,
—প্রতারকদের প্রতি কোনো অনুভূতি রাখতে নেই!
আইয়ুশ কেমন করে যেনো বললো,
—একটুও অনুভূতি নেই?
ঝিলিক ব্যাঘ্র করে হাসলো,
—অনুভূতি তাকে নিয়ে রাখা যায় যে যোগ্য। আর আপনি? একজন প্রতারককে নিয়ে ঝিলিক মির্জা অনুভূতি রাখবে এমনটা ভাবলেন কী করে?
—আমার প্রতি তোমার এতোটা অনীহা?
—দেখতেও বিরক্ত লাগে!
আইয়ুশ কন্ঠে হালকা অভিমান মেশালো; অন্যমনষ্ক হয়ে শুধালো,
—চলে যাবো?
ঝিলিক তাচ্ছিল্যের হেসে শুধালো,

—কোথায় যাবেন? অতো সুন্দর বউ; পরিবার ছেড়ে যাবেন-ই বা কোথায়?
—অনেক দূরে, যেখানে তোমার-আমার আর কখনো সাক্ষাৎ ঘটা অসম্ভব প্রায়!
আইয়ুশের এমন কথা খুব সম্ভবত আগের ঝিলিকের কাছে পাথরসম কঠিন কিছু শব্দ মনে হতো। তবে আজ এই মাতৃমনে এসব কোনোকিছুই লাগলোনা ঝিলিকের নিকট। উল্টে দ্বিগুণ কাঠিন্যতায় বললো,
—চলে যান; যেনো এজনমে আমার আপনি নামক কলঙ্কের কথা কখনো মনে না পড়ে৷
আইয়ুশ ব্যথিত নজরে তাকালো তার পানে। ঝিলিক যদি একবার তাকাতো এই চোখে? নির্ঘাত কিছু একটা খুঁজে পেতো। আইয়ুশ নিজমনেই বিড়বিড় করলো,
—কিন্তু আমি তা পারবোনা, আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তোমাকে আমি রক্ষা করবো।
ঝিলিকের কাছে আইয়ুশের সম্মুখে থাকা ভীষণ তিক্তকর বোধ হলো। সে নেমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। সামনেই দেখা পেলো সায়নের। দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে। ঝিলিকের অবচেতন মন খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়। সায়ন কী সবকিছু শুনে ফেলেছে? পাশ কাটিয়ে সে নেমে যায় দ্রুত পায়ে। সায়ন তার দিকে তাকিয়ে রয় অক্লেশে। ঝিলিক দৃষ্টিসীমানা পেরোতেই সামনে এগিয়ে আসে সায়ন। আইয়ুশ সায়নকে দেখেই নিজেকে শক্ত করে নেয়। সায়ন হাতের অঙ্গুরীখানা বড্ড দক্ষ ভঙ্গিতে ঘোরালো। আইয়ুশের তুখোর দৃষ্টি সেখানেই আটকে গেলো। দৃষ্টি শক্ত হলো। সায়ন এগিয়ে গিয়ে ঠোঁট নুইয়ে হাসে। আইয়ুশের কাধে হাত দিয়ে হাস্যরসাত্মক আদলে বলে,

—মি. মির্জা! ঘরওয়ালীকে রেখে বাহারওয়ালি? উঁহু, মোটেও শোভাকর নয় কিন্তু।
আইয়ুশ রক্তাভ আঁখিতে গলার স্বর কিছুটা উুঁচিয়ে বললো,
—মাইন্ড ইয়্যুর ল্যাঙ্গুয়েজ!
—রিল্যাক্স! ডোন্ট বি সো হাইপার।
বলেই কাধ ঝাঁকিয়ে আবারও তীর্যক সেই হাসির জোয়ারে ভাসলো তার অধরযুগল। আইয়ুশ চেয়ে রইলো নির্লিপনে। সায়ন বললো,
—ইউ আর টু মাচ স্লো মি.মির্জা! আমি ঠিক এনজয় করতে পারছিনা। দাবা খেলায় প্রতিপক্ষ যদি ততটা স্ট্রং নাহয় তবে মজা কিসে?
সায়ন দু’পা আগালো। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে পা ফেলতে ফেলতে শিষ বাজালো গানের সুরের,
—আলতো ছোঁয়ায়, চোখের চাওয়ায়;
পাওয়া না পাওয়ার কী যে নেশা!
সেই স্মৃতিটাই, আজও হাতরাই;
হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা!
পরক্ষণেই তার শক্তপোক্ত গালে পুরুষালি এক ঘুষির প্রভাব পড়লো। কিছুটা পিছিয়ে গেলো সায়ন। ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়লো। সায়ন ঘুরে দাঁড়ালো। রক্তাক্ত ঠোঁটেই হেসে উঠলো। পরপর আরও একখান ঘুষি তার মুখের ওপর পড়লো। আরও দু’কদম পেছোলো সে। আইয়ুশ নিজের ব্লেজার খুলে অদূরে ছুঁড়ে মারলো। পেশিবহুল পেটানো শরীর দৃশ্যমান হলো। সায়ন কেমন পাগলের মতো হাসলো– আইয়ুশের এমন দৃশ্যে। উঠে দাঁড়িয়ে বললো,

—ডুড, ইউ আর রিয়্যালি আ স্লো ম্যান!
আইয়ুশের শরীর রাগে কেঁপে উঠছে বারংবার। মুখ ফুঁড়ে বেরিয়ে অস্ফুটে দুটো অকথ্য ভাষা,
—শালা, মাদার*চোদ!
সায়ন নিজেও থেমে থাকলো না। এগিয়ে গিয়ে আইয়ুশের কলার টেনে ধরলো। মুখ বরাবর ঘুষি বসালো। আইয়ুশের ঠোঁটের কোণেও রক্ত জমলো। সায়ন হুঁশ খুঁইয়ে নিজেও অকথ্য ভাষার গালি ছুড়লো,
—বুল*শিট, মাদার*ফাকার!
দুজনেই মাঝেই তুমুল সংঘর্ষের সমারোহ ঘটার পূর্বেই সেখানে তিয়া এসে উপস্থিত হলো। তাদের দুজনকে এভাবে দেখে অবাক-ই হলো। অস্পষ্ট স্বরে বাক্য ছুঁড়লো,
—বড় ভাইয়ু, তো..তোমার মুখে র..রক্ত কেনো? মারপিট কেনো করছো তোমরা দুজন?
তিয়ার কন্ঠ শুনতেই দুজনে স্বাভাবিক হয়ে গেলো। পরক্ষণেই মারামারির পজিশনকে ছাড়িয়ে গলা জড়িয়ে ধরলো একে অপরের। সায়ন মুখ খুললো প্রথমেই,

—কই, নাতো! আমরা তো এমনিই ফাইটিং প্র্যাক্টিস করছিলাম।
আইয়ুশও জোরপূর্বক হাসলো। এ ও সম্ভব? এতে দ্রুত রূপ পাল্টানো? বিড়বিড়িয়ে সে আওড়ালো,
—শালা, তুই তো ইচ্ছাধারী নাগকেও হার মানিয়েছিস!
সায়ন হাসতে হাসতেই বিড়বিড়িয়ে বললো,
—নাগ কিন্তু ছোবল মারতেও জানে। বেশি উড়িস না; তোর ডানার সুতো কিন্তু এই এমকের হাতেই।
আইয়ুশ রাগে দাঁতে দাঁত চাপে। গালের ভেতর জিহ্বা ঠেলে নিজেকে সংযত করে। তিয়া দ্বিধান্বিত স্বরে বলে,
— ভাইয়ু, আমরা চলে যাচ্ছি। তোমাকে খুঁজছে বড় আব্বুরা।
—তুই যা, আসছি আমি!
তিয়া চলে যেতেই আইয়ুশ-সায়ন নিজেদের ছেড়ে দাঁড়ালো। আইয়ুশ পা বাড়ালো। সায়ন পেছন থেকে ডাকলো তাকে,
—কিরেএ, ফিলিংস কেমন?
আইয়ুশ পেছনে ঘুরলো। গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে সায়নের বাকি কথা শুনলো,
—আহারে, এতোদিন এতো কাছে ছিলাম। তুই ধরতেও পারলিনা। টু মাচ স্লো তুই!
আইয়ুশ গম্ভীর কন্ঠে শুধায়,

obsession vs love part 18

—কেনো করছিস এসব তুই? তোর সাথে আমাদের সম্পর্ক কী?
সায়ন পকেটে হাত গুঁজলো। স্বভাবসুলভ শিষ বাজাতে বাজাতে বলে গেলো,
—খুউউব গভীর সম্পর্ক। তোর মতো বুলশিট কাওয়ার্ড এসব বের করতে পারবেনা কখনো।
সায়ন সামনে এগোলো। আইয়ুশ চেয়ে রইলো সে পথে। সেই অঙ্গুরি ঘোরানো; একই শিষ! হাঁটা-চলার একই ধাঁচ। এই পুরুষকে আইয়ুশ ভুলতে পারে?

obsession vs love part 19 (2)