রুহ এ ইশক পর্ব ২৬
আনান রোজ
আর্ট রুমের অন্ধকারের মাঝে তখন কেবল দুটি দেহের অনিয়ন্ত্রিত ও চড়া নিশ্বাসের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। উযাইনের দীর্ঘদিনের অবদমিত তৃষ্ণা আর তীব্র জেলাসি এক হয়ে ওকে একদম বেসামাল ও উন্মাদ এক পুরুষে রূপান্তর করেছিল।
উযাইন তখনও ইনশিরাকে দেয়ালে চেপে ওর ঠোঁট জোড়ায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করছিলো।
ইনশিরার চোখের কোণের নোনা জল আর ব্যথার নড়াচড়া অনুভব হতেই উযাইন তার সমস্ত হিংস্রতা এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে এক বুক গভীর অপরাধবোধ আর অনুশোচনা নিয়ে নিজের বন্য রূপ এক নিমিষেই টেনে ধরল।
সে ইনশিরার থেকে দূরে সরে চারপাশে চোখ বুলাতে লাগলো। হটাৎ এক জায়গায় নিজের চোখ জোড়া স্থির করে ইনশিরার হাত টা ধরে বলে—
—”ইনশিরা চলো, টেবিলে!”
ইনশিরা কিছু বুঝতে পারলো না হয়তো। উযাইন দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে আর্ট রুমের কাঠের টেবিল ওপর ইনশিরাকে বসিয়ে হাঁটুর মাঝখানে একদম গা ঘেঁষে খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ইনশিরা কাপছে, ওর ঠোঁট জোড়া লাল হয়ে উঠেছে আর এই আবছা আলোয় ওর গলায় উযাইনের বেসামাল উন্মাদনার দাগ স্পষ্ট নীলচে হয়ে উঠেছে। সে তখনও কিছু বলতে পারছে না। উযাইনের এই ব্যবহার যেখানে বিন্দুমাত্র কোমলতা নেই, এসবের কারণ সে খুঁজে পেল না!
উযাইন নিজের কপালটা ইনশিরার ফর্সা ও ঘামে ভেজা কপালের সাথে শক্ত করে ঠেকিয়ে রাখল। দুজনের তপ্ত নিশ্বাস তখন একের পর এক আছড়ে পড়ছিল। উযাইন ইনশিরার চোখের মণির দিকে নিজের কান্নায় ও কামনায় বুঁদ হয়ে থাকা চোখ দুটো নিবদ্ধ করে, চরম এক নেশাতুর, ভাঙা ও কাতর কণ্ঠে ফিসফিসাল—
—”আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি, লিটল বার্ড… নাউ, আই জাস্ট কান্ট টেক দিস অ্যানিমোর.. প্লিজ… আই বেগ ইউ… প্লিজ বি মাইন!”
ইনশিরা চোখ তুলে তাকায় নিজের শার্টের কলারটা হাত দিয়ে কিছু টা চেপে ধরে, অভিমানী কান্নাভেজা ও কাঁপানো গলায় বলল—
—”আপ…আপনি বড্ড পাষাণ উযাইন! আপনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন!”
উযাইন নিজের বুকের দ্রুতগতির নিশ্বাস অনবরত নিতে নিতে, ইনশিরার ঠোঁটের একদম কাছাকাছি নিজের ঠোঁট জোড়া এনে ফিসফিস করে বলল—
—”আজ, আদর করে সব পুষিয়ে দেব!”
ইনশিরার শার্টটা আলতো করে সরিয়ে দিতে দিতে, কথা গুলো বলল উযাইন। ইয়টের ছোট ছোট জানালা দিয়ে ভেসে আসছিল উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। উযাইন একটু আলাদা হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। সে কয়েক কদম পিছিয়ে ফ্লোরে ঝুঁকে নিজের ব্ল্যাক সিল্কের টাই টা কুড়িয়ে হাতের মুঠোয় শক্ত করে তুলে নিল!
টাইটা হাতে পেচিয়ে পেচিয়ে, নিয়ে আবার ইনশিরার একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। সে নিজের চশমাটা টেবিলের এক কোণে রেখেই, ইনশিরার সেই অনামিকার আংটি পরা হাতটার দিকে তাকাল ওর সেই মায়াবী নীলচে চোখ জোড়া তখন এক চরম অসহায়, তৃষ্ণার্ত ও পরম আত্মসমর্পণের চাউনি নিয়ে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে!
—”উযা…উযাইন আপ…”
—”নিড ইউ মোর দেন, আই ওয়ান্ট ইউ!”
ইনশিরার কথা শেষ করার আগেই উযাইন নেশালো গলায় বলে উঠে, তবে কথা গুলো বলার সময় ওর কন্ঠের স্বর অসম্ভব রকমে কাপছিল! সে ধীর লয়ে এগুতে এগুতে ইনশিরার একদম কাছে গিয়ে থামে, ইনশিরা উযাইনের কপাল থেকে চুল গুলো সরিয়ে ওর গাল গুলো হাতের মুঠোয় আগলে বলে—
—”এম..এমন কেন করছেন? আমি কোনো ভুল করছি? আপনাকে কেমন যেন দেখাচ্ছে।”
—”আই ওয়ান্না ডু দিস, নাও….!”
ইনশিরার কথার জবাবে উযাইন বলে উঠে, ইনশিরা ওর গাল থেকে হাত সরিয়ে চোখ জোড়া ফ্লোরের দিকে রেখে বলে—
—”এ…এখানে? বাহিরে অনেকেই আছে…”
উযাইন ওর কথা শুনেও যেন শুনল না, তার নিশ্বাস আরও ভারী আর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে। সে ইনশিরার হাত জোরা নিজের হাতে নিয়ে, টাই টা দিয়ে পেচাতে পেচাতে বলে—
—”হ্যা এখানেই!”
বলে, সে হাত দিয়ে ইনশিরার ক্রপটপটা ওপরের দিকে সামান্য সরিয়ে ওর উন্মুক্ত কোমরের নরম ফর্সা চামড়াটা নিজের বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় আষ্টেপৃষ্ঠে এত কড়াভাবে চেপে ধরল যে ইনশিরার ফর্সা পিঠে ওনার আঙুলের স্পষ্ট লাল দাগ বসে গেল! ওনার শরীর থেকে তখন চন্দনের সুবাস আর এক তীব্র আদিম পুরুষালী ওম বের হচ্ছিল।
—”নিজেকে তোমার এই বন্য ফুলের ঘ্রানে মাখতে দাও লিটল বাড!”
বলে উযাইন ইনশিরার দুই হাঁটুর মাঝখানে নিজের শরীরটা এক্কেবারে লেপ্টে দিয়ে ওর ফর্সা গলা আর কলারবোনের ওপর নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল এক বন্য উন্মাদনায় ইনশিরার কলারবোনের খাঁজে অত্যন্ত নিবিড়, কড়া ও গভীর লাভ বাইট বসাতে লাগল। ওর ঠোঁট আর দাঁ’তে’র সেই বন্য ও রুক্ষ স্পর্শে ইনশিরা তীব্র ব্যথায় আর এক অপার্থিব আদিম মাদকতায় কুঁকড়ে উঠে টেবিলের শক্ত কাঠটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল!
সে কিছুটা আলগা হয়ে উযাইন কে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে কাপা গলায় বলে—
—”প্লিজ! আমার ভ…আপ…”
তার কথা শেষ করার আগেই, উযাইন ইনশিরার গলার খাঁজে নিজের মুখ রেখে, রাগে ও কামনায় ফুঁসতে ফুঁসতে এক চরম নেশাতুর ও বরফ শীতল গলায় খুচা দিয়ে ফিসফিসাল—
—”তুমিই এসেছিলে। এখন এই বেসামাল তীব্রতা সইতে হবে। প্রতিনিয়ত….! ”
ইনশিরা কিছু বলল না, তবে তার ভেতরের সমস্ত লাজুকতা যেন সেকেন্ডে এক বুনো জেদে রূপ নিল। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো এই বন্য পুরুষকে দেখে ভয়ে পিছিয়ে যেত, কিন্তু ইনশিরা তো ওর এই বন্য তীব্রতাকেই নিজের মনে লালন করে এসেছে! সে আর নিজেকে বিন্দুমাত্র আটকে রাখল না। সে নিজের দুই চোখ বন্ধ করে, এক চরম ও বন্য সাড়া দিতে শুরু করল!
সে উযাইনের ওল্ফ কাট চুলগুলো মুঠো করে খামচে ধরল। সে উযাইনের শার্টহীন চওড়া পিঠ আর কাঁধের ওপর নিজের নখ দিয়ে শক্ত করে আঁচড় কেটে উযাইনকে নিজের দিকে আরও তীব্রভাবে টেনে নিল।
ইনশিরার এই অপ্রত্যাশিত বুনো উযাইন যেন আরো বেসামাল ও অন্ধের মতো উন্মত্ত হয়ে উঠল।
সে ইনশিরার ক্রপটপের শেষ বাঁধনটা এক ঝটকায় ছিঁড়ে, ফ্লোরে ফেলে দিয়ে, ইনশিরার দিকে ঝুকে এলো এবং ওর নরম মায়াবী ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের ভেতর আষ্টেপৃষ্ঠে পিষে ফেলার ভঙ্গিতে আঁকড়ে ধরল। বেশ কিছুক্ষন পর উযাইন ইনশিরার ঠোঁট জোড়া ছেড়ে ওর গলার নিচে নিজের ভেজা ঠোঁট জোড়া স্পর্শ করাল। ইনশিরার শরীরে যেন বিদুৎ এর শিহরণ বয়ে গেল, এবং বার বার কেপে উঠতে লাগলো। সে আরও খামছে ধরল উযাইনের পিঠে!
উযাইন ধীর লয়ে আরও কিছু টা নিচে নামতে লাগলো, তার তপ্ত স্পর্শে ইনশিরার পশম দাঁড়িয়ে উঠেছে, আচমকা ইনশিরা তার ভ্রু কুচকে মৃদু আওয়াজ করে উঠে—
—”আহ, আস্তে!”
উযাইন মুখ তুলে তাকায়, আর কাম’র দেয়া স্থানে কয়েক টা চুমু দিয়ে নাক ঘষতে ঘষতে বলে—
—”তুমার এই তিল টা আমার অনেক পছন্দের! এটাকে স্পর্শ করব বলে অনেক ছটফট করেছি!”
বলেই উযাইন কিছু টা সরে আসে, আর ইনশিরার কোমর পেছিয়ে তাকে আরও টেনে নেয় নিজের কাছে। তবে ইনশিরা ঠিক বুঝতে পারল না তার চেস্টের তিলের কথা উযাইন আগে থেকে জানে? কিন্তু কিভাবে?
ইনশিরা উযাইনের তীব্র স্পর্শের যন্ত্রণায় আর এক অপার্থিব আদিম সুখে প্রতিবার, উযাইনের কাধে খামচে ধরে ব্যথায় তীব্রভাবে কোঁকড়ে উঠছিল, কিন্তু উযাইনের আজ কোনো দুনিয়াবি খেয়াল নেই। আর্ট রুমের সেই নীরবতার মাঝে তখন কেবল দুজন অনিয়ন্ত্রিত ও তীব্র নিশ্বাসের ওঠানামার আওয়াজ এক বন্য পূর্ণতার ইতিহাস বুননের সুচনায় উযাইন যেন আরও বেসামাল হয়ে উঠে, আর নিজের আঙ্গুল গুলো ইনশিরার নাভীর পাশে লেহন করতে করতে বেহায়ার মত বলে—
— “কাপছ কেন?”
ইনশিরা উযাইনের প্রশ্ননে থতমত খেল ভাবল, এই মুহূর্তে কেউ এমন প্রশ্ন করে? কিন্তু মুখে কিছু বলল না। কিন্তু উযাইন ইনশিরার দিকে তাকিয়ে আছে বুঝতে পারছে হয়তো তার পিচ্ছি বউ টা ভয় পাচ্ছে। তবে এখন আর ফেরা সম্ভব না, সে মুচকি হেসে ইনশিরার পেটে কয়েক চুমু আর ছোট ছোট কা’ম’র বসিয়ে আবার ইনশিরার চেহারার দিকে তাকায়, ইনশিরার চোখ মেলে তাকাতেই লজ্জা হাত দিয়ে নিজেকে আরাল করার চেষ্টা করল। তার গায়ে একটা সুতোও নেই, উযাইন মুচকি হেসে বলে—
—কার কাছে লজ্জা পাচ্ছ? তোমাকে এই অবস্থায় কতবার দেখেছি হিসাব নেই।
ইনশিরার মুখ কুচকে ভাবে লোক টা আবার ছোট বেলার কথা তুলে লজ্জা দিচ্ছে, জংলী প্রফেসর কোথাকার। ভেবে যখন মুখে কিছু বলতে যাবে তখন উযাইন ওর ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট স্পর্শ করিয়ে বলে—
—”ভয় পেও না আই উইল বি জেন্টল!”
সেই তীব্র, বন্য ও দীর্ঘস্থায়ী ঝড়ের রেশ যখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এলো, আর্ট রুমের সাউন্ডপ্রুফ নীরবতায় তখন কেবল দুজনের ক্লান্ত ও ধীরগতির নিশ্বাসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। উযাইনের ভেতরের সেই ভয়ংকর পজেসিভ শয়তান পুরুষটা এতক্ষণে এক পরম তৃপ্তিতে শান্ত হয়ে এসেছে সে ইনশিরার সেই ফর্সা, ঘামে ভেজা এবং ক্লান্ত শরীরটার দিকে নিজের মায়াবী হাসল । ইনশিরার পুরো ফর্সা শরীর জুড়ে তখন ওর নিজের দেওয়া বন্য ভালোবাসার লালচে ক্ষত আর কাম’ড়ের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে জ্বলজ্বল করছিল।
উযাইন ফ্লোর থেকে শার্ট কুড়িয়ে নিয়ে গায়ে জরিয়ে নিল।
নিজের ফোন টা নিয়ে কিছু টাইপ করলো বোধ হয়। ইনশিরা একদম কাচুমাচু হয়ে শুয়ে আছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই দরজায় নক হলো। উযাইন গিয়ে দরজা টা খুলে কিছু একটা নিয়ে ফিরে এলো।ইনশিরার উ’ন্মু’ক্ত শরীরটা চাদরে পেঁচিয়ে পাজ কোলে তুলে নিল ! ইনশিরা ক্লান্তিতে ও লজ্জায় নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে উযাইনের বুকের ওপর নিজের ফেসটা লুকিয়ে রাখল। উযাইন আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, সে ধীর পায়ে আর্ট রুমের দরজা আবার খুলে করিডোর দিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে সোজা ইয়টের পাশে থাকা এক আলিশান, ভিআইপি লাক্সারি বেডরুমের ভেতরে গিয়ে প্রবেশ করল।
ইনশিরাকে খুব সাবধানেবেডের ওপর শুইয়ে দিল। তখন প্রায় ভোর চারটা বাজছে। ইয়টের রুমে টিমটিমে আলো জ্বলছে।
উযাইন নিজেও আর এক সেকেন্ডের জন্য দূরত্বের কোনো দেয়াল রাখল না। সে কম্বলের ভেতরেই ইনশিরার একদম গায়ের সাথে নিজের শরীরটা লেপ্টে শুয়ে পড়ল, আরেক টা হাত ইনশিরার কোমরের ওপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওকে নিজের বুকের সাথে একদম আগলে নিল।
ইনশিরা সেই চওড়া বুকের ওম পেয়ে নিজের নিজের মুখটা গুঁজে দিয়ে এক পরম শান্তিতে হারিয়ে গেল।
সকাল ঠিক ৭টা।
ইয়টের সেই ভিআইপি লাক্সারি বেডরুমের জানলা গলে সকালের প্রথম সোনালী রোদ এসে পড়েছে বিছানাটার ওপর । ইনশিরার ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল। সে ধীরে ধীরে নিজের ডাগর চোখ জোড়া মেলতেই—তার পুরো শরীরটা এক তীব্র, ব্যথায় এক নিমেষে কোঁকড়ে উঠল! কাল রাতের সেই কাঠের টেবিলের বন্য উন্মাদনার প্রতিটি তীব্র ঝড় আজ ওর প্রতিটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল সে।
সে নিজের কপাল চেপে একটু চোখ ঘুরিয়ে রুমের অন্য দিকে তাকাল। সে দেখল, উযাইন আবরার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের বোতাম আটকাচ্ছে । চুলগুলো ভেজা, কপাল বেয়ে পানির ফোঁটা ঝরছে—বোঝা যাচ্ছে সে একটু আগেই শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে। ইনশিরা নিজের শরীরটা সাদা রঙের চাদরটা দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত করে পেঁচিয়ে নিয়ে বেডের পেছনের কুশনে হেলান দিয়ে ধপ করে বসল। ওর মুখটা আজ একরাশ অভিমানে আর ব্যথায় পুরো কুঁচকে আছে।
উযাইন আয়নার আড়ালে ইনশিরার নড়াচড়ার শব্দ পেয়ে ঝট করে ঘুরে তাকাল। সে নিজের ঠোঁটের কোণে এক স্বর্গীয় মায়াবী হাসি ফুটিয়ে দ্রুত বিছানার কাছে এগিয়ে এলো। উযাইন ইনশিরার একদম কাছাকাছি ঝুঁকে এসে, অত্যন্ত নিচু ও মায়াবী গলায় বলল—
—”ঘুম ভেঙেছে সোনা…? গুড মর্নিং। দ্রুত শাওয়ার নিয়ে এসো, বেড় হব।”
বলেই উযাইন নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে ইনশিরার নরম ঠোঁটে সকালের প্রথম মিষ্টি চুমুটা দিতে গেল। কিন্তু ইনশিরা এক ঝটকায় নিজের মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে উযাইনের মায়া থেকে সরে গেল। উযাইন হটাৎ এমন হওয়াতে সে কিছু টা অসস্তি বোধ করল। উযাইন কিছুই বুঝতে পারল না মেয়েটার হঠাৎ কী হলো! ইনশিরা চাদরটা শরীরে শক্ত করে পেঁচিয়ে এক টানে বেড থেকে সোজা নিচে ফ্লোরের ওপর উঠে
দাঁড়াল।
—”আহহহ…!”
কিন্তু ফ্লোরে পা রাখা মাত্রই ইনশিরার পুরো অস্তিত্ব এক সেকেন্ডে কেঁপে উঠল! ইনশিরা একহাতে নিজের কোমরটা পেছনের দিক থেকে শক্ত করে চেপে ধরল। ওর পা জোরা আর কোমর ব্যথায় এক নিমেষে ভেঙে আসছিল, সে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিল !
ইনশিরা নিজের দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে এক তীব্র, আক্ষরিক অর্থেই আস্ত একটা জ্যান্ত খুন করে ফেলার মতো কটমট রাগী চাউনি ছুড়ে দিল উযাইনের দিকে! ওদিকে প্রফেসর উযাইন আবরার নিজের পিচ্ছির এই কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আর রাগী ফেসটা দেখে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল! ইনশিরা ওকে আর কোনো সাফাই গাওয়ার বা কথা বলার সুযোগই দিল না। সে কোনোমতে ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে ভেতরে গিয়ে প্রবেশ করল। প্রতিটা কদমে ব্যথার চোটে যেন ওর নিজের দম আটকে আসছিল।
প্রায় দীর্ঘ ৩০ মিনিট পর,
ওয়াশরুমের দরজা খোলার হালকা একটা শব্দ হলো। উযাইন তখন নিজের ফোনে কার সাথে যেন খুব সিরিয়াস মুডে কথা বলছিল। ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ পাওয়া মাত্রই সে ইনশিরার উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে কলটা কেটে দিয়ে ফোনটা পকেটে পুরে নিল।
ইনশিরা তখন একটা সাদা রঙের লুজ বাথগাউন পরে, ভেজা চুলগুলো পিঠে এলিয়ে দিয়ে ধীর পায়ে ওর পেছনের দিকে এগিয়ে এলো। সে উযাইনের ঠিক পেছনে এসেই—নিজের সব রাগ নিয়ে নিজের হাতটা শক্ত করে মুঠো করে—এক ঝটকায় উযাইনের চওড়া শক্ত পিঠ বরাবর ঘুষি মেরে বসল!
—”উফফ…!”
উযাইন নিজের পিঠে ইনশিরার এই আচমকা কড়া ঘুষির ধাক্কা আর ব্যাথা পেয়ে এক সেকেন্ডে তীব্রভাবে কোঁকড়ে উঠল ! সে নিজের পিঠটা এক হাত দিয়ে চেপে ধরে চোখ বড় বড় করে ঝট করে পেছনের দিকে ফিরে তাকাল । সে দেখল—ইনশিরা চোখ ছলছল করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইনশিরা নিজের গায়ের বাথগাউনটা কলারের কাছ থেকে খুব হালকা করে একপাশে সরিয়ে দিয়ে, ওর ফর্সা গলা আর কলারবোনের ওপর কাল রাতের দেওয়া ওনার নিজের দাঁতের সেই লাল টকটকে বন্য লাভ বাইটের ক্ষতগুলো দেখিয়ে বাচ্চাদের মতো চড়া গলায় নালিশ করল—
—”দেখুন…! নিজের চোখে ভালো করে দেখুন এই দাগগুলো, উযাইন! কাল রাতে আমার শরীরটার ওপর এমন বন্য অত্যাচার করলেন কেন, হ্যাঁ? একদম রি-রি করে জ্বলে যাচ্ছে, সব জ্বলে যাচ্ছে জংলী প্রফেসর কোথাকার… উফফ!”
উযাইন গলার সেই মায়াবী ক্ষতগুলোর দিকে তাকাল। ওর ঠোঁটের কোণে তখন এক তীব্র পজেসিভ, দুষ্টুমি ভরা চতুর হাসি ফুটে উঠল, সে নিজের ঠোঁট টিপে ইনশিরার এই রাগী কিউট রূপটা দেখতে লাগল।
ইনশিরা ওনার এই চতুর হাসি দেখে আরও বেশি অভিমানে ভেঙে পড়ল। সে কথাগুলো বলতে বলতেই আর সোজা দাঁড়িয়ে থাকার বিন্দুমাত্র শক্তি না পেয়ে—সোজা ধপ করে বেডের ওপর বসে পড়ল। তার আর এক সেকেন্ডও দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। সে নিজের গোলগাল ফর্সা গালে হাত দিয়ে, একদম অবুঝ এক বাচ্চার মতো এক বুক অভিমান আর মায়া নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল—
—”আ…আপনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন… আমি আর আপনার সাথে কোনো কথাই বলব না, দূরে যান আমার থেকে!”
ইনশিরার এই আদুরে নালিশ শোনে সে নিজের ঠোঁটের কোণের হাসিটা চওড়া করে ইনশিরার দিকে দু-পা এগিয়ে গেল। সে এক কদম এগিয়ে এসে বিছানায় বসা ইনশিরার একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে নিয়ে এলো। ওনার সেই মায়াবী নীলচে চোখ দুটো তখন এক চরম তৃপ্তির নেশায় বুঁদ হয়ে জ্বলজ্বল করছিল। উযাইন ইনশিরার কানের লতির খুব কাছে নিজের মুখ এনে, এক চরম নেশাতুর ও নিচু ফিসফিসানি কণ্ঠে বলল—
—”এর চেয়ে বেশি আর কতখানি জেন্টলি করতাম? আমি এখানও তৃপ্তি পাইনি…আর তুমি কি না এই এক বারেই হাঁপিয়ে গেলে?”
উযাইনের মুখ থেকে এই চরম বোল্ড এবং সোজা-সাপটা কথা শোনামাত্রই ইনশিরা লজ্জায় আর শিহরণে এক নিমেষে লাল টমেটো হয়ে উঠে। সে নিজের চোখ তুলে ওর দিকে তাকাতেই পারল না, তীব্র লজ্জায় পুরো ডুবে গিয়ে বাথগাউনটা নিজের বুকে শক্ত করে চেপে ধরল। উযাইন আর এক ইঞ্চি এগিয়ে এসে ওর চিবুকটা নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে নাড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত কড়া ও পজেসিভ গলায় মনে করিয়ে দিল—
—”দেখো মেয়ে? তুমিই এসেছিলে! এখন, এই তীব্রতা তোমাকে আজীবন সহ্য করতেই হবে!”
বলেই উযাইন ইনশিরার থেকে দুই পা পিছিয়ে গেল। সে নিজের গায়ের শার্টের বোতামগুলো এক এক করে খুব দ্রুত গতিতে খুলতে শুরু করল। ইনশিরা ওকে আবার শার্ট খুলতে দেখে তীব্র এক আশঙ্কায় আর ধড়ফড়ানি নিয়ে বিছানার ওপরইপিছিয়ে গেল!
ইনশিরা চরম আমতা আমতা করে, কাঁপানো গলায় বলল—
—”কী… কী করছেন কী আপনি উযাইন?! এখন আবার কেন শার্ট খুলছেন? না… প্লিজ না! আমার শরীর এখনও বড্ড বেশি ব্য…”
ইনশিরা নিজের ব্যথার বাক্যটি শেষ করার কোনো সুযোগই পেল না। উযাইন নিজের শার্টটা এক ঝটকায় খুলে দিল। তারপর সে ইনশিরার উল্টো দিকে ফিরে নিজের চওড়া ফরসা পিঠটা দেখাল!
ইনশিরা ওর পিঠের দিকে তাকাতেই নিজের মুখে হাত দিয়ে তীব্র বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল! সে দেখল, উযাইনের ফর্সা সুগঠিত চওড়া পিঠ জুড়ে কাল রাতের তীব্র ঝড়ে ইনশিরার নিজের নখ দিয়ে কেটে দেওয়া প্রকাণ্ড নখের লাল লাল আঁচড়ের দাগগুলো সুদৃশ্য লতার মতোন পুরো পিঠ জুড়ে লেপ্টে আছে!
রুহ এ ইশক পর্ব ২৫
উযাইন, ইনশিরার দিকে নিজের পুরো শরীরটা ঘুরিয়ে দারিয়ে হাটু গেরে বসে। ইনশিরা, উযাইনের গলা আর বুকের দিকে তাকিয়ে কাচুমাচু হয়ে গেল কারণ এখানেও একই দশা।
উযাইন, এক বন্য চতুর হাসি দিয়ে কড়া গলায় পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ল…
