রুহ এ ইশক পর্ব ২৯
আনান রোজ
কিভাবে একটা ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ে একজন পয়ত্রিশ বছরের লোককে ভালবাসতে পারে? তাও কি না নিজের বাবার বন্ধুকে? তবে কি আমি শুধুই তার মোহ ছিলাম? তিন বছর ধরে একটা মিছে আসক্তিতে ডুবেছিলাম?
এই কথা গুলো প্রফেসর উযাইনের কানে যেন বার বার প্রতিধ্বনি হতে লাগলো। সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নিজের ফাকা হাতের দিকে বুঝতে পারছে, ইনশিরা রাজি না, তাদের বিয়ের কথা তার মা বাবা কে জানা তে। হটাৎ ই উযাইনের মনে হলো তার স্পন্দন থমকে গেছে, শরীর অবশ হয়ে আসল। সে নিজের মনে ভাবল—
আমি তবে ভুলছিলাম? আমি একটা কিশোরীর মায়ায় জড়িয়ে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিয়ম ভুলে গেলাম? ভুলে গেলাম যে, সে আমার চিরশত্রুর মেয়ে? ভুলে গেলাম প্রতিশোধ? ছিহ উযাইন….
—উ…উযাইন? আমি… মানে, এখনই আব্বু কে জানানো ঠিক হবে না।
উযাইনের এই যন্ত্রনাদায়ক ভাবনার মাঝে হটাৎ ই ইনশিরার গলার কাপা আওয়াজে সে কল্পনা থেকে বেরিয়ে এলো। ওর নীলচে চোখ জোড়ায় এক আকাশ পরিমাণ শুন্যতা আর একাকিত্ব ভর করল, এক অসহায় চাহনিতে তাকিয়ে রইল নিজের পিচ্চির দিকে। সে কি ভুল ছিল?
তখন তারা দাঁড়িয়ে ছিল ইনশিরার রুমের ঠিক বাইরে করিডরে। এসবের মাঝে, উযাইনের মাথা চারা দিয়ে উঠে এক অবাধ্য জেদ! সে ভাবতে লাগে ইনশিরা হয়তো তাকে ছেড়ে চলে যাবে। তাই, হ্যা তাই সব কিছু নিখুঁত করে এরিয়ে যাচ্ছে। সে যদি উযাইন কে ভালই বাসত তাহলে কেন এলিনের কাছে গেল??
সে আর এক মুহূর্ত নিজেকে সামলাতে পারলো না দু কদম এগিয়ে, ইনশিরার দীর্ঘ চুলগুলো একহাতে শক্ত মুঠোয় পেঁচিয়ে ধরে ওর মাথাটা পেছনের দিকে সামান্য বাঁকিয়ে দিল, যার ফলে ইনশিরার ব্লাউজের ভাজে টানটান হয়ে যাওয়া ফর্সা গলার প্রতিটা ভাঁজ তার সামনে ভেসে উঠল। আর ইনশিরা ব্যথায় কুকরে গেল।
সে এক বুক আদিম তৃষ্ণা নিয়ে ইনশিরার সেই নরম, আর কান্নায় লাল হয়ে যাওয়া ওষ্ঠাধরের ওপর নিজের ঠোঁট সজোরে চেপে ধরল। আর অন্য হাত টা ওর কোমরে জরিয়ে নিল। ইনশিরা বাধা দিল না, আর উযাইন ইনশিরা কে নিজের দখলে রেখেই ওর রুমে প্রবেশ করে দরজা টা আটকে ইনশিরাকে অন্য পাশের দেয়ালে চেপে ধরল।
কয়েক মিনিট পর উযাইন সামান্য আলাদা হয়, আর হাত রাখে ইনশিরার কাধে, ওর এক একটি অবাধ্য টানে ইনশিরার ব্লাউজের গলার দিকের বোতাম ছিঁড়ে আলগা হয়ে যাবে। তার কণ্ঠাস্থি ফর্সা কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগের মসৃণ চামড়া রুমের আবছা আলোয় উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ইনশিরার নিশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠে।
উযাইন রাগে ও তীব্র পজেসিভনেসে অন্ধ হয়ে এক ঝটকায় ইনশিরার হালকা গোলাপি শারি টা টেনে ধরল। কাপড়ের সুতোগুলো শব্দে ছিঁড়ে গেল আর এই অস্পষ্ট আলোয় এক মায়াবী আবহে ভেসে উঠল। উযাইন আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না।
সে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল ইনশিরার নরম চামড়ায়। তার তপ্ত ও ভারী শ্বাস ইনশিরার ত্বকে দহন তৈরি করছিল। উযাইনের শক্ত হাতটা ইনশিরার শারির অবশিষ্ট ঘের আর কুচি সরিয়ে সোজা ওর উন্মুক্ত ফর্সা কোমরের নরম ত্বকে সজোরে চেপে বসল। আর ধীরে ধীরে ইনশিরার শরীরটা সম্পূর্ণ শিথিল হয়ে উঠে উযাইনের বুনো উন্মাদনা আরো কিছু টা বেরে যায়। ইনশিরা নিজের দুটো হাত ওপরে তুলে উযাইনের চুলগুলো শক্ত মুঠোয় চেপে ধরল। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না শরীর টা যেন অবশ হয়ে এলো, আর তারা দেয়াল বেয়ে মেঝেতে বসে পরে।
ইনশিরা যখন সায় দিচ্ছিল, উযাইনের চওড়া পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিচ্ছিল, তখন তার শরীরটা উযাইনের ভারী দেহের নিচে এক অবাধ্য আকুলতায় সামান্য ধনুকের মতো বেঁকে উঠতে লাগলো।
ইনশিরার গলার ভাজ থেকে নিজের মুখ তুলে, হাল্কা সরে নিজের কোট আর শাট টা খুলে ফেলে দিল! উযাইনের নীলচে চোখ জুড়ে তখন অবিশ্বাস্য ঘোর আর উন্মাদনা। সে আবার ঝুকে এসে ইনশিরার ঠোঁটের ঠিক ইঞ্চিখানেক দূরত্বে নিজের ভারী শ্বাস ফেলে ফিসফিসিয়ে বলল—
—তুমি পুরোটাই আমার! তুমি, আমার বন্দীনি! তোমার
অস্তিত্ব জুড়ে শুধুই উযাইন আবরার থাকবে!!
ইনশিরা উযাইনের নীলচে চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে ওর হাত দিয়ে উযাইন কে জরিয়ে, বরফ শীতল অথচ অবাধ্য এক মাদকতা নিয়ে বলে উঠে
—”এই চোখ জোড়াই আমার সর্বনাশ!! আজ আবারো তোর এই বেসামাল রূপটা নিজের শরীরে অনুভব করতে চাই।”
ইনশিরার মুখে তুই ডাকটা শুনে বেশ অবাক হলো উযাইন। তার এই তীব্র আমন্ত্রনে উযাইন নিজের আত্মনিয়ন্ত্রন পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল। আর ইনশিরা নিজের দুপা উযাইনের কোমরের দুপাশে জড়িয়ে নিয়ে ওর চওড়া পিঠে নিজের নখগুলো বসিয়ে দিল। ফ্লোরের শীতলতায় তারা দুজনেই তখন সম্পূর্ণ বেসামাল, অস্থির এবং এক বুনো অস্তিত্বে পরিণত হলো, যার প্রতিটা তীব্র ও গভীর ছোঁয়া একে অপরের শরীরটা চূর্ণ করে একাকার করে দিচ্ছিল…
সময় গরিয়ে বাজল, ভোর চার টা
ইনশিরা ভাঙা আর ক্লান্ত গলায় উযাইন কে বলে
—”উ…উযাইন সাহেব, এবার একটু থামুন! বড্ড ক্লান্ত লাগচ্ছে। একটু পর না হয় আবা…!”
কথা টা শেষ করার আগেই, উযাইন ওর ঠোঁট জোড়ায় আলতো করে নিজের ঠোঁট জোড়া আকরে তীব্র ভাবে বাইট করে ওর নিচের ঠোঁটে…
—”আহহ”
—”তোমাকে এই তীব্রতা সইতে হবে বলেই, এতগুলো বছর দূরত্ব রেখেছিলাম, আর তুমি কিনা আমাকেই দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে?”
উযাইন ওর ঠোঁট কামরে, সরে এসে বিগত দিনের বিষয় গুলো টেনে ইনশিরা কে খোচা দিয়ে কথা গুলো বলল, ইনশিরা নিজের ক্ষতবিক্ষত ঠোঁট জোড়া হাল্কা চওড়া করে মায়াবী হাসল! নিজের মুখ টা কিছু টা উচিয়ে উযাইনের নাকে নাক ঘষে বলে—
—”সইব, সব সইব!”
বলে চাদর টা টেনে ওপাশ ফিরে, কাত হয়ে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পরে। যার ফলে তার পিঠের কিছুক্ষন আগের দেওয়া উযাইনের তীব্র স্পর্শের দাগ গুলো কালচে নীল রঙের হয়ে ভেসে উঠেছে এই আবছা আলো তেও যেন জলজল করছে। উগুলোর দিকেই তাকিয়ে রইল উযাইন। নিজের আঙ্গুল ছুইয়ে বিষাক্ত হাসল, ইনশিরা ওর আচমকা স্পর্শে আরও একবার কেপে উঠে।
উযাইন ওর কাপুনি দেখে আরও কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ইনশিরার কাধে হাত রেখে ওকে আবার নিজের দিকে ফেরায়। ইনশিরা ভ্রু কুচকে তাকায়, কিছু বলার আগেই উযাইন ওর বক্ষদেশে মাঝখান বরাবর কাম’র বসায় ইনশিরা মৃদু আওয়াজে উযাইনের চুলে আলতো করে আঙ্গুল গলিয়ে দিয়ে—
—”উফফ, আস্তে উযাইন!”
আর কখনো অন্য কারোর জন্য আমাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবলে বা অন্য পুরুষের কাছে ছুটে গেলে, তুমাকে আর তোমার পরিবার কে এই শাস্তি পেতে হবে!!
উযাইন গম্ভীর গলায় কথাগুলো বলল। ইনশিরা ওর চোখে তাকিয়ে ছিল, তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠে
—”আর কখনো এত অবিশ্বাস নিয়ে আমাকে স্পর্শ করতে আসবি না!”
বলে আবার শুয়ে পরে ওপাশ ফিরে, বেশ কিছু টা সময় পর ইনশিরা ঘুমিয়ে গেলে উযাইন ওর কপালে চুমু দিল। আর এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে ওর কপালে, উযাইন কি কাদছিল?
সে নিশব্দে উঠে মেঝে থেকে কাপড় গুলো নিয়ে গায়ে জরিয়ে বেরিয়ে গেল। তখন প্রায়, ভোর ৬টা বাজে। উযাইন, ইনশিরার রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দূর থেকে কেউ যেন তার দিকেই তাকিয়ে ছিল।
সে করিডর পেরিয়ে চলে যেতেই ওই অবয়ব টা দ্রুত পায়ে ছুটে ইনশিরার রুমে প্রবেশ করে বেডের দিকে যায়। আর শুয়ে থাকা ইনশিরার গায়ের চাদর আর অগুছালো চুল গুলো সরাল, তখন ওকে দেখে বুঝতে পারছিল আগন্তুক, যে কিচ্ছুক্ষন আগে এখানে কি হয়েছিল।
সকাল প্রায় ৯ টা, উযাইনের অডি গাড়িটা রিসোর্ট থেকে একটা বিল্ডিংয়ের সামনে থামল! দ্রুত কয়েক জন লোক এগিয়ে আসল, গারির দরজা খুলে উযাইন বেরিয়ে এলো পরনে গতকালই পোশাক গুলো, তবে ওর চুল গুলো মুরিয়ে মাথায় কালো রঙের কেপ আর মুখে মাস্ক। দেখে বুঝার কোনো উপায় নেই যে এই লোক টা কোনো নামি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর!
একটা লোক ওর দিকে এগিয়ে আসলো আর উযাইন ওই লোকের দিকে একটা ফাইল এগিয়ে দিল আর গম্ভীর গলায় বলে উঠে—
—”এখানে কোরটান ফেমিলির, বিশেষ করে এলিন কোরটান এবং এডাম কোরটানের গোপন নথিপত্র রয়েছে। ফাইল টা দায়িত্ব সহকারে প্রসিকিশন অফিসে পাঠিয়ে দাও।”
সামনের লোক টা সম্মানের সহিত ফাইল টা নিয়ে, চিন্তিত গলায় বলে উঠে —
—”স্যার! সব পৌছে যাবে। কোনো আইডেন্টিটি রিভিল হবে না। কিন্তু ওদের ব্যাপারে কিছু…?”
—”এই ফাইল টা! নিজ দায়িত্ব গিয়ে প্রসিকিউটরের কাছে দিয়ে আসবে। আর জানাবে এই উইকের ভেতরই উনার বাসা আর অফিসে রেইড বসাতে।”
উযাইন ওই লোকের দিকে তাকিয়ে একটা ফাইল এগিয়ে কথা গুলো বলল। লোক টা ফাইল নিয়ে পাতা গুলো উলটে দেখে বলল—
—”এতে আমাদের গ্যাংয়ের যদি প্রভ্লেম হয়? যেহেতু এড্রেস টা আপনার বাসার পাশেই? আর জাহির কায়নাতের পরিবারের সাথে আপনা…”
উযাইন ওকে থামিয়ে বলে উঠে, —
—”এত চিন্তিত হতে হবে না। যা হবে দেখা যাবে, আর বাকি ইন্সট্রাকশন ডাক্তার আসিফ তোমাকে দিয়ে দিবে। আর হ্যা, মিস ইনশিরা কায়নাতের নাম যেন কোথাও না আসে, কজ শী ইজ বিলোং টু মি।”
লোক টা ওকে বলে চলে যায়। আর উযাইন গাড়ি ঘুরিয়ে ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। তার চোখ জোড়া রাগে আর তীব্র ঈষায় তলিয়ে আছে। যেখানে খেলা করছে প্রতিশোধের অন্ধ নেশা। সে মনে মনে আওরাল—
—”যাহির কায়নাত! তুই আমার চিরশত্রু হলেও তোর কলিজায় আমার জান, আটকে আছে। যে কাজ টা তিন বছর আগে করার কথা ছিল, তা তখন ইনশিরার জন্য স্টোপ রাখলেও এবার তুই শাস্তি পাবি।”
সে মাস্ক আর কেপ টা খুলে, গাড়িতেই নিজের কালো শাট টা চেঞ্জ করে সাদা রঙের পরে, চুল গুলো ঠিক করে নিল। আর লুকিং মিররে তাকিয়ে বিষাক্ত হেসে বলল—
—”তোকে ধংস করতে গিয়ে নিজেই ধংস হয়ে বসে আছি তোর মেয়ের মায়ায়, হাউ ইন্টারেস্টিং! ইজেন্ট ইট?”
উযাইনের কালো অডি গাড়িটা এসে ক্যাম্পাসের পার্কিং লটে থামল। গাড়ি থেকে নামার সময় প্রফেসরের ফেসটা বাইরে অত্যন্ত শান্ত ও কোল্ড দেখালেও। ওর ভেতরের সত্ত্বায় এক ভয়ংকর আগুন জ্বলছিল! উযাইনের মূল উদ্দেশ্য আজ আর কোনো ক্লাস নেওয়া নয়, ওনার একমাত্র আদিম লক্ষ্য হলো—কাল ইনশিরাকে নিজের কনে বানানোর দুঃসাহস দেখানো ওই এলিন কোরটানকে নিজের হাতের সবচেয়ে ভয়ংকর শাস্তি দেওয়া!
উযাইন ইউনিভার্সিটির নির্ধারিত ক্লাস শেষ করে সকাল ঠিক ১১টার দিকে ডিপার্টমেন্টের এক বিশেষ ইমার্জেন্সি মিটিংয়ে গিয়ে বসল। মিটিংটি ছিল ইউনিভার্সিটির এক বড় প্রজেক্টের নতুন ইনভেস্টর এবং সমস্ত সিনিয়র প্রফেসরদের মধ্যে। আর পুরো টেবিল কাঁপিয়ে সেই প্রজেক্টের প্রধান ইনভেস্টর হিসেবে বুক ফুলিয়ে ওপাশে এসে বসেছিল আর কেউ নয়—স্বয়ং এলিন কোরটান! মিটিং চলাকালীন উযাইন ঠান্ডা মাথায় এলিনের প্রতিটি মুভমেন্ট নিখুঁতভাবে অবজার্ভ করছিল। মিটিং শেষ হওয়া মাত্রই এলিন অত্যন্ত অহংকারী লুকে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে নিজের বিলাসবহুল স্পোর্টস কার ফেরারি গাড়িটার ভেতর গিয়ে বসল। উযাইনও নিজের ঠোঁটের কোণে এক কুখ্যাত, বন্য ও চতুর মুচকি হাসি ফুটিয়ে ওর পেছনে পেছনে করিডোর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো ।
উযাইন নিজের পকেট থেকে ফোনটা বের করে কাউকে কল দিয়ে এক বরফ শীতল ও গম্ভীর গলায় অর্ডার দিল—
—”লিসেন…! সামনের ওই রেড কালারের ফেরারি গাড়িটা ভালো করে ট্র্যাক করো। এলিন কোরটানকে তুলে নিয়ে সোজা বেইজমেন্টে নিয়ে যাও!”
উযাইনের তুখোড় ও পেশাদার খুনি লোকেরা ওর অর্ডার পাওয়ামাত্রই একদম বাতাসের গতিতে হাইওয়ের মাঝখানে এলিনের ফেরারি গাড়ির পথ আটকে বাকি কাজটা নিখুঁতভাবে করে ফেলল। ওদিকে রিসোর্ট থেকে উযাইন চলে যাওয়ার কিছু সময় পর ইনশিরার ঘুম ভেঙে পড়ল, সে চোখ না মেলেই হাতরে বেডের অন্য পাশে উযাইন কে খুজতে শুরু করল, আর ঘুমের ঘোরে বলছিল—
—”কোথায় আপনি? একটু এদিকে আসুন, উযাইন? উযাইন?”
যখন কোনো সারা শব্দ পেল না তখন সে চোখ মেলে তাকাতেই দেখল ওর পাশের যায়গা টায় কেউ নেই। সে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করে, আস্তে করে চাদর টা শরীরে মুরিয়ে উঠে বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসল আর চোখ খুলতেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল অস্পষ্ট আওয়াযে বলে উঠে—
—”আ….আম্মু!!”
ঠাসসস!!!
ইনশিরা আর কিছু বলার আগেই ইরা এগিয়ে এসে ওর গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
এর ঠিক ৩০ মিনিট পর…
উযাইন নিজের ব্ল্যাক ওভারকোটের বোতামটা খুলতে খুলতে অত্যন্ত ধীর ও ভারী কদমে ওনার সেই অন্ধকার, ভয়ংকর বেইজমেন্টের লোহার দরজা ঠেলে ভেতরে গিয়ে প্রবেশ করল। বেইজমেন্টের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে, একটা প্রকাণ্ড হ্যালোজেন লাইটের নিচে এলিন তখন পুরোপুরি অর্ধচেতন অবস্থায় এক বিশেষ লোহার ইলেকট্রনিক চেয়ারের সাথে শক্ত শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝুলে ছিল! পায়ের শব্দের আওয়াজ পেয়ে এলিন নিজের ভারী চোখের পাতা দুটো মেলে সোজা সামনে তাকাল। আর নিজের উযাইনকে নিজের সামনে ওভাবে এগিয়ে আসতে দেখামাত্রই সে তীব্রভাবে চমকে উঠে চিৎকার করে বলল—
—”উযাইন…?! তার মানে… এই এসবের পেছনের আসল মাস্ট… !”
এলিন নিজের বাক্যটি পুরো শেষ করার কোনো সুযোগই পেল না। উযাইনের ফেসের মাঝে তখন কোনো দয়ামায়া বা পবিত্রতার ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট ছিল না, ওর পুরো লুকটা ছিল এক আস্ত নরকীয় পিশাচের মতো! সে কোনো কথা না বলে, কোনো জবাব না দিয়ে এক ঝটকায় দেয়ালের মেইন ড্যাশবোর্ডের দিকে এগিয়ে গেল। সে নিজের আঙুল দিয়ে এক টানে কারেন্টের হাই-ভোল্টেজ সুইচ টিপে দিল
—”আহহহহহ…!!!”
চুইচ চাপতেই মনে হলো এলিনের শরীর টা যেন ভেতরে মুচড়ে উঠল! কারণ এক তীব্র ভয়ংকর ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক কারেন্ট শক লাগামাত্রই এলিনের পুরো শরীরটা চেয়ারের সাথে তীব্রভাবে ঝটকা খেয়ে কাঁপতে লাগল, ও যন্ত্রণায় পুরো বেইজমেন্ট কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল! উযাইন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এক… দুই… তিন… এভাবে সাত থেকে আট বার অনবরত সুইচটা অন-অফ করতে লাগল, আর প্রতিটা বার ওর লোকেরা ড্যাশবোর্ড থেকে কারেন্টের ভোল্টেজ এক এক ধাপ করে বাড়িয়ে দিচ্ছিল! একসময় তীব্র কারেন্টের এই ভয়ংকর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এলিন নিজের সমস্ত চিৎকার থামিয়ে দিয়ে, নিস্তেজ ও অবশ হয়ে চেয়ারের ওপর মাথা নুয়ে পড়ল।
উযাইন নিজের হাতের একটা ইশারা ছুড়ে দিল ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেইজমেন্টের লোকেদের দিকে। ওর লোকেরা চেয়ারের লোহা খুলে এলিনের নিস্তেজ শরীরটা নিচে নামিয়ে দিল, আর সাথে সাথে ও কোনো শক্তি না পেয়ে ফ্লোরের ওপর ধপাস করে লুটিয়ে পড়ে গেল।
উযাইন এক কদম বরফ শীতল পায়ে এগিয়ে গেল। সে বুট জুতো পরা পা টা, নির্মম ও হিংস্রভাবে—ফ্লোরে পড়ে থাকা এলিনের সেই ফরসা হাতের ওপর তুলে দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই আস্ত একটা পিশাচের মতো গায়ের জোরে পিষতে শুরু করল!
এলিন হাতের ওপর বুটের ওই তীব্র পিষে যাওয়ার যন্ত্রণায় আবার ডুকরে চিল্লাইয়ে উঠে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল—
—”আহহহ…! আমার… আমার অপরাধটা কী?! কেন… কেন আমার সাথে আচরণ করছিস তোরা, কেন?!”
উযাইন পুরো বেইজমেন্টের অন্ধকার কাঁপিয়ে এক ভয়ংকর, বন্য ও কুখ্যাত শয়তানের মতো খিলখিল করে হেসে উঠল! সে ওনার চোখের দিকে নিজের সেই জ্বলন্ত আইস ব্লু চোখ দুটো নিবদ্ধ করে অত্যন্ত গভীর ও ধারালো গলায় বলল—
—”তোকে তো তিন দিন আগেই আমার নিজের ‘ডিলান গ্যাং’ থেকে ওয়ার্নিং বা পাঠানো হয়েছিল, এলিন কোরটান! কিন্তু তুই পাত্তাই দিলি না?”
বলেই উযাইন একটা নামী দামী ভিন্টেজ ওয়াইনের বোতল নিল। সে বোতলের ছিপিটা দাঁত দিয়ে খুলে—এলিনের রক্তমাখা ছিবড়ে হয়ে যাওয়া হাতের ওপর অত্যন্ত নির্ম’মভাবে ওয়াইন ঢালতে শুরু করল ক্ষতস্থানে অ্যালকোহলের তীব্র অ্যাসিডের মতো ছোঁয়া লাগামাত্রই এলিন যন্ত্রণায় মাটিতে শুয়ে সাপের মতো ছটফট করতে করতে পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগল।
উযাইন নিজের বুট জুতোটা ওর হাতের ওপর আরও একটু বেশি কড়াভাবে চেপে ধরে, এক চরম ভয়ংকর পজেসিভ ও বন্য অধিকারবোধের খুনি গলায় দাঁতে দাঁত চেপে, চোখ রাঙিয়ে ফিসফিসাল—
—”কোন সাহসে, আমার সম্পত্তির ওপর নিজের ওই নোংরা চোখ আর হাত বাড়ানোর দুঃসাহস দেখালি, এলিন!
উযাইনের এই ইনশিরার প্রতি ওর এই ভয়ংকর বন্য আধিপত্যের রূপ দেখে এলিন তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও মুচকি হেসে উঠল আর সব টা বুঝতে পারল।
উযাইন ধীর পায়ে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াল। ওর তীব্র রাগে আর পজেসিভনেসে তখন গা কাঁপছিল। ঠিক তখনই ওর পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বস্ত পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট লিয়ান ডিলান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একটা ভারী, নিরেট লোহার রড ওর দিকে এগিয়ে দিল। উযাইন নিজের গায়ের শার্টের ওপরের বোতামটা এক ঝটকায় খুলে নিজের দুই হাতের হাতা কনুই পর্যন্ত খুব গুটিয়ে নিল। সে লোহার রডটা নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় চেপে ধরে আবার ফ্লোরে পড়ে থাকা এলিনের একদম কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। ঠিক তখনই ওপরের ছাদ থেকে এক বালতি ভর্তি কনকনে ঠান্ডা বরফ পানি গড়িয়ে পড়ল এলিনের পুরো অবশ হয়ে যাওয়া নিস্তেজ শরীরের ওপর!
বরফ পানির সেই কনকনে ঠাণ্ডা ছোঁয়া লাগামাত্রই এলিনের অর্ধচেতন মগজটা তীব্র এক ঝটকায় জেগে উঠল । সে নিজের বুক ফাটানো যন্ত্রণার মাঝেই উযাইনের চোখের দিকে নিজের লালচে চোখ দুটো নিবদ্ধ করে, চিৎকার করে বলে উঠল—
—”I love her…! I will make her…
এলিনের মুখ থেকে ইনশিরার জন্য এই ভালোবাসার স্পর্ধা শোনামাত্রই উযাইনের ভেতরের সেই ভয়ংকর ডেভিল পুরোপুরি অন্ধ ও উন্মাদ হয়ে উঠল সে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। সে নিজের দুই হাত দিয়ে লোহার রডটা ওপরের দিকে তুলল এবং এক প্রকাণ্ড হিংস্রতায় এলিনের সুগঠিত পায়ের ওপর জোরালো আঘাত করল!
হাড় ভেঙে যাওয়ার এক বিকট শব্দের সাথে সাথে এলিন তীব্র যন্ত্রণায় পুরো বেইজমেন্ট কাঁপিয়ে আবার চিৎকার করে উঠল! উযাইন কোনো বিরতি দিল না, পর পর কয়েক দফা ওর পায়ে রড দিয়ে নির্ম’মভাবে পেটাতে লাগল । সে নিজের একহাতে কপালের ওপর ছড়িয়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে এক কুখ্যাত পিশাচের মতো করে হেসে উঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
—”Say it again…!
এলিনও যন্ত্রণার শেষ সীমায় পৌঁছে এক অদ্ভুত সাইকো হাসি ফুটিয়ে উযাইনের চোখের দিকে তাকিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল—
—”She is my…
এলিন নিজের বাক্যটি পুরো শেষ করার আগেই উযাইনের হাতের রডটা আবার তীব্র গতিতে ওর পিঠে, কোমরে আর পেটে অনবরত আছড়ে পড়তে লাগল ! উযাইনের ফর্সা হাতের প্রতিটা নীল রগ রাগে ভেসে উঠেছে, কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরছে—সে যেন আজ এলিনের শরীরের প্রতিটা হাড়গোড় এক্কেবারে পিষে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে, ওর শরীরে আজ আস্ত একটা জংলী পশুর উন্মাদনা চেপে বসেছে!
এদিকে লোহার রডের অনবরত পেটানোর ধাক্কা খেতে খেতে এলিনের ছটফট করা ধীরে ধীরে একদম কমে এলো, তার পুরো শরীরের নড়াচড়া এক সময় এক্কেবারে নিস্তেজ হয়ে থিতিয়ে পড়ল। ঠিক তখনই… বেইজমেন্টের লোহার দরজা ঠেলে দ্রুত পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল ডাক্তার আসিফ ! আসিফ এক দৌড়ে এসে উযাইনের লোহার রড ধরা হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে ওকে থামাল। উযাইনের কাঁধ ঝাঁকিয়ে কড়া গলায় বলল—
—”শান্ত হ উযাইন…! জাস্ট শান্ত হ তুই! অনেক হয়েছে রে ভাই, এবার থাম! বাকিটা আমি নিজে নিজের এই হাত দিয়ে দেখছি, তুই সর!”
উযাইন নিজের হাতের রডটা একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ভারী ভারী নিশ্বাস নিতে নিতে থামল। সে এলিনের একদম মুখোমুখি নিজের এক হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। সে নিজের শক্ত ফরসা হাতটা বাড়িয়ে এলিনের রক্তাক্ত মুখটা জোর করে ওপরের দিকে উঁচিয়ে ধরল। ওর সেই মায়াবী আইস ব্লু চোখ দুটো তখন এক ভয়ংকর কোল্ড ক্রিমিনালের মতো জ্বলন্ত হয়ে স্থির হয়ে রইল।
উযাইন এলিনের কানের কাছে নিজের মুখ এনে, এক বরফ শীতল ধারালো গলায় ফিসফিসাল—
—”সে শুধুই আমার, এলিন কোরটান… তবে তোর এই নরকীয় শাস্তি এখানেই শেষ না…!”
বলেই উযাইন এক্টুও দয়া দেখাল না। সে নিজের দুই হাতের গায়ের পুরো শক্তি এক করে—এক ভয়ংকর বন্য টানে এলিনের পুরো বাম হাতটা এক্কেবারে মট করে ভেঙে গুঁড়ো করে দিল! এই বাম হাতটা দিয়েই কাল রাতে ড্যান্স ফ্লোরে আর ডিনার টেবিলে এলিন ইনশিরার হাত ছোঁয়ানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল ! হাত ভেঙে যাওয়ার এক প্রকাণ্ড যন্ত্রণার শেষ আর্তনাদ করে এলিন এক নিমেষে পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল। উযাইন নিজের শাটের কলারটা ঠিক করতে করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বেইজমেন্টের দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে চলে গেল ।
আসিফ এলিনের নিস্তেজ শরীরের পাশে এগিয়ে এলো। একটা ধারালো অ্যানাটমি সিরিঞ্জ বের করে এক ভয়ংকর ডার্ক কেমিক্যালের ইনজেকশন পুশ করে দিল এলিনের গায়ে!
আসিফ নিজের ঠোঁটের কোণে এক সাইকোপ্যাথিক সার্জন হাসি ফুটিয়ে ফিসফিসাল
রুহ এ ইশক পর্ব ২৮
“এবার পড়ে থাকো আজীবন নিজের এই বিছানায় পঙ্গু হয়ে…!”
বলেই আসিফ বেইজমেন্টের ডার্ক লোকেদের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু একটা গোপন অর্ডার দিয়ে নিজের জ্যাকেটটা গায়ে গলিয়ে ওখান থেকে ধীর পায়ে বাইরে বেরিয়ে চলে এলো।
