রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৮
মহাসিন
ঘর জুড়ে ক*বরের মতো নীরবতা। সেই নীরবতা চিরে শুধু শাপলার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সে একদম চুপ। ঠোঁটের কোণ বেয়ে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এলোমেলো চুলে ঢাকা মুখটা যেন ভেঙে পড়া একটা পুতুলের মতো। কপাল থেকে র*ক্তের ধারা নেমে এসে কানের নিচ, গলা ছুঁয়ে বুকে মিশে গেছে। তবুও তার দু’চোখ—সেই দু’চোখ স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে সিয়ামের দিকে। কিছু বলতে চায়, কিন্তু কণ্ঠ থেকে শব্দ বেরোয় না। চোখের পানি আর র*ক্ত মিশে গিয়ে মুখে এক ভয়ংকর আলপনা এঁকে দিয়েছে।
শাপলার এই অবস্থা দেখে সিয়ামের চোয়াল পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। চোখ দুটো মুহূর্তে হিং*স্র হা*য়না*র মতো জ্বলে উঠল। এই ভয়ংকর দৃষ্টি সরাসরি মেঝেতে পড়ে থাকা সিরাজের উপর গিয়ে পড়ল।
পরমুহূর্তেই, যেন সমস্ত পৃথিবী ভুলে গিয়ে, সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল শাপলার পাশে। কাঁপা হাতে শাপলার থুতনিতে ছুঁয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এই শাপলা… কী হয়েছে তোর? কথা বল। চুপ করে আছিস কেন? দেখ, আমি চলে এসেছি। আমাকে বল, শাপলা… কথা বল!”
শাপলার শুধু নিঃশ্বাস চলছে। সে অপলক চোখে সিয়ামকেই দেখে যাচ্ছে, যেন এই মুখটাই তার শেষ অবলম্বন
নীলাঞ্জনা, জেরিন সকলে স্তব্ধ। কবিতা ভয়ে শুকনো ঢোঁক গিলল। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে—এবার কি সব শেষ হয়ে যাবে?
নীলাঞ্জনা নিজেকে সামলে নিয়ে ফিসফিস করে আলোকে বলল, “তুই তাড়াতাড়ি রুমে যা।”
আলো রুমে চলে গেল।
সিয়াম আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। বিদ্যুতের মতো ছুটে গিয়ে সিরাজের কাছে।
“এত বড় কলিজা হয় কিভাবে তোর! তুই শাপলার দিকে হাত বাড়িয়েছিস?”
বলেই পা দিয়ে সিরাজের মুখে নি*র্মম লা*থি মা*রতে লাগল।
“তোর কলিজা টেনে বের করে কু*ত্তা দিয়ে খাও*য়াব আমি।”
ব্য*থায় সিরাজ কুঁকড়ে উঠল। কবিতার হাত-পা কাঁপছে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ। সিরাজ যদি এখন মুখ খোলে?
সিরাজ এক ঝটকায় সিয়ামকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে হিসহিসিয়ে উঠল,
“তোদের কাউকে ছাড়ব না আমি। আর শাপলা? ওকে তো ভো*গ করেই ছাড়ব!”
কথা শেষ হওয়ার আগেই সিয়ামের ঘু*ষি এসে পড়ল সিরাজের মুখে।
“তুই কিছুই করতে পারবি না!”
এরপর শুরু হলো প*শুর মতো প্রহার। নীলাঞ্জনার মাথা কাজ করছে না। কী হচ্ছে এসব? সে অসহায় চোখে আরিফের দিকে তাকাল, “কি হচ্ছে এসব?’
আরিফ ধীরে বলল, “আজ অফিসের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বাড়িতে চলে আসি। বাইরে থেকে শাপলার চিৎকার শুনে দরজা ধাক্কালাম, কেউ খুলল না। পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে দেখি… সিরাজ শাপলার স*র্ব*নাশ করতে যাচ্ছে। আমি যদি একটু দেরি করতাম…”
আরিফের কথা শুনে জেরিন আর নীলাঞ্জনা দুজনেই পাথর হয়ে গেল। জেরিনের চোখ গিয়ে আটকাল কবিতার মুখে। সব বুঝে গেল সে। এটা কবিতারই চক্রান্ত।
নীলাঞ্জনা দৌড়ে গেল শাপলার কাছে। জেরিন কাঁপা হাতে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল। নীলাঞ্জনা নিজের আঁচল দিয়ে শাপলার র*ক্ত মুছিয়ে, যত্ন করে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে পানি খাওয়াতে লাগল।
ওদিকে সিয়াম এখনও সিরাজকে মা*রছে।
“আজ তুই আমার হাত থেকে বাঁ*চবি না। শাপলার গায়ে হা*ত দিয়েছিস? তোর হাত আমি ভে*ঙে দেব!”
বলেই পাশে পড়ে থাকা ফুলদানি তুলে সজোরে আ*ঘাত করল সিরাজের বাঁ হাতে।
হা*ড় ভা*ঙার শব্দ হলো। সিরাজের করুন আ*র্ত*নাদে ঘর কেঁপে উঠল।
এই দৃশ্য দেখে কবিতা আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। সে প্রাণপণে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ছুটল। তার পিছু পিছু জেরিনও চলে গেল।
সিয়াম যখন সিরাজের ডান হাত ভা*ঙতে উদ্যত, ঠিক তখনই আরিফ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটকাল।
“আর না, সিয়াম! ওকে এবার পুলিশে দেব।”
সিয়াম পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল,
“না ভাইয়া! ছেড়ে দে আমাকে! এই কু*ত্তাটাকে আজ আমি মে*রেই ফেলব!”
আরিফ কোনোমতে তাকে আটকে রাখল। নীলাঞ্জনা দূর থেকে ডাকল, “সিয়াম! তাড়াতাড়ি এদিকে আসো!”
সিয়াম এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। ছুটে গেল শাপলার কাছে। মেঝেতে লুটোপুটি পড়ছে সিরাজ। আরিফ ফোন বের করে পুলিশকে কল দিল—তার গলা স্থির, কিন্তু চোখে আ*গুন।
ঘর জুড়ে এখন শুধু শাপলার ক্ষীণ নিঃশ্বাস, সিরাজের গোঙানি, আর আসন্ন ঝড়ের নিঃশব্দ পদধ্বনি।
ঘরের মধ্যে অস্থির পায়ে পাইচারি করছে কবিতা। ঠোঁট বিড়বিড় করছে,
“এবার কী হবে? আমি তো শে*ষ! সিরাজ তো সব বলে দেবে। নিজেকে কীভাবে বাঁ*চাব আমি?”
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল জেরিন। চোখে আ*গুন, কণ্ঠে আটকে থাকা কান্না। কবিতার দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় শুধালো,
“ভাবি… তুমি এটা কী করলে?”
কবিতা থমকে গেল। গলার স্বর কেঁপে উঠলেও চোখে ছিল মেকি বিস্ময়,
“আমি আবার কী করলাম?”
জেরিনের বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। সে এগিয়ে এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল,
“শাপলা… শাপলার ওই ক*রুন অবস্থা তুমি দেখোনি? ওর মুখের দিকে তাকানো যায় না ভাবি!”
কবিতা ভ্রু কুঁচকে হাসল, তার পর বলল,
“তুমি কী সব বলছো? মাথা ঠিক আছে তোমার? আমি কেন এসব করতে যাবো?”
জেরিন আর ধৈর্য রাখতে পারল না। চোখের কোণ চিকচিক করে উঠল।
“উফ্! আর মিথ্যা বোলো না ভাবি। তুমি একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের স*ম্মান নিয়ে কীভাবে খেলতে পারো? একটুও মায়া হলো না তোমার?
কী হলো, চুপ করে আছো কেন? বলো! তুমিই তো সিরাজকে দিয়ে এসব করিয়েছো, তাই না?”
কয়েক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর কবিতার ঠোঁটে ফুটে উঠল বিকৃত হাসি। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“হ্যাঁ… হ্যাঁ, আমিই করিয়েছি। যা করেছি বেশ করেছি। একদম উচিত কাজ করেছি।”
জেরিনের দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। গলা ধরে এল, তবু সে থামল না।
“আমি কখনো চাইনি শাপলার সাথে এমন হোক! আমি শুধু চেয়েছিলাম ওকে ভয় দেখিয়ে সিয়ামের জীবন থেকে সরিয়ে দিতে।
আমি কখনো ভাবিনি একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের ই*জ্জ*ত নিয়ে খেলবে তুমি।
কিন্তু তুমি… তুমি কীভাবে পারলে? তোমার বিবেকে একটুও বাঁধল না?”
কবিতার মুখ কঠিন হয়ে গেল। চোখে জ্বলে উঠল বি*ষাক্ত আ*গুন।
“শাপলার জন্য এই বাড়িতে কেউ আমাকে আর পাত্তা দেয় না! ওই শাপলার জন্য আমার বাবা-মা পর্যন্ত আমাকে ভালোবাসে না!
ও আসার পর থেকে আমি সবার চোখে ছোট হয়ে গেছি। হজম হয় নাকি এটা?”
জেরিন ব্যথায় চোখ বন্ধ করল। কণ্ঠে অসহায়তা আর ঘৃণা মিশে গেল,
“এসবের জন্য একমাত্র তুমিই দায়ী। নিজের ঘরে চুরি করতে তোমার হাত কাঁপল না?
তুমি কীভাবে পারলে নিজের মায়ের গহনা চুরি করতে?”
কবিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,
“চুরি করব না তো কী করব? আমার পছন্দের গহনা মা নীলাঞ্জনাকে দিতে চেয়েছিল।
আমি মায়ের কাছে চেয়েছিলাম, মা সাফ না করে দিল। উপায় ছিল না আমার।
আর ওই শাপলা… ও আমাকে চুরি করতে দেখে ফেলল। বারবার বললাম মুখ বন্ধ রাখতে। ও রাখল? দৌড়ে গিয়ে সব বলে দিল!”
জেরিনের কণ্ঠে এবার দৃঢ়তা ফিরে এল।
“শাপলা একদম ঠিক কাজ করেছে। চুরি করা অন্যায়।”
কবিতা তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল,
“তোমার দেখি এখন শাপলার জন্য দরদ উপচে পড়ছে!”
জেরিন এক পা এগিয়ে এল। তার কণ্ঠে ভালোবাসার গভীরতা, কিন্তু ভাঙেনি মেরুদণ্ড।
“দরদ উপচে পড়ছে না। আমি শুধু সত্যিটা বলছি। হ্যাঁ, আমি সিয়ামকে ভালোবাসি। পাগলের মতো ভালোবাসি।
কিন্তু সেই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমি কখনো অন্য একটা মেয়ের স*ম্মান নিয়ে খেলব না।
তুমি যা করেছো, সেটা ক্ষমার অযোগ্য।”
কবিতার মুখ বিকৃত হয়ে গেল রাগে। সে এগিয়ে এসে জেরিনের মুখের উপর ঝুঁকে বলল,
“ঠিক আছে। আজ থেকে তোমাকে আমি আর সাহায্য করব না।
তবে একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো জেরিন—সিয়ামকে তুমি কোনোদিন পাবে না। কোনোদিন না!”
কথা শেষ করে সে ঘুরে ড্রয়িংরুমের দিকে হনহন করে হাঁটতে লাগল।
জেরিন বিড়বিড় করছে, যেন নিজের ভাঙা মনটাকেই বোঝাচ্ছে,
“আমি কী করব এখন? সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে… কিছুই আর ঠিক লাগছে না।
আমি যে সিয়ামকে ভালোবাসি। পাগলের মতো ভালোবাসি।
শাপলার আগেই আমি ওকে ভালোবেসেছি। নিজের জীবনের চেয়েও বেশি, নিঃশ্বাসের চেয়েও গভীর করে।
কিন্তু… কিন্তু শাপলা আর সিয়াম—ওরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসে।
ওদের চোখের ভাষা বলে দেয়, ওদের নীরবতাও কথা বলে।
তাহলে আমি? আমি কীভাবে সিয়ামকে পাব?
আমার ভালোবাসাটা কি শুধুই একতরফা আ*র্তনাদ হয়ে থাকবে?
তাহলে কি সিয়ামকে আর পাওয়া হবে না আমার?
তাহলে কি আমার সব স্বপ্ন, সব রাত জেগে দেখা কল্পনা—সবই মিথ্যে হয়ে যাবে?”
কথাগুলো বলতে বলতে জেরিনের গলা ধরে এল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
দু’চোখ বেয়ে নোনা পানি গড়িয়ে পড়ল নিঃশব্দে।
ভালোবাসা,আর অসহায়ত্বের আ*গুনে পু*ড়তে থাকা মেয়েটা শুধু ফিসফিস করে বলল,
“হে আল্লাহ্ … এত ভালোবেসেও কি আমি শুধু হেরেই যাব?”
,চোখে পানি আর বুকে একরাশ ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে। জেরিন ড্রয়িং রুমের দিকে যেতে লাগলো।
মেঝের উপর নিস্প্রাণ পুতুলের মতো পড়ে আছে সিরাজ। ঘরের বাতাস এখনো ভারী—ঘৃণা, রাগ আর কান্নার মিশেলে।
ডাক্তার এসে নিপুণ হাতে শাপলার ক্ষতে ব্যান্ডেজ
বেঁধে দিয়েছে। মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ, চোখে ক্লান্তি আর অব্যক্ত য*ন্ত্রণা। ডাক্তার বেরিয়ে যেতেই শাপলা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। পা টলছে, শরীর ভেঙে পড়তে চাইছে, তবু সে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল সিরাজের দিকে।
সিরাজ মাথা তুলে তাকাল। ঠোঁটের কোণে সেই বাঁকা, বি*কৃত হাসি। যেন পরাজয়েও তার অহংকার ম*রেনি।
শাপলা থমকে দাঁড়াল। এক মুহূর্ত। তারপর সমস্ত ঘৃণা, সমস্ত অপমান একসাথে জমা করে থু*থু ছি*টিয়ে দিল সিরাজের মু*খে।
কণ্ঠে আ*গুন ঝরে পড়ল,
“আপনি পুরুষ জাতির কল*ঙ্ক! জ”ঘন্য, নোং*রা মন-মানসিকতার মানুষ আপনি। প*শুও আপনার চেয়ে ভালো!”
এমন সময় জেরিন এসে দাঁড়াল কবিতার পাশে। তার চোখ লাল, বুকের ভেতর ঝড়। সে ঝুঁকে পড়ে কবিতার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“আর তুমি… তুমি মেয়ে জাতির ক*লঙ্ক।”
কথাটা বু*লেটের মতো বিঁ*ধল কবিতার বুকে। তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, মুখ র*ক্তশূন্য। কিছু বলার আগেই বাইরে থেকে ভারী পায়ের শব্দ ভেসে এলো।
পুলিশ ঢুকল ঘরে। দু’জন কনস্টেবল সিরাজকে টেনে তুলল মেঝে থেকে। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সিরাজ হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, চোখে হিং*স্র দীপ্তি,
“শাপলা! আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব তোর জীবনে! তোর কা*ল হয়ে ফিরব আমি!”
তার কণ্ঠস্বর দূরে মিলিয়ে গেল।
সিরাজ চলে যেতেই কবিতা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কাঁপা বুকটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলো। পুলিশের গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ কানে যেতেই তার ঠোঁটে ফুটে উঠল স্বস্তির এক ক্ষীণ হাসি।
সিরাজ তার নাম মুখে আনেনি।
এবারের মতো… সে বেঁচে গেল।
দেখতে দেখতে কেটে গেল ছয়টা দিন।
রাত এখন সাড়ে দশটা। ঘড়ির কাঁটার মতোই জেরিনের বুকের ভেতরটাও চলতে আছে।
টেবিলের কোণে বসে সে অপলক চেয়ে আছে ফোনের স্ক্রিনে—সিয়ামের ছবির দিকে। সেই চেনা মুখ, সেই চোখ… যার দিকে তাকালেই হৃদয়ের সবটুকু উজাড় করে দিতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু আজ সেই চোখে তাকিয়ে জেরিনের বুক ফেটে যাচ্ছে।
চোখ থেকে অঝোরে নামছে শ্রাবণের মেঘের মতো অশ্রুধারা। ঠোঁট কাঁপছে, তবু শব্দ নেই। শুধু বিড়বিড় করে বলছে,
“আমি আপনার আর শাপলার জীবন থেকে চলে যাবো… এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমার।”
ধীর পায়ে উঠে গিয়ে টেবিলের সামনে বসল সে। হাতে কলম তুলে নিল।
প্রথম চিঠি লিখল সিয়ামের নামে। প্রতিটা অক্ষরে মিশে রইল তার আকুলতা।
চিঠি শেষ হতেই আবার শুরু করল দ্বিতীয় চিঠি। হয়তো শাপলার জন্য।
চিঠি দুটো লেখা শেষ হতেই জেরিন ধীর পায়ে উঠে দাঁড়াল। ঘরের নীরবতা ভেঙে বেরিয়ে গেল সে। পা দুটো যেন ভারী হয়ে আছে, প্রতিটা কদমে জমে আছে কান্না।
সায়েক আহমেদের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। হালকা টোকা দিয়ে বলল,
“আন্টি… ভেতরে আসব কি?”
ভেতর থেকে মহুয়া বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, ভেতরে আসো মা।”
জেরিন ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। চোখে পানি মুখে কৃত্রিম হাসি।
“আন্টি, আমি কাল বাড়ি চলে যাবো। অনেক দিন তো বেড়ানো হলো।”
মহুয়া চমকে উঠলেন,
“কী বলছো এসব! আরো কয়েকটা দিন থেকে যাও না।”
জেরিন মাথা নিচু করে বলল,
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৭
“না আন্টি… কাল সকালেই চলে যাবো। কবিতা ভাবি হয়তো যাবে না, কিন্তু আমি চলে যাবো।”
কথা শেষ করে সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ধীর পায়ে বেরিয়ে এল ঘর থেকে। নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
তারপর?
তারপর আর কেউ শুনল না—শুধু চার দেওয়ালের ভেতর বসে একটা মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল।
ভালোবাসাকে বিদায় জানানোর কান্না… যে কান্নার কোনো সান্ত্বনা নেই।
