Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৫

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৫

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৫
মহাসিন

‎সকাল ১০টা বাজে। সিয়াম, আরিফ আর নিরব তিনজনেই অফিসে চলে গেছে। ড্রয়িংরুমে শাপলা, কবিতা আর নীলাঞ্জনা কফির মগ হাতে নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। বাইরে রোদ, ভেতরে গল্পের গুঞ্জন।
‎কবিতা কফিতে চুমুক দিয়ে শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল,
‎”শাপলা, তোর কপালটা আসলেই ভালো। নাহলে যেখানে তোর কপালে চা জোটার কথা, সেখানে তুই কিনা কফি খাচ্ছিস।”
‎নীলাঞ্জনা ভ্রু কুঁচকে বলল,
‎”এসব কি ধরনের কথাবার্তা বলছো কবিতা?”
‎কবিতা হাত নেড়ে বলল,
‎”আরে ভাবী, আপনি চুপ করুন তো। আমি তো উচিত কথাই বলছি।”
‎একটু থেমে ও শাপলার দিকে ঝুঁকে বসল।
‎”আচ্ছা শাপলা, তুই সিয়ামকে ফাঁ_সা_লি কিভাবে? সত্যি করে বল তো।”

‎শাপলা শান্ত গলায় বলল,
‎”আমি কাউকে ফাঁ_সা_ই_নি আপু। আপনার ভাই-ই আমার পেছনে ঘুরছে। বিশ্বাস না হলে আপনার ভাই বাসায় আসলে জিজ্ঞেস করে নিয়েন।”
‎কবিতা আরো কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠল।
‎নীলাঞ্জনা গুটি গুটি পায়ে গিয়ে সদর দরজা খুলল। দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে সে অবাক হয়ে বলল,
‎”একি! তুমি কে? তোমাকে তো চিনলাম না।”
‎মেয়েটা মিষ্টি করে হাসল।
‎”আমি শাপলার ফ্রেন্ড।”
‎”ভেতরে আসো।”
‎শাপলা কলিকে দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠল। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
‎”কিরে কলি, কি অবস্থা তোর?”
‎কলি তার হাত ধরে বলল,
‎”এই তো ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?”

‎”আমিও ভালো আছি। তোর সাথে দেখা করতে মনটা ছটফট করছিল।”
‎নীলাঞ্জনা সোফা দেখিয়ে বলল,
‎”তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো।”
‎কলি বসে পরল।
‎শাপলা ওকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, “ও আমার ফ্রেন্ড, কলি।”
‎”কলি” নামটা কানে যেতেই নীলাঞ্জনা আর কবিতা দুজনেই চমকে উঠল। নীলাঞ্জনা কিছু না বলে রান্নাঘরে চলে গেল।
‎আর কবিতা? ও মনে ভাবতে লাগল,
‎”কলি… এই নামটা কোথায় যেন শুনেছি। কোথায় শুনেছি তো মনে করতে পারছি না কেন?”
‎শাপলা কলির হাত ধরে জিজ্ঞেস করল,
‎”তা, দীপা রাজুর সাথে তোর কথা হয়?”
‎”হ্যাঁ, প্রায়ই কথা হয়।”
‎শাপলা কবিতাকে দেখিয়ে বলল,
‎”এই হলো আমার কবিতা আপু।”
‎কলি মাথা নাড়ল, “ও আচ্ছা।”
‎কবিতা এবার স্বাভাবিক গলায় বলল,
‎”তা তোমার বাসার সবাই ভালো আছেন তো?”
‎”হ্যাঁ আপু, সবাই ভালো আছে।”

‎ড্রয়িংরুমে আবার আড্ডা জমে উঠল। কিন্তু কবিতার মাথার ভেতর “কলি” নামটা খচখচ করতে লাগল। কোনো একটা পুরনো স্মৃতি যেন দরজা খুলতে চাইছে।
‎নীলাঞ্জনা ট্রেতে করে নাস্তা নিয়ে ড্রয়িংরুমে এলো। এর পর কলির দিকে এগিয়ে দিল।
‎কলি খাওয়া শেষ করতে না করতেই সিঁড়ি বেয়ে বিরাজ ড্রয়িংরুমে নেমে এলো। চোখ পড়তেই কলির দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল,
‎”আগুন সুন্দরী!”
‎কলিও বলল, “ফোকরা মশাই!”
‎সাথে সাথে কবিতা, শাপলা, নীলাঞ্জনা তিনজনেই অবাক হয়ে তাকাল।
‎বিরাজ লজ্জা পেয়ে চলে যেতে নিল। নীলাঞ্জনা দ্রুত ওকে আটকে দিল।
‎”একি! কোথায় যাচ্ছো তুমি? দাঁড়াও এখানে।”
‎বিরাজ বেচারা কি করবে বুঝতে পারল না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কান দুটো লাল হয়ে গেছে।
‎কলি শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
‎”এই শাপলা, এই ছেলেটা এই বাড়িতে কেন?”
‎শাপলাও ফিসফিস করে জবাব দিল,
‎”আরে, এ তো সিয়ামের ফুফাতো ভাই। কেন, তুই কি তাকে চিনিস?”

‎কলি ঠোঁট টিপে হাসল,
‎”হ্যাঁ। এসব তোকে পরে বলবো।”
‎নীলাঞ্জনা কলির দিকে তাকিয়ে ভ্রু তুলে বলল,
‎”তা তুমি বিরাজকে দেখে ফোকরা মশাই বলছো কেন?”
‎কলি আমতা আমতা করে বলল,
‎”না মানে… মানে…”
‎কবিতা মুখ হাসি চেপে বলল,
‎”কি ‘না মানে না মানে’ শুরু করছো? সত্যিটা বলো।”
‎কলি চোখ বুজে এক নিঃশ্বাসে বলল,
‎”হ্যাঁ, আমরা দুজন দুজনকে চিনি। আসলে একদিন এনার গাড়ির সাথে আমার ধাক্কা লেগেছিল। সেই থেকেই চেনা।”

‎নীলাঞ্জনা হাসল, “এই কাহিনী আমরা আগেই জানি। বিরাজ আমাদের বলেছে।”
‎কলি এবার উঠে দাঁড়াল।
‎”আচ্ছা, এবার আমাকে যেতে হবে। অন্য একদিন আসব।”
‎নীলাঞ্জনা অবাক হয়ে বলল,
‎”আরে একি! এই তো এলে, আর এখনই চলে যাবে? তা কি হয়?”
‎কলি হাত জোড় করল,
‎”না ভাবী। সত্যি তাড়া আছে। বাড়িতে বলে আসিনি।”
‎যাওয়ার আগে একবার বিরাজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। বিরাজের বুকটা ধক করে উঠল।
‎কলি চলে যাওয়ার পর বিরাজ কপাল কুঁচকে বলল,
‎”কলি এখানে কিভাবে এলো? আর তোমরা ওকে কিভাবে চেনো?”
‎নীলাঞ্জনা বলল, “কলি হচ্ছে শাপলার ফ্রেন্ড। আমি আগে চিনতাম না। শাপলার মুখে শুধু নাম শুনেছি। আজ কলি শাপলাকে দেখতে এসেছিল, এই আর কি।”

‎শাপলা আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জামাকাপড় গুছিয়ে রাখছে। দুপুর দুটো। বাইরে প্রচণ্ড রোদের তাপে সবকিছু যেন আ_গু_নের হলকায় পু_ড়_ছে। আকাশে এক ফোঁটা মেঘ নেই, বাতাসেরও কোনো চিহ্ন নেই। জানালা দিয়ে আসা তীব্র আলোয় ঘরটা যেন সোনালি আ_গু_নে ভরে গেছে।
‎হঠাৎ পিছন থেকে দুটো শক্ত হাত তার কোমর জ_ড়ি_য়ে ধরল। শাপলা ভ_য়ে আঁ_তকে উঠে চিৎকার করে উঠল,
‎“কে!”
‎“আমি… তোর স্বামী,” সিয়াম ফিসফিস করে তার কানের কাছে বলল। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার ঘাড়ে লেগে শিহরণ জাগিয়ে দিল।
‎শাপলা এক ঝটকায় ঘুরে তাকে সরিয়ে দিল। গালে লজ্জা আর রাগ মিশে গেছে।
‎“এভাবে চুপিচুপি এসে জ_ড়ি_য়ে ধ_র_লেন কেন? আমি ভ_য় পাইছি!”
‎সিয়াম মুচকি হেসে আচমকা তার ঠোঁটে একটা গভীর চু_মু খে_য়ে বলল, “এখন আর ভ_য় লাগবে না।”
‎শাপলার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় চোখ নামিয়ে সে বলল, “অফিস থেকে এত তাড়াতাড়ি চলে এলেন যে?”
‎সিয়াম তাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে জ_ড়ি_য়ে ধ_রল। তার বুকের সাথে শাপলার শরীর লেগে গেল। গভীর, মোলায়েম গলায় সে বলল,

‎“অফিসে বসে থাকতে থাকতে তোর কথা মনে পড়ল। আমার বউটা ছাড়া কিছুই ভালো লাগছিল না। রো_মা_ন্সে_র জন্য মনটা হু হু করছিল, তাই ছুটে চলে এলাম।”
‎শাপলা লজ্জায় তার বুকে মুখ লুকিয়ে বলল, “আরে, আমাকে ছা_ড়ু_ন। দরজা তো খোলা রয়েছে। কেউ এসে পড়লে কী হবে?”
‎সিয়াম বাঁকা হাসি দিয়ে তাকে ছেড়ে দরজার কাছে গেল। দরজা আটকে দিয়ে ফিরে এসে বলল, “এখন আর কেউ আসবে না।”
‎শাপলা ঢোঁক গিলে পিছিয়ে গেল, “এই… দরজা আটকে দিলেন কেন?”
‎সিয়াম তার কাছে এগিয়ে এসে কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
‎“কারণ… এখন আমি তোকে অনেক অনেক আ_দ_র করব। তোর সারা শ_রী_রে আমার ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই।”
‎শাপলা পিছু হটতে হটতে বিছানায় পড়ে গেল। সিয়াম ধীরে ধীরে তার উ_পর ঝুঁ_কে পড়ল। তার শরীর থেকে বের হওয়া পুরুষালি ঘামের গন্ধ শাপলার নাকে গিয়ে লাগতেই তার মাথাটা কেমন মাতা_ল হয়ে গেল। সিয়াম প্রথমে তার কপালে, তারপর চোখে, তারপর ঠোঁটে নরম করে চু_মু দিল। চু_মুগুলো ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগল। তার ঠোঁট থেকে গলায়, গলা থেকে কাঁধে নেমে এল আ_দ_রের স্রোত।

‎শাপলা আর নিজেকে সা_ম_লা_তে পারল না। দু’হাত দিয়ে সিয়ামকে শক্ত করে জ_ড়ি_য়ে ধরল। তার নখ সিয়ামের পিঠে আলতো করে বসে গেল। সিয়াম তার শরীরের প্রতিটি বাঁকে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল কোমর, পিঠ, ঘাড় যেন প্রতিটি স্প_র্শে তার ভালোবাসার গভীরতা বলে দিচ্ছে।
‎সিয়াম উঠে বসে শার্টের বোতাম খু_ল_তে শুরু করল। শাপলা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার উন্মুক্ত বু_কে_র দিকে। সিয়াম শার্টটা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে আবার তার উ_পর ঝুঁ_কে পড়ল। শাপলা কাঁপা হাতে তার বুকে হাত রাখল, তার উষ্ণতা অনুভব করল। কিন্তু পরক্ষণেই সে সিয়ামকে সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল।
‎সিয়াম বিরক্ত হয়ে বলল, “কী হলো? সরিয়ে দিলি কেন? আরেকটু রো_মা_ন্স করতে দে না, সোনা।”
‎শাপলা মুচকি হেসে বলল, “আর রো_মা_ন্স করতে হবে না। আপনার শরীর থেকে প্রচণ্ড ঘামের গন্ধ আসছে। আগে গোসল করে আসুন। তারপর…”
‎সিয়াম বাচ্চাদের মতো মুখ করে বলল, “আরেকটু আ_দ_র করব, প্লি_জ…”

‎শাপলা হেসে তাকে ঠেলে ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে গেল।
‎এর পর শাপলা বিছানায় বসে লজ্জায়-
‎আনন্দে মাথা নিচু করে হাসল। বাইরের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও তাদের ঘরে যেন একটা মিষ্টি, মাদকতাময় বাতাস বইতে শুরু করেছে।
‎হঠাৎ কলির কথা মনে পড়ে গেল শাপলার। দেরি না করে ফোনটা হাতে নিয়ে কলি কে কল দিল।
‎রিং বাজতে বাজতে কলি রিসিভ করল।
‎শাপলা বলল ,
‎”হ্যালো! কিরে, কি করছিস তুই?”
‎”এই তো, বসে আছি।”
‎শাপলা মৃদু হেসে বলল,
‎”বিরাজ ভাইয়া কিন্তু তোকে পছন্দ করে।”
‎ওপাশ থেকে কলির গলা,
‎”হ্যাঁ, জানি। আমাকে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু আমি এখনো হ্যাঁ বলিনি। বলেছি, ভেবে পরে জানাবো।”

‎শাপলা সোজা প্রশ্ন করল,
‎”তুই আগে এটা বল, বিরাজ ভাইয়াকে তোর কেমন লাগে?”
‎কলি চুপ করে গেল।
‎”কি হলো? চুপ করে আছিস কেন? বল।”
‎কলি লাজুক গলায় বলল,
‎”হ্যাঁ, ভালো লাগে। সে সুন্দর, হ্যান্ডসাম, তাই ভালো লাগে। তবে আমি নিজেও জানি না, আমি তাকে ভালোবাসি কিনা।
‎শাপলা গম্ভীর হয়ে বলল,
‎”তুই এখন বেশি করে বিরাজ ভাইয়ার সাথে কথা বলবি। কোথাও ঘুরতে যাবি। তার সাথে সময় কাটাতে কাটাতে তুই নিজেই বুঝতে পারবি।”
‎কলি ফিসফিস করে বলল,
‎”কিন্তু তাকে দেখলে আমার অনেক লজ্জা লাগে। তার সাথে কথা বলতে গেলে হাত পা কাঁপে। এমন হয় কেন রে?”
‎শাপলা হেসে বলল, “সময় হলে নিজেই বুঝতে পারবি।”
‎কলি এবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আচ্ছা, আর একটা কথা।”
‎”কি?”

‎”যেদিন তার গাড়ির সাথে আমার ধাক্কা লেগেছিল, সেদিন আমি তার কাছে টাকা চেয়েছিলাম। তারপর কি হলো জানিস?”
‎”কি হলো?”
‎”আর কি হবে! আমাকে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিল।”
‎শাপলা চোখ বড় বড় করে বলল,
‎”তাহলে তো বুঝাই গেল, বিরাজ ভাইয়া তোকে প্রথম দেখাতেই অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। তাই তোকে টাকা দিতে তার হাত একটুও কাঁপেনি।”
‎একটু থেমে শাপলা বলল, “এবার তুই সিদ্ধান্ত নে, কি করবি।”
‎কলি হাসল, “আচ্ছা, পরে কথা হবে। বাই।
‎এই বলে কলি কল কেটে দিল। ফোনটা রেখে জানালার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
‎হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ ভেসে এলো ঠক ঠক। কলি চমকে উঠলো। দ্রুত পায়ে গিয়ে দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে ওর পা দুটো জমে গেল।
‎তার সৎমা, অলেকা বেগম। চোখে মুখে কঠিন রাগের ছায়া। বিনা বাক্যে ঘরে ঢুকেই গম্ভীর গলায় বললেন,
‎“তোর আর পড়াশোনা হবে না কলি। এত খরচ চালানো সম্ভব না।”
‎কলির মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড ও কথা বলতে পারল না। তারপর কাঁপা গলায় বলল,
‎“মানে? কি বলছো এসব? তোমার ছেলেরে ম__দ গাঁ__জা__র খাওয়ার টাকা তো ঠিকই দাও!”

‎কথাটা শেষ হতেই ঠা_স করে একটা চ_ড় এসে পড়ল ওর গালে।
‎অলেকা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
‎“ওরে হা_রা_ম_জা_দি! যত বড় মুখ না, তত বড় কথা!”
‎গালে হাত দিয়ে কলি চিৎকার করে উঠল,
‎“আমি খারাপ কি বলছি? যা সত্যি তাই তো বলছি!”
‎“তোর বড় বড় কথা আমি বের করছি। তোর বিয়ে দেব। তারপর দেখব কত বড় বড় কথা বলতে পারিস।”
‎কলির চোখে পানি টলমল করছে।
‎“মা, তোমার মাথা ঠিক আছে তো?”
‎“চুপ! একদম চুপ। তোর পেছনে টাকা খরচ করার চেয়ে সেই টাকা দিয়ে তোর বিয়ে দেওয়াই ভালো। কাল পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে।”
‎“আমি বিয়ে করব না।”
‎“তুই করবি না তো কি তোর ঘাড় করবে? আমি বলেছি মানে বলেছি।”
‎কলি কান্না চেপে বলল,
‎“আমি যদি তোমার নিজের মেয়ে হতাম, তাহলে কি এমন করতে পারতে?”

‎অলেকা বেগমের ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
‎“এজন্যই তো তুই আমার মেয়ে না। ম_র_তে পারলি না তোর মায়ের সাথে।”
‎কথাটা কলির বুকের ভেতর ছু_রির মতো বিঁ_ধে গেল। অলেকা বেগম ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই কলি ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল।
‎চোখ বেয়ে নামল শ্রাবণের অশ্রুধারা। কান্নায় ভেঙে পড়ে ও চিৎকার করে উঠল।
‎“মা… তুমি ম_রে গিয়ে বেঁ_চে গেছো। আর আমার জীবনটা ন_র_ক বানিয়ে রেখে গেছো। বাবা থেকেও নেই… এবার আমার কি হবে?”
‎ছোটবেলায় মা মা_রা যাওয়ার পর বাবা বিয়ে করেন অলেকা বেগমকে। তার আগের ঘরের একটা ছেলে আছে। যে কলিকে দু’চোখে দেখতে পারে না।
‎অলেকা বেগমও কলি সহ্য করতে পারেন না। দিনের পর দিন অ_ত্যা_চার, অ_পমা_ন সহ্য করেও কলি চুপ করে থাকে।
‎কারণ ওর বাবা? তিনি হলেন বউয়ের ভক্ত দাস। বউ দাঁড়াতে বললে দাঁড়ান, বসতে বললে বসেন। মেয়ের জন্য একটা কথাও বলেন না।
‎ঘরের এক কোণে মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কলি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
‎ন_র_কে_র দরজাটা যেন আজ তার জন্যই খুলে গেল।

‎রাত ১০টা। শহরের সব কোলাহল থেমে যাচ্ছে প্রায় । নিরব ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। ওর বুকের ভেতর ছটফট করছে অস্থিরতা।
‎হাতে ফোন। চুমকির নাম্বারে বারবার কল যাচ্ছে… কেউ ধরছে না।
‎একবার, দুইবার, দশবার… রিসিভ হলো না।
‎নিরব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ারে বসে পড়ল। মাথার চুলগুলো এলোমেলো। রাতের নরম বাতাস এসে তার রাগ, অভিমান, অপেক্ষা সব স্পর্শ করে যাচ্ছে।
‎হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
‎নিরবের ঠোঁটের কোণে খেলে গেল এক চিলতে হাসি। অভিমান ভুলে তাড়াহুড়ো করে কল রিসিভ করল।
‎“কতবার কল দিলাম তোমাকে। রিসিভ করলে না কেন?”
‎“আরে, একটু ব্যস্ত ছিলাম। তাই রিসিভ করতে পারিনি।”
‎নিরব ভ্রু কুঁচকালো।
‎“এত রাতে কিসের ব্যস্ততা?”

‎“বাড়িতে মেহমান এসেছে। মাকে একটু হেল্প করছিলাম। তা আপনি কি করেন এখন?”
‎ “এই তো, ব্যালকনিতে বসে তোমার সাথেই কথা বলি।”
‎“কি! এত রাতে ব্যালকনিতে? সাহস তো কম না আপনার। পেতনিতে ধরলে কি করবেন শুনি?”
‎“পেতনিতে ধরলে তো ভালোই হয়। কখনো দেখিনি। দেখা হয়ে যাবে। তারপর লিখে ফেলব একটা ভূতের গল্প।”
‎“তাই নাকি? কিন্তু পেতনি তো আপনার ঘাড় মটকে দেবে।”
‎“তুমি কিভাবে জানলে?”
‎“কেন, গল্প শোনেননি? রাতের বেলা ব্যালকনিতে, ছাদে কেউ থাকলে পেতনির চোখে পড়ে গেলে ওরা ঘাড় মটকে দেয়।”
‎নিরব হেসে বলল,

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৪

‎“ঘাড় মাঝে মাঝে ব্যথা করে। ম্যাসাজ হয়ে যাবে। পেতনি আসুক, সমস্যা নাই।”
‎নিরবের কথা শুনে চুমকি খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসির শব্দ রাতের নীরবতাকে আরও সুন্দর করে তুলল।
‎তারপর… দুজন হারিয়ে গেল গল্পে। ফোনের ওপাশে চুমকি, এপাশে নিরব। মাঝখানে শুধু রাতের বাতাস আর এক সমুদ্র ভালোবাসা।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here