Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৯

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৯

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৯
মহাসিন

সিয়াম ধীর পায়ে করিডোর পেরিয়ে রুমে ঢুকল। শাপলা এখনো জানালার পাশে বসে আছে।
সিয়াম ওর দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল,
“বিরাজ রাজি হইছে।”
শাপলার মুখে মুহূর্তেই আলো ফুটে উঠল।
“সত্যি?”
“হ্যাঁ। আমি, তুই আর বিরাজ গিয়ে কলিকে নিয়ে আসব।”
সিয়াম ধীরে ধীরে শাপলার কাছে এগিয়ে এলো। ওর এলোমেলো চুলগুলোর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকাল।
“চুলগুলোর কী অবস্থা করেছিস হ্যাঁ?”
“ধ্যাত, ভালো লাগে না বারবার আঁচড়াতে।”
” আমার কাছে আয়, আমি আঁচড়ে দিই।”
শাপলা মুখ বাঁকাল। “আপনি পারবেন না।”
“চল দেখিয়ে দিই পারি কি না,” বলেই সিয়াম শাপলার হাত ধরে টেনে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসাল।
ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে নীল রঙের চিরুনিটা তুলে নিল ও। তারপর খুব যত্নে শাপলার চুলে চিরুনি চালাতে লাগল।

শাপলা মুখ কুঁচকে বলল, “আহ্! আস্তে, ব্য_থা পাচ্ছি তো।”
সিয়াম বাঁকা হাসি দিল। “একটু তো ব্য_থা লাগবেই।স_হ্য করে নে।
“স_হ্য করতে পারছি না ”
চুলের যে অবস্থা করে রেখেছিস। এখন আঁচড়ালে তো ব্য_থা লাগবেই ।
“আমার ভালো লাগে না এই চুল আঁচড়াতে।”
শাপলা একটু থেমে আবার বলল, “আচ্ছা আমি বরং টাক হয়ে যাই, তাহলে কেমন হয়?”
সিয়াম চোখ বড় করে তাকাল, “তোর মাথা ঠিক আছে তো? টাক হতে হবে না।”
“তাহলে চুল কেটে খাটো করলে কেমন হয়?”
সিয়াম এবার চোখ রাঙাল, “একটা লা_থি দেব, বাড়ির বাগানে গিয়ে পড়বি। তোর মাথায় কি সব গু নাকি?”
শাপলা ঠোঁট উল্টাল, “আমার মাথায় কেন গু হবে?”

” গু না হলে কেউ এত সুন্দর লম্বা চুল কাটতে চায়?”
“আমার এই বড় চুল সামলাতে কষ্ট হয়।”
“আমি তো আছি,” এই বলেই সিয়াম শাপলার কপালে আলতো করে একটা চু_মু দিল।
তারপর আবার খুব মন দিয়ে, ধীরে ধীরে শাপলার চুল আঁচড়ে দিল। সব জট ছাড়িয়ে, সুন্দর করে বিনুনি করে দিল।
কাজ শেষে আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল, “এবার দেখ, কত ভালো লাগছে। আর এতক্ষণ পাগলের মতো লাগছিল।”
শাপলা আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখে লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল। ঘরজুড়ে নেমে এলো এক টুকরো নীরব প্রশান্তি।

সময় গড়িয়ে গেছে। রাত ৯ টা বাজে। বাড়ির দেয়াল ঘড়িটা টিকটিক করে সময় জানান দিচ্ছে।
সিয়াম, শাপলা আর বিরাজ তিনজনেই তৈরি হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল। সবার চোখে একরকম দৃঢ়তা, একরকম ভয়ও।
নীলাঞ্জনা সোফা থেকে উঠে বলল, “তোমরা যে কলিকে আনতে যাচ্ছ, ওর মা বাবা যদি দেখে ফেলে তাহলে কী হবে?”
সিয়াম কাঁধ ঝাঁকাল। “দেখলে দেখুক তো। তাদের সামনে থেকেই তাদের মেয়েকে তু__লে নিয়ে আসব।”
কবিতা মুখ বাঁকাল, “হ্যাঁ, মগের মুল্লুক তো। তোরা যা চাবি তাই করবি, তারা কিছু বলবে না?”
সিয়াম হেসে বলল, “তুই তো ঝগড়া করায় এক্সপার্ট। আমাদের সাথে চল। কিছু হলে তুই তাদের আটকাবি।”
সিয়ামের কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। টেনশনের মাঝেও একটুকরো হালকা বাতাস।
নীলাঞ্জনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সাবধানে কিন্তু।”
সিয়াম মাথা নাড়ল, “ঠিক আছে। আমরা তাহলে এবার যাই।”
এই বলেই তিনজনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা ঘরের ভেতর প্রতিধ্বনি তুলল।
কবিতা নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল, চোখে দুশ্চিন্তা। “এসব কিন্তু একদম ঠিক হচ্ছে না। কলির মা বাবা যদি মা_ম_লা করে, তখন কী হবে?”
নীলাঞ্জনা ওর কাঁধে হাত রাখল, “এত চিন্তা করো না তো। কিছুই হবে না। ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কী করে।”

এরপর নীলাঞ্জনা আরিফ আর নিরবের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমরা গিয়ে ফুল কিনে আনো। ওদের জন্য বা_স_র ঘর সাজাতে হবে।”
কবিতা মুখ ভেংচে বলল, “কি এমন ঢংয়ের বিয়ে, তার জন্য আবার বা_স_র ঘর?”
আরিফ বিরক্ত হয়ে বলল, “তুই এমন কেন করিস?”
“তো কী করব? তোরা যা করতেছিস, তা কি ঠিক?”
আরিফ একটু থেমে বলল, “হ্যাঁ, ঠিক না। তবে এসব করা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে কি?”
কথাটা শুনে কবিতা চুপ হয়ে গেল।
“আমরা তাহলে গেলাম।”
এই বলেই আরিফ আর নিরব বেরিয়ে গেল ফুল কিনতে। ড্রয়িংরুমে পড়ে রইল কবিতা আর নীলাঞ্জনা।
কবিতা সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলল, “ভাবী যান তো, কফি আনেন। একটু কফি খাই।”
নীলাঞ্জনা হাসল। “ঠিক আছে। তুমি বসো, আমি গিয়ে কফি বানিয়ে আনি।”
এই বলেই নীলাঞ্জনা কিচেনে চলে গেল। কিচেন থেকে কফির মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসতে লাগল। একটু পর দুই কাপ কফি হাতে নিয়ে এসে এক কাপ কবিতার দিকে বাড়িয়ে দিল। তারপর নিজেও ধুপ করে সোফায় বসে পড়ল।
হঠাৎ নীলাঞ্জনার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভাসা নামটা দেখেই ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।

কবিতা কফিতে চুমুক দিতে দিতে জিজ্ঞেস করল, “কে কল দিছে?”
নীলাঞ্জনা কলটা রিসিভ করতে করতে বলল, “আমার বোন।”
ওপাশ থেকে নীলাঞ্জনার বোনের মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এলো, “হ্যালো আপা, কেমন আছিস তুই?”
নীলাঞ্জনার গলাও নরম হয়ে গেল, “ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?”
“আমিও ভালো আছি।”
” বাসার সবাই ভালো আছে তো?”
“হ্যাঁ, ভালো আছে।”
“আলোর সাথে কথা বলিস কি?”
“হ্যাঁ, কথা বলি। আমি আলোকে কল দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলছি।” একটু থেমে আবার বলতে লাগলো, “আচ্ছা, আরিফ ভাইয়া কোথায়?”
“একটু বাইরে গেছে।”
“আচ্ছা মা ডাকছে, পরে কথা বলি।”
এই বলে নীলাঞ্জনার বোন কল কেটে দিলো।

কলি ব্যালকনির রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাতের ঠান্ডা বাতাস তার চুল উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার চোখ দুটো শুকনো নয়। দু’চোখ বেয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছে। ঘড়ির কাঁটা যেন তার বুকের ভেতর টিকটিক করে বাজছে। দশটা বেজে গেছে অনেকক্ষণ। বিরাজের আসার কথা ছিল দশটায়। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া নেই।
তার মনে হচ্ছে, পৃথিবীটা যেন ধীরে ধীরে তার চারপাশ থেকে সরে যাচ্ছে। বুকের ভেতর একটা অসহ্য য_ন্ত্র_ণা। বিরাজ যদি না আসে? যদি সবকিছু মিথ্যে হয়? এই চিন্তায় তার শরীর কেঁপে উঠল। ফোনের টাকা শূন্য। কল করারও উপায় নেই। শুধু অপেক্ষা। আর অপেক্ষা।
হঠাৎ অলেকা বেগমের রাগে ফেটে পড়া কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
“কলি! এই কলি! কোথায় গেলি তুই? তাড়াতাড়ি নিচে আয়, ভাত খেতে আয়!”
কলি চোখ মুছতে মুছতে দ্রুত ব্যালকনি থেকে সরে এলো। খাবার ঘরে পা রাখতেই অলেকা বেগম তার দিকে তাকালেন তীক্ষ্ণ চোখে।

“কই ছিলি এতক্ষণ? সেই কখন থেকে ডাকছি।”
“কোথাও না,” কলির গলা ফিসফিস করে বের হলো।
“তাড়াতাড়ি খেয়ে নে। আর শোন, কালকে কোনো ঝামেলা করবি না। মনে থাকে যেন।”
কলির হাত কাঁপছে। সে মাথা তুলে অলেকা বেগমের দিকে তাকাল। চোখে আ_গু_ন আর অসহায়তা মিশে আছে।
“তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে। আমার বিয়ে দেবে। তবে জীবন্ত কলির নয়। মৃ__ত কলির বিয়ে দিয়ো।”
অলেকা বেগমের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
“হ্যাঁ, তুই ম_র_লে_ই তো ভালো হয়। এই আপদ চিরকালের জন্য বিদায় হবে।” বলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
কলি ভাতও গিলতে পারল না। গলায় কাঁটা বিঁধছে। চোখের পানি আর থামছে না। সে উঠে নিজের ঘরে চলে গেল। টেবিলের ওপর কাগজ কলম নিয়ে বসল। হাত কাঁপতে কাঁপতে চিঠি লিখলো।
চিঠিটা বিছানার ওপর রেখে সে আবার ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। রাস্তা এখনো খালি। বিরাজ আসেনি। তার বুকের ভেতর শেষ আশার আলোটুকুও নিভে যাচ্ছে।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৮

“তাহলে কি আপনি আমাকে মিথ্যে বলেছিলে?” ফিসফিস করে বলল সে। “যদি না আসেন, তাহলে তো আমার জী_ব_ন শে_ষ।”
সিদ্ধান্ত নিতে তার আর সময় লাগল না। ঘরে ঢুকে আলমারি খুলে একটা মোটা শাড়ি বের করল। ব্যালকনির রেলিংয়ের সঙ্গে শাড়িটা শক্ত করে বেঁধে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল। পায়ে কাঁটা ফুটছে, হাত কেটে যাচ্ছে কিন্তু সে থামল না। মাটিতে পা রাখতেই ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পাগলের মতো দৌড়াতে শুরু করল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here