রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৩৪
সোহানা ইসলাম
এই কথাটা শোনার পর জারার গাল লাল হয়ে গেল। হঠাৎ যেন বুকের ভেতর ধকধক শুরু হয়ে গেল। কিছু বলতে পারছে না। শুধু চোখ নামিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।
আরমান জারার এই অবস্থা দেখে হাসি চাপতে পারল না।
আরমান:– “চুপ করে দাঁড়িয়ে আছো কেন? কিছু বলো।”
কিন্তু জারা একটাও শব্দ করল না। তার ঠোঁট কাঁপছে, হাতের আঙুল গুলো চেপে ধরেছে। লজ্জায় যেন মাটিতে মিশে যাচ্ছে।
আরমান আরও কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরমান:— “কি হলো? Answer দিবে না নাকি? নাকি হ্যাঁ রেডি করছ?”
জারা এবার এক পা পিছিয়ে গেল। মুখে লাজুক হাসি, কিন্তু কিছু বলল না।
___“ওওওরে লজ্জা পাচ্ছো। আচ্ছা একবা মাক্স টা খুলবে প্লিজ! অনেক দিন ধরে আমার হাফ ইঞ্চি মেয়ে এর মুখটা দেখি না। এই অদম কে তোমার চাঁদ মুখখানা দেখিয়ে তৃষ্ণা মেটাবে একবার।”
জারা’র দৃষ্টি এলোমেলো হলো লজ্জায়। আরমানের এমন তৃষ্ণাত্ব গলায় বলা কথা টা যেন ফেলতে পারল না জারা। মাথা নিচু করে মুখের মাক্স খুলে। কিন্তু লজ্জায় আর মাথা উচু করতে পারে না সে।
আরমানের কাছে এখন যেন জারা কে লজ্জা পতি গাছের মতো লাগছে। একটু ছুঁয়ে দিলে একেবারে নুয়ে পড়বে। জারা’র থুঁতনিতে হাত দিয়ে আরমান ওর মুখ উঁচু করে নিজের চোখের সামনে ধরে। জারা’র দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরমান। যেন কতো দিনের তৃষ্ণা মিটাচ্ছে সে।
আরমানের এমন কাজে আরও লজ্জা পায় সে। জারা বোঝতেই পারছে আজ তার এতো লজ্জা কোথাথেকে আসছে এতো।
আরমান হঠাৎ করে জারা’কে ছেড়ে দিয়ে বলে__ “তোমার ফোন বের করো।”
আরমানের হটাৎ এহন কথায় জারা চমকে উঠে বলে___“কি? কেন?”
আরমান চোখ রাঙিয়ে বলে__“ফোন দাও। এখনই।”
জারা থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ফোন বের করল। আরমান ফোন হাতে নিয়ে অন করে দেখল—লক নাই!
“Wow! No password? That’s risky, Jara!”
আরমান জারা’র দিকে তাকিয়ে বলে__“আমার নাম্বার সেভ করা?”
জারার মুখ শুকিয়ে গেল। ভয়ে ভয়ে বলল,
__ “হুম… সেভ করা আছে।”
__“তাহলে কল দিলে ধরো নাই কেন এতোদিন ?নাম্বার চিনতে না না-কি ইচ্ছে করে আমাকে Avoid করতেছিলে?”
জারা আবার চুপ। মাথা নিচু।
আরমান ফোন গাটতে শুরু করল। Contacts… না, কিছু বুঝতে পারছে না। তাই সোজা WhatsApp খুলে ফেলল।
হঠাৎ তার চোখ বড় হয়ে গেল। চড়কগাছ!
___ “Sweet Boy?! Seriously Jara?! আমার নাম্বার তুমি Sweet Boy দিয়ে সেভ করছ?”
জারার গাল এবার টমেটো রঙের। সে চুপ করে মাথা নামিয়ে ফেলল।
আরমান হাসি চেপে বলে
___ “Sweet Boy, huh? Cute name though. কিন্তু শোনো, এভাবে সেভ করলে তো কল মিস করা যায় না। So why, huh?”
জারা আস্তে আস্তে বলল___ “ভুল হয়ে গেছে…”
আরমান চোখ টিপ দিয়ে বলে
__ “Oh really? Next time ভুল হলে punishment ready থাকবে।”
ঠিক তখনই হঠাৎ হাসির শব্দ। পেছনে তাকিয়ে দেখে মিম, ফিহা আর জাহেদ দাঁড়িয়ে আছে। তিনজনের চোখে শয়তানি হাসি।
মিম:—“ও মাই গড! What a romantic scene! আমরা কি Disturb করলাম নাকি?”
ফিহা:— “জারা, Sweet Boy? Seriously girl?”
জাহেদ:— “ভাই, কাহিনী কি? পটিয়ে ফেলছো নাকি?”
আরমান হঠাৎ জাহেদের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল।
___“জাহেদ… কথা বেশি হলে খারাপ হবে।”
জাহেদ হেসে চুপ করে গেল।
এদিকে মিম আর ফিহা জারাকে টিজ করতে লাগল,
মিম:—“জারা, তোর গাল তো দেখি টমেটো হয়ে গেছে!”
ফিহা:—“Sweet Boy নামটা কিন্তু অনেক perfect! তাই না ভাইয়া?”
জারা লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে রইল। কিছু বলল না। তার শয়তান বান্ধবীরা ও তাকে কেমন লজ্জায় ফেলছে?
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো। কিন্তু তারা এখনো ঘাটেই দাড়িয়ে আছে। অনেক সময় চলে গেছে তাই এখন তাদের বাড়ি যাওয়া প্রয়োজন। ফিহা জাহেদকে চোখে ইশারা দিয়ে বোঝায় এখন তাদের বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু জাহেদ ফিহার ইশারা না বোঝে একটা ঠোঁট গোল করে চুমু দিয়ে দেয় ইশারায়। এতে ফিহাও লজ্জায় পরে যায়। তার জাহেদ তা দেখে মুখ বাঁকা করে হাসে।
মিম এবার তাড়া দিয়ে বলে ___” এখন এই প্রেম, ভালোবাসার পার্ট শেষ করা হোক। বাড়ি ফিরতে হবে কিন্তু ভাইয়া।
জারা যেনো সুযোগ পেলো আরমানের এতো প্রশ্নের থেকে বাঁচার জন্য। মিমের হাত খপ করে ধরে নেয়। ওর হাত জাঁকিয়ে ইশারায় বললে বাড়ি যাওয়ার কথা। তিনজন যখন বাড়ি ফেরার জন্য হাঁটা দিল ঘাটের দিকে, হঠাৎ আরমান হালকা চিৎকার করে বলে___“ ওয়েট! ”
আরমানের কথা তিনজন ঘুরে তাকাল।
আরমান দৌড়ে গেল কোথায় যেন। সবাই অবাক। কিছুক্ষণ পর ফিরল—বড় একটা শপিং ব্যাগ হাতে।
ব্যাগ ভরা রঙিন ঠান্ডা ড্রিংকস, চিপস, কুকিজ, আইসক্রিম, চকলেট, পপকর্ন, নাচোস, ডেইরি মিল্ক, কোক, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের প্যাকেট ইত্যাদি!
সে ব্যাগটা জারার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে
__ “এগুলো তোমার জন্য। সারাদিন নিশ্চয় কিছু খাওনি? ”
ব্যগটা হাতে নিয়ে আরমানের দিকে তাকায় জারা। আরমান জারা’র দিকে ছিলো। জারা দেখে আরমান তার দিকে নিজের গেঁজা দাঁত বের করে হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে। এই হাসি দেখেই তো জারা বার বার এই লোকটার প্রতি ঘায়েল হয়ে যায়।
আরমান মিম আর ফিহার হাতেও ছোট ছোট ব্যাগ দিল।
মিম:— “ও মাই গড! এই সব আমাদের জন্য ভাইয়া?”
__ “হ্যাঁ, তোমরা আমার future বউয়ের বন্ধু। তোমাদের care করব না?”হাসি দিয়ে আরমান
জারা একদম লজ্জায় হাবুডুবু খাচ্ছে। বউ শব্দটা বার বার তার কানে এসে ঠিক তখন আরমান ঝুঁকে জারার কানে ফিসফিস করে বলে—“Tonight… call me. Half-inch girl. Then I’ll know my answer.”
জারার বুকের ভেতর যেন আবার ধক করে উঠল।
বাড়ি চলে আসে জারা। তার হাতে এতো বড় ব্যগ দেখে মারজিয়া বেগম অবাক হয়। যে মেয়ে অলসতার কারণে কলেজে ব্যগ নিয়ে যেতে চায় না। আর আজ সে মেয়ে নিজ হাতে করে এতো বড় ব্যগ বয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু কথা হলো এতো বড় ব্যগ কি আছে? তাই তিনি জারা’র দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেন___” কী আছ এতো বড় ব্যগে জারা?”
ঠিক এই ভয়টাই পাচ্ছিল সে। মা’কে এখন কি উত্তর দিবে সে।
মেয়েকে চুপ থাকতে দেখে আবার বলেন__” কী হলো চুপ করে আছিস কেন? বল কী আছে ব্যগে? আর কে দিলে এসব?
জোহান রুম থেকে বের হয়ে এসে দেখে বোনের হাতে বড় ব্যগ। আগ্রহ জাগে মনের মাঝে তার। কী আছে জানার জন্য। তাই দৌড়ে এসে ব্যগ টা বোনের হাতে থেকে নিয়ে দেখে হরেক রকম চিপস, কোল ড্রিংকস, আইসক্রিম।
__” বনু এতো গুলো জিনিস কে দিয়েছে তোমায়?”
এবার যেন জারা ফাটা বাঁশের চিপায় পরে যায়। মা, ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর একসাথে দিবে কি ভাবে? হটাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো তার। এটা বললে আর কোনো প্রশ্ন হয়তো কেউ করবে না তাকে। তাই ফোল কনফিডেন্স নিয়ে বলে
___” কলেজ থেকে আসার সময় জিনিয়া আপুদের সঙ্গে দেখা হয় । তখনই তারা জোহানের জন্য এসব কিনে দেয়। জোহান কে ভালোবাসে কি-না? ”
বোনের কথা শুনে জোহান যেন খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। মুখে হাসি নিয়ে বলে
__” কিউটি গার্লস এগুলো আমার জন্য পাঠিয়ে ছে? ”
__” হুমমম ”
মারজিয়া বেগম আর কিছু বললেন না। জোহান নিজের দুইহাত ভর্তি করে চিপসের প্যাকেট নিয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে চলে যায় মায়ের পিছন পিছন।
জারা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল! ব্যগে যা বাকি ছিলো তাই নিয়ে নিজের রুমে চলে আসে সে।
রাতের নরম হাওয়া বইছে।ঠিক আছে! রাত তখন ১১:৩০। চারপাশ নিস্তব্ধ। দূরে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো ঝাপসা হয়ে আছে। জানালার বাইরে ঝিরঝির হাওয়া বইছে। জিনিয়ার রুমের ভেতর হালকা ল্যাম্পের আলো জ্বলছে। বিছানার ওপরে জেরিন ঘুমিয়ে আছে, তার পাশে রাখা জিনিয়ার মোবাইল। জিনিয়া তখন ডায়েরিতে কিছু লিখছিল। হঠাৎ দরজায় হালকা নক শোনা গেল।
__“কে?”
রোহান নরম গলায় বলে
__“আমি… রোহান। একটু কথা ছিল।”
জিনিয়া অবাক হয়ে দরজা খুলল। সামনে রোহান। তার মুখে এক অদ্ভুত সিরিয়াস ভাব। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ।
__ “এই সময়? কি হয়েছে?”
রোহান হালকা হাসল—একটা চাপা হাসি।
__ “ভেতরে আসতে পারি?”
জিনিয়া মাথা নেড়ে সায় দিল। রোহান ভেতরে ঢুকল, দরজা বন্ধ করল। ঘরে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। শুধু টেবিলের ওপর রাখা ছোট্ট ল্যাম্পের আলোয় দুজনের মুখ দেখা যাচ্ছে।
রোহান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তার বুকের ভেতর যেন ঢাক বাজছে।
আজ বলতেই হবে। আর দেরি করা যাবে না।
রোহান নিচু গলায় বলা শুরু করে
___“জিনিয়া… আমি অনেকদিন ধরে একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম, তোমায় বলেওছি অনেক বার।আজ আবারও বলতে আসলাম। মনের ভিতরের শেষ চেষ্টা আর পারলাম না চেপে রাখতে।”
জিনিয়া অবাক হয়ে তাকাল।
___ “ক কি কথা?”
রোহান ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। তার চোখে ভীষণ গভীরতা।
____“আমি তোমাকে ভালোবাসি, চাঁদ সুন্দরী । শুধু ভালোবাসি না… পাগলের মতো ভালোবাসি। আমি প্রতিদিন তোমাকে দেখার জন্য বাঁচি। তোমার হাসি আমার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস।”
জিনিয়া চুপ। তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কিছু বলছে না।
রোহান একটু কাঁপা গলায় বলল— “এবার শুধু শেষ বারের মতো বলো… আমার জন্য তোমার মনে কোনো জায়গা নেই ?”
জিনিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। চোখ নামিয়ে নরম গলায় বলল— “রোহান ভাই… আপনি খুব ভালো। আপনি যা করেছ আমার জন্য, আমি জানি। আমি এও জানি আপনি আমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসেন। কিন্তু আমি আগেও বলছি আর এখনও বলছি … আমি accept করতে পারব না।”
রোহানের চোখ বড় হয়ে গেল। তার গলা শুকিয়ে গেল।
___ “কেন? আমি কি খারাপ? আমি কি কম করি তোমার জন্য? তোমায় আমার মোনাজেতে সবার আগে রাখি। আল্লাহর কাছে তোমায় ভিক্ষে চাই। মোনাজাতে বসে চোখের ফোঁটা পরার চাইতেই বেশি আমি তোমায় চেয়ে এসেছি চাঁদ সুন্দরী। আমি তোমার জন্য সবকিছু করেছি… তবু কেন?”
জিনিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরল। মুখ ঘুরিয়ে জানালার বাইরে তাকাল।
___ “আপনি খারাপ না। কিন্তু আমার মনে অন্য কিছু আছে। আমি এখন…”
সে বাক্য শেষ করল না। গলায় যেন কিছু আটকে গেল।
রোহানের বুক ধক করে উঠে, তার চাদঁ সুন্দরীর মনে অন্য কিছু মানে অন্য কেউ আছে? রোহান নিঃশ্বাস ফেলল—দীর্ঘ, ভারী এক নিঃশ্বাস।
তার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল, কিন্তু সেই হাসি কষ্টে ভরা।
___ “ঠিক আছে। আমি বুঝলাম আমার ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে । আচ্ছা… আমি আর আসব না তোমার সামনে। আমি চলে যাব… তোমার থেকে অনেক দূরে।”
এই কথা শুনে জিনিয়ার বুক কেঁপে উঠল। তার হাত কাঁপছে।
___“কি… কি বলছেন এসব?”
____“হ্যাঁ। আর কিছু দিন আমাকে সহ্য করে নাও। কিছু দিন পর থেকেই আমি দূরে চলে যাব।অনেক দূরে। আমি আর আসব না তোমার কাছে ভালোবাসা চাইতে। এই মা মারা ছেলেটা শুধু চাইতো তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে তার বাকিটা জীবন পার করে দিতে। কিন্তু তুমি সেই সুযোগ টা আমাকে দিলে না। তুমি যখন চাও না আমি থাকি। আমি থাকব না।”
রোহান ঘুরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল। প্রতিটা পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে তার বুকের ভেতর শূন্যতা বাড়ছে। দরজা খুলে সে বেরিয়ে গেল।
জিনিয়া নিস্তব্ধ হয়ে রইল। তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।জিনিয়া নিজের মনের কাছে বলে __“রোহান ভাই… আপনি জানেন না আমি কি ভাবছি। আমি আপনার জন্যই কিছু করছি… কিন্তু এখন বলতে পারব না। কিন্তু যেদিন বলবো সেদিন আপনার মুখের হাসি টাই হবে আমার সারাজীবনের সঙ্গি। ”
সে বিছানায় বসে মাথা নিচু করল। বুকের ভেতর যেন আগুন জ্বলছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
__” আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন প্লিজ। ছেড়ে জেতে দিব না আপনাকে। ভালোবেসে যত্ন করে আগলে রাখব। আমার জন্য আর কষ্ট পেতে দিব না সত্যি বলছি। প্লিজ আর কিছু দিন অপেক্ষা করুন আপনার চাঁদ সুন্দরীর জন্য।
মনে মনে কথা গুলো বলে কান্না করে দেয় জিনিয়া। চোখ ভেয়ে পরে নোনা জল।
এদিকে জারা নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। বাইরে চাঁদের আলো পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকছে। সে বারবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে। কল করব? না করব না?আরমানের কণ্ঠ কানে বাজছে—
“আজ রাতে কল দেবে। তখন আমি আমার উত্তর পেয়ে যাব।”
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে সে ফোনে ডায়াল করল আরমানের নাম্বার।রিং বেজে উঠল। কয়েক সেকেন্ড পর ওপাশ থেকে গভীর, ভারী কণ্ঠস্বর—
___“তাহলে অবশেষে কল দিলে।”
জারার গলা শুকিয়ে গেল। বুকের ভেতর ধকধক বাজছে।
__“হুম…”
___ “এত দেরি করলে কেন? আমাকে torture করছিলে নাকি?”
জারা আস্তে বলল
___ “না.. না আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম।”
___“ব্যস্ততা আমার কাছে কোনো অজুহাত না। তুমি কি জানো আমি কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম?”
জারা চুপ। গলা কাঁপছে।
___“শোনো, আমি আজকে আমার মনের সব কথা বলেছি। এখন তোমার পালা। তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? সারা সরি বলবে, যদি উত্তর না হয় তাহলে আমি আর তোমায় এসব নিয়ে বিরক্ত করব না? তোমার সামনে ও যাব না? একটু কথা বলার আশায় দিন পার করব না ?”
জারার চোখ ভিজে আসছে। বুকের ভেতর যেন ঢাক বাজছে। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। সে কিছু বলতে পারছে না।
___“চুপ কেন? না মানে না, হ্যাঁ মানে হ্যাঁ। স্পষ্ট বলো।”
জারা যেন এবার কান্না করে ফেলে। এতো গরম গলায় কেন কথা বলতে হবে? তার কি ভয় করে না। জারা চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল—
__ “হ… হ্যাঁ.. ।”
ওপাশে মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা। তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে আরমান বলল—
___ কী বললে? ভালো করে বলো শুনতে পাইনি? ”
জারা’র আবারও কাঁপা কাঁপা গলায় বলে
__” আ আমিও আপানাকে ভা ভালো বা বাসি! ”
___“এটাই শুনতে চেয়েছিলাম। তুমি জানো না তুমি আমাকে আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বানালে। আই লাভ ইউ সোনা! অনেক, অনেক ভালোবাসি তোমায়!”
জারার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটল।
___ “কিন্তু শোনো, আজ থেকে আমাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আমার কল মিস করা যাবে না। আর একটা কথা—আমার নাম্বার sweet boy দিয়ে সেভ করা আছে না? সেটা কালকে বদলাবে। না বদলালেও সমস্যা নেই! বউ আমার ভালোবেসে নাম টা নিয়েছে? ”
জারা লজ্জায় হাসল—
__ “ ব বউ হইনি এখনো? ”
___ “চলো তাহলে কালই বিয়ে করে ফেলি? আমার বউকে এতো পড়াশোনার লোড নিতে হবে না। সে শুধু আমার লোড নিতে পারলেই হবে? ”
__” মা মানে? আপনার কি কিসের লোড? ”
__” মানে কিছু না! বিয়ের পর সব বোঝিয়ে দিব সোনা! ”
__” এ্যাঁ ”
__” এ্যাঁ না হ্যাঁ। রাতে খেয়েছো? ”
__ ” হুম! আপনি!
__” না খাইনি এখনো!আমি আমার হাফ ইঞ্চি মেয়ে এর জন্য অপেক্ষা করে বসে ছিলাম, কখন সে কল করে বলবে ” আমার জান টা খেয়েছে কিছু? ”
আরমানের কথায় লজ্জায় জারা কথা বলতেই ভুলে গেছে। এই শয়তান লোকটার সাথে আর কথা বলার সম্ভব না।
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৩৩
__” আ আমি..আমি ঘুমাব! বায়! ”
__ পালিয়ে যাচ্ছেন ম্যাডাম? ”
__” না.. না! ”
__“ভালো মেয়ে। এখন ঘুমাও পাখি। আর আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে জান —শুধু আমারই।”
জারার গাল গরম হয়ে গেল। সে কিছু বলল না। ফোন কেটে দিল।
কিন্তু ফোন কেটে দেওয়ার পরও তার মুখের হাসি মিলল না। তার বুকের ভেতর এখনও সেই ধকধক শব্দ বাজছে।
