Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৩
লিজা মনি

আফ্রিকার হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সে বিশাল মেনশন যেন অভিশপ্ত কোনো প্রাসাদ।যার প্রতিটি প্রাচীর নীরবে বহন করে রক্তাক্ত ইতিহাসের ভার। আর প্রতিটি করিডোরে ছড়িয়ে আছে অপরাধের নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি। সিংহদ্বার পেরোনোর মুহূর্তে স্পষ্ট হয় এই প্রাঙ্গণ কোনো জীবনের নয়। এখানে কেবল টিকে থাকে ক্ষমতা- ভয় আর নীরব শাস্তি।
ঊষর উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে আছে কংক্রিটের নীরবতা। একটিও ফুলের গাছ নেই।প্রাণের স্পর্শ নিষিদ্ধ এই জমিনে। মৃত প্রকৃতির এই অরণ্যে দাঁড়িয়ে আছে নিক।চোখে আগ্নেয় ক্রোধের দ্যুতি। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বুকের ভিতরে কোন এক বিস্ফোরণ আটকে রেখেছে কেবল সুযোগের অপেক্ষায়। তার পাশে’ই নিরুত্তাপ অথচ অবিচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অধিরাজ। চোখে অদৃশ্য শীতলতা আর ভয়।

সামনে একটা ডার্ক স্টিলের চেয়ারে বসে আছে আরিশ। যার চোখের গভীরে জমে আছে নিঃসঙ্গতা।মুখে জমাটবাঁধা অনুতাপ। কপাল কুচকে একবার নিকের দিকে তাকায়।
এই অচঞ্চল দৃশ্যের প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একদল সশস্ত্র দেহরক্ষী প্রতিটি যেন একেকটি মানবাকৃতির প্রাচীর। মুখে কোনো ভাবলেশ নেই। চোখে কেবল মৃত্যু-সংকেত। তাদের চলনে নেই শব্দ।কিন্তু তাদের উপস্থিতি এক অদৃশ্য ভয়ের তরঙ্গ বইয়ে দেয় মেনশনের বাতাসে।
এই স্থানের নিস্তব্ধতা এমন এক প্রগাঢ় স্তব্ধতা যা শব্দের চেয়েও বেশি কর্কশ। সময় এখানে থমকে গেছে কোনো এক রক্তাক্ত মুহূর্তের জন্য । এখানে ভালো-মন্দের লেশমাত্র নেই।কেবল এক অনিবার্য হিসাবনিকাশের প্রতীক্ষা।যেখানে জীবন ও মৃত্যু এক সূক্ষ্ম সীমানায় দাঁড়িয়ে মুখোমুখি তাকিয়ে থাকে।
আরিশ সামান্য গলা খাকারি দিয়ে বলে,

” এখনও কেনো রেগে আছিস ভাই? তুই তো সময়মত ড. ইসাবালাকে পেয়েছিস। তর কথা অনুযায়ী সারা রাত সজাগ ছিলাম। টর্চার সেলেও যায় নি। একবারের জন্য রক্ত নিয়ে ও উল্লাস করি নি। সামান্য ওয়াইন ও খায় নি৷ তর জন্য এত সেক্রিফাইস করলাম, অথচ এখন চোখ দিয়ে ভষ্ম করে দিচ্ছিস। ভয় পাচ্ছি বাল, চোখ নামা।
নিক দাঁত পিষে প্রগাঢ় ক্ষুব্দতা নিয়ে আরিশের দিকে তাকায়। আরিশ কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে মিন মিন করে বলে,
” ওকে, জ্বালাব না আর। আগে বল এনির সাথে কি করেছিস? আবার ও জ্বলন্ত কয়লার উপর হাটিয়েছিস নাকি?
আরিশের তীর্যক্ত দৃষ্টি। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে ওয়াইনে চুমুক দেয়। এরপর চারপাশে এক পলক তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,

” ই**** হয়েছিলাম।
অধিরাজ চোখ বড় বড় করে ফেলে। কিছু একটা ভেবে ভয়ে ঢোক গিলে। আরিশ নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ঘন ঘন নিশ্বাস টানে। বুকের ভিতর চিনচিন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। নিজের সুপ্ত অনুভুতিটাকে চাপা দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলে,
” বেঁচে আছে মেয়েটা?
নিক বিরক্ত হয়ে প্রচুর। রাগ দেখিয়ে বলে,
” আমি বাঘ নাকি ভাল্লুক? বেঁচে থাকবে না কিসের জন্য?
আরিশ চোখের পাতা নাড়ায়৷ ওয়াইনে একই ভঙ্গিতে চুমুক দিয়ে বলে,
” সেটা আমাদের থেকে ভালো আর কেউ জানে না। নির্ঘাত মেয়েটাকে রক্তাক্ত করে ফেলেছিস?
নিক গম্ভীর কন্ঠে বলে,
” স্বাভাবিক। নিক জেভরানের ব্যক্তিগত জিনিস হতে গেলে এইটুকু আঘাত সহ্য করতেই হবে৷ সামনে আরও অনেক কিছুর মোকাবেলা করতে হবে। দুর্বল নারী হলে কখনো টিকবে না।
আরিশ সামান্য ভয় নিয়ে বলে,

” এ.. একটু দেখা করতে পারি? ট্রস্ট মি তর বউয়ের মুখের দিকে তাকাব না। মেয়েটাকে একটু দেখে’ই চলে আসব।
নিক ঈগল দৃষ্টিতে তাকায় আরিশের দিকে। চোখ থেকে যেন রক্ত ঝরছে। চার- পাশে গার্ড বিধায় আক্রমন করে নি। নাহলে একটা আক্রমনের স্বীকার সে বর্তমানে হত। নিকের চোখের ভাষা বুঝতে আরিশের অসুবিধে হয় নি৷
অধরে হাসি ফুটিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলে,
” এ.. এমনি বলেছি। তর বউ আমি কেনো দেখতে যাব? দুনিয়া উল্টে যাক তবুও তর বউয়ের দিকে তাকাব না। তবুও রেগে যাস না।
নিক কিছুটা শান্ত হয়ে নিশ্বাস টানে। গম্ভীরতা টেনে বাঁকা হেসে বলে,
— শুধু তুই নয়। আর কেউ এই মেয়েকে দেখতে পারবে না। যেদিন ওকে আমার বন্দীনি করেছিলাম সেদিন থেকে ওর বাহিরের জগৎ নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। চার- দেয়ালের ভিতরে হবে ওর জীবন। আমি ছাড়া কেউ দেখতে পারবে না। আমাকে দেখে আজীবন সময় পার করবে।
আরিশ গম্ভীরতা টেনে বলে,

” মুক্ত আকাশে উড়ে – বেড়ানো পাখিকে হুট করে তুই বন্ধী করেছিস নিক। বাহিরের আলো- বাতাস না দেখলে মেয়েটা মানসিক রোগীতে পরিনত হবে।
নিক সাবলীল উত্তর দেয়,
” হবে না।
— এতটা বিশ্বাস?
— তদের চিন্তা না করলেও চলবে। আমি তাকে বন্ধী করি নি৷ বরং সে আমার বন্ধীনি হয়েছে। সেদিন উচিত হয় নি আমার সামনে আসা। এরপর ও এসেছে।
আরিশ ফুঁশ করে নিশ্বাস টেনে বলে,
” আমার ঘাড়ে যে ঝামেলা দিয়েছিস সেটাকে কি করব? একদিনে আমাকে জ্বালিয়ে মেরেঁছে। জানা নেই কতক্ষন কন্ট্রোল করতে পারব?
নিক ভ্রু কুচকে বলে,

” কাল মেয়ে গিয়েছে আর আজ’ই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিস না?
আরিশ অবাক হয়ে বলে,
” তুই কোন কন্ট্রোলের কথা বলছিস?
নিক বিরক্তিতে বলে,
” তুই যা বলেছিস। আই ডিড্‌ন্‌ট্‌ নো ইয়োর মেশিন ওয়াজ দিস শেইকি বিফোর।
আরিশ চোয়াল শক্ত করে ফেলে। দাঁত পিষে বলে,
” চুপ থাক শালা। এমন কিছু ইঙ্গিত করি নি। রাগ কন্ট্রোলের কথা বলেছি। বেশি তেরিং- বেরিং করলে ট্রাস্ট মি নিক গলা চেপে ধরব।
নিক গম্ভীরতা টেনে বলে,

” বর্তমানে সে তর আন্ডারে আছে। এখন তুই কি করবি সেটা তর ব্যাপার।
এরপর অধিরাজের দিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বলে,
” আমার শ্যাডো কোথায়?
অধিরাজ সামনের দিকে ইশারা দিয়ে বলে,
” সামনে বেঁধে রেখেছি বস।
নিক হাত দিয়ে ইশারা করে বলে,
” নিয়ে আসো আমার কাছে। কাল থেকে দেখি নি।
অধিরাজ আদেশ মত এগিয়ে যায়৷ সেখানে গিয়েই চোখ বড় বড় করে ফেলে। ভয়ে সামান্য ঢোক গিলে। নির্ঘাত এখন তার গর্দান যাবে এই অপরাধে। অধিরাজ শ্যাডোর দিকে তাকিয়ে বলে,
” ভাই শ্যাডো৷ আর কিছু করতে হবে না। চলে আয় আমার সাথে।
শ্যাডোর কোনো হেলদুল নেই৷ সে নিজের কাজে ব্যস্ত। অধিরাজ বিরক্তি নিয়ে বলে,
” কুকুর হয়েও ভার্জিনিটি শেষ করে ফেলছে অথচ আমি এখন ও পারি নি।
অধিরাজ শ্যাডোর দিকে এক পলক তাকিয়ে পুনরায় নিক আর আরিশের কাছে যায়। অধিরাজকে খালি হতে ফিরতে দেখে নিক কপাল কুচকে বলে,

“হুয়াট?
অধিরাজ মিনমিনিয়ে বলে,
‘ স্যার একটা সর্বনাশ ঘটে গিয়েছে।
নিক সাথে সাথে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। অধিরাজের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে,
” যদি ওর কিছু হয় তাহলে আমি তকে খুন করব।
নিক আর দাঁড়ায় না। আরিশ ভ্রুঁ নাচিয়ে তাকায় অধিরাজের দিকে। অধিরাজ অসহায় মুখ করে বলে,
” গেলেই দেখতে পারবেন স্যার।
ফোয়ারার কাছে তিন জন যায়৷ সামনে তাকাতেই আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায়৷ নিক ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ শ্যাডো একটা মেয়ে কুকুরের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে আছে। আরিশ কোনো রকম নিজের হাসিটাকে আটকে রেখেছে৷ নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

” মালিক করেছে রাতে তার শীর্ষ করছে দিনে। কি মিল তদের ভাই।
নিক রেগে তাকায় আরিশের দিকে। চোয়াল শক্ত করে বলে,
” এখানে বেঁধেছিস কেনো?
অধিররাজ আমতা আমতা করে বলে,
‘ যখন বেঁধেছি তখন এইটা ছিলো না। সত্যি কথা বলছি বস। জানি না কোথা থেকে চলে আসলো।
আরিশ অধৈর্য হয়ে শ্যাডোর দিকে তাকিয়ে বলে,
” চলে আয় গ্যাংস্টার বসের শীর্ষ। মেরে ফেলবি নাহলে বেচারীকে।
নিক প্রচুর বিরক্ত হয়। এমন এক মুহূর্তে দাড়িয়ে আছে ইচ্ছে করছে সামনের দুইটাকে ইচ্ছেমত কিছুক্ষন পিটাতে।
আরিশ গলা খাকারি দিয়ে বলে,
‘ এতে রেগে যাওয়ার কি আছে নিক? প্রতিটা জীবের এই এক যৈবিক চাহিদা থাকে। এতদিন শ্যাডোকে আটকে রেখেছিস। আজ সামনে কাউকে পেয়েছে এমনি সিনারি শুরু করেছে। তর শীর্ষ ভাই। তর মত হওয়া স্বাভাবিক।
নিক চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠে,
” যাস্ট সেট আপ ইডিয়েট। দ্রুত আলাদা কর এদের। আমি চাই না আমার শ্যাডোর মত দ্বিতীয় কেউ হোক। পুরো পৃথিবীতে সে একজন এই আছে।
আরিশ বোকার মত তাকিয়ে বলে,

” দ্বিতীয় কেউ মানে?
নিক সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” প্রজনন ঘটে যাবে।
অধিরাজের মস্তিষ্ক এতক্ষন নড়ে উঠে। সে তো এইটা ভুলেই গিয়েছিলো। নিক সবসময় শ্যাডোকে আলাদা করে রাখত। ভুলেও অন্য কোনো কুকুরের সাথে মিশতে দেয় না। আর শ্যাডো সাধারন কুকুর নয়। সে একা হাজার জন লোকের দেহ ছিঁড়ে খেয়েছে গ্যাংস্টার বসের এক ইশারাতে। তাকে তিলে তিলে তৈরি করা হয়েছে হিংস্র হায়েনা রুপে।তীক্ষ্ম শিকারির মত তার ঘোলাটে দুইটা চোখ।
অধিরাজের হুঁশ ফিরে নিকের গম্ভীর কর্কশ আওয়াজে,
‘ শ্যাডো, কাম ! ছেড়ে আসো এইটাকে। কুকুরটা মরে যাচ্ছে।
গ্যাংস্টার বসের এই সামান্য বাক্যে কি ছিলো জানা নেই। একটা প্রানী এই বাক্যে মাথা নত করে ফেলে। নিকের আদেশ মত থেমে যায়। শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার গুরুর দিকে। নিক মাটিতে পড়ে থাকা অর্ধ মৃত কুকুরটির দিকে তাকায়৷ এরপর একজন গার্ডকে ইশারা করে বলে,

” বাহিরে রেখে আসো এইটাকে।
দুইজন গার্ড সম্মতি জানিয়ে আদেশ অনুসারে কুকরটাকে সরিয়ে নিয়ে যায়। শ্যাডো একদম নিকের শরীর ঘেষে দাঁড়ায়। আরিশ মুখ বাঁকায় সেদিকে তাকিয়ে। কপাল কুচকে বলে,
” রাস্তাঘাটে মেয়ে দেখে ইজ্জত লুটে নিয়েছিস। তর ক্যারেক্টার এত খারাপ কেনো?
অধিরাজ অবাক হয়ে তাকায় আরিশের দিকে,
” স্যার এইটা কুকুর।
আরিশ ধমকে উঠে,
” কি হয়েছে তাতে? নিজেকে সামলাতে না পেরে তো ঠিক এই চলে গেলো।
শ্যাডো কথার মানে বুঝলো না। আরিশের দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে ঘেউ ঘেউ করে উঠে। আরিশ নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

” তর কুকরকে চেঁচাতে না কর। ফরজ গোসল করিয়ে পবিত্র করিয়ে আন দ্রুত।
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে তাকায় আরিশের দিকে। রেগে বলে,
” কুকুর কাকে বলছিস?
আরিশ সহজভাবে বলে,
” শ্যাডো – কে।
নিক রেগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
,” কুকুর নয় সে। আরিশ ইলহাম যদি নিক জেভরানের ডান হাত হয় তাহলে শ্যাডো আর হান্টার হচ্ছে নিকের বাম হাত।কুকুর বলবি না ওকে।
আরিশ সামান্য হাসে। পর মুহূর্তে মুড চেইঞ্জ করে বলে,
” কুকুর আর নেকড়ের সাথে আমাকে মিলাচ্ছিস?
নিক সাবলীল ভাবে উত্তর দেয়,
” সন্দেহ নেই৷ শ্যাডো আর হান্টার তর থেকেও বুদ্ধিমান। তাই…

কথার মধ্যে থেমে যায় আচমকা। হঠাৎই নিস্তব্ধ আকাশ চিরে ছুটে এলো এক ঝলক উন্মত্ত গান লাইটের তীব্রতা। অদৃশ্য মৃত্যু নিঃশ্বাস ফেলে কানের কাছে এসে ফিসফিস করছে।
নিক ঘাড়ে আঙ্গুলে ঘেঁষে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে। বড় একটা শ্বাস নিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে আরিশের দিকে তাকায়। নিকের চোখ দেখে কপাল কুচকে ফেলে। উঁকি দিয়ে সামনে তাকাতেই চোয়াল শক্ত করে ফেলে।নিক স্বভাবতই ক্ষিপ্র ও প্রতিক্রিয়াশীল মুহূর্তেই সতর্ক হয়ে ওঠে। অদৃশ্য আতঙ্কের ঘ্রাণে তারা তিনজনই ছায়ার মতন সরে যায়। গুলি ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে।তাদের শরীরকে এড়িয়ে গুলি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয় দূরের নির্জন একটা অংশকে।তবে আচকা একটিমাত্র বুলেট ছিন্ন করে নিকের ডান হাতের মাংস। তপ্ত লোহিত রক্ত ছিটকে পড়ে মেঝেতে।লাল রক্ত ভেসে যায় টগবগে প্রতিশোধের আগুনে ঘোলা। ব্যথায় নিকের মুখমণ্ডলে ফুটে ওঠে এক অন্ধকার রূপান্তর। সে ধীরে নিজেকে ধাতস্থ করে নেয়। এরপর অব্যর্থ ঘূর্ণিতে ঘুরে তাকায় পেছনে। তার ধূসর চোখ দুইটা জ্বলছে। নিরুদ্দেশ জঙ্গলের মত অদ্ভুত নিস্পন্দ। যেন চোখ নয় দুইটি অতল গহ্বর নির্দেশহীন। ভয়ানক নীরব প্রতিশোধে পূর্ণ। চারপাশ হঠাৎ স্থবির হয়ে যায়। নিঃশব্দ আতঙ্ক ঘিরে ধরে পরিবেশকে। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাজা রক্তের গন্ধে।

আরিশ নিকের বাহু চেপে ধরে। তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে৷ পড়নের শার্টটা দ্রুততার সাথে খুলে ফেলে। এরপর ক্ষতস্থানে বেঁধে দেয় রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য৷ আরিশের এমন অধৈর্য ব্যবহার দেখে নিক উদ্ভুদভাবে নিশ্বব্দে হাসে। অধিরাজ রিভলভার নিয়ে অনেক আগেই আগুন্তুকের উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছে। মেনশনের পিছনে একটা অনেক বড় গাছ আছে। সেই গাছের উপর থেকেই গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। লোকটা নামার আগেই গ্যাংস্টার বসের দেহরক্ষীর সম্মুখীন হয়ে পড়ে।
আরিশ নিকের হাত ধরে বসাতে চায়। নিক বিরক্তিতে না করে দেয়। আরিশ রাগ দেখিয়ে বলে,
” পুরো দুনিয়ার সামনে গ্যাংস্টার বস হলেও আমার সামনে অন্তত হতে আসিস না। তকে বসতে বলেছি দ্রুত বসে পড়। এখন ড্রেসিং না করালে রক্ত ক্ষরন হবে প্রচুর।
নিক হাত ছিটকে বলে,

” প্রয়োজন নেই এইসবের। একটু পর এমনিতেও বন্ধ হয়ে যাবে।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে। নিকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,
,” পস্তাবি কিন্তু পরে।
— মানে?
আরিশ চেয়ারে বসে বলে,
” তুই যদি ভুলেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়িস তাহলে কিন্তু এনি পালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। আর তাছাড়া কায়াত, ইগর আর অন্যন্যাদের সাথে লড়াই করবে কে? সমস্ত গার্ডদের মেরে এনিকে তুলে নিয়ে যাবে। তুই উইক থাকলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইও করতে পারবি না।
আরিশ কথাটা শেষ করে চোরা চোখে নিকের দিকে তাকায়। নিক গম্ভীরতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ আরিশ আরও কিছু বলবে তার আগেই নিক অধৈর্য হয়ে বলে,
” যা করবি দ্রুত কর।
আরিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। গ্যাংস্টার বসের শরীরে আজকাল মেডিসিন থেকে এনি নামক মেডিনিস বেশি কাজ করছে। শার্ট খুলে ক্ষতস্থান ভালোভাবে চেক করে। এরপর প্রয়োজনী যা যা দরকার সব কিছু ধীরে ধীরে করতে থাকে।

রক্তাক্ত হাতে ব্যথার ঘূর্ণি নিয়ে গ্যাংস্টার বস বিশাল চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন।কিন্তু চোখদুটো যেন আগুনের মতো জ্বলছে। বর্তমানে দৃষ্টি দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারতেন গোটা পৃথিবী। তাঁর থোকা-থোকা কালো রক্তভেজা জামা নিঃশব্দে ঘোষণা করছে আরেকটা রক্তপাত ঘটিবে তাও বিকৃতভাবে।
ধূলিমাখা মেঝের ওপর কর্কশ কাঁধে হাত রাখা দুই দেহরক্ষী ও অধিরাজ।এক বিকৃতপ্রাণ অপরাধীকে টেনে হিচড়ে নিয়ে এলো। গায়ে রক্ত মাখা- মাখি। মুখে থেঁতলানো চিহ্ন।চোখে নিঃশেষিত আতঙ্ক।
নিক আর আরিশের সামনে এসে ছুড়ে ফেলা হলো তাকে।একটি মলিন পুতুলের মতো হয়ে আছে।যার মেরুদণ্ড আর প্রতিরোধ দুটোই একসাথে ভেঙে গেছে।
পুরো জায়গায় নেমে এলো অদ্ভুত এক স্তব্ধতা। শব্দ নেই একটুও। সবাই নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে।কেবল বাতাসের মধ্যে ধ্বনিত হচ্ছে প্রতিশোধের অনুচ্চারিত সংলাপ। গ্যাংস্টার বস আস্তে করে উঠে দাঁড়ালেন। ভারী বুটের শব্দ বাতাসে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে।
নিক সামনে এগিয়ে আসে। মুখ একদম শীতল।ঠান্ডা গলায় বলে,

” মারতে এসেছিলি?
লোকটা কেঁপে উঠল। তার চোখ এখন অনুনয়ে ক্লান্ত।ঠোঁট কাঁপছে ভীষণ ভাবে। গলা শুকিয়ে গেছে। আত্মা যেন গলে গলে ঝরে পড়ছে।
কিন্তু নিক থামে নি। ধীরে ধীরে হাত তুললেন একটা ধাতব জিনিস।একটা হ্যান্ডগান তুললেন মেঝে থেকে।যেটায় তারই রক্ত লেগে আছে।
সেই রক্তমাখা বন্দুকটা লোকটার কপালের কাছে এনে ঠেকালেন।
“জীবনের সব থেকে বড় ভুল করেছিস। কে পাঠিয়েছে তকে?
নিক ফিসফিস করে কথাটা বলে।কিন্তু সেই স্বরেই যেন বজ্রপাত ঘটে।
লোকটা এখন কাঁদছে শব্দহীনভাবে। মুখের পেশি কাঁপছে অস্বাভাবিকভাবে। শরীরের সমস্ত অহংকার গলে গিয়ে এক টুকরো ময়লার মতো মাটিতে পড়ে আছে।নিকে হিংস্রতা নিয়ে গর্জে উঠে,
” শালা মাদার্ফাক বলছিস না কেনো?
লোকটা কেঁপে উঠে। কান্না করে দিয়ে বলে,

” অনেকগুলো লোক ছিলো। আমি কন্ট্রাক্ট কিলার। বিশ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে আমাকে। তারা নাকি একটা মেয়েকে পছন্দ করে। আপনি আটকে রেখেছেন। পুরো বাড়িতে নিরাপত্তা। তারা আক্রমন করতে পারছে না। বলেছে আপনাদের হাতের কাছে পেলে বুলেট দিয়ে ঝাঝরা করা ফেলতে।সেটাই করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তার আগেই আপনারা বুঝে সরে যান।
নিক কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়ে রাখে। আরিশ চোয়াল শক্ত করে কয়েকটা বিশ্রি গালি দেয়।
নিক পাগলের মত এদিক- সেদিক তাকায়। ডান হাত দিয়ে একটা রড তুলে নেয়। এরপর লোকটা বুঝে উঠার আগেই বাম চোখে ডুকিয়ে দেয়। লোকটা চেঁচিয়ে উঠে ব্যাথায়। পাখি গুলো স্তব্দ হয়ে আকাশ থেকে উড়ে যায়। গ্যাংস্টার বসের ক্রোধে মুখ লাল হয়ে গিয়েছে।চিবুক শক্ত করে রেখেছে। লোকটা চেঁচানোতে রাগে জাহ্বা টেনে ধরে ছুঁরি দিয়ে কেটে ফেলে। লোকটার রক্তে পুরো মেঝে লাল হয়ে গিয়েছে। লোকটা পাগলের মত বিলাপ করে যাচ্ছে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে অপর চোখে রড ডুকিয়ে দেয়। রক্ত গিয়ে তার শরীরে ছিটকে পড়ে। লোকটা চোখে ধরে কাতরাতে থাকে। পাগলের মত জিহ্বা ছাড়া শব্দ করে যাচ্ছে। নিক একটা হাতুড়ি নেয়। এরপর অনেকগুলো জ্বলন্ত শিক তুলে নেয়। জ্বলন্ত শিক গুলো লোকটার ডান হাতে ডাবাতে থাকে। লোকটার ছটফটানিতে নিক পৈশাচিকভাবে হাসে।দুই হাতে জ্বলন্ত শিক ডুকিয়ে একটা তার হাতে নেয়। যেখানে অসংখ্য ব্লেট বসানো। আরিশ শান্ত দৃষ্টিতে তাকায়। নিক দয়া- মায়াহীন ভাবে তারটা লোকটার গলার মাঝ বরাবর বসায়। মুহূর্তে মাথাটা দেহ থেকে ছিন্ন হয়ে যায়। কন্ঠনালি থেকে ঘের ঘের শব্দ আসছে ভয়ানকভাবে।
নিকের পুরো শরীর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে।
নিক চোখ দিয়ে গার্ডদের ইশারা দিয়ে বলে,
” টর্চার সেলে নিয়ে যা।

নিক রুমে প্রবেশ করে। হাতের ক্ষতটা আরও টান টান হয়ে উঠে। তীব্র যন্ত্রনায় বিরক্ত হয়ে উঠে। চোখ যায় বিছানায় উপর। কাউকে দেখতে না পেয়ে রাগে ফেটে পড়ে। ডিভানে কাউকে দেখে মনটা শান্ত হয়ে আসে। শান্ত চোখে তাকায় ডিভানে শুয়ে থাকা আঠারো বছরের রমনীর দিকে। যার সৌন্দর্যে পাগল হয়ে কুকুরের মত অবস্থা করে রেখেছে আঠারোজন মাফিয়ারা।
আর তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে গ্যাংস্টার বস। যাদের সাথে একসময় বন্ধুত্ব ছিলো। আজ তারা সব থেকে বড় শত্রু। যারা একসময় জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসত। তারা আজ এই রমনীকে পাওয়ার লালসায় আক্রমন করছে। কি সাঙ্গাতিক এই রমনী। পুরো মাফিয়া রাজ্যকে পরিবর্তন করে ফেলেছে। বন্ধুদের শত্রুতে পরিনত করেছে। নিক গম্ভীরতা নিয়ে এগিয়ে যায়। ডিভানের এক পাশে বসে চোখ খিঁচে ফেলে।রাগ আর বিরক্তি নিয়ে এক টানে ব্যান্ডেজ খুলে ফেলে। সাথে সাথে তরল রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। নিকের সেদিকে কোনো হেলদুল নেই। চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে বসে। হাত থেকে তরল রক্ত পড়ছে। এনি পাশে কারোর অস্তত্ব অনুভব করে আচমকা চোখ মেলে তাকায়। নিককে দেখতে পেয়ে দ্রুত উঠে বসে। এরপর অধৈর্য হয়ে বলে,

” সব মেডিসিন দিয়েছেন। পিল দেন নি কেনো?
নিক চোখ খুলে। নিকের চোখ দুইটা কেমন লাল হয়ে আছে। এনি চোখ দেখে ভড়কে যায়। নিক গভীর দৃষ্টি রেখে বলে,
” পিল কি?
এনি হতভম্ভ হয়ে যায় এমন প্রশ্নে। কপাট রাগ দেখিয়ে বলে,
” হজম শক্তির মেডিসিন। আমার খাবার হজম হচ্ছে না। তাই আপাযত খেতে চাচ্ছি।
নিক শান্ত কন্ঠে বলে,
” খেতে হবে না এইসব।
— কিন্তু আমি খেতে চাচ্ছি। সকাল থেকে আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। চারদিকে তালাবদ্ধ। কারোর কাছ থেকে নেওয়ার ও সুযোগ নেই। আমাকে মেডিসিন দিন।
আচমকা নিক ধমকে উঠে,
” বললাম না খেতে হবে না।
নিকের এমন ভয়ানক ধমকে এনি কেঁপে উঠে। কান্না করে উঠে মেয়েটা। জ্বরে এমনিতেই পুরো দিন ধরে নাস্তানাবুদ অবস্থা। মেডিসিনের ফলে ব্যাথা কমলেও শরীর মেজমেজ করছে। অস্থির লাগছে ভিতরে। কান্না আটকে ভাঙ্গা গলায় বলে,

” আমি মেডিসিন চাই।
নিক রাগ নিয়ন্ত্রন করে। শক্ত হাত দুইটা দিয়ে এনির দুর্বল শরীরটা নিজের কাছে নিয়ে আসে। এরপর কাটা ঠোঁটে শক্ত করে চুমু খেয়ে বলে,
” খেতে হবে না এইসব বাল- ছাল।
এনির শরীর ঘৃনায় ছটফট করে উঠে। নিকের স্পর্শ যেন বিষাক্ত কাটার মত গিয়ে ক্ষত করে।
– কেনো খাব না?
নিক ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
” এখানে এইসব মেডিসিন পাওয়া যায় না।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” ম.. মানে?
নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” তোমার চাওয়া মেডিসিন এখানে পাওয়া যায় না। এইসব এখানে তৈরি হয় না।
— তাহলে দম্পত্তি কি খায়?
— খেতে হবে কেনো?
এনি চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” খেতে হবে কেনো মানে? পুরো দেশ তাহলে বাচ্চা দিয়ে পুরন হয়ে যাবে।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। আজ কেনো জানি কোনো রাগ হচ্ছে না। আঘাত করতে ইচ্ছে করছে না। এনি কিছু বলতে গিয়ে ও থেমে যায়। নিকের রক্তাক্ত হাত দেখে আৎকে উঠে। সাহায্য করতে গিয়ে ও থেমে যায়। নিকের প্রতি ঠিক এতটা ঘৃনা জমেছে যে মৃত্যুর যন্ত্রনায় কাতরালেও হয়ত মুখে পানি দিবে না। এনি ক্ষতটার দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ সরিয়ে ফেলে। শক্ত গলায় বলে,

” আপনার হাত থেকে রক্ত পড়ছে।
নিক চোখ বন্ধ করে বলে,
” পড়তে দাও।
— অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে সমস্যায় ভুগবেন।
— ভুগতে দাও।
নিকের এমন শান্ত স্বর এনির কপাল কুচকে আসে। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” গ্যাংস্টার বসের এমন রুপ ঠিক হজম হচ্ছে না।
নিক চোখ খুলে।এরপর এনির দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। এনির শার্ট উন্মুক্ত করে মেদহীন কোমড়ে আঙ্গুল বুলাতে থাকে। এনি কেঁপে উঠে। চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানে। চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। গ্রহন করতে পারে না এই স্পর্শ। নিক এনির চোখে চোখ রাখে। এই প্রথম হয়ত নিক এনির চোখে এমন গভীর ভাবে তাকিয়েছে। চিবুকটা শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” কি আছে এই চোখে? কি আছে এই মুখে? কি আছে পুরো সর্বাঙ্গে? কেনো হারিয়ে যায় আমি?
নিকের এমন স্লো ভয়েসে এনির পুরো শরীর শিউরে উঠে। নিক এনির গালে গাল ঘেঁষে বলে,

” কি হলো বেবিগার্ল চুপ কেনো? বান্দির বাচ্চা কথা বলছিস না কেনো?
এনি সামান্য ঢোক গিলে বলে,
” আ.. আমি কিভাবে বলবো?
— আমার ভার্জিনিটি কে নষ্ট করেছো জানো?
এনি কাঁপা কন্ঠে বলে,
” ন.. না।
নিক এনির কানে শক্ত করে কামড় বসায়। এরপর হালকা চুম্বন খেয়ে বলে,
” তুমি ব্লাডরোজ। পুরুষের সতিত্ব নষ্ট করার অপরাধে যদি কোনো বিচার থাকত তাহলে সর্বোচ্চ কঠিন সাজা হত তোমার।পৃথিবীর সব থেকে ভয়ানক সাজা তোমাকে দিতাম বেবিগার্ল।
থেমে… নিশ্বাস নিয়ে বলে,
“খুব ভয়ানক নারী তুমি। ভয়ানক সাজা পাবে তুমি। রাতে, দিনে, যখন আমার ইচ্ছে হবে।
এনি বরফের মত জমে যাচ্ছে। নিকের ফিসফিসানি কথা ওর পুরো কায়া কাঁপিয়ে তুলছে। কি হয়েছে লোকটার। এমন অস্বাভাবিক শান্ত ভাবে কেনো কথা বলছে। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” আমাকে যে পুরো জাতির সামনে কলঙ্কিত করেছেন? সবাই আমাকে রক্ষিতা হিসেবে চিনে। সব করেছেন আপনি অথচ ভোক্তভোগী আমি। কলঙ্ক কখনো পুরুষকে স্পর্শ করতে পারে না। কলঙ্ক নিয়ে বাঁচতে হয় নারীদের। আর আমি সেই নারী যে কলঙ্কিত না হয়েও কলঙ্কিত।
নিক আচমকা এনির গলা চেপে ধরে। কন্ঠে খাদ নামিয়ে বলে,

” আমার স্পর্শে কলঙ্কিত হয়েছো। এত আফসোস কিসের?
এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিশ্বাস টেনে বলে,
‘ তিন মাস যবত আমি এই বদ্ধ রুমে বন্ধী। আর কত অন্ধকারে থাকব? একটু বাহিরটা দেখতে চাই। আর পারছি না থাকতে।
নিক কপাল কুচকে বলে,
” বাহিরে গিয়ে কি দেখবে? কাকে দেখতে চাও?
এনি স্বাভিক গলায় বলে,
” প্রকৃতি দেখতে চাই। দিনের আলো উপভোগ করতে চাই। সব কিছু দেখতে চাই।
নিক সামান্য রেগে বলে,
” আমাকে দেখো।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” আপনাকে তো প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। কিন্ত বাহিরের জগৎ তো দেখি না।
নিক হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে। গলায় চাপ প্রয়োগ করে বলে,
” কিছু দেখতে হবে না। আমাকে দেখবে সারাদিন। যদি বলো সামনে বসে থাকতে, বসে থাকব। বাট আমি ব্যতিত অন্য কিছু দেখতে চাওয়ার স্পর্ধা দেখাবে না। আমি রেগে গেলে কন্ট্রোল করতে পারবে না। শান্ত আছি শান্ত থাকতে দাও।
এনি কিছু বলতে গিয়ে ও থেমে যায়। নিক এনির ঠোঁট চেপে ধরে। এনির শরীর ঘেমে যাচ্ছে। নিকের চাহনি কেমন অস্বাভাবিক। যে চোখের সাথে সে প্রতিনিয়ত পরিচিত আজ সে চোখ নয়। আজ চোখে কোনো হিংস্রতা বা রাগ নেই। কেমন অস্বাভাবিক হয়ে আছে। এনি সামান্য ঢোক গিলল। নিক এনির গলায় মুখ ডুবিয়ে বলে,

” জ্ঞান হারাবে না।
এনি নিকের ইঙ্গিত বুঝে শিউরে উঠে। এক হাত দিয়ে ধ্বাক্কা মেরে বলে,
” শরীরের ক্ষত এখনও তাজা।
নিক এনির গলায় ছোট তিলটায় কামড় বসিয়ে বলে,
” মেডিসিন আছে।
এনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। এতক্ষন শান্ত থাকা মাফিয়া বস হুট করে হিঁংস্র হয়ে উঠে। প্রগাঢ় খুব্দতায় এনির হাত – পা বেঁধে ফেলে। এনি ভয়ে কাঁপছে। নিক ঠিক কতটা হিংস্র চিতা বাঘ সেটা এক রাতের মধ্যে’ই এনির ধারনা হয়ে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এনি পুরোটা নিকের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আয়। এনি আতঙ্কে জমে গিয়ে বলে,
” আপনার হাত থেকে রক্ত পড়ছে।
নিক এনির শার্টে হাত রেখে বলে,
” যেটা ঠিক থাকার সেটা আছে। হাত জাহান্নামে যাক।
এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। মনে মনে চাপা আর্তনাদ করে উঠে। আবার ও এই ঘৃনিত ব্যক্তির স্পর্শ পেতে হচ্ছে। নিক সময়ের ব্যবধানে এনির মধ্যে ডুব দিতে থাকে। সময় যাচ্ছে, মুহূর্ত যাচ্ছে আবার ও সেই হিংস্র অত্যাচার। যে স্পর্শ কোনো দয়া, মায়া ছিলো না। এনি সহ্য করে নিচ্ছে সেই স্পর্শটুকু।

অধিরাজ মেনশন থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে যায়। উদ্দেশ্যে টর্চার সেলে যাওয়া। আচমকা একটা মেয়ে এসে দাঁড়ায় সামনে। অধিরাজ প্রথমে রেগে গেলে পর মুহূর্তে শান্ত হয়ে যায়। বিরক্তি নিয়ে তাকায় রমনীর দিকে। অধিরাজের এমন বিরক্তি চেহারা দেখেও রমনী রাগ করে নি। উল্টে একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বলে,
” কেমন আছো রাজ।
অধিরাজ রমনীর প্রশ্নকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যায়। মেয়েটা ভাঙ্গা গলায় বলে,
” কথা বলবে না আমার সাথে? প্রশ্ন করেছি আমি। এমন নির্দ্বয়ের মত এড়িয়ে যাচ্ছো কেনো?
রমনীর বিষাদময় কন্ঠে শুনে অধিরাজের পা দুইটা থেমে যায়। নিজেকে ধাতস্থ করে পুনরায় আগের জায়গায় এসে দাঁড়ায়। সুঠামদেহী কালো কুচকুচে আফ্রিকান সুদর্শন পুরুষটিকে রমনীটি এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। মেয়েটা পুনরায় প্রশ্ন করে,

” কেমন আছো?
অধিরাজ রাগ দেখাতে গিয়েও থেমে যায়। গম্ভীরতা টেনে বলে,
” অসুস্থ থাকার কথা ছিলো?
মেয়েটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
” উহুম। প্রতিদিন যিশুর কাছে তোমার জন্য সুস্থতা কামনা করি।
অধিরাজ বড় করে নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” তানভী নিজের বড়িতে যাও। এখানে তোমার জন্য নিরাপদ নয়।
তানভী সাবলীল ভঙ্গিতে বলে,
” তুমি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দাও।
অধিরাজ চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিছুক্ষনের মধ্যেই নিজের স্বভাবে ফিরে আসে। কপাট রাগ দেখিয়ে বলে,
” এখানে এসেছো কেনো?
— জিজ্ঞাসা করবে না আমি কেমন আছি?
অধিরাজ তাকায় তানভী-র দিকে৷ তানভীর অধরে মিষ্টি হাসি। তানভী-র ঠোঁটের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে পর মুহূর্তে দৃষ্টি সংযত করে ফেলে।শক্ত গলায় বলে,

” না।
— কেনো করবে না?
অধিরাজ কন্ঠ কঠিন করে বলে,
” সুস্থ আছো বলেই তো এখানে এসেছো।
– বাহ্যিক দিকটাই দেখলে। অভ্যন্তরীন ব্যাথা দেখতে পাচ্ছো?
অধিরাজ সামনে এগিয়ে গিয়ে বলে,
‘ এইসব দেখার প্রয়োজন নেই আমার।
তানভী – এতক্ষন শান্ত থাকলে ও এখন অশান্ত হয়ে পড়ে। অধিরাজের ব্যবহারে প্রচন্ড কষ্ট পায়। সামান্য জেদ দেখিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায় অধিরাজের পিছন – পিছন। অধিরাজ গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় তানভী- সামনে দাঁড়িয়ে যায়। তানভী হুট করে আসাতে দুই পা পিছিয়ে যায়। রাগ দেখিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” সমস্যা কি তোমার? এইভাবে রাস্তা আটকাচ্ছো কেনো?
তানভী অধিরাজের চোখে চোখ রাখে। এরপর জেদী গলায় বলে,
” কথা বলছো না কেনো আমার আমার সাথে?
অধিরাজ রাগান্বিত কন্ঠে বলে,

” সামনে থেকে সরে দাঁড়ায়।
তানভীর ঠোঁট ভেঙ্গে আসে কান্নায়। কোনোমতে ঠোঁট চেপে কান্না আটকে রেখে বলে,
” কতটা নিষ্ঠুর তুমি। একবার ও জানতে চাইলে না আমি কেমন আছি। একবার ও জানতে চাইলে না তোমাকে ছাড়া ঠিক কতটা কষ্টে দিন পার করছি।
কেনো করো আমার সাথে এমন? একটু ভালোবাসলে কি এমন ক্ষতি হয়?
অধিরাজ তানভী-র ভগ্ন কন্ঠ শুনে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
” কেনো ভালোবেসেছো আমাকে?
— অপরাধ তো করি নি।
— অনেক বড় অপরাধ করেছো তুমি তানভী। একজন নরখাদককে ভালোবেসে পাপ করেছো।
— তোমাকে ভালোবেসে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী হতেও আমি রাজি।
— ভুল করছো। এইসব আবেগ মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলো।
— চেষ্টা করেছি বহুবার৷ কিন্তু সফল হয় নি৷ শেষ পর্যন্ত একটা’ই চাওয়া। তোমাকে একটু ভালোবাসতে চাই। তোমার ভালোবাসা পেতে চাই।
অধিরাজ দাঁত পিষে ধমক দিয়ে বলে,

” সেট আপ তানভী। আমার হাতে আঘাত হওয়ার আগে এখান থেকে প্রস্থান করো। নাহলে যে কোনো সময় রক্তাক্ত হবে।
তানভী তাকায় অধিরাজের দিকে৷ সামান্য শব্দ করে হেসে উঠে রমনী। দুই পা এগিয়ে অধিরাজের ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়ায়৷ বিশালদেহী অধিরাজের জন্য তানভী নিত্যান্ত’ই ছোট। তানভী-র নিশ্বাস গিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে অধিরাজের বক্ষ গহ্বরে। তানভী-র হাসি দেখে অধিরাজ কপাল কুচকে ফেলে। তানভী হাসি থামিয়ে বলে,
‘ হাজার বার রক্তাক্ত হতে রাজি আছি। পুরো শরীরটা তোমার নামে সমর্পন করলাম। কি দিয়ে রক্তাক্ত করবে? করাত, ছুরি, চা**পাতি নাকি রিভলভার? ইচ্ছেমত যন্ত্র প্রয়োগ করতে পারো। হাসিমুখে তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকব। বিনিময়ে তোমার ভালোবাসা চাই। দেবে তো?
অধিরাজ বিরক্তির নিশ্বাস ছাড়ে। কন্ঠটা নরম করে বলে,

” তানভী ধৈর্য হারাচ্ছি কিন্তু।
— তাহলে আঘাত করছো না কেনো?
— চার- পাশে অনেক গার্ড রয়েছে।
— কি হয়েছে তাতে? তাদের সামনে আঘাত করলে কি হবে? আমার সম্মান নষ্টের কথা ভাবছো?
অধিরাজ নিজের নিয়ন্ত্রন হারায়। রাগে কেঁপে উঠে পুরো শরীর। তানভীকে ধাক্কা মেরে ফ্রন্ট সিটে ফেলে দেয়। আচমকা আক্রমনে তানভী নিজের ব্যালেন্স হারায়। মাথাটা গিয়ে স্টিয়ারিং এর সাথে আঘাত খায়। তবে আঘাত তীব্র হয় নি। রক্ত না আসলেও ব্যাথায় নাক – মুখ খিঁচে ফেলে। কিছু মুহূর্তের ব্যবধানে অধিরাজের শক্ত থাবার সম্মুখীন হয়। অধিরাজ তানভী- র চিবুক চেপে ধরে শক্তভাবে। তানভীর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। অধরে মুচকি হাসি। অধিরাজ কিড়মিড়িয়ে বলে,

” কেনো বার বার আসো আমার সামনে? এতটা বেহায়া কেনো?
তানভী দুই হাত দিয়ে অধিরাজের শার্ট শক্ত করে চেপে ধরে। এরপর এক টানে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে। চোখে চোখ রেখে বলে,
‘ একটু বেহায়া হতে চাই।
অধিরাজ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে বলে,
” আমি তোমাকে ভালোবাসি না। শুধু তুমি নয়। আমার জীবনে কোনো দুর্বলতা প্রবেশ করাব না।
— আমার চোখে চোখ রাখো। আমাকে স্পর্শ করে বলো আমাকে ভালোবাসো না? তোমার মনে আমার জন্য কোনো স্থান নেই?বলো রাজ।
অধিরাজ কিছু বলে না। তানভী-র উপর থেকে উঠতে উঠতে বলে,

” পাগলামি করে সময় নষ্ট করছো।
তানভী সামান্য হাসে। এরপর আচমকা অধিরাজের ঘাড়ে হাত পেচিয়ে ধরে এক টানে নিজের সম্মুখে নিয়ে আসে। অধিরাজ তাল সামলাতে না পেরে পুনরায় তানভী-র সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। সে কিছু ভাবার আগেই ঠোঁটে কারোর নরম স্পর্শ অনুভব করে। অধিরাজ সামান্য ভালো লাগা নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। তানভী চাতক পাখির ন্যায় অধিরাজের ঠোঁট দুইটা আকড়ে ধরে। আচমকা ঠোঁটের এক পাশে কামড় দিয়ে দেয়। অধিরাজের কোনো হেলদুল নেয়। তানভী থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু তানভী আরও শক্ত করে চেপে ধরে নিজের সাথে। এইবার অধিরাজের ধৈর্যের সমাপ্তি ঘটে। হিংস্রতা নিয়ে এক হাতে গলা চেপে ধরে ঠোঁটে চুমু খেতে থেকে। অধিরাজের আক্রমনে তানভী মুচকি হাসে।

অধিরাজ একাধারে ঠোঁট কামড়ে যাচ্ছে। পর মুহূর্তে ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দেয়। অবাধ্য হাতের বিচরন গভীর হতে থাকে। জামার ফিতাতে টান দিতেই তানভী হাত শক্ত ভাবে চেপে ধরে। অধিরাজ কপাল কুচকে তাকায় তানভী-র দিকে। তানভী এক হাতে অধিরাজকে সরিয়ে দেয় নিজের উপর থেকে। গাড়ি থেকে নেমে অধিরাজের হাতে শক্ত করে চুমু খেয়ে বলে,
” সব কিছুর সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন। বিয়ে করো সব পাবে।
অধিরাজ তানভী-র ঘাড় চেপে ধরে দাঁত পিষে বলে,
” সিডিউস কেনো করেছিস?
— আমার সামান্য চুম্বনে সত্যি সিডিউস হয়েছেন?
অন্য নারীরা কেনো পারে না? আমার স্পর্শে’ই কেনো সিডিউস হয়েছেন?
অধিরাজ ছেড়ে দেয় তানভীকে। তানভী শান্ত কন্ঠে বলে,

” কাল অপেক্ষা করব তোমার জন্য। সময় করে আমার সাথে একবার দেখা করবে। নাহলে রাত হওয়ার সাথে সাথে আমার মরনের খবর শুনবে। ট্রস্ট মি সারা দিন অপেক্ষা করব। আর না আসলে নিজের জীবনটা ত্যাগ করে দিব। খুব ভালো করে জানো আমি যা বলি তাই করি। আজ তাহলে আসি রাজ। সময়মত চলে আসবে কিন্তু। আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করব।
অধিরাজ স্তব্দ হয়ে বসে। কি বললো মেয়েটা। মরন দেখতে পারবো মানে? অধিরাজ রাগে হাত মুষ্টি করে ফেলে। কিছু বলার জন্য সামনে তাকাতেই থেমে যায়। তানভী-র কোনো অস্তিত্ব নেয়। অধিরাজ ঠোঁট ভিজিয়ে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসে। এরপর সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কপালে হাত দিয়ে নিজের ঠোঁটে হাত রাখে। কিছুক্ষন আগের মুহূর্তে ভাবতেই ফিসফিস করে উঠে,
,” যতটা দুরে সরাতে চাইছি ঠিক ততটা কাছে চলে আসছে। প্রতিনিয়ত আমরা লড়াই করে বেচেঁ আছি। এমন ভয়ানক জীবনে তোমাকে কিভাবে জড়াব!

অন্ধকারে বসে জেড দাবার গুঁটি নাড়াচ্ছে। ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি। চোখ কেমন শান্ত। বারোটা রক্তের গ্লাস। তাজা রক্তের গন্ধে চার- পাশ মোঁ মোঁ করছে।
বারোটা গ্লাস রক্ত রাখা হয়েছে। কিছুক্ষন আগেই সাত বাছরের একটা বাচ্চাকে মেরেছে। মাংসগুলো কুচি কুচি করে কেটে সিদ্ধ করতে দিয়েছে। গ্যাসের শব্দে জেড ঠোঁট নাড়ায়। উদ্ভুতভাবে দাবার গুঁটি সরিয়ে বলে,
” সিদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
জেড ধীর পেয়ে চলে যায় কিচেনের দিকে। সিদ্ধ মাংসের গন্ধ নাকে এসে স্পর্শ করে যায়। জেড কুকুরের মত জিহ্বা বের করে নিশ্বাস টানে। স্টিলের করাই-টা হাত দিয়ে নামিয়ে রাখে। এরপর নাক নিয়ে আবার ও নিশ্বাস টানে। করাইটা হাতে নিয়ে টেবিলের কাছে নিয়ে যায়। যেখানে রক্তের গ্লাস আর দাবা রাখা হয়েছিলো। জেড আয়েশ করে চেয়ারে বসে। এরপর তৃপ্তির হাসি হেসে চার- পাশে তাকায়। গা ছমছমে অবস্থা পুরো রুমের। রুমটা বিদঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে। দাবার গুঁটি এক হাতে নাড়াচ্ছে অন্য হাতে তাজা রক্ত পান করছে। চামচ দিয়ে সিদ্ধ মাংস মুখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। এমন বিকৃত মুহূর্তে আগমন ঘটে কালো হুডিতে আবৃত একটা বিশালদেহী ব্যক্তির।
জেড সেদিকে কপাল কুচকে তাকায়। ব্যক্তিটাকে চিনতে পেরে বলে,

” তুমি এখানে?
কালো হুডি পড়া ব্যক্তটা সামনে এগিয়ে আসে। টেবিলের সামনে মাংস আর রক্তের আয়োজন দেখে বিরক্তির শ্বাস ফেলে বলে,
” মেয়েটাকে তুই মেরেছিস?
জেড গুঁটি নাড়িয়ে বলে,
” কোন মেয়ে? দৈনিক তো অনেক মেয়েকে’ই মারি।
ব্যক্তিটা কপাট রাগ দেখিয়ে বলে,
” শুয়রের বাচ্চা কাল জঙ্গলে যেটাকে মেরেছিস সেটার কথা বলেছি। নিউজে দেখেছি জঙ্গল থেকে রক্ত আর হাড় ভাঙ্গা, মাংসের টুকরো পেয়েছে।
জেড শান্ত ভাবে বলে,
” শিউর কিভাবে হয়েছো এইটা মেয়ে ছিলো।
— ল্যাবে মাংসের টুকরো থেকে শনাক্ত করা হয়েছে।
জেড বিকৃত ভাবে হাসে। হুডি পড়া লোকটা চোয়াল শক্ত করে বলে,
” রে** কেনো করেছিস?
জেড পুনরায় ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” কিভাবে বুঝলে?
হুডি পড়া লোকটা জেডের গলা চেপে ধরে বলে,
” শালা মাদার্ফাক তর অশালীন স্পার্ম পাওয়া গিয়েছে।
জেড হুডি পড়া লোকটা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বলে,
” ব্যাথা পাচ্ছি আমি। এইভাবে কেউ চেপে ধরে? শত্রুদের যেভাবে মারো আমাকে ও মারতে এসেছো নাকি?
লোকটা রাগে হুংকার দিয়ে উঠে,
” ইচ্ছে তো করছে। জ্যাঁন্ত কবর দিয়ে ফেলি। শুধুমাত্র একটার জন্য বাঁধা পড়ে আছি। নাহলে তর হাড্ডি দিয়ে আমি নকশা বানাতাম কুত্তার বাচ্চা।
জেড বিকৃতভাবে হেসে উঠে। হুডি পড়া লোকটা রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২২

‘ তকে এখানে আর রাখা যাবে না। কাল সকালে গ্লাস মিনারে এসে নিয়ে যাব। পালানোর চেষ্টা করবি না একদম।
জেড রক্তের গ্লাস থেকে রক্তে চুমুক দিয়ে বলে,
” পালিয়ে আর যাব কোথায়?
হুডি পড়া লোকটা আর দাঁড়ায় না। বড় বড় পা ফেলে চলে যায়। জেড পৈশাচিক হেসে নিজের কাজে মনযোগ দেয়।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৪