Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৭

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৭

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৭
লিজা মনি

” কলিজা আমার!
এই কন্ঠটা তার অতি পরিচিত। কিন্তু এত নরম কন্ঠ তার জন্য পরিচিত নয়। নিকের “কলিজা আমার” উচ্চারণ শোনামাত্র এনির সমগ্র অস্তিত্বে যেন অপ্রত্যাশিত আবেগের এক অদৃশ্য তরঙ্গ প্রতিধ্বনিত হতে শুরু করেও থেমে যায়। মনে পড়তে থাকে সমস্ত নিষ্ঠুরতা। চোখের পানি টুইটুম্বুর করে উঠে। নিকের এই কোমল ডাকটা কানে এখনও শব্দ করছে। চক্ষু-দ্বয়ের গভীরে এক ধরনের অপার বিস্ময় ও অব্যক্ত সংকোচের সূক্ষ্ম ছায়া দ্রুত নেমে আসে। এত নরমভাবে কথা বলার মানুষ তো গ্যাংস্টার বস নয়। তিনি একটা সময় তার সাথে নরম হয়। হয়ত মাতাল থাকলে নয়ত ড্রাগস নিলে। মদের কোনো প্রকার গন্ধ যেহেতু সে পায় নি তার মানে ড্রাগস নিয়ে এসেছে। এনি শক্তি প্রয়োগ করে নিককে সরানোর জন্য। নিক এনিকে নিজের সাথে আরও গভীর ভাবে মিশিয়ে নেয়। এনির গলায় মুখ ডুবিয়ে মিহি সুরে বলে,

” উমমম, নড়াচড়া করো না ব্লাড রোজ।
এনি কন্ঠ শক্ত করে নিকের উদ্দ্যশ্যে বলে,
” আপনি ড্রাগস নিয়েছেন তাই -না?
নিক যেন এনির কথা শুনলো না। কেমন উন্মাদ আচরন করছে। মনে হচ্ছে কতদিনের গচ্ছিত সম্পদ নিজের কাছে পেয়েছে। নিকের পাগলাটে স্পর্শে এনি দাঁতে দাঁত পিষে। চোয়াল শক্ত করে বলে,
” প্রশ্নের উত্তর দিলেন না?
নিক হিসহিসিয়ে বলে,
” কিসের?
” ড্রাগস নিয়েছেন?
” কাউকে কৈফিয়ত দেয় না আমি।
এনি চোয়াল আরও শক্ত করে ফেলে। কৈফিয়ত চেয়েছে কখন সে?
” কৈফিয়ত চেয়েছে কে আপনার থেকে? সেই সাহস আর ক্ষমতা থাকলে হয়ত ভালোই ছিলো।
” তোমার ঠিক কতটুকু ক্ষমতা সেটা যদি আমার হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে তাহলে অযথা এই চোখের পানি খরচ করতে না।

‘ এত ক্ষমতা থাকলে আপনার থেকে নিজেকে মুক্ত কেনো করতে পারছি না? কেনো এই চার দেয়ালের ভিতরে বদ্ধ এক রুমে মরন যন্ত্রনা ভোগ করছি?
নিক ঘন ঘন শ্বাস ফেলে। চুমু, অবাধ্য হাতের বিচরন থামিয়ে দেয়, এনির চুলগুলো শক্তভাবে চেপে ধরে নিজের সম্মুখে নিয়ে আসে। চোখে চোখ রেখে ক্ষোভ নিয়ে বলে,
” ড্রাগস নিয়েছি বলে মাতাল হয়ে যায় নি। আমার থেকে মুক্তি পাবে এই কথাটা পুনরায় রিপিট করলে জবান টেনে নিয়ে আসব। তর ধারনাও নেই বাহিরে তকে কেন্দ্র করে ঠিক কত আয়োজন চলছে, রাবিশ!
এনি ব্যাথায় সামান্য গোঙ্গিয়ে উঠে। নিক এনিকে ছেড়ে ছিটকে ফেলে দেয়। এনির উপর থেকে উঠে হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। ঘন ঘন নিশ্বাসের সাথে রাগে মিশ্রিত হওয়া ফুঁশ ফুঁশ শব্দ পুরো রুমে বিরাজ করছে। এনি গলায় হাত রাখে। দাঁতের আঘাতে ক্ষত হয়ে গিয়েছে। এনি রাগ দেখিয়ে বলে,
‘ এত দ্রুত সরে গেলেন কেনো? তান্ডব সম্পূর্ন করে এরপর সমাপ্তি ঘটাতেন।
” দু্র্বল সেতুর উপর ভাড়ী যানবাহন চলা বিপদজ্জনক বেবিগার্ল।
এনির লজ্জায় নাক মুখ কুচকে আসে। দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,

” নির্লজ্জ চিতাবাঘ।অশ্লিল!
নিক হাত সরিয়ে ফেলে চোখ থেকে। ধূসর চোখ দুইটা অসম্ভব লাল হয়ে আছে। এত হিংস্র চোখের দিকে তাকানোর ক্ষমতা এনির নেই। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” তুমি আমাকে আমন্ত্রন করতে পারো আর আমি সেটা নিয়ে কিছু বললেই অশ্লীল হয়ে গেলাম?
এনি না চাইতেও তাকিয়ে যায়। লাল চোখ দুইটা দেখে শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” ড্রাগস নিয়েছেন তাই -না?
নিকের শান্ত স্বর,
” নিয়েছি?
” ড্রাগস শরীরের জন্য ক্ষতিকারক জানেন না? জানার পরও এইসব সেবন করেন কোন বিবেকে?
নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে শক্ত গলায় বলে,
” যার পুরো শরীরটাই অন্ধকারে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে, তাকে নতুন করে আ্যলকোহল, ড্রাগসে পুড়াবে কখন। আর যদি ক্ষতিও হয় তা-তে তোমার কি?
এনি ছটফট করে উঠে। চোখ দুইটা চারপাশে ঘুরাতে থাকে। কারোর দৃষ্টি, কারোর কঠিন প্রশ্ন থেকে সে পালাতে চাইছে। কোথায় পালাবে সে? আশ্চর্য, সে পালাবে কেনো? প্রতিটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে সে জানে। এনি হাপিয়ে উঠে এমন যুদ্ধ মনের ভিতর হওয়াতে। খাট থেকে নেমে পা ঝুলিয়ে বসে। অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,

” মানুষ হিসেবে পরামর্শ দিয়েছি।লাভ -ক্ষতির মুনাফা যাচাই করে বলি নি।
নিম অদ্ভুতভাবে হাসলো।।ঠোঁট কামড়ে বলে,
” থ্যাংক গড কোনো মানুষের সাথে তুলনা করেছো। আমি তো ভেবেছিলাম সত্যি সত্যি জানোয়ার ভেবে নিয়েছো। যাদের কোনো হার্ট নেই, কষ্ট হয় না।
এনি বিরক্তি হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ে। নিক এনির পুরো শরীর দেখছে। আগের থেকে অনেকটা স্বাস্থ্য হয়েছে। রুমের ভিতরে বন্ধী থাকায় ত্বক আরও জ্বলজ্বল করছে। পুরনো দৃশ্যমান দাগগুলো মেডিসিনের প্রভাবে কমে এসেছে। তেমন বুঝা যাচ্ছে না এখন আর। নিকের অবাধ্য চোখ চলে যায় অন্যদিকে। ঘন -ঘন নিশ্বাস টেনে অস্থির হয়ে উঠে। গলা যেন শুকিয়ে আসছে। বুকের পাশে দুইটা বোতাম অস্থির হয়ে খুলে ফেলে। এনি নিকের দিকে ঘুরতেই নিক ধমকে উঠে,

” ওড়না নেই তোমার? ওড়না গায়ে জড়াও ইডিয়েট!
নিকের এমন প্রাগাঢ় ধমকে এনি কেঁপে উঠে। নিজের দিকে তাকাতেই লজ্জায় গা শিরশির করে উঠে। দ্রুত বিছানার পাশ থেকে ওড়না নিয়ে শরীরে মুড়িয়ে ফেলে। কাঁপা গলায় বলে,
” এত দিকে নিজের যায় কেনো আপনার?
” আমার দৃষ্টি মারাত্নক ব্লাড রোজ। ঠিক কোথায় কোথায় যায় তোমার ধারনার ও বাহিরে। শুনলে টিকতে পারবে না। তাই মৌনতায় ভালো।
এনির গলা শুকিয়ে আসে,
” শ..শুনি?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে বলে,
” টিকতে পারবে না।
এনি সাহস সঞ্চয় করে বলে,
” তা-ও বলুন।
নিক অধরে বাঁকা হেসে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। নিকের দৃষ্টি অনুসরন করতেই এনি ছটফটিয়ে উঠে,

” গজব পড়ুক আপনার এই অশ্লীল দৃষ্টির উপর।
নিক ঠোঁট কামড়ে শব্দ করে হেসে উঠে। এনি চোখের পাতা ঝাপ্টে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজেকে ভালোভাবে পরিপাটি করে চুপচাপ বিছানার এক অংশে বসে পড়ে । নিক এনির হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। ছোট্ট শরীরটাকে আবার ও নিজের সাথে চেপে ধরে বলে,
” এমন কোনো কিছুই আমার অদেখা নয়। তাই এই লজ্জা -লজ্জা ভাব দেখাবে না আমার সামনে।
থেমে। ঠোঁট চেপে বলে,
” বিগত দশ দিন ধরে তোমার কাছে আসি নি। নিশ্চই খুশি হয়েছো অনেক। আই নো, মরে গেলে আরও অনেক খুশি হতে।
এনির রিয়্যাকশন বুঝা গেলো না। শুধু শুনা গিলো মিহি স্বরের দুইটা লাইন,
” মৃত্যু কামনা করার আমি কে। আর শয়তান এত দ্রুত মরে না। চিন্তা করবেন না আপনিও মরবেন না।
নিক এনির কানে কামড় দিয়ে বলে,
” এই অভিশাপের ভাগ ও কাউকে দিব না।

সকাল প্রায় দশটার দিকে। আরিশ কিছুক্ষনের মধ্যেই ইতালি যাবে। ত্রিশ কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট। নিক কিছু প্যাপারে সাইন করে গম্ভীর গলায় বলে,
” এই ব্রেসল্যাট হাত থেকে এক মিনিটের জন্যও খুলিস না।
আরিশ মুচকি হেসে বলে,
” এমনভাবে কেয়ার করছিস যেন আমি তর বউ। নিজের বউয়ের দিকে নজর দে ভাই।
নিক বিরক্তি নিয়ে তাকায় আরিশের দিকে। সিরিয়াস কথার মধ্যে এমন অহেতুক কথার আদ’ও কোনো মানে হয়। নিক চোয়াল শক্ত করে বলে,
” যদি আমার ব্রেসল্যাটের সাথে সব কিছুর ডিসকানেক্ট হয়, তাহলে তর গলাটা কেটে ইতালি ভাসিয়ে দিয়ে আসব।
নিকের চিন্তা দেখে আরিশ গাঁ কাঁপিয়ে শব্দ করে হেসে উঠে,
” ভাগ্যিস আমি ছেলে হয়ে জন্মেছিলাম। নাহলে প্রতি রাতে তর কত কামড় যে আমাকে খেতে হত। যদি আমাকে পেতি তাহলে এক রাতেও মিস দিতি কি-না সন্দেহ। হয়ত সেই সুযোগে এক চান্সে দশ বাচ্চার মা ও হয়ে যেতাম।
আরিশের কথায় অধিরাজ সামান্য কাঁশে। এইসব শুনে এমনিতেও সে অভ্যস্ত।
নিকের যেন গায়ে লাগে নি। এইসব কথা সে প্রায় সময় শুনে। বাকি কাগজে সাইন করতে করতে বলে,

” গ্যাংস্টার বসের মেশিন এতটাও দুর্বল নয়। যাকে দেখবে তার জন্যই স্ট্রাট হয়ে যাবে। তার জন্য একজন নির্দষ্ট ব্যক্তি আছে। যার ছোঁয়া ছাড়া পৃথিবীর কারোর পক্ষে নড়ানো সম্ভব নয়।
আরিশ থমথমে মুখে চুপ হয়ে যায়। নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” ডাইরেক্ট বেইজ্জতি না করলেও পারতি।
নিক কাগজগুলো আরিশের দিকে দিয়ে ধমক দিয়ে বলে,
” দ্রুত বিদায় হ এখান থেকে।
আরিশ কথা বাড়ালো না। সময় তার কাছে এমনিতেও কম। অন্য সময়ের মত মন প্রফুল্ল নয় তার। বার বার মনে হচ্ছে কোনো এক অমুল্য রতন রেখে যাচ্ছে সে। কিন্তু কি সেটার খোঁজ পাচ্ছে না।

দুপুরের কাছা-কাছি সময়। নাভিদ আর নিক মুখো-মুখী হয়ে বসে আছে। নাভিদ পাশের দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার ভাই কেমন আছে?
” বেঁচে আছে।
নাভিদ ঘন শ্বাস ফেলে বলে,
” দেখা করা যাবে?
” এজ ইউর উইশ! এতদিন মনে হয় নি তর ভাই আছে?
নাভিদ শান্ত গলায় বলে,
” নিজেকে পুরোপুরি শুদ্ধ করতে চেয়েছিলাম। অশুভ কিছুর সঙ্গ দিতে চায় নি। অশুভ সঙ্গ পেলে শুদ্ধতা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ত।
নিক ব্লেজার ঠিক করে বলে,
” কিন্তু সে তকে না পেয়ে আরও উন্মাদ হয়ে উঠেছে। উফফস নরখাদকের দিলে এত মহাব্বত থাকে জানতাম না।
নাভিদ মলিন হাসলো। গ্লাস নাড়িয়ে বলে,
” এনিকে একটু দেখতে দিবি?
নিক গম্ভীর গলায় বলে,

” তাহলে চল এনির কাছে তর অতীতটাও জানিয়ে আসি।
” প্রয়োজন নেই দেখার। আমার অতীত জানলে নিশ্চই অনেক ঘৃনা করবে তাই -না নিক?
এইদিকে এনি দরজায় উকি দেয় কারোর খোঁজে। মাথা ব্যাথা করছে প্রচন্ড। এই মুহূর্তে ব্যাথা নিবারনের জন্য ঘরোয়া কিছুর প্রয়োজন। কিন্তু নিকের ভয়ে রুম থেকে বের হতেও পারছে না। বহু যুদ্ধের পর রুমের বাহিরে পা রাখে। পা টিপে টিপে সামনে এগিয়ে আসে। ডিভানে বসা দুইজন পরিচিত যুবককে দেখে সেখানেই থমকে যায়।
এনির পায়ের শব্দ নাভিদ না বুঝলে নিকের কানে আসে। ঘাড় ঘুরিয়ে এনির দিকে তাকায়। কিন্তু এনির দৃষ্টি নাভিদের দিকে। নাভিদ আর নিককে দেখে এনি দু কদম পিছিয়ে যায়। ভয়ে থরথর করে কাঁপছে সে। মনে একটাই ভয় নিক যদি নাভিদের কোনো ক্ষতি করে ফেলে। এনি বহু কষ্টে বলে,

‘ ন. নাভিদ ভাই, আ.. আপনি এখানে?
নাভিদ কোনো উচ্চারণে নিজেকে প্রকাশ করল না।
নির্মম স্থিরতায় তার দৃষ্টি অনড় হয়ে রইল এনির উপর। যেন বহু যুগ পর মরুপ্রান্তরে আকস্মিক জলাভাসের সাক্ষাৎ মিলেছে। এবং সে সেই তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিখানি দিয়ে
সামনের মায়াবিনীর অস্তিত্ব শুষে নিতে চাইছে।
কিন্তু এই নির্বাক যুবক কি বিন্দুমাত্র অনুধাবন করছে
যে ঠিক তার সামনেই আরেক জোড়া দৃষ্টি
অগ্নির মতো রক্তাভ হয়ে ওঠেছে। যে দৃষ্টি নিঃশব্দে হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিচ্ছে?
এনি সিঁড়ির রেলিং শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। নিকের দিকে তাকাতেই তার বুকের ভেতর শুষ্ক শীতের হাওয়ার মতো ভীতি জমে ওঠে। নিকের চোখে এমন এক বন্য হিংস্রতার আভা যেন সে মাত্রই ঝড়ের আগমনী বার্তা পাঠিয়েছে।
এই অঘোষিত তাণ্ডবের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত অনুভব করে
এনি দ্রুত মুখ ফেরায় নাভিদের দিকে।কিন্তু নাভিদও তখনো
নিশ্চল পাথরের মতো তাকিয়ে আছে তারই দিকে।চোখ দুটি অস্বাভাবিক লাল আভায় দীপ্তিময়।
এনি চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে নিজেকে সামলে নেয়।
এবং অবশেষে কণ্ঠকে কঠোরতায় ধারাল করে বলে,

“নাভিদ ভাই, স্বাভাবিক হোন।”
নাভিদ অধরের কোণে ক্ষীণ হাস্যরেখা টেনে বলে,
“কেমন আছো তুমি?”
এনিও বহু দিনের পরিচিত স্নিগ্ধ ভঙ্গিতে মৃদু হাসি ছড়িয়ে বলে,
“ভালো আছি ভাইয়া। আপনি কেমন আছেন?”
নাভিদ ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার কণ্ঠে তখন গভীর এক দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি করে বলে,
“পুরো বাড়িটা এখন একেবারে প্রাণহীন। সেই ছোট্ট এনির হাসির দীপ্তি ইরানের আলিশান অট্টালিকাতেও আজ আর প্রতিফলিত হয় না। যেদিন সেই ছোট্ট পাখিটাকে এক দুষ্টু ক্ষমতাধারী রাজা নিঃশব্দে আমার বুকে থেকে বিচ্ছিন্ন করে অদৃশ্য কুঠুরিতে আবদ্ধ করেছে সেদিন থেকেই নাভিদের অনুভূতিগুলো শুষ্ক পাথরে পরিণত হয়ে গিয়েছে।
ক্ষমতা আছে হয়তো অনেক। রাজার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারছি না। পাখিটাকে আবার নিজের আশ্রয়ের ছায়ায় ফেরাতে পারছি না। যে গৃহে এনি নেই সে গৃহে নাভিদ কীভাবে ‘ভালো’ থাকে বলতো, পাখি?
এনি কোনোরকম চোখের পানি আটকে রাখে। অন্য দিকে দৃষ্টি সরিয়ে বলে,

” এখানে কেনো এসেছেন নাভিদ ভাই। আমার কারনে যদি আপনার কোনো ক্ষতি হয় সেটা সহ্য করতে পারব না।
নাভিদ হালকা হেসে বলে,
” চিন্তা করো না, আমাকে আঘাত করলেও প্রানে পারবে না। গ্যাংস্টার বস কখনো নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” মানে?
নাভিদ নিকের দিকে তাকায়। নিকের হিংস্র ঈগল দৃষ্টি এনির দিকে। নাভিদ নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” ওর দিকে এইভাবে কেনো তাকাচ্ছিস?
নিক ক্ষোভ নিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” নিজের বউয়ের দিকে কিভাবে তাকাব সেটা কি তর থেকে পারমিশন নিতে হবে? বাস্ট্রাড!
এনি নিকের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে। আজ তার উপর কি ঘূর্নিঝড় যাবে সেটা এখনই সে আন্দাজ করতে পারছে। ভয়ে শিরশির করে উঠে পায়ের নিচ। উপরে উপরে যত সাহস দেখাক অভ্যন্তরীনভাবে সে নিককে যমের মত ভয় পায়। তাকে ভয় পাওয়ার জন্য একটা জিনিস এই যথেষ্ট, গ্যাংস্টার বসের চোখ।
নাভিদ চোয়াল শক্ত করে তেরে যায়,

” কেনো এমন করছিস আমার সাথে? আমার সব কিছুই তো তর জানা নিক। জীবনটাকেই পরিবর্তন করে ফেলেছি এই মেয়েটার জন্য। সমস্ত কিছু জানার পরও কেনো এমন করছিস?
” সব কিছু জানি বলেই এখনও বেঁচে আছিস নাভিদ। নাহলে একটু আগের ঘটনার জন্য তর দৃষ্টি তুলে ফেলতাম।
নাভিদের কন্ঠ নরম হয়ে আসে। অসহায়ের মত তাকায় নিকের দিকে। নিস্তেজ হয়ে নিকের পায়ের কাছে বসে পড়ে। হাত জোর করে বলে,
” নিক, এইভাবে কেড়ে নিস না। বাঁচতে পারব না আমি ওকে ছাড়া। আমার নিজের ও জানা নেই ঠিক কতটা আসক্ত আমি ওর উপর। তাকে ছাড়া প্রতিটা সেকেন্ড মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করছি। বিশ্বাস কর মাঝে মাঝে দম বন্ধ লাগে প্রচন্ড। নিজের আসল পরিচয় বিসর্জন দিয়েছি। যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচতে চেয়েছিলাম তাকে কেড়ে নিচ্ছিস কিভাবে?
নিক শান্ত কন্ঠে বলে,

” অভ্যাস পাল্টে ফেল। মরিচীকার পিছনে না দৌড়ে বাস্তবতা দেখ।
” সে মরিচীকা নয়। সে আমার বাস্তবতা। যাকে ঘিরে আমি নাভিদে পরিনত হয়েছি।
নিক নাভিদের দিকে শান্ত ভাবে তাকায়। সামান্য ঝুকে ঠান্ডা গলায় বলে,
” এই রমণীকে তথাকথিতভাবে সৃষ্টিকর্তা আমার পাজড়ের অংশ থেকে তৈরি করেছে। তুই এমন একজনকে নিজের আসক্তিতে পরিনত করেছিস যে গ্যাংস্টার বসের প্রোপার্টি। আর আমি আমার প্রোপার্টির বিন্দুমাত্র ভাগ কাউকে দেয় না। না ব্যবসার ক্ষেত্রে না নিজের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে। অন্যের জিনিসের থেকে ভাগ পাবি ভেবে থাকলে এখনও তুই ভ্রমের মধ্যে আছিস নাভিদ ।
নাভিদ অসহায় কন্ঠে বলে,

” কিন্তু নিক এনিকে আমি ভালোবাসি।
নিক চোয়াল শক্ত করে নাভিদের কলার শক্তভাবে চেপে ধরে,
” শান্ত আছি শান্ত থাকতে দে নাভিদ। এমন লাইন আবার ও উচ্চারন করলে জিহ্বা কেটে ফেলবে রাস্কেল! বলেছি না, আমার প্রোপার্টির দিকে চোখ তুলে তাকানো তর জন্য নিষিদ্ধ।
নাভিদ উঠে দাঁড়ায়। শক্ত গলায় বলে,
” তর প্রোপার্টি কিন্তু আমার ভালোবাসা।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” আমি একটুও ভালোবাসি না। ট্রাস্ট মি এইসব ফাকিং ভালোবাসা নিক জেভরানের ডিকশনারিতে নেই। যাস্ট আসক্তি আমার।
নাভিদ রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করতে করতে বলে,
” মেয়েটাকে এইভাবে রুমে বন্ধ করে রেখেছিস কেনো?
” নিজের বউকে কি রাস্তায় ছেড়ে দিব-রে পাগলা। রুম বন্ধী করেই তো শান্তিতে থাকতে পারছি না। চারদিকে কুকুরের মত জিহ্বা বের করে রেখেছে। রুম থেকে বের হলে তো অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। সবার দিকে না তাকিয়ে নিজেকেই দেখ। একদম রুম পর্যন্ত চলে এসেছিস।
নাভিদ দাঁত পিষে বলে,

‘ আমি আর সবাই এক নয় নিক।
নিক ঠান্ডা -শীতল গলায় বলে,
” সেজন্য-তো এখনও বেঁচে আছিস। অন্যদের মত লালসার দৃষ্টি রাখ, দেখ দুই সেকেন্ড বেঁচে থাকিস কি-না?
” যেটা সম্ভব নয় সেটাই অফার করছিস?
এনি নিরব দর্শক হয়ে সব শুনছে। মাথায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাভিদ ভাইয়ের সাথে নিকের অতীতের কোনো যোগসূত্র আছে তার বুঝতে বাকি নেই। শুধু সাধারন কোনো যোগসূত্র নয়। প্রচুর গভীর সম্পর্ক ছিলো একসময়। সেজন্যই তো প্রতিটা গার্ড উনাকে চিনে। যদি না চিনত তাহলে এত এত সিকিউরিটির মধ্যে উনি বার বার ভিতরে কিভাবে প্রবেশ করেন? আরিশ ভাইকে ও তো কেউ আটকাতে পারে না। ওনাকেও কেউ বাঁধা দিচ্ছে না ভিতরে আসাতে নিশ্চই গার্ডদের সাহস বা ক্ষমতা কোনোটাই নেই উনাকে আটকানোর। আর তার একটাই কারন হতে পারে, নিকের সাথে নাভিদের অতীতের গভীর সম্পর্ক। এনির মাথায় শুধু একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
” কি এমন সম্পর্ক ছিলো তাদের মধ্যে? যার কারনে গ্যাংস্টার বস উনাকে প্রানে মারেন না।
এনি নিজের প্রশ্নটা চাপিয়ে রাখতে পারে নি। আতঙ্কিত হয়ে বলে,
‘” কিসের সম্পর্ক আপনাদের দুজনের মধ্যে? আপনারা…..
এনি আর কিছু বলতে পারে নি। গ্যাংস্টার বসের থাবার সম্মুখীন হয়। ঝড়ের গতিতে ওর গলাটা চেপে ধরে। চোখের পলক ফেলার আগেই টেনে -হিচড়ে উপরে নিয়ে যেতে থাকে। ব্যাথায় এনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম। শুধু শুনতে পাচ্ছে নাভিদের আতঙ্কিত সুর,

” নিক মিনতি করছি। মেয়েটাকে আঘাত করিস না। কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে আমার।
নিক থেমে যায়। হাটা থামিয়ে হাতের বাঁধন নরম করে ফেলে। এনি যেন জীবন ফিরে পায়। ঘন ঘন নিশ্বাস নিয়ে মুখে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠে। নিক অধরে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে এনিকে এক হাত দিয়ে আলিঙ্গন করে। বুকের এক পাশের সাথে শক্ত করে মিশিয়ে নাভিদের দিকে তাকায়। নাভিদের চোখ ছলছল করে উঠে। কোনো প্রেমিক পুরুষ এই এমন দৃশ্য দেখতে সক্ষম হবে না। এনি নিকের কাছ থেকে সরে আসতে চাইলে নিক আরও শক্তভাবে চেপে ধরে। কানে হিসহিসিয়ে বলে,
” এখন আমি যা বলব সব কিছুর সম্মতি দিবে। নাহলে ধ্বংসলীলা দেখবে তুমি বেবিগার্ল। নাভিদের রক্তাক্ত কলিজা যদি দেখতে না চাও তবে আমার কথায় সম্মতি দিবে। মিথ্যে হলেও বলবে তুমি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসো।
এনি আশ্চর্য হয়ে নিকের দিকে তাকায়,
” মিথ্যে বলতে বাধ্য করছেন?
” করছি। তবে এই মিথ্যের জন্য নিজেকে বাহবা দিবে। আপাযত যা বলছি তাই করো।নাহলে নাভিদের রক্তাক্ত লাশ দেখার প্রাস্তুতি নাও।
এনির কলিজা মুচড়ে উঠে। কান্না মিশ্রিত চোখে নিকের দিকে তাকায়। নিক সেসব পাত্তা না দিয়ে নাভিদের উদ্দ্যেশ্যে বলে,

” দৃষ্টি উপরে তুল নাভিদ। আর নিজ চোখ বাস্তবতা দেখে নে। তর সামনে কোনো গ্যাংস্টার নয়। বর্তমানে একজন আদর্শ -স্বামী-স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে। স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে কেড়ে নিলে কি হয় জানিস তো?
এনির কান্নার মাঝেও চোয়াল ঝুলে আসে। আদর্শ স্বামী-স্ত্রী! কিন্তু সেটা কে? উনি আদর্শ স্বামী! পৃথিবীর সব থেকে মিথ্যা কথা হয়ত এর থেকে বেশি নয়।
নাভিদ হালকা হেসে বলে,
” জোর করে সব করা যায়। দেখ তর ভয়ে কেমন সিটিয়ে আছে।
নিক কপাল কুচকে এনির দিকে তাকায়। হাসি দিয়ে বলে,
” তুমি আমাকে ভয় পাও ব্লাড রোজ?
এনি দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে না সম্মতি জানায়। নিক গম্ভীর হয়ে বলে,
” মুখে বলো।
” না।
নিক বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে নাভিদের দিকে তাকায়। নাভিদ প্রশ্নবিদ্ধ চাহনিতে এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” যে তোমার জীবন নরকে পরিনত করেছে, তুমি তাকে ভয় পাও না?
এনি দুই পাশে রোবটের মত সামান্য মাথা নাড়িয়ে না সম্মোধন করে।
নিক বাঁকা হেসে বলে,

” তুমি যে আমাকে উন্মাদের মত ভালোবাসো সেটা তাকে জানিয়ে দাও ব্লাড রোজ।
এনি চোখ তুলে তাকায় নিকের দিকে। নিকের শক্ত দৃষ্টি দেখে চোখ বন্ধ করে বলে,
” হুম ভালোবাসি উনাকে।
নাভিদ দুই কদম পিছিয়ে যায়। কথা আটকে আসছে গলায়। এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” ত… তুমি ওকে ভালোবাসো? পাখি তোমাকে নিশ্চই ফোর্স করছে? ভয় পাচ্ছো তুমি?
এনি ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে রেখে বলে,
” নাভিদ ভাই আপনি এখান থেকে চলে যান।
নাভিদ মলিন হেসে বলে,
” পালাতে চাইছো? মিথ্যে থেকে নিজেকে আড়াল করছো?
” বাঁচাতে চাইছি আপনাকে।
” তোমাকে না পেলে এমনিতেও মরে যাব। আজ যদি তুমি কসম করে বলতে পারো, তাকে ভালো বাসো। খোদার কসম পাখি জীবনেও ভালোবাসার চাদর বিছাতে আসব না।
এনির কান্নার ফলে হেচকি উঠে গিয়েছে। কি উত্তর দিবে এখন? কসম কেটে মিথ্যে বলার মত পাপ সে জীবনেও করতে পারবে না।

” প্রশ্নটার উত্তর একদিন আমি আপনাকে দিব নাভিদ ভাই। এই মুহূর্তে কোনো উত্তর দিতে আমি আগ্রহী নয়। যদি আপনি আমাকে সত্যি ভালোবেসে থাকেন তবে ভালোবাসার দাবি থেকে বলছি চলে যান এখান থেকে। একটা আদর্শ চরিত্রবান মেয়েকে বিয়ে করে নিবেন। এমন মেয়ের পিছনে আর ছুটবেন না, যার দিকে হাজার ও পুরুষ লালসার দৃষ্টি দিয়েছে । যাকে বিছানায় নেওয়ার জন্য কুকুরের মত জিহ্বা বের করে রেখেছে। পবিত্র পুরুষ একজন পবিত্র নারীকে ডিজার্ব করে। আমি আবারও রিপিট করছি, কোনো বাক্য ব্যয় না করে চলে যান আপনি নাভিদ ভাই।
নাভিদ অনুভুতিহীনভাবে তাকিয়ে থাকে এনির দিকে। শক্ত শরীরটা সামান্য নড়াচড়া করে বলে,
” নজর আর নসীবের মধ্যে পার্থক্য কি জানো পাখি? নজর ঠিক তাকেই পাগলের মত চায় যে নসীবে এত সহজে থাকতে চায় না।
থেমে। নিশ্বাস নিয়ে বলে,

” জানি একটা কথাও তুমি মন থেকে বলো নি। তুমি ভয় পাচ্ছো। তোমার চোখে স্পষ্ট ভয়ের আভাস দেখতে পাচ্ছি। তোমাকে দেখার জন্য ছটফট করছিলাম। দেখে ফেলেছি এখন আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব আজ। জানি ঘুম হবে না, তবুও ঘুমাব। কারন আজ আমি তোমাকে দেখেছি। প্রতিটা মিথ্যে কথার সত্য জানতে আসব একদিন। সেদিন ভয় নয় সাহসিকতা নিয়ে উত্তর দিবে। যদি বলো, নিককে তুমি ভালোবাসো তবে কোনো দিন তোমার সামনে ভালোবাসার চাদর বিছাতে আসব না।তবে সেদিন ভয় নিয়ে নয়, চোখে চোখ রেখে সত্যি কথা বলবে। অপেক্ষা করব আমি। প্রয়োজনে হাজার বছর।মৃত্যুর আগে পর্যন্ত।
নাভিদ ঘুরে দাঁড়ায়। এক বুক চাপা কষ্ট নিয়ে মিনারের ভিতর থেকে বেরিয়ে যায়। এনি স্তব্দ হয়ে নাভিদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। নিক এনির হাত চেপে ধরে রুমে নিয়ে আসে। এরপর দরজা বন্ধ করে দেয়। এনি এখনও নাভিদের কথাগুলো ভাবছে। বিছানায় বসতে যাবে তার আগেই নিক বাহু চেপে ধরে বলে,

” রুম থেকে বের হয়েছো কেনো?
এনি জেদ নিয়ে বলে,
” ইচ্ছে হয়েছে তাই।
নিক রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় এনির দিকে। চোয়লটা সামান্য চেপে ধরে বলে,
” বারন করেছিলাম না যেতে? বারন করা সত্তেও কেনো গিয়েছো?
” শুনতে পান নি আপনি? ইচ্ছে হয়েছে তাই গিয়েছি।
নিক দাঁত পিষে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৬

” নগর দেখতে ভালো লাগে? এই চেহারাটা দেখানোর জন্য লাফ মেরে চলে গিয়েছিলে।
এনি তীব্র ক্ষোভে নিকের বুকে কামড় বসিয়ে দেয়। নিক নাক -মুখ কুচকে দাঁড়িয়ে থাকে। রাগে কেঁপে উঠে শরীরটা। এনি প্রায় অনেক্ষন একই জায়গায় দাঁত বসিয়ে রাখে শক্তভাবে। মুখে নোনতা অনুভব করে ছেড়ে দেয়,
” এমন চরিত্রহীন মেয়েকে বিয়ে করেছেন কেনো? যার চরিত্র সমস্যা আছে। চার -পাঁচটা নগর বানিয়ে রেখেছে।
নিক আচমকা এনিকে চেপে ধরে নিজের সাথে। মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত গলায় বলে,
” এই সামান্য শরীরে এত তেজ তর কোথা থেকে আসে জান। আগের মত কঠোর হতে পারি। আঘাত করতে পারি না শক্তভাবে। কি করেছিস আমার উপর? কি মায়ায় ফেলেছিস আমায়।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৮