লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৫
লিজা মনি
বদ্ধ গুমোট রুম। বান্ধুবীর ভিবৎস্য মৃত্যু দেখে পনেরো বছরের কিশোরী মেয়েটা যে নরক যন্ত্রনায় ছটফট করছে। একটু পর তার সাথেও চলবে এমন পাশবিক নির্যাতন। নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না মেয়েটা। কে থাকবে ঠিক? যদি কারোর সামনে কেউকে বিকৃতভাবে রে**প করে শরীর থেকে কাচা মাংস চিবিয়ে খায়। শরীরের তাজা রক্ত দিয়ে স্যুপ আর মাংসের টুকরো দিয়ে টেবিল সাজায়?
মেয়েটা এক পাশে গুটিশুটি হয়ে কাঁপছে। মাথায় এখনও হিজাব বাঁধা। দেখেই বুঝা যাচ্ছে কোনো মুসলিম ঘরের সন্তান। পায়ের শব্দে মেয়েটা আরও সিটিয়ে যায়। আতঙ্কে শ্বাস ফেলতেও যেন ভুলে গেছে।
জেড মেয়েটার কাছে আসে। একটু আগে রক্তাক্ত স্টিলটা এখন একদম পরিষ্কার হয়ে আছে। কুকুরের মত জিহ্বা দিয়ে রক্তগুলো চেটে খেয়েছে। আচ্ছা এই গ্লাস মিনার নামক আইল্যান্ড এর পাশবিক নির্যাতনের কথা বাহিরের জগত কি জানবে? কোনোদিন কি জানতে পারবে এই নিকৃষ্ট কাজ গুলোর কথা। জেডের দুইটা পা এই অবশের মত কাজ করে। দ্রুত হাটতে পারে না সে। এক হাত যে নেই সেই খেয়াল নেই। শরীরের রক্ত বদলাতে হয় কয়েক মাস পর পর। অথচ বিকৃত মস্তিষ্ক এখনও ঠিক হয় নি। দিন দিন যেন আরও উগ্র হয়ে উঠছে। জেড মেয়েটার হিজাবে ধরতেই মেয়েটা কান্না করে উঠে,
” আমাকে এমন করো না। খারাপ কাজ এইগুলো। আল্লাহ ক্ষমা করবে না তোমাকে। জাহান্নামেও ঠাঁই হবে না তোমার।
জেড পৈশাচিক ভাবে হেসে উঠে বলে,
” তর সষ্টিকর্তাকে এই তো মানি না আমি। জান্নাত -জাহান্নাম মানতে যাব কেনো? জেডকে মারার শক্তি কারোর নেই।
মেয়েটা সাহস নিয়ে বলে,
” যে মানুষের মাংস খায় সে কিভাবে বুঝবে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে। ভাগ্য ভালো তুমি মুসলিম নয়। নাহলে পুরো জাতির গায়ে কালিমা মাখাতে।
জেড আক্রোশে ফেটে পড়ে। সে কথা বলাটা খুব অপছন্দ করে। আওয়াজ তার একদম সহ্য হয় না। এই কারনে সে কখনো বাহিরে যায় না। আওয়াজ শুনলেই মস্তিষ্ক অস্বাভাবিক হয়ে যায়। জেড মেয়েটার হিজাব এক টানে ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বলে,
” কথা বলাটা আমার পছন্দ নয়। তুই কে আমার দেখার বিষয় না। বাট এই মুহূর্ত তুই জেডের সম্পত্তি। দুই দিনের যৌনসঙ্গী। তৃতীয় দিনের তৃপ্তির।
মেয়েটার হৃদয়টা যেন কেঁপে উঠে। ছোট্ট মেয়েটা জেডের দিকে তাকিয়ে কান্না করে উঠে,
” আমাকে প্রানে মেরে ফেলো। দোহায় তোমার, আমার সম্মান টুকু নিও না। কি চাই তোমার? আমার শরীরের মাংস তাই তো? নিজ হাতে কেটে দিচ্ছি তোমকে। তবুও পায়ে পড়ছি আমার সম্রমে হাত দিও না।
জেড ঘর কাঁপিয়ে পাশবিকভাবে হেসে উঠে। হাসতে হাসতে ঘাড় কাৎ করে তাকায়। লালসার দৃষ্টি দিয়ে বলে,
” বেশি নয় মাত্র দুই দিন আমার কামনা মিটাবে। পরে মাংসগুলো ছিঁড়ে খেতে দিও। জেড কোনো মেয়ের সম্রম কেড়ে না নিয়ে কখনো তার রক্ত নিয়ে উল্লাস করে না। আজকের জন্য মিটাতে দে সুইটহার্ট।
মেয়েটা দেয়ালের সাথে ঘেষে পড়ে আরও। জেড টেনে -হিচড়ে নিয়ে আসে বাচ্চা মেয়েটাকে। স্টিলের উপরে শুয়ে দিয়ে হাতে পায়ে ব্যাল্ট বেঁধে দিতে থাকে। আতঙ্কে মেয়েটার চোখ থেকে যেন পানির পরিবর্তে রক্ত পড়ছে। জেড মেয়েটার শরীর ঘ্রাণ নিতে থাকে। মেয়েটা চোখ বন্ধ করে বলে,
” হাজার ও মেয়ের বিনাশ তুই করছি। তর বিনাশ হবে একটা মেয়ের হাতে। এই আইল্যান্ডে এর গ্লাস মিনারেই তর এই বিকৃত কাজ বন্ধ হবে। তর অস্তিত্বও মুছে যাব। কিন্তু আফসোস তর ধ্বংসটা নিজ চোখে দেখতে পারবো না।
জেড ক্ষেপা রাক্ষসের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটার উপরে। এক টানে খুলে ছিড়ে ফেলে মেয়েটার সম্রম। বু**কে খামছে ধরে শক্তভাবে। মেয়েটা চিৎকার করতে থাকে। এইভাবে চলতে থাকে পাশবিক নির্যাতন।
এনি সেদিনের পর আর নিজের ফোন হাতে নেয় না। মুলত সাহস হয় নি ফোনটা স্পর্শ করার। নিজেকে শান্ত করে পুনরায় মোবাইলটা নিয়েছে। ফোন ঘাটাঘাটির মধ্যেই একটা নম্বর ভেসে উঠলো। যেটা মাই হাজবেন্ড দিয়ে সেইভ করা। এনির কপাল কুচকে আসে। সে -তো কারোর নম্বর সেইভ দেয় নি। তাহলে এই নম্বর আসলো কথা থেকে? নামটা দেখে সন্দেহে চোখ ছোট ছোট করে তাকায় ফোনের স্ক্রিনে। কিছু একটা ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। মাথায় একটা কুবিদ্ধি আসে। এনি বাঁকা হেসে সোজা কল দেয় এই নম্বরে।
নিক হাতের রক্ত পরিষ্কার করে মাত্র টাওয়েলটা হাতে নিয়েছিলো। ফোনের রিংটনে টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। স্ক্রিনে না তাকিয়েই রিসিভ করে ভারী আওয়াজে বলে,
” দিস ইজ গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান স্পিকিং।
এনির বুক কেঁপে উঠে। এত ভয়ানক আর শক্ত কন্ঠ কেনো এই লোকের। আত্না পর্যন্ত কাঁপিয়ে তুলার ক্ষমতা রাখে। এনিকে নিশ্চুপ দেখে নিকের মেজাজ তিক্ত হয়ে উঠে। এত কিসের ইতস্ততা এই রমণীর? নিক চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠে,
” নিশ্বাসের শব্দ শুনানোর জন্য ফোন দিয়েছো?
” নাহহ, আত্নহত্যা করব। তাই জানাতে ফোন দিয়েছি।
এনির বাক্যটা শুধু একটা বাক্য ছিলো না। মনে হচ্ছে গ্যাংস্টার বসের মাথার উপরে পৃথিবীর সব থেকে উচু পাহাড়টা চেপে ধরেছে। রাগে কেঁপে উঠে পুরো শরীর। চোখ দুইটা লাল হতে থাকে ক্রমশেই।ঘন নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” কি বললি তুই?
” আত্নহত্যা করব। এখন কি দিয়ে করা যায় বলুন তো?
নিকের শক্ত গভীর গলা ভেসে উঠে,
” মরবি ভালো কথা। সব থেকে শক্ত চাবুকটা পাশে রেখে দিস। জানাজা পড়ানোর দরকার নেই। চাবুকের আঘাতেই শরীর এমনিতেই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে।
নিকের অবস্থা অনুমান করে এনি ভয়ে ঢোক গিলে। কি সাইকো এই লোক। ও আত্নহত্যার কথা বলেছে অথচ এই লোক আটকাছে না। আটকানো তো দুর থাক সাথে হুমকি দিচ্ছে। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে হেসে বলে,
” বিষ বানাব ভাবছি বুঝলেন, এরমধ্যে আইসক্রিম, চকলেট আর আচার মিশাব। এখন আর কি কি দিব?
নিক চোখ বন্ধ করে শ্বাস ফেলে। নিশ্বাসটা যেন আটকে এসেছিলো। এনির এমন হুট করে ফোন দেওয়াটায় কপাল কুচকে আসে। ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মিশাতে পারো।
এনি চোখের পাতা ঝাপ্টায়,
” কি সেটা?
” আমার সব থেকে গুরুত্বপূর্ন জিনিস। যার ভাগ শুধু তুমিই পেয়েছো। এখনও পাচ্ছো। বার বার প্রতিবার।
নিকের ইঙ্গিত বুঝতেই এনি ক্ষেপে যায়,
” ঠাডা পড়ুক আপনার এই বেজাত মুখের উপর।
এনি ফোনটা কাটতে যাচ্ছিলো। নিকের ধমকে আটকে যায়।
” আই ওউন্ট হ্যাং আপ দ্য ফোন অ্যাট অল। কি বলার জন্য ফোন দিয়েছিলে সেটা বলো। বিনা কারনে ফোন দেওয়ার মত মেয়ে তুমি নয় সেটা ভালোভাবেই জানি।
এনি ঠোঁট ভেজায়,
” বিরক্তি হয়েছেন?
নিক গ্রিবাদেশ নাড়ালো। সামান্য গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
” একটা আদেশ কর জান সারাজীবন তার সামনে বসে থাকতেও আমি রাজি। সেখানে ফোন দেখে বিরিক্ত হওয়াটা অনেক বড় একটা অপরাধ। ইফ ইউ কুড ফিল জাস্ট হাউ ক্রেইজি আই বিকাম অ্যাট দ্য সাউন্ড অব ইউর ফোন’স রিংটোন, ইট উড হেল্প আ লট, মাই ফাকিং ফুল। কারনটা বলো?
এনি গলার স্বর নিচু করে বলে,
” রুমে একা ভালো লাগছে না আর।
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” তাহলে আমি আসছি।
এনি চেঁচিয়ে উঠে,
” প্রয়োজন নেই।
পর মুহূর্তে শান্ত হয়ে বলে,
” আমি বাহিরে কোথাও যেতে চাচ্ছি না। শুধু রুম থেকে বের হয়ে একটু হাটতে চাচ্ছি। বাহিরে যাব না, এই বিশাল মিনারে আমার হাটার জন্য জায়গা অনেক।
নিক চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে এক তাকায়। এরপর রেড বাটনে চাপ প্রয়োগ করে। এনি রুমে থেকে হালকা কেঁপে উঠে। মনে হলো মিনারের বাহিরে কিছু একটার শব্দ হয়েছে। তবে শব্দটা তীব্র নয়। জনমানবহীন শূন্য রুমে থেকে এই সামান্য শব্দেও শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠেছে।
নিক ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বলে,
” এইবার যাও।
এনি যেন ভুল শুনলো। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলে,
” কি বললেন?
নিকের ঠান্ডা স্বর,
” যেতে বলেছি।
এনি বিশ্বাস করেও করতে পারছে না। এইটা কিছুতেই তার চেনা নিক জেভরান নয়। তাকে তো বারান্দায় ও যেতে দেয় না। আলো-বাতাস শরীরে লাগতে দেয় না। মেয়ে – ছেলে কারোর নজরে আসতে দেয় না। তাহলে এই লোক আজ এত ঠান্ডা গলায় অনুমতি কিভাবে দিচ্ছে? এনি যখন গভীর ভাবনায় মগ্ন তখন কারোর ভারী নিশ্বাস কানে আসে। ফোনের অপরপাশ থেকে নিকের এমন ঘন ঘন নিশ্বাস নেওয়া দেখে ভরকে যায়। নিক শক্ত গলায় বলে,
” তুমি কে?
এনি হতভম্ভের ন্যায় বলে,
” এনি।
” আমার কি হও?
নিশ্চুপ হয়ে যায় এনি। এই প্রশ্নটার উত্তর কি হবে? আসলেই এই প্রশ্নের উত্তর এনির ভেতরে জনা নেই। একটা কাগজে সাইন করলেই কি বউ হয়ে যায়? তথাকথিত এই বৈধ সম্পর্কের মানে কি যেখানে বাস্তবিক কোনো সম্পর্ক নেই। যখন এই মনে হয় নিক তার স্বামী। তখন এই কানে বাজতে থাকে নিকের সেই বাক্যগুলো,
” রক্ষিতা! যাস্ট রক্ষিতা তুই আমার। একশত কোটি টাকার বিনিময়ে তকে কেনা হয়েছে।
এনি বসে যায় বিছানায়। এই প্রশ্ন আর বাক্যগুলো তাকে পাগল পাগল করে ফেলে। মনে পড়ে যায় পাশবিক নির্যাতনের কথা। পায়ের পাতায় এক নজর তাকায়। যেখানে পুড়ে যাওয়া দাগ আজও ঝলঝল করেছে। এই পুড়ে যাওয়া দাগগুলো বিবাহের স্বাক্ষী। জ্বলন্ত কয়লার উপর দিয়ে হেটে কাগজটায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিলো তাকে। নগ্ন শরীরে একের পর এক চাবুকের আঘাত! প্রতিটা ঘটনা মনে হলেই এনির নিশ্বাস বন্ধ হয়ে পড়ে। বাঁচার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সে। চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে বিরতিহীনভাবে। এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে অস্ফুর্ত স্বরে বলে,
” গন্তব্যহারা এক পথিক আমি। কে হয় আমি আপনার?
নিকের কন্ঠ আরও রুক্ষমূর্তি হয়ে উঠে,
” স্ত্রী তুমি আমার বেবিগার্ল। যার গন্তব্য নিক জেভরানের কাছে। আর স্ত্রী হওয়ার প্রথম দায়িত্ব, স্বামী খেয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করা। জিজ্ঞাসা করেছো তুমি আমাকে?
এনি নিকের কথায় নিশ্চুপ হয়ে যায়। কাল কেটে যাওয়া হাতটার কথা মনে পড়ে। এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” প্রস্টিটিউট ক্লাবে মেয়ে কম পড়েছে বুঝি? ওদের একজনে বলেন খাইয়ে দিতে।
এনি কথাটা বলে নিককে আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না। এখন একটা বোম ফাটবে এইটা আর বুঝতে বাকি নেই। যা অনুমতি পাওয়ার এইটা সে পেয়ে গিয়েছে। এখন বাকি সব জাহান্নামে যাক। এনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নেয়। দরজার সামনে এসে বড় করে শ্বাস নেয়। এরপর দরজাটা খুলে বাহিরে তাকায়। অবাক হয়ে আশে-পাশে সব দিকে চোখ বুলায়। আশ্চর্যের বিষয় একটা গার্ড ও নেই। কিন্তু এখানে তো অসংখ্য গার্ড থাকে। কোথায় গেলো সব!
এনি আর ভাবতে পারলো না। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। সিঁড়ির ঠিক পাশের দিকটায় ভালোভাবে তাকায়। এইদিক দিয়েই সেদিন নিক তাকে একটা টর্চার সেলে নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেদিন তো এইদিকে একটা রাস্তা ছিলো। আজ দেয়াল হলো কিভাবে? এনির মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এনির খুব ভালোভাবে মনে আছে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো তখন ঠিক এখানে একটা দরজা ছিলো। দরজার বাহিরে ছিলো বড় বড় সিঁড়ি। মাটির নিচে আছে ধ্বংসলীলা। এইটাই তাহলে মাফিয়া গুপ্তঘর, যেখানে সব পাপ কর্ম হয়। এনি চারপাশে আবার ও নজর রাখে। কোনো কিছু না পেয়ে সামনে এগিয়ে যায়। কিচেনের কাছে গিয়ে দেখে মাঝ বয়সী একটা মহিলা। এই মহিলা তাকে প্রতিনিয়ত খাবার দেয়। মহিলাটা এনিকে দেখে অবাক চোখে তাকায়। এনি মুচকি হেসে বলে,
” আসসালামু আলাইকুম মেলেক খালা। হাউ আর ইউ ?
মহিলা মেইড আশ্চর্য হয়ে বলে,
” ওয়া আলাইকুমুস সালাম মা। বাট ইউ আর হিয়ার।
মেইডের দিকে তাকিয়ে এনির মুখটা মলিন হয়ে উঠে। এরপরও নিজেকে খুশি দেখিয়ে বলে,
” আই ওয়াজ লুকিং অ্যাট মিনার, আণ্ট। (মিনারটা দেখছিলাম খালা)
মেইড যেন অনেক খুশি হলো। এনিকে এই প্রথম রুম থেকে বের হতে দেখেছে। এনি মেইডের দিকে তাকিয়ে আবার ও প্রশ্ন করে,
” ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড বাংলা, আণ্ট?
” ইয়েস মাই ডিয়ার।
এনি মুচকি হেসে বলে,
” বাহহ, অনেক ভালো। আচ্ছা খালা আপনি আগে কখনো কাজ করেছেন এখানে?
মেইড গম্ভীর হয়ে বলে,
” আসলে মা, আমি প্রথম এখানে। শুনামতে স্যার মেয়েদের পছন্দ করেন না। আর মায়ের বয়সী মহিলাদের নাকি উনি দুই চোখের বিষ মনে করেন। আরিশ স্যার বলেছে, আমাকে রাখা হয়েছে আপনার জন্য।
এনি সামান্য নড়েচড়ে বসে। মা বয়সী মহিলাদের ঘৃনা করার মানে এনির অজানা নয়। এখনও নিজের মায়ের সাথে সব মায়েদের গুলিয়ে ফেলছে। এনি শান্ত গলায় বলে,
” আপনি জাননি কখনো উনার সামনে?
” সেই সাহস আমার নেই মা।
এনি মলিন হেসে বলে,
” আপনি চিত্রা মাসিকে চিনেন খালা?
মেইড এনির দিকে আশ্চর্যজনকভাবে তাকিয়ে বলে,
” তাহলে চিত্রা ও তোমার দেখা-শুনা করত?
” আপনি জানলেন কিভাবে?
” ও এখানে কাজ করত তাই চিনি। নাহলে এমনে কোনো আলাদা পরিচয় নেই। দুই একবার পরিচয় হয়েছিলো।
এনি চোখ বন্ধ করে বলে,
” চিত্রা মাসি অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। অথচ তার মৃত্যুটা ছিলো কত নিকৃষ্ট। যাকে আপন ভাবি সেই হারিয়ে যায়।হায় ভাগ্য!
এনি কথাগুলো বিরবির করছিলো। মেইড এনির দিকে তাকিয়ে আছে। এই মুখের সৌন্দর্যে সে বার বার মোহিত হয়ে পড়ে। কতটা কোমল আর মিষ্টি দেখতে এই মেয়ে। মনে হচ্ছে মুখ থেকে মুক্ত ঝড়ছে। এর সাথে এমন একজন পাপে ভাড়াক্রান্ত পুরুষের মিলন কিভাবে সম্ভব! মেইড আচমকা বলে ফেলে,
” তুমি অনেক সুন্দর মা। বিশেষ করে তোমার গালের ডিম্পল দুইটা। চোখের গভীরতা ও অনেক ভয়ানক। তোমার মায়ায় যে কোনো পুরুষ পড়তে বাধ্য।
এনি থমথমে খেয়ে উঠে প্রথমে। পরবর্তীতে নিজেকে ঠিক রেখে বলে,
” এই কারনেই হয়ত জীবনটা এমন নরকে পরিনত হয়েছে।
মেইড বুঝতে না পেরে বলে,
” কিছু বলেছো মা?
এনি মলিন হেসে বলে,
” নাথিং।
” কিছু খাবে তুমি?
এনি কিচেনে রাখা সামগ্রীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” আইসক্রিম আছে আন্টি?
মেইড মন খারাপ করে বলে,
” না, এইসব তো নেই মা। স্যার কখনো এনেছেন কি-না সন্দেহ। তোমার আইসক্রিম পছন্দ?
এনি হেসে বলে,
” একটু বেশিইই পছন্দ। যখন আমি আমার বাড়িতে ছিলাম তখন একদিন আইস্ক্রিম না খেলে মনে হত কতদিন ধরে আইস্ক্রিম ছুঁয়েও দেখি না। এতটা পছন্দ করি আমি।
মেইড ও হেসে বলে,
” অনেক প্রানবন্ত লাগছে তোমাকে। দেখে ভালো লাগলো। স্যার বাসায় আসলে জানিও দিও।
সাথে সাথে এনির মুখটা মলিন হয়ে উঠে। সামান্য সময়ের জন্য প্রানবন্ত হয়ে উঠা রমণীর মুখে আবারও ঘন মেঘ জমে উঠে। কিচেন থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
” অনেক কিছুই জীবন থেকে বর্জন করেছি। এইটাকে ও করে ফেলেছি বহু আগে। চাইতে গেলে অধিকার লাগে। মানুষ তার আপনজনদের কাছে আবদার রাখে। অপরিচিত কারোর কাছে নয়।
মেইড কিছু বলতে পারে নি। তার আগেই এনি সরে আসে। মেইড তপ্ত শ্বাস ফেলে মিনার থেকে বেরিয়ে যায়। মস্তিষ্কে একটা জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছে। এখানে থাকা দরজাটা গেলো কথায়? তার স্পষ্ট মনে আছে সব কিছু।
এনি এগিয়ে গিয়ে দেয়ালে হাত রাখে। দেয়াল বললে ভুল হবে এইটা সম্পূর্ন কাচ। যেটা ভালোভাবে স্পর্শ না করলে বুঝা যাবে না। এনি হাত দিয়ে স্লাইড করতে করতে থাকে। শরীরটা এলিয়ে দেয় কাউচের সাথে। বড় বড় নিশ্বাস টেনে বলে,
” কোথায় সেই দরজাটা।
এনি সরে আসতে যাবে হুট করেই থমকে যায় সে। ওইদিনের মত মাংস কাটার শব্দ। পর মুহূর্তে ভেসে আসছে এক মেয়েলী কন্ঠস্বর। কান্না করছে! হ্যা একটা মেয়ে কান্না করছে। কান্নাটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না বাট গুনগুন শব্দ ঠিক এই বুঝা যাচ্ছে। এনির গলা শুকিয়ে আসার উপক্রম। একটা মেয়ের কান্নার আওয়াজে যেন মাথা ভঁনভঁন করে উঠে। ওইদিন দেখেছিলো কি পাশবিক জায়গা। এক একটা রুম যেন নরকের স্থান। এনি শিউরে উঠে কিছু একটা ভেবে। কাউচে ধ্বাক্কা দিয়ে চিৎকার করে উঠে,
” কে আছে ওইপাশে? মেয়েটাকে কি করছো তোমরা? কাঁদছে কেনো ও?
ওই পাশ থেকে কান্নার আওয়াজটাও থেমে যায়। এনির পুরো শরীর শিরশির করে উঠে। আইল্যেন্ডে অবস্থিত গ্লাস মিনারটা যেন এই মুহূর্তে নিশ্চুপ হয়ে আছে । মাথা ভঁন ভঁন করে উঠছে তার। আবার ও ভেসে আসছে একই কন্ঠ। কান্নার আওয়াজ! একটা কম বয়সী বাচ্চা মেয়ে কাঁদছে। এখন কান্নাটা আরও একটু জোরে ছিলো। মনে হচ্ছে কিছু একটা বলছে। কিন্তু শব্দগুলো এনির কর্ণে প্রবেশ করতে অক্ষম।
এনি মুখ চেপে ধরে কান্না করে উঠে। চোখ দুইটা লাল হয়ে উঠেছে রমণীর। তাহলে বুঝতে বাকি নেই গ্লাসটা দিয়েই সব ঢেকে রাখা হয়েছে। বাহিরে এক নিষিদ্ধ দুনিয়া। কি হচ্ছে বর্তমানে ওই দুনিয়ায়? কিসের আওয়াজ আসছে? কাঁদছে কেনো মেয়েটা! তাকে কি কোনোভাবে…
এনির মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠে। চুল শক্ত করে টেনে ধরে বলে,
” রে**প করা হচ্ছে। এতটা জঘন্য কেনো আপনি নিক জেভরান। ফেরাউনের মত ধ্বংস হোক আপনার। কি করে পারলেন নিজের দুনিয়ায় মেয়েদের ইজ্জত নিয়ে খেলা করতে। আপনার মিনারে কেউ বর্বরতা চালাচ্ছে আর আপনি তার সঙ্গ দিচ্ছে। কেনো আটকাচ্ছেন না? একটা মেয়েকে শেষ করে ফেলছে কেউ। প্লিজ রক্ষা করুন।
এনি ছন্নছাড়া হয়ে ধ্বাক্কাতে থাকে কাউচ। চিৎকার করে উঠে এনি ,
” ছেড়ে দাও ওকে। জানি না ওপাশে কে আছো। প্লিজ এতটা নির্মম হইও না।
কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। গুনগুন করার মধ্যে রমণীর হুট হুট চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছে। এনির মাথা ঘুরে আসছে। যখন এই কল্পনা করছে কেউ একটা মেয়েকে নিয়ে উল্লাস করছে তখনও গা গুলিয়ে আসছে। হৃৎপিন্ডটায় যেন কেউ ছুঁড়ি দিয়ে আঘাত করছে। আতঙ্কে এনির পুরো মুখ ঘেমে গিয়েছে। দবদবে ফর্সা মুখ কেমন যেন লালচে হয়ে উঠেছে। ঘামের সাথে চুলগুলো ল্যাপ্টে গিয়েছে। এনি দৌঁড়ে যায় কিচেনের কাছে। ভেবেছিলো মেইড বুঝি এখনও আছে। কিন্তু গিয়ে দেখে কিচেন সম্পূর্ন ফাঁকা। কেউ নেই কিচেনের চারপাশে। এনির মাথা ঘুরছে। যে কোনো সময় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাবে সে। এইরকম মনে হচ্ছে, ভয়ানক এই মিনারে সে একা। আর অপর পাশে চলছে এক পাশবিক নির্যাতান। এনি কান্না করতেও ভুলে যায়। আতঙ্কে কাঁপছে ওর পুরো শরীর। শক্ত কিছু খুঁজতে থাকে কাচ ভাঙ্গার জন্য। কিন্তু কোথাও কোনো বস্তু নেই। অবশেষে না পেরে একটা কাঠের চেয়ার হাতে তুলে নেয়। একজন অষ্টাদশী রমনীর কাছে একটা চেয়ার অনেকটাই ভারী। তবুও এনি হাল ছাড়ে নি। বহু কষ্টে এনি চেয়ারটা নিয়ে যায় কাচটার কাছে। উদ্দেশ্য কাউচ ভেঙ্গে সে এই নিষিদ্ধ দুনিয়ায় ডুকবে। জীবন দিয়ে হলেও বের করবে সে মেয়েটা। চেয়ারটা নিয়ে দাঁড়াতেই কেউ পিছন থেকে হাতটা চেপে ধরে। এনি বুঝতে পারে নি কে ধরেছে। তবে এইটুকু বুঝেছে কেউ শূন্যে তাকে ভাসিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চোখ খুলে নিককে দেখে ইচ্ছে করছিলো বমি করে দিতে এই মুখে। নিকের মুখ রাগে লাল হয়ে আছে কিন্তু এতে যেন এনির সামান্য ভয় হচ্ছে নাহ।
এনি ছটফট করে চিৎকার করে উঠে,
” জালিমের বাচ্চা ছাড় আমাকে। মেয়েটাকে মেরে ফেলছে।
নিক সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এনির শরীরটাকে বুকের সাথে চেপে ধরে। শক্ত গলায় বলে,
” শান্ত হও।
এনির চোখ দিয়ে যেন আগুন পড়ছে। নিক রুমে ডুকে ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। এনিকে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে। এনি বর্তমানে নিজের মধ্যেই নেই । কেমন অস্বাভাবিক ভাবে হাঁপাচ্ছে ও। নিক সামনে এগিয়ে আসতেই এনি নিকের শার্ট খামছে ধরে কান্না করে উঠে,
” যতটুকু মায়া আপনার জন্য জন্মেছিলো। সে মায়া টুকু ধ্বংস হতে দিয়েন না। মেয়েটাকে বাঁচান নিক জেভরান।
নিক শান্ত চোখে তাকায় এনির দিকে। ছন্নছাড়া রমণীর কান্নারত মুখটা দেখে গ্যাংস্টার বস উদগ্রীব হয়ে উঠে।
এনির চোখের পানি দুই হাত দিয়ে মুছে বলে,
” কান্না করে কি হাল করেছো নিজের। শান্ত হও। কিছু হয় নি।
এনি আশ্চর্য হয়ে তাকায় নিকের ধূসর রাঙ্গা চোখে। পর মুহূর্তে হিংস্র বাঘিনীর মত ক্ষেপে উঠে,
” এতটা নিকৃষ্ট হবেন না। আল্লাহ সহ্য করবে না। খোদার কসম ধ্বংস হয়ে যাবেন।
নিক শান্ত আওয়াজে বলে,
” ধ্বংস হয়ে যাওয়া মানুষটাকে আবার কি ধ্বংস করবে বেবিগার্ল।
এনি কান্নায় ফুঁপিয়ে উঠে,
” প্লিজ মেয়েটাকে বাঁচান।
” এতক্ষণে মরে গিয়েছে হয়ত।
এনি মাথা নিচু করে ছিলো। কথাটা কানে প্রবেশ করতেই ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মত নিকের গালে থাপ্পর বসায়।নিকের বুঝতো সময় লাগলো। এনি থাপ্পর দিয়ে নিজের মাথার চুল শক্ত করে চেপে ধরে কান্না করে উঠে,
” এত নিকৃষ্ট! এত খারাপ কেনো? কেনো মেরেছে মেয়েটাকে?
নিক নিজের ধৈর্য হারিয়ে ফেলে।নিকের ধৈর্যের শেষ প্রান্তটুকুও সেই মুহূর্তে ভেঙে চূর্ণ হয়ে গযায় । এতক্ষণ যে রাগটা শৃঙ্খলের মতো তার ভেতরে বন্দি ছিল, তা হঠাৎই মুক্তি পেয়ে হিংস্র বিস্ফোরণের রূপ নিল। তার চোখের দৃষ্টি কঠিন পাথরের মতো জমে উঠে। যেন সেখানে আর মানবিকতার কোনো অবশিষ্ট ছায়া নেই। চোয়াল শক্ত হয়ে দাঁত কিড়মিড় করে উঠে। নিঃশ্বাস ভারী ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠল। বুকের ভেতর জমে থাকা আগুন বাতাস খুঁজে পাচ্ছে না।
মুহূর্তের মধ্যেই তার শরীরী ভাষা বদলে যায়। শান্ত গ্যাংস্টার বসটি মিলিয়ে গিয়ে তার জায়গায় দাঁড়াল এক অপ্রতিরোধ্য ক্রুদ্ধ সত্তা। যার রাগ শব্দে নয় নীরবতায় বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠে । হাত দুটো কেঁপে উঠে অসহিষ্ণু ক্রোধে। কণ্ঠনালিতে জমে থাকা চিৎকার গলার গভীরে আটকে যায় মুহূর্তেই। এই রাগ যদি মুখে বের হয় তাহলে এই মুহূর্তে চারপাশ ধ্বংসের সাক্ষী হবে। নিকের রাগ ছিল দাবানলের মতো। কিন্তু যার তাপে চারপাশ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এতক্ষণে সে আর কেবল একজন মানুষ নয়। সে তার নামের সঙ্গে যুক্ত সেই অন্ধকার ক্ষমতার প্রতিচ্ছবি—একজন গ্যাংস্টার বস। যার ক্রোধ মানেই আসন্ন সর্বনাশ। নিক আঘাত করলো না। শক্তভাবে চেপে ধরে এনির বাহু। অন্য হাত দিয়ে চিবুক টেনে রাগে গর্জে উঠে,
“হাউ ডেয়ার ইউ স্ল্যাপ মি, বান্দির বাচ্চা ?
এনির চোখ দুইটা লাল হয়ে আছে। শক্ত চোখে তাকায় নিকের দিকে। ঘৃনায় কুচকে আসে তার মুখ। কোনো কিছু বিবেচনা না করে নিকের মুখে থু থু ছুঁড়ে মারে। নিক সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। বড় বড় নিশ্বাস টেনে আচমকা উন্মাদের মত চেপে ধরে এনির ঠোঁট। নিজের সমস্ত রাগ উগ্রে দিতে থাকে দঁন্তের ঘর্ষণে। নিকের উন্মাদতায় এক পাশে হেলে যায়। শ্বাস নিতে পারছে না সে। নিক বিছানায় নিয়ে দুই হাত চেপে ধরে শক্ত ভাবে। এমনভাবে ধরেছে যেন আঙ্গুলের হাড্ডি গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। এনি ছটফট করতে থাকে শক্ত দেহটার নিচে। শ্বাস ফেলতে পারছে না সে। তীব্র যন্ত্রনায় গোঙ্গিয়ে উঠে। নিক হুট করেই থেমে যায়। কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে বলে,
” তুমি নিজেও জানো না আমার রাগ কি ভয়ংকর। আমি রেগে গেলে তোমাকে রক্তাক্ত করতে ও পিছু পা হব না। তার নমুনা তুমি অনে আগেই দেখেছো। তোমার ঘৃণিত দৃষ্টি আমাকে উন্মাদ করে তুলে ব্লাড রোজ। পুরো সম্রাজ্য আমি সামলিয়ে উঠি। অথচ এই দৃষ্টি কেনো সামলাতে পারছি না।
এনি নিশ্বাস নিচ্ছে এখনও বড় বড়। নিক এনির ঠোঁট রক্ত নিজের জিহ্বা দিয়ে শুষে নেয়। কাটা স্থানে চুমু খেয়ে বলে,
” আমি অতিরিক্ত জঘন্য। এতটা জঘন্য যে তোমার কল্পনার ও বাহিরে।
এনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে,
” এইভাবেই চলছে তাহলে ব্যবসা?
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” কিসের ব্যবসা?
এনি চোখ বন্ধ করে বলে,
” আপনাদের পতিতা ব্যবসা। ওই রুমে তো মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা করা হয়।
নিক শক্ত গলায় বলে,
” গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান নারী ব্যবসা করে না।
এনির শরীরে যেন কাটা গেঁথে দিচ্ছে। রাগান্বিত চোখে বলে,
” মিথ্যে বলতে কলিজা কাঁপছে না?
নিক এনির কাটা ঠোঁটে শক্ত ভাবে চেপে ধরে। এনি সাথে সাথেই আর্তনাদ করে উঠে ব্যাথায়। নিক একইভাবে ধরে রেখে বলে,
” গড প্রমিস যেদিন তকে নিজের বউ হিসেবে গ্রহন করেছিলাম তখন থেকে গ্যাংস্টার বস সব পাচার কাজ ছেড়ে দিয়েছে। নারী পাচারের মধ্যে শীর্ষে আমার নাম ছিলো। প্রতি বছরে বহু শিশু বিক্রি করেছি আমি। তবে বর্তমানে শীর্ষে নয় শেষেও গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের নাম নেই।
এনির চোখ ঝাপসা হয়ে আসে,
” কতটা নিকৃষ্ট ছিলেন। যদি সব কিছু থেকে সরে আসেন তবে নারী চিৎকার কেনো আসছিলো গুপ্ত ঘর থেকে।
নিক গ্রিবাদেশ নাড়ায়। কপাল ঘেষে বলে,
” সেটা তোমার না জানলেও চলবে।
এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” মিথ্যে আর বলতে পারছেন না?
নিক এনির বাহু চেপে ধরে। চোয়াল শক্ত করে দাঁত পিষে বলে,
” আন্ডারগ্রাউন্ড সামলিয়েও গ্যাংস্টার বস কোনোদিন মিথ্যে বলে নি। কারোর মনোরঞ্জন করার ধার ধারি নয় সে। সো ইফ ইউ’আর থিঙ্কিং অল দ্যাট, ফরগেট ইট মাই ফাকিং সেক্সি লেডি।
এনি আর পারছে না। কানে বাজছে এখনও কান্নার আওয়াজ। ফুঁপিয়ে উঠে সে,
” আমি নিজে শুনেছি কান্নার আওয়াজ। যদি এইসব থেকে সরে আসেন তবে আপনার গুপ্তঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে কেনো?
” আমি সরে এসেছি, এইটা বলেছি। অন্যরা যে এসেছে এইটা কখন বললাম?
” মানে?
নিক ঠোঁট কামড়ে বলে,
” এত প্রশ্ন করো মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে থাপরে দেয়ালের সাথে বেঁধে রাখি। ওপাশে জেড ছিলো। একজন মানুষখেঁকো নরখাদক। একজন রেপিস্ট। যাদের নিত্যদিনের মেয়ের প্রয়োজন হয়। ওর পছন্দ বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে পনেরো বছর পর্যন্ত মেয়ে।
এনির মাথা ভঁনভঁন করে উঠে। মস্তিষ্কের নিউরনগুলো যেন থেমে গিয়েছে। ভাঙ্গা গলায় উচ্চারন করে,
” ন…নর খাদক!
নিক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,
” চিনো না? আমার সাথে ত্যারামি করাটাই শুধু জানো? নরখাদক মানে হলো যারা মানুষ খায়। আর রেপিস্ট মানে হলো যারা রে*প করে।
এনির ভেতরটা হঠাৎ করে যেন শূন্য হয়ে যায় । মনে হচ্ছে, বাস্তবতা যেন তার চারপাশ থেকে সরে যাচ্ছে। আর সে দাঁড়িয়ে আছে এক অনির্দিষ্ট অন্ধকারের কিনারায়। মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ শব্দ তুলতে থাকা আতঙ্ক ধীরে ধীরে সমস্ত চিন্তাশক্তিকে গ্রাস করছে তাকে।। নিউরনগুলো যেন একে একে স্তব্ধ হয়ে পড়ছে। কোনো নির্দেশ আর মানছে না। শিরদাঁড়া বেয়ে নামা ঠান্ডা স্রোত তার শরীরকে অসাড় করে দিল।ভয় এখন আর আর অনুভূতিতে নেই। ভয় এখন রুপ নিয়েছে শারীরিক অস্তিত্ব।
এনির বুকের ভেতর জমে উঠে এক নিঃশ্বাসরুদ্ধ করা চাপ। কথা বলতে গিয়ে গলা ভেঙে আসছে। শব্দগুলো কাঁপতে কাঁপতে ঠোঁট ছুঁয়ে ফিরে গেল ভেতরে। চোখের সামনে দৃশ্য ঝাপসা হয়ে এলো যেন অদৃশ্য কোনো ছায়া ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ধরছে। বর্তমানে এনির আতঙ্ক হয়ে আছে নিঃশব্দ আর গভীর চিৎকারহীন এক চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থা। মনে হচ্ছিল সে আর নিজের শরীরের ভেতরে নেই।কেউ যেন তার অস্তিত্বটুকু মুঠোয় চেপে ধরে রেখেছে। মুহূর্তের মধ্যেই সে ভেঙে পড়ল। কাঁপা গলায় বলে,
” কাচা মানুষের মাংস খায়?
” ইয়েস বেবিগার্ল।
” একজন রেপিস্ট? মেয়ে তার নিত্যদিনের নেশা?
নিক মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে। এনি ঝাপসা চোখে তাকিয়ে বলে,
” আপনার কি হয়?
নিক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,
” অনেক কিছু।
” তাকে এইসব করতে দিচ্ছেন? মেয়েগুলোকে এইভাবে ছিঁঁড়ে খেতে দিচ্ছেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” ওকে কি করব আর? এক হাত তুমি নিজেই কেটেছো। ওর পুরো শরীর এই অবশ হয়ে থাকে সারাক্ষণ। দুই পা নিয়ে হাটতে পারে না ভালোভাবে। রক্ত দিতে হয় কয়েক মাস পর পর। তবুও তেজ থাকলে আমার কি করার।নিজের শত্রু ছাড়া বিনা কারনে আমি হাত রক্তাক্ত করি না।
এনির হৃদয়টা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো। অসহায় গলায় বলে,
” সেদিন যদি জানতাম ওই লোকটা এত জঘন্য তবে হাতে নয় গলায় কো**প বসাতাম। মেয়েগুলোকে ওই জানোয়ারটা ছিড়ে খায় দিনের পর দিন। আর আপনার কাছে এইটাকে বিনা কারন মনে হয়? এই আইল্যান্ড একদিন ধ্বংস হবে দেখে নিয়েন। ধ্বংস হবে আপনার পাপের সমাজ্য।
নিক শব্দ করে বলে,
” সৃষ্টিকর্তাকে বলো যাতে খুব দ্রুত সব ধ্বংস করে দেয়।
এনি নিস্তেজ গলায় বলে,
” এই নরপশুটাকে মেরে ফেলুন। আর কারোর জীবন নষ্ট করতে দিয়েন না । এইটা মানবকুলের জন্য অভিশপ। প্লিজ মেরে ফেলুন এইটাকে। নাহলে সমান ভোগী আপনিও। সব দেখেও চুপ।নিজের গর্তে লুকিয়ে রেখেছেন । দিনে পর দিন এত জঘন্য কাজ করছে অথচ কিছু বলছেন না। এত নির্মম কেনো? আটকান, মেরে ফেলুন।
নিক এনির কপালে চুমু খেলো। চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,
” মারার হলে অনেক আগেই মারতাম। মারতে পারছি না বলেই এখনও জীবিত আছে।
এনির শরীর ছেড়ে দেয়,
” কতটা খারাপ হলে নিজের মিনারে কেউ এমন মানুষ খেকো সাইকোপ্যাথ পুষে রাখে। আপনার অতীত জেনে সামান্য মায়া কাজ করছিলো। এইটাও ধ্বংস করে দিলেন। এতটা জঘন্য না হলেও পারতেন। যাকে ভালোবাসি তাকে হারিয়ে ফেলি। আর যাকে ভালোবাসতে চেষ্টা করি সে সেইটাকে মাটি চাপা দিয়ে দেয়।
মানুষের জন্মদাগ থেকে শরীরে। আর আমার জন্মদাগ হচ্ছে কষ্ট আর আর্তনাদ। যেটা আমার ভাগ্যে লেগে আছে।
এনির চোখ বন্ধ হয়ে আসে। নিক বুকে জড়িয়ে নেয়। চোখ লাল হয়ে এসেছে তার। সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ে জেডের উপরে। যাস্ট একটা প্রতিশ্রুতি আজ সে তালাবদ্ধ। তবুও একে আর বাঁচতে দেওয়া যাবে না।
নিক এনির কানে চুল গুঁজে দেয়। ঠোঁটের কাটাস্থানে চুমু খেয়ে বলে,
” এতটা তেজ কেনো তর জান। চিন্তা নেই ধীরে ধীরে সহ্য করা শিখে নিব। গড প্রমিস তখন আর রাগে জ্ঞান হারিয়ে আঘাত করব না। পাপ দিয়ে ঢেকে যাওয়া পুরোটা জীবন তকে চাই। তুই না থাকলে আমি আলো ছাড়া সামনে আগাব কিভাবে, কলিজা আমার।
” আজ এত তাড়াতাড়ি চলে আসলে? নিক কেমন আছে?
আরিশ দাদামশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
” সবাই ঠিক আছে। নিকের হাত থেকে ব্লিডিং হচ্ছিলো খুব। শালা সামান্য ব্যান্ডেজ করতেও দিলো না।
দাদামশাই চিন্তিত হয়ে বলে,
” কিভাবে হয়েছে?
আরিশ ডিভানে শরীর এলিয়ে দিয়ে অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” অধিরাজ তুই বল ভাই।
অধিরাজ থতমত খেয়ে বলে,
” আমি?
আরিশের কপাল কুচকে আসে,
” অধিরাজ নামক আর কোনো প্রজাতি আছে এখানে?
অধিরাজ বোকার মত তাকায়। আরিশের রাগান্বিত চোখ দেখে দাদামশাইয়ের সামনে গিয়ে বসে।
গলা কেঁশে কাহিনী বলা আরম্ভ করে।
মাফিয়া প্যালেস….
বাস্তবিক দুনিয়া থেকে আলাদা এক দুনিয়া। যার ভালো দিক বিবেচনা করল ফলাফল আসবে শূন্য। কিন্তু অশুচ দিক বিবেচনা করলে ফলাফল কখনো সমাপ্ত করা সম্ভব নয়। লাল -নীল আলোর ঝলকানিতেই মেতে উঠে অশুভ, অনৈতিক কাজ। মাফিয়া পার্টিতে যোগদান করে হজারও মাফিয়া। সাথে তাদের স্ত্রী। সাথে স্ত্রী অথচ স্ত্রীর সামনে অন্য মেয়ের সাথে তামাসা করে বেড়াচ্ছে। স্ত্রীদের খারাপ লাগলেও ক্ষমতা নেই আটকানোর। নিরবতায় সব থেকে সুন্দর আশ্রয়।
অভিজাত অন্ধকারে ডুবে থাকা বিশাল হলঘরটিতে মাফিয়া পার্টি তখন তুঙ্গে। ঝাড়বাতির ম্লান আলোয় চকচক করছে কালো স্যুট আর দামী গয়নার নীরব ঔদ্ধত্য। চারপাশে ছড়িয়ে আছে সিগারের ভারী গন্ধ, হুইস্কির তীব্র উষ্ণতা আর ক্ষমতার নৈঃশব্দ্যপূর্ণ দম্ভ। প্রতিটি হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে হিসাব, প্রতিটি করমর্দনের ভেতরে জমে আছে অবিশ্বাস।
কোণায় কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরীরা নিশ্চুপ, কিন্তু সতর্ক—চোখে তাদের পেশাগত হিংস্রতা আর আনুগত্যের শীতল ছায়া। মৃদু সঙ্গীত ভেসে আসছে। কিন্তু সেই সুরে আনন্দ নয় বরং শাসনের ছন্দ। এখানে কেউ অতিথি নয়। সবাই কোনো না কোনো চুক্তির অংশ। কোনো না কোনো অপরাধের নীরব সাক্ষী।
হাসি, পানপাত্রের ঠোকাঠুকি আর কথোপকথনের আড়ালে চলেছে অদৃশ্য লেনদেন—ক্ষমতা হস্তান্তর, বিশ্বাসঘাতকতার ইঙ্গিত, আর ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের অঘোষিত নকশা। এই পার্টি উৎসবের নয়, এটি আধিপত্যের প্রদর্শনী।যেখানে আলো ঝলমলে পরিবেশের নিচে লুকিয়ে আছে অন্ধকার সিদ্ধান্তের ভার।
পার্টির খাবারের টেবিলটি ছিল বিলাসিতা আর ক্ষমতার নীরব প্রদর্শনী। কালো মার্বেলের উপর সাজানো রুপালি প্ল্যাটারে পরিবেশিত হচ্ছিল ধোঁয়া ওঠা নানাবিধ রোস্ট, মাখনের কোমল আস্তরণে মোড়া গ্রিলড মাংস, আর সুচারু কাটে সাজানো সামুদ্রিক খাবারমযার প্রতিটি পদে ছিল পরিমিত আড়ম্বর। পাশে সারি সারি সাইড ডিশে রাখা ছিল সুগন্ধি ভাত, মশলায় ভারসাম্যপূর্ণ পাস্তা, আর তাজা সবজির নিখুঁত সংমিশ্রণ।
ডেজার্টের অংশে ছিল চকোলেটের গাঢ় আবরণে ঢাকা কেক, মসৃণ ক্রিমে ভেজানো পেস্ট্রি।আর ফলের স্বচ্ছ গ্লাস বাউলে সাজানো রঙিন ফলালঙ্কার। পানীয় হিসেবে পরিবেশিত হচ্ছিল বয়সী হুইস্কি, মৃদু সুবাসযুক্ত ওয়াইন এবং স্বচ্ছ কাচে ঢালা নন-অ্যালকোহলিক ড্রিংক।
অন্য টেবিকে টেবিলে সাজানো হয়েছে সব থেকে আশ্চর্যজনক জিনিস। রক্তের গ্লাস, মানুষের মাংসের সিদ্ধ বড় পেয়ালায় সাজানো। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেহটাকে বড় বড় ভাগ করে কাবাবের মত সাজিয়ে রেখেছে।রক্ত দিয়ে স্যুপ বানিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই টেবিলের আয়োজন।
নিক আসতেই সবাই শান্ত হয়ে যায়। মহিলারা অন্য পাশে চলে যায়। নিক এক বারের জন্যও চোখ তুলে তাকায় নি চারপাশে। প্রতিবার এখানে আসলে রাগে মাথা ফেটে যায় তার। সবাই নিজ নিজ চেয়ারে বসে পড়ে। শুরু হয় দেনা-পাওনার এক অদ্ভুত হিসেব। ওয়াইনের গ্লাস এগিয়ে দেওয়া হয় সবার দিকে। নিক গ্লাসটা হাতে তুলে নেয় কিন্তু একবারের জন্যও হাতে তুলে নেয় নি।
কায়াত তীক্ষ্ম চোখে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” খাচ্ছেন না কেনো? আয়োজন ভালো হয় নি?
নিক চারপাশে বিরক্তি চোখে তাকিয়ে বলে,
” আয়োজন তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
ইগর নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আয়োজন সবই ছিলো। নারী ছাড়া আয়োজন জমে না। নারী নেই তাই আয়োজন ও নেই।
নিক নাক -মুখ কুচকে দাঁত পিষে বলে,
” ব্যাশ্যা পাড়া।
কায়াত যেন মজা পেলো। নিক কেমন এইটা সবার জানা আছে। যে রুমে মেয়ে আছে সেখানে গ্যাংস্টার বসের অস্তিত্ব ও নেই। কোনোদিন কোনো মেয়ের সাথে দেখে নি। যারা গিয়েছে সবাই মরেছে। অথচ এক সামান্য নারীর জন্য কেমন দেওয়ানা হয়ে আছে। আশ্চর্য পুরো সম্রাজ্য!
কায়াত ইশারা করে একটা মেয়েকে। যার শরীরে নাভি বের করা একটা ক্রপ টপ পড়া। হাটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। গলার কাছটা পুরোটা খুলে আছে। মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে কোমর দুলিয়ে এগিয়ে আসে নিকের দিকে। নিক কাগজ দেখতে ব্যস্ত। হুট করে কাঁধে কারোর হাতের স্পর্শ পেয়ে পিছন ফিরে তাকায়। পিছনে মেয়েটাকে দেখেই এক আকস্মিক কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। দুই হাত টেনে ধরে মুচরে ধরে। এক বিকট শব্দে হাড্ডিগুলো ভেঙ্গে যায়। নিক ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দেয় মেয়েটাকে। মেয়েটা মাটির সাথে লুটিয়ে এখনও কাতরাচ্ছে। নিক ঘৃনায় থু থু ফেলে মেয়েটার দিকে। রাগে গর্জন করে উঠে,
” জীবনে সব থেকে বেশি ঘৃনা করি প্রস্টিটউট ক্লাবের মেয়েগুলোকে। যারা নিজ ইচ্ছেই সব কিছু বিসর্জন দেয়। সাহস কিভাবে হলো আমাকে স্পর্শ করার। ইফ ইউ ওয়ার্ন’ট আ গার্ল, আই উড হ্যাভ বিটেন ইউ সো ব্যাডলি দ্যাট ইভেন ইয়োর সোল উড হ্যাভ ট্রেম্বল্ড।”
মেয়েটা ব্যাথায় কাতরাতে থাকে। সব মাফিয়ারা তাকিয়ে আছে। কায়াত ওয়াইনের গ্লাস নাড়িয়ে বলে,
” এমন সুন্দরী মেয়েকে তুমি রিজেক্ট করলে।
নিক সামান্য হেসে বলে,
” আমার ঘরে যে আছে তার রুপ দিয়ে পুরো পাপের সম্রাজ্য আলোকিত হয়ে পড়বে কায়াত। তার পবিত্রতা একটা মৃত ফুলকেও জাগিয়ে তুলার ক্ষমতা রাখে। ঘরেরটা রেখে রাস্তায় নজর দিব কেনো?
মেয়েটা অপমানে চুপ থাকতে পারলো না। ভয়ে গলার আওয়াজ ও উচু করে নি। শান্ত গলায় এই বলে,
” সব থেকে সুন্দরী মেয়ে আমি। সস্তা বলছেন কাকে? পুরো মাফিয়া সম্রাজ্য আমাকে চাই।
নিক রক্তচোখে নিয়ে তাকায়। দাঁত পিষে বলে,
” খাওয়া মালের ভাব বেশি। খালি কলসি বাজে বেশি। ল্যাংটা মাইয়া ফেমাস বেশি। অস্বাভাবিক কিছু নয়।
মেয়েটা যন্ত্রনায় মেঝেতে কাতরাচ্ছে। যন্ত্রনায় আর্তনাদ করছে। দুইজন গার্ড মেয়েটাকে নিয়ে যায়। নিক ক্ষিপ্ত হয়ে কায়াতের দিকে তাকায়,
” লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি তোমাকে কায়াত। পরের বার এমন ভুল করলে ইগরের মত হাত ভেঙ্গে গলায় ঝুলিয়ে দিব।
কায়াত শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে,
” কাম ডাউন, গ্যাংস্টার বস। আপনার মনোরঞ্জনে এনেছিলাম। কতদিন আর এক পাত্রে…..
নিক টেবিলে শব্দ করে শাষিয়ে উঠে,
” এখানেই থেমে যান। বাজে ইঙ্গিত দিলে কলিজা টেনে আনব।
কায়াত ক্ষীপ্ত চোখে তাকায়। দাঁত পিষে বলে,
” একজন মেয়ের জন্য আপনি ইগরের হাত ভেঙ্গেছেন। আরও অনেক জনকে একদম জানে মেরে ফেলেছেন। এখন আমাকে হুমকি দিচ্ছেন?
নিম মৃদু হাসলো। কায়াত সহ বাকি মাফিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” রানী সে আমার। আর তার সিংহাসন আমার বুকের ঠিক মাঝখানে। বুক ভেদ করে সিংহাসন ছুঁয়ার ক্ষমতা কারোর নেই কায়াত। তোমার ও নেই। যত নকশা তৈরি করো। পারবে না কিছু করতেই।
কায়াত রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,
” একজন রক্ষিতার জন্য এত দরদ। আরে দুই দিন আগেও পাচার কেন্দ্রে পাচার হত যাচ্ছিলো। ছিহহ আর সে কি……..
একটা শব্দ হয় যাস্ট। ওয়াইনের গ্লাসটা ভাঙ্গার শব্দ। সবাই বুঝে উঠার আগেই কায়াত চিৎকার করে উঠে গলায় হাত দিয়ে। ভাঙ্গা গ্লাসের টুকরো কায়াতের গলায় এক পাশে গেঁথে আছে। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নিকের হাত থেকে রক্ত পড়ছে। তাজা রক্তে মেঝে ভেসে উঠে। নিক চেয়ার থেকে উঠে কায়াতের উদ্দেশ্যে বলে,
” এইজন্যই বলে ইন্টি*** সময় দোয়া -কালাম পড়ে নিতে নাহলে তদের মত বেজাতের জন্ম হয়। বিধর্মী হলেও তদের বাপ -মায়ের পড়া উচিত ছিলো। আজ গলার এক পাশে রক্তাক্ত করেছি।অন্যদিন বাজে ইঙ্গিত দিলে কন্ঠনালি পর্যন্ত যাবে এই কাচের টুকরো।
নিক কারোর দিকে তাকায় নি। বেরিয়ে যায় এখান থেকে। কায়াতকে নিয়ে যাওয়া হয় দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে। খাদ্য আহার করা হয় নি কারোর।
সব কথা শুনে দাদু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,
” মেয়েটার সাথে সম্পর্ক কেমন এখন?
আরিশ হেলান ছেড়ে মাথা উচু করে বলে,
” পুরাই উন্মাদ। যদি পারত সব কিছু ছেড়ে দিব। তবুও শালায় স্বীকার করে না আমি ভালোবাসি।
দাদামশাই দাড়িতে হাত রেখে বলে,
” তীব্র ভালোবাসে এই মেয়েটাকে। পাপ-পুণ্যের মিলন কোনো কালেই সম্ভব হয় নি। আশা রাখব এদের মিলন হোক। নিকের হাতটাকে জোর করে মেডিসিন লাগিয়ে দিতে পারতে।
আরিশ ভারী শ্বাস ফেল বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৪
” ওর বউ আছে দাদামশাই। আমাদের চিন্তা করলেও হবে।
ঠিক পিছন থেকে শুনা গেলো এক রমণীর কাঁপা স্বর,
” বউ! ভালোবাসা! আসক্তি!
আরিশ চট করে তাকায় সেদিকে। বুকের ভেতরে ধুক করে উঠে। গলা ভিজিয়ে বলে,
” মেহের
