লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭
লিজা মনি
প্রভাতের স্নিগ্ধতা তখন নিস্তব্ধতার গহ্বরে আত্মপ্রকাশ করে তখন কুয়াশার স্তব্ধ পর্দা ভেদ করে সূর্যালোকের স্বর্ণাভ আভাস ধীরে ধীরে নিঃসৃত হয়ে শিশিরবিন্দুসম্ভাষিত তৃণরাজিকে দীপ্ত অথচ সংযত জ্যোতিতে অভিষিক্ত করে।
বাতাসের শীতল শ্বাসে বৃক্ষশাখার রন্ধ্রে রন্ধ্রে কম্পিত হয় নিস্পন্দ প্রাণের ইঙ্গিত। আর পাখিকণ্ঠের ক্ষীণ অনুরণন সময়ের স্তব্ধ স্রোতকে ভেঙে দিয়ে প্রভাতকে রূপ দেয় গভীর প্রশান্তির এক দুরূহ, মগ্ন পাঠে।
নিক এনির ভেজা চুল মুছে দিয়ে বিছানার উপর বসিয়ে দেয়। এনি মাথা নিচু করে চুপ মেরে বসে আছে। শারীরিক ব্যাথার রেশ চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে। কিন্তু মুখে কোনো আর্তনাদ নেই। চোখে কোনো বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই। শাওয়ার নেওয়ার সময় ও একদম চুপচাপ ছিলো। নিকের দিকে কেমন অনুভুতিশূন্য হয়ে তাকিয়ে ছিলো। নিক নিজে রেডি হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজের ঠোঁট দেখে কপালে ভাঁজ পড়ে। নিচের ঠোঁট কামড়ে বেহাল দশা করে ফেলেছে। মনে হয়েছে যেন তার উপরে রাগ মিটিয়েছে।
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে এনির দিকে তাকায়। এরপর ড্রয়ার থেকে মেডিসিন হাতে ধরিয়ে বলে,
” খেয়ে নাও, ফার্স্ট।
এনির কোনো হেলদুল নেই। একইভাবে শক্ত হয়ে নিচে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টি কোন দিকে বুঝার উপায় নেই। এনির এমন মৌনতা নিকের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সহ্য করতে পারে না এই নারীর এমন ব্যবহার। তাকে ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবলে ইচ্ছে করে সেই জিনিসটাকে ধ্বংস করে দিতে। মানুষ হলে তো মেরে ফেলে । অন্যকিছুকে কিভাবে মারবে? এই নারীর মন-প্রাণ, চিন্তা-চেতনা, মস্তিষ্ক সবটা জুড়ে নিক জেভরানের নাম থাকবে। অন্য কিছু নিয়ে হলে জ্বালিয়ে দিবে সে।।
নিক এনির বাহু চেপে ধরে। এনি শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় নিকের দিকে। নিক তাকায় এনির পুরো মুখে। কিছু বলতে পারে নি, তার আগেই এনি মেডেসিন হাতে নিয়ে বলে,
” আজ যুদ্ধ ছাড়া নিজ থেকে বার্থ কন্ট্রোল পিল দিলেন যে?
নিক নিজের শার্ট ঠিক করে বলে,
” যে মেয়ে বাচ্চার বাবাকে সামলানোর ক্ষমতা নেই। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সেই মেয়ে বাচ্চা কিভাবে সামলাবে? তবে যেদিন বাবা হব সেদিন একসাথে দশটার হব। তোমার এত চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
এনির মাথা ঘুরে আসার উপক্রম। নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” দশটা?
নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” কেনো? দশটা বাচ্চা কি কোনোভাবে কম হয়ে গেছে? তুমি চাইলে আরও বাড়াতে পারো। যা করার আমি এইতো করব।
” আপনি করবেন? বাচ্চা কোথায় রাখবেন শুনি?
নিক ঠোঁটা কামড়ে ধরে নিজের। এনির দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে বলে,
” তোমার পেটে।
এনির পায়ের নিচ শিরশির করে উঠে। চোখ নামিয়ে ফেলে নিজের। চোয়াল শক্ত করে ঘন ঘন নিশ্বাস টানে নিজের। নিক ফোনে কাউকে মেসেজ পাঠিয়ে এনির দিকে তীর্যক চোখে তাকায় । এনি দ্রুত মেডিসিন গুলো খেয়ে নেয়। মাথা -শরীর ব্যাথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। যন্ত্রনায় শরীর অবশ হয়ে আসছে। এনি বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে। পা ঝুলিয়ে বসার কারনে টপের কিছু অংশ কাধ দিয়ে ঢিলে হয়ে আসে। গলার নিচের অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠে। নিক শক্তভাবে কামড়ে ধরে ঠোঁট। কপালে ঘাম জড়ছে। ধীরে পায়ে এগিয়ে যায় এনির দিকে। মাথা ঝুকে এনির গলার নিম্নাংশ চুমু খায় শক্ত ভাবে। নিকের পাগলাটে আচরনে এনি হেলে পড়ে একপাশে। নিকের চুল শক্ত ভাবে চেপে ধরে এনি দুরে সরিয়ে দিতে দিতে বলে,
” স..সরুন।
নিক সরলো না। তার ঠোঁটের স্পর্শ ধীরে ধীরে আরও নিচে নামতে থাকে। নিকের হাত চলে যায় উন্মুক্ত কোমরে। এনি এক হাতে শক্তভাবে আকড়ে ধরে লাল রঙ্গের বিছানার চাঁদর। অন্যহাত নিকের চুলে ধরে রাখা। নিক মাতাল গলায় ফিসফিস করে বলে,
” আরেকবার হয়ে যাক? আই কান্ট কন্ট্রোল মাই ফেল্ফ!
এনির গলা শক্ত হয়ে আসে,
” বাঁচতে দিতে দিবেন তো নাকি?
নিকের স্পর্শ থেমে যায়। মাথা তুলে তাকায় এনির দিকে। এনির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে আছে। নিকের চেহারার রং বদলে যায়। রাগে লাল হয়ে উঠে চেহারা। রাগে দাঁত পিষে এনির গাল চেপে ধরে বলে,
” আমার স্পর্শে মরে যাবি?
এনি সামান্য ঠোঁট ভেজায়। কাঁপা গলায় বলে,
” নরমাল ভাবে আপনি স্পর্শ করেন না। সহ্য করতে পারি না আমি। তাই ম… রার কথা বলেছি।সো ইউ ডোন্ট লাইক মাই টাচ? দেন হুজ টাচ আর ইউ ক্রেভিং?
নিক নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রন করে। এনির কানের কাছে ঠোঁট ঘেষে বলে,
” আমার কথামত চললে দুনিয়ার সব সুখ পদতলে এনে দিব বলেছিলাম। এই নীলাভ চোখের পানি ঝড়াতে মানা করেছি। কিন্তু এই একটা মুহূর্তে এই চোখের পানি আমার তৃপ্তির কারন হয়। শুধুমাত্র এই সময়টাতে নিক জেভরান নিজেকে হারিয়ে ফেলে। কি হয় তর জান? কষ্ট হয় বেশি? সময় হোক মানিয়ে নিবি। সময়ের ভেতরে আমিও সহজ হওয়ার চেষ্টা করব। আমার স্পর্শ কি খুবই যন্ত্রনাদায়ক ?
এনি নিশ্চুপ হয়ে থাকে। কি উত্তর দিবে সে এখন? এনির নিশ্চুপ থাকাটা যেন নিকের ক্ষোভ আরও তীব্র করে তোলে।
নিকের হাতের বাঁধন আরও শক্ত হয়ে উঠে। এক হাতে ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় এনিকে। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে টেবিলের উপরে থাকা গ্লাসটা থেকে সবটা পানি ঢক ঢক করে গিলে নেয়। এনি তাকায় খালি গ্লাসটার দিকে। নিক খালি গ্লাসটাকে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে। ঝনঝন শব্দে কাঁপিয়ে তুলে ঘরটাকে। নিক ক্রোধ নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে টেবিলে লাথি মেরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
এনি ভয়ে নিজেকে সিটিয়ে নিলেও নিক চলে যাওয়াতে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। ভাঙ্গা কাচের টুকরো গুলোর দিকে তাকায়। সামান্য তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” এই ভাঙ্গা কাচের টুকরো গুলোর মতই আপনার আর আমার সম্পর্ক। বৈধতা আছে কিন্তু মনের মিল নেই। মস্তিষ্কের মিল নেই। দেহের মিলন ঘটে কিন্তু আত্নার মিলন ঘটেনি একবারের জন্য ও। খুব জঘন্য আপনি। এতটা নরপিশাচ না হলেও পারতেন?
চোখের সামনে ভাসতে থাকে কিছু ভয়াভহ দৃশ্য। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে এনির। চোখে-মুখে ফুটে উঠে এক তীব্র আক্রোশ। কাবার্ডের কাছে ছুটে যায় এক দৌঁড়ে। কাবার্ডটা খুলে নিকের পার্সোনাল চাবুকটা হাতে তুলে নেয়। এনি চোখ বন্ধ করে কিছু একটা বিরবির করে রুম থেকে বাহির হয়ে আসে।
নিক টর্চার সেলের বাটনে চাপ প্রয়োগ করতেই ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। আগে থেকেই এইটা খুলে রেখেছে। কাউচ সরিয়ে গ্যাংস্টার বস দ্রুত ভেতরে ডুকে। তার পিছন পিছন আসে এক রমণী। গ্যাংস্টস্টার বস কি সেটা আদ’ও বুঝতে পেরেছেন? নাকি বুঝেও না বুঝার অভিনয় করছেন?
নিক জেডের রুমের সামনে আসতেই স্তব্দ হয়ে যায়।জেডের কাটা হাত ঝুলিয়ে রেখেছে দরজার সামনে। অন্য পাশে ঝুলিয়ে রেখেছে অন্ডকো**ষ আর পু*রুষাঙ্গ। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। দরজা ঠেলে দ্রুত ভেতরে যায়। মেঝেতে পড়ে আছে জেডের নগ্ন ডেড বডি। মুখে অসংখ্য খামছির দাগ। পুরো শরীর এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিকের মাথা ঝিমঝিম করে উঠে হঠাৎ করে। গ্যাংস্টার বস চোখ বন্ধ করে নিজের মাথা দুই হাত দিয়ে শক্তভাবে চেপে ধরে। শরীরের ওজন ধরে রাখতে পারছে না। ঢলে পড়ে যায় মেঝেতে। মাথাটা মেঝেতে পড়ার আগেই কেউ মাথার নিচে নরম জিনিস ঢুকিয়ে দেয়।
মেহেরের জ্ঞান ফিরেছে অনেক্ষন হলো। আরিশ পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। অন্য পাশে অধিরাজ, তানভী, দাদামশাই বসে আছে । মেহের সবার দিকে তাকায় এক পলক। শান্ত অথচ কাঁপা গলায় বলে,
” ও আসে নি ভাইয়া?
আরিশ চট করে তাকায় বোনের দিকে। কপালে চুমু খেয়ে বলে,
” এসেছিলো। কাজের জন্য চলে গিয়েছে।
মেহের হালকা হেসে বলে,
” আমার জায়গায় যদি ওর বউ থাকত, তাহলে কি ঠিক একইভাবে কাজের জন্য চলে যেত ভাইয়া?
আরিশ থমকে যায় কিছু সময়ের জন্য। বুকের উপরে যেন কেউ পাথর চাপিয়ে দিয়েছে। মেহেরের জায়গায় যদি এনি থাকত তবে কি, নিক সত্যি চলে যেত! উহুম, কোনো দিন ও যেত না। এনির গুলি লাগার পর নিকের সব পাগলামি আরিশ দেখেছে। মসজিদে গিয়ে নিশ্বঃব্দ আর্তনাদ করেছে এইসব ও শুনেছে। এই পাষাণ ব্যক্তিটা পুরো দুনিয়ার মধ্যে শুধু একজনের প্রতি নরম হয়ে যায়।শুধু রাগ, হিংস্রতার নিচে এই মায়াটা চাপা পড়ে যায়। আরিশ শান্ত কন্ঠে বলে,
” চলে যেত।
” কেনো যেত? ওইসময় তো উনার বউ থাকত।
আরিশ ঘন নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” এইসব কথা থাক আপাযত।
এরপর দাদামশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনি এখানে থাকুন দাদামশাই। আমি একটু প্রয়োজনীয় কাজে বাহিরে যাব। চলে আসব আবার এক -দুই ঘন্টা পর।
” নাজলী আপু কোথায় ভাইয়া?
আরিশ হুট করে তাকায় মেহেরের দিকে। নাজলী নামটা আরিশের হৃদয়ে গিয়ে লাগে। এখন মানব বুঝে উঠতে পারছে না এমন লাগে কেনো? তবে এই নামটা সে সহ্য করতে পারে না। আরিশের কাটকাট গলা,
” নেই সে।
” অনেক দিন হলো দেখি না।
আরিশ উঠে দাঁড়ায়। এরপর শক্ত গলায় বলে,
” যে আমাদের না, তাকে দেখার কোনো কারন নেই। অপরিচিতরা দুই দিনের অতিথি থাকে মাত্র। দুই দিন থেকে আবার চলে যায়। তাদেরকে মনে রাখাটা বোকামি।
মেহের আশ্চর্য হয়ে বলে,
” কি বলছো এইসব? উনি তোমার স্ত্রী! অপরিচিত বলছো কাকে?ঝগড়া করেছো?
আরিশ শক্ত চোখে তাকায় মেহেরের দিকে। মেহের ভয়ে চুপ হয়ে যায়। আরিশ বের হয়ে যায় রুম থেকে। মেহের হা করে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে। জীবন চক্র কিছুই আজকাল তার বোধগাম্য হচ্ছে না। সবার কেমন উলোট -পালোট ঘোলাটে সম্পর্ক!
দাদামশাই মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। মেহের নিশ্ব:ব্দে কেঁদে উঠে।
তানভী চোখের পানি মুছে অধিরাজের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। শক্তভাবে ধরে অধিরাজের হাত। মেহেরের সাথে কথা না বলে অধিরাজকে টেনে নিয়ে যায় বাহিরে।
অধিরাজ অবাক হয়ে বলে,
” মেহেরের সাথে কথা না বলে এখানে নিয়ে এসেছো কেনো?
তানভীর ইচ্ছে করছিলো অধিরাজকে কাচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে। গলার স্বর শক্ত করে দাঁত পিষে বলে,
” এতটা পাষাণ কেনো তোমার বস? উনি খারাপ পুরো দেশ জানে। কিন্তু এই বাচ্চা মেয়েটা কি অপরাধ করেছিলো? ওর সাথে কেনো এমন করলো? আরে ভাই যদি ভালো না বাসত তবে এমন মায়া দেখিয়েছিলো কেনো? পরিবার ছাড়া মানুষেরা বিবেকহীন হয় জানতাম। কিন্তু এতটা বিবেকহীন হবে ধারনা ছিলো না।
অধিরাজ চোখ পাকিয়ে তাকায় তানভীর দিকে। তানভীর দুই কাধ শক্তভাবে চেপে ধরে। চোখ চোখ রাখে বলে,
” কথার লাগাম টানো তানভী। পুরো দুনিয়া যেমন -তেমন কিন্তু বসের বিরুদ্ধে কোনো কথা আমি সহ্য করব না।
তানভী ক্ষোভে অধিরাজের হাত ঝাটকা মেরে ফেলে দেয়। তীব্র রাগে বলে,
” হ্যা, সহ্য করবে কেনো? পুরো দুনিয়া জাহান্নামে যাক কিন্তু বস ঠিক থাকলেই হবে। কি জাদু করেছে তোমাকে এই লোক? দিনের পর দিন মেয়েটা ভালোবাসা আকড়ে ধরে বেঁচে ছিলো। পুরো রুম নিক জেভরানের ছবি পেইন্টিং করে সাজিয়েছে, সারপ্রাইজ দিবে বলে। সবটা কিন্তু মি, নিক জানতেন। আর এইটাও জানতেন মেহের যদি নিককে না পায় তবে মেয়েটা মরে যাবে। তার প্রমান তো দেখতেই পাচ্ছো। শুভ্র বেডে ছোট্ট মেয়েটা ল্যাপ্টে আছে। মুখে মলিনতা আর হাহাকারের ছাপ। কিন্তু তাতেও উনি কিছু যায় আসে না। মি, নিক তো মি, আরিশকে জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে। তাহলে উনার বোনকে এমন মৃত্যুর দরজার ঠেলে দিয়েছেন কেনো?
হ্যা এখন বলতে পারো, ভালোবাসা জোর করে হয় না। আমিও মানি সেটা। ভালোবাসা কোনোদিন জোর করে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্ত মানবতা, সম্পর্কের খাতিরেও অনেক কিছু আপন করে নিতে হয়। নিক জেভরান স্ত্রী সঙ্গ লাভ করার আগে থেকেও মেহের তাকে পাগলের মত ভালোবাসে। এইটা কিন্তু উনি জানে। মেহেরের মাথায় সমসস্যা । অতিরিক্ত চাপ নিলে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে এইটাও জানতেন। সব জানার পরও উনি বিয়ে করে বউ নিয়ে সংসার করছে। এতদিনে হয়ত বাচ্চার বাবাও হয়ে গেছেন। আর এইদিকে তাকে পাগলের মত ভালোবাসলো যে মেয়েটা সে জানতেই পারলো না তার প্রেমিক পুরুষ অন্য নারীর লিখিত দলিল হয়ে গিয়েছে। এক পাক্ষিক ভালোবাসাগুলো এতটা যন্ত্রনাদায়ক কেনো?
সব বাদ দিয়ে দিলাম। আরিশ স্যারকে ভালোবেসে অন্তত পারতেন মেহেরকে আপন করে নিতে। মেহেরের কিছু হলে আরিশ স্যার পাগল হয়ে যাবে এইটাও উনি জানেন। তবুও উনি কিছুর পরোয়া করলেন না। এই তার বন্ধুত্ব? বিয়েটা কয়দিন পরে করলেও তো পারত। মেহেরকে যতটা শান্ত দেখতে পাচ্ছো ও কিন্তু ভেতরে এতটা শান্ত নয়। ওর যন্ত্রনা আমি অনুভব করতে পারছি। কারন ওর ভালোবাসার পাগলামিগুলো আমি নিজ চোখে দেখেছি।
অধিরাজের ধৈর্য হয়ে উঠছে না তানভীর কথা শুনার। সে নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” এই মুহূর্তে আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি না তানভী। মেহেরকে তুমি ভালোবাসো অনেক। তাই এই পরিস্থিতিতে লিমিট ছাড়া কথা বলছো। যা আমি কোনোদিন সহ্য করব না। আমি চাই না আমি তোমার সাথে রুড ব্যবহার করি। বসের বিরুদ্ধে কটু কথা বলার আগে আমার ছুঁড়ির আঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে হয়। এইটা সবাই জানে। মেহেরের কাছে যাও নয়ত বাড়ি যাও।
তানভীর চোখ ভিজে আসে। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে বলে,
” ছুঁড়ির আঘাত দিয়ে ছিন্ন -বিচ্ছিন্ন করবে কি? তোমাকে ভালোবেসে যে যন্ত্রনা অনুভব করছি সেটা ছুঁড়ির আঘাত থেকে কম নয়। তোমার স্যারের বিরুদ্ধে বলার জন্য ছুঁড়ি দিয়ে আঘাত করো, আটকাব না। কথা কোন দিন বলতে চেয়েছিলে যে আজ বলবে? সপ্তাহ চলে যায় তোমার খোঁজ থাকে না। সময় ফুরিয়ে যায় তোমার অস্তিত্বের সন্ধান মিলে না। ভালোবাসার কষ্ট তুমি অনুমান করতে পারবে না মি, অধিরাজ। যে ভালোবাসে সে বুঝে এই কষ্ট আর যন্ত্রনা। প্রেমিক পুরুষের দেওয়া যন্ত্রনা কতটা বিষাক্ত সেটা তুমি বুঝবে না।
তানভীর মুখে নিজের পুরো নাম শুনে অধিরাজ চট করে তাকায়। এই প্রথম তানভী তাকে এইভাবে সম্মোধ করেছে। কিন্তু কেনো?
” আমি তোমাকে ভালো বাসি না?
তানভী মলিন হেসে বলে,
” সত্যি ভালোবাসো? এই কথাটা আপাতত অনুমান করতে পারছি না।
” তানভী তুমি….
অধিরাজকে কথাটা বলতে দিলো না। তার আগেই তানভী চোখের পানি মুছে বলে,
” তোমার বসের নামে এইসব কথা বলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করব ভেবে থাকলে ভুলে যাও। ভুল কিছু বলি নি আমি। আর না আবেগে কিছু বলেছি। স্বার্থপর মানুষ উনি!
তানভী কথাটা বলে চোখ -মুখ শক্ত করে মেহেরের কাছে চলে আসে। মেহের তানভীকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে। বুক ভেঙ্গে আসে রমণীর,
” আমি হেরে গিয়েছি তানভী আপু। ভালোবাসার কাছে আমি পরাজিত হয়ে গেছি। যাকে আমি ভালোবাসি সে আমার নয়। যার বুকে মাথা রেখে জীবন পার করব বলে ভেবেছিলাম সে আর আমার নয়। উনি অন্য নারীর লিখিত দলিল হয়ে গিয়েছে।
আপু ভেতরে যন্ত্রনা হচ্ছে আমার। এত কষ্ট কেনো হচ্ছে, বলো আপু? হৃদয়টাকে কেউ জ্বালিয়ে দিচ্ছে আপু। আমি ঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছি না। এই যন্ত্রনা আমি কিভাবে সইব? আমি বাঁচতে চাই আপু। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার ভাইটা একা হয়ে যাবে। কষ্ট পাবে অনেক। আমার যন্ত্রনাটাকে বলো কেউ চুরি করে নিতে ।
মেহের কান্না করে উঠে। মেহেরের নীরব আর্তনাদে তানভীর চোখ ভিজে আসে। কিভাবে সামলাবে এই মেয়েটাকে। দুনিয়ার কেউ না জানুক, মেহেরের প্রতিটা পাগমির সঙ্গী সে। নিককে কতটা ভালোবাসে তানভীর থেকে ভালো আর কে জানবে? তানভী নিজেও কষ্ট পাচ্ছে। মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
” শান্ত হও মেয়ের। দুনিয়ায় কেউ কারোর জন্য বেঁচে থাকে না। সবাই নিজেদের জন্য বাঁচে। নিক স্যার ভালোবাসে না তো কি হয়েছে? আমরা সবাই তো ভালোবাসি। নিক স্যারের সাথে কথা বলবে?
মেহের শান্ত হয়ে আসে। মাথা নিচু দিয়ে বলে,
” এই জীবনে আমি এই পুরুষটার সামনে যেতে চাই না। প্রয়োজনে নিজেকে শেষ করে দিব তবুও আমি মেহরিমা মেহের নিক জেভরানের কাছে উত্তর চাইব না। তানভী আপু, উত্তর তার কাছে চাওয়া হয় যে কিছু জানে না। কিন্তু আমি উত্তর কার কাছে চাইব, যে সব জেনেও আমাকে এইভাবে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে? আমি উত্তর চাই না। যেতে চাই না এই লোকের সামনে। অন্য নারীর স্বামীর কাছে নিজের ভালোবাসার উত্তর চাওয়াটাও লজ্জাজনক।
মেহের কথাগুলো বলছিলো। আর কান্নার কারনে ফুঁপিয়ে উঠছিলো বার বার। তানভী মলিন হেসে মেহেরের মাথায় চুমু খায়।
” জীবনে অনেক কঠিন পরীক্ষা দিয়ে পার করতে হয়।
” ভালোবাসা নামক কঠিন পরিক্ষাটা সৃষ্টিকর্তা না দিলেও পারত। যাকে এত করে চাইলাম সে আমাকে চাইলো না। অন্য নারীকে বুকে নিয়ে রাত পার করছে। আর আমি পার করছি একরাশ যন্ত্রনা আর অস্থিরতা নিয়ে।
অগ্নিগর্ভ ক্রোধে দগ্ধ সেই রমণী যেন মুহূর্তে মানবী থেকে রূপ নেয় এক দুর্দমনীয় বিভীষিকায়। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে। চোখদুটি জ্বলে ওঠে অবদমিত যন্ত্রণার অশান্ত আগুনে। আর প্রতিটি চাবুকের ঘূর্ণনে বাতাস নিজেই কেঁপে উঠে আতঙ্কের অদৃশ্য আর্তনাদে।
তার রাগ নিছক উন্মত্ততা নয় এ এক দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যেখানে অবহেলা, অপমান আর নীরব ক্ষত একাকার হয়ে নিষ্ঠুর দৃঢ়তায় রূপ নিয়েছে। চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। দৃষ্টি কঠোর থেকে কঠোর হয়ে উঠেছে। মুখাবয়বে এমন এক ভয়াল স্থিরতা যে তা দেখলে সাহসী মনও শিউরে ওঠে।
নীরব সহন আর আত্মগোপন যন্ত্রণা একত্র হয়ে তার চেতনাকে করে তোলে কঠোর ও নিষ্ঠুর দৃঢ়তায় সংহত।
তার দৃষ্টিতে জমাট বাঁধে শীতল ক্রোধের অবিচল স্তর। চোখের গভীরে খেলা করে এমন এক ভয়াল স্থিরতা।
শ্বাসপ্রশ্বাস আরও ভারী ও সংযত হয়ে উঠেছে। তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে অনুভূত হয় দগ্ধ অভিমান অপ্রকাশিত ক্ষোভের প্রচ্ছন্ন গর্জন।অনুভূতিগুলোও পাথরে রূপান্তরিত হয়ে আত্মরক্ষার কঠিন প্রাচীর গড়ে তুলেছে।
নিকের দুই হাত -পা বেঁধে রেখেছে একটা শক্ত চেয়ারের সাথে। সামান্য নড়াচড়া করার ও ক্ষমতা নেই। তার শান্ত দৃষ্টি অগ্নি মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এনির দিকে। ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে। পুরো শরীর চাবুকের আঘাতে যখম হয়ে গিয়েছে। রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে শরীর থেকে। খালি শরীরে এক একটা চাবুকের বারি দাগ কেটে দিচ্ছে। বর্তমানে এনিকে দেখলে কেউ জীবনেও বলবে না এই রমণী সৌন্দর্যের প্রতীক। যার সৌন্দর্যের পাগল হয়ে মাফিয়ারা গন্তব্য হারা হয়ে আছে। উন্মাদ হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। একবার মাফিয়ারা এই রুপ দেখলে হয়ত বিছানায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করত না। এনির চোখ থেকে যেন আগুন পড়ছে। সোনালি চুলগুলো কেমন আজ ভয়ানক দেখাচ্ছে। নীল চোখের মণিতে এক উন্মাদ হিংস্রতা। এক সাথে দশটা চাবুকের আঘাত বসায় নিকের পেটে। সাথে সাথে রক্ত ছিটকে পড়ে এনির মুখে। নিক সব সময়ের মত শান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। সামনের রমণীটার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন এই মুহূর্তে ভালোভাবে না দেখলে অনেক কিছু মিস করে ফেলবে। ধূসর চোখ দুইটা হাসছে। ঠোঁট কেটে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছে। মুখে কোনো চাবুকের আঘাত নেই। সব আঘাত পিঠে-পেট জুড়ে। এনি হাঁপিয়ে উঠে। ধপ করে বসে পড়ে টর্চাঁর সেলের নোংরা মেঝেতে। চোখ তুলে নিকের দিকে তাকায়। রক্তাক্ত নিককে দেখে দুই কদম পিছিয়ে যায়। ফর্সা শরীরটা রক্তে লাল হয়ে পড়েছে। বিয়াল্লিশটা চাবুক মেরে এনি হাঁপিয়ে উঠেছে। চুল খামছে ধরে কান্না করে উঠে,
” ছেড়ে দেওয়ার জন্য মিনতি করুন আমার কাছে। নিজের পাপের ক্ষমা চান। আর পারছি না আপনাকে আঘাত করতে।
নিকের পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে আছে। ঠোঁট -কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে। রক্তাক্ত ঠোঁটটাকে নাড়ানোর চেষ্টা করে। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলে,
” এই কয়টা চাবুক মেরেই হাঁপিয়ে উঠলে? শত্রুদের হাতে বহুবার ক্ষত -বিক্ষত হয়েছি। আজ তোমার হাতে হলাম, ক্ষতি কি?
এনি দুই হাত ছড়িয়ে বসে আছে নোংরা মেঝেতে। নিকের দিকে চোখ তুলে তাকায়। দিশেহারা হয়ে উঠে রমণী।
” জিজ্ঞাসা করবেন না, কেনো এইভাবে আঘাত করেছি?
নিক শান্ত গলায় বলে,
” তোমার ইচ্ছে হয়েছে তাই আঘাত করেছো। আমি কিছু বলেছি তোমাকে?
এনির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে উঠে,
” জিজ্ঞাসা করুন আমাকে।
” আমি তো ব্যাথা পায় নি ব্লাডরোজ। তোমার প্রতিটা আঘাতকে ভালোবাসা হিসেবে গ্রহন করে নিয়েছি।
এনি পারছে না চিৎকার করে কাঁদতে। নিজেকে শক্ত করে রেখে বলে,
” একটা পাথরের থেকেও কঠিন আপনি। জিজ্ঞাসা করুন আমাকে গ্যাংস্টার বস।
এনি চেঁচিয়ে উঠে। নিক শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে,
” কেনো করেছো এমন?
এনি এইবার সামান্য হাসলো। একটা চেয়ার টেনে এনে নিকের মুখোমুখো হয়ে বসে। চুলগুলো কেমন পাগলের মত হয়ে আছে। ঘামে জবজবে হয়ে আছে কপাল। চাবুকটা হাতে পেচিয়ে পুরো রুমটার দিকে তাকায়,
” এই রুমটায় একসময় মেয়েদের ধরে এনে রাখা হত, রাইট?
নিক ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। পর মুহূর্তে নিজেকে শান্ত করে বলে,
” হুম।
এনি রাগে পা দুলাতে শুরু করে। দাঁত কটমট করে বলে,
” এরপর প্রাইভেট জেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হত। এই চাবুকটা দিয়ে আমাকে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছিলেন, অথচ আজ দেখুন পাল্টা জবাব দিলাম।
এনি থেমে যায়। বড় করে নিশ্বাস নিয়ে কান্না করে দিয়ে বলে,
” আমার বান্ধুবীটাকে কেনো মেরেছেন? ওর কি অপরাধ ছিলো?
নিকের দৃষ্টি কঠোর হয়ে আসে,
” মিথ্যে দিয়ে কোনোদিন স্বার্থ হাসিল করি নি। আর না মিথ্যে সহ্য করতে পারি। তোমার বান্ধুবীকে আমি মারতে যাব কেনো?
এনি দাঁতে দাঁত পিষে,
” আই মাইসেলফ নেভার সে ইট, নিক জেভরান। জেড মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছে আপনার নাম। আমি তার সঙ্গীর পিঠে কো**প বসিয়েছিলাম। এই দাগ এখনও আপনার পিঠে ঝলঝল করছে। পালাবেন কোথায়?
নিকের দৃষ্টি আবার ও শান্ত হয়ে আসে,
” সেদিন আমি পৌঁছানোর আগে তোমার বান্ধুবীকে অলরেডি মেরে ফেলা হয়েছিলো। তুমি নিজেও দেখেছো। আমি কি করেছি?
এনি চাবুকটা দুরে ছিটকে ফেলে দেয়। রাগে কাঁপছে রমনী। অথচ চোখ থেকে পানি পড়ছে অনবরত। নিকের রক্তাক্ত খালি শরীরের উপরে হাত রেখে বলে,
” একদম মরে যায় নি। নিশ্বাস ছিলো। আর বেঁচে গেলেই কি হত? তার ইজ্জত -সম্মান ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। কোন পুরুষ গ্রহণ করত ওকে? একবার চেয়েছিলাম আপনাকে জানে মেরে ফেলি। টুকরো টুকরো করে ফেলি আপনার সর্বাঙ্গ। কত পাপ করেছেন জীবনে। কত মেয়েকে বলি দিয়েছেন। কত বাচ্চার শৈশব কেড়ে নিয়েছেন সামান্য টাকার জন্য। কিন্তু যখন আমি অনুভব করলাম আপনার উপস্থিতি আমার পাশে নেই তখন মনে হলো কেউ খামছে ধরেছে আমার কলিজাটাকে। এতটা তীব্র যন্ত্রনা কেনো হলো বলতে পারবেন? আপনি তো আমার কেউ না। ভালো বাসি না আপনাকে। তাহলে আপনার শূন্যতা আমাকে কেনো কাঁদালো। প্রানে মারতে পারি নি। কিন্তু ভেতরের দহন – জ্বালা কমাতে পারছিলাম না। আপনাকে রক্তক্ত না দেখা অব্দি শান্তি পাচ্ছিলাম না। চাবুকের আঘাতের থেকে বড় আঘাত আর কি হতে পারে? গ্যাংস্টার বস অসহায় হয়ে আছে এক তুচ্ছ রমণীর সামনে!
নিক হাসলো শব্দ করে। মাথাটা এনির মুখের কাছে নিয়ে আসে। এনির ঠোঁটের দিকে তাকায়। নিকের মতলব বুঝে এনি মুখ ফিরিয়ে নেয়।
” যে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে সে ধর্ষিতাকেও আপন করে নেয়। কারন সে দেহ নয় হৃদয়টাকে ভালোবাসে। আর যদি বলো আমাকে শিকল বন্ধী করার ব্যাপারটা!
নিক থামে….
” তলোয়ার যখন নিজের আপনজনের কাছে থাকে, লড়াই করাটা তখন কঠিন হয়ে পড়ে। পানির মধ্যে কিছু একটা মিশিয়েছিলে তাই না?
এনি মুচকি হেসে বলে,
” সামান্য মেডিসিনের পাওয়ারে এইভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন ভাবি নি। ভেবেছিলাম গ্যাংস্টার বসের জন্য বিরাট বড় আয়োজন করতে হবে।
” রাতে এই কারনেই এতটা শান্ত ছিলে?
” ভাবছিলাম আপনাকে কিভাবে শিকলে আবদ্ধ করা যায়।
নিকের চোখ -মুখে ক্রোধ জ্বলে উঠে,
” আর আমাকে নিজ থেকে কাছে টানাটা?
এনি ঠোঁট,কামড়ে ধরে নিজের। তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলে,
” এইটা তো যাস্ট আপনাকে আটকানোর রাস্তা ছিলো নিক জেভরান। আপনি যাতে রাতে কোনোভাবে এই টর্চার সেলে না আসেন। রাতে এখানে আসলে জেডের পুড়ে যাওয়া বডি দেখে ফেলতেন। আর আমার প্রতিশোধ থেকে যেত। আপনাকে এইভাবে আবদ্ধ করাটা আমার জন্য বহু গুণ কষ্ট হয়ে যেত। ভালোবেসে কাছে টেনেছি ভাবলেন কিভাবে?
নিকের চোখ ধীরে ধীরে লাল হয়ে পড়ে। শরীরে তার শক্তি অবশিষ্ট আছে কি না তাও জানা নেই। নিক দাঁত পিষে,
” এত বড় বাস্ট্রাড হলে কবে তুই, বান্দির বাচ্চা ? আমার সাথে গেইম খেললি কোন সাহসে?
এনি আলতো হাসে,
” আমি কিন্ত অনেক আগে থেকেই এমন। নিজের চাচাকে মারতেও হাত কাঁপে নি। বলেছিলাম আপনাকে, প্রয়োজনের তাগিদে আমি আনাস্তাসিয়া এনি এতটা পরিবর্তন হয় যে আপনার ধারনার ও বাহিরে। যে সাহসে আপনি সেদিন ওই নরখাদকটাকে বাঁচিয়েছেন। যেভাবে আমার বন্ধুবীটাকে অর্ধ মৃত ছটফট করতে দেখেও চলে গিয়েছেন। সেই সাহসে এইসব করেছি আমি। প্রচুর চেষ্টা করেছি ওকে বাঁচাতে। কিন্তু পারি নি। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ওর সাথে দুই ক্রিমিনালকে ধরে নিজ হাতে শাস্থি দিব। দুইজন ক্রিমিনালকে তো পেয়ে গেছি। একজন হত্যাকারী আরেকজন সাহায্যকারী। একজনকে মেরেছি। অন্যজনকে মারতে গিয়েছি কিন্ত শূন্যতা আমাকে চেপে ধরেছে। প্রানে মারতে পারছি না, বেছে নিয়েছি ছলনা আর আঘাতের রাস্তা।
নিক নীরব গলায় বলে,
” আমকে মারতে শূন্যতা চেপে ধরেছে? ভালোবেসে ফেললে?
এনি কাঁপা স্বরব বলে,
” উত্তর দিতে চাই না আপনাকে।
“কিভাবে বুঝলে সেদিন জেড ছিলো?
এনি হেসে বলে,
” ওকে তো মারতে গিয়েছিলাম নরখাদক ভেবে। সেদিন মেয়েটার আর্তনাদ দেখে জানোয়ারটাকে খুন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্য এইভাবে সহায় হবে কিভাবে বুঝব? ভাগ্যিস আঙ্গুল কেটে দিয়েছিলাম। একটা চিহ্ন রেখেছিলাম নরখাদকটার। সেই চিহ্ন আমাকে সাহায্য করলো। তীব্র যন্ত্রনা দিয়ে মেরেছি। যতটা যন্ত্রনা শুয়রের বাচ্চাটা হাজারটা মেয়েকে দিয়েছে সবটা বহুগুণ ফিরিয়ে দিয়েছি।
নিকের চোখ দুইটা ঝাপসা হয়ে আসছে। নিজের রক্তক্ত ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৬
” কিভাবে মেরেছো ওকে?
এনি শক্তভাবে চেয়ারটাকে চেপে ধরে। মাথা নিচু করে বলে,
” অপেক্ষা করুন। শান্ত হতে দিন আমাকে।
