লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৮
লিজা মনি
আইল্যান্ডের বুক চিরে উঠে দাঁড়িয়ে আছে লাল-কালো রঙের কাচে মোড়া এক বিলাসবহুল মিনারটি। আইল্যান্ডের নিঃসঙ্গ ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা লাল-কালো কাচে আবৃত সেই বিলাসবহুল মিনারটি যেন রাতের অন্ধকারে এক জ্যান্ত দুঃস্বপ্নের অবয়ব।
চারপাশে জমে থাকা নিরবতা আর শূন্যতা। এইটা এক প্রকার এক দমবন্ধ করা নীরবতা। যা শব্দের জন্মকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
অগণিত গার্ড চারদিকে স্থির প্রতিমার মতো দাঁড়িয়ে আছে। তাদের উপস্থিতি এখানে পাখির উড়াল কল্পনাও অপরাধ।ডানার স্পন্দন যেন রাষ্ট্রদ্রোহের সমান।
মিনারের প্রধান ফটকের সামনে হান্টার ও শ্যাডো দাঁড়িয়ে আছে গ্যাংস্টার বসের সব থেকে কাছের দুই সঙ্গী। পাথরের মতো দৃঢ়তা তাদের উপস্থিতি। চোখে শীতল সতর্কতা বিরাজ করছে মুখে অমোঘ সিদ্ধান্তের ছাপ।তারা কেবল পাহারাদার নয়। তারা নিজেই ভয়ংকর এক সতর্কবার্তা। ফটক পেরোনোর আগেই আত্মাকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা যাদের আছে।
মিনারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা টর্চার সেল। যেটা কোনো সাধারণ কক্ষ নয় তা এক মানসিক বিভীষিকার কারাগার। সেই কক্ষের দেয়ালগুলো যেন নিরবতার পুরু স্তরে মোড়া। প্রতিটি ইটের গায়ে জমে আছে অতীতের অব্যক্ত আতঙ্ক।
আলো সেখানে আলো নয় আছে এক নিষ্ঠুর ছায়া। যা চোখে পড়ে কিন্তু মনকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখে।
ছায়াগুলো দেয়ালে বিকৃত হয়ে নড়ে ওঠে। মনে হয় তারা নিজস্ব ভাষায় কিছু বলতে চায়। কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারিত হয় না। লাল আলোতে ঝলঝল করছে পুরোটা রুম।
মিনারের গভীরতম কক্ষে টর্চার সেলের হৃদয়ভাগে একটি রমণী স্থিরভাবে বসে আছে।দেহের কোমলতাকে শিকল দ্বারা দ্বিগুণভাবে আবদ্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে স্বাধীনতার প্রতিটি অণু তার হাতের স্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে। তার শ্বাসপ্রশ্বাস বর্তমানে অগভীর হলেও প্রতিটি শিকলের লোহার দমনাত্মক জোড়ের কবলেই সীমাবদ্ধ। এবং সেই সীমাবদ্ধতা নিজেই এক নীরব হত্যার ছায়া হয়ে ঘিরে ধরে তার সঙ্কুচিত অন্তর।
শরীরে একটা সুতাও নেই। একদম নগ্ন অবস্থায় লজ্জায় চোখ বন্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে চোখ খুলার ক্ষমতা তার নেই।
চারপাশের নিরবতা। এনির মুখোমুখি হয়ে বসে আছে গ্যাংস্টার বস। অর্ধনগ্ন শরীর তার। শরীরে চাবুকের আঘাতের চিহ্নগুলো কালসিটে পরিণত হয়ে আছে। শুকনো রক্তের গাঢ় জমাটে এক অদ্ভুত ভৌতিক ও দমনাত্মক সৌন্দর্যকে সৃষ্টি করেছে যা অর্ধনগ্ন শরীরকে দমবন্ধ করা এক অপ্রতিরোধ্য ভয়ঙ্করত্বে পরিণত করেছে।
দুই হাতে খোদাই করা ড্রাগনের ট্যাটুগুলো ঝলমল করছে।অন্ধকারের ভেতরেও চোখে আঙুল দিয়ে ছোঁয়ার মতো দীপ্তি। তার নীরব পর্যবেক্ষণই শিকলবদ্ধ অস্তিত্বকে আরও সংকীর্ণ করে দেয়।
দৃষ্টি স্থির। কিন্তু অন্তরে অগ্নিশিখার মতো জ্বলমান
নিঃশব্দে কক্ষের স্থিতিকে চূর্ণ করে দিচ্ছে। নিকের চোখের গভীর শীতল কৌশল। মুখে অমোঘ স্থিরতা হয়ে আছে। তার শান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও নিঃশ্বাসের অদৃশ্য স্পন্দন সামনে বসে থাকা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। তার দম বন্ধ করা অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছে।
রমণী শিকলবদ্ধ ও অর্ধনগ্ন ছমছমে নিরবতার মধ্যে স্থির থাকার চেষ্টা করলেও তার প্রত্যেকটি স্পন্দন হাতের অতি ক্ষুদ্র নড়াচড়া থেকে শ্বাসের অগভীর প্রবাহ পর্যন্ত গ্যাংস্টার বসের নিঃশব্দ প্রভাব দ্বারা দমনিত হয়ে প্রতিটি মুহূর্তকে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
নিক শান্ত গলায় ডাক দেয়,
” বেবিগার্ল, লুক এট মি।
এনি তাকাতে পারছে না। লজ্জা, অস্থিরতা, ভয় একসাথে চেপে ধরেছে। ঠোঁট কাঁপছে ভীষণভাবে। এনিকে চোখ খুলতে না দেখে নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। হাতে থাকা ধারালো শীতল ছুঁড়িটা এনির উড়ুর উপর ছুঁয়ে দেয়। শান্ত স্বরে আবার ও বলে,
” চোখ খুলো ব্লাড রোজ। আই ফিল ফাকিং মাই অ্যাংগার সার্জিং আনকন্ট্রোলেবলি। ইউ নো, অফ কোর্স, হোয়াট ইনস্যুস হোয়েন আই অ্যাম কনসিউমড বাই রেজ ডু ইউ নট?
নিকের শীতল হুমকিতে এনির গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে পিটপিট করে তাকায় সামনে। অস্থিরতায় দম বন্ধ হয়ে আসে তার। নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” প্রতিটা লোম কূপ আমার দেখা। লজ্জা পাবে না ব্লাড রোজ। তোমার চোখ অস্থিরতা নয় শান্ত দেখতে চাচ্ছি।
নিক কথাটা বলে নিজের হাতের তালুতে ছুঁড়ি বসায়। সাথে সাথে তরল রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। নিক এক ফুঁটা রক্ত ও নষ্ট হতে দিলো না। এনির শরীরের উপর নিজের হাত রাখে। বিন্দু বিন্দু রক্তের কণা এনির গলা থেকে বুক ভেসে পড়তে থাকে।
এনি দিশেহারা হয়ে উঠে। নিকের হাত ধরতে পারছে না। তার হাত শিকল দিয়ে বাঁধা। নিকের শরীরের তাজা রক্ত তার শরীরে গড়িয়ে পড়ছে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে,
” প্লিজ স্টপ। কি পাগলামো করছেন? এইভাবে রক্ত ঝরালে আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। কেনো করছেন এমন? এতটা সাইকো হবেন না। ভয় হচ্ছে আমার।
নিক এনির ঠোঁট আঙ্গুল দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
” কথা বলো না ব্লাড রোজ। তোমার শরীরে আঘাত করতে পারছি না। সিগারেটের ছেকা দিলে, শরীরে এসিড জ্বালালে তুমি কষ্ট পাবে। তোমার চিৎকার মূলত আমার কান সহ্য করতে পারে না। এতবড় বাস্ট্রাডগিরি করলে আর আমি চুপ থাকব? ভেতরে তান্ডব চলছে আমার। ইচ্ছে করছে তোমাকে ধ্বংস করে দিতে। কিন্তু সামান্য আঘাত করতে পারছি না। নিক জেভরানের স্ত্রীর শরীরে অন্য পুরুষের স্পর্শ থাকা মানে আমার মরন যন্ত্রনা সহ্য করা। জানোয়ারটাকে তো মেরে ফেলেছো কিন্তু শালা বাইন*** বাচ্চা আমার জিনিসকে স্পর্শ করেছে।
নিক কথাগুলো বলছে আর এনির শরীরে তাজা রক্ত দিয়ে ল্যাপ্টে দিচ্ছে। এনির পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে। নিক আরও একবার ছুঁড়ি বসায় হাতের তালুতে। রক্ত ছিটকে পড়ে এনির মুখে। এনি এইবার শব্দ করে কেঁদে উঠে,
” প্রমিস করছি, সর্বোচ্চ দিয়ে নিজেকে নিরাপদে রাখব। কাউকে সামান্য স্পর্শ করতে দিব না। সামান্য হাত লাগতে ও দিব না। দয়া করে এই রক্তাক্ত খেলায় থেমে যান। সব রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে। এতটা সাইকো হবেন না। প্রমিস করছি, আর কাউকে টাচ করতে দিব না।
নিক রক্তের প্রলেপ লাগিয়ে দেয় এনির কোমড়ে। গম্ভীর গলায় বলে,
” লেগে গিয়েছে।
এনির কাঁপা আর আতঙ্কিত গলা,
” আর লাগতে দিব না। ভুল করে লেগেছে।
” ভুল করে আমার প্রানভোমড়ায় অন্যের দাগ লেগে গিয়েছে । এইটা পরিষ্কার করার দায়িত্বও আমার ।
এনি অবিচল কন্ঠে বলে,
” আমি আপনার প্রানভোমড়া?
নিক রাগ দেখিয়ে বলে,
” এত কথা বলছো কেনো? তোমাকে আঘাত করেছি?
” নিজেকে কেনো এইভাবে আঘাত করছেন? কষ্ট হচ্ছে না?
” প্রশান্তি আসবে।
এনি নিরুপায় হয়ে বলে,
” বলছিতো এইবারের মত ক্ষমা করে দিন।
” পরেরবার থেকে।
” কি?
” এইবারের মত শাস্তিটা পেয়ে যাও। পরেরবার শান্ত হয়ে যাব।
নিকের স্পর্শ এনির শরীর জুড়ে বিরাজ করছে। নিক আরও একবার ছুঁড়ি বসায় হাতের তালুতে। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির নগ্ন গলার নিচ থেকে পেট পর্যন্ত প্রলেপ দিয়ে দেয়।
এনি আর নিতে পারছে না এই বর্বরতা । অন্যসময় হলে লজ্জায় মরে যেত। এই মুহূর্তে নিকের পৈশাচিক আচরনে ট্রমাতে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে একজনকে মেরে রক্ত দিয়ে হাত রাঙ্গিয়েছে। এখন আবার নিকের এমন উন্মাদ আচরন। এনি অস্ফূর্ত আওয়াজে বলে,
” প্লিজ থামুন।
এনির ফর্সা শরীর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে। সোনালী চুল, নীল চোখের গভীরতা, পুরো শরীর রক্তে লাল হয়ে আছে । এই মুহূর্তে এনিকে নিকের কাছে অপ্সরা লাগছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিকের ঠোঁট কেমন নীলচে হয়ে যাচ্ছে। সময় যত অতিবাহিত হতে থাকে তত ফ্যাকাসে হয়ে উঠছে। এনি চোখ বন্ধ করে বিরবির করতে করতে একটা সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নিক কপালে চুমু খেয়ে ঠোঁটে চুমু খায় । ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে বিরবির করে,
” এই রুপ গ্যাংস্টারের স্ত্রীর রুপ। সামান্য স্পর্শ মানে রক্তের বন্যা। পারলে রক্ত দিয়ে গোসল করিয়ে সব স্পর্শ বিলীন করতাম। কিন্তু আমার কিছু হয়ে গেলে তকে কে দেখবে? এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় তর শত্রু অনেক। কে আগলিয়ে রাখবে এই জানোয়ারদের থেকে। পুরো ভুখন্ডে আমি তর একমাত্র রক্ষাকবচ। আমার শূন্যতা অনুভব করো ব্লাড রোজ। এখনও সময় আছে। নাহলে পস্তাবে প্রচুর। তখন আর আমাকে পাবে না।
সকালের নির্মল পরিবেশকে ঘিরে দৃশ্যটি যেন ধীরে ধীরে এক নীরব কাব্যে রূপ নেয়। শিশিরস্নাত আলো আকাশের স্তর ভেদ করে নেমে এসে চারপাশে এক পবিত্র প্রশান্তির আবরণ টেনে দেয়।
আইল্যান্ড এ অবস্থিত মিনারের সম্মুখে স্থির দাঁড়িয়ে আছে এক রমণী। নিশ্চল ভঙ্গির আড়ালে চলছে অস্থিরতার ঘূর্ণি। কারোর অপেক্ষায় সে অস্থির হয়ে আছে।
তার লালচে চুলগুলো বাতাসের স্পর্শে উন্মুক্ত বিদ্রোহে দুলে ওঠছে।
সূর্যের কিরণ তার ফর্সা শরীরের ওপর পড়ে ক্ষণেক্ষণে দীপ্ত হয়ে ওঠে। আলো তার ত্বকের ভেতর ঢুকে যেন আবার উকি দিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়।
নীরবতার বুক চিরে তার নিঃশ্বাসের ছন্দ বারবার বেজে উঠছে। চারপাশে অসংখ্য বিশাল দেহী গার্ড অস্ত্র -সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবার শরীরে কালো হুডি পড়া
নাজলীর দৃষ্টি স্থির তবুও অন্তর অস্থির হয়ে আছে। সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে সে প্রশ্ন করে,
” আদ’ও কি আসবে?
এই সকালের স্বচ্ছতায় সে দাঁড়িয়ে আছে প্রতীক্ষার প্রতিমূর্তি হয়ে। সে নির্বাক কিন্তু গভীরভাবে কোলাহলপূর্ণ। দৃষ্টি ঘুরিয়ে সামনে উঁকি দেয়।
হুট করে চোখের সামনে আরিশকে দেখে নাজলী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। আরিশ কেমন ভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে। দৃষ্টি দেখেই বুঝা যাচ্ছে এই মুহূর্তে নাজলীকে এখানে মোটেও আশা করে নি। নাজলী অজান্তেই তাকিয়ে থাকে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটার দিকে। সাদা স্যুট, সাদা প্যান্ট শরীরে জড়ানো। চুলগুলো সব সময়কার মত এক পাশে সেট করে রাখা। নাজলী নিজের নজর ফিরিয়ে নেয়। আরিশ এখনও নাজলীর দিকে তাকিয়ে আছে। কপাল অস্বাভাবিকভাবে কুচকানো। নাজলী গলায় ঝুলিয়ে রাখা ওড়নাটা ঠিক করার অভিনয় করে নিজেকে প্রস্তুত করে। এমন একটা ভাব নেয় যেন আরিশ নামক কোনো পুরুষকে সে চিনে না। এই প্রথম এই লোকটাকে সে দেখেছে। একবারের জন্য ও আর তাকায় নি। নাজলী এদিক-সেদিক পাচারী করছে গেইডের সামনে দিয়ে। বার বার উঁকি দিয়ে দেখতে চাচ্ছে ভেতরের অবস্থা। আড়চোখে একবার তাকায় আরিশের দিকে। লোকটা কেমন শিকারীর মত তাকিয়ে আছে। নাজলীর মনে হলো এই মুহূর্তে এখানে দাঁড়িয়ে থাকাটা ঠিক হবে না। লোকটা এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন কাচা চিবিয়ে খাবে। কিন্তু এখানে সে আসলে এই লোকের কি? যদি কিছু হত তবে তাকে দেখার সাথে সাথে রিয়্যাকশন করত। এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমি চুর। আর এই ভবন থেকে কিছু চুরি করতে এসেছি। ক্রিমিনালের বাচা!
নাজলী দাঁতে দাঁত পিষলো। আরিশের ভয়ে চলে যাবে না বলে শপথ করলো। যে করেই হোক নিকের সাথে দেখা করবে। নিজের কার্য হাসিল করার স্বার্থে যা করতে হয় আজ সে করবে।
নাজলী এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে বুকে হাত গুঁজে দড়িয়ে আছে। দৃষ্টি নিজের পায়ের সুজের দিকে। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ভেবে চলছে। হুট করেই পুরো জায়গা কেমন শুনশান নিরবতা হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে তার পাশে কেউ নেই। অনেক বড় একটা মরুভুমিতে সে একা দাড়িয়ে আছে। ভেতরটা ভয়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে হুট করেই। কোনো এক ছায়ার অস্তিত্ব অনুভব করে নাজলী চট করে সামনে তাকায়। সামনের ব্যক্তিটাকে দেখে দুই কদম পিছিয়ে যায় সে। সামান্য ঢোক গিলে চারপাশে তাকায়। একটু আগে দাঁড়িয়ে থাকা বিশালদেহী কালো হুডিতে আবৃত গার্ডগুলো ছিলো। সামান্য এক জায়গায় মধ্যেই অসংখ্য গার্ড মোতায়েন করা। হুট করে সবাই এমন গায়েব হয়ে গেলো কিভাবে?
বাস্তবতার প্রাচীরে দাঁড়িয়ে নাজলীর মনে পড়লো বর্তমানে সে একা দাঁড়িয়ে আছে। আর তার সামনে দাড়িয়ে আছে একটা ক্রিমিনাল। যাকে নাজলী ঘৃনা করে অথচ ভুলতে পারে না।
লোকটার দেওয়া আঘাতে চিহ্ন এখনও শরীরে আছে। কিন্তু এই লোকটাকে এক নজর দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত মনে ঢেউ খেলে যায়। লোকটা প্রচুর খারাপ নাজলীর জানা ছিলো। প্রথম তো সে সহ্য করতে পারত না এই পুরুষের ছায়া। সামান্য কলমের কালিতে এত শক্তি ছিলো যে এই খারাপ পুরুষটার জন্য রমণীর মনে অনুভুতির বীজ বপন করে ফেলে। বীজ থেকে চারা গজানোর আগেই বীজ ধ্বংস হয়ে যায়। সেদিন রাতের প্রতিটা দৃশ্য আজও নাজলীকে ঘুমাতে দেয় না। আরিশ ছিলো ভাবতেই যেন দম বন্ধ হয়ে আসত তার। অসহায় লাগে নিজেকে। উন্মাদ হয়ে উঠে রমণীর মন। রাতের অন্ধকারে চিৎকার করে কাঁদে যাতে কেউ শুনতে না পায়। এমন এক পুরুষের জন্য অনুভুতি জন্মেছিলো যাকে সে কোনোদিন চাই নি।
আরিশের চোখে -মুখে রাগ স্পষ্ট। চোয়াল খানা শক্ত হয়ে আছে। চোখ দুইটা কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে নাজলীর কাছে। চোখের দৃষ্টি তীর্যক শিকারীর মত। এই বুঝি দৃষ্টি দিয়ে বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে রমণীকে।
নাজলী কানের কাছের চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে পিছিয়ে যায়। নাজলী পিছিয়ে যেতেই আরিশ এগিয়ে আসে। নাজলীর এইবার রাগ হলো আরিশের ব্যবহারে। এমন অদ্ভুত কেনো এই লোক! সে চোখ -মুখ শক্ত করে তাকিয়ে বলে,
” সামনে এইভাবে খাম্বার মত দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?
” তোমার পিছনে দাঁড়ানো উচিত ছিলো?
সামান্য একটা বাক্যে নাজলী থরথর করে কেঁপে উঠে। এতটা রাগ আর গম্ভীরতা নিয়ে বলেছে যে নাজলী নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি। সে অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনি আমার সামনে থেকে গেলে খুশি হব। প্লিজ লিভ মি।
আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের। গলায় আঙ্গুল ঘেষে ঠান্ডা গলায় বলে,
” এখানে এসেছো কার পারমিশনে?
নাজলী ভ্রুঁ কুচকায়। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” পনেরো বছর বয়স থেকে আমি নিজেই আমার গার্জিয়ান। পারমিশন নিব কার থেকে?
আরিশ ক্রোধে দাঁত পিষে নিজের। নাজলীর দিকে তাকায় তীর্যক চোখে। স্কিন টপস পড়া হাটুর নিচ পর্যন্ত। গলা একটা স্কার্প ঝুলিয়ে রেখেছে। নাজলীর ড্রেস-আপ দেখে মাথার রক্ত গরম হয়ে যায়। আচমকা বাহু চেপে ধরে রাগে ক্রোদ্ধ হয়ে উঠে,
” জামা কিনার টাকা নেই তোমার? শরীর দেখিয়ে হাটতে ভালো লাগে? কি পড়েছো এইসব? শরীরের প্রতিটা ভাঁজ বুঝা যাচ্ছে। পা দেখিয়ে হাটতে ভালো লাগে? যতটুকু আছে সেটা পড়ার আর কি দরকার ছিলো। পুরো নগ্ন হয়ে বের হয়ে যেতি। ব্যশ্যা মেয়েদের ব্যাশ্যা কাপড়ের এই মানায়। রাবিশ!
আরিশের প্রতিটা অশোভন কথায় নাজলীর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। শরীরের শক্তি যেন ক্ষয় হয়ে আসে তার। তাকে আবারও ব্যাশ্যা বললো এই লোক! কিভাবে বলতে পারে তাকে এইসব। একবারও ঠোঁট কেঁপে উঠে না? একবারও কষ্ট অনুভব করে না এইসব বলে? নাজলী কাঁদতে চেয়েও আর কাঁদলো না। কার কথায় কাঁদবে সে? যে তাকে কথার আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলে তার উক্তিতে? অসম্ভব! নাজলী এতটা ও নরম মনের নয়। নাজলী এক ঝটকায় আরিশের হাত সরিয়ে দেয়। আরিশকে কিছু বলতে না দিয়ে শক্তভাবে কলারটা চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। আরিশ নিজের টাল রাখতে না পেরে নাজলীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। নাজলী চোখে চোখ রেখে ক্ষীপ্ত হয়ে বলে,
” এতটা খারাপ কেনো আপনি? এইসব বাক্য উচ্চারন করতে মুখে আটকায় না? আমি ব্যাশ্যা? আমাকে আপনার ব্যশ্যা মনে হয়? এই কাপড় আমি ছোট থেকে পড়ি। আমাকে বাজে কথা বলার রাইট কে দিয়েছে আপনাকে? প্রয়োজনে আমি বিকিনি পড়ে হাটব। এতেও যদি আমার জ্বালা না মিটে আমি নগ্ন হয়ে হাটব। আপনি কেনো কথা শুনাবেন আমাকে? কে হন আপনি আমার? হু আর ইউ ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম?
আরিশ চোখের পলকে নাজলীকে গাড়ির সাথে চেপে ধরে। হঠাৎ এমন হওয়াতে পিঠে ব্যাথা পায় অনেক। ব্যাথার তীব্রতায় নাক – মুখ খিঁচে ফেলে। আরিশ নাজলীর হাতটা চেপে ধরে বড় বড় শ্বাস টানে,
” একশত বার বলব আমি। বিকিনি পড়ে বের হওয়ার ইচ্ছে তর? একবার বের হয়ে দুই কদম এগিয়ে দেখ, খোদার কসম পা যদি অক্ষত থাকে তবে আমি নিজের পা কেটে ফেলব। একটা পুরুষ ও যদি নজর দেয় তবে সেই শরীর এসিডে জ্বলিয়ে দিতে ও আমার বুক কাঁপবে না। যেটা আমার সেটা আমার। আর সেই জিনিসের দিকে তাকানোর সাহস একটা পিঁপড়ার ও নেই।
নাজলী থমকে যায়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
“,আমি আপনার?
আরিশ ছেড়ে দেয় নাজলীকে। সরে আসে নাজলীর উপর থেকে। নাজলী সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পুনরায় প্রশ্ন করে,
” উত্তর দিন।
আরিশের কাটকাট গলা,
” উত্তর দিতে আমি পছন্দ করি না।
নাজলীর রাগ হয়। সামান্য উত্তর দিলো কোন ক্ষমতা কমে যেত। কন্ঠ শক্ত করে বলে,
” কি পছন্দ করেন? একজন রে**পিস্টকে সাহায্য করতে? রে*প করার পর কিভাবে সূত্র মুছে দেওয়া যায় সেটা করতে? রাতের অন্ধকারে সবাই মিলে পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠতে! নাকি আমাকে ব্যশ্যা বলে অপমান করতে? এইসব পছন্দ হয় মি, আরিশ ইলহাম?
কথাগুলো একশ্বাসে বলে নাজলী থামে। আরিশের ভ্রুঁ কুঁচকে আসে,
” রে*পিস্টকে সাহায্য করতে মানে?
নাজলীর মস্তিষ্ক সজাগ হয়। চট করে তাকায় আরিশের দিকে। রাগের প্রকোপে সব বলে দিয়েছে তবে! এইটাই ওর সব থেকে বড় সমস্যা। রেগে গেলে সব ফাঁশ করে দেয়। তবে আরিশের পাল্টা প্রশ্নটা সহ্য হলো না। আরিশের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রাখে,
” মিথ্যে বলেছি? রাতের অন্ধকারে সব সূত্র লুটপাট করেন না? রে*পিস্টকে সাহায্য করেন না? আপনি নিজেও রে*পিস্ট কি -না উপর ওয়ালা ভালো জানেন। সাধু বেশে তো কত জানোয়ার আনাচে-কানাচে ঘুরঘুর করে। বদ্ধ রুমের খবর তো আর কেউ জানে না।
আরিশের চোখ -মুখ জ্বলে উঠে তীব্র রাগে। নাজলীর দুই বাহু আবারও চেপে ধরে। রাগে কিড়মিড়িয়ে বলে,
” এই জীবনে একটা মেয়েকে ছাড়া কোনোদিন অন্য মেয়েকে স্পর্শ করে দেখি নি। সামান্য টাচ লাগে নি কোনো মেয়ের শরীরে। আরিশ ইলহাম যাকে- তাকে স্পর্শ করে না।
নাজলী হেসে বলে,
” অথচ একটা ব্যশ্যাকে স্পর্শ করে ফেললেন?
আরিশের কন্ঠ শীতল হয়ে আসে,
” মানে?
” এই যে আমাকে এখনও ধরে আছেন। দ্রুত ছাড়ুন মি, আরিশ। আপনার ব্যক্তিত্বে লাগবে। হাতে পচন ধরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। ছাড়ুন, ফার্স্ট!
আরিশ ছেড়ে দিলো নাজলীকে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। গর্দভ মেয়ে একবারের জন্য বুঝলো না একজন নারী কাকে বুঝিয়েছে। আর প্রশ্নও করলো না নারীটি কে?
নাজলী হাত টানা দিয়ে বলে,
” ওই একটা মেয়ে কে বলুন তো? উফফস সরি, আপনি তো আবার উত্তর দিতে আগ্রহী নয়। ক্ষমা চাচ্ছি, ভুলে গিয়েছিলাম।
নাজলী জিজ্ঞাসা না করাতে যেন আরিশের আরও রাগ হলো। দাঁত পিষে হজম করে নিলো সব কিছু।
” এইসব পোশাক পড়ে আর যাতে বের হতে না দেখি।
” আমার ইচ্ছে। এখন থেকে আরও বেশি বেশি পড়ব।আপনি আটকানোর কে?
আরিশ গর্জে উঠে,
” নাজলী, ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না আমার। আমি রেগে গেলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।
নাজলী ভয় পেয়ে নিজেকে শক্ত করে বলে,
” আপনি একজন মাফিয়া ক্রিমিনাল লিডার আরিশ। আপনার কাজ রে*পিস্টকে সাহায্য করা, নারী-শিশু পাচার করা, দেশের সম্পদ বাহিরে পাচার করা, অস্ত্র- অবৈধ জিনিস নিয়ে ব্যবসা করা। খুন করে প্রতিনিয়ত রক্ত দিয়ে গোসল করা। কোন নারী কোন ড্রেস পড়বে এইসব দেখা আপনার কার্য নয়। নিজের কাজে মনযোগ দেন। আমার ড্রেস-আপ একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি কেনো হস্তক্ষেপ করছেন? অন্য কেউ তো করছে না। আপনিই কেনো?
আরিশ নিশ্বাস টানে বড় বড়,
” অন্যরা হস্তক্ষেপ তো পরে করবে যখন সবাই তাকানোর সাহস পাবে।আমি আর সবাই এক?
” কে আপনি?
নাজলীর গলা কেঁপে উঠে। সামান্য প্রশ্নটা করতে গিয়ে গলার আওয়াজ যেন হারিয়ে ফেলছে। প্রশ্নটার খুব সুন্দর বাস্তবতার উত্তর পাবে সেই আশায় তাকিয়ে থাকে। আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। কাটকাট গলায় বলে,
” আমি তোমার যম, বিয়াদব। আমার ইচ্ছে আমি কাকে কি বলব। আমার ইচ্ছে হয়েছে তোমাকে বলার তাই বলেছি। অন্য কোনো মেয়েকে বলার ইচ্ছে জাগে না। তাই বলি না কখনো। তোমাকে বলেছি এন্ড আজীবন বলব। অমান্য করলে জান খেয়ে ফেলব।
নিজের আশা স্বরুপ উত্তর না পেয়ে নাজলী ক্ষেপে যায়। দাঁত পিষে বিরবির করে উঠে,
” রে*পিস্ট কোথাকার!
নাজলী বিরবির করেছে ঠিক। রাগের কারনে আওয়াজ হয়ে উঠেছে অনেক। আরিশ চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠে,
” থাপ্পর মেরে কালা বানাব রাবিশ! রে*পিস্ট কে? কাকে রে*প করেছি?
নাজলী বুকে হাত গুঁজে বলে,
” টাকা দিয়ে কাজ করানো আর নিজে কাজ করার মধ্যে কি তফাৎ? কেনো, ওইদিন রাতে আপনি হাত ভাঙ্গা লোকটাকে সাহায্য করেন নি? আপনি একা ছিলেন না। আপনার সাথে গ্যাংস্টার বস, অধিরাজ ও ছিলো। আর গাড়ির ভেতর থেকে বিধ্বস্ত লাশ হয়ে বের হয়েছে এক রমণী। প্রমান লুটপাট করেছেন এসে। যাতে জনগন আর পুলিশ জানতে না পারে। অবশ্য আপনারা তো পুলিশকে টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে কিনেই ফেলেছেন। সেদিন রাতের ভয়াভহ প্রতিটা ঘটনার সাক্ষী আমি।
আরিশ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” কিভাবে দেখেছো? সেখানে ছিলে তুমি?
নাজলী হেসে বলে,
” ভাগ্যিস ছিলাম সেদিন। নাহলে কিভাবে বুঝতাম আপনাদের পাপালের লেভেল ঠিক কতটুকু পর্যন্ত।
আরিশ বিরক্ত হয়ে বলে,
” অতিরিক্ত বুঝা ঠিক নয়। যা নিয়ে জানো না এইটা নিয়ে তর্ক করবে না।
নাজলী সামনে হেটে যেতে যেতে বলে,
” আপনার সাথে অযথা কথা বলে আমার সময় নষ্ট হচ্ছে।
” নাভিদের সাথে কথা কম বলবে। এত ঘেষাঘেষি কিসের ওর সাথে? কম যাবে ওর সামনে।
নাজলীর রাগে ইচ্ছে করছিলো নিজের চুল টেনে ছিড়তে। এই লোকটা এত খারাপ কেনো? প্রতিটা কথা অসভ্য ইঙ্গিত থাকবে। কিছুক্ষণের জন্য সে দাঁড়িয়ে যায়। পিছনে ফিরে আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার ব্যক্তিগত জীবনে আপনি না ডুকলে খুশি হব। আমি মি, নিকের সাথে দেখা করতে এসেছি। দেখা করে আবার চলে যাব।
আরিশ গাড়িতে লাথি মারে চিৎকার দিয়ে উঠে,
” তর ব্যক্তিগত জীবনের মাইরে বাপ। কার বউ তুই? বল!
আরিশের শক্ত গর্জনে কেঁপে উঠে রমণী।বউ শব্দটা কানে আসতেই স্তব্দ হয়ে যায়। মানুষ মাতাল আর রেগে গেলে নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকে না। ওকে কি বউ বললো?
নাজলী চোখের পলক ফেলতে পারে নি। তার আগেই আরিশ ঝড়ের গতিতে এসে নাজলীর হাত চেপে ধরে। নাজলী হুঁশে আসে নিজের। আরিশের দিকে তাকানোর আগেই ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে। হাতটা এমনভাবে ধরেছে যেন মাংস ভেদ করে আঙ্গুল ডুকে যাবে। আরিশ টেনে নিয়ে গিয়ে গাড়ির ভেতরে ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দেয়। নাজলী ঘাবড়ে যায়। ছটফটিয়ে উঠে,
” আ.. আমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছেন? মি, আরিশ এইবার কিন্তু নিজের লিমিট ক্রস করছেন। আমি আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেছি। ছাড়ুন আমাকে।
আরিশ গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরায়। অন্যহাতে নাজলীর হাত চেপে ধরে বলে,
” লিমিট আমি সেদিন এই ক্রস করেছি যেদিন তোমাকে মুক্ত আকাশে উড়তে দিয়েছিলাম।
আবার ও বন্দীদশায় যাবে ভেবে নাজলীর যেন দুনিয়া অন্ধকার হয়ে আসছে। এই জীবনে সে আর পরিত্যক্ত ভয়ানক বাগান বাড়িতে যেতে চায় না। প্রতিটা দিন ওর কাছে মৃত্যু সমতুল্য মনে হয়েছে। আলো-বাতাস ছাড়া একটা মানুষ আদ’ও বাঁচে! নিজের বোনটার জন্য এমনিতেই সে পাগল প্রায়। বছর হয়ে যাচ্ছে দেখা হয় না। কেমন আছে, কি অবস্থায় আছে কিছু জানা নেই। তার উপর নিজের বন্দিদশা কিভাবে সইবে?
নাজলী হুট করেই আরিশের হাতে কামড়ে ধরে শক্তভাবে। আরিশ ব্যাথায় নাক -মুখ খিঁচে ফেলে। তবুও নাজলীর হাত ছাড়ে নি এক মুহূর্তের জন্য। মুখে নোনতা অনুভব করে নাজলী ছেড়ে দেয়। দাঁত বসে গিয়ে একদম রক্ত বের হয়ে গিয়েছে। নাজলী হতাশ হয়ে তাকায় আরিশের দিকে। চোখ-মুখ শক্ত করে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। এই লোকের কি ব্যাথা লাগে না? নিজের কাজে হেরে গিয়ে আহত কন্ঠে বলে,
” আবার কোন দোযখে নিয়ে যাচ্ছেন?নাকি মেরে ফেলার ধান্দা।
আরিশ গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” আমিও ভাবছি সেটাই করব। তোমাকে যাস্ট আর নেওয়া যাচ্ছে না। সহ্য করতে পারছি না তোমাকে। তোমাকে দেখলে আমার অঘটন ঘটে যায়। প্রতিনিয়ত জ্বালিয়ে মারছো আমাকে। মেরে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলে একটু শান্তি হবে।
নাজলীর গলা ভেঙ্গে আসে,
” আমাকে সহ্য করতে বলেছে কে আপনাকে? বিগত পনেরো দিন ধরে আপনার সামনে আসি না। তাহলে জ্বালিয়ে মারলাম কখন? আজও আসতাম না। নিজের কাজে এসেছিলাম আর আপনার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি এড়িয়ে গেলেই তো পারতেন।
আরিশ গাড়ির স্প্রিড বাড়িয়ে দেয়। দাঁত পিষে বলে,
” কিভাবে জ্বালাচ্ছো বুঝতে পারলে তো আমার শান্তিই হত। সামনে কেনো পড়লে আজ? আড়ালে ছিলে এতেই শান্তিতে ছিলাম। যখন এসেই গেছো তখন আর অপেক্ষা করব কেনো? সমুদ্র সামনেই আছে। মেরে ভাসিয়ে দিলে কেউ হাড্ডিও খুঁজে পাবে না।
নাজলী চট করে তাকায় আরিশের দিকে। পর মুহূর্তে সিটে হেলান দিয়ে শান্ত গলায় বলে,
” নিজের বউকে মারতে হাত কাঁপবে না। অবশ্য আপনার মত ক্রিমিনালকে স্বামী হিসেবে ভাবলেও খারাপ লাগে। মানাটা তো অনেক বিলাসিতা।
সাথে সাথে আরিশ ব্রেক কষে। নাজলী হতভম্ভ হলেও নিজেকে সামলে নেয়। হেসে বলে,
” সমুদ্র তো এখানে না। আপনি এখানে থেমছেন কেনো?
আরিশ ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” কি বললে তুমি?
” কি বলেছি?
” একটু আগের লাইনটা আবার রিপিট করো।
” কোনটা? সমুদ্র তো এখানে….
আরিশ থামিয়ে দেয়,
” এই লাইন নয়। এর আগের লাইন।
নাজলী বাঁকা হেসে সিটে হেলান দেয়।এরপর চোখ বন্ধ করে বলে,
” এক কথা বার বার রিপিট করি না আমি। বলাটা আমার ইচ্ছে ছিলো। এখন শুনাটা আপনার দায়িত্ব।এমনিতেই কোন জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছেন আল্লাহ ভালো জানে। ধ্বস্তাধস্তি করলে নিজের এই শক্তি অপচয় হবে। ছাড়া পাব না খুব ভালো করেই জানি। চুপ চাপ বসলাম আর প্রশ্ন করবেন না।
আরিশ নিজের ঘাড়ে আঙ্গুল ঘেষে নাজলীর দিকে ঝুকে। চোখে চোখ রেখে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭ (২)
” ফা*ক অফ, ডোন্ট সে ইট। এই শব্দ আর কোনোদিন উচ্চারন করবে না। আর যাতে না শুনি এমন বাক্য। এই শব্দটায় আমি উন্মাদ হয়ে উঠি। আর আমি উন্মাদ হলে সামলানোর ক্ষমতা তোমার নেই। আই লুজ মাইসেল্ফ। আই বিকাম এক্সট্রিমলি রেস্টলেস। ইউ ওন্ট মেক মি রেস্টলেস এনিমোর। ইউ’অল রিগ্রেট ইট আ লট।
