লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৬২
লিজা মনি
এক মাস পেরিয়ে যায়। এই এক মাসের ভেতরে অনেক কিছুর পরিবর্তন এসেছে। এক মাস ধরে আরিশের কোনো খোঁজ নেই। কোথায় আছে এই সূত্রও কেউ জানে না। অধিরাজ দুইবারের জন্য এসেছিলো মিনারে। নাজলী বার বার জিজ্ঞাসা করছিলো আরিশের কথা। অধিরাজ মাথা নিচু করে নিচু স্বরে শুধু বলেছিলো,
” আমার জানা নেই ম্যাম! সময় আসলে স্যার আসবে। আপনি চিন্তা করবেন না।
কিন্তু নাজলীর ছটফট মন চিন্তায় আরও অস্থির হয়ে উঠে। শত্রুরা যখন নিকের মত এমন ক্ষমতাবান গ্যাংস্টারকে এমন মৃত্যু দিয়েছে সেখানে আরিশ যে নিরাপদে আছে তার কি নিশ্চয়তা আছে? নিককে হারিয়ে লোকটা নিশ্চই উন্মাদ হয়ে আছে। ভাই সমতুল্য বন্ধুর মুত্যুর প্রতিশোধ তো অবশ্যই নিবে। এই আঘাত, প্রতিঘাত, রক্তাক্ত খেলায় যদি উনার ও কিছু হয় যায় তখন? নাজলী চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠে। এই এক মাস ধরে সে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে।।বাহিরে বের হওয়ার কোনো উপাই নেই। বাহির থেকে সব কিছু বন্ধ করে রেখে গিয়েছে। নাজলী এইসব আর নিতে পারছে না। একদিকে আরিশের চিন্তা অন্যদিকে এনির চিন্তায় সে দুই মিনিটের জন্য ভালোভাবে নিশ্বাস নিতে পারছে না। এনির অবস্থাও একদম নাজেহাল হয়ে পড়েছে। অন্ধকার রুমের ভেতরে সারাদিন বসে থাকে। একা একা কারোর সাথে কথা বলে, বিরবির করতে থাকে। আবার হুট করেই পাগলের মত কাঁদতে থাকে। সেই কান্না রুপ নেয় কখনো চিৎকার আবার কখনো গুনগুন করা আওয়াজে।
রুমের লাইট জ্বালাতে দেয় না কাউকে। কেমন গা ছমছমে ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমে মেঝেতে দেয়াল ঘেষে বসে থাকে সারাদিন। দিন দিন কেমন মানসিক রোগীর মত ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। নাজলী পারছে না নিজে চিৎকার করে কাঁদতে। নিজের আদরের ছোট বোনটার এমন কষ্ট সে কিভাবে সহ্য করবে? সে ডিভানে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। খুব করে চাইছে তার শত্রু নিক জেভরান ফিরে আসুক। এই মুহূর্তে এই হৃদয়হীন ব্যাক্তিটা প্রচুর দরকার এনির পাশে। নাজলী ডিভান থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে যেতে চাইলো। দরজা খুলার শব্দে পিছনে ফিরে কপাল কুচকে তাকায়। বিধ্বস্ত, এলোমেলো আরিশকে দেখে নাজলীর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। কতদিন পর, ঠিক এক মাস পর সে এই মুখটা দেখতে পেয়েছে। নাজলীর বুক ভেঙ্গে কান্না আসছে। প্রতি সেকেন্ড ভয় নিয়ে মুহূর্তগুলো পার করেছে সে। আরিশকে একদম সুস্থ দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে। সে এক মুহূর্তের জন্য ভুলে যায় এই মানুষটার সাথে তার তেমন সম্পর্ক নেই। এই লোকটা তাকে একটুও ভালোবাসে না। ভালো না বাসুক কিন্তু সে -তো পাগলের মত ভালোবাসে। একটু জড়িয়ে ধরে অশ্রু বিসর্জন দিলে কি খুব বেশি অন্যায় হয়ে যাবে? নাজলী ছুটে যায় আরিশের দিকে। আরিশ এতক্ষণ নাজলীর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। রমনী স্বামীর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে একপ্রকার। আরিশ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না এমন একটা পরিস্থিতির সাথে। কিছুটা অবাক হয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। নাজলী আরিশের শার্ট খামছে ধরে শক্ত করে। কান্না আটকে রাখার ফলে হেঁচকি উঠে যায় এক প্রকার।
” আ.. আপনি ঠিক আছেন? কিছু হয় নি তো আপনার? এতদিন কোথায় ছিলেন? একবার ও আমার সামনে আসার প্রয়োজন বোধ করেন নি? শত্রুরা আপনাকে কিছু করে নি তো?
নাজলী পর পর প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। যেন অনেক দিন ধরে লুকানো প্রশ্নগুলো একত্রে বিসর্জন দিচ্ছে। আরিশ পরম যত্নে নাজলীর পিঠে নিজের হাত রাখে। অন্যহাত দিয়ে মাথায় স্পর্শ করে বলে,
” কয়টা প্রশ্নের উত্তর দিব?
নাজলী নাক টেনে উত্তর দেয়,
” যতগুলো করেছি।
আরিশ নিশ্বাস টানে ঘন ঘন। নিজেকে শান্ত রেখে শীতল গলায় বলে,
” কাজে ছিলাম।
” এই এক মাসে একবার ও আমার কথা মনে পড়ে নি?
আরিশ চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। এই মেয়ে হুট করে এত ভালো হলো কিভাবে? আরিশ বুঝেও খুঁচা মেরে বলে,
” তোমার কথা মনে হবে কেনো? কে তুমি?
আবেগের মধ্যে আরিশের এমন কথায় নাজলীর হৃদয়ে যে কেউ পাথর নিক্ষেপ করে। সত্যি এইতো কেনো মনে করবে তাকে? বোকা রমণী বুঝতেই পারে নি পুরুষটা তাকে রাগানোর জন্য এমন কথা বলেছে। না বুঝে অভিমানে সরে আসে আরিশের কাছ থেকে। বিষন্ন মনে ডিভানে বসে মলিন হেসে বলে,
” সরি, একটু বেশি আবেগী হয়ে গিয়েছিলাম।
আরিশ নিজেও একদম বিধ্বস্ত। মাথায় হাত দিয়ে নাজলীর পাশা-পাশি বসে। নাজলী সেটা দেখে অন্য পাশের ডিভানে দুরত্ব নিয়ে বসে। আরিশ সেদিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে ফেলে। তবুও এইসব নিয়ে কোনো কথা বলে না। নাজলীর চোখে পানি চিকচিক করছে। নিজের কান্নাটা কোনোরকম আটকে বলে,
” নিক জেভরান কি সত্যি মারা গিয়েছে আরিশ? এনির অবস্থা খুবই সূচনীয়। কারোর সাথে কথা বলে না, পুরো রুম অন্ধকার করে রেখেছে।
আরিশ অধৈর্য হয়ে বলে,
” ওকে একা রেখেছো কেনো এইভাবে? লাইট অফ করলে জ্বালিয়ে দিয়ে আসবে। দিনের আলোতে অন্ধকার করে রাখবে কেনো?
নাজলী আরিশের দিকে তাকায়। চোখের কোণে পানি চিকচিক করে উঠে,
” এনির কাছে এখন দিন আর রাতের কোনো পার্থক্য নেই । ওর কাছে আমি ছাড়া কেউ যেতে পারে না। কারোর উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না। কেমন সাইকোদের মত আচরন করছে। কখনো একা একা বিড়বিড় করে হাসে। আবার কখনো দেয়ালে নখ দিয়ে আঁচড় কেটে নিকের নাম লিখতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে। তার মস্তিষ্ক এখন এক রণক্ষেত্র হয়ে আছে। যেখানে মৃত নিক জেভরান প্রতি সেকেন্ডে জীবিত এনিকে পরাজিত করছে। এমন এক ‘পোস্ট-ট্রমাটিক’ নরকের বাসিন্দা করে রেখে গিয়েছে। যেখানে আত্মাটা নিক আগেই কেড়ে নিয়েছে। মিনতি করছি আরিশ আমার বোনটাকে বাঁচান। এইভাবে অনাহারে, ট্রমার মধ্যে থাকলেও সেও মরে যাবে। বোন হয়ে কিভাবে সহ্য করব এই বিধ্বস্ত পরিস্থিতি!
আরিশ অবাক হয়ে তাকায় নাজলীর দিকে। চোখ -মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে এই কথাগুলো সে বিশ্বাস করতে পারছে না। অবিশ্বাস গলায় বলে,
” কি বলছো এইসব? এ…এনির এই অবস্থা কি নিকের অনুপস্থিতিতে হয়েছে?
নাজলী চোখের পানি মুছে বলে,
” একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলো। অথচ আমরা ভাবতাম কত ঘৃনা করে। এইভাবেও কাউকে ভালোবাসা যায়?
আরিশ চুল টেনে ধরে নিজের। অনাকাঙ্খিত ভয়ে তার গলা শুকিয়ে আসে। অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” এনি কেমন আছে এখন?
নাজলী ভাঙ্গা গলায় বলে,
” এনি একা নয় মি, আরিশ!
আরিশ কিছুটা অবাক হয়ে কপাল কুচকে বলে,
” মানে? কি বুঝাতে চাইছো?
নাজলী আরিশের চোখে চোখ রাখে। চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টেনে বলে,
” এনি প্র্যাগনেন্ট! মা হতে চলেছে ও।
আরিশ যেন নিতে পারলো না এই সংবাদটা। সাথে সাথে চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট! প্রেগন্যান্ট মানে?
নাজলী দাঁত পিষে বলে,
” প্রেগন্যান্ট মানে গর্ভবতী। এনির গর্ভে গ্যাংস্টার বসের অংশ। যেটা তিলতিল করে বড় হচ্ছে। এইবার বুঝতে পেরেছেন?
আরিশ নাজলীর উত্তরে থতমত খেয়ে যায়। কিন্তু এইদিকে চিন্তায় তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠে। এক মুহূর্তেও দাড়াতে চাইলো না এখানে। দ্রুত বাহিরে যেতে যেতে নাজলীর উদ্দেশ্যে বলে,
” বিকেলে ডাক্তার আসবে।
নাজলী পিছনে যেতে যেতে বলে,
” আপনি আবার কোথায় যাচ্ছেন?
আরিশের ফ্যাকাশে মুখ দেখে নাজলীর বুক ধুক করে উঠে। পিছন থেকে আরিশের হাত চেপে ধরে বলে,
” কোথায় যাচ্ছেন আপনি? কিসের এত তাড়া? কি লুকাচ্ছেন আমার কাছে?
আরিশ না চাইতেও পিছন ফিরে তাকায়। নাজলীর চোখ -মুখে প্রশ্ন ঝলঝল করছে। আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে নাজলীর দুই কাঁধে হাত রাখে। স্ত্রীর মলিন নির্ঘুম চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। আচমকা নাজলীর কপালে সময় ব্যয় কিরে শক্ত করে চুমু খায়। ঠোঁট আলতো চুমু খেয়ে নিচু স্বরে বলে,
” মাফিয়া সম্রাজ্যের একমাত্র বস নিক। তার অনুপস্থিতে সব আমার কাঁধে এসে পড়েছে। পুরো সম্রাজ্য আমাকে সামলাতে হচ্ছে। এত ভয় কেনো পাচ্ছো আমাকে নিও। ভালো তো একটু ও বাসো না। অবশ্য নিকের মত এইভাবে হারিয়ে গিয়ে তোমার ভালোবাসার পরিমান উপলব্দি করতে ইচ্ছে করছে। এনি ট্রমাতে চলে গিয়েছে আর তুমি আমার জন্য কি করতে? এইটা অন্তত দেখতে চাইতাম।
নাজলীর চোখ ছলছল করে উঠে,
” হারিয়ে যাওয়ার যখন এত ইচ্ছে তখন নিজের জীবনের সাথে আমার জীবন বেঁধেছেন কেনো? স্বার্থপর পুরুষ আপনি! ভালো তো আপনিও বাসেন না। আমি কেনো একা ভালোবাসব?
আরিশ কপাল কুচকে বলে,
” একা ভালোবাসা যায় না? তুমি ভুলেও একদিন বলতে পারতে যে আপনাকে অনেক ভালোবাসি। তবে আমি হাজারটা উত্তর দিয়ে দিতাম।
” আপনার ক্ষেত্রে হয় নি কেনো এইটা? আপনিও ভুলে করে বলে ফেলতেন।
আরিশ নাজলীর চিবুকে ধরে বলে,
” ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম কোনো ভুল করে না। যেটা তার প্রয়োজন ওটা সে ছিনিয়ে নেয়।
নাজলী মাথা নিচু করে ফেলে। আরিশ অবাক হয় প্রচুর। আজ কোনো ঝগড়া করলো না, আশ্চর্য! পরিস্থির কথা ভেবে আরিশ নিশ্বাস টানে। নাজলীর উদ্দেশ্যে বলে,
” চিন্তা করো না আমার জন্য। নিক আমার শরীর নাজলী। আর আমি ছিলাম সামান্য ছায়া। শরীর যখন ছাঁই হয়ে গিয়েছে সেখানে ছায়া এমনিতেও মৃত। মৃত মানুষকে আবার কে মারতে আসবে?
নাজলী চোখ তুলে তাকায়। আরিশের অশ্রু সিক্ত নয়ন তার চোখ এড়ায় নি। আরিশ নিজেও এক মুহূর্তে দাঁড়ায় নি এই জায়গায়। নাজলীর চোখে ভেসে আসছে আরিশের অশ্রুভেজা দুটি চোখে। কয়েকমাসের ব্যবধানে বোন আর বন্ধুকে হারিয়ে লোকটা একদম ভেঙ্গে পড়েছে। শুধু পারছে না চিৎকার করে কাঁদতে।
আরিশ বেশি দুর যেতে পারে নি। গেইডের সামনে যেতেই নাভিদ আকড়ে ধরে তার পথ। আরিশের ভ্রুঁ কুচকে আসে। নাভিদ বার বার ভেতরের দিকে তাকাচ্ছে। আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার এনি ভেতরে আছে?
আরিশ ফুরফুরে মেজাজের নাভিদকে দেখলো। ঠোঁট কামড়ে বিদ্রুপ হেসে বলে,
” শত্রু মরে যাওয়াতে খুব খুশি হয়েছিস?
নাভিদ আরিশের চোখে চোখ রেখে বলে,
” নিক যদি আমাকে কেটে ফেলত তবুও আমি অভিযোগ করতাম না। কিন্তু ও আমার আত্নাটাকে নির্ধয়ভাবে ছিনিয়ে এনেছে। ঘৃনা করি আমি ওই পিশাচটাকে। তার মৃত্যুতে খুশি হওয়া কি অপরাধ!
আরিশ দাঁতে দাঁত পিষে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করে। নাভিদ বাঁকা হেসে বলে,
” এইবার সময় হয়ে গিয়েছে। আমার ফুলকে আমার ঘরে তুলার। এই সময়টার অপেক্ষা আমি প্রতি সেকেন্ড ধরে করেছি। আমার ভালোবাসা বুঝার ক্ষমতা তদের হয় নি আরিশ।
নাভিদ কথা শেষ করতেই আরিশ নাভিদের বাম কাঁধে হাত রাখে। গ্রিবেদেশ নাড়িয়ে বলে,
‘ এনি তর কাছে যাবে না নাভিদ।
নাভিদ ভ্রু কুঁচকে বলে,
” মানে কি বুঝাতে চাইছিস? আটকানোর ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখা। তর চোখের সামনে দিয়েই এনিকে নিয়ে যায়। এনি নিশ্চই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। কারন নিকের মৃত্যুতে ওর মুক্তি মিলবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে সে।
আরিশ শব্দ করে হেসে নাভিদের মাথায় হালকা চাপর মেরে বলে,
” আমিও ভেবেছি এনির মত খুশি হয়ত কেউ হয় নি। অথচ বাস্তবতা ঠিক অন্যটা করেছে। তুই যদি এনিকে এই মিনার থেকে নিয়ে যেতে পারিস তবে সত্যি বলছি একটুও আটকাব না। আর এনি যদি তর সাথে যায় তবে আমি আরিশ তর সামনে নাক খৎ দিব।
নাভিদের চোখ -মুখে তাচ্ছিল্যতা ফুটে উঠে। আরিশের চ্যালেঞ্জকে এক্সেপ্ট করে নেয়। কারন সে ভালোভাবেই জানে এনি তার কাছে দৌঁড়ে চলে আসবে। কে থাকতে চাইবে এমন অশুভ জগৎে। সবাই চাইবে মন খুলে নিশ্বাস নিতে। একটু বেঁচে থাকতে। যে ইচ্ছেটা এনির থেকে কেড়ে নিয়েছেন গ্যাংস্টার বস। তার মৃত্যুতে এনি নিশ্চই অনেক খুঁশি।
নাভিদ আরিশের পাশা পাশি হেটে যায় করিডরের দিকে। চারপাশে প্রচুর সিকিউরিটি। অনুমতি ছাড়া আখি ডুকাও অসম্ভব। আরিশ আর নাভিদ দরজা খুলে ভেততে করতেই পরিবেশের স্থবিরতা এক মুহূর্তে টাল খেয়ে যায়।
নাভিদের চোখে মুখে ফটে উঠে এক অদ্ভুত বিজয়ী উল্লাসের হাসি। যেন বহু প্রতীক্ষার পর সে অবশেষে নিজের লক্ষ্যবিন্দুর খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। এনিকে দেখার জন্য তার ভেতরের অস্থিরতা আর সংযম মানছে না। মনের ভেতর ক্রমাগত ছটফটানি ও বুকের গভীরে অদৃশ্য উত্তাপ বেড়েই চলছে।
ঠিক তখনই দরজার শব্দে চমকে উঠে নাজলী।
চোখ তুলে তাকিয়েই সে বিস্ময়ে স্থির হয়ে যায়। আরিশকে ফিরে আসতে দেখে অনেক অবাক হয়।
কিন্তু সেই বিস্ময় এক মুহূর্তেই দ্বিগুণ হয়ে ওঠে, যখন সে আরিশের পাশে নাভিদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। নাজলীর চোখ -মুখের অবাকতা দেখে বুঝা এই যাচ্ছে অপ্রত্যাশিত কোনো সমীকরণ হঠাৎ বাস্তব হয়ে গেছে। এই দুজন একসঙ্গে এখানে?এই সময়ে? এই পরিস্থিতিতে?
নাজলী এগিয়ে যায় নাভিদের দিকে। অবাক হয়ে বলে,
” নাভিদ, তুমি এখানে?
নাভিদ হেসে বলে,
” আমার পূর্ণতার স্বাক্ষী হবে তো নাজলী?
নাজলী অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” কিসের পূর্ণতা নাভিদ!
নাভিদ খুশিতে কথা বলতে পারছে না।।তার কন্ঠ আটকে আসছে। তার গলা ভেঙ্গে আসে,
” আমার পাখিটা কোথায় আছে নাজলী। ওকে ডেকে দিবে, প্লিজ!
নাজলী ইচ্ছে করেই এনিকে নিয়ে আসতে উদ্যত হয়। এখানে নতুন করে প্রশ্ন করার আর মানে নেই। কারন সে খুব ভালো করেই জানে নাভিদের উপস্থিতির কারন। পরিস্থিতির ভেতর কোনো অপ্রস্তুততা ঢুকতে না দেওয়ার এক গোপন প্রয়াসে সে উপরে যেতে অগ্রসর হয়। কিন্তু সে আর বেশি দুর যেতে পারে নি।
সিঁড়ির কাছে হঠাৎ করেই এনি এসে উপস্থিত হয়।
চোখে উৎকণ্ঠা একপ্রাকার। মুখে চাপা আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে সে অধৈর্য হয়ে ছুটে আসে আরিশের দিকে।
এনির এমন হঠাৎ সংযমহীন ছুটে আসা দেখে আরিশ মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। নাভিদ এগিয়ে যায় ধরার জন্য কিন্তু এনি ছিটকে দুরে সরিয়ে দেয়।
এনি দৌড়ে এসে সে থামে আরিশের খুব কাছে।
তার শ্বাস-প্রশ্বাস এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। বুক ওঠানামা করছে দ্রুত।
আরিশ আর নাভিদের চোখ কেমন স্তব্দ হয়ে যায়। এই এনিকে তারা চিনতে পারছে না।
মানসিক বিপর্যস্ততা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তখন শরীরের ওপর তার ছাপ পড়ে খুব নিষ্ঠুরভাবে। একজন মানুষের ভেতরের অস্থিরতা আর হাহাকার যখন ভাষায় প্রকাশ পায় না তখন তার শরীর সেই যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।সেদিনের সেই প্রাণোচ্ছল আর সৌন্দর্যের প্রতীক এনি এখন যেন নিজেরই এক ছায়া। যে মুখটা দেখলে একসময় স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ত সেখানে এখন কেবল অযত্ন আর হাহাকারের ছাপ।
নাভিদ দুই কদম পিছিয়ে যায়। তার শরীর কাঁপছে অসম্ভবভাবে। নিজেকে সামলাতে না পেরে ডিভানে বসে যায়। এনির এই হাহাকার মিশ্রিত বিধ্বস্ত শরীর দেখে তার হৃদয় পুড়ে যাচ্ছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এনির দিকে। রাতের পর রাত ঘুমহীন চোখে তাকিয়ে থাকার কারণে এনির চোখের নিচে গভীর কালো দাগ বসে গিয়েছে। তার সেই উজ্জ্বল চোখ দুটো এখন কোটরাগত এবং নিষ্প্রাণ।গালে কান্নার দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে। চুলের যত্ন নিতে সে হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিত সেই চুলগুলো এখন রুক্ষ আর জট পাকানো। কোনো পরিপাটি ভাব নেই। অযত্নে সেগুলো মুখ আর কপালে পাগলের মতো ছড়িয়ে আছে। ডিহাইড্রেশন আর মানসিক উত্তেজনায় তার ঠোঁটগুলো শুকিয়ে ফেটে গিয়েছে। প্রাণহীন সেই ঠোঁটে এখন আর হাসির লেশমাত্র নেই।
এনির এই বিধ্বস্ত রূপটি চোখে পড়তেই আরিশ মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। তার দৃষ্টি এনির ওপর স্থির হয়ে থাকে কিন্তু মন যেন মানতে চায় নাএনি এমন হতে পারে। যে মেয়েটিকে সে এতদিন সংযত, স্থির ও আত্মনিয়ন্ত্রিত হিসেবে চিনে এসেছে, এই ভাঙাচোরা, অস্থির অবয়ব তার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।
এনি আরিশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠে,
” প্রতিটা রাত, প্রতিটা দিন, সেকেন্ড, ঘন্টা, মিনিট আপনার অপেক্ষায় ছিলাম ভাইয়া। কখন আপনি উনাকে নিয়ে আসবেন আর আমার উত্তপ্ত মনকে শান্ত করবেন? উনি কোথায় ভাইয়া? আর কত কষ্ট দিবে আমাকে? বলুন দ্রুত আমার সামনে আসতে।
এনির কন্ঠস্বর একদম ভেঙ্গে গিয়েছে। আরিশ কি বলবে বুঝতে পারছে না। মাথায় হাত দিয়ে বিরবির করে উঠে,
” অহহ গড, নিক একবার দেখ, যাস্ট একবার নিজের স্ত্রীর বিধ্বস্ত রুপটা দেখ! এই মেয়েকে তুই এমন মৃত্যুর দরজায় ফেলে রেখে গেলি কেনো? এইটাকেই হয়ত বলে সত্যিকারের প্রেম। কিভাবে সামলাব এতকিছু!
আরিশ এনির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” শান্ত হও এনি। নিক না আসুক বাচ্চাটা তো আছে। নিকের অংশটাকে আকড়ে ধরো। তার অস্তিত্ব অনুভব করো। ভালোবাসা সব সময় অমর থাকে।
এনির পছন্দ হলো না এই উত্তর। সে তো আরিশের অপেক্ষাতে ছিলো। যে আরিশ, নিককে নিয়ে আসবে। কিন্ত সেও নিককে আনলো না! কিন্ত কেনো আনেনি? তার নিক তো বেঁচে আছে। তাহলে কেনো তার সাথে দেখা করাচ্ছে না!
এনি ছন্নছাড়া হয়ে এদিক -সেদিক তাকায়। এনির মস্তিষ্ক কেমন যেন ঘুলাটে হয়ে আসছে। সে আরিশের পায়ের কাছে বসে কেঁদে উঠে,
” উনাকে বলুন, না আমার কাছে আসতে। শুধু একবার দেখব। এমন লুকোচুরি খেলা কেনো খেলছে আমার সাথে!
আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায়। এনিকে পায়ের কাছ থেকে দ্রুত তুলে বলে,
” আমাকে অপরাধী কেনো বানাচ্ছো? বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজেকে সামলে নাও।
এনি মুখ হাত দিয়ে ছটফট করে উঠে,
” মিথ্যে নাটক করছেন আমার সাথে আপনারা। উনাকে আমি প্রতিনিয়ত দেখতে পায়। উনি আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে।।সেই উন্মাদ আর হিংস্র চোখ দিয়ে আমাকে পর্যবেক্ষণ করে। তার এলোমেলো চুল আমাকে মাতাল করে তুলে। কিন্তু যখন আমি ছুঁতে যায় তখন আমার থেকে পালিয়ে যায় কোথাও। উনি হার্টল্যাস! আমাকে কাঁদতে বারন করেছে।।অথচ আজ এমনভাবে কাঁদাচ্ছে যে চোখের নিচে ঘাঁ সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে।
নাজলী এগিয়ে এসে এনিকে আকড়ে ধরে। এনি নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” ও আপা বলো না উনাকে নিয়ে আসতে। প্রতি রাতেই তো আমার কাছে আসে। কিন্তু ছুঁতে গেলো কেনো এইভাবে পালিয়ে যায়?
নাজলী এনির চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে,
” এইসব তর ভ্রম। নিক জেভরান আসে নি তর কাছে। উনি আর আমাদের মধ্যে নেই।
এনি মাথায় চেপে ধরে মেঝেতেই বসে পড়ে।
এনির অবস্থা দেখে আরিশ স্তব্দ হয়ে যায়। কথা গলায় আটকে আসছে তার। অস্থির হয়ে বলে,
” ঠ.. ঠিক আছো তুমি? ক.. কি হয়েছে?
এনি কোনো জবাব দিলো না।।ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে আরিশের থাকে। চোখে আশার আলো ফুটিয়ে প্রশ্ন করে,
” উনি আসবে ভাইয়া। সন্তান হওয়া পর্যন্ত আমি ওই অন্ধকার রুমে তার জন্য অপেক্ষা করব। এরপর… এরপর আমি নিজেও শেষ হয়ে যাব। তখন উনি যদি চিৎকার করে কাঁদে তবুও আমাকে খুঁজে পাবে না।
আরিশ কথা বলার মত কোনো শব্দ খুজে পাচ্ছে না । এ কোন এনিকে দেখতে পাচ্ছে সে। এই এক মাসে
এতটা বিধ্বস্ত মানুষ কিভাবে হয়ে যেতে পারে?
আরিশ বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” এতটা ভেঙ্গে পড়ো না। নিজেকে শক্ত করে রাখো।
এনি শক্ত গলায় বলে,
” ভালোবাসাকে হারিয়ে আমি যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছি। আর আপনি আমাকে শক্ত হতে বলছেন?
আরিশ নিস্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এনির মুখে স্বামী উচ্চারন শুনে নাভিদের কলিজা কেঁপে উঠে। সে পিছন থেকে এনির হাত স্পর্শ করতে যায়। কিন্তু তার আগেই এনি দুই কদম এগিয়ে যায়। হাতটা ঝটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” একদম ছুঁবেন না আমায়। আপনার সাহস হলো কিভাবে আমাকে ছুঁয়ার? আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলে হাত কেঁটে কুত্তাকে খাওয়াব।
নাভিদের রুহটা হয়ত কেউ টেনে ধরেছে। এনির এই ধারালো কন্ঠস্বর তাকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলছে। নাজলী -আরিশ নিজেও অবাক এনির এমন ব্যবহারে। এদের ধারনা অনুযায়ী নাভিদের প্রতিটা এনি যথেষ্ট অমায়িক। নাভিদ ভাঙ্গা গলায় বলে,
‘ ক.. কি হয়েছে তোমার? চিনতে পারো নি আমাকে? আমি নাভিদ!
এনির মস্তিষ্ক এতক্ষণে সজাগ হয়ে উঠে। কান্নামিশ্রিত চোখে তাকায় নাভিদের দিকে।
” নাভিদ ভাই?
নাভিদ হাসি দিয়ে বলে,
” হুম, আমি। তোমাকে নিতে এসেছি এই নরক থেকে।
এনির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে উঠে,
” কোথায় যাব?
” ইরান।
এনির চোখ- মুখ আক্রোশে লাল হয়ে উঠে। দাঁত পিষে বলে,
” আপনি আমাকে এখান থেকে নিতে এসেছেন?
” হ্যা, যাবে না আমার সাথে?
এনি এক পলক তাকায় নাভিদের দিকে। টেবিলের উপরে রাখা ছুঁড়িটা হাতে তুলে নেয় আচমকা। চোখের পলক ফেলার আগেই নাভিদের গলায় চেপে ধরে সেই ছুঁড়ি। হতভম্ভ হয়ে যায় রুমের প্রতিটা মানুষ। নাভিদ নিজেও ভাষা হারিয়ে ফেলে। এনি ছুঁড়ি চেপে ধরে চিৎকার করে উঠে,
” আজ থেকে আপনিও আমার জীবনের সব থেকে বড় শত্রু। সবার পায়ে ধরে মিনতি করছি যাতে উনাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেয়। আর আপনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে এসেছেন? আপনি জানেন এই সামান্য রুম থেকে বের হলে একদম উন্মাদ হয়ে উঠত। যদি জানতে পারে আমি আপনার সাথে গিয়েছি কতটা কষ্ট পাবে ভাবতে পারছেন? পর -পুরুষ আমার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ে যাওয়া তো দুরের কথা আমার হাতটা ধরার সামান্য রাইট নেই আপনার। কারন উনি পছন্দ করতেন না আমকে কেউ স্পর্শ করলে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই অন্ধকার রুমে বসে উনার জন্য অপেক্ষা করব। যদি এর মধ্যে মরে যায় তবে আখিরাতে দেখা করব, প্রশ্ন করব,
” আমাকে কেনো এইভাবে একা রেখে চলে আসলো।
চলে যান এই বাড়ি থেকে। দ্বিতীয়বার যাতে আপনাকে এখানে না দেখি। চলে যান নাভিদ ভাই।
এনি কথাগুলো বলতে বলতে আবার ও কেঁদে উঠে। নাজলী গিয়ে এনিকে আগলে নেয়। এনি এক মুহূর্ত ও দেরী করলো না এখানে। ছুঁটে চলে যায় সেই অন্ধকার আলো-বাতাসহীন রুমের দিকে। নাভিদ পাথরের মুর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে।
নাভিদ বুক চেপে ধরে মেঝেতে হাটু ভেঙ্গে বসে পড়ে। যন্ত্রনায় মনে হচ্ছে তাকে পিষে দিচ্ছে। এনির প্রতি তার দীর্ঘদিনের পাগলাটে আর ভালোবাসা আজ বাস্তবতার নির্মম দেয়ালে এসে আছড়ে পড়েছে। নিকের মৃত্যু-পরবর্তী সেই শূন্যতাকে কেন্দ্র করে সে এসেছিলো এনিকে নিজের জীবনের দিকে টেনে নিতে । তার মনের ভেতরে ছিলো এক অন্ধ বিশ্বাস। এনি নিককে ভালোবাসে না। তীব্র ঘৃনা করে ওই জানোয়ারটাকে। তার পাখিটা তার জীবনে আবার ফিরে আসবে।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
নাভিদের চোখে এখনও ভাসছে সেই মুহূর্তগুলো।। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এনি কিভাবে তার অস্তিত্বকে উপেক্ষা করেই ভাঙা গলায় কেবল নিকের নাম উচ্চারণ করে চিৎকার করে কেঁদেছে। । তার প্রতিটি কান্নার ধ্বনি নাভিদের ভেতরে অদৃশ্য শেল-বিস্ফোরণের মতো আঘাত হানছে। সেই শব্দে তার সমস্ত প্রত্যাশা, সম্ভাবনা ও স্বপ্ন একে একে চূর্ণ হয়ে গিয়েছে নিমিষেই।
নাভিদ এগোতে গিয়েও থেমে যায়। তার পদযুগল যেন মাটির সঙ্গে শিকলবদ্ধ হয়ে গেছে। নাভিদ চুল টেনে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠে,
” ভেবেছিলাম সে সমুদ্র পাড়ি দিতে পারবে না।।হয়ত আমার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু কোনোদিন কল্পনাও করি নি সে আমাকে রেখে অন্যের হাত ধরে এই বিশাল সমুদ্র অনেক আগেই পাড়ি দিয়ে ফেলেছে। যদি এতটাই বদলে যাবে তবে আমাকে এতটা পাগল কেনো করলে? আমার ভালোবাসা কি কোনোদিন তোমার চোখে পড়ে নি?
নাভিদ চোখ বন্ধ করে মেঝেতে দুই হাত রেখে সিঁড়ির দিকে তাকায়,
” আমি তোমাকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম যাতে তুমি উড়তে পারো। কিন্তু জানতাম না তুমি আমার আকাশটাই বদলে দিয়ে অন্য কারো দিগন্তে গিয়ে ঘর বেঁধে ফেলবে। এতটা নিষ্ঠুর তুমি কিভাবে হয়ে গেলে? তোমাকে পাওয়ার জন্য আদর্শ মানুষ হয়েছি, ধর্ম ত্যাগ করেছি। তোমাকে পাওয়ার জন্য সেই মক্কায় গিয়েছি যেখানে মানুষ খোদার দরবারে গিয়ে ক্ষমার ভিক্ষে চাই। আর আমি গিয়ে পুরো রাত জেগে তোমাকে চেয়েছি। খোদার দরবারে বলেছিলাম তোমাকে আমার করে দেয়। অথচ খোদা আমার ডাক শুনলো না। আমাকেও পাগল করে ছাড়লে পাখি!
আরিশ নাভিদের কাঁধে হাত রাখে। নাভিদ আরিশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। ভুলে যায় নাজলীর উপস্থিতি। আরিশের হাত ধরে বলে,
” ভালোবাসার এই নিষ্ঠুর খেলায় আমি হেরে গিয়েছি আরিশ। অথচ দেখ নিক মরে গিয়েও জিতে গেলো। নিকের মৃত্যুতে কেউ কেঁদে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আর আমি মরলে এক ফুটা চোখের পানি ফেলার ও কেউ নেই। আমি যুদ্ধ করে এনিকে নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু যুদ্ধ আমি কার সাথে করব? যুদ্ধ ক্ষেত্রে এসে দেখি আমার নিজের লোকের হাতেই তলোয়ার! আমি হেরে গিয়েছি।নরখাদ যত এই ভালো হোক তারা কারোর ভালোবাসা পায় না। তাদের মৃত্যুতে কেউ কাঁদে না।
আরিশ শান্ত গলায় বলে,
” তকে আমি আগেও বলেছি নাভিদ। এনিকে এখন আর কিছুতেই পাবি না। আগে নিক তকে ত্রিসীমানায় আসত দিত না। আর এখন এনি নিজেই তার সীমানায় কোনো পুরুষকে আসতে দেয় না। বাস্তবতা মেনে নে।
আরিশ কথাটা বলে শেষ করতে পারে নি। পাশ থেকে নাজলীর আশ্চর্য জনক কন্ঠস্বর,
” রে*পিস্ট! নরখাদক! নাভিদ তুমি কি বলছো এইসব?
নাভিদ নাজলীর দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে সামনে এগিয়ে যায়। দরজার কাছে এসে নাজলীর উদ্দেশ্যে বলে,
” আমার পাখিটাকে দেখে রেখো। সময় হলে আমি আবার ও আসব তার কাছে। এতদিন আমানত রেখে গেলাম!
নাভিদ চলে যায়। নাজলী আরিশের দিকে এগিয়ে যায়,
” নাভিদ কি বলে গেলো এইসব? নরখাদক! রে*পিস্ট এইসব কেনো বললো?
আরিশ নাজলীর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,
” সব বাস্তবতা একসাথে জানতে নেই। নাভিদ এমনিই এইসব বলেছে। আর এই কথাগুলোর কেনো ব্যাখ্যা নেই। তুমি এনিকে সামলাও।
গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের আকস্মিক মৃত্যুতে সমগ্র সাম্রাজ্যজুড়ে এক অচিন্তনীয় শূন্যতা ও অস্থিরতার ছায়া নেমে এসেছে। যে সাম্রাজ্য একসময় তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত হিসাব-নিকাশ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থিতিশীল ছিল। আজ সেই সাম্রাজ্যই দিশেহারা ও অনিশ্চয়তার গভীরে নিমজ্জিত। তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই কোথাও কোথাও উল্লাসের আভাস দেখা গেলেও অধিকাংশ অঞ্চলে নেমে আসে গভীর শোক, আতঙ্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা। সম্রাজ্যের প্রতিটি স্তরে বিরাজ করছে হাহাকার। নেতারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনুগতরা বিভ্রান্তিতে ঢলে পড়েছে। কিছু লোক ভীত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আছে । নিকের অনুপস্থিতিতে এখন আর কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট নেই।।কারণ তার হাতেই ছিল প্রতিটি হিসাব-নিকাশ। প্রতিটি সিদ্ধান্তের সূক্ষ্ম দিকনির্দেশনা। সেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরো ব্যবস্থা যেন এক বিশাল দেহ যার হৃদয় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।
অনেকে এই সুযোগকে নতুন ক্ষমতার সম্ভাবনা হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই বুঝতে পারছে না এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে আসলে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ অবশিষ্ট আছে কি না। সাম্রাজ্যের ভেতরে গোপন ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার লোভ এবং অনিশ্চয়তার চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। আরিশ কিছু মুহূর্ত সব সামলে রাখলেও ধীরে ধীরে সব নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাচ্ছে। সব থেকে বেশি ষড় যন্ত্র করছে কায়াত। যে গ্যাংস্টার বসের আসন পাবার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে। তার কানে এসেছে আজ তার সঙ্গীদের নিয়ে গোপন পার্টি করবে। এখন এই পার্টিটা কিসের জন্য করা হচ্ছে তার জানা নেই। আরিশের সন্দেহ দিন দিন বেড়েই চলছে। নিকের মৃত্যুতে কায়াত দায়ী নাকি অন্য কেউ? কে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলো? আরিশের অবস্থা পুরো পাগলের মত হয়ে উঠেছে।
একটি গোপন কক্ষে বাহ্যিক জগতের আলো পৌঁছায় না। সেখানে কেবল মৃদু আলো আর ধোঁয়াটে পরিবেশে এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত উন্মাদনা চলছিল। সঙ্গীতের তীব্র ছন্দে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশে। বেহাপনার সব সীমা অতিক্রম করে অশালীন কাজ চলছিলো। ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছিলো কিছু অর্ধ নগ্ন নারী। শরীর দেখিয়ে নিজেদের ভঙ্গিমায় এক অদ্ভুত প্রদর্শনীর সৃষ্টি করেছে যা উপস্থিত সব কুকুরদের মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে আকর্ষণ করে রেখেছে।
কক্ষের এক কোণে কায়াত তার সহযোগীদের সঙ্গে বসে আছে। তাদের দৃষ্টিতে এক ধরনের নির্মম আত্মতৃপ্তি ও ক্ষমতার অহংকার স্পষ্ট। তারা নিঃশব্দে পুরো দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করছে। এখানে কোনো সংযম নেই কেবল ক্ষমতাবানদের নির্লজ্জ বিনোদনের এক বিকৃত বাস্তবতা। টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কুমারী মেয়েদের শরীরের কাচা মাংসের টুকরো, রক্তের স্যুপ আর ও ভিবিন্ন জিনিস। যেগুলো এখন তারা তৃপ্তির সাথে খাবে।
কায়াত ওয়াইন গিলে এক নারীর কোমর ছুঁয়ে বলে,
” এই নারী আর টাকা। যা জীবনে থাকলে আর কিছুর প্রয়োজন নেই।
মেয়েটা অশালীন ভঙ্গিমায় কায়াতকে প্রলোব্দ করে। কায়াত কিছুক্ষণ লালসা মিটিয়ে মেয়েটাকে ছেড়ে দেয়। সিগারেট ঠোঁটের ভাঁজে রেখে বলে,
” আমি গ্যাংস্টার বস হব। পুরো সম্রাজ্য আমি পরিচালনা করব। ভাবতেই খুশিতে আত্নহারা হয়ে যাচ্ছি।
একজন সঙ্গী বলে,
” আরিশ বেঁচে থাকতে এইটা কোনোভাবেই সম্ভব নয় কায়াত!
কায়াত বিকৃত হেসে বলে,
” তবে নিকের মত এই মাদা*** কেও সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক! নিকের সেই রক্ষীতা মাগীকে তুলে নিয়ে আয় দুই দিনের ভেতরে। কতদিনের অপেক্ষায় ছিলাম এই মুহূর্তটার। যাকে দুই হাত দিয়ে এতদিন আগলে রেখেছে।তাকে এখন ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাব।
অন্ধকার এক রুম। বিধ্বস্ত হয়ে এনি দেয়াল ঘেষে বসে আছে। এলোমেলো চুল, বিষন্ন আর ক্লান্তি চাহনি। নাজলী কিছুক্ষণ এনির দিকে তাকাতে পারে না; সেই ভাঙা রূপ তার ভেতরেও অস্বস্তির ঢেউ তোলে। শেষ পর্যন্ত সে ধীরে ধীরে ফোনের আলো জ্বালিয়ে ছোট্ট কক্ষটিকে আলোকিত করে। হাতে থাকা খাবারটা নিয়ে এসে নীরবে এনির সামনে বসে।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে আস্তে করে এনির মাথায় হাত রাখে। শান্ত স্বরে বলে,
“এভাবে নিজেকে ভেঙে ফেলিস না। যা চলে গেছে তাকে ধরে রাখার শক্তি আমাদের কারও নেই। কিন্তু তুই তো আছিস… তর সন্তান আছে।
এনি হাটুর ভেতরে মুখ ডুকিয়ে বসে আছে। কোনো উত্তর আসে নি তার পাশ থেকে। নাজলী নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” খাবার খাবি না?
এনি মাথা তুলে তাকায় নাজলীর দিকে। অতিরিক্ত কাঁদার জন্য গলা একদম ভেঙ্গে গিয়েছে। ভাঙ্গা গলায় বলে,
” উনিও একবার আমাকে খাইয়ে দিয়েছিলো। প্রচুর খুঁতখুঁতে স্বভাবের। হাত দিয়ে কখনো কিছু খায় না। অথচ আমাকে সেই হাত দিয়েই খাইয়ে দিয়েছিলো। ভিলেনদের ভালোবাসা অন্যরকম তাই না আপা?
নাজলী বহু কষ্টে নিজের কান্না আটকে রাখে। তার চোখের কোণে জমে ওঠা জল সে গোপন করে ফেলে। কারণ এই মুহূর্তে ভেঙে পড়ার সময় তারও নেই। এনির মাথায় হাত রেখে বলে,
” কোনোদিন কল্পনাও করিনি। যাকে এতটা ঘৃনা করতি তার জন্য আজ এতটা উন্মাদ হয়ে পড়বি। কিভাবে এতটা ভালোবেসে ফেললি?
এনি মুচকি হেসে বিষন্ন গলায় বলে,
” উনি রহস্যময় আমার জন্য। যে একপ্রকার নরপিশাচ কিন্তু দিনশেষে আমাতেই উন্মাদ। কি লাভ বলোতো? সেই আমাকে উন্মাদ বানিয়ে নিজে হারিয়ে গেলো। উনি এখনও আসছে না কেনো আপা? আমার চিৎকারের আওয়াজ কি উনার হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করছে না? এতটা পাষাণ কেনো এই পুরুষটা! প্রতি ক্ষণে আমার সামনে আসে। আমার পাশে এসে বসে থাকে, আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। কিন্ত আমি ছুঁতে গেলেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এই লোকোচুরি খেলায় আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আর নিশ্বাস নিতে পারছি না। আমি মরে যাচ্ছি আপা।
নাজলী এনির ঠোঁট চেপে ধরে বলে,
” বাচ্চাটার কথা ভাব।
এনি এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে যায়। নিজের পেটে হাত দিয়ে কান্না করে উঠে,
” আত্নহত্যা মহাপাপ না হলে বহু আগেই আত্নহত্যা করে ফেলতাম। এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে কোথাও মরে থাকি। অন্তত এই যন্ত্রনা থেকে আমার মুক্তি মিলবে। কিন্তু এতেও বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। আমার বাঁচ্চাটা কি তার বাবাকে দেখতে পারবে না? উনাকে কেউ বলো যে উনি বাবা হতে যাচ্ছেন। দেখে নিও এক মুহূর্ত অপেক্ষা করবে না। দৌঁড়ে চলে আসবে আমার কাছে। প্রতিবার আমার কাছে বাচ্চার আবদার করেছে। অথচ আমি কঠিন আর তিক্ত কথা বলে উনার হৃদয়টাকে ক্ষত -বিক্ষত করে দিয়েছি। আজ তো উনার অস্তিত্ব আমার গর্ভে এসে গিয়েছে। কোথায় উনি? উনার কানে কেনো এই সংবাদ কেউ দিচ্ছে না।
এনি কথা গুলো বলতে বলতে অস্থির হয়ে উঠে। ছন্নছাড়া হয়ে এদিক-সেদিক তাকায়। উঠার জন্য চেষ্টা করে তার আগেই নাজলী এনির গালে হাত দিয়ে শান্ত করে বলে,
” সে যদি রহস্যময়ী ভিলেন হয়ে থাকে তবে তুই তার থেকেও বড় রহস্যময়ী সম্রাজ্ঞী। আফসোস হচ্ছে গ্যাংস্টার বস কেনো তর এই উন্মাদনা এক নজর দেখার ভাগ্য পেলো না।
এনি নিজের চুল টেনে ধরর দেয়ালের সাথে আবার ঘেষে বসে। ছাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” জন্ম-জন্মন্তর বলে যদি কিছু থাকত তবে আমি সবার ও গ্যাংস্টার বসের স্ত্রী হতাম। এরপর উনার থেকে হারিয়ে গিয়ে ঠিক সেই কষ্ট অনুভব করাতাম যা এখন আমি তিলে তিলে পাচ্ছি। আমাকে মৃত্যুর পথযাত্রী করে দিয়ে কোথায় হারিয়ে গেলো! উনাকে এনে দাও আপা নয়ত আমি বাঁচতে পারব না। কষ্টে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
নাজলী খাবারের ট্রলিটা নিয়ে সুন্দর করে রাখে। এনির ট্রিটমেন্ট চলছে তার আড়ালে। খাবার খাওয়াটা এই মুহূর্তে তার জন্য বেশি প্রয়োজন। নাজলী এনির সামনে বসে খাবারের লোকমা তুলে ধরে। এনি মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। নাজলী অসহায় গলায় বলে,
” সন্তানের কথা অন্তত ভাব। তুই যদি ঠিক মত না খাস তবে বাচ্চার কি হবে এনি? নিক জেভরানের অস্তিত্ব ধ্বংস হতে দিবি?
এনির বুক ধুক করে উঠে। কান্না মিশ্রিত চোখে তাকায় নাজলীর দিকে। দুই হাটু ভাঁজ করে কেঁদে উঠে,
” যে বার বার এসে সন্তানের আবদার করত সেই তো আসছে না। উনি শুধু একবার জানুক উনি বাবা হতে চলেছে দেখবে দৌঁড়ে চলে আসবে।
নাজলী গালে হাতে রাখে এনির। কান্নাটাকে লুকিয়ে রেখ বলে,
” উনি তর কাছে বাচ্চা চাইতেন?
এনি পেটে হাত রেখে বলে,
” বহুবার চেয়েছে। আমি অনেক কঠিন কথা বলতাম। উনি আমার কথায় উন্মাদ হয়ে উঠত তবুও আমাকে জোর করে নি।।উনি রহস্যময় আপা। বাচ্চা আসলো অথচ উনি নেই। কতটা নিষ্ঠুর উনার হৃদয়!
নাজলী এনির সব অভিযোগ শুনলো। বর্তমানে সে কত হাজার হাজার অভিযোগ শুনে হিসেব নেই। সে ভাতের লোকমা এনির মুখের সামনে ধরে বলে,
” উনার অস্তিত্বটাকে বাঁচিয়ে রাখ।
এনি লোকমা মুখে নিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
” নিজে মরে হলেও রক্ষা করতে হবে আপা। নয়ত আমাকে এসে বলবে আমার আমানত এইভাবে নষ্ট করলে কেনো ব্লাডরোজ? ও আমার সন্তান ছিলো। নিক জেভরানের রক্ত ছিলো সে! আমার রক্ত বলেই কি এতটা অবহেলা করেছো? আমার মত পাপীষ্ট পুরুষের অস্তিত্ব পেটে রাখতে এতটা ঘৃনা তোমার? আমার বাচ্চাটাকে অন্তত আগলে নিতে পারতে!
নাজলী চুমু খায় এনির কপালে। খাবার খাইয়ে মেডিসিন খাইয়ে দেয়। এনি আজ বাধ্য মেয়ের মত সব খেয়ে নেয়। নাজলী মুচকি হেসে বলে,
” অপেক্ষা কর আমি আসছি। তুই বিছানায় শুয়ে পড়।
এনি জানার কাছে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” তুমি আর এসো না আপা।
নাজলী তপ্ত শ্বাস ছেড়ে চলে যায়। এনি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায়। চোখের পানি আবার ও পড়তে থাকে। ইচ্ছে করছিলো চিৎকার করে কেঁদে জিজ্ঞাসা করতে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৬১
” এত কষ্ট কেনো তাকে দেওয়া হচ্ছে?
কিন্তু এনি একদম শান্ত হয়ে তাকিয়ে থাকে। বিরবির করে বলে,
” সবাই বলতো সে আমার জন্য বিষ ছিলে। কিন্তু এই বিষটাই যে আমার রক্তে মিশে গিয়েছিল সেটা কাউকে বোঝাতে পারিনি। আমার পাশে উনি নেই। আর আমার শরীর জুড়ে শুধু সেই বিষের এই নীল দহন। তার সাইকো শাসনের শিকলগুলো যখন ছিঁড়ে যায় তখন বুঝতে পারলাম আমি আসলে স্বাধীনতার চেয়ে তার ওই বন্দীত্বকেই বেশি ভালোবাসতাম। তার উন্মাদনা ছাড়া এই স্বাভাবিক পৃথিবীটা বড্ড পানসে লাগছে। কি করব আমি? কোথায় গেলে তাকে পাব?
